দরিদ্র ঘরের ‘সুন্দর পিচাই’ আজ গুগলের সিইও



দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে আলাদা ঘর পেত না ছেলেটা। রাতে ভাইকে নিয়ে শুয়ে পড়তেন বসার ঘরেই। ঘুমের মধ্যেও ঘুরে ঘুরে আসত স্বপ্ন। বড় হওয়ার স্বপ্ন। প্রযুক্তি নিয়ে পড়ার স্বপ্ন। যে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন বাবা। বলেছিলেন‚ মন দিয়ে পড়াশোনার কোনও বিকল্প নেই| তাতে অবশ্য ছেদ পড়ত না ক্রিকেট খেলায়। চেন্নাইয়ে নিজের স্কুলকে জেলা স্তরে চ্যাম্পিয়নও করেছিলেন তিনি। ছিলেন অধিনায়ক। সেই ছাত্র এখন ৪৩’র যুবক। তার কাঁধে এখনও গুরু দায়িত্ব। স্কুল টিমের বদলে এখন চ্যাম্পিয়নের জায়গায় বসাতে হবে গুগলকে। নিজের সংস্থার সঙ্গে দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সারথি পিচাই সুন্দররাজন। বিশ্ব যাকে চেনে সুন্দর পিচাই নামে।

ভারতের চেন্নাইয়ের স্কুল থেকে পাশের পরে খড়গপুর আইআইটি (IIT) থেকে মেটালার্জিক্যাল শাখায় ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন সুন্দর। সুযোগ আসে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার। করেননি তিনি। একই প্রতিষ্ঠানে এমএস করেন। এরপর এমবিএ সম্পূর্ণ করেন পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যেখানে তিনি ছিলেন সিয়েবেল এবং পামার স্কলার।

দুটি সংস্থায় চাকরির পরে ২০০৪-এ গুগল-এ যোগ দেন সুন্দর। প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এগার বছরে উল্কাবেগে উত্থানের পরে আজ সুন্দর গুগলের সিইও।

ছোটবেলায় ছেলের ফোন নম্বর মনে রাখার স্মৃতিশক্তি দেখে মুগ্ধ হতেন সুন্দরের বাবা রঘুনাথ পিচাই। এখনও সুন্দরের বিনম্র স্বভাব‚ ডাউন টু আর্থ মানসিকতা দেখে অবাক হয় তার আশপাশের মানুষেরা। আসলে সুন্দর ভুলতে পারেন না তার অতীত ‚ যেখানে গ্রথিত আছে তার শিকড়। গুগলের সিইও ভুলে যাননি ছোটবেলায় তার বাড়িতে টেলিভিশন সেট ছিল না। গাড়ি তো দূর অস্ত। সুন্দরের প্রথমবার বিদেশযাত্রার টিকিটের যা দাম ছিল‚ তার বাবার বার্ষিক আয় ছিল তার থেকেও কম। সেই জমিনের উপর পা রেখেই মাথা তুলেছেন সুন্দর।

বাবা, মা আর দুই ভাই— এক স্কুটারে চার জন। জায়গার হয়তো টানাটানি ছিল, কিন্তু ইচ্ছে আর সঙ্কল্পের জ্বালানি একটু বেশিই ছিল দু’চাকার ওই বাহনে। তাই চেন্নাইয়ের অতি সাধারণ দু’কামরার ফ্ল্যাট থেকে যাত্রা শুরু করলেও, সিলিকন ভ্যালির আগে তা থামেনি। আর গুগ্‌লের মতো এক ডাকে চেনা সংস্থার সিইও হয়েও তাকে রূপকথা মনে হতে দেননি বাড়ির বড় ছেলে পিচাই সুন্দররাজন। তথ্যপ্রযুক্তির তামাম দুনিয়া যাঁকে সুন্দর পিচাই নামে চেনে। মঙ্গলবারই আইআইটি খড়্গপুরের এই প্রাক্তনীর হাতে গুগ্‌লের রাজ্যপাট তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ।

অনেকে বলছেন, রূপকথা না হোক, এক হিসেবে ইতিহাসই তো তৈরি হল এ দিন। মাইক্রোসফট আর গুগ্‌লের মতো দুই চির যুযুধান দৈত্যের মাথাতেই বসে পড়লেন দুই ভারতীয়। হয়তো সিলমোহরও পড়ল তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণের উপরে।

সকলকে চমকে দিয়ে এ দিন পেজ জানান, চোখ ধাঁধানো সাফল্য সত্ত্বেও গুগ্‌লের ব্যবসা ঢেলে সাজছেন তাঁরা। এ বার থেকে মূল সংস্থার নাম হবে অ্যালফাবেট। তার নেতৃত্ব দেবেন তিনি এবং অন্য প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন। আর সেই অ্যালফাবেটের প্রধান শাখা হবে গুগ্‌ল। যার আওতায় থাকবে অ্যান্ড্রয়েড, সার্চ, অ্যাড (বিজ্ঞাপন), ইউটিউব, ম্যাপের মতো ব্যবসা। এই ছিপছিপে, মেদহীন গুগ্‌ল সামলানোর দায়িত্ব বর্তাবে সুন্দরের উপর। যাঁকে ওই কাজে পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন তিনি! পেজের কথায়, ‘‘আমি ভাগ্যবান যে, সুন্দরের মতো মেধাবী, পরিশ্রমী আর গুগ্‌লের প্রতি দায়বদ্ধ লোক সংস্থা চালাবেন।’’

মেদহীন, কারণ এই নতুন গুগ্‌লই আসলে অ্যালফাবেটের রাজকোষ। বছরে প্রায় ৬,৬০০ কোটি ডলারের ব্যবসা করে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি বহুজাতিকটি। মুনাফা ১,৬০০ কোটি। আর এর প্রায় পুরোটাই আসে সেই সমস্ত ব্যবসা থেকে, যার দায়িত্ব যাচ্ছে সুন্দরের হাতে। যেমন, অ্যান্ড্রয়েড। পৃথিবীর ৭৮% স্মার্টফোনের পেটেই সেঁধিয়ে রয়েছে এই প্রযুক্তি (সফটওয়্যার)। গুগ্‌লের ‘সার্চ’ (নেটে তথ্য খোঁজা) আর তার
সঙ্গে মিলিয়ে বিজ্ঞাপনই পেজের সংসারের মূল রোজগার। একই রকম জনপ্রিয় ইউটিউব, গুগ্‌ল ম্যাপ, আর অ্যাপ (মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন)। পেজের দাবি, গত কয়েক মাসে সুন্দর যে ভাবে সব সামলাচ্ছিলেন, তাতে এই ঘোষণা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা ছিল। কোনও রূপকথা নয়।

মাত্র ৪৩ বছরে গুগ্‌লের রাশ হাতে এল। অথচ ১২ বছর বয়স হওয়ার আগে টেলিফোনেও হাত দেননি সুন্দর। বাড়িতে ছিলই না। ছিল না টিভি। চেন্নাইয়ে চরকি পাক খেতেন বাদুড়ঝোলা বাস বা স্কুটারে।

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা কারখানার ইঞ্জিনিয়ার। সুন্দর হওয়ার আগে মা কাজ করেছেন স্টেনোগ্রাফারের। সুন্দরকে বিদেশে পড়তে পাঠানোর জন্য ঋণ জোগাড় করতে পারেননি বাবা। তবু হাল ছাড়েননি। নিজের অ্যাকাউন্ট প্রায় খালি করে তুলে দিয়েছেন থোক
টাকা। যা তখন তাঁর এক বছরের বেতনের থেকেও বেশি। এত ভাল লগ্নি গুগ্‌লও করেছে কি?

স্কুলে বরাবর ভাল রেজাল্ট করা সুন্দর ছিলেন ক্রিকেট ক্যাপ্টেন। ফুটবলের আদ্যন্ত ভক্ত। এর পর আইআইটি খড়্গপুর। যেখানে প্রায়ই তাঁকে দেখা গিয়েছে ক্ষয়ে আসা হাওয়াই চপ্পল পায়ে। স্নাতকোত্তর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। যা গুগ্‌লের আঁতুড়ও। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, সেখান থেকেই পিএইচডি শেষ করে অধ্যাপক হবেন। তার বদলে এমবিএ করলেন হোয়ার্টন বিজনেস স্কুল থেকে। ২০০৪ সালে গুগ্‌লের সদর দফতরে প্রথম পা। চাকরির ইন্টারভিউ চলাকালীন তাঁকে বলা হয়েছিল সে দিনই নাকি জি-মেল বাজারে আনছে সংস্থা। সুন্দর ভেবেছিলেন, নেহাতই এপ্রিল ফুলের মস্করা। বাকিটা ইতিহাস।

গত এক দশকে দুনিয়ায় সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সুন্দর এসেছিলেন নিছক প্রোজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে। গোড়ার দিকে তাঁকে শীর্ষ পদের দাবিদারও সে ভাবে মনে করেননি কেউ। শান্ত, মৃদুভাষী, সহকর্মীদের সঙ্গে ভাল ব্যবহারে অভ্যস্ত— এমন লোক যে আস্ত জাহাজের ক্যাপ্টেন হতে পারেন, এমনটা অনেকেই ভাবেননি।

সেই ভাবনায় বদলের শুরু বছর দুই আগে। ওয়েব দুনিয়ায় ঢুকতে মাইক্রোসফটের ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের জমি অনেকটাই সরিয়ে নিয়ে গেল গুগ্‌লের ক্রোম। তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়া চোখ কচলে দেখল, সেই সাফল্যের অন্যতম কারিগর মৃদুভাষী সুন্দরই। সাফল্য আরও বড় মাপে এল অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে স্মার্টফোনের বাজার ধরার মাধ্যমে। তাই অক্টোবরে পেজ যখন সুন্দরকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে নিয়ে এলেন, তখনই কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়ে গিয়েছিল চূড়ান্ত ঘোষণার।

গুগ্‌লে সহকর্মীরা বলেন, ক্রেতার চাহিদা অনুসারে প্রযুক্তিকে ব্যবহারে সুন্দর ওস্তাদ। পেজ বলেন, ‘‘সুন্দরের আসল গুণ হল খুব কঠিন প্রযুক্তির খুব সহজ প্রয়োগ।’’ সুন্দর নিজে বলেন, ‘‘আমি চাই প্রযুক্তি হবে ক্রেতার চাহিদার চাকর। যেমন, যদি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভুলতে বসি, তখনই যেন চিৎকার করে আমার ফোন। যাতে তা মিস না হয়।’’ প্রযুক্তির প্রতি এই সমর্পণের পাশাপাশি সুন্দরকে এই উচ্চতায় তুলে এনেছে তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি, বরফ শীতল স্নায়ু এবং সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রেখেও চূড়ান্ত দর কষাকষির ক্ষমতা। এতটাই যে, স্যামসাংয়ের মতো সংস্থাকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার ‘হুমকি’ দিতে পিছপা হননি তিনি। সহকর্মীদের মতে, এই সব গুণ ছিল বলেই কিছু দিন আগেও তাঁকে সিইও হিসেবে পেতে কাড়াকাড়ি করেছে টুইটার, মাইক্রোসফট। ওই সব বিরল ক্ষমতা আছে বলেই মাইক্রোসফটের সত্য নাদেল্লা কিংবা পেপসির ইন্দ্রা নুয়ির মতো বিদেশে ভারতীয় সাফল্যের লোকগাথা হয়ে গেলেন সুন্দর। এ দিন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, নাদেল্লা, অ্যাপলের কর্ণধার টিম কুক। মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুন্দর টুইট করেছেন, ‘‘আশা করি শীঘ্রই আপনার সঙ্গে দেখা হবে।’’

বেশ কয়েক দশক ধরে সব চেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি বহুজাতিকগুলির শীর্ষে যাঁরা থাকতেন, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা হতেন নাটুকে, ‘লার্জার দ্যান লাইফ’। যেমন, অ্যাপলের স্টিভ জোবস। মাইক্রোসফটের স্টিভ বামার। গুগ্‌লেরই পেজ-ব্রিন জুটি। সেখানে এখন আই-ফোন তৈরির সংস্থার দায়িত্বে মিতভাষী কুক। বিল গেটসের সংস্থায় ভদ্র নাদেল্লা। আর গুগ্‌লে সুন্দর। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, সিলিকন ভ্যালি কি তবে বদলাচ্ছে?

চমকে দেওয়া বদল অবশ্য এ দিন করেছে গুগ্‌ল। সংস্থার মূল ব্যবসা থেকে উদ্ভাবনী কিন্তু এখনও তেমন রিটার্ন না-দেওয়া ব্যবসাগুলিকে আলাদা করেছে। যেমন, চালকবিহীন গাড়ি কিংবা বেলুনে নেট সংযোগ দেওয়ার প্রকল্প। বেশ অদ্ভুত নতুন মূল সংস্থার নাম— অ্যালফাবেট। অনেকে বলছেন, শূন্য থেকে শুরু করে এই উচ্চতায় পৌঁছনো এবং সেখান থেকে ফের নতুন দৌড় শুরু করা। এটাই তো চিরকালের মার্কিন স্বপ্ন, ‘আমেরিকান ড্রিম’। আর সুন্দর সেই মার্কিন উড়ানের সঙ্গে ভারতীয় স্বপ্নের মোহনা। যে স্বপ্নে তিনি একা নন, পরিবারও একই রকম মশগুল।

আমেরিকায় এসে ৬০ ডলার দিয়ে ব্যাগ কিনতে পারেননি। আজ ৬,৬০০ কোটি ডলারের সংস্থা তাঁর কাঁধে। এই জয় শুধু সুন্দরের নয়। স্কুটারের চার সওয়ারিরই। জয় নিখাদ ভারতীয় স্বপ্নের।

শান্তশিষ্ট, লাজুক ছেলেটাকে উপর থেকে দেখে আলাদা করে খুব নজরকাড়া মনে হতো না। কিন্তু তাকে কোনো প্রশ্ন করলেই ঝটিতি বেরিয়ে আসত ভিতরের শাণিত চেহারাটা। চটপট নিখুঁত উত্তরে একেবারে তাজ্জব হয়ে যেতেন শিক্ষকরা।

মেধাবী ছাত্র আইআইটি-তে অনেকেই থাকেন। কিন্তু মেটালার্জি অ্যান্ড মেটিরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র পি সুন্দররাজনের বি টেক স্তরের ‘থিসিস’-এও ছিল উদ্ভাবনী চিন্তার ছোঁয়া। পড়ার সময় থেকেই ঝোঁক ছিল বৈদ্যুতিন মাধ্যমে ব্যবহৃত ধাতু (সিলিকন, গ্যালিয়াম) নিয়ে কাজ করার। এ সব দেখে নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় আইআইটি খড়কপুরের শিক্ষক-অধ্যাপকদের অনেকে বলতেন, ‘‘এ ছেলে লম্বা রেসের ঘোড়া।’’ কিন্তু পিচাই সুন্দররাজনের (দুনিয়া যাকে সুন্দর পিচাই নামে চেনে) দৌড়টা যে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে গুগলের সিইও পদে পৌঁছে যাবে, এতটা বোধ হয় আশা করেননি তারাও।

শান্ত ছেলেটা পড়াশোনার বাইরে ক্যাম্পাসে বেশি মেলামেশা করত না। তাই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী গুগ্ল-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন শুনেও অনেকেই মনে করতে পারেননি তাকে। কর্পোরেট দুনিয়ায় পরিচিত সুন্দর পিচাইকে আইআইটি নথিপত্রেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মেটালার্জি অ্যান্ড মেটিরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক সনৎ রায়ই মনে করিয়ে দেন, আইআইটি-র নথিপত্রে ওর নাম ছিল পি সুন্দররাজন। ১৯৯৩-এ মেটালার্জি অ্যান্ড মেটিরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি টেক পাশ পি সুন্দররাজনই এখন নাম বদলিয়ে সুন্দর পিচাই!

মেধাবী সুন্দররাজনকে শিক্ষকেরা মনে রেখেছেন তার অমায়িক ব্যবহারের কারণেও। সনৎবাবু বলছেন, ‘‘ধাতুবিদ্যার কঠিনতম বিষয়েও সড়গড়, ঝরঝরে ইংরেজি বলতে পারা সুন্দরের মধ্যে কোনো দেখনদারি ভাব ছিল না।’’ ছাত্রের এই অনবদ্য কীর্তির পরে উচ্ছ্বসিত কানপুর আইআইটি-র ডিরেক্টর অধ্যাপক ইন্দ্রনীল মান্না। তার অধীনেই (তিনি তখন খড়কপুরে মেটালার্জি বিভাগের শিক্ষক) স্নাতক স্তরের ‘থিসিস’ করেছিলেন সুন্দর। ইন্দ্রনীলবাবু বলছেন, ‘‘ল্যাবরেটরিতে যেকোনো সমস্যা লিখে ফেলতেও সুন্দরের জুড়ি মেলা ভার। এত ভালো লেখার হাত কম দেখা যায়।’’ তার সঙ্গে ছিল দুরন্ত স্মৃতিশক্তি। একসঙ্গে অনেক ফোন নম্বর মনে রাখতে পারতেন। সহপাঠীদের অনেকে বলছেন, ‘‘ও ছিল ছুপা রুস্তম।’’

কী রকম? ক্যাম্পাসেই সুন্দরের পরিচয় হয়েছিল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসা অঞ্জলির সঙ্গে। পড়ার সময় দু’জনের প্রেম কিন্তু টেরই পাননি কেউ! পরে সেই অঞ্জলিই সুন্দরের ঘরণী। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু বন্ধু ছিল। তার মধ্যে স্বামীনাথন বলে আর এক যুবকের কথা মনে আছে ইন্দ্রনীলের। মেধাবী স্বামীনাথন পরে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করার রাতেই গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।

আইআইটি ক্যাম্পাসে সুন্দরকে পড়ার বাইরে সে ভাবে দেখা না গেলেও টুইটারে কিন্তু তিনি ফুটবল থেকে সমকামী বিয়ে, সবেতেই সপ্রতিভ। টুইটারেই সুন্দরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে সত্য নাদেল্লা, টিম কুক সকলেই। সুন্দর এ দিন টুইটে মোদীকে উত্তরও দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘আশা করছি শিগগিরি আমাদের দেখা হবে!’’

সেপ্টেম্বরে সিলিকন ভ্যালিতে যাওয়ার কথা রয়েছে মোদির। সেখানে তার সঙ্গে সুন্দরের কথা হয় কি না, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সবাই। গত বছরে সুন্দরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল শাহরুখ খানের। গত বছর অক্টোবরে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ছবির প্রচারে গুগ্ল-এর অফিসে গিয়েছিলেন শাহরুখ। বলেছিলেন, এক সময় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারই হতে চেয়েছিলেন তিনি। সুন্দরের পাল্টা প্রস্তাব ছিল শাহরুখের কাছে, ‘‘আপনি কি এখনও পেশা বদল করতে চান?’’

গুগ্ল অফিসেও সুন্দর জনপ্রিয় তার এমনই অমায়িক ব্যবহারের জন্য। গুগ্ল-এর জনসংযোগ বিভাগের প্রাক্তন কর্ত্রী পরমা রায়চৌধুরী (বর্তমানে সফটব্যাঙ্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট) বলছেন, ‘‘গুগ্ল ক্রোম নিয়ে সুন্দরের সাক্ষাৎকার প্রয়োজন ছিল। ওকে বলতেই অনুরোধ করল, ৩০ মিনিট পরে কথা বলতে। কারণ, সে সময় ও বাচ্চাদের ঘুম পাড়াচ্ছিল।’’ পরমা বলছেন, বড় কাজের মধ্যে ছোট ছোট ব্যাপারগুলোও কখনও সুন্দরের নজর এড়ায় না।

তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষে উঠে আসার পিছনে মেধার সঙ্গে অমায়িক ব্যবহারের রসায়ন তো রয়েইছে। আবার আইআইটি-র অন্দরে একটা অন্য রসিকতাও চলছে। ক্যাম্পাসের নেহরু হল-ও (বি টেক পড়ার সময় সুন্দরের ঠিকানা) নাকি এই চমকপ্রদ উত্থানের পিছনে অনেকটা দায়ী। বি টেক পড়ার সময় ওই বাড়িতে চার বছর থাকলে নাকি জীবনটা বদলে যেতে পারে! যার উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক ছাত্রের নাম!

রেভিনিউ সার্ভিসের উঁচু পদ ছেড়ে ৪৭ বছর বয়সে যিনি এখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী! অরবিন্দ কেজরীওয়াল!

পাতাটি ২৪৬৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


টোকিও সুসিন কগিয়ে থেকে সনি করপোরেশন

আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকা, জাপানী দুই উদ্যোক্তা। সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও পরাজয়ের…


দরিদ্র ঘরের ‘সুন্দর পিচাই’ আজ গুগলের সিইও

দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে আলাদা ঘর পেত না ছেলেটা। রাতে ভাইকে নিয়ে শুয়ে পড়তেন বসার…


ফেসবুকের নতুন ফিচার ‘মেসেঞ্জার ডে’

ফটো শেয়ারিং মোবাইল সার্ভিস স্ন্যাপচ্যাটের সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন এক পরিষেবা আনল ফেসবুক। নিজেদের মেসেজিং…

ফেসবুকের নতুন ফিচার ‘মেসেঞ্জার ডে’



ফটো শেয়ারিং মোবাইল সার্ভিস স্ন্যাপচ্যাটের সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন এক পরিষেবা আনল ফেসবুক। নিজেদের মেসেজিং মেসেঞ্জারে ‘মেসেঞ্জার ডে’ নামের নতুন এক ফিচার চালু করেছে। এই ফিচার ব্যবহারের মাধ্যমে ইউজাররা এমন ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে পারবেন, যা একদিন পর অটোম্যাটিকভাবে মুছে যাবে।

এই ফিচারে স্ন্যাপচ্যাটের ‘স্টোরিজ’ ফিচারকে অনুকরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতোমধ্যে পোল্যান্ডে নতুন এক ফিচার চালু হয়েছে। ফেসবুক মেসেঞ্জারের চ্যাটবক্সের একদম উপরে ‘মেসেঞ্জার ডে’ অপশনটি দেখা যাবে।

ইউজাররা এই ফিচারের মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিও পোস্ট করার সময় তাতে অ্যানিমেটেড টেক্সট বা গ্রাফিক্স ইউজ করতে পারবেন। এর আগে ফেসবুকের তরফ থেকে জানিয়েছিল, ইউজাররা ‘ফেস-সোয়াপিং এমএসকিউআরডি’ নামের অ্যাপ ইউজ করে লাইভে যেতে পারবেন। ইতোমধ্যেই বিজ্ঞাপন ব্যবসায় আধিপত্য বজায় রেখেছে ফেসবুক।

নিজেদের অধীনে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ আর মেসেঞ্জার-এর মতো মেসেজিং অ্যাপ, যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ব্যবসায় আরও বেশি আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ রয়েছে, এমনটাই আভাস দিয়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক-এ অনুষ্ঠিত অ্যাডভার্টাইজিং উইক-এ এক সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মকর্তারা জানান, সংস্থাটি তাদের মেসেজিং অ্যাপগুলোকে ব্র্যান্ডগুলোর জন্য স্বাভাবিকভাবে খাপ খাওয়ানোর জায়গা হিসেবে দেখছে।

পাতাটি ১০৬৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


টোকিও সুসিন কগিয়ে থেকে সনি করপোরেশন

আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকা, জাপানী দুই উদ্যোক্তা। সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও পরাজয়ের…


দরিদ্র ঘরের ‘সুন্দর পিচাই’ আজ গুগলের সিইও

দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে আলাদা ঘর পেত না ছেলেটা। রাতে ভাইকে নিয়ে শুয়ে পড়তেন বসার…


ফেসবুকের নতুন ফিচার ‘মেসেঞ্জার ডে’

ফটো শেয়ারিং মোবাইল সার্ভিস স্ন্যাপচ্যাটের সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন এক পরিষেবা আনল ফেসবুক। নিজেদের মেসেজিং…

প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পেলেন টাঙ্গাইলের এসপি ও তদন্ত কর্মকর্তা



টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলার তদারককারী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর ও এসআই অশোক কুমার সিংহ।

পুলিশ বিভাগ সূত্র জানায়, সালেহ মোহাম্মদ তানভীরকে ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার সফল তদারকি ও জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য এবং অশোক কুমার সিংহকে বহুল আলোচিত ওই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পদক দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে শহরের কলেজপাড়া এলাকায় তার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার তিনদিন পর ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার প্রথমে সদর থানা পুলিশকে দেওয়া হয়। প্রায় এক বছরেও এর রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় পরে ২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশোক কুমার সিংহকে। প্রায় সাত মাস তদন্ত শেষে এই হত্যাকা-ে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া তাদের জবানবন্দিতে ফারুক আহমেদ হত্যার সঙ্গে টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা) এবং তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। এ ঘটনার পর থেকে সাংসদ আমানুর ও তার ভাইদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

পাতাটি ২৯৬৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পেলেন টাঙ্গাইলের এসপি ও তদন্ত কর্মকর্তা

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলার তদারককারী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা…


পুরোনো পথেই নতুন বাজেট

রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন। আমাদের শিল্পানুরাগী অর্থমন্ত্রী ব্যর্থতার আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলেননি ঠিকই,…


রেমিটেন্সকে ‘বন্ড’ আকারে বাজারে ছাড়ার পরামর্শ মসিউরের

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সকে আরো বিনিয়োগমুখী করতে একে ডলারের…

পুরোনো পথেই নতুন বাজেট



রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন। আমাদের শিল্পানুরাগী অর্থমন্ত্রী ব্যর্থতার আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলেননি ঠিকই, তবে সম্ভবত এই প্রথম ব্যর্থতার একটি বড় তালিকা দিলেন। ২০০৯ সাল থেকে অনেক ধরনের পরিকল্পনা নিলেও যা যা করতে পারলেন না, তা অকপটেই বললেন তিনি।

কবিগুরুর ওই গানেই এর পরে লিখেছিলেন, ‘একলা রাতের অন্ধকারে আমি চাই পথের আলো।’ অর্থমন্ত্রী এ কথাটি আর মনে রাখলেন না। ব্যর্থতা নিয়েও বাজেটে অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি, কিন্তু কোন পথে যাবেন সেটি জানাতে পারলেন না। নতুন অর্থবছরে তিনি ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চক্র ভেঙে ৭ শতাংশে নিয়ে যেতে চেয়েছেন, বাড়াতে চেয়েছেন বেসরকারি বিনিয়োগ, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরেছেন ৩০ শতাংশের বেশি। কিন্তু কীভাবে তা করবেন তা বলেননি। রবীন্দ্রনাথ যেমনটি বলেছেন, ‘দেখতে তোমায় না যদি পাই নাই-বা দেখি’।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুরোনো পথে হেঁটেই দেশকে ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধির সোপানে আরোহণ’ করার স্বপ্ন দেখালেন। তবে এ জন্য চাইলেন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে। আর আড়ালে রাখলেন সংস্কার করতে না পারাকে। অর্থাৎ অর্থনীতির সব ধরনের কাঠামোগত সমস্যার কোনো সমাধান না দিয়েই সমৃদ্ধিশালী দেশের কাতারে শামিল হওয়ার স্বপ্ন দেখালেন।

আপনার জন্য কী আছে: আপনারা যাঁরা নিয়মিত কর দেন, তাঁদের ওপর বোঝা বাড়তে পারে। কারণ, রাজস্ব আয়ের যে পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রী নিয়েছেন, তা আগের তুলনায় ৩০ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, ‘সত্যিই উচ্চাভিলাষী।’ অর্থমন্ত্রীর আশা, এই রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। কারণ, কর কর্মকর্তার সংখ্যা বেড়েছে, দক্ষতাও বেড়েছে। চিহ্নিত করা হচ্ছে নতুন নতুন করদাতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হলে পুরোনো করদাতাদের ওপরেই চাপবে রাজস্ব আদায়ের চাপ। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এই হারে রাজস্ব আদায় কখনোই করতে পারেনি এনবিআর।

তবে নানা ধরনের করছাড়ও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। করমুক্ত আয়ের সীমা ৩০ হাজার টাকা বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে ধনীদের খানিকটা ছাড় দিয়েছেন, এখন সারচার্জ দিতে হবে সোয়া দুই কোটি টাকার সম্পদ থাকলে, দুই কোটি টাকা নয়। তবে অর্থমন্ত্রী সম্ভবত বাধার মুখে পড়বেন পোশাকমালিকদের পক্ষ থেকে। পোশাক খাতে ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করার কথা বলেছেন। এর আগেও অর্থমন্ত্রী এই চেষ্টা করেও পিছিয়ে এসেছিলেন। এবার কি পারবেন?

অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আদায়ে এবার করের আওতা বাড়িয়েছেন। ছোট ছোট অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অর্থমন্ত্রীর বড় ভরসা এখনো উৎসে কর। আগে থেকে কেটে রাখা হয় বলে এই কর আদায় করা সহজ। অর্থমন্ত্রী এই পথটি আরও সহজ করার জন্য উৎসে আয়কর কাটার জন্য একটি স্বতন্ত্র কর অঞ্চল গঠনের প্রস্তাবও করেছেন। আরেকটি সহজ কর আদায় পদ্ধতি হলো সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধি। এতে প্রশংসা পাওয়া যায়, রাজস্বও মেলে। অর্থমন্ত্রী তাও করেছেন। তবে মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ ডেটা ব্যবহারের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় হবে না।

পোশাক লবি সফল না হলেও দেশীয় শিল্পের কোনো কোনো উদ্যোক্তা সফল হয়েছেন। রাজশাহীর একজন সাংসদ ব্যাটারিচালিত গাড়ি সংযোজন শিল্প প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিলেন মাত্রই। একজন ব্যবসায়ী নেতার আছে গাড়ি সংযোজন শিল্প। এঁরা সবাই পেলেন বিশেষ করছাড়।

প্রত্যাশা সীমাহীন: ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শেষ করে সপ্তম পরিকল্পনায় ঢুকছে অর্থনীতি। স্বভাবতই অর্থমন্ত্রী বিগত পাঁচ বছরের একটি মূল্যায়ন করেছেন। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের উচ্চ প্রবৃদ্ধির একটি পথ রচনার কথাও বলেছেন। অবশ্যই গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের ইতিহাসে বিরল। তারপরও অর্থমন্ত্রীকে মানতে হয়েছে যে ‘আমার স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথগতি, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের অপর্যাপ্ততার কারণে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে লক্ষ্য অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়নি।’ তবে অর্থমন্ত্রীর আশা, সপ্তম পরিকল্পনার মেয়াদে (২০১৬-২০) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ।

এ রকম এক প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় সংসদে আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব দিলেন, আকারে তা বিশাল, ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। যদিও বিশাল বাজেট দেওয়ার এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা কিন্তু অন্য রকম। এই বাজেট হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা, যা ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সুতরাং দেখা যাচ্ছে জিডিপি যতটা বেড়েছে, বাজেট সেই তুলনায় বাড়েনি, বরং কমেছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।
ব্যয় করতে না পারায় অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের বাজেটে বড় ধরনের সংশোধন করেছেন। এতে বাজেট হচ্ছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার, যা জিডিপির ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সংশোধন করায় আগের বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেট খানিকটা মোটাতাজা দেখালেও তা বাস্তবায়ন না করতে পারার সুফল। কেননা, মূল বাজেটের তুলনায় প্রায় সবগুলো সূচকই নিম্নগামী। যেমন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আকার ছিল জিডিপির ৬ শতাংশ, হয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। আবার রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর নতুন বাজেট প্রস্তাব হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রীর সমস্যা বাজেট পরিকল্পনায় নয়, বাজেট বাস্তবায়নে। অর্থনীতির আকার ও জিডিপির বিবেচনায় বাজেট ব্যয়ের পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মতই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা, কিন্তু আয়ের দিক থেকে বাজেট উচ্চাভিলাষী। আয় কম বলে ব্যয়ও করতে পারছেন না অর্থমন্ত্রী। আরেকটি ব্যর্থতা হচ্ছে প্রকল্প সাহায্য কম পাওয়া। এসব কারণে বড় বাজেট দিয়ে বারবার সংশোধন করতে হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে।

ঘাটতি অর্থায়নের দুশ্চিন্তা: ৮০ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রীর ভরসা অভ্যন্তরীণ। কারণ, ২৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নিয়ে ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনার কথা তিনি জানালেন। আর বাকি ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা আসবে অভ্যন্তরীণ ঋণ নিয়ে। এর মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

আগের অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল নয় হাজার কোটি টাকার। কিন্তু হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকার। এর ফলে সুদ পরিশোধের দায় বেড়েছে অনেক। এ কারণে কমানো হয়েছে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি বিক্রি কম হয়, কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক ঋণ না পাওয়া যায় তাহলে ভরসা ব্যাংক ব্যবস্থার ঋণ। এতে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়। আর বেসরকারি খাত তো বঞ্চিত হবেই।

দুশ্চিন্তা আরও আছে: এক বছর আগেও বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হতো মোট অনুন্নত বাজেটের ১৭ শতাংশ। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর কারণে সেটি এখন ২৩ শতাংশ হয়ে গেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দ্বিগুণ হলে এর প্রভাব কতটা পড়বে অর্থনীতিতে? অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা অগ্রাধিকার খাতে সঞ্চালন করা হবে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর নেই। ফলে বাড়তি করের বোঝা নিয়ে এই বাজেট কতটা স্বস্তি দেবে, সেটাই এখন প্রশ্ন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আশা, চলতি মেয়াদ শেষেই বাংলাদেশের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ও শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে, যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলো যানজটমুক্ত হবে, কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে।
দুই বছর আগে অর্থমন্ত্রী যাকে ‘অশোভনীয় আশাবাদ’ বলেছিলেন, তাকে এবার সংশোধন করে বলেছেন, ‘অশোধনীয় আশাবাদ।’ এই বাজেট কতটা পূরণ করবে তা?

পাতাটি ৩৮৯৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পেলেন টাঙ্গাইলের এসপি ও তদন্ত কর্মকর্তা

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলার তদারককারী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা…


পুরোনো পথেই নতুন বাজেট

রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন। আমাদের শিল্পানুরাগী অর্থমন্ত্রী ব্যর্থতার আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলেননি ঠিকই,…


রেমিটেন্সকে ‘বন্ড’ আকারে বাজারে ছাড়ার পরামর্শ মসিউরের

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সকে আরো বিনিয়োগমুখী করতে একে ডলারের…

রেমিটেন্সকে ‘বন্ড’ আকারে বাজারে ছাড়ার পরামর্শ মসিউরের



প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সকে আরো বিনিয়োগমুখী করতে একে ডলারের মাধ্যমে ‘বন্ড’ আকারে বাজারে ছাড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বৈদেশিক আয়ের ৮ শতাংশ আসে রেমিটেন্স থেকে। কিন্তু এর ৬ শতাংশ চলে যায় ভোগব্যয়ের পেছনে। বিনিয়োগ হয় মাত্র ২ শতাংশ। এই আয়কে আরো বিনিয়োগমুখী করতে সরকার একটি যথার্থ প্রতিষ্ঠান গঠন করে রেমিটেন্সকে বন্ড আকারে বাজারে ছাড়তে পারে। এতে রেমিটেন্স ভোগব্যয়ের পেছনে খরচ না হয়ে বিনিয়োগ হবে।’

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলানগর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালীকরণে অভিবাসীদের অবদান’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম এ সবুর, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরণ কুমার চক্রবর্তী, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ কিরণ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মসিউর রহমান বলেন, প্রবাসীরা তার পরিবারের নারী সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করছে। পুরুষ সদস্যের অবর্তমানে প্রবাসী পরিবারের নারীরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠে, যা রেমিটেন্সের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ সচিব বেগম শামছুন নাহার বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ লাখ নতুন শ্রমশক্তি যোগ হচ্ছে। এর মধ্যে ৫ থেকে ৬ লাখ শ্রমিককে আমরা প্রতিবছর বিদেশে পাঠাতে পারছি। তবে তিনি আরো দক্ষ অভিবাসী শ্রমিক প্রেরণে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে নারী কর্মীরা বিনা খরচে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি এখন ওমান ও কাতারে বিনা খরচে পুরুষ কর্মী যাওয়া শুরু করেছে।সরকার আরো কয়েকটি দেশে বিনা খরচে শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান করা হয়। -বাসস

পাতাটি ৮০৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পেলেন টাঙ্গাইলের এসপি ও তদন্ত কর্মকর্তা

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলার তদারককারী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা…


পুরোনো পথেই নতুন বাজেট

রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন। আমাদের শিল্পানুরাগী অর্থমন্ত্রী ব্যর্থতার আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলেননি ঠিকই,…


রেমিটেন্সকে ‘বন্ড’ আকারে বাজারে ছাড়ার পরামর্শ মসিউরের

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সকে আরো বিনিয়োগমুখী করতে একে ডলারের…