জীবনের পরিবর্তনে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি



এইচ এম দুলাল::

তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমারা হতাশায় ভুগতে দেখি । তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। মানুষ জীবন বদলাতে কত প্রচেষ্টাই না করে। জীবনকে সাফল্যের কাংখিত মঞ্জিলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে চলে মানুষের অবিরাম সংগ্রাম। কিন্তু সংগ্রাম অবিরাম চললেও কাঙখিত সাফল্য মানুষ পায় না। এই কাঙখিত সাফল্যে পৌঁছতে না পারার কারণ বিশ্লেষণ করলে যে কয়টি মূল বিষয় সামনে উঠে আসে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। একটি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিতে পারে মানুষের জীবন। যারা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অবিরত প্রচেষ্টা চালিয়েও কাক্সিক্ষত সাফল্যে পৌঁছাতে পারেন না তারা যদি সত্যিকারার্থে কাজের শুরুতেই সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় সাফল্য তাদের পদতলে আশ্রয় নেবে। ইংরেজি ভাষায় দৃষ্টিভঙ্গি শব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে। ইংরেজিতে একে বলে ‘Attitude’, ব্যক্তিজীবনে সফলতার নিশ্চয়তা এই Attitude। আর সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ হলো কাজের উপযোগী, কর্মস্থলের উপযোগী, জীবিকার উপযোগী চমৎকার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা। যিনি একজন ছাত্র তার অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ারে দৃষ্টিভঙ্গি যদি ছাত্রসুলভ না হয় তাহলে তার ক্যারিয়ার কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। একজন ছাত্রের সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ হবে পড়া পড়া আর পড়া। পড়াশোনা করে হতাশা কাটিয়ে ব্যর্থতা ছাড়িয়ে জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করে কাক্সিক্ষত সাফল্য ছোঁয়া। তেমনিভাবে একজন শিক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি হবে উত্তম পাঠদানে সুশিক্ষিত জাতি গড়ে তোলা। সে ক্ষেত্রে শিক্ষাদানের পরিবেশ যদি ছাত্রদের প্রতি শিক্ষাসুলভ, সুলভ এবং প্রয়োজনে শাসনমূলক না হয়, তাহলে তিনি প্রকৃত পাঠদানে ব্যর্থ হবেন। ছাত্ররা বঞ্চিত হবে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থেকে। উন্নত জাতি গঠনের কর্মসূচি চরমভাবে ব্যর্থ হবে। ঠিক এমনিভাবেই কোনো প্রশাসক ভালো প্রশাসক হতে পারেন না যতক্ষণ না তার দৃষ্টিভঙ্গি সুসম্পন্ন না হয়। মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি যদি মাতৃসুলভ, বাবার দৃষ্টিভঙ্গি যদি পিতৃসুলভ না হয় তাহলে বাবা-মা কাক্সিক্ষত ইচ্ছা অনুযায়ী সন্তান গড়ে তুলতে পারেন না। মালিক যদি কর্মচারীদের প্রতি উপযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ না করেন আর কর্মচারীরাও যদি কাজের ক্ষেত্রে সুদৃষ্টি না দেন তাহলে শ্রমিক-মালিকের মাঝে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়। আর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিই সার্বিক উৎপাদন, উপার্জন এবং সাফল্য ধ্বংস করে দিতে বাধ্য। সাংগঠনিক জীবনে একজন সংগঠকের সুসম্পন্ন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই সংগঠনের কাক্সিক্ষত সফলতা নির্ভর করে। সমান যোগ্যতা, আন্তরিকতা এবং পরিশ্রম ঢেলে দেয়ার পরও দু’জন দু’রকম সাফল্য পান। এর কারণ হলো কাজের শুরুতে একজন সুসম্পন্ন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন, আর আরেকজন দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি আমলেই নিতে চান না। ব্যক্তিজীবনে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ ক্ষেত্রে উপযোগী দৃষ্টিভঙ্গি লালন না করলে কাক্সিক্ষত সাফল্যে পৌঁছাতে পারেন না। কারণ সাফল্যের মূল ভিত্তি হচ্ছে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শতকরা ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি সফলতা পায় তার সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে।

সর্বক্ষেত্রেই ইতিবাচক থাকুন
ইতিবাচকতা সম্ভাবনার কথা বলে,বিশ্বাসের কথা বলে। জীবনে জয়ী হতে হলে সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে হবে। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যা ঘটছে তা অনেকসময়ই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। একই সাথে আমাদের দুঃখ দুর্দশার কারণও হলো ঘটনার প্রেক্ষিতে আমাদের প্রতিক্রিয়া। এজন্যে আমাদের জীবন, জয়ের আনন্দে উদ্ভাসিত হবে না পরাজয়ের গ্লানিতে পূর্ণ তা নির্ভর করবে আমাদের ইতবাচক বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রাবল্যের উপর। যখন দৃষ্টিভঙ্গিটা সঠিক হয় তখন জীবন আসলে অনেক সহজ, উপভোগ্য এবং সাফল্যমন্ডিত মনে হয়। দৈনন্দিন জীবনের অনেক ছোটখাটো বিষয় থেকে শুরু করে যেকোনো বড় সমস্যার মোড় আমরা ঘুরিয়ে দিতে পারি যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হয়। সুখী হতে হলে অপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু ভুলে থাকতে হয়। আমি অপ্রয়োজনীয় সবকিছু ভুলে থাকবো। যেমন-মাছি গায়ে বসতে নিলে আমরা তাড়িয়ে দেই সেভাবে তাড়িয়ে দেয়া। যতবার বসবে ততবার তাড়িয়ে দেয়া। মনে মনেও যদি চিন্ত করি- বাহ্! কী সুন্দর একঝাঁক পাখি। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। আর যখনই এই ঘটনাটা মুগ্ধকর মনে হয় তখন আমাদের মধ্যে একটা সুখ সুখ অনুভূতি আসে। কিন্তু এর বিপরীত যদি হয়? যদি কেউ বিরক্ত হয়? তখন মুখে কিছু না বলে শুধু যদি মুখভঙ্গি বিকৃত করে ফেলে বা ছোট্টখাট্ট বিরক্তিবোধক শব্দ উচ্চারণ করে যেমন-ই্স!, উহফ!, আহ্হা রে! তখন আবার আমাদের ভেতরে কম ভালো লাগার একটা অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এই শব্দগুলো আরেকজনের মুখে শুনলে যেমন আমাদের কম ভালো লাগে, তেমনি নিজে বললে ভালো লাগার কথা নয়। ইতিবাচক হওয়ার জন্যে কথার একটা প্রভাব আছে। যে কারণে, আমাদের কথাবার্তায় বিরক্তি প্রকাশ করে এমন শব্দ-ই্স!, উহফ!, আহ্হা রে! আবার অনেক সময় দীর্ঘশ্বাস ছাড়া, আরে বাপুরে!, ধ্যাত, ধুত্তুরি, যত্তোসব, অসহ্য ইত্যাদির ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। আসলে অসহ্য বলাটা সহজ, সহ্য বলাটা কঠিন। তবে একবার অভ্যস্ত হতে শুরু করলে সহ্য বলাটা সহজ, সহ্য করাটা সহজ। শর্ত শুধু একটাই মন থেকে চাওয়া। লোক দেখানোর জন্যে না, বা ভান করার জন্যেও না।

বিব্রতকর পরিস্থিতে মাথা ঠান্ড রাখুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে, ঘুমের ঘোরে দাঁত ব্রাশ করার পর বুঝতে পারলেন সেটা অন্য আরেকজনের ব্রাশ, তখন কী অনুভূতি হবে-গা গুলিয়ে উঠা/ প্রচন্ড রাগ করা/ নিজের ব্রাশ দিয়ে আরেকবার ব্রাশ করা। এই ঘটনার ইতিবাচকতাস্বরূপ যে, নিজের ব্রাশ দিয়ে আরেকবার ব্রাশ করা। যার ব্রাশ ভুল করে ব্যবহার করা হয়েছে তাকে তা জানানো। খাওয়ার সময় বুঝলেন খাবারে অতিরিক্ত লবণ দেয়া হয়েছে ফলে মুখেই দেয়া যাচ্ছে না। অথবা খাবার খেতে খেতে খাবারে চুল পেলেন, নয়তো সবজির পোকা পেলেন। তখন কী করবেন?- প্রো-একটিকভাবে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়া/ ওয়াক থু বলে ফেলে প্লেট ছুঁড়ে দিয়ে টেবিল ছেড়ে চলে যাবেন? প্রো-একটিকভাবে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়া। হতে পারে আপনি কোনো কাজ করছেন হঠাৎ কোনো টিকটিকি/ তেলাপোকা মাথায় লাফিয়ে পড়লো, কী করবেন? চুল ফেলে দেবেন/ নাকি তক্ষুণি শ্যাম্পু করতে বাথরুমে ঢুকবেন/ নাকি একটা ঝাড়া দিয়ে টিকটিকি ফেলে দিয়ে যা করছিলেন তা করবেন।একটা ঝাড়া দিয়ে টিকটিকি ফেলে দিয়ে যা করছিলো তা করবে। এমন হতে পারে কাঁদায় পা পিছলে পড়ে গিয়ে আপনার জামা নষ্ট হয়ে গেছে আর অপর দিকে যারা দেখছেন তারা হাসছেন। তখন কী করবেন- কাঁদবেন/ তাদের সাথে হাসিতে যোগ দেবেন/ মাথা নিচু করে সেখান থেকে দ্রুত চলে আসবেন? ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে তাদের সাথেও হাসিতে যোগ দিয়ে পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক মনে করা, সুযোগ থাকলে বাসায় গিয়ে পোশাক পাল্টে আবার নিজের কাজে যাওয়া। আসলে এ ধরনের অসংখ্য বিব্রতকর ঘটনা আমাদের জীবনে অহরহ ঘটে চলেছে। এসব ক্ষেত্রে সচেতন থাকলে ভালো কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার সুযোগও থাকে না। যেমন গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচেছন হঠাৎ অনুভব করলেন মাথায় তরল জাতীয় কী যেন পড়লো। হাত দিয়ে বুঝলেন পাখি টয়লেট করেছে। এখন লাজুক হাসি হাসা ছাড়া আপনার আর কিছু করারও নাই। কারণ আপনি যতই বিরক্ত হোন বা রেগে যান না কেন আপনার পক্ষে সেই পাখিটাকে ধরে বকা দেয়ার কোনো সুযোগ নাই। আর এরকম বিব্রতকর অবস্থায় অন্যরা হাসছে কিন্তু আপনার মাথায় পড়ার পরেও আপনি হাসতে পারছেন কি না-এটাই গুরুত্বপূর্ণ। হাসতে না পারলে আপনার কাছে পরিস্থিতি জটিল মনে হবে, আর হাসতে পারলে মনে হবে এটা খুব সহজ স্বাভাবিক ব্যাপার।

সমস্যাকে মোকাবেলা করুন
সমস্যাকে সম্ভাবনা বলে হাসিমুখে ঠান্ডা মাথায় বিশ্বাসের সাথে ফেস করতে হবে। যখন মনে করবেন এটা কোনো ব্যাপার না। এরচেয়েও খারাপ কিছু হতে পারতো। অর্থাৎ দুর্ঘটনাকে ফেনানোর দরকার নেই। না ফেনিয়ে এটাকে ফানে রূপান্তরিত করতে পারাই ইতিবাচকতা। যেমন, হয়তো শুনলেন, আপনার এক বন্ধু এক্সিডেন্ট করেছে। পায়ে চোট পেয়েছে, তাই পা দুটো বেডের সাথে বাঁধা। তাকে দেখতে গিয়ে যদি আহা, উহু করেন তাহলে তার ব্যথা কমবে না, বরং বাড়বে। সেসময় যদি তার রুমে ঢুকেই খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে একটা সালাম দিয়ে বলেন, দোস্ত কেমন আছো। তোমাকে তো দেখতে লাগছে খুব ভালো। একটা ছবি তুলে রাখো। নাতি-নাতনিদের দেখাতে পারবে। যে দাদুকে একবার বিছানার সাথে এভাবে বেঁধে রাখা হয়েছিলো। বন্ধু তখন কী বলবে? অনেকদিন তো হাসে নাই। একটু দাঁত বের করবে। কিংবা কপট রাগ দেখিয়ে বলবে, এই কথা তুমি বলতে পারলে? আসলে এটা মুখের কথা, মনের কথা কী? অনেকদিন পর একটু ভালো লাগছে, তোমরা এসে কথা বলছো বলে। অর্থাৎ ঘটনা যত শোচনীয় হোক না কেন তার মধ্য থেকে ভালো দিককে খুঁজে বের করে আনতে হবে। যেমন স্বর্ণের খনি থেকে তো স্বর্ণ পাওয়া যাবেই। কিন্তু সার্থকতা হচ্ছে ছাইয়ের স্তুপ থেকে স্বর্ণ খুঁজে পাওয়া। অর্থাৎ একটি আপাত কষ্টের ঘটনারও ভালো দিককে যত গ্রহণ করতে পারবো তত আমাদের শান্তি, সুখ আসতে থাকবে, এই শান্তি-সুখের আবেশ নিয়ে অনেক কাজ করতে পারবো, আমাদের সাফল্য বাড়তে থাকবে। আসলে আপনি যখন অন্যের আচরণে প্রভাবিত হবেন তখন তাকে আর আপনার আচরণ দ্বারা প্রভাবিত করতে পারবেন না। তাই সবসময় অন্যের সাথে সে-ই আচরণ করুন যে আচরণ আপনি আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলেন। জীবনযুদ্ধে প্রতিপক্ষ সবসময় আপনাকে উত্তেজিত ও আবেগপ্রবণ করার চেষ্টা করবে, আপনার লক্ষ্য থাকবে ঠান্ডা মাথায় সমস্যাকে কীভাবে সমাধান করতে পারেন। মনের প্রশান্তির জন্যে নিজের ওপর নিজের এই নিয়ন্ত্রণ আনাটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের ভিত্তিহীন কথার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজনা, ক্রোধ এবং জীবন নাশের একটা ভুল সিদ্ধান্ত মানুষকে জীবনে অনেক পিছিয়ে দেয়।

সহজভাবে চিন্তা করুন
আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি। প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে! আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়! কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের! আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

নিজের জীবন থেকেই সুখ খুঁজে নিন
একটা গল্প আমরা অনেকেই জানি। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে! আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়। অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দিন
প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে। চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি জন্মলব্ধ কোনো বিষয় নয়, এটি মনোভাবের পরিবর্তনের মাধ্যমে ধারণ করে লালনের বিষয়। কেউ কেউ ভাবতে পারেন অমুক বিরাট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে তার দৃষ্টিভঙ্গি তো সুসম্পন্ন হবেই এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সমন মনোভাবের (ফিতরাতের) ওপরই জন্মগ্রহণ করে। সবাই হাত, পা, কান ও মাথা নিয়ে মানুষ হিসেবেই জন্মগ্রহণ করে। রাসূল সা. এ প্রসঙ্গে বলেন, সকল মানুষ একই ফিতরাত বা স্বভাবের ওপরই জন্মগ্রহণ করে, এর পর তার পিতা-মাতা এবং তার পরিবেশ তাকে সে অনুযায়ী পরিচালিত করে। আবার বাহ্যিকভাবে মনে হতে পারে মানুষ মানেই শুধুমাত্র দুটো হাত, দুটো পা কিংবা একটি শরীর গঠনের নাম। বরং হাত পাসহ সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, মেধা-মনন মিলিয়েই একজন সম্পূর্ণ মানুষ। এই সব কিছুর সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গিই একটি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। সত্যিকারার্থেই কোনো মানুষ সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জন্মায় না বরং তার দেহ, মন চিন্তা চেতনার সম্মিলিত ইতিবাচক যোগফলই সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়।

আমাদের মনে রাখতে হবে পরিবেশ, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং নিজ প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতেই একটি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে পারে। উপরিউক্ত চারটি বিষয়ের প্রভাবে অনেক সময় নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গিয়ে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তিরত হয়। বদলে যায় ব্যক্তির পুরো জীবন। পরিবেশ ব্যক্তির সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যিনি সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তার দৃষ্টিভঙ্গি হয় সুসম্পন্ন আর যার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নেতিবাচক হয় তার দৃষ্টিভঙ্গি সুসম্পন্ন হয় না। এটি সাধারণ নিয়ম হলেও সমাজে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যারা স্রোতের বিপরীতে চলতে জানেন, যাদের মাঝে অদম্য ইচ্ছা এবং সাহস থাকে তারা নেতিবাচক পরিবেশের মাঝে নিজের সার্বিক প্রচেষ্টায় সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে পুরো জীবনটাকেই বদলে দিতে পারেন। একটি সুন্দর পরিবেশে একজন মানুষ যখন বেড়ে ওঠে তখন তার দৃষ্টিভঙ্গি সুসম্পন্ন হওয়াই বাঞ্ছনীয়। পরিবারের সুন্দর পরিবেশ সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সহায়ক। সহপাঠীদের সুন্দর আচরণ একজন ছাত্রকে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। কর্মক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকের সুসম্পর্কের পাশাপাশি সহযোগীদের সাথে সুসম্পর্ক এবং কর্মক্ষেত্রের সুন্দর পরিবেশ সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে সহায়তা করে। পরিবেশ যে কতখানি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে তার প্রমাণ আপনাদের আমাদের আশপাশে অহরহই রয়েছে। পাশাপাশি দু’টি খাবার হোটেলের ক্ষেত্রে দেখা যাবে একটি হোটেলের মালিক কর্মচারী এবং এর কাস্টমারদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি অভদ্রজনিত। ঠিক পাশেই আরেকটি হোটেলে দেখা যাবে সেখানকার মালিক কর্মচারী যেমন রুচিশীল ও ভদ্র তাদের কাস্টমাররাও রুচিশীল এবং ভদ্র ধরনের। এটি শুধুমাত্র তাদের সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই হয়েছে আর এই সৌন্দর্য তৈরিতে পরিবেশই তাদের সহায়তা করেছে। একই দেশের দু’টি রাজনৈতিক দলের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে একটি তার প্রতিপক্ষকে নোংরা, হিংসাত্মক এবং নীচু ভাষায় বক্তব্য দিয়ে গায়েল করার চেষ্ট করে। এই নোংরা চর্চা দলের নিম্নস্তর থেকে শুরু করে মধ্যস্তরকে পেরিয়ে অনেক সময় দলের প্রধানেরও ভাষা হয়ে যায়! আর আরেকটি দলকে দেখা যায় একই বিষয়ে প্রতিপক্ষেকে রুচিশীল কিন্তু তির্যক ভাষায় বক্তব্য দিয়ে মোকাবেলা করতে। এটি সম্ভব হয় দলের প্রধান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর মাঝে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালনের কারণে। সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য শুধু মাত্র পরিবেশই যে সহায়ক তা কিন্তু নয় বরং এর সাথে শিক্ষার বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত। সুশিক্ষিত একটি পরিবারে সন্তানদের সাথে অশিক্ষিত পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা করলে দেখা যায় স্বল্প শিক্ষিতরা যতই সম্পদশালী হোক না কেন তারা উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সন্তানদের চেয়ে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেড়ে ওঠেন না। তাদের মাঝে আচরণের পার্থক্য অনেক। তবে শিক্ষিতদের মাঝেও কিছু অথর্ব বা জ্ঞানপাপী থাকেন যারা শিক্ষার পুঁজিকে ঢাল বানিয়ে বড়াই করেন। তখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্বল্প শিক্ষিতের নীচুতাকেও হার মানায়। সত্যিকারার্থে তারা জীবনকে বদলাতে পারেন না। ব্যক্তি যখন পরিবেশ, শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা পুঁজি করে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন তখন তার প্রয়োজন হয় আত্মপ্রচেষ্টা। কারণ যতই পরিবেশ সুন্দর হোক না কেন, যতই ব্যক্তির জ্ঞান-গরিমা থাকুক না কেন, অভিজ্ঞতার ঝুলি যত বেশিই থাকুক না কেন, ব্যক্তি যদি নিজকে পরিবর্তন করার মতো দৃষ্টিভঙ্গি লালন না করেন তাহলে এর মধ্যে কল্যাণ নিহিত নেই। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি হতে পাওে না। এ ধরনের প্রচেষ্টা জীবনকে বদলাতে পাওে না। জীবনকে বদলাতে প্রয়োজন আত্মপ্রচেষ্টামূলক দৃষ্টিভঙ্গি যা নিজেকে দিয়েই শুরু করতে হয়। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা রায়াদের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ কোন জাতির ভাগ্যের (অবস্থার) পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত জাতির লোকেরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে।” বদলে যাও বদলে দাও এটি নতুন কোনো শ্লোগান নয়। বরং সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অভাবেই এটা ধামাচাপা পড়েছিল। যারা মনে করেন ইসলাম সেকেলে ধর্ম, ইসলামে কোন আধুনিকতা নেই এটি তাদেরই কারসাজি। অথচ ইসলাম যে কত আধুনিক তার প্রমাণ হচ্ছে বদলে যাওয়ার জন্য আগে নিজেকে দিয়ে বদলানোর অভিযান শুরু করার তাগিদ ইসলাম ১৪ শ’ বছর আগেই নবী মুহাম্মদ সা.-এর ওপর নাজিলকৃত মহাসত্য গ্রন্থ আল কুরআনের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং এই মহা সত্যকে ধারণ করে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে পারলেই জীবনটাকে বদলে দেয়া সম্ভব। একজন মহা মনীষী বলেছেন, সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবনে পবিত্র অনুভূতি সৃষ্টি করে আর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পূর্ণতার সুযোগকে নষ্ট করে দেয়। আমাদের প্রতিটি অনুভূতিই হোক পূর্ণতার, দৃষ্টিভঙ্গি হোক ইতিবাচক আর সুসম্পন্ন। বদলে যাক জীবন, পূরণ হোক লালিত স্বপ্নের।

পাতাটি ৪৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


পথ চলার বিশ্বস্ত বন্ধু টয়োটা

এইচ এম দুলাল:: পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতা এই তিনকে একবিন্দুতে মিলিত করতে পারলে যে কোনো…


শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

এইচ এম দুলাল:: “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে বৎসরের…


জীবনের পরিবর্তনে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

এইচ এম দুলাল:: তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমারা হতাশায় ভুগতে দেখি । তারা অনেক…


মে দিবসের চেতনা ও শ্রমিকের অধিকার জাগ্রত হোক মানবতা

এইচ এম দুলাল:: উত্তর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম থেকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আজ প্রযুক্তির…

মে দিবসের চেতনা ও শ্রমিকের অধিকার জাগ্রত হোক মানবতা



এইচ এম দুলাল::
উত্তর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম থেকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আজ প্রযুক্তির জয়গান ধ্বনিত। চোখধাঁধানো স্থাপত্যকলা, কারুকার্যখচিত শিল্পের ছোঁয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষকাল অতিক্রম করছি বর্তমানে আমরা । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ বলা হয় বর্তমান সময়কে । প্রভূত এ অর্জন ও উৎকর্ষের নেপথ্যে কিছু ত্যাগ রয়েছে। রয়েছে কিছু বিসর্জন। শ্রমশিল্পের ভাষায়, কোনো বস্তু ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠা কিংবা কোনো ধরনের উৎকর্ষ আমাদের জন্য উপকারী তখনই হয়, যখন তা কোনো শ্রমের বিসর্জনে অর্জিত বা নির্মিত হয়। মোটকথা, বস্তু ব্যবহারযোগ্য কিংবা উপকারী হয়ে ওঠার নেপথ্যে শ্রমই প্রথম ও প্রধান উপাদান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রমিকরা কতভাবে যে এই বিশ্বকে সচল রেখেছেন, সমুন্নত রেখেছেন উন্নয়নের এই ধারাকে, তার সঠিক পরিসংখ্যান অসম্ভব। শ্রমজীবী এই সমাজটি না থাকলে অচল হয়ে যেত এসব উৎকর্ষ। থেমে যেত আমাদের জীবনধারা। মুহূর্তের মাঝে মাটিতে মিশে যেত- গগনচুম্বী এতো সব গৌরব-অহঙ্কার। কিন্তু আফসোস ও পরিতাপের বিষয় হলো, সঠিকভাবে হিসাব নিলে দেখা যাবে যে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হয় এই শ্রমিক শ্রেণী। সবচেয়ে বেশি মূল্যহীন ও মানহীন জীবন যাপন করেন পৃথিবীর শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিকদের শোষণ ও নিপীড়নের এই সমস্যা মামুলি কিংবা এক-দুদিনে সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়, বহুকাল ধরে চলে আসছে এই অত্যাচার, জারি রয়েছে এই বঞ্চনা। সভ্যতাকে পুঁজি করে যতই দিন যাচ্ছে, পৃথিবী যত বেশি হচ্ছে প্রযুক্তিময়- ততই বেড়ে চলছে শ্রমজীবী মানুষের এই বঞ্চনা, বৃদ্ধি পাচ্ছে এই অত্যাচার। দিন দিন বেড়েই চলছে নিগৃহীত শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা।

১২৫ বছর আগে ১৮৮৬ সালেও বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য ছিল খুব কম। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা শ্রম দিয়েও শ্রমিকরা উপযুক্ত মজুরি পেত না। অনেক শ্রমিক পরিবারের শিশুসন্তান পিতাকে চিনতে পারতো না। কারণ শিশুটি যখন ঘুমিয়ে থাকতো পিতা কর্মস্থলে চলে যেত, পিতা যখন ঘরে ফিরতো তখন শিশুটি আবার ঘুমিয়ে পড়তো। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনেক শিশু তার মায়ের পাশে বসা পিতার দিকে এমনভাবে তাকাতো যেন এই পুরুষ মানুষটি বাইরের মানুষ। ১২ ঘণ্টা শ্রম দিয়ে শ্রমজীবীদের স্বাচ্ছন্দ্যে সচ্ছলভাবে সংসার চলতো না। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করতো না। তারা অদৃষ্টের বিধান হিসেবে এ অত্যাচার-অবিচার মেনে নিয়েছিল। মানুষ বোবা পশু নয়, তাদের মনে ভাব জাগে, মুখে ভাষা জাগে। একসময় তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠলো।

চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটলো আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে। তারা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো। মালিকপক্ষ সব দেশে সবকালেই মনে করে তারা আলাদা জাত। তারা শ্রমিকদের ওপর শোষণ করে, নির্যাতন করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ওপর গুণ্ডা লেলিয়ে দেয়। শিকাগো শহরেও তাই ঘটেছিল। মালিক পক্ষের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হলো। তাদের মৃত্যু বৃথা যায়নি। দেশে দেশে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়লো। বিভিন্ন দেশের সরকারও এগিয়ে এলো। তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনে কল-কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা- বৈঠক করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের মেয়াদ ৮ ঘণ্টা করার দাবি মেনে নিলো। ১৮৮৬ সালের এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দাবি পূরণের দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করলো। মে মাসের পয়লা তারিখ বিশ্বের সব দেশে শ্রমজীবী মানুষ ছুটি পালন করে। সভা- সেমিনারের মাধ্যমে নিহত শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা জীবন দানের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

যারা ১৮৮৬ সালে দরিদ্র শ্রমিকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছিল তারা এ নৃশংসতার পরিচয় কেন দিয়েছিল? এর মূলে ছিল ঐশ্বর্যের ক্ষুধা। এ ক্ষুধার কোন শেষ নেই। টাকা ও ক্ষমতার জন্য মানুষের চাহিদা অন্তহীন। টাকা নিজেই তার অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করে। বিদ্যমান প্রয়োজন মিটে গেলে জন্ম হয় নতুন চাহিদার। এ ক্ষুধা মেটানোর জন্য মানুষ ন্যায়-অন্যায় বিচার করে না পাপ-পুণ্য বিচার করে না, হালাল-হারাম বিবেচনা করে না। একজন ধনী মানুষকে তার ধনের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন কুছ বাপকা কুছ আপকা আউর কুছ পাপকা। অর্থাৎ কিছু সম্পদ পাওয়া গেছে পৈতৃক সূত্রে কিছু নিজের উপার্জন আর কিছু পাপের ফসল। পাপ ও অনাচার সম্পদের বন্ধু ও দোসর।

একটা গল্প বলি। শিকারে গিয়েছিলেন দিল্লির সুলতান ইলতুৎমিশ। রাজকীয় হাতির হাওদায় তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গভীর অরণ্যে এক জায়গায় এসে তারা বিশ্রাম নেয়ার জন্য থামলেন। হাতির হাওদা থেকে তারা বসলেন একটা গাছের নিচে। পরিশ্রান্ত হাতিও শুয়ে পড়লো। এ সময় এক অদ্ভুত দৃশ্য সুলতানের নজরে পড়লো। ঝোপের একটা ব্যাঙ নিচে হাতিটি দেখে অস্থির হয়ে পড়লো। তার এলাকায় হাতি শুয়ে বিশ্রাম নেবে, ব্যাপারটি বুঝি সহ্য হলো না তার। কয়েক লাফে সে হাতির কাছে এসে হাতিটিকে কয়েকবার লাথি মেরে আবার নিজের নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বসলো। কিছুক্ষণ পর পর ব্যাঙটি এসে হাতিকে লাথি মেরে পরে একই জায়গায় গিয়ে বসছে দেখে সুলতান অবাক হলেন। হাতিকে লাথি মারার কারণটি সুলতান খুঁজে পেলেন না। মন্ত্রীর কাছে তিনি এর তাৎপর্য জানতে চাইলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন ব্যাঙটির কাছে গিয়ে দেখলেন যে একটা রৌপ্য মুদ্রার ওপর শুয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী সুলতানকে এসে বললেন ব্যাঙটির আসলে কোন দোষ নেই। সে ঐশ্বর্যশালী। এই ঐশ্বর্য হারানোর আশঙ্কায় সে তার এলাকায় আসা হাতিকে শত্রæ মনে করছে এবং তাকে লাথি মারছে। রুপোর একটি টাকা যদি একটি ব্যাঙকে এমন উদ্ধত ও দুর্বিনীত করতে পারে তাহলে মানুষের আচরণে অহঙ্কার না আসার কারণ নেই। মহান আল্লাহ আমাদেরকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ অর্জন করতেও নিরুৎসাহিত করেছেন।

তিনজন অনুচরসহ হযরত ঈসা (আ) এর সফরে যাওয়ার এবং স্বর্ণমুদ্রা পাওয়ার এবং তার প্রতি তিনজন অনুচরের সীমাহীন লোভ পরিণামে তিনজনেরই মৃত্যুর ঘটনা সবাই জানে। একজনকে খাবার কিনতে পাঠানো হলে সে কেনা খাবারে বিষ মিশিয়ে অন্য দু’জনকে হত্যা করে নিজে যে সম্পদের একা মালিক হতে চেয়েছিল। অন্য দু’জন আধা-আধি নেয়ার পরিকল্পনা করে খাবার নিয়ে আসা লোকটিকে হঠাৎ আক্রমণে মেরে ফেলেছিল। পরে বিষ মেশানো খাবার খেয়ে দু’জন মারা যায়। পারস্যের সাম্রায্যের ধনভাণ্ডার মদিনায় আনা হলে তা দেখে কেঁদেছিলেন হযরত ওমর (রা)। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা) কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেছিলেন, এই ধন-সম্পদ ধ্বংস করেছে তার আগের মালিকদের। আমার ভয় হচ্ছে আমরাও এগুলোর প্রেমে জড়িয়ে পড়বো এবং পরিণামে শেষ হয়ে যাবো।

মালিক শ্রমিকবিরোধ চিরন্তন একটি সমস্যা। মালিকরা শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে অধিক কাজ করিয়ে নিতে চায়। অধিক উৎপাদন মানে অধিক মুনাফা অধিক অর্থ-সম্পদ। কিন্তু একজন পরিশ্রম করে অথচ ন্যায্য মজুরি পাবে না অন্যজন তাকে বঞ্চিত করে শ্রমের ফল ভোগ করবে এরকম সামাজিক ব্যবস্থা জুলুম। যারা এরকম জীবনব্যবস্থা সমর্থন করে বা কায়েম করতে চায় সেসব জালিমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা এবং জেহাদ করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য। যারা অন্যের শ্রমের ফল অনধিকারভাবে অন্যায়ভাবে ভোগ করে তারা জালিম। আল্লাহ জীবিকার উপাদান বিশ্বে ছড়িয়ে রেখে দিয়েছেন। বান্দা পরিশ্রম করে মহান রাজ্জাকের নিকট হতে রিজিক গ্রহণ করবে এটাই আল্লাহর বিধান। যে অন্যের শ্রমের ফলভোগ করে তার রিযিকদাতা হয়ে দাঁড়ালো ঐ ব্যক্তিকে জালিম রিযিকদাতা বানিয়ে দেয়, এটা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

ইসলামী সমাজে সকল ব্যক্তিই শ্রমিক। হযরত আদম (আ) থেকে হযরত মোহাম্মদ (সা) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূলই ছিলেন শ্রমিক। অধিকাংশ নবী মেষপালকের কাজ করেছেন। আমাদের নবীও মেষ চরাতেন। বিবি খাদিজার ব্যবসায় দায়িত্ব নিয়ে তিনি একাধিক দেশে গেছেন। তিনি কূপ থেকে পানি তোলার পারিশ্রমিক হিসেবে এক বালতির হিসাবে একটি করে খেজুর পারিশ্রমিক পেতেন। তিনি অন্যের ক্ষেতে পানি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শ্রমিকের মজুরি তার গায়ের ঘাম শুকানোর আগে দিয়ে দাও।
ইসলামী সমাজে শ্রমিকদের পানাহার এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা মালিকের মতো হতে হবে। গোলামের বা দাসের জীবনযাত্রায় মান সম্পর্কে ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট। মালিক যে রকম খাবার খাবে যে রকম পোশাক পরিধান করবে যে রকম বিছানায় ঘুমাবে গোলামকেও তাই দিতে হবে। বিদায় হজের ভাষণে রাসূল (সা) দাস-দাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে মহান আল্লাহর নিকট কৈফিয়ত দিতে হবে। জবাবদিহি করতে হবে।

ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান হযরত ওমর (রা) তালি দেয়া জামা পরিধান করতেন। বর্তমানে তালি দেয়া জামা গায়ে কোন সরকারি কর্মচারী তো দূরের কথা কোন ভিক্ষুকেরও দেখা যায় না। যে সময় খলিফার চেয়ে কম বেতনের কোন কর্মচারী ছিল না। খলিফা রাষ্ট্রের দরিদ্রতম ব্যক্তির চেয়ে উচ্চতর জীবন যাপন করতেন না। কারণ ইসলামী রাষ্ট্রে জনগণ হলো রাষ্ট্রের মালিক খলিফা তাদের ভৃত্য। ভৃত্যের জীবনযাত্রার মান মালিকের চেয়ে উন্নত হতে পারে না। হযরত আবু বকর (রা) কে পুরাতন কাপড় পরিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। হযরত ওসমান (রা) পিপাসার্ত অবস্থায় শাহাদাতবরণ করেন। কারণ তাঁর বাড়িতে পানীয় জলের কোন কূপ ছিল না। বিদ্রোহীরা তাকে অবরোধ করে রেখে বাইরে থেকে পানি আনা বন্ধ করে দিয়েছিল। রাসূল (সা) প্রবর্তিত অর্থব্যবস্থার মূল দর্শন হচ্ছে সমাজে ও রাষ্ট্রে সুষম ভারসাম্যপূর্ণ কার্যকর অর্থব্যবস্থার প্রবর্তন। রাসূল (সা) বলেছেন, যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ সম্পদ রয়েছে তার উচিত অভাবগ্রস্তকে তা দিয়ে দেয়া। যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য ও পানীয় রয়েছে সে যার কাছে ওইগুলো নেই তাকে দিয়ে দেবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা) বলেন, রাসূল (সা) এভাবে বিভিন্ন সম্পদের কথা উল্লেখ করে বলতে থাকলেন। তখন আমাদের নিকট প্রতিভাত হলো আমাদের কারোরই প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদের ওপর কোন অধিকার নেই। রাসূল (সা) বলেছেন, দৈহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে যা উপার্জিত হয় তাই হচ্ছে উত্তম জীবিকা। শ্রমিকের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ তার ওপর চাপিয়ে দিতে রাসূল (সা) নিষেধ করেছেন।

ইসলামী সমাজে স্বাভাবিক গতিতে জীবনের সকল কাজ সম্পন্ন হবে। মানুষ সুখে-শান্তিতে দুনিয়ার জীবন অতিবাহিত করবে এবং সৎ জীবন যাপন করার কারণে আখেরাতেও মুক্তির আশা করতে পারবে। মানুষের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন সকলের প্রায় এক। তাই মৌলিক প্রয়োজন মেটাবার জন্য ভোগের স্তরের পরিমাণও ছিল একই রকম। মালিককে শুধু যে শ্রমিকের সুখ-সুবিধা, আহার-বিনোদনের চাহিদার প্রতিই লক্ষ্য রাখতে হয় তা নয় বরং প্রতিবেশীর প্রয়োজনের প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হয়। প্রতিবেশী অভুক্ত জেনে যদি কেউ দু’বেলা পেট ভরে খায় তবে সে মোমেন থাকে না।

যে কোন কাজ করাকেই শ্রম বলা হয়। শ্রমিককে ইংরেজিতে খধনড়ঁৎ বলা হয়, আর আরবিতে বলা হয় আমেল। সাধারণ অর্থে যারা পরিশ্রম করে তাদেরকেই শ্রমিক বলা হয়। প্রচলিত অর্থে সমাজে বা রাষ্ট্রে যারা অন্যের অধীনে অর্থের বিনিময়ে পরিশ্রম করে তাদেরকে শ্রমিক বলা হয়। আল্লাহ পাক রাববুল আলামিন প্রত্যেক মানুষকে তার গোলামি করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহর বিধান মতো কাজ করার নামই আমল। এক অর্থে প্রতিটি মুসলমান শ্রমিক হিসাবে শ্রম দিয়ে থাকেন। একজন প্রেসিডেন্টও শ্রম দিয়ে থাকেন, আবার একজন দিনমজুরও শ্রম দিয়ে থাকেন- এ অর্থে সবাই শ্রমিক।

কুরআন হাদিসের আলোকে শ্রমিকের অধিকার : ১. মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। সুতরাং তোমরা তোমাদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন করে দেবে। আল-হুজুরাত। ২. তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই, আল্লাহ যে ভাইকে তোমার অধীন করে দিয়েছেন তাকে তাই খেতে দাও যা তুমি নিজে খাও, তাকে তাই পরিধান করতে দাও যা তুমি নিজে পরিধান কর। বুখারী আবু হুরায়রা (রা) ৩. ক্ষমতার বলে অধীনস্থ চাকর-বাকর-দাসীর প্রতি খারাপ আচরণকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আপনি কি বলেননি অন্যান্য জাতির তুলনায় এ জাতির মধ্যে ইয়াতিম ও গোলামের সংখ্যা বেশি হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতএব তোমরা তাদেরকে সন্তানের মত আদর যতœ করবে এবং তোমরা যাই খাবে তাদেরকে তাই খাওয়াবে। হযরত আবু বকর (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, অধীনস্থদের সাথে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী জানাতে প্রবেশ করতে পারবে না।-ইবনে মাযাহ্। ৪. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, কেউ তার অধীনস্থকে অন্যায়ভাবে এক দোররা মারলেও কিয়ামতের বিচারের দিনে তার থেকে এ বদলা নেয়া হবে।-তাবরানী। ৫. হযরত ওমর (রা) বলেন, যৌবনকালে যে ব্যক্তি শ্রম দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের খেদমত করেছেন বৃদ্ধকালে সরকার তার হাতে ভিক্ষার ঝুলি দিতে পারে না -ইবনে মাযাহ্। ৬. দাস-দাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার সৌভাগ্য, আর তাদের সাথে দুর্ব্যবহার দুর্ভাগ্য। ৭. মজুরকে তার কাজ হতে অংশ দান কর, কারণ আল্লাহর মজুরকে বঞ্চিত করা যায় না।-মুসনাদে আহমাদ। ৮. তোমাদের খাদেম যদি তোমার খাদ্য প্রস্তুত করে এবং তা নিয়ে যদি তোমার কাছে আসে যা রান্না করার সময় আগুনের তাপ ও ধোঁয়া তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে তখন তাকে খাওয়াবে। খানা যদি অল্প হয় তবে তার হাতে এক মুঠো, দু’ মুঠো অবশ্যই তুলে দেবে।-মুসলিম। ৯. উমর ইবনে হুরাইস (রা) হতে বর্ণিত নবী করিম (সা) বলেছেন, তোমরা তোমাদের কর্মচারীদের থেকে যতটা হাল্কা কাজ নেবে। তোমাদের আমলনামায় ততটা পুরস্কার ও পুণ্য লেখা হবে। ১০. হযরত যুবাইর (রা) বলেছেন, নবী করিম (সা) চাকরের সাথে একত্রে বসে খেতে বলেছেন। ১১. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বলেছেন, এক ব্যক্তি নবী করিম (সা) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল (সা) চাকর-বাকরকে কতবার ক্ষমা করব? তিনি চুপ রইলেন। সে পুনরায় তাঁকে প্রশ্ন করলে এবারও তিনি চুপ রইলেন। সে পুনরায় তাঁকে প্রশ্ন করলে এবারও তিনি চুপ রইলেন। চতুর্থবার বলার পর তিনি বললেন দৈনিক সত্তর বার ক্ষমা করবে।-আবুদাউদ। ১২. আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী করিম (সা) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন আমার দাস, আমার দাসী না বলে কেননা আমরা সকলে আল্লাহর দাস-দাসী।

১৩. রাসূল (সা) বলেছেন তোমাদের কেউ তার পিঠে বহন করে কাঠের বোঝা এনে বিক্রি করা, কারো নিকট ভিক্ষা চাওয়ার চেয়ে উত্তম, চাই সে দিক বা না দিক। বুখারী মুসলিম-আবু হুরায়রা। ১৪. যে ব্যক্তি মানুষের কাছে চায়, অথচ তার নিকট বেঁচে থাকার সম্বল আছে, নিশ্চয় সে অধিক জাহান্নামের আগুন সংগ্রহ করছে।-আবু দাউদ। ১৫. দেহের যে অংশ হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম খাদ্যের গঠিত শরীরের জন্য জাহান্নামের আগুনই উপযুক্ত-আহমাদ-বায়হাকি-জাবের (রা) নবী রাসূলগণও শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছেন। তারা বিভিন্ন পেশায় শ্রম দান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের কাছে শ্রমের মর্যাদা ছিল অনেক উচ্চে। নিজ হাতে কাজ করে শ্রমিক দিয়ে খাবার খাওয়ার মত উত্তম খানা আর হতে পারে না।
১. হযরত আদম আলাইহিস সালাম কৃষক ছিলেন। ২. হযরত নূহ আলাইহিস সালাম ছুতার (কাঠমিস্ত্রি) ছিলেন। ৩. হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম কর্মকার ছিলেন। ৪. হযরত ইদ্রিস আলাইহিস সালাম দর্জি ছিলেন। ৫. হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ছুতার (কাঠমিস্ত্রি) ছিলেন। ৬. হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম রাজমিস্ত্রি ছিলেন। ৭. হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম রাজমিস্ত্রি সহকারী (যোগাড়ি) ছিলেন। ৮. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ছাগলের রাখাল ছিলেন। ৯. আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা) ছাগল চরিয়েছেন।

হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছি যে, গোলামের সাথে ভালো আচরণ করবে এবং তাদের কোন প্রকার কষ্ট দেবে না। তোমরা কি জান না যে, তাদেরও একটি অন্তর আছে, যা কষ্ট পেলে ব্যথা পায় এবং আরাম পেলে আনন্দিত হয়। তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা তাদেরকে হীন মনে কর এবং তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কর না। এটা কি জাহেলিয়াতের যুগের মানসিকতা নয়? অবশ্য এটাই জুলুম এবং বেইনসাফী। আমি জানি, জাহেলিয়াতের যুগে তাদের কোনো মর্যাদা ছিল না, গোলামদেরকে পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট মনে করা হতো, আল্লাহর সকল বান্দা যে এক, তারা ভুলে গিয়েছিল। সে সমাজের রাষ্ট্রপতি, সমাজপতি ও দলপতিরা সকল মান সম্মান ও মর্যাদা একক অধিকারী হয়ে বসেছিল। অথচ অধীনস্থরা ইনসাফের দাবি করার অধিকার রাখে। আমার সেই যুগের কথা মনে আছে, যখন রাষ্ট্রপতি, সমাজপতি ও দলপতিরা নিজেদেরকে মর্যাদা সম্পন্ন ও সম্মানিত মনে করত এবং নিজেদেরকে নির্লোভ ও নির্দোষ বলে প্রচার করতো। তাদের নিকট অধীনস্থ খাদেমদের জীবনের উদ্দেশ্য ছিল- তারা তাদের মালিকদের খেদমত করবে, তাদের জুলুম নির্যাতন সহ্য করে থাকবে, তাদের সামনে বসাও ছিল অন্যায়, তাদের সামনে কথা বলা ছিল মহাপাপ এবং তাদের কোন অপকর্মের প্রতিবাদ করা ছিল মৃত্যুদন্ড তুল্য। কিন্তু ইসলাম এসে তাদের এসব অমানবিক আচরণ ও সকল গর্ব, অহঙ্কার পদদলিত করে দিল।
হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর ফরমান জানিয়ে দিচ্ছি যে, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তোমাদের মধ্যে মুত্তাকি। তোমরা জান, মানবজাতি আদমের সন্তান এবং আদম হচ্ছে মাটির তৈরি। অতএব অহঙ্কার করার কী কারণ থাকতে পারে? স্মরণ রাখ ইসলামের দৃষ্টিতে সকল মানুষের মর্যাদা সমান। ইসলামী আদর্শের কাছে মনিব- গোলাম, বড়-ছোট, আমীর-গরিব সবাই সমান। মানুষের মধ্যে শুধু তাকওয়া এবং সৎ কাজের মাধ্যমে পার্থক্য হতে পারে। এটাই যখন প্রকৃত ব্যাপার, তবে তোমরা কেন তোমাদের অধীনস্থদের হীন মনে কর, আমি লক্ষ্য করছি যে, যখন কোন চেহারাকে রক্তিম করে নিজেকে পেশ করে এবং খাদেমের পক্ষ থেকে সামান্যতম ভুলও বরদাস্ত করে না, ইহা জাহেলিয়াতের আচরণ ছাড়া আর কিছু হতে পারে? মালিকের চেয়ে গোলাম অনেক ভালো এবং মহান আল্লাহর কাছে তার আমল পছন্দনীয়।

পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন সভা-সেমিনারের। অতিব শ্রমিকভক্ত কোনো মালিক হয়তো শ্রমিকদের মাঝে ফ্রি খাবার বিতরন করছেন এই দিন উপলক্ষ্য। হুংকার-শ্লোগান দিয়ে হয়তো কোনো দায়িত্বশীর ব্যক্তিত্ব বলছেন, এগিয়ে চলো শ্রমিক ভাইয়েরা আমরা আছি তোমাদের সাথে। কিন্তু বাস্তবে কাজই হচ্ছে না কোনো। যিনি শ্রমিক খেটেই মরছেন তিনি। আর যিনি মালিক অত্যাচার আর অবহলোর পাহাড় গড়েই চলছেন তিনি। যে গার্মেন্টস শ্রমিক কোটি কোটি মানুষের বস্ত্র তৈরী করে উন্নত বিশ্বে প্রেরণ করছে, তার স্ত্রী ও সন্তানের দেহে বস্ত্র নেই। যে শ্রমিক বহুজাতিক কোম্পানীতে কোটি কোটি মানুষের জন্য ওষুধ তৈরী করছে সেই মৃত্যুর সময় মুখে দেয়ার মতো ওষুধ পায় না, খাদ্যের অভাবে বিরাট বিরাট অট্টালিকায় শ্রমিকের হাড় ও মাংস একাকার হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সভ্যতার চরম উন্নতির এ যুগে সর্বত্রই মেহনতী মানুষ লাঞ্চিত, বঞ্চিত, শোষিত এবং অবহেলিত। তাহলে সমাধান কোথায়? কোথায় এই অবহেলা-অত্যাচর আর বঞ্চনা-শোষণের শেষ সীমানা? সমাধান দিয়েছে ইসলাম। প্রকৃত অর্থে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নীতিমালা বাতিয়েছেন রাসুল [সা.]। সুন্দর এ পৃথিবীর রূপ-লাবণ্যতায় শ্রমিকদের কৃতিত্বই অগ্রগণ্য। কিন্তু শত আক্ষেপ! সভ্যতার কারিগর এ শ্রেণীটি সর্বদাই উপেক্ষিত, অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত। উদয়াস্ত উষ্ণ ঘামের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নিয়ে খেটে যে শ্রমিক তার মালিকের অর্থযন্ত্রটি সচল রাখে, সেই মালিকেরই অবিচারে শ্রমিকদের অচল জীবনটি আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এটাকে সেই মৌমাছির সাথে তুলনা করা যায়, যারা দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে চাকে সঞ্চয় করে, কিন্তু তার ভাগ্যে একফোঁটা মধুও জোটে না। পুঁজিবাদের সমর্থক ম্যানডেভিল তার বই ‘ফিবল অব দি বিজ’ গ্রন্থে লিখেছেন-“ গরীব ও অসহায় লোকদের থেকে কাজ নেয়ার একমাত্র উপায় হল তাদেরকে গরীব থাকতে দাও এবং সবসময় তাদেরকে পরনির্ভরশীল করে রাখ। এদের যা প্রয়োজন তা কিঞ্চিত পূরণ কর। খেটে খাওয়া (শ্রমজীবী) মানুষকে স্বাবলম্বী করা আত্মঘাতী পদক্ষেপ বৈ কিছুই নয়।” এজন্য সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদী বিশ্ব চায় না আমাদের মতো দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হোক। সুতরাং সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় মালিক-শ্রমিকের বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা ও শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। আর এজন্য সর্বাগ্রে উচিত ইসলাম প্রদর্শিত মালিক-শ্রমিক নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন।

পাতাটি ১৬৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


পথ চলার বিশ্বস্ত বন্ধু টয়োটা

এইচ এম দুলাল:: পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতা এই তিনকে একবিন্দুতে মিলিত করতে পারলে যে কোনো…


শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

এইচ এম দুলাল:: “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে বৎসরের…


জীবনের পরিবর্তনে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

এইচ এম দুলাল:: তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমারা হতাশায় ভুগতে দেখি । তারা অনেক…


মে দিবসের চেতনা ও শ্রমিকের অধিকার জাগ্রত হোক মানবতা

এইচ এম দুলাল:: উত্তর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম থেকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আজ প্রযুক্তির…

মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের যে ভাবে নির্যাতন করে মারা হয় তা যে কোন সমান্য বিবেকবান মানুষও তা সহ্য করতে কষ্ট হবে। এ সব নারী ও শিশুদের অপরাধ তারা মুসলিম। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় সারিবদ্ধ ভাবে শিশুদের হাত বিছিয়ে তার উপর মটর সাইকেল চালিয়ে তাদের দু’হাত ভেঙ্গে দিচ্ছে আর বর্বর বৌদ্ধরা তা উপভোগ করছে। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে নির্যাতনে মৃত শিশুরা পানিতে ভাসছে। নারী নির্যাতনে যে মাত্রা তা কোন সভ্য মানুষ কল্পনাও করতে পারবেনা। এমন অনেক জনপদ পুরুষ শুন্য। প্রতিদিন শত শত লোক কে হত্যা করা হচ্ছে, যা বিশ্ব বিবেক দেখেও না দেখার ভান করছে। হায়রে মানবতা ! রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। জাতিসঙ্ঘের ঘোষণা অনুযায়ী পৃথিবীতে সবচে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জাতির নাম রোহিঙ্গা মুসলিম। কুকুর না খেয়ে মারা গেলে যে সভ্য দুনিয়ায় চোখের পানির স্রোত বয়ে যায়, বন্য প্রাণী বাঁচাতে যেখানে কোটি কোটি ডলারের ফান্ড অনায়াসে সংগৃহীত হয়, মায়ানমারে মাসের পর মাস নির্বিচারে নিরপরাধ নারী-শিশু-বৃদ্ধকে হত্যা করার পরও সেখানে কোনো সাড়া পড়ে না। এই বিশ্বে বাঘ সংরক্ষণের আহ্বানে পত্রিকার শিরোনাম করা হয়, সম্মেলন হয় কিন্তু সারাবিশ্বে ৫৭টি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের গণহত্যা থেকে রক্ষা করতে কোনো সম্মেলন হয় না।

দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের শত শত মুসলিম রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন আর সীমান্তে এসে তারা পুশব্যাকের ফলে আবার ফিরে যাচ্ছেন স্বদেশে অথবা ভাসছেন সমুদ্রে। বেদনার আরেকটি দিক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে এই নিষ্ঠুরতা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইনে নতুন করে শুরু হয়েছে সামরিক অভিযান। খবর অনুযায়ী এতে প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক রোহিঙ্গা আর এই সম্প্রদায়ভুক্তরা প্রাণ বাঁচানোর লক্ষ্যে দলে দলে ছুটছেন বাংলাদেশ অভিমুখে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশব্যাক করা ছাড়া উপায় কী! ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা যথেষ্ট সমস্যা সৃষ্টি করেছেন এ দেশের জন্য। বর্তমানে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ। এএফপির খবর অনুযায়ী সাম্প্রতিক ঘটনায় ১৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাড়িছাড়া হয়েছে। শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা এবং ১৫ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া কম কথা নয়। এতেও যদি বিশ্ববিবেকে দংশন না হয়, তাহলে আর কবে হবে? মানবিক বিপর্যয় আর কাকে বলে আমরা জানি না। মিয়ানমারের জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সূচি। দেশটির গণতন্ত্র উদ্ধারে সাহসী অবদান এবং শান্তি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পান এই নেত্রী। সম্প্রতি তার দেশ মায়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানে বাস্তুহারা অসংখ্য রোহিঙ্গা মুসলমান এবং রোহিঙ্গা নারীরা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি। মিয়ানমারের আকাশে-বাতাসে লাশের গন্ধ।শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সূচি কি শান্তির বদলে এভিাবেই অশান্তির দাবানলের পাশে মূর্তি হবেন? নোবেল বিজয়ী সূচিসহ বিশ্ব মোড়লদের হস্তক্ষেপই বন্ধ হতে পারে এই গণহত্যা!
পাতাটি ৯০৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত ১২টা ০১মিনিটের সাথে সাথে স্মৃতি হয়ে গেল ইংরেজি ২০১৬ সাল। নতুন সূর্যদ্বয়ের সাথে সাথে নতুন বছর ২০১৭ সালের নতুন দিনের শুরু। গত বছরের ঘটনা গুলো সময়ের ছায়া পথে হারিয়ে যাবে অতিতের গর্ভে। এর মাঝেই অতীত ফিরবে স্মৃতি হয়ে । এসেছে নুতন বছর । নতুনকে স্বাগত জানাতে মানুষের উদ্দীপনা সবসময়। নতুনের মধ্যে নিহিত সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয় নিকট অতীত অথবা সুদূর অতীত থেকে নেয়া শিক্ষা থেকে। তাই নতুন সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ন করার সুযোগ করে দিতে এল নতুন বছর। সময় কারো জন্য থেমে থাকেনা। চলতে থাকে আপন গতিতে। এভাবেই চলে যায় দিন, মাস, বছর। পুরনো দিনের গ্লানি ভুলে নতুন বছরে নতুন করে বিশ্বকে দেখার, দেখানোর তাগিদ নিয়ে নতুন সূর্যকে আপন করে নিবে বিশ্ব। নতুন মানেই চির তরুন, নতুন মানেই এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। আর তাই নতুন বছর মানেই ছোট বড় সবার কাছে নতুন দিনের প্রেরণা, নতুন ভাবে জেগে ওঠার তাগিদ, অনিষ্টের বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াই করার স্বপ্ন। বাংলাদেশে ইংরেজি নতুন বছর মানেই শীতের কুয়াশাভেদ করে আসা নতুন সূর্যকে বরণ করে নেওয়া। উঠোনে বসে নতুন আসা নরম রোদকে সঙ্গী করে পিঠা উৎসবে মেতে উঠা। বাংলাদেশে ইংরেজি নতুন বছর মানেই ঘর ভর্তি নতুন বইয়ের গন্ধ। নতুন ক্লাসে ওঠার আনন্দ। নতুন বইয়ের মলাট বাঁধার আনন্দ। আর নতুন করে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখা, এবার ভালো করবই।

নতুন বছরের শুভাগমনে আমাদের দেশের আগের বছরের জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে যাক। এইটাই হোক প্রত্যাশা। গত বছর আমাদের যেমন ছিল সফলতা, তেমনি ছিল হয়তো কিছু ব্যর্থতাও। সব ব্যর্থতা কাটিয়ে এই নতুন বছরটি যেন রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল- অবরোধ, হানাহানি আর নৈরাজ্যের মধ্যে না কাটে। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। ২০১৭ সালটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কল্যাণকর হোক। সবাইকে নব উদ্দোমে এগিয়ে যাবার প্রেরনা যোগাবে নববর্ষ। নতুন বছরে আমাদের সবার প্রত্যাশা ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত, অসামপ্রদায়িক একটি সোনার বাংলাদেশের। সবাইকে জানাই ইংরেজি নতুন বছরের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। শুভ হোক ইংরেজি নববর্ষ। আমাদের সকলের জীবন থেকেই চলে গেল ২০১৬ সাল। এলো নতুন বছর। স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭। দশদিকের সকল পাঠক, বিজ্ঞাপন দাতা, শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ইংরেজি নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
পাতাটি ৫৭১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি..
ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত পাতা- আজও শোষিত লাঞ্চিত বাঙালি হৃদয়ের নিভৃতে কী এক অব্যক্ত অনুভব অনুভূতি ভিড় করে। কৃষ্ণচূড়া, শিমূল , পলাশের লালিমায় কিংবা ন্যায় সত্য সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় যখন খুন ঝরে, বাঙালি চেতনায় একুশ জাগ্রত হয় তখনই। শোক শক্তি আর গর্বের মাস, মহান ভাষার অধিকার আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারি। এ মাসটির সাথে মিশে গেছে বাঙালির কৃষ্টি সংস্কৃতি ঐতিহ্য আর বীরত্ব গাঁথা। এ মাসেই দেখা মিলবে একুশে ফেব্রুয়ারি রাত্রির বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনা এক আলো ঝলমল সকালের। যার স্পর্শে বাঙ্গালীর চেতনা শানিত ও বিকশিত হয়ে জাতি আজ স্বাধীকারের স্বাদ লাভ করেছে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মায়ের মুখের ভাষার জন্য এ দেশের দামাল ছেলেরা বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির উপর চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে সেদিন এদেশের দামাল ছেলেরা ঢাকার রাজপথে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করেছিলেন নিজের জীবন দিয়ে মাতৃভাষা বাংলার সম্মান রক্ষা করে। তাই সেদিন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার্থে জীবন উৎসর্গ করা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার কোন দলের লোক ছিলেন – সেটা এদেশের গণমানুষ বিবেচনা করেনি। গণমানুষের মনে এঁরা দেশপ্রেমিক সূর্যসন্তান। সেদিনের সেই আত্মদানই পরবর্তীকালে রূপ নিয়েছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে। পাকিস্তানি শাসক এবং তাদের দোসরদের সব চক্রান্ত, সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাঙালি জাতি এগিয়ে গেল তার অভীষ্ট লক্ষ্যে। একুশে ফেব্রুয়ারি এক দিনে আসেনি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই গৌরবের মাস। ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা ফিরে তাকাই আমাদের শিকড়ের দিকে। আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য নতুন করে আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। সঙ্গত কারণেই ভাষার মাস নিয়ে আমাদের মধ্যে একটি অন্য রকম আবেগ কাজ করে। সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ থাকে মাসজুড়েই। শহীদের স্মরণে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশের গ্রন্থমেলা।

মাসটিকে ঘিরে দেশে ও প্রবাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পালন করবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম হলো স্বাধীন বাংলাদেশের। তাই এই ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে আমাদের এত অহংকার, এত গর্ব। মাতৃভাষার জন্য বুকের রক্ত দেয়ার এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আর সেই বিরল আত্মদানের স্বীকৃতিও মিলেছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে আজ একুশে ফেব্রুয়ারিকে পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে সেই অমর শহীদদের, যারা ভাষার জন্য তাদের জীবন দিয়ে গেছেন। সত্যি আজও ভাই হারানোর কষ্ট বাঙালি ভুলতে পারেনি।
পাতাটি ৬২২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। স্থায়ী বসবাসের আবেদনগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি পয়েন্ট পদ্ধতির আশ্রয় নেয় এই মন্ত্রণালয়। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জাপান। কারণ জাপানিরা যেমন ভদ্র জাতি তেমনি কর্তব্যপরায়ণও। সেই জানানে মাত্র এক বছরেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন! কীভাবে? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জাপানকে পৃথিবীর এক নম্বর সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে চেনেন অনেকেই। প্রযুক্তিতেও জাপানিদের জুড়ি নেই। জাপানকে অনুসরণ করেই আজ চীন প্রযুক্তিতে উন্নত। স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বা পড়াশুনার জন্য তাই অনেকেই জাপানকে বেঁছে নেন। তবে বিদেশী দক্ষ পেশাজীবীদের জাপানে বসবাস উৎসাহিত করতে অভিবাসনের পূর্বের নিয়ম সংস্কার করে পরিবর্তন এনেছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম হলো, পর্যাপ্ত পয়েন্ট অর্জন করতে পারলে যে কেও মাত্র এক বছরেই দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ পাবেন। এ বছরের মার্চ হতে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে সম্প্রতি জাপানের অভিবাসন ব্যুরো জানিয়েছে। ইতিপূর্বে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে দেশটিতে ন্যূনতম ১০ বছর থাকতে হতো। মূলত ২০১২ সালে জাপান সরকার ওই নিয়মটি বদলে ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ চালু করেছে। তখন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম থাকার সময় কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। সম্প্রতি দেশটির বিচার বিভাগ তিন বছর পূর্বের ওই নিয়মটি সংস্কারের ঘোষণা দেয়। এতে ডক্টরেট পাওয়া বিদেশীদের জন্য ৩০ ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের জন্য ২০ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষক, গবেষক বা অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে পেশাজীবীরা জাপানে ৩ থেকে ৭ বছর কাজ করলে ৫ হতে ১৫ পয়েন্ট অর্জন করবেন। শুধু তাই নয়, অন্তত ৪টি বিশেষ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনকারী বিদেশীরা পাবেন ২০ বোনাস পয়েন্ট। সেইসঙ্গে জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকলে পাওয়া যাবে আরও ১৫ পয়েন্ট। সবগুলো পয়েন্ট যোগ করে ৭০ পয়েন্ট হলে ৩ বছর জাপানে বসবাস করছেন এমন বিদেশীরা স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে পারবেন। ৮০ পয়েন্টধারীদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ পাবেন এক বছরেই। বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে পেশাগত অর্জন এবং বার্ষিক বেতনের পরিমাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে, অন্তত ৭০ পয়েন্ট পেতে হবে এবং আবেদনকারীকে অবশ্যই জাপানে পাঁচ বছর ধরে বসবাস করতে হবে। মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাগণ বাধ্যতামূলক বসবাসের এই সীমাটিকে তিন বছরে নামিয়ে আনতে চান। আর যে আবেদনকারীর ৮০ বা তার বেশি পয়েন্ট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও এক বছর কমে যাবে। অন্যদিকে, শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারীরা বেশি পয়েন্ট পাবেন। এছাড়া, আই.টি. কিংবা অন্যান্য বর্ধনশীল ক্ষেত্রের সর্বাধুনিক প্রকল্পে যুক্ত ব্যক্তিরাও বেশি পয়েন্ট পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।প্রায় মাসখানেক নতুন এই প্রস্তাবের ওপর নাগরিক মতামত নেয়ার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। দ্রুত হলে আগামী মার্চ মাসের শেষে এই পদ্ধতি চালু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, জাপানে ১০ হাজারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন যাদের মধ্যে দীর্ঘদিন বসবাস করে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন অনেকেই। এই নীতি বাংলাদেশীদের জন্যও সুযোগ বয়ে আনবে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

পাতাটি ৫৯৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..।
শুরু হল নতুন বছর ১৪২৪। নববর্ষের সূর্যোদয়ে বাংলার হাজার বছরের বহমান লোকজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারায় বর্ষবরণ যুক্ত করেছে এক নতুন অধ্যায়। উৎসবের ঢল নেমে আসে যান্ত্রীক শহুরে জীবনেও। বছরের শুরুতে বৈশাখী মেলাবসে শহরে-নগরে গঞ্জে। কত না বিচিত্র হাতের তৈরি দ্রব্যসম্ভার সেসব মেলায় বিক্রি হয়। সে সকল দ্রব্যসামগ্রীতে বাংলার মানুষের বৈচিত্রময় জীবনধারার একটা স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে। এ সকল মেলা যেন গ্রাম-বাংলার মানুষেরই প্রতিচ্ছবি। মাটির পুতুল, পাটের শিকা, তালপাতার পাখা, সোলার পাখি, বাঁশের বাঁশি, ঝিনুকের ঝাড়, পুঁতিরমালা, মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া-বাঘ-সিংহ কত যে অদ্ভুত সব সুন্দর জিনিসের সমাবেশ ঘটে সেই মেলায়, চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হয় না বাংলার মানুষের জীবন কত সমৃদ্ধশালী। মানুষ গরীব হতে পারে, দারিদ্র্য চিরসাথী হতে পারে, কিন্তু এসব জীবন জটিলতা তাদের মনকে আনন্দ খুশি থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। বৈশাখ বাংলার মানুষের জীবনী শক্তি। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায়ই জাতি বরণ করছে বাংলা নতুন বছরকে। নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা, সকল জীর্ণ মলিন রিক্ততার দিন শেষ হবে, ধ্বংসের ওপর সৃষ্টি হবে নতুন বসতি। মানবিক মূল্যবোধে জাগ্রত বাংলাদেশ আবার উঠে দাঁড়াবে নতুন শক্তি আর সম্ভাবনা নিয়ে। যে সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার সমস্ত কালো মেঘ মুছে দিয়ে নতুন প্রাপ্তির আলোয় উদ্ভাসিত করবে দেশকে।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা সীমাহীন। বর্তমান রাজনীতি আমাদের যেমন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মধ্যে বেঁধে রেখেছে তেমনি সুস্থ রাজনীতি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সব রাস্তা প্রায় বন্ধ করেছে যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শুভ নয়। গণতান্ত্রিক, সামাজিক, ন্যায়বিচার, সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে সব ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই শুভ নববর্ষে আমাদের প্রত্যাশা নতুন বছরটি সুন্দর হোক, শুভ হোক। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র সবার জন্য হোক কল্যাণকর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গড়ে উঠুক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। অবসান হোক হত্যা, খুন, সন্ত্রাস, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব-সংঘাতের রাজনীতি। এই প্রত্যাশায় উজ্জীবিত হই। এই উৎসব মুখর দিনে কামনা হোক সকলের সুখ ও সমৃদ্ধি। জাপান বাংলাদেশসহ দশদিকের সকল পাঠক, বিজ্ঞাপন দাতা, শুভানুধ্যায়ীদের জানাই বাংলা নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
পাতাটি ৪৩১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।
স্বাগত মাহে রমজান


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

স্বাগত মাহে রমজান



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব জীবনকে মহীয়ান ও সফল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই রমজানের আগমন। পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে এ মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পার্থিব লোভ-লালসামুক্ত থাকা, ত্যাগ-সহিষ্ণুতার সাধনা করা এবং মানবিক মূল্যবোধে তৈরি হওয়ার প্রশিক্ষণে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। নব জীবনকে সুন্দর ও পারলৌকিক মুক্তির নিশ্চয়তা দেয় এই মাসের সিয়াম সাধনা। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সৌর্হাদ্যবোধের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষা অনুশীলনে পবিত্র রমজানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ মাসের ত্যাগ ও সংযমের মহান শিক্ষা আমাদের জন্য রহমত ও বরকতের পাল্লা ভারী করে। অন্যদিকে সমাজ জীবনে সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রমজানের গুরুত্ব অপরিসীম। তারাবি আদায়, ইফতার, সেহরি, দান-খয়রাত, যাকাত-ফিতরা আদায়, লাইলাতুল কদর, ঈদ উদযাপনের মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে মুসলমন জাতি মহান এই মাসে একাত্ম হয়। পবিত্র রমজানের ফজিলত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য নেয়ামত স্বরূপ। এই পবিত্র মাসেই পবিত্র কোরআন শরীফ নাজেল হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, একমাত্র আমারই উদ্দেশ্যে রোজা রাখা হয়। আমি স্বয়ং রোজাদারদের পুরস্কৃত করবো। ইসলামের পাঁচটি রোকনের মধ্যে রোযা তৃতীয় স্তম্ভ। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম পালন করা ফরজ এবাদত। রমজানের রোজার শিক্ষার মধ্যে রয়েছে গরীব দুঃখিদের ক্ষুধার জ্বালা অনুভূত হওয়া, আমাদের মধ্যে সামর্থ্যবান, বিত্তশালীদের অনেকেই অপচয় করতে পছন্দ করেন। তারা বেশি মূল্যে ইফতারি খাওয়ার প্রতিযোগিতা করে থাকেন। সিয়াম সাধনার নামে ভোজনবিলাসে মেতে ওঠেন। যা সমীচীন নয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে পবিত্র রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয়। মানবতা উপকৃত হয়। সংযমী জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যেকের জীবন হবে পরিশুদ্ধ। এটাই হোক মমিন জীবনের প্রত্যাশা।

আর্থসামাজিক মুক্তিতে মালিক শ্রমিক সু-সম্পর্ক
…………………………….
মহান মে দিবসের শিক্ষা শুধু শ্রমিকদের কল্যাণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শাণিত করতে অঙ্গীকার নয়, উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় আর্থসামাজিক মুক্তির পথকে ত্বরান্বিত করতে হবে। শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের স্মারক মে দিবস। বাংলাদেশেও সব শিল্পের শ্রমিকদের ও সব কর্মজীবীর ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক তাদের অধিকার। মে মাস আমাদের স্বরণ করিয়ে দেয় মেহনতি মানুষের আন্দোলনের কথা। এ মাসেই ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগো শহরে হে মার্কেটে ধর্মঘট, লাখ লাখ শ্রমিকের সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলে। তাকে স্তব্ধ করার জন্য গুলি চালানো হয়। শ্রমিকের রক্তদানের মাধ্যমে এতে জন্ম নেয় এক নতুন ইতিহাস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশেও পালিত হয় মে দিবস। শ্রমিক শ্রেণী কেবল উৎপাদন ব্যবস্থারই প্রধান শক্তি নয়, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনেরও অন্যতম কারিগর। বিশ্বে এখনো শ্রমিকদের নানামুখী বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সংগত করণীয় আরো অনেক কিছু বাকি। মানবসভ্যতার চাকা এগিয়েছে শ্রমদানকারী শক্তির শ্রম, ঘাম আর রক্তের ওপর দিয়ে। আজ বৈষম্য হ্রাস করে শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়ে সরকারসহ সব সামাজিক শক্তিকে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। শিল্পের মালিকদেরও হতে হবে আরো মানবিক। তাদের মানবিকতা শুধু শ্রমিককে তার কাজে অধিক উদ্বুদ্ধই করবে না, এর বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব রাষ্ট্রেও পড়বে। শুধু আইন সংশোধন করে শ্রমনীতি আরো স্পষ্ট করতে হবে। তৈরি করতে হবে শ্রমিক বান্ধব পরিবেশ।
পাতাটি ৪১৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

বিসিসিআইজের নেতৃত্বে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ



জাপানে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার সঙ্গে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপান (বিসিসিআইজে)-এর নেতৃত্বে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বিসিসিআইজের প্রথম নির্বাচিত সভাপতি বাদল চাকলাদার, সাধারণ সম্পাদক হাকিম, এমডি নাসিরুল এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এমডি এস. ইসলাম নান্নু ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ শুক্রবার অপরাহ্নে দূতাবাস মিলনায়তনে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই সৌজন্য সাক্ষাৎ আয়োজনে দূতালয় প্রধান নুর-এ-আলম এবং কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাসান আরিফ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সাপ্তাহিক প্রতিনিধি রাহমান মনিও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতের শুরুতেই দূতাবাস কর্মকর্তাগণ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের দেখা মতে জাপানে নিজ চেষ্টায় সকলেই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, জাপানে প্রবাসীদের দ্বারা যতগুলো আয়োজন হয়ে থাকে তার সবগুলোতে তাদের সক্রিয় অবদান থাকে। এমনকি দূতাবাসের অনেক আয়োজনে তাদের সবার অবদান থেকে থাকে। তারা শুধু ব্যবসায়ী সমাজেরই প্রতিনিধিত্ব করেন না, পুরো প্রবাসী সমাজেরই নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।

এরপর প্রতিনিধি দলের সকল সদস্য নিজ পরিচিতি তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। সকলের পরিচিতি পর্ব শেষে বিসিসিআইজের পক্ষে বণিক সমিতির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, পেছনের কথা, গঠনতন্ত্র, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং মিনিস্ট্রি অব ইকোনমি, ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (METI)-তে অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন কর্তৃক সত্যায়িত কপিসহ যাবতীয় নথি রাষ্ট্রদূতের নজরে আনেন।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, আপনারা সবাই অনেকদিন ধরে জাপানে আছেন, জাপানে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে আপনাদের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম।

আমি বলব, যেহেতু জাপানে আপনারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তাই দেশের স্বার্থে আপনারা সকলে মিলে একযোগে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে কাজ করলে ভালো হবে। মনে রাখবেন কাউকে মাইনাস করে কাজ করার চেয়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কৃতিত্ব অনেক বেশি।

সাপ্তাহিক প্রতিনিধি রাহমান মনির সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, দূতাবাস যেহেতু বাংলাদেশের, তাই প্রতিটি বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের দ্বার সবসময় খোলা থাকবে।

সবশেষে বিসিসিআইজের পক্ষ থেকে নবাগত রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং প্রবাসীদের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। সভাপতি বাদল চাকলাদার এবং অন্যান্যরা রাষ্ট্রদূতের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে রাষ্ট্রদূতকে জাপানে স্বাগত জানান।

পাতাটি ২৪৪৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


বিসিসিআইজের নেতৃত্বে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাপানে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার সঙ্গে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপান…


মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৬

ঈদ মানে আনন্দ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কিংবা জাতিগতভাবে এই আনন্দ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উৎসব আকারে…


জাপানে মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

-দশদিক প্রতিবেদক:: যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে জাপানে। এর আয়োজক ছিল…

মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৬



ঈদ মানে আনন্দ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কিংবা জাতিগতভাবে এই আনন্দ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উৎসব আকারে পালিত হয়ে থাকে ঈদ। এই উৎসব পালনে পারিপার্শ্বিকতা এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা সবই অনুকূলে থাকে। ঈদ উপলক্ষে চারিদিক সাজ সাজ রব, কেনাকাটার ধুম, রাষ্ট্রীয় ছুটি এই ধর্মীয় আচার পালনকে উৎসবমুখর করে তোলে সব বয়সীদের একাকার করে।

কিন্তু প্রবাস জীবনে? মুসলিমপ্রধান দেশ না হলে প্রবাসে পারিপার্শ্বিকতায় কোনো প্রভাব পড়ে না। রাষ্ট্রীয় ছুটি তো প্রশ্নই ওঠে না। তাই বলে উৎসবপ্রিয় বাঙালি জাতি এই ধর্মীয় আচার পালন থেকে বিরত থাকতে পারে না। যতই বিদেশ বিভূঁই হোক না কেন, ধর্মীয় আচার তো পালন করতেই হবে।

প্রবাসে সাধারণত কর্মদিবসে সমষ্টিগত উৎসব পালন করা যায় না বিভিন্ন কারণেই। তাই নিকটবর্তী ছুটির দিনটিকেই বেছে নেয় উৎসব পালনে। আর জাপান প্রবাসীদের ঐতিহ্য অনুযায়ী যে কোনো আয়োজনেই সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকে ধর্ম-বর্ণ, আঞ্চলিকতা নির্বিশেষে।

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ও মাহাত্ম্য সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য জাপানস্থ মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ টোকিওর অদূরে সাইতামা প্রিফেকচার এর মিসাতো সিটির মিসাতো পার্কে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। এ ছাড়াও দূতাবাসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, দল-মত নির্বিশেষে জাপানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এবং স্থানীয় জাপানিদের অংশগ্রহণে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ রোববারের মিসাতো পার্কটি ছিল জাপানের বুকে এক চিলতে বাংলাদেশ। উৎসবমুখর বাংলাদেশ। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পার্কটি।
আর হবেই না বা কেন, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান নামক সংগঠনটিকে দেখা হয় জাপানে বাংলাদেশ সোসাইটির বিকল্প হিসেবে। আর বিক্রমপুরবাসীদের আতিথেয়তা সর্বজনবিদিত। বিক্রমপুরবাসীরা যেমন খেতে জানে, তেমনি খাওয়াতেও জানে। তাই তো বিক্রমপুরবাসীদের যে কোনো আয়োজনেই সর্বস্তরের প্রবাসীদের ঢল নামে। সাথে যোগ হয় স্থানীয় জাপানিদের। ডা. মাসুদ এসেছিলেন শিজুওকা প্রিফেকচার থেকে, তার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। ছাত্রজীবনে তার কিছু বন্ধু ছিলেন বিক্রমপুরের। তাই তিনি ভুলতে পারেননি বিক্রমপুরবাসীদের আতিথেয়তার কথা। বেশ কয়েকবার তিনি বিক্রমপুর গিয়েছিলেনও। তাই কেবল মাত্র নেট ও পোস্টার দেখেই চলে এসেছেন পরিচিতদের পেলে বাড়তি পাওয়ার আশায়।

কোরবানির মাংসে আপ্যায়ন ছিল ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজনের মূল আকর্ষণ। প্রতিবছরের মতো এবারও বিক্রমপুরবাসীরা আগত অতিথিদের কোরবানির মাংসে আপ্যায়িত করে। সাথে বিক্রমপুরের ঐতিহ্যে বিভিন্ন মুখরোচক খাবারও। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে খাবার মেন্যুতে ভিন্নতা রেখে তাদের প্রতি সম্মান দেখানোর কাজটি মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান জন্মলগ্ন থেকেই করে আসছে। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সবশেষে ডেজার্ট এবং বিভিন্ন ফলাদিও স্থান পায় বিক্রমপুরের ঐতিহ্য অনুসারে। অতিথিরা তা উপভোগ করেন।

আপ্যায়ন শেষে অতিথিদের সামনে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর লোগো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা ও প্রদর্শন করেন সভাপতি বাদল চাকলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নু। একই সঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন ব্যানারও প্রদর্শন করা হয়।

লোগোটি করে দেন উন্নয়ন সমাজকর্মী ও লেখিকা শেগুফতা শারমিন এবং ব্যানারগুলো ‘সাপ্তাহিক’ সম্পাদক গোলাম মোর্তোজার নির্দেশনায় ‘সাপ্তাহিক’-এর সিনিয়র গ্রাফিক্স ডিজাইনার মনসুর আলম। উপস্থিত সবাই লোগো এবং ব্যানারগুলোর প্রশংসা করে ‘সাপ্তাহিক’ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উল্লেখ্য, জাপান প্রবাসীদের বিশেষ করে প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি বিকাশে ‘সাপ্তাহিক’ সর্বদা পাশে থাকতে চেষ্টা করে।
পরিচিতি পর্ব শেষে শুরু হয় বিনোদনমূলক বিভিন্ন আয়োজন। শিশুদের বিস্কিট দৌড়, মহিলাদের সাঙ্গীতিক বালিশ (মিউজিক্যাল পিলো), পুরুষদের প্রীতি ফুটবল এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত বিংগো গেম ছিল বিনোদনমূলক আয়োজনগুলোর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ।

ছোটদের বিস্কিট দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ইয়ুসরা ইসলাম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে কাজী ইহাম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে আইরি হারুন। সভাপতি বাদল চাকলাদার, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুর আলী এবং সাধারণ সম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নু যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
প্রীতি ফুটবল খেলায় লাল ও সবুজ দল অংশ নেয়। খেলায় সবুজ দল লাল দলকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে। খেলার প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে লাল দল ১-৩ গোলে পিছিয়ে পড়ে। পরে পেনাল্টির মাধ্যমে ১টি গোল করার সুযোগ পেলেও শেষ রক্ষা আর হয়নি।

খেলায় লাল দলের সহ-অধিনায়ক মীর রেজাউল করিম রেজাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। খেলা পরিচালনা করেন খন্দকার আসলাম হিরা। তাকে সহযোগিতা করেন এমডি এস ইসলাম এবং দেলোয়ার হোসেন।

উল্লেখ্য, লাল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাপান আওয়ামী লীগ সভাপতি সালেহ্ মো. আরিফ এবং সহ-অধিনায়ক ছিলেন জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা। অপরদিকে সবুজ দলের অধিনায়ক ছিলেন বিএনপি উপদেষ্টা কাজী এনামুল হক এবং সহ-অধিনায়ক ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা রাসেল মাঝি। পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরা।

কথাগুলো অপ্রাসঙ্গিক হলেও লেখার উদ্দেশ্য হলো, জাপানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ আদর্শজনিত কারণে পৃথক পৃথক দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকলেও জাতীয় স্বার্থে এবং সামাজিক কাজে তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলো পালনে কর্মসূচি, টোকিও বৈশাখী মেলা উদযাপন, টোকিও শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত তারা এক টেবিলে বসেই নিয়ে থাকেন। বাংলাদেশে যেটা সম্ভব নয়। যদিও তাই-ই হওয়া উচিত। তাই জাপান প্রবাসীরা মনে করে জাতীয় স্বার্থে জাপান আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনীতি উদাহরণ হতে পারে। দেশ এগিয়ে যাবে বহুদূর।

আকর্ষণীয় বিংগো গেম-এ নাফাস ইসলাম বিংগো সেট জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ ছাড়াও সারোয়ার কাকা, আলিফ হোসাইন রিও এবং আলমগীর হোসেন বিংগো লাইন জয়ী হন।

সভাপতি বাদল চাকলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নু বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সোসাইটি আহ্বানে সাড়া দেয়ার জন্য অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর সভাপতি বাদল চাকলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নুর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠান পরিচালনা করে ‘সাপ্তাহিক’ জাপান প্রতিনিধি রাহমান মনি।

পাতাটি ১৩৬৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


বিসিসিআইজের নেতৃত্বে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাপানে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার সঙ্গে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপান…


মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান-এর ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৬

ঈদ মানে আনন্দ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কিংবা জাতিগতভাবে এই আনন্দ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে উৎসব আকারে…


জাপানে মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন

-দশদিক প্রতিবেদক:: যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে জাপানে। এর আয়োজক ছিল…