রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম



মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই চায় অল্প পুঁজিতে বা অল্পশ্রমে বেশি লাভ করতে। যে খানেই এক পন্যের সাথে আরেকটি পন্য ফ্রি পায় সেখানেই সবাই ভিড় জমায়। শুনেছি জাপানে একশ ইয়েন ফ্রি পেতে পাঁচশ ইয়েন খরচ করে হলেও তা সংগ্রহ করে থাকে। শুধু জাপানিজদের মধ্যে নয়, বরং আমাদের মুসলমানদের মধ্যেও এ প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। আমরা সামান্য আমল করেই জান্নাত হাতের মুঠোয় পেতে চাই। আর আল্লাহ মুসলমানদের এ মনোভাব বুঝতে পেরেই তার প্রিয় বান্দারে জন্য রমজান মাস দান করেছেন। কেন না রমজান মানেই কম আমলে বেশি সওয়াব লাভ করে জান্নাত লাভের সুব্যবস্থা।

রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত: রমজান হিজরতের নবম চন্দ্রমাস। রমজান অর্থ আগুনে পুরে যাওয়া। উত্তপ্ত হওয়া। যেহেতু এ মাসেই রোযাদাররা ক্ষুধায় তৃষ্ণায় পুড়ে যায় এবং এ মাসে রোযাদারদের পাপ সমূহ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাই এ মাসকে রমযান বলে নামকরণ করা হয়েছে। 11 মাসের অপবিত্রতা দূর করতেই মাহে রমজান মাসের আগমন ঘটে। এ মাস যারা পেল তারা সৌভাগ্যবান। এমাস পাওয়ার জন্য স্বয়ং নবী হযরত মোহাম্মদ(সা:) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। তাই আমাদেরও সেটা করা উচিত। এ বরকতময় মাসেই মহান আল্লাহ তার রাসূলগনের কাছে ওহী প্রেরণ করতেন। মহা গ্রন্থ আল কোরআন ও আসমানী অন্যান্য কিতাব সমূহ এমাসেই অবতীর্ন করেছেণ। তাই এ মাস হচ্ছে বরকতময় কারন 1. এ মাস ওহী নাযিলের মাস। 2.এমাসেই শয়তানকে শৃঙ্খলবদ্ধ করা হয়। 3. এ মাসেই বান্দার গুণাহ মাফ করে দেওয়া হয়। 4. এ মাস হচ্ছে কম পূজিতে বেশি লাভ করার মাস। এ মাসে প্রত্যেক আমলের সওয়াব 70গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আর তাই এমাসে বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত আর নফল এবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন করতে হবে।

তারাবীর গুরুত্ব ও মহত্ব: রমজান মাসের সারাদিন রোযা রাখার পর রাত্রে তারাবীর নামায পড়ার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। তারাবীর নামায পড়ার হুকুম হল সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যা পালন করা অপরিহার্য। বিনা ওযরে ছেড়ে দিলে অবশ্যই গুনাহগার হতে হবে। নবী হযরত মোহাম্মদ(সা:)থেকে শুরু করে সাহাবীগন ও তাবেঈন সালফে সালেহীন সকল যুগে ধারাবাহিকভাবে এর আমল অদ্যবদী চলে আসছে। এ অল্প সময়ের এবাদতের মাধ্যমে আললাহর সন্তষ্টি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তাই আমাদের তারাবীর নামায পড়ার ক্ষেত্রে বেশি করে মনোযোগী হতে হবে। নবী (সা:)তারাবীর নামায সম্পর্কে বলেছেন,“ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের প্রত্যাশায় তারাবীর নামায আদায় করবে, আললাহপাক তার সারা জিন্দেগির গুনা মাফ করে দিবেন।” (মুত্তাফাক আলাইহ্)।

জানা অজানা:
1. শরীয়তের ওযর ব্যতীত রমযানের রোযা কখনোই পালন না করা বা ভাঙ্গা যাবে না।
2. রোযা অবস্থায় ভুলবশত কেউ যদি কিছু খেয়ে ফেলে বা স্ত্রী সহবাস করলেওে রোযা ভাঙবেনা। তবে স্বরণ হওয়া সাথে সাথে তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
3. অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে রোযা ভাঙবেনা। তবে বমি যদি পূর্নবার গিলে ফেলে তা হলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।
4. মুখের লালা বা থুতু যত বেশিই হোকনা কেন তা গিলে ফেললে রোয়া ভাঙবেনা।
5. গোসল ফরয হলে সেহেরী গ্রহনের পূর্বে গোসল করা আবশ্যক। তবে ভুলে গেলে রোযা নষ্ট হবে না। স্বপ্ন দোষে রোযার কোন ক্ষতি করে না।
6. রোযা অবস্থায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যে কোন ধরনের ইনজেকশন বা স্যালাইন গ্রহন করলে রোযা ভাঙবেনা।

লেখক: মুফতি হাবীব আহমাদ খান
ইমাম ও খতীব, কামাতা মসজিদ, জাপান
মুঠোফোন: 07069464832

পাতাটি ১৫৫০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


জাতীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

এমাজউদ্দিন আহমেদ:: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশন বা…


ভেরি ব্যাড পলিটিক্স..!

দৃশ্য ১. জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের খুব মন খারাপ। মালয়েশিয়ায় বিএনপির মতো কোনও দল…


জাপানের বৃদ্ধাশ্রম

আশির আহমেদ: পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কোন দেশের মানুষ? আবার জিগায়। জাপান। মহিলাদের গড়ায়ু ৮৭…


রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম

মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই…


জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

ড. মীজানুর রহমান বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের…

জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ



ড. মীজানুর রহমান

বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। ধর্মীয় গ্রন্থে যেভাবে বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবে না বলে অর্থাৎ ধর্মের অপব্যাখ্যাবিষয়ক বিভিন্ন বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আর এই বইগুলোই জঙ্গিবাদকে অনুপ্রাণিত করছে। কেবল তাই নয়, এই জঙ্গিবাদ উত্থানের বড় কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। সমাজে অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে একটি বঞ্চিত ও অবহেলিত শ্রেণি রয়েছে। এই বঞ্চিত শ্রেণিকে খুব সহজে ভয় এবং প্রলোভন দেখিয়ে বশ করা যায়। এ জন্য জঙ্গিবাদ দমনে সামাজিক প্রতিরোধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে পাক-ভারত উপমহাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে। শিক্ষার বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা বিদ্যমান। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষারও কয়েকটি ভাগ দেখা যায়। আলিয়া মাদ্রাসাসহ কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সেখানে কী পড়ানো হয় এবং অর্থায়ন কীভাবে হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে তেমন তদারকি দেখা যায় না। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বের হয় তারা খুব ভালো চাকরি পায় না। সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তেমন নেই। এতে তাদের মাঝে হতাশা কাজ করে। এক সময় মনে করা হতো, নানা দিক থেকে অধিকারবঞ্চিতরা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা গ্রহণ করছে আর তারাই জঙ্গিবাদের প্রধান একটি উৎস। কিন্তু এখন এর বিপরীত অবস্থা দেখা যাচ্ছে। কেবল সামাজিকভাবে বঞ্চিতরাই নয়, অনেক ধনী পরিবারের সন্তান, যাদের পিতামাতা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে তারাও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। এর পেছনেও কারণ হলো সামাজিক ব্যভিচার, অত্যাচার এবং যথাযথ সামাজিকীকরণের অভাব। যখন কেউ বিরূপ পরিবেশের মধ্যে বড় হয়, তখন তার মাঝে এক ধরনের হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় উচ্চ সমাজের শিশুদের অধিকার এবং বাবা-মার আদর-যতœ থেকে বঞ্চিত হতে দেখা যায়। মাদ্রাসায় পড়ার কারণে অনেকে ভালো চাকরি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মাদ্রাসাসহ ভুল শিক্ষায় শিক্ষিত লোকজনের এ বিষয়টি বেশি লক্ষণীয়। সর্বোপরি উচ্চ ও নিম্নবিত্ত সমাজে নানা কারণে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মূলত এই ক্ষোভ, হতাশা এবং সামাজিকভাবে বঞ্চিত একটি শ্রেণি থেকেই সুসংগঠিত জঙ্গিগোষ্ঠী তৈরি হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পর্কের ইতিহাস অনেক পুরনো। যদিও বলা হয়ে থাকে, আমাদের দেশ ধর্মীয়ভাবে সহনশীল এবং আমরা কট্টর ধর্মীয় পন্থা গ্রহণ করি না। অর্থাৎ আমরা ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধতায় বিশ্বাসী নই। তারপরও রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষদিকে ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করা হয়। হিন্দু এবং মুসলমান দুটি পৃথক জাতি। এই দ্বিজাতিতত্ত্ব ভিত্তি করেই উপমহাদেশ বিভক্ত করা হয়। পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হলো। পরে ভ্রান্ত পাকিস্তানকে সংশোধন করেই আমরা বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু যারা পাকিস্তানি ভাবধারার ছিল, এখনো তাদের সে মানসিক একাত্মবোধ শেষ হয়নি। পাকিস্তানবাদ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের ইসলাম এবং সে চিন্তার সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত অবস্থা রয়েছে। আর এই বিপরীত অবস্থাকে ধারণ করে এমন লোক এখনো বাংলাদেশে আছে। সমগ্র জাতি মুক্তিযুুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলÑ এটা আসলে সঠিক বলা হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকে আমাদের বিরোধিতা করেছিল। বিরোধিতা তখনো ছিল, এখনো আছে। এই বিরোধীগোষ্ঠীই পরবর্তী পর্যায়ে ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

ইসলামকেন্দ্রিক ভাবাদর্শ ও ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে নানা আন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। এ দেশ থেকে প্রচুর লোক আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন এবং কাশ্মির যুদ্ধে অংশ নেয়। পরে তারা ফিরেও আসে। এসব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশের মৌলবাদীগোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি নেটওয়ার্ক অবশ্যই আছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানি কায়দায় ফিরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কায়েম করা হয়েছিল। এর মূল হোতারা হচ্ছে সামরিক বাহিনীর ভক্ত ও অনুসারীরা। সামরিক ক্ষমতা থেকে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল তারাই এদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠপোষকতা করে। যেমন লিবিয়া এদের মূল আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। লিবিয়াই পৃথিবীর এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং অস্ত্র দেওয়ার কাজটি করে। কাজেই এসব মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ইতিহাস অনেক পুরনো। সব ধর্মে মৌলবাদী আছে। ইসলামি মৌলবাদীদের সঙ্গে ইসলামি বিশ্ব তথা আরব তথা মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগ আছে। কিন্তু ইতিহাসে দেখা যায়, প্রত্যেক মৌলবাদী গোষ্ঠীর একটি উগ্র চর্চার ভূমি হচ্ছে ইউরোপ। এসব সংগঠনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু লন্ডন। লন্ডনে হিজবুত তাহরির থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের নিষিদ্ধ মৌলবাদী সংগঠনের শাখা-প্রশাখা রয়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা এবং দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে বাংলাদেশে মুক্তমনা লোকজন ছিলেন। কিন্তু তারা লন্ডন ও বার্মিংহামসহ বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে এসে কট্টরপন্থি এবং মৌলবাদী ভাবধারায় জীবনযাপন শুরু করে। তাদের সবকিছুতেই ভয়াবহ পরিণতি লক্ষ করা যায়।

মানুষকে ভালো না বেসে, শান্তির বাণী না শুনিয়ে উগ্রপন্থা অবলম্বন করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব হাজির করা যায় না। কিন্তু সমস্যা হলো, কিছু লোক তার নিজস্ব মতাদর্শকে শ্রেষ্ঠ মতাদর্শ বলে মনে করে। কিন্তু সাময়িকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা যেতে পারে, দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। ইতিহাসের বিচারে কোনো সত্যই চিরন্তন নয়। এ ক্ষেত্রে অনেক ঘটনাই ঘটতে পারে। মানুষের মধ্যে এই উপলব্ধিবোধ থাকতে হবে। জোর করে মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার সব প্রচেষ্টা ইতিহাসে ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করা যায় কিনা তা দেখতে হবে। আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এখনো পুলিশের ওপর আস্থা হারায়নি। কিন্তু সমস্যা হলো জনবহুল দেশের পুলিশ জনসংখ্যা অনুপাতের তুলনায় অনেক কম। আমাদের পুলিশের সংখ্যা এবং সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পুরনো সব ব্যবস্থার পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে আধুনিক জ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, পরিবহন ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পুলিশের বেতন-ভাতাসহ নানা সুবিধাদি বাড়ানো দরকার। অর্থাৎ আধুনিক বাহিনী গঠন করার জন্য যা যা দরকার তার সব ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই বিদেশিদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি। হত্যাকারীদের বলা হয়েছিল, সাদা চামড়ার লোক হলেই হলো। তারা ইতালি, জাপানি আর ইউরোপের হোক তাতে কোনো যায় আসে না। এই বিদেশিরা হলেন নিষ্পাপ ভুক্তভোগী। বিদেশি হত্যার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হেয়প্রতিপন্ন করা। কিন্তু হঠাৎ করে একটি ঘটনা ঘটিয়ে কেবল তাৎক্ষণিক প্রচারণা পাওয়া যায়, দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। তবে এসব ঘটনাও থেমে যাবে। কারণ বিদেশি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ কথা ঠিক যে, মতাদর্শগত কারণেই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এই জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ দরকার। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য প্রতিরোধ শক্তির কোনো বিকল্প নেই। বুলগেরিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমার বক্তব্য ছিল, সন্ত্রাসীদের উৎস কোথায়? তারা কোথা থেকে আসে? আত্মঘাতী বোমা নিক্ষেপ করার লোকটিই বা কে? তাকে খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আত্মঘাতী বোমা নিক্ষেপকারীদের অধিকাংশ গরিব এবং ছিন্নমূল। এরা এতিমখানায় লালিত-পালিত। এদের সঙ্গে পরিবার তথা মা-বাবার কোনো সম্পর্ক নেই। মগজ ধোলাই করে তাদের এমন কাজে অনুপ্রাণিত করা হয়। তাদের বলা হয়, আত্মঘাতী বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে সে সহজে বেহেশতে যাবে। আর বেহেশতে গেলেই সুখের শেষ নেই। এসব অনুপ্রেরণায় তারা বোমা নিক্ষেপের প্রস্তাবে রাজি হয়। কিন্তু তাদের পরিবার, বাবা-মা থাকলে বশ করা যেত না। এই কাজ করার আগে তাদের মাথায় পরিবারের চিন্তা আসত। এ কাজের জন্য তার মা-বাবার কী হবে। কাজেই এ ক্ষেত্রে শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে পথশিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। বাবা-মা হারানোসহ নানা কারণে শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এসব শিশুর অধিকাংশেরই এতিমখানায় স্থান হয়। পাক-ভারত উপমহাদেশে এতিমখানাগুলো ঐতিহাসিকভাবে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর দখলে। এতিমখানায় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নেই। এতিমখানা মানেই হচ্ছে হাফেজিয়া অথবা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা। এতিম শিশুদের রাষ্ট্র কর্তৃক আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা হলে জঙ্গিবাদ তথা মৌলবাদী সমস্যার একটি সমাধান হতে পারে। মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে বঞ্চনাবোধ কমে আসবে। এ ছাড়া একজন মানুষ যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল হয় তাহলে তাকে কোনোভাবেই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। কাজেই পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শিশুর শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত জীবনযাপনের অধিকার সংরক্ষণ করা উচিত।

সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো মসজিদ। ইসলামি ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন যাবৎ ইমাম প্রশিক্ষণ নামে একটি কর্মসূচি চালাচ্ছে। কিন্তু তার পরও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাইকে বিভিন্ন ওয়াজ নসিয়ত শোনা যায়। যেগুলো অনেকটাই এ জঙ্গিবাদকে উসকে দেয়। এখানে প্রায়ই শোনা যায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথা। অনুভূতি হলো বিশ্বাসের একটি প্রাথমিক পর্যায়। কতকগুলো ধাপ অতিক্রম করে সর্বশেষ হলো মানুষের বিশ্বাস। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অনুভূতি হলো সেন্সেশন। এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে যেমনÑ আল্লাহর কোনো আকার নেই, এটি আমার দৃঢ়বিশ্বাস। যদি কেউ বলে আল্লাহর আকার আছে, তাকে দেখা যায়। এ অবস্থায় যেহেতু আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই এ কথা আমার অনুভূতিতে লাগার কোনো কারণ নেই। আমি মনে করি, যাদের বিশ্বাস দুর্বল তাদের অনুভূতি বেশি সূক্ষ্ম থাকে। যাদের বিশ্বাস যত বেশি দৃঢ় তাদের অনুভূতিও ততটা কার্যকর থাকে না। যারা অনুভূতিতে আঘাতের নামে মানুষকে মারতে আসে তাদের বিশ্বাসে সমস্যা রয়েছে। বেহেশত পাওয়ার জন্য আত্মঘাতী বোমা মারা সম্পূর্ণরূপে কোরআনে নিষিদ্ধ। এসব কাজের মাধ্যমে বেহেশত পাওয়া তো দূরের কথা উল্টো সে দোজখে যাবে। একজন মানুষ হত্যা করা মানে পুরো মানবজাতিকে হত্যা করা। মদিনা সনদ এবং বিদায় হজের ভাষণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সব ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত এবং নানাধর্মের মানুষদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি জীবনবিধান সব ধরনের সন্ত্রাসকে হারাম ঘোষণা করেছে। এসব কথা যদি মসজিদের ইমামরা খুতবার সময় বলেন তাহলে মানুষ সচেতন হবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদের ইমামদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। যাতে তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের মতো জাতীয় কর্মকা-ে ভূমিকা রাখতে পারেন। এর বিপরীতে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ইমামরা যাতে উগ্রবাদী কথাবার্তা তথা সন্ত্রাসী কর্মকা- উসকে না দেন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির নজর রাখতে হবে। সমাজে অন্যায়, অত্যাচার, ব্যভিচার, রাহাজানি, সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদসহ সব অপকর্ম দূর করার লক্ষ্যে ইমামদের উচিত মানুষকে ভালো কথা বলা, সুপথে পরিচালিত করা। নতুন প্রজন্ম সচেতন, তারা মৌলভীদের অপব্যাখায় কান দেবে না। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের বয়স্ক শিক্ষাহীন ব্যক্তিরা মৌলভীদের কথায় বেশি বিশ্বাস করে। এমনটি না করে মৌলভীরা যদি জামায়াতে ইসলাম কায়েম করতে চানÑ তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রতিটি মসজিদে কমিটি গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কেবল বাইরে রাজনীতি করলেই হবে না বরং মসজিদে গিয়ে শোনা উচিত মৌলভী সাহেব সঠিক কথা বলেন কিনা। মৌলভীরা যাতে ধর্মভীরু লোকদের বিভ্রান্ত করতে না পারেনÑ সেদিকে নজর রাখতে হবে। মসজিদের মাইক ব্যবহারে নির্দেশনা থাকা উচিত। কেবল আজান দেওয়া ছাড়া মসজিদের মাইক আর কোনো কাজে লাগানো যাবে না। কেননা আমরা দেখেছি, চাঁদে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে দেখা যাচ্ছে, এমন ঘোষণা প্রথমে মসজিদের মাইক থেকে দেওয়া হয়েছিল। আর এর মাধ্যমে সমাজের গরিব, নিরীহ মানুষের ক্ষতি করা হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের সমাজের প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান থেকে জঙ্গিবাদ দমনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানব সভ্যতার ইতিহাস বলে, সভ্যতা কখনো পেছনের দিকে যাবে না, শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সভ্যতা সামনের দিকে অগ্রসর হবে। জঙ্গিদের যাবতীয় কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য হলো দেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়া, তা কখনোই সম্ভবপর হবে না।
লেখক : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

পাতাটি ১৩১৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


জাতীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

এমাজউদ্দিন আহমেদ:: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশন বা…


ভেরি ব্যাড পলিটিক্স..!

দৃশ্য ১. জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের খুব মন খারাপ। মালয়েশিয়ায় বিএনপির মতো কোনও দল…


জাপানের বৃদ্ধাশ্রম

আশির আহমেদ: পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কোন দেশের মানুষ? আবার জিগায়। জাপান। মহিলাদের গড়ায়ু ৮৭…


রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম

মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই…


জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

ড. মীজানুর রহমান বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের…

পথ চলার বিশ্বস্ত বন্ধু টয়োটা



এইচ এম দুলাল::

পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতা এই তিনকে একবিন্দুতে মিলিত করতে পারলে যে কোনো অবস্থান থেকেই সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এই মূলমন্ত্র ধারণ করেই পৃথিবীতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাকিচি তয়োদা। চারদিকে যখন অর্থনৈতিক মন্দা ঠিক তখন অন্যদের মতো হতাশ না হয়ে নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সামান্য তাঁতি থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন টয়োটা কোম্পানির মালিক হিসেবে। এখন টয়োটা বিশ্বের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত একটি গাড়ি নির্মাণ ও বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান। সাকিচি তয়োদা এবং টয়োটা কোম্পানির গাড়ির আদ্যোপান্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে শুরু হলো আমাদের বিশেষ ধারাবাহিক আয়োজন “পথ চলায় বিশ্বস্ত বন্ধু
টয়োটা”

তাঁতি থেকে টয়োটার মালিক: বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশন। টয়োটা শব্দটি এসেছে কোম্পানি মালিকদের উদ্ভাবকদের রাজা খ্যাত সাকিচি তয়োদার নাম থেকে। সাকিচি তয়োদা জন্মগ্রহণ করেন ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৭ সালে। সাকিচি গরিব তাঁতির ঘরে জন্মেছিলেন বটে, কিন্তু কঠিন বাস্তবতাকে চ্যালেঞ্জ করে সফল হয়েছেন। তৎকালীন জাপানের নাগোয়ার দক্ষিণ-পূর্বে মধ্য-দক্ষিণ হনসু অঞ্চলে কোরোমো নামের একটি শহর ছিল। শহরের বাসিন্দাদের হাতে চালানো তাঁতে খুবই ধীরগতিতে রেশম গুটি থেকে তৈরি হতো রেশমি কাপড়। একদিকে কম কাপড় বুনন অপরদিকে দেশ-বিদেশে কাপড়ের চাহিদা কমায় বাসিন্দাদের আর্থিক অসঙ্গতিতে ফেলে দেয়। এমন সময় ওই শহরের বাসিন্দা সাকিচি তয়োদা চুপচাপ বসে আর্থিক অবনতির পরিস্থিতি দেখতে নারাজ। তখন তিনি মনোনিবেশ করেন যন্ত্রচালিত তাঁত উদ্ভাবনের দিকে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তিনি সফল হলেন। আধুনিক এ যন্ত্রের ব্যবহার করলেন নিজের কাজে। মেশিনের সাহায্যে আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে কাজ হতে লাগল। কাপড়ও বেশি বুনন হলো। এ কাজে দুটো পয়সার মুখ দেখতে শুরু করলেন তিনি। তখন নিজেদের অভাব ঘোচাতে যন্ত্রচালিত তাঁত যেন আশার আলো জুগিয়েছিল। কাজের সফলতায় নতুন কিছু উদ্ভাবনে তিনি আরও বেশি উৎসাহী হলেন। এ উৎসাহ আরও বেড়ে যায় তার তয়োদা অটোমেটিক লুম কোম্পানি উদ্ভাবিত একটি মেশিনের প্যাটেন্ট ১০ লাখ ইয়েনে বিক্রি করার সুযোগ পেয়ে। মেশিনটির উপযোগিতা বিবেচনা করে ক্রয় করেছিল ব্রিটেনের প্ল্যাট ব্রাদার্স। সে সময়ে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণের ওই অর্থ সাকিচি তয়োদা বিনিয়োগ করেন গাড়ির ইঞ্জিন বানানোর কাজে। নতুন উদ্ভাবনী কাজের দায়িত্ব দেন নিজের ছেলে কিচিরো তয়োদাকে। ১৯৩৫ সালে প্রথমবারের মতো জে-ওয়ান মডেলের গাড়ির ইঞ্জিন উদ্ভাবনে সক্ষম হন কিচিরো তয়োদা। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তয়োদা পরিবারকে। আনুষ্ঠানিকভাবে তয়োদা মোটর কোম্পানি লিমিটেডের জন্ম ১৯৩৭ সালের ২৮ আগস্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উচ্চারণ সুবিধার বিবেচনায় তয়োদা শব্দটিকে পাল্টে করা হয় টয়োটা। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশনের সদর দফতর জাপানের টয়োটা সিটিতে। পরবর্তীতে সাকিচি তয়োদাকে ‘কিং অব জাপানিজ ইনভেনটর’-এর খ্যাতি প্রদান করা হয়। ১৯৫৯ সালে সাকিচির শহরের নাম পাল্টে রাখা হয় টয়োটা সিটি।

সাকিচি তয়োদার মূলমন্ত্র:
♦ সব সময় নিজ দায়িত্ব এবং কোম্পানির প্রতি অবদান রাখতে বিশ্বস্ত হতে হবে
♦ অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে সদাপ্রস্তুত থাকতে হবে
♦ বাস্তবমুখী চিন্তা করার পাশাপাশি অস্থিরতা পরিত্যাগ করতে হবে
♦ কর্মক্ষেত্রে ঘরোয়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
♦ সর্বদা সৃষ্টির রহস্যে বিশ্বাস স্থাপন করে আনুগত্য স্বীকার করতে হবে
বর্তমানে টয়োটা গ্রুপ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম গ্রুপ অব কোম্পানিজ। টয়োটা কোম্পানি সিডান, এসইউভি, হালকা ট্রাক প্রভৃতি শ্রেণির গাড়ি নির্মাণ করে আসছে। কোম্পানির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোম্পানিটি ২০০ মিলিয়ন যানবাহন প্রস্তুত করেছে। বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে টয়োটার কারখানা। এই টয়োটা কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়েছিল সাকিচি তয়োদার হাত ধরে। যিনি এক সামান্য তাঁতি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও নিজ মেধা আর সৃজনশীলতার ফলে টয়োটা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। সাকিচি তয়োদা ছিলেন কসাই-সিজুওকা দরিদ্র তাঁতি পরিবারের সন্তান। তার প্রথম যন্ত্রচালিত তাঁতের আবিষ্কারের সূত্র ধরে প্রতিষ্ঠা পায় টয়োটা গ্রুপ। জাপানের মেশিন ইন্ডাস্ট্রির বড় ধরনের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নে অগ্রগামী ভূমিকা রাখে। ১৮৯০ সালে সাকিচি তয়োদা কাঠের হস্তচালিত তাঁতের আবিষ্কার করেন। এর ছয় বছর পর কাঠ ও লোহা দিয়ে তৈরি করেন পাওয়ার লুম। ১৮৯৭ সালে পাওয়ার লুম দিয়ে সুতি কাপড় তৈরিতে সফল হন। ১৯০২ সালে পাওয়ার লুম দিয়ে কাপড় তৈরি একটি লাভজনক পর্যায়ে আসে। ১৯১০ সালে তার আবিষ্কৃত মেশিন আমেরিকা ও ইউরোপের নজর কাড়ে। সেসব দেশে এই পাওয়ার লুমের চাহিদা তৈরি হয়। অসামান্য এই আবিষ্কারের সফলতা হিসেবে ১৯১২ সালে জাপানি সরকারের পক্ষ থেকে ব্লু রিবনের সম্মানী মেডেল দেওয়া হয় সাকিচি তয়োদাকে। পাওয়ার লুমের কার্যকারিতা ও অবদানের গুরুত্ব বিচারে ১৯২৪ সালে আবারও একই পুরস্কার পান। এরই মধ্যে সাকিচির অর্জিত অর্থের পরিমাণও আসে একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে। নিজের অর্থ থেকে তিনি ১৯২৫ সালে ‘ইমপেরিয়াল অব ইনভেনশান অ্যান্ড ইনোভেশান’কে ১ কোটি ইয়েন দান করেন। ১৯২৬ সালে এখান থেকে তাকে একটি স্মারক দেওয়া হয়। ১৯২৯ সালে যুক্তরাজ্যের ব্রাদার্স অ্যান্ড কোং-এর কাছে ১০ লাখ ডলারে অটোমেটিক লুমের প্যাটেন্ট হস্তান্তর করেন। ১৯৩০ সালে মারা যাওয়ার পর তিনি জুনিয়র গ্রেড অব দ্য ফিফথ মরণোত্তর পুরস্কার পান। জাপানি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৩৩ সালে তয়োদা অটোমেটিক লুম ওয়ার্কসের একটি বিভাগ হিসেবে টয়োটা অটোমোবাইল যাত্রা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সাকিচির ছেলে কিচিরো টয়োডা জি-১ মডেলের কার আবিষ্কার করেন ১৯৩৫ সালে। ১৯৩৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাবলিক কোম্পানি হিসেবে নতুন লোগো ধারণ করে যাত্রা শুরু করে। এ সময় তাদের ২৭ হাজার শেয়ারহোল্ডার ছিল। তারপর টয়োটা মটোর কোং স্বায়ত্তশাসিত কোম্পানিতে পরিণত হয় ১৯৩৭ সালে।
সেরা হওয়ার গল্প
নিজ দেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে টয়োটার কারখানা রয়েছে। ১৯৫৮ সালে প্রথমবারের মতো বিদেশে গাড়ি বিক্রি শুরু করে এ কোম্পানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের মধ্য দিয়ে টয়োটা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে। ২০০৮ সালে পৃথিবীর গাড়ি বাজারের ৩২ শতাংশ টয়োটা গাড়ি দখল করতে সক্ষম হয়। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো জাপানের বাইরে ব্রাজিলে গাড়ির কারখানা স্থাপন করে। এরপর তারা পর্যায়ক্রমে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে জাপানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের নিজস্ব ১২টি কারখানা, ১১টি সাবসিডিয়ারি অ্যাফিলিয়েট কারখানা ছাড়াও বিশ্বের ২৬টি দেশে মোট ৫১টি কারখানা রয়েছে। এগুলোতে গড়ে প্রতি বছর ৫৫ লাখ গাড়ি তৈরি হয়। অর্থাৎ প্রতি ৬ সেকেন্ডে তৈরি হয় একটি করে টয়োটা গাড়ি। অবাক করার মতো হলেও সত্যি যে বিশ্বের প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একটি করে টয়োটা গাড়ি বিক্রিও হচ্ছে। কোম্পানিটির জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত মোট তিন কোটি ৭৫ লাখেরও বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে। ৪০ বছর ধরে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একটি করে গাড়ি বিক্রি করে আসছে কোম্পানিটি। টয়োটা গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ায় এই গাড়ির এত বেশি জনপ্রিয়তা। এ ছাড়াও টয়োটা গাড়ির কাঠামোগত এবং সৌন্দর্যগত দিক। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশে তৈরি হয় টয়োটা। যেমন— জাপান, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ইত্যাদি। টয়োটা গাড়ির জনপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর টয়োটার উন্নত চার সিলিন্ডারের ইঞ্জিন সংযোজন টয়োটা গাড়িতে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই ইঞ্জিনই টয়োটাকে আজকের শীর্ষ অবস্থান এনে দিয়েছে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত শুধু জাপানেই টয়োটা কোম্পানিতে চাকরি করছে ৭০ হাজার লোক। সারা বিশ্বে উৎপাদন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮৭৭ জন। ২০১১ সালে জেনারেল মোটরস এবং ভক্সওয়াগন গ্রুপকে পেছনে ফেলে উৎপাদনের দিক দিয়ে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারক হয়ে গড়ে উঠেছে। উপার্জনের দিক দিয়ে বর্তমানে টয়োটা পৃথিবীর এগারতম বৃহত্তম কোম্পানি। ১৯৬৪ সাল নাগাদ প্রতি বছর টয়োটার বার্ষিক গাড়ি বিক্রির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ লাখ ৬৪ হাজার। ২০১৫ সালে টয়োটা সারা বিশ্বে প্রায় সাড়ে ১০ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করে। বর্তমানে কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ ৬৩৫ বিলিয়ন ইয়েন। এর আগে ফোর্ডের এফ সিরিজের ট্রাক ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বিক্রিত গাড়ি। কিন্তু একে পেছনে ফেলে সর্বকালের সেরা বিক্রিত গাড়ির তালিকায় উঠে এসেছে টয়োটা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
যানবাহনের নিরাপত্তাকে দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। এগুলোর একটি হচ্ছে সক্রিয় নিরাপত্তা। এটি নজর দেয় দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দিকে। অন্যটি হচ্ছে পরোক্ষ নিরাপত্তা যা সংঘর্ষকালে গাড়ির আরোহীদের রক্ষা করে। এ দুটি ক্ষেত্রেই টয়োটা আধুনিক প্রযুক্তির রেকর্ডধারী। যেমন— গাড়ির স্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণ বা ভেহিক্যাল স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল চাকার এদিক-ওদিকে ফসকে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া সাসটেইনেবল রেসট্রেইন্ট সিস্টেম তাত্ক্ষণিকভাবে বেলুনের মতো ফুলে মাথাকে রক্ষা করে। এসব বিষয় ছাড়াও টয়োটা ইঞ্জিন, ব্রেক, স্টিয়ারিং এবং অন্যসব নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে সমন্বিত করে তৈরি করেছে ভেহিক্যাল ডায়নামিক ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত গাড়িকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। টয়োটা সংঘর্ষ পূর্ববর্তী নিরাপত্তা নামে এক প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করবে ক্যামেরা ও রাডার প্রযুক্তি। এটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনার পূর্বাভাস দেবে। সম্ভাব্য পরিণতি ঠেকাতে অথবা সংঘর্ষের সময় চালককে কৌশলী করে তুলবে। কোম্পানির নতুন প্রেসিডেন্ট কাতসুয়াকি ওয়াতানাবির চিন্তাভাবনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে গাড়িতে হয়তো তন্দ্রা প্রতিরোধক সিস্টেমও উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। এর ফলে দীর্ঘ ভ্রমণকালে আরোহীর তন্দ্রা ভাব কাটানো যাবে। এমনকি মদপান করে গাড়ি চালানো প্রতিরোধের পন্থার কথাও ভাবা হচ্ছে। এতে মাদকাসক্ত কোনো ব্যক্তি গাড়ি চালকের আসনে বসলে গাড়ি চলবে না অথবা নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। তয়োদা গাড়ি নিয়ে ওয়াতানাবির ভবিষ্যৎ ভাবনা এখানেই থেমে নেই। তার স্বপ্ন এমন একটি আদর্শ গাড়ি তৈরি, যা প্রতিবারই চালানোর সময় বায়ু পরিশোধন করবে। আরও উৎসাহী হয়ে তিনি বলেন, ‘এমন একটি গাড়ি যা দুর্ঘটনা ও আঘাতকে একই সঙ্গে প্রতিরোধ করার মধ্য দিয়ে মানসিক চাপ কমাবে। ’
বৈচিত্র্যময় টয়োটা গাড়ি

বৈচিত্র্যতার দিক দিয়ে টয়োটা গাড়ির কদর বিশ্বজুড়ে। আট দরজার সাত হাজার ৯৬৩ পাউন্ডের এক দৈত্যাকার পিকআপ রয়েছে টয়োটা কোম্পানির। টয়োটা টুন্ড্রা ১৭৯৪ এডিশন ৪৪ ক্রিউম্যাক্সের পিকআপটি লম্বায় ২৬ ফুট এবং ভিতরে যাত্রী সিট রয়েছে নয়টি। তাই টয়োটা একে ডাকছে ‘টুন্ড্রাজিন’ যার অর্থ দাঁড়ায় টুন্ড্রা ও লিমুজিনের সংমিশ্রণ। এ রকম অদ্ভূত লিমুজিন এর আগে দেখা যায়নি। উচ্চতা ও প্রশস্ততা সাধারণ হলেও গাড়ির টায়ারগুলো বিশাল, যা প্রায় ৯০ দশমিক ২ ইঞ্চি করে। গাড়িটিতে আছে ৫ দশমিক ৭ লিটার ভিএইট ইঞ্জিন এবং তৈরি হয়েছে টেক্সাসের স্যান অ্যান্তোনিয়োতে। এদিকে পৃথিবীতে বৈচিত্র্যময় বিলাসবহুল দামি গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ঈর্ষণীয় অবস্থানে রয়েছে টয়োটা মোটরসের লেক্সাস সিরিজের গাড়িগুলো। এর মধ্যে এনএক্স মডেলের ছোট এসইউভি গাড়িটি বাজারে বর্তমানে বেশি জনপ্রিয়। গাড়িটির মূল্য ৩৫ হাজার ৪০৫ ডলার। ২০০০-২০১০ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে লাক্সারি অটো ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে এক নম্বরে ছিল লেক্সাস। বর্তমানেও গোটা বিশ্বে রয়েছে এই লেক্সাসের ব্যাপক চাহিদা। তবে টয়োটার রয়েছে খুবই উচ্চমূল্যের কিছু গাড়ি। তার মধ্যে ১৯৯৮ সালের জিটি ওয়ান রোড ভার্শনের গাড়িটি অন্যতম। ৯২০ কেজি ওজনের গাড়িটি খুবই দৃষ্টিনন্দন ও চিত্তাকর্ষক। জিটি ওয়ান রোড ভার্শনের বাজার মূল্য ১৩ লাখ ডলার। টয়োটা কোম্পানির ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যের আরও একটি দামি বিলাসবহুল গাড়ি হচ্ছে টয়োটা ২০০০ জিটি। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার। টয়োটা সেঞ্চুরি হচ্ছে টয়োটা কোম্পানির আরও একটি দামি মডেলের গাড়ি। ১ হাজার ৯৯০ কেজি ওজনের এই গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার। টয়োটার যেমন রয়েছে বিলাসবহুল দামি গাড়ি তেমনি রয়েছে তুলনামূলক সস্তা মডেলের গাড়ি। এগুলোও কম জনপ্রিয় নয়। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত গাড়ির আন্তর্জাতিক বাজার দাপিয়ে বেড়িয়েছে টয়োটা স্টারলেট। পরবর্তীতে টয়োটা স্টারলেটের পরিবর্তে বাজারে আসে টয়োটা ইয়ারিস। দামে সস্তা গাড়ি হচ্ছে টয়োটা ইয়ারিস। ১৯৯৯ সালে প্রথম বাজারে আসে গাড়িটি। চার সিলিন্ডারবিশিষ্ট গাড়িটি ১০৬ হর্সপাওয়ার জেনারেট করতে পারে। এর মূল্য মাত্র ১৪ হাজার ৮৯৫ ডলার। দামে সস্তা হলেও গাড়িটিতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। যেমন— এয়ার ব্যাগস সুবিধা, এয়ার কন্ডিশন সুবিধা, পাউয়ার উইন্ডোজ সুবিধা ইত্যাদি। ২০১৭ সালে টয়োটা ইয়ারিসের পাঁচটি মডেল আছে। এগুলো হচ্ছে— থ্রি-ডোর এল, থ্রি-ডোর এলই, ফাইভ-ডোর এল, ফাইভ-ডোর এলই, ফাইভ ডোর এসই। টয়োটা করোলা এই কোম্পানির আরও একটি সস্তা মডেলের গাড়ি। এই গাড়ির মূল্য মাত্র ১৭ হাজার ৩০০ ডলার।
বাংলাদেশে টয়োটাপ্রীতি
স্বাধীনতার পর ঢাকার রাস্তায় অধিকাংশ ছিল টয়োটা (পাবলিকা), ডাইহাটসু, কিছু ছিল ভক্সওয়াগন আর নিশান। সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশের প্রাইভেট গাড়ির বাজার প্রায় একচেটিয়াভাবে দখল করে নেয় টয়োটা। এত বেশি টয়োটাপ্রীতির কারণ টয়োটার স্পেয়ার পার্টসের দাম কম ও সহজলভ্যতা। আর দেশের যে কোনো জায়গায় মেরামতের সুবিধা পাওয়া যায়। তবে জনপ্রিয়তার আরও একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো টয়োটা গাড়ির রিসেল ভ্যালু। এ ছাড়া বাংলাদেশে সব সুবিধাসম্পন্ন একটি সেডান কিনতে গেলে ক্রেতার প্রথম পছন্দ থাকে টয়োটা মডেলের সেডান। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সেডানগুলোর তালিকায় রয়েছে টয়োটা প্রিমিও, টয়োটা অ্যালিওন এবং টয়োটা অ্যাক্সিও। টয়োটা অ্যালিওন এবং টয়োটা প্রিমিও প্রথম বাজারে আসে ২০০১ সালে। তবে ১৯৭০ থেকে টয়োটা অ্যালিওন বাজারে আসে।

টয়োটা শুরু থেকেই বিশ্বের অনেক দেশে বেশ জনপ্রিয়, আর সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজারেও এই কারের ব্যবহার বা আধিপত্য বেড়েই চলেছে। গ্লোবালাইজেশন, বিজ্ঞাপনের যুদ্ধে বাংলাদেশে সম্প্রতি এই কোম্পানীটির গাড়ি ক্রেতারা হাতে পাওয়ার জন্য দাম ছাড়াও সব ধরনের দায়িত্ব বহন করছে। টয়োটা তৈরী করছে উন্নতমানের ফ্যামিলি কার, গ্যাস মাইলেজ নাম্বারের এর কার, ট্র্যাক জাতীয় রানার এবং সিটি রাস্তার জন্য এমনকি স্পোটিকার, পারফেক্ট কান্ট্রিসাইড রাস্তার জন্য। একটা বড় ধরনের জনপ্রিয় কোম্পানী আছে যা বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য তৈরী, যা সাধরাণত খুব কম বাছাইয়ের সুযোগ থাকে যখন পুরাতন গাড়ি কেনার জন্য আসে।বাংলাদেশের মার্কেটে টয়োটা বিজ্ঞাপনের জন্য অনুমতি নেয়া এবং বলতে গেলে প্রায় সব মডেলের গাড়ি সফলতার সাথে বিক্রয় করে তারা। নতুন থেকে শুরু করে পুরানো গাড়ির ডিলারশিপ পর্যন্ত ক্লাসিফাইড, টয়োটা মডেলের গাড়ি খুব সহজেই পুরানো কার এর বাজারে পাওয়া যায়। এই কোম্পানীর হঠাৎ করেই একটি ভালো কাজ লক্ষ্য করা যায় অ্যাডর্ভাটাইজিং এর ক্যাম্পেইন বিভিন্ন এলাকায়, যা বড় ধরনেরও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এর খোজ পাওয়ার জন্য উপকারী। টয়োটা খুব তাড়াতাড়িই বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, কিন্তু এটি হঠাৎ করেই তাদের মার্কেট ছেড়ে যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে টয়োটার অনেক বড় ভক্তরা আছে। নানা প্রকারের উদ্দেশ্য এবং নির্ভরযোগ্যতার জন্য টয়োটার গুণের যেন শেষ নেই। টয়োটা গাড়ির মধ্যে বলা হয় সত্যিকারের বস এবং অনান্য যানবাহনের মধ্যে বেশ নাম রয়েছে তার দেশজুড়ে। যদি বাংলাদেশের নাগরিকরা একটি ব্র্যান্ড নিউ কার জন্য চোখ রাখে বা পুরানো কারের জন্য। তাহলে মার্কেটে সবার আগে টয়োটের নামই বেশি আসবে। টয়্টো যানবাহনের জন্য মাল্টিফিচারের কোম্পানী যা সবার জন্য জরুরী। রানার ট্র্যাক শক্ত জমির জন্য বেশ সুবিধার এবং দেশের বাইরে সিটি ট্র্যাফিক এলাকাতে টয়োটার দ্রুতগতির স্পোর্টস কার এর জুড়ি নেই। টয়োটা বলতে গেলে এমনকিছু যা সবার জন্য।তাদের জনপ্রিয়তা, শুধু তাদের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সেটিংস এর দিক থেকেও বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় কার হিসেবে বিবেচিত এটি। যা পরিবর্তনশীল ভুমির জন্য এবং খারাপ ভুমির জন্যও ভালো পরিচিত। টয়োটা ব্র্যান্ড বাংলাদেশের জন্য উত্তম জায়গা।

অনান্য বিশ্বের দেশগুলোর মত, বাংলাদেশে নানাভাবে এই যানবাহন আসার কোন উপায় নেই। আর এই ধরন, মডেল এবং বয়স বেশি দিনের না এবং অনেক মানুষ অনেক পুরানো কার ছেড়ে দিচ্ছে যে কোন সময়। আর এই সব পুরানো গাড়ি খুব বেশি তাদের কাছেও নেই। সাধারণত কোন ব্র্যান্ডের মডেলর গাড়ি না এবং খুব বেশি রং এর গাড়ি পছন্দ করার সুযোগ ছিল না, লাল এবং গ্রে রং এর গাড়ি এর মধ্যে বেশি জনপ্রিয়। টয়োটা বাংলাদেশি নাগরিকের পছন্দেও ধরণ পরিবর্তন করছে তাদের কার বাজারে এনে। টয়োটা খুব তাড়াতাড়ি মার্কেটে জনপ্রিয়তা পেয়েছে অনেকটা লিডারের মত কারণ তারা বাংলাদেশি মানুষদের বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা মানুষের সুখের জন্য কমের মধ্যে ভালো কিছু দিচ্ছে। টয়োটা বাংলাদেশি মানুষদের এই কার ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন অপশন এর গাড়ি কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে যা অনেকের স্বপ্ন ছিল। যা হয়তো আগের সময়ের কোন বড় লোকদের সুযোগ ছিল।

এটা খুবই স্বাভাবিক যে জীবনে অনেক সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন মার্কেটে প্রোডাক্টের চাহিদা অনুযায়ি, মানুষের চাহিদা অনুযায়ি নির্ভর করতে হয় অনেকটা আবহওয়ার মত। টয়োটা খুব হাতের কাছে থাকা ্উপযুক্ত অপশন যা ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রির জন্য লিডার হিসেবে কাছে আসছে। এই ব্র্যান্ডটি শেষ কিছু বছরে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তৈরী করা হচ্ছে। বাংলাদেশের গরম, শুষ্ক মৌসুমের জন্য বিভিন্ন পরিবেশে এবং স্পেশালি বাংলাদেশে পরিবেশে সাথে মিল রেখে তৈরী করা হচ্ছে। টয়োটা আরো বেশি উন্নত জোনে বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়ার সাথে উপযুক্ত কেয়ার ও মেইনটেইন্স নিয়ে তৈরী করা হচ্ছে। অন্যদিকে, টয়োটা যে কোন রেইনি আবহাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের যানবহন লম্বা সময় ধরে তৈরী করে আসছে। এটা বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য আরো বেশি উপযুক্ত কারণ এই দেশে বসবাসের জন্য ক্যারিয়ার এর উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ব্যবহার করতে হয়। একটি মাঝারি ধরেনর টয়োটা এ দেশে একটি ছোট পরিবারের জন্য অনেককিছু। এটা তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় পরিবারের মত করে পিতা-মাতার জন্য এবং ফুয়েল এর দামের জন্য, এমনকি ড্রাইভিং এর জন্য বেস্ট।

টয়োটা এবং তাদের যানবাহন বিভিন্ন ধরনের উদ্দেশ্যে তৈরী করে, কিন্তু তারা বাংলাদেশি বাজারের জন্য নিজেদের সেভাবে বুঝে শুনে তুলে ধরেছে। আর কোম্পানী হিসেবে টয়োটা বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় গাড়ি কোম্পানী। অনান্য যৌথ ব্র্যান্ডের তুলনায় এই দেশের রাস্তায় সবচেয়ে বেশি টয়োটা গাড়ি চলে। বিশেষ করে করোলা, টয়োটা কোম্পানীর সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম্বারের গাড়ি। এখানে হাজার ধরনের করোলা আমাদের দেশের রাস্তায় দেখা যায়, তাও ২০ থেকে ২৫ বছর এর পুরানো। অনান্য মডেলের মধ্যে বাংলাদেশে জনপ্রিয় অ্যালিয়ন, প্রিমিও এবং নোয়া। এই মডেল দেশ থেকে দেশে বিভিন্ন ধরনের নাম বহন করে কিন্তু তারা সাধারণত একই রকম পার্টস দিয়ে তৈরী, বডির ধরণ এবং এমনকি ইঞ্জিনও। যদি দ্রুত ইন্টারনেটে জনপ্রিয় গাড়ি খোঁজার জন্য বলা হয় তাহলে বাংলাদেশে একমাত্র টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি দেখা যাবে জনপ্রিয়তার তালিকায়। করোলা এবং দ্য প্রিমিও সম্ভবত বেশি জনপ্রিয় কারণ এটার ফাংশন বেশি এবং দামী। তাদের অনেক দামী গাড়ি আছে, যার ফাংশন একটি বড় পরিবারের জন্য অথবা দৈনিক লং ড্রাইভের জন্য -সবকিছুর একটা দাম নিধার্রিত করা আছে যা বাংলাদেশের অনেকের জন্য সাধ্যের মধ্যে।

আর যদি কেউ রানার ট্র্যাক, দ্রুত কার বা পরিবারের জন্য গাড়ি খোঁজে এমনকি বাচ্চাদের জন্য ও ব্যাগ রাখার জন্য জায়গা দরকার হয়-এমন গাড়ি টয়োটা দিতে পারবে। যে যেমনটি চাই।তারা বাংলাদেশী নাগরিকদের কম দামে ড্রাইভ করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যা লাক্সারি এবং ফাংশনের জন্য বেশ কার্যকরী। টয়োটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কোম্পানী, এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের উপার্জন এবং প্রয়োজন বুঝে গাড়ি কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে। তাদের মার্কেটে রেডিফাইনড এবং বিভিন্ন ধরনের গাড়ি রয়েছে। তারা খুব শিগগিরই বড় ধরনের গাড়ির টাকা পরিশোধের চিন্তা থেকে মুক্ত করার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের গাড়ির মালিক করে দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। টয়োটা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সত্যিকারের জীবন পরিবর্তন করে দিচ্ছে যেন যে কেউ প্রয়োজন অনুযায়ী গাড়ি ব্যবহার করতে পারে।

বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি ও গাড়ির প্রয়োজনীয় পার্টস বা যন্ত্রাংশ
দেশে এই গাড়িটি জনপ্রিয় হওয়ায় এই কোম্পানির গাড়ি এবং গাড়ির প্রয়োজনীয় পার্টস বা যন্ত্রাংশ সকলের কাছে জনপ্রিয়। অনেক আবার প্রতারিত হচ্ছেন। আসল টয়োটা গাড়ি বা গাড়ির প্রয়োজনীয় পার্টস ক্রয় করতে ধোকার হাত থেকে বাঁচতে পারছেন না। বিক্রেতা মেডেইন জাপান বললে তা মূলত চায়না, তাইওয়ান বা অন্য কোন দেশের তৈরি।উপরে চকচকে করলেও গাড়িটি মূলত আসল নয়। নতুন গাড়ি বা গাড়ির পাটর্স ক্রয় বিক্রয়ে তাই প্রয়োজন বিশ্বস্ত অটোমো্বাইল সেবা।আসল জাপানিজ টয়োটা গাড়ি ক্রয় করতে নানা ধরণের সুবিধা প্রদান করছে সাদিয়াটেক অটোমোবাইল লি: দেশে এবং প্রবাস থেকেও সাদিয়াটেক লিমিটেড এর অটোমোবাইল গ্রাহক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সাদিয়াটেক দিচ্ছে আসাল টয়োটা গাড়ি ও গাড়ির প্রয়োজনীয় পার্টস বা যন্ত্রাংশ, নতুন গাড়ি ক্রয় করতে লোন সুবিধা সহ নানা বিষয়ে ফ্রি কনসালটেনসি, প্রবাসীদের জাপানিজ টয়োটাগাড়ি ক্রয়ে হোম ডেলিভারি সহ বিভিন্ন সেবা ওয়েব সাইট থেকে জাপানিজ টয়োটাগাড়ি ক্রয়ে বা গাড়ির প্রয়োজনীয় পার্টস বা যন্ত্রাংশ সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। সরাসরি সাদিয়াটেক লিমিটেড এর সাথে যোগাযোগ: জাপান অফিস: Sadiatec 〒101-0021, CHIYODA-KU, SOTOKANDA 4-5-5, AKIBA MITAKI-KAN, 5F., TOKYO JAPAN TEL: 81-3-3255-5861 FAX: 81-3-32555862 www.sadiatec.com বাংলাদেশ অফিস: সাদিয়াটেক লিমিটেড, প্লট নং-২২, চন্ডালভোগ, নিশাত নগর, তুরাগ, উত্তরা, ঢাকা-১২০৩ ফোন: 09628111999, মোবাইল:01796111999 www.bigsle.jp

পাতাটি ৯৩৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


পথ চলার বিশ্বস্ত বন্ধু টয়োটা

এইচ এম দুলাল:: পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতা এই তিনকে একবিন্দুতে মিলিত করতে পারলে যে কোনো…


শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

এইচ এম দুলাল:: “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে বৎসরের…


জীবনের পরিবর্তনে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

এইচ এম দুলাল:: তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমারা হতাশায় ভুগতে দেখি । তারা অনেক…


মে দিবসের চেতনা ও শ্রমিকের অধিকার জাগ্রত হোক মানবতা

এইচ এম দুলাল:: উত্তর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম থেকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আজ প্রযুক্তির…

শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে



এইচ এম দুলাল::

“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক যাক
এসো এসো…

যাক পুরাতন স্মৃতি
যাক ভুলে যাওয়া গীতি
যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক
যাক যাক
এসো এসো…

মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা
অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা
রসের আবেশ রাশি
শুষ্ক করি দাও আসি
আনো আনো, আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুঁজঝটি জাল যাক, দূরে যাক যাক যাক
এসো এসো…”

নব আনন্দে জাগো আজি, নব রবি কিরণে, শুভ্র সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই আহ্বান পূর্ণতা লাভের আরেকটি পর্যায়ে উপস্থিত। শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। স্বাগত জানাই দেশে ও প্রবাসের সকল বাঙ্গালী হৃদয়কে। বছরের প্রথম দিনে বৈশাখের হাওয়া মনের চিরন্তন রূপের বর্ণালী ছড়াতে আরেক দিনের প্রভাত নতুনের বাণী শুনিয়ে হৃদয়ে দোলার স্পন্দন করে তোলে। পুরাতনের সাথে নতুনের যে যোগাযোগ পহেলা বৈশাখ তারই যোগসূত্র। বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠে বছর ঘুরে এলেই উচ্চারিত হয়, আসুক বৈশাখ, নতুনের বাণী শুনিয়ে তাদের হৃদয়কেও সোচ্চার করে তুলুক। তাই বাংলার মানুষ হৃদয়ের অমৃত বাণী দিয়ে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে সুরেলা কণ্ঠে বলে, স্বাগতম পহেলা বৈশাখ। শুধু বাংলোদেশে নয় প্রবাসে এ প্রিয় উৎসব নিয়ে পালন করা হয় নানা আয়োজন।

১৫৫৬ সালে শুরু হয়ছেলি বাংলা সনরে প্রর্বতন। মোগল সম্রাট জালালউদ্দনি মোহাম্মদ আকবররে সিংহাসনে আরোহনরে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তার রাজস্ব র্কমর্কতা আমির ফতহেউল্লাহ সিরাজী প্রথম ১৫৫৬ সালে উৎসব হিসেবে বৈশাখকে পালন করার নির্দেশ দেন। একই ধারাবাহিকতায় ১৬০৮ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীররে নির্দেশে সুবদোর ইসলাম খা চিশতি ঢাকাকে যখন রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলেন, তখন থেকেই রাজস্ব আদায় ও ব্যবসা বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য বাংলা বছররে পহলো বৈশাখকে উৎসবরে দিন হিসেবে পালন শুরু করনে। ঐতিহাসিক তথ্যে আছে যে, সম্রাট আকবরের অনুকরণে সুবদোর ইসলাম চিশতি তাঁর বাসভবনরে সামনে সব প্রজার শুভ কামনা করে মিষ্টি বিতরণ এবং বৈশাখ উৎসব পালন করতনে। সেখানে সরকারি সুবদোর হতে শুরু করে জমিদার, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থতি থাকত।প্রজারা খাজনা নিয়ে আসত সেই উপলক্ষে সেখানে খাজনা আদায় ও হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি চলত মেলায় গান-বাজনা, গরু-মোষের লড়াই, কাবাডি খেলা ও হালখাতা অনুষ্ঠান। পরবর্তীতে ঢাকা শহরে মিটর্ফোডরে নলগোলার ভাওয়াল রাজার কাচারিবাড়ি, বুড়িগঙ্গার তীরর্বতী ঢাকার নবাবদের আহসান মঞ্জিল, ফরাসগঞ্জ এর রূপলাল হাউস, পাটুয়াটুলীর জমিদার ওয়াইযের নীলকুঠির সামনে প্রতি পহলো বৈশাখে রাজ পুন্যাহ অনুষ্ঠান হতো। প্রজারা নতুন জামাকাপড় পরে জমিদারবাড়ি খাজনা দিতে আসত। জমিদাররা আংগীনায় নেমে এসে প্রজাদের সাথে কুশল বিনিময় করতেন। সবশেষে ভোজর্পব দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হতো।

বৈশাখের সঙ্গে বাঙালি-জীবনের একটা অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নবান্নের পর মানুষ এ মাসে যেন কর্মক্লান্ত জীবনের মাঝে অনাবিল স্বস্তি ফিরে পায়। কাজের চাপ নেই। ক্ষেত-খামারে যেতে হবে না। অনেকটাই অবসর জীবন। আগে গ্রামদেশে এইদিন শেষে সন্ধ্যাবেলা গানের আসর বসত। আসরে পালাগান হত, পুঁথিপাঠ হত। এখন সেই দিন নেই বললেই চলে। “হালখাতা” এখন হয়না বললেই চলে-কিন্তু পহেলা বৈশাখ এদেশের আপামর মানুষের মনের উতসবের আমেজ আজ অম্লাণ। বছরের অন্যান্য মাসে যেন সারা দিনমান ক্ষেত্রে খামারে কাজ করতে হয়, বৈশাখে এসে জীবনের ধারা বদলে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়ে ওঠে উৎসবে মুখরিত। ভিন্ন আংগীকে, ভিন্ন পরিবেশে এখনও গান-বাজনায় মেতে ওঠে জীবন। এ জীবনের মাঝেই বাংলাদেশের মানুষ খুঁজে পায় এক নতুন আস্বাদ, নতুন করে জীবন চলার পথের প্রেরণা আর উদ্দীপনা। তাই বাঙালি জীবনে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেয়ে পল্লী মানুষের জীবনে এ মাসে, এ ঋতুতে নেমে আসে এক নব আনন্দধারা। এ ধারায় সিঞ্চিত হয়ে মানুষ নব উদ্দমে পরের মাসগুলোর কর্মমুখর জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে-এটাই বাঙ্গালী জীবনে বৈশাখের বৈশিষ্ট। বাউল মন গেয়ে ওঠে…
“আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে
পাগলা মনে রঙ্গিন চোখে, নাগরদোলায় বছর ঘুরে
একতারাটার সুরটা বুকে, হাজার তালের বাউল সুরে
দেশটা জুড়ে খুশির ঝড়ে একটা কথাই সবার মনে
আইলো আইলো রে-
আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

লাল পাড়ের ওই শাড়ির আচল, আলতা পায়ে খুশির নাচন
ইলশে ভাজা পান্তা খাওয়া, সব বাধার আজ খুলছে বাঁধন
পাগলা মনের খুশির ভিড়ে বৈশাখী রঙ লাগলো প্রাণে
আইলো আইলো রে-
আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

গাছের ডালে আমের মুকুল, আকাশ মেঘে সাজলো দুপুর
হালখাতা সব হিসেব শেষে, আসলো বছর নতুন বেশে
এক বাণীতে সব বাঙ্গালি খুশির মেলায় দেশটা হাসে
আইলো আইলো রে
আইলো আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে
পাগলা মনে রঙ্গিন চোখে নাগরদোলায় বছর ঘুরে
একতারাটার সুরটা বুকে হাজার তালের বাউল সুরে
দেশটা জুড়ে খুশির ঝড়ে একটা কথাই সবার মনে
আইলো আইলো রে
আইলো আইলো রে রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে”

বৈশাখে উৎসবের ঢল নেমে আসে যান্ত্রীক শহুরে জীবনেও। মেলা বসে রমনা পার্ক, ধানমন্ডি লেক এমনকি সংসদ ভবন এলাকাতেও। মেলাবসে শহরে-নগরে গঞ্জে। কত না বিচিত্র হাতের তৈরি দ্রব্যসম্ভার সেসব মেলায় বিক্রি হয়। সে সকল দ্রব্যসামগ্রীতে বাংলার মানুষের বৈচিত্র্যময় জীবনধারার একটা স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে। এ সকল মেলা যেন গ্রাম-বাংলার মানুষেরই প্রতিচ্ছবি। তাদের জীবন যেন খন্ড খন্ড হয়ে ধরা পড়ে তাদের হাতের কারুকাজে। মাটির পুতুল, পাটের শিকা, তালপাতার পাখা, সোলার পাখি, বাঁশের বাঁশি, ঝিনুকের ঝাড়, পুঁতিরমালা, মাটির তৈরি হাতি-ঘোড়া-বাঘ-সিংহ কত যে অদ্ভুত সব সুন্দর জিনিসের সমাবেশ ঘটে সেই মেলায়, চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হয় না বাংলার মানুষের জীবন কত সমৃদ্ধশালী। মানুষ গরীব হতে পারে, দারিদ্র্য চিরসাথী হতে পারে, কিন্তু এসব জীবন জটিলতা তাদের মনকে আনন্দ খুশি থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। গানে-সঙ্গীতে তারা তাদের জীবনকে ভরিয়ে তোলে। কোকিলের কুহুতান শেষ হয়ে গেলে বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্ম আসে। পৌষ-মাঘের শীত আর ফাল্গুন-চৈত্রের বসন্ত যেন এক হয়ে তাদের জীবন আনন্দ হিল্লোলিত করে তোলে বৈশাখের আগমনে নতুন পথ-পরিক্রমার বার্তা বয়ে আনে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ গ্রীষ্মকাল। কিন্তু গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহ তাদের জীবনকে বিচলিত করতে পারে না। তারা খুশিতে গান গায়, তারা সংগীতের আসরের আয়োজন করে। তাই বৈশাখ বাংলার মানুষের জীবনী শক্তি।
জেগেছে বাঙ্গালির ঘরে ঘরে এ কি মাতন দোলা
জেগেছে সুরেরই তালে তালে হৃদয় মাতন দোলা
বছর ঘুরে এলো আরেক প্রভাত নিয়ে
ফিরে এলো সুরের মঞ্জুরী
পলাশ শিমুল গাছে লেগেছে আগুন
এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে

জেগেছে রমণীর খোপাতে বেলী ফুলের মালা
ভিনদেশী সুগন্ধী মেখে আজ প্রেমের কথা বলা
রমনা বটমূলে গান থেমে গেলে
প্রখর রোদে এ যেন মিছিল চলে
ঢাকার রাজপথে রঙের মেলায়
এ বুঝি বৈশাখ এলেই শুনি…

মেলায় যাইরে মেলায় যাইরে
বাসন্তী রঙ শাড়ি পড়ে ললনারা হেটে যায়
ঐ বখাটে ছেলেদের ভিড়ে ললনাদের রেহাই নাই
মেলায় যাই রে মেলায় যাই রে”

জাতিগতভাবেই বাঙালি ঐতিহ্যময় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির দেশ। সামাজিক অনুষ্ঠানে নানা ধরনের গান পরিবেশিত হয়। এসব গানে বাংলার মানুষের প্রাণের কথা, মনের ভাষা, হৃদয়ের আবেদন আর অন্তরের আকুলতা অত্যন্ত বাস্তব হয়ে ধরা পড়ে। মাঠের গান,নদির ও মাঝির গান, লোকগান বাংলা মানুষের আপন সংস্কৃতি। এতে রয়েছে পল্লী মানুষের সহজ-সরল ভাবের প্রকাশ। এতে শাস্ত্রীয় সংগীতের জটিলতা নেই। আছে শুধু সহজ-সরল অনুভূতি আর আবেদন। তাই লোকসংগীত বাংলার মানুষের প্রাণ। এ সঙ্গীত চিরায়ত। এতে আছে মাটির কাছাকাছি মানুষের প্রাণের ছোঁয়া। তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আশা-আকাঙক্ষা, বিরহ-বেদনার কাহিনী এ সঙ্গীতের মূল বিষয়বস্তু। গ্রাম্য জীবন, প্রকৃতি আর পল্লী মানুষের মনের কথা- এই তিনের মিলনে নির্মিত এই গান। এই গান সৃষ্টির মূলে রয়েছে কৃষক, জেলে, মাঝির মতো গ্রাম্য মানুষের প্রাণের আর্তি আর হৃদয়ের ভাষা। এ গানে কোনো কৃত্রিমতা নেই।

মূলত পহেলা বৈশাখ ছিল গ্রাম বাংলার একটি অবিচ্ছেদ্য জীবনাচারের অংশ, এদিন পুরাতন বছরের হিসেব চুকিয়ে নতুন বছরের হিসেব খোলা হত। গত দুই দশকে এই অনুষ্ঠানে কর্পোরেট বানিজ্য এবং আমাদের যে কোন বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত আদিখ্যেতার জোয়ারে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার পহেলা বৈশাখ, জন্ম নিয়েছে নতুন এক হাইব্রিড পহেলা বৈশাখ। যেখানে হাজার টাকায় পান্তা ইলিশ খাওয়া হয়, বৈশাখী কনসার্ট আয়োজন করা হয়, বৈশাখী ডিজে পার্টি, বৈশাখী ফ্যাশন শো হয়, আরও কত কি হয় তা আমার জানা নেই।

এত কথার শেষ কথা, আপনি যে কোন উৎসব পালন করার স্বাধীনতা রাখেন যে কোনভাবে, কিন্তু সেই উৎসবকে আপনার মনের মত করে রাঙিয়ে কোন গোষ্ঠী, দল, জাতির কাছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দিতে পারেন না। প্রায় হাজার বছরের পুরানো বাংলা বর্ষ এবং নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস নিশ্চয়ই কয়েকযুগ আগে কতিপয় ব্যাক্তি দ্বারা প্রচলিত রীতি দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই উন্মুক্ত তথ্যপ্রবাহের যুগে ইতিহাস আমাদের দোরগোড়ায় চলে আসবেই। তাই অধুনা প্রচলিত ‘বাংলা নববর্ষ উদযাপন’ই হাজার বছরের প্রচলিত বাংলা বর্ষবরণ সংস্কৃতি নয়। কোথায় রয়েছ কৃষিভিত্তিক বাংলার বর্ষবিদায় আর বর্ষবরণ? হালখাতা, বর্ষ শেষের ঝাড়ামোছা, গ্রাম বাংলার সেই বৈশাখী মেলা?

একেবারে শেষে শুধু একটা কথাই বলতে চাই, সব কিছুতে হাজার বছরের বাঙালীর ইতিহাস জুড়ে দিবেন না। হাজার বছর অনেক লম্বা সময় আর ইতিহাস অনেক গভীর একটি বিষয়।

পাতাটি ৯৪৪ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


পথ চলার বিশ্বস্ত বন্ধু টয়োটা

এইচ এম দুলাল:: পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতা এই তিনকে একবিন্দুতে মিলিত করতে পারলে যে কোনো…


শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

এইচ এম দুলাল:: “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে বৎসরের…


জীবনের পরিবর্তনে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

এইচ এম দুলাল:: তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমারা হতাশায় ভুগতে দেখি । তারা অনেক…


মে দিবসের চেতনা ও শ্রমিকের অধিকার জাগ্রত হোক মানবতা

এইচ এম দুলাল:: উত্তর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম থেকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আজ প্রযুক্তির…

জীবনের পরিবর্তনে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি



এইচ এম দুলাল::

তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমারা হতাশায় ভুগতে দেখি । তারা অনেক ডিপ্রেসড, জীবন নিয়ে মহা চিন্তিত তারা। মনে প্রশ্ন জাগে, এই হতাশা আসছে কোত্থেকে? উত্তর মেলে, এই হতাশার মূলে আছে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। এই এক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারলে কিন্তু জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যায়, জীবনের অংক মেলাতে আর হতাশ হতে হয় না। মানুষ জীবন বদলাতে কত প্রচেষ্টাই না করে। জীবনকে সাফল্যের কাংখিত মঞ্জিলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে চলে মানুষের অবিরাম সংগ্রাম। কিন্তু সংগ্রাম অবিরাম চললেও কাঙখিত সাফল্য মানুষ পায় না। এই কাঙখিত সাফল্যে পৌঁছতে না পারার কারণ বিশ্লেষণ করলে যে কয়টি মূল বিষয় সামনে উঠে আসে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। একটি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিতে পারে মানুষের জীবন। যারা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অবিরত প্রচেষ্টা চালিয়েও কাক্সিক্ষত সাফল্যে পৌঁছাতে পারেন না তারা যদি সত্যিকারার্থে কাজের শুরুতেই সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় সাফল্য তাদের পদতলে আশ্রয় নেবে। ইংরেজি ভাষায় দৃষ্টিভঙ্গি শব্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে। ইংরেজিতে একে বলে ‘Attitude’, ব্যক্তিজীবনে সফলতার নিশ্চয়তা এই Attitude। আর সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ হলো কাজের উপযোগী, কর্মস্থলের উপযোগী, জীবিকার উপযোগী চমৎকার দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা। যিনি একজন ছাত্র তার অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ারে দৃষ্টিভঙ্গি যদি ছাত্রসুলভ না হয় তাহলে তার ক্যারিয়ার কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। একজন ছাত্রের সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ হবে পড়া পড়া আর পড়া। পড়াশোনা করে হতাশা কাটিয়ে ব্যর্থতা ছাড়িয়ে জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করে কাক্সিক্ষত সাফল্য ছোঁয়া। তেমনিভাবে একজন শিক্ষকের দৃষ্টিভঙ্গি হবে উত্তম পাঠদানে সুশিক্ষিত জাতি গড়ে তোলা। সে ক্ষেত্রে শিক্ষাদানের পরিবেশ যদি ছাত্রদের প্রতি শিক্ষাসুলভ, সুলভ এবং প্রয়োজনে শাসনমূলক না হয়, তাহলে তিনি প্রকৃত পাঠদানে ব্যর্থ হবেন। ছাত্ররা বঞ্চিত হবে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থেকে। উন্নত জাতি গঠনের কর্মসূচি চরমভাবে ব্যর্থ হবে। ঠিক এমনিভাবেই কোনো প্রশাসক ভালো প্রশাসক হতে পারেন না যতক্ষণ না তার দৃষ্টিভঙ্গি সুসম্পন্ন না হয়। মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি যদি মাতৃসুলভ, বাবার দৃষ্টিভঙ্গি যদি পিতৃসুলভ না হয় তাহলে বাবা-মা কাক্সিক্ষত ইচ্ছা অনুযায়ী সন্তান গড়ে তুলতে পারেন না। মালিক যদি কর্মচারীদের প্রতি উপযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ না করেন আর কর্মচারীরাও যদি কাজের ক্ষেত্রে সুদৃষ্টি না দেন তাহলে শ্রমিক-মালিকের মাঝে বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়। আর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিই সার্বিক উৎপাদন, উপার্জন এবং সাফল্য ধ্বংস করে দিতে বাধ্য। সাংগঠনিক জীবনে একজন সংগঠকের সুসম্পন্ন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ওপরই সংগঠনের কাক্সিক্ষত সফলতা নির্ভর করে। সমান যোগ্যতা, আন্তরিকতা এবং পরিশ্রম ঢেলে দেয়ার পরও দু’জন দু’রকম সাফল্য পান। এর কারণ হলো কাজের শুরুতে একজন সুসম্পন্ন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন, আর আরেকজন দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি আমলেই নিতে চান না। ব্যক্তিজীবনে প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ ক্ষেত্রে উপযোগী দৃষ্টিভঙ্গি লালন না করলে কাক্সিক্ষত সাফল্যে পৌঁছাতে পারেন না। কারণ সাফল্যের মূল ভিত্তি হচ্ছে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। বিশ্ববিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শতকরা ৮৫ ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি সফলতা পায় তার সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে।

সর্বক্ষেত্রেই ইতিবাচক থাকুন
ইতিবাচকতা সম্ভাবনার কথা বলে,বিশ্বাসের কথা বলে। জীবনে জয়ী হতে হলে সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে হবে। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যা ঘটছে তা অনেকসময়ই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। একই সাথে আমাদের দুঃখ দুর্দশার কারণও হলো ঘটনার প্রেক্ষিতে আমাদের প্রতিক্রিয়া। এজন্যে আমাদের জীবন, জয়ের আনন্দে উদ্ভাসিত হবে না পরাজয়ের গ্লানিতে পূর্ণ তা নির্ভর করবে আমাদের ইতবাচক বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রাবল্যের উপর। যখন দৃষ্টিভঙ্গিটা সঠিক হয় তখন জীবন আসলে অনেক সহজ, উপভোগ্য এবং সাফল্যমন্ডিত মনে হয়। দৈনন্দিন জীবনের অনেক ছোটখাটো বিষয় থেকে শুরু করে যেকোনো বড় সমস্যার মোড় আমরা ঘুরিয়ে দিতে পারি যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হয়। সুখী হতে হলে অপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু ভুলে থাকতে হয়। আমি অপ্রয়োজনীয় সবকিছু ভুলে থাকবো। যেমন-মাছি গায়ে বসতে নিলে আমরা তাড়িয়ে দেই সেভাবে তাড়িয়ে দেয়া। যতবার বসবে ততবার তাড়িয়ে দেয়া। মনে মনেও যদি চিন্ত করি- বাহ্! কী সুন্দর একঝাঁক পাখি। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি। আর যখনই এই ঘটনাটা মুগ্ধকর মনে হয় তখন আমাদের মধ্যে একটা সুখ সুখ অনুভূতি আসে। কিন্তু এর বিপরীত যদি হয়? যদি কেউ বিরক্ত হয়? তখন মুখে কিছু না বলে শুধু যদি মুখভঙ্গি বিকৃত করে ফেলে বা ছোট্টখাট্ট বিরক্তিবোধক শব্দ উচ্চারণ করে যেমন-ই্স!, উহফ!, আহ্হা রে! তখন আবার আমাদের ভেতরে কম ভালো লাগার একটা অনুভূতি সৃষ্টি হয়। এই শব্দগুলো আরেকজনের মুখে শুনলে যেমন আমাদের কম ভালো লাগে, তেমনি নিজে বললে ভালো লাগার কথা নয়। ইতিবাচক হওয়ার জন্যে কথার একটা প্রভাব আছে। যে কারণে, আমাদের কথাবার্তায় বিরক্তি প্রকাশ করে এমন শব্দ-ই্স!, উহফ!, আহ্হা রে! আবার অনেক সময় দীর্ঘশ্বাস ছাড়া, আরে বাপুরে!, ধ্যাত, ধুত্তুরি, যত্তোসব, অসহ্য ইত্যাদির ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। আসলে অসহ্য বলাটা সহজ, সহ্য বলাটা কঠিন। তবে একবার অভ্যস্ত হতে শুরু করলে সহ্য বলাটা সহজ, সহ্য করাটা সহজ। শর্ত শুধু একটাই মন থেকে চাওয়া। লোক দেখানোর জন্যে না, বা ভান করার জন্যেও না।

বিব্রতকর পরিস্থিতে মাথা ঠান্ড রাখুন
সকালে ঘুম থেকে উঠে, ঘুমের ঘোরে দাঁত ব্রাশ করার পর বুঝতে পারলেন সেটা অন্য আরেকজনের ব্রাশ, তখন কী অনুভূতি হবে-গা গুলিয়ে উঠা/ প্রচন্ড রাগ করা/ নিজের ব্রাশ দিয়ে আরেকবার ব্রাশ করা। এই ঘটনার ইতিবাচকতাস্বরূপ যে, নিজের ব্রাশ দিয়ে আরেকবার ব্রাশ করা। যার ব্রাশ ভুল করে ব্যবহার করা হয়েছে তাকে তা জানানো। খাওয়ার সময় বুঝলেন খাবারে অতিরিক্ত লবণ দেয়া হয়েছে ফলে মুখেই দেয়া যাচ্ছে না। অথবা খাবার খেতে খেতে খাবারে চুল পেলেন, নয়তো সবজির পোকা পেলেন। তখন কী করবেন?- প্রো-একটিকভাবে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়া/ ওয়াক থু বলে ফেলে প্লেট ছুঁড়ে দিয়ে টেবিল ছেড়ে চলে যাবেন? প্রো-একটিকভাবে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়া। হতে পারে আপনি কোনো কাজ করছেন হঠাৎ কোনো টিকটিকি/ তেলাপোকা মাথায় লাফিয়ে পড়লো, কী করবেন? চুল ফেলে দেবেন/ নাকি তক্ষুণি শ্যাম্পু করতে বাথরুমে ঢুকবেন/ নাকি একটা ঝাড়া দিয়ে টিকটিকি ফেলে দিয়ে যা করছিলেন তা করবেন।একটা ঝাড়া দিয়ে টিকটিকি ফেলে দিয়ে যা করছিলো তা করবে। এমন হতে পারে কাঁদায় পা পিছলে পড়ে গিয়ে আপনার জামা নষ্ট হয়ে গেছে আর অপর দিকে যারা দেখছেন তারা হাসছেন। তখন কী করবেন- কাঁদবেন/ তাদের সাথে হাসিতে যোগ দেবেন/ মাথা নিচু করে সেখান থেকে দ্রুত চলে আসবেন? ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে তাদের সাথেও হাসিতে যোগ দিয়ে পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক মনে করা, সুযোগ থাকলে বাসায় গিয়ে পোশাক পাল্টে আবার নিজের কাজে যাওয়া। আসলে এ ধরনের অসংখ্য বিব্রতকর ঘটনা আমাদের জীবনে অহরহ ঘটে চলেছে। এসব ক্ষেত্রে সচেতন থাকলে ভালো কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার সুযোগও থাকে না। যেমন গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচেছন হঠাৎ অনুভব করলেন মাথায় তরল জাতীয় কী যেন পড়লো। হাত দিয়ে বুঝলেন পাখি টয়লেট করেছে। এখন লাজুক হাসি হাসা ছাড়া আপনার আর কিছু করারও নাই। কারণ আপনি যতই বিরক্ত হোন বা রেগে যান না কেন আপনার পক্ষে সেই পাখিটাকে ধরে বকা দেয়ার কোনো সুযোগ নাই। আর এরকম বিব্রতকর অবস্থায় অন্যরা হাসছে কিন্তু আপনার মাথায় পড়ার পরেও আপনি হাসতে পারছেন কি না-এটাই গুরুত্বপূর্ণ। হাসতে না পারলে আপনার কাছে পরিস্থিতি জটিল মনে হবে, আর হাসতে পারলে মনে হবে এটা খুব সহজ স্বাভাবিক ব্যাপার।

সমস্যাকে মোকাবেলা করুন
সমস্যাকে সম্ভাবনা বলে হাসিমুখে ঠান্ডা মাথায় বিশ্বাসের সাথে ফেস করতে হবে। যখন মনে করবেন এটা কোনো ব্যাপার না। এরচেয়েও খারাপ কিছু হতে পারতো। অর্থাৎ দুর্ঘটনাকে ফেনানোর দরকার নেই। না ফেনিয়ে এটাকে ফানে রূপান্তরিত করতে পারাই ইতিবাচকতা। যেমন, হয়তো শুনলেন, আপনার এক বন্ধু এক্সিডেন্ট করেছে। পায়ে চোট পেয়েছে, তাই পা দুটো বেডের সাথে বাঁধা। তাকে দেখতে গিয়ে যদি আহা, উহু করেন তাহলে তার ব্যথা কমবে না, বরং বাড়বে। সেসময় যদি তার রুমে ঢুকেই খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে একটা সালাম দিয়ে বলেন, দোস্ত কেমন আছো। তোমাকে তো দেখতে লাগছে খুব ভালো। একটা ছবি তুলে রাখো। নাতি-নাতনিদের দেখাতে পারবে। যে দাদুকে একবার বিছানার সাথে এভাবে বেঁধে রাখা হয়েছিলো। বন্ধু তখন কী বলবে? অনেকদিন তো হাসে নাই। একটু দাঁত বের করবে। কিংবা কপট রাগ দেখিয়ে বলবে, এই কথা তুমি বলতে পারলে? আসলে এটা মুখের কথা, মনের কথা কী? অনেকদিন পর একটু ভালো লাগছে, তোমরা এসে কথা বলছো বলে। অর্থাৎ ঘটনা যত শোচনীয় হোক না কেন তার মধ্য থেকে ভালো দিককে খুঁজে বের করে আনতে হবে। যেমন স্বর্ণের খনি থেকে তো স্বর্ণ পাওয়া যাবেই। কিন্তু সার্থকতা হচ্ছে ছাইয়ের স্তুপ থেকে স্বর্ণ খুঁজে পাওয়া। অর্থাৎ একটি আপাত কষ্টের ঘটনারও ভালো দিককে যত গ্রহণ করতে পারবো তত আমাদের শান্তি, সুখ আসতে থাকবে, এই শান্তি-সুখের আবেশ নিয়ে অনেক কাজ করতে পারবো, আমাদের সাফল্য বাড়তে থাকবে। আসলে আপনি যখন অন্যের আচরণে প্রভাবিত হবেন তখন তাকে আর আপনার আচরণ দ্বারা প্রভাবিত করতে পারবেন না। তাই সবসময় অন্যের সাথে সে-ই আচরণ করুন যে আচরণ আপনি আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিলেন। জীবনযুদ্ধে প্রতিপক্ষ সবসময় আপনাকে উত্তেজিত ও আবেগপ্রবণ করার চেষ্টা করবে, আপনার লক্ষ্য থাকবে ঠান্ডা মাথায় সমস্যাকে কীভাবে সমাধান করতে পারেন। মনের প্রশান্তির জন্যে নিজের ওপর নিজের এই নিয়ন্ত্রণ আনাটা হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের ভিত্তিহীন কথার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তেজনা, ক্রোধ এবং জীবন নাশের একটা ভুল সিদ্ধান্ত মানুষকে জীবনে অনেক পিছিয়ে দেয়।

সহজভাবে চিন্তা করুন
আমাদের সবারই কিন্তু এ ধরনের বন্ধু আছে যারা সবসময় বলতে থাকে “দোস্ত আমার কী হবে, আমি পড়া কিচ্ছু পারি না!” আর রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় ফাটাফাটি একটা নম্বর পেয়ে যায় তারা! আবার আরেক রকম বন্ধু আছে যারা বেশি পড়ালেখা করে না, আর সেটি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। একশোতে পাশ নম্বর চল্লিশ তুলতে পারলেও তারা খুশি। প্রথম ধরণের বন্ধুদের মনে সবসময় চলতে থাকে যে, বেশি করে ভালোমত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে, তার চাকরি-বাকরি হবে না, বিয়ে হবে না, কিচ্ছু হবে না! তার জীবনে নেমে আসবে মহা অন্ধকার। দ্বিতীয় ধরণের বন্ধুদের মাথায় খেলা করে অন্য বিষয়। পরীক্ষা তাদের কাছে স্রেফ একটা পরীক্ষাই। এটায় খারাপ করলে পরের টায় ভালো করবে, সুযোগের তো আর অভাব নেই- এমনই চিন্তাধারা তাদের। তাহলে যেটা দেখা যাচ্ছে, স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা বলে দুজন বন্ধুর পরীক্ষা নিয়ে ধারণা বেমালুম আলাদা হয়ে যাচ্ছে! আমাদের জীবনটাও কিন্তু ঠিক এরকমই। চারপাশে তাকালে দেখা যাবে প্রচুর মানুষ আছে যারা অনেক কিছু করেও সুখী না, তাদের কাছে জীবনটাই একটা হতাশার নাম, সবকিছুই কঠিন তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। ভালো কিছু করলেও সেটিকে তাদের কাছে অনেক কম মনে হয়! কিছু মানুষ আবার জীবনটাকে খুব সহজভাবে নেয়। তাদের কাছে সম্ভাবনা এলে তারা তা হাসিমুখে গ্রহণ করে, সাফল্য পায়। আবার ব্যর্থতায় ভেঙ্গে না পড়ে তারা নতুন কিছুর পথে এগিয়ে যায়। সবকিছুকে সহজভাবে নেয়ার বিরল প্রতিভা তাদের! আমরা আমাদের জীবনকে কীভাবে গড়ব, সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। জীবনকে আমরা প্রথম শ্রেণীর সেই বন্ধুদের মত বড্ড কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চালাতে পারি, আবার দ্বিতীয় শ্রেণীর এই মানুষগুলোর মত সহজ দৃষ্টিভঙ্গিতেও রাখতে পারি। Choice কিন্তু আমাদের হাতেই!

নিজের জীবন থেকেই সুখ খুঁজে নিন
একটা গল্প আমরা অনেকেই জানি। একজন থাকে মস্ত একটা আলিশান বাড়ির আঠারো তলায়। আঠারো তলার জানালা থেকে সে দেখে, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্ট পরে আরেকটা বাচ্চা বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আলিশান বাড়ির বাচ্চাটাকে তার মা নামতে দেয় নি, বৃষ্টিতে খেললে যদি তার অসুখ করে! আলিশান বাড়ির বাচ্চার মনে বড় কষ্ট। তার মনে হয়, সে যদি এই ছেলেটা হতো, তাহলে বুঝি কতোই না মজা করে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলতে পারতো! মজার ব্যাপার হলো, ঠিক ঐ সময় নিচের বাচ্চাটার মনে চলছে আরেক কথা। তার বাসায় অভাব, অনাহার। তার মনে হয়, সে যদি ওই আলিশান বাড়ির ছেলেটা হতো, তাহলে না জানি কী সুখে থাকতে পারতো সে! বড় বাসা, ভালো জামা-কাপড়, ভালো খাবার- সবই পেতো সে! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেও এই সমস্যাটা বিদ্যমান। অন্য মানুষ কী করে, তারা কেমন সুখে আছে এটি নিয়েই তারা প্রতিনিয়ত চিন্তিত। হতাশা তাদের শেষ হতেই চায় না! অথচ অন্যের জীবন নিয়ে না গবেষণা করে নিজের জীবনের খুঁটিনাটি একটু দেখলে, দুঃখভরা জায়গাগুলো একটু ভালো করার চেষ্টা করলে কিন্তু খুব ভালো থাকা যায়। অন্যের কথা না ভেবে, অন্যের পথে না চলে, নিজেই নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারলে আর কিছু লাগেই না। দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টালে তাই জীবনটাও হয়ে যাবে অনেক সুখের।

স্বপ্নগুলোকে উড়তে দিন
প্রবাদ আছে, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ২৫ বছর বয়সে মরে যায়, আর পঞ্চাশ বছর পর তার দেহটা কবর দেয়া হয়। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কথাটা সত্যি। ২৫ বছরে গ্র্যাজুয়েশনের আগে আমাদের মনে কতই না স্বপ্ন থাকে, এটা করবো সেটা করবো। একের পর এক আইডিয়া আসতে থাকে মাথায়, দিতে ইচ্ছে করে ইউরোপ ট্যুর, আরো কতো কি! কিন্তু গ্র্যাজুয়েশনের পর পরিবার থেকে চাপ আসে- বিয়ে করতে হবে, চাকরি নিতে হবে। চাকরিগুলো বেশিরভাগ সময়েই মনমতো হয় না, হতাশা বাড়তে থাকে। সাথে থাকে সংসার চালানোর চাপ, আর জীবন হয় কষ্টের। সেই যে স্বপ্নগুলোর মৃত্যু হলো মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধের চাকুরি করে আর সংসারের ঘানি টেনে, সেখানেই আমাদেরও আসলে মৃত্যু হয়। থাকে শুধু নিরস দেহটাই।কিন্তু এমনটা হবার তো কোন দরকার নেই! নিজের চিন্তা-ভাবনাকে একটু পাল্টিয়ে দেখি আমরা। চিন্তা করে দেখি, নিজের জন্যে, দেশের জন্যে বলার মত কী করছি আমরা? যদি কিছু না করেই থাকি, তাহলে করা শুরু করতে দোষ কী? বয়সটা হোক পঞ্চাশ কিংবা আরো বেশি, কাজের কাজ করলে সেটি কোন বাধাই নয়! নিজে কিছু করা শুরু করলেই দেখবে নিজেরও ভালো লাগছে, ইচ্ছে করছে আরো ভালো কাজ করতে!

সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি জন্মলব্ধ কোনো বিষয় নয়, এটি মনোভাবের পরিবর্তনের মাধ্যমে ধারণ করে লালনের বিষয়। কেউ কেউ ভাবতে পারেন অমুক বিরাট পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছে তার দৃষ্টিভঙ্গি তো সুসম্পন্ন হবেই এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সমন মনোভাবের (ফিতরাতের) ওপরই জন্মগ্রহণ করে। সবাই হাত, পা, কান ও মাথা নিয়ে মানুষ হিসেবেই জন্মগ্রহণ করে। রাসূল সা. এ প্রসঙ্গে বলেন, সকল মানুষ একই ফিতরাত বা স্বভাবের ওপরই জন্মগ্রহণ করে, এর পর তার পিতা-মাতা এবং তার পরিবেশ তাকে সে অনুযায়ী পরিচালিত করে। আবার বাহ্যিকভাবে মনে হতে পারে মানুষ মানেই শুধুমাত্র দুটো হাত, দুটো পা কিংবা একটি শরীর গঠনের নাম। বরং হাত পাসহ সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, মেধা-মনন মিলিয়েই একজন সম্পূর্ণ মানুষ। এই সব কিছুর সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গিই একটি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। সত্যিকারার্থেই কোনো মানুষ সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জন্মায় না বরং তার দেহ, মন চিন্তা চেতনার সম্মিলিত ইতিবাচক যোগফলই সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়।

আমাদের মনে রাখতে হবে পরিবেশ, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা এবং নিজ প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতেই একটি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে পারে। উপরিউক্ত চারটি বিষয়ের প্রভাবে অনেক সময় নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গিয়ে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপান্তিরত হয়। বদলে যায় ব্যক্তির পুরো জীবন। পরিবেশ ব্যক্তির সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যিনি সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তার দৃষ্টিভঙ্গি হয় সুসম্পন্ন আর যার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ নেতিবাচক হয় তার দৃষ্টিভঙ্গি সুসম্পন্ন হয় না। এটি সাধারণ নিয়ম হলেও সমাজে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যারা স্রোতের বিপরীতে চলতে জানেন, যাদের মাঝে অদম্য ইচ্ছা এবং সাহস থাকে তারা নেতিবাচক পরিবেশের মাঝে নিজের সার্বিক প্রচেষ্টায় সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে পুরো জীবনটাকেই বদলে দিতে পারেন। একটি সুন্দর পরিবেশে একজন মানুষ যখন বেড়ে ওঠে তখন তার দৃষ্টিভঙ্গি সুসম্পন্ন হওয়াই বাঞ্ছনীয়। পরিবারের সুন্দর পরিবেশ সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সহায়ক। সহপাঠীদের সুন্দর আচরণ একজন ছাত্রকে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। কর্মক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিকের সুসম্পর্কের পাশাপাশি সহযোগীদের সাথে সুসম্পর্ক এবং কর্মক্ষেত্রের সুন্দর পরিবেশ সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে সহায়তা করে। পরিবেশ যে কতখানি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে তার প্রমাণ আপনাদের আমাদের আশপাশে অহরহই রয়েছে। পাশাপাশি দু’টি খাবার হোটেলের ক্ষেত্রে দেখা যাবে একটি হোটেলের মালিক কর্মচারী এবং এর কাস্টমারদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি অভদ্রজনিত। ঠিক পাশেই আরেকটি হোটেলে দেখা যাবে সেখানকার মালিক কর্মচারী যেমন রুচিশীল ও ভদ্র তাদের কাস্টমাররাও রুচিশীল এবং ভদ্র ধরনের। এটি শুধুমাত্র তাদের সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই হয়েছে আর এই সৌন্দর্য তৈরিতে পরিবেশই তাদের সহায়তা করেছে। একই দেশের দু’টি রাজনৈতিক দলের সাথে তুলনা করলে দেখা যাবে একটি তার প্রতিপক্ষকে নোংরা, হিংসাত্মক এবং নীচু ভাষায় বক্তব্য দিয়ে গায়েল করার চেষ্ট করে। এই নোংরা চর্চা দলের নিম্নস্তর থেকে শুরু করে মধ্যস্তরকে পেরিয়ে অনেক সময় দলের প্রধানেরও ভাষা হয়ে যায়! আর আরেকটি দলকে দেখা যায় একই বিষয়ে প্রতিপক্ষেকে রুচিশীল কিন্তু তির্যক ভাষায় বক্তব্য দিয়ে মোকাবেলা করতে। এটি সম্ভব হয় দলের প্রধান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর মাঝে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালনের কারণে। সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য শুধু মাত্র পরিবেশই যে সহায়ক তা কিন্তু নয় বরং এর সাথে শিক্ষার বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত। সুশিক্ষিত একটি পরিবারে সন্তানদের সাথে অশিক্ষিত পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গির তুলনা করলে দেখা যায় স্বল্প শিক্ষিতরা যতই সম্পদশালী হোক না কেন তারা উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সন্তানদের চেয়ে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেড়ে ওঠেন না। তাদের মাঝে আচরণের পার্থক্য অনেক। তবে শিক্ষিতদের মাঝেও কিছু অথর্ব বা জ্ঞানপাপী থাকেন যারা শিক্ষার পুঁজিকে ঢাল বানিয়ে বড়াই করেন। তখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্বল্প শিক্ষিতের নীচুতাকেও হার মানায়। সত্যিকারার্থে তারা জীবনকে বদলাতে পারেন না। ব্যক্তি যখন পরিবেশ, শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা পুঁজি করে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন তখন তার প্রয়োজন হয় আত্মপ্রচেষ্টা। কারণ যতই পরিবেশ সুন্দর হোক না কেন, যতই ব্যক্তির জ্ঞান-গরিমা থাকুক না কেন, অভিজ্ঞতার ঝুলি যত বেশিই থাকুক না কেন, ব্যক্তি যদি নিজকে পরিবর্তন করার মতো দৃষ্টিভঙ্গি লালন না করেন তাহলে এর মধ্যে কল্যাণ নিহিত নেই। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি হতে পাওে না। এ ধরনের প্রচেষ্টা জীবনকে বদলাতে পাওে না। জীবনকে বদলাতে প্রয়োজন আত্মপ্রচেষ্টামূলক দৃষ্টিভঙ্গি যা নিজেকে দিয়েই শুরু করতে হয়। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা রায়াদের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ কোন জাতির ভাগ্যের (অবস্থার) পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত জাতির লোকেরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে।” বদলে যাও বদলে দাও এটি নতুন কোনো শ্লোগান নয়। বরং সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অভাবেই এটা ধামাচাপা পড়েছিল। যারা মনে করেন ইসলাম সেকেলে ধর্ম, ইসলামে কোন আধুনিকতা নেই এটি তাদেরই কারসাজি। অথচ ইসলাম যে কত আধুনিক তার প্রমাণ হচ্ছে বদলে যাওয়ার জন্য আগে নিজেকে দিয়ে বদলানোর অভিযান শুরু করার তাগিদ ইসলাম ১৪ শ’ বছর আগেই নবী মুহাম্মদ সা.-এর ওপর নাজিলকৃত মহাসত্য গ্রন্থ আল কুরআনের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং এই মহা সত্যকে ধারণ করে সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে পারলেই জীবনটাকে বদলে দেয়া সম্ভব। একজন মহা মনীষী বলেছেন, সুসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের জীবনে পবিত্র অনুভূতি সৃষ্টি করে আর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পূর্ণতার সুযোগকে নষ্ট করে দেয়। আমাদের প্রতিটি অনুভূতিই হোক পূর্ণতার, দৃষ্টিভঙ্গি হোক ইতিবাচক আর সুসম্পন্ন। বদলে যাক জীবন, পূরণ হোক লালিত স্বপ্নের।

পাতাটি ৪৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


পথ চলার বিশ্বস্ত বন্ধু টয়োটা

এইচ এম দুলাল:: পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতা এই তিনকে একবিন্দুতে মিলিত করতে পারলে যে কোনো…


শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

এইচ এম দুলাল:: “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে বৎসরের…


জীবনের পরিবর্তনে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

এইচ এম দুলাল:: তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমারা হতাশায় ভুগতে দেখি । তারা অনেক…


মে দিবসের চেতনা ও শ্রমিকের অধিকার জাগ্রত হোক মানবতা

এইচ এম দুলাল:: উত্তর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম থেকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আজ প্রযুক্তির…

মে দিবসের চেতনা ও শ্রমিকের অধিকার জাগ্রত হোক মানবতা



এইচ এম দুলাল::
উত্তর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম থেকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আজ প্রযুক্তির জয়গান ধ্বনিত। চোখধাঁধানো স্থাপত্যকলা, কারুকার্যখচিত শিল্পের ছোঁয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষকাল অতিক্রম করছি বর্তমানে আমরা । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ বলা হয় বর্তমান সময়কে । প্রভূত এ অর্জন ও উৎকর্ষের নেপথ্যে কিছু ত্যাগ রয়েছে। রয়েছে কিছু বিসর্জন। শ্রমশিল্পের ভাষায়, কোনো বস্তু ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠা কিংবা কোনো ধরনের উৎকর্ষ আমাদের জন্য উপকারী তখনই হয়, যখন তা কোনো শ্রমের বিসর্জনে অর্জিত বা নির্মিত হয়। মোটকথা, বস্তু ব্যবহারযোগ্য কিংবা উপকারী হয়ে ওঠার নেপথ্যে শ্রমই প্রথম ও প্রধান উপাদান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শ্রমিকরা কতভাবে যে এই বিশ্বকে সচল রেখেছেন, সমুন্নত রেখেছেন উন্নয়নের এই ধারাকে, তার সঠিক পরিসংখ্যান অসম্ভব। শ্রমজীবী এই সমাজটি না থাকলে অচল হয়ে যেত এসব উৎকর্ষ। থেমে যেত আমাদের জীবনধারা। মুহূর্তের মাঝে মাটিতে মিশে যেত- গগনচুম্বী এতো সব গৌরব-অহঙ্কার। কিন্তু আফসোস ও পরিতাপের বিষয় হলো, সঠিকভাবে হিসাব নিলে দেখা যাবে যে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হয় এই শ্রমিক শ্রেণী। সবচেয়ে বেশি মূল্যহীন ও মানহীন জীবন যাপন করেন পৃথিবীর শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিকদের শোষণ ও নিপীড়নের এই সমস্যা মামুলি কিংবা এক-দুদিনে সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়, বহুকাল ধরে চলে আসছে এই অত্যাচার, জারি রয়েছে এই বঞ্চনা। সভ্যতাকে পুঁজি করে যতই দিন যাচ্ছে, পৃথিবী যত বেশি হচ্ছে প্রযুক্তিময়- ততই বেড়ে চলছে শ্রমজীবী মানুষের এই বঞ্চনা, বৃদ্ধি পাচ্ছে এই অত্যাচার। দিন দিন বেড়েই চলছে নিগৃহীত শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা।

১২৫ বছর আগে ১৮৮৬ সালেও বিশ্বের দেশে দেশে শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য ছিল খুব কম। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা শ্রম দিয়েও শ্রমিকরা উপযুক্ত মজুরি পেত না। অনেক শ্রমিক পরিবারের শিশুসন্তান পিতাকে চিনতে পারতো না। কারণ শিশুটি যখন ঘুমিয়ে থাকতো পিতা কর্মস্থলে চলে যেত, পিতা যখন ঘরে ফিরতো তখন শিশুটি আবার ঘুমিয়ে পড়তো। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অনেক শিশু তার মায়ের পাশে বসা পিতার দিকে এমনভাবে তাকাতো যেন এই পুরুষ মানুষটি বাইরের মানুষ। ১২ ঘণ্টা শ্রম দিয়ে শ্রমজীবীদের স্বাচ্ছন্দ্যে সচ্ছলভাবে সংসার চলতো না। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করতো না। তারা অদৃষ্টের বিধান হিসেবে এ অত্যাচার-অবিচার মেনে নিয়েছিল। মানুষ বোবা পশু নয়, তাদের মনে ভাব জাগে, মুখে ভাষা জাগে। একসময় তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠলো।

চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটলো আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে। তারা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো। মালিকপক্ষ সব দেশে সবকালেই মনে করে তারা আলাদা জাত। তারা শ্রমিকদের ওপর শোষণ করে, নির্যাতন করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ওপর গুণ্ডা লেলিয়ে দেয়। শিকাগো শহরেও তাই ঘটেছিল। মালিক পক্ষের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হলো। তাদের মৃত্যু বৃথা যায়নি। দেশে দেশে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়লো। বিভিন্ন দেশের সরকারও এগিয়ে এলো। তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনে কল-কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা- বৈঠক করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের মেয়াদ ৮ ঘণ্টা করার দাবি মেনে নিলো। ১৮৮৬ সালের এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দাবি পূরণের দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করলো। মে মাসের পয়লা তারিখ বিশ্বের সব দেশে শ্রমজীবী মানুষ ছুটি পালন করে। সভা- সেমিনারের মাধ্যমে নিহত শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা জীবন দানের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

যারা ১৮৮৬ সালে দরিদ্র শ্রমিকদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছিল তারা এ নৃশংসতার পরিচয় কেন দিয়েছিল? এর মূলে ছিল ঐশ্বর্যের ক্ষুধা। এ ক্ষুধার কোন শেষ নেই। টাকা ও ক্ষমতার জন্য মানুষের চাহিদা অন্তহীন। টাকা নিজেই তার অতিরিক্ত চাহিদা সৃষ্টি করে। বিদ্যমান প্রয়োজন মিটে গেলে জন্ম হয় নতুন চাহিদার। এ ক্ষুধা মেটানোর জন্য মানুষ ন্যায়-অন্যায় বিচার করে না পাপ-পুণ্য বিচার করে না, হালাল-হারাম বিবেচনা করে না। একজন ধনী মানুষকে তার ধনের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন কুছ বাপকা কুছ আপকা আউর কুছ পাপকা। অর্থাৎ কিছু সম্পদ পাওয়া গেছে পৈতৃক সূত্রে কিছু নিজের উপার্জন আর কিছু পাপের ফসল। পাপ ও অনাচার সম্পদের বন্ধু ও দোসর।

একটা গল্প বলি। শিকারে গিয়েছিলেন দিল্লির সুলতান ইলতুৎমিশ। রাজকীয় হাতির হাওদায় তার সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গভীর অরণ্যে এক জায়গায় এসে তারা বিশ্রাম নেয়ার জন্য থামলেন। হাতির হাওদা থেকে তারা বসলেন একটা গাছের নিচে। পরিশ্রান্ত হাতিও শুয়ে পড়লো। এ সময় এক অদ্ভুত দৃশ্য সুলতানের নজরে পড়লো। ঝোপের একটা ব্যাঙ নিচে হাতিটি দেখে অস্থির হয়ে পড়লো। তার এলাকায় হাতি শুয়ে বিশ্রাম নেবে, ব্যাপারটি বুঝি সহ্য হলো না তার। কয়েক লাফে সে হাতির কাছে এসে হাতিটিকে কয়েকবার লাথি মেরে আবার নিজের নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বসলো। কিছুক্ষণ পর পর ব্যাঙটি এসে হাতিকে লাথি মেরে পরে একই জায়গায় গিয়ে বসছে দেখে সুলতান অবাক হলেন। হাতিকে লাথি মারার কারণটি সুলতান খুঁজে পেলেন না। মন্ত্রীর কাছে তিনি এর তাৎপর্য জানতে চাইলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন ব্যাঙটির কাছে গিয়ে দেখলেন যে একটা রৌপ্য মুদ্রার ওপর শুয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী সুলতানকে এসে বললেন ব্যাঙটির আসলে কোন দোষ নেই। সে ঐশ্বর্যশালী। এই ঐশ্বর্য হারানোর আশঙ্কায় সে তার এলাকায় আসা হাতিকে শত্রæ মনে করছে এবং তাকে লাথি মারছে। রুপোর একটি টাকা যদি একটি ব্যাঙকে এমন উদ্ধত ও দুর্বিনীত করতে পারে তাহলে মানুষের আচরণে অহঙ্কার না আসার কারণ নেই। মহান আল্লাহ আমাদেরকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ অর্জন করতেও নিরুৎসাহিত করেছেন।

তিনজন অনুচরসহ হযরত ঈসা (আ) এর সফরে যাওয়ার এবং স্বর্ণমুদ্রা পাওয়ার এবং তার প্রতি তিনজন অনুচরের সীমাহীন লোভ পরিণামে তিনজনেরই মৃত্যুর ঘটনা সবাই জানে। একজনকে খাবার কিনতে পাঠানো হলে সে কেনা খাবারে বিষ মিশিয়ে অন্য দু’জনকে হত্যা করে নিজে যে সম্পদের একা মালিক হতে চেয়েছিল। অন্য দু’জন আধা-আধি নেয়ার পরিকল্পনা করে খাবার নিয়ে আসা লোকটিকে হঠাৎ আক্রমণে মেরে ফেলেছিল। পরে বিষ মেশানো খাবার খেয়ে দু’জন মারা যায়। পারস্যের সাম্রায্যের ধনভাণ্ডার মদিনায় আনা হলে তা দেখে কেঁদেছিলেন হযরত ওমর (রা)। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা) কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেছিলেন, এই ধন-সম্পদ ধ্বংস করেছে তার আগের মালিকদের। আমার ভয় হচ্ছে আমরাও এগুলোর প্রেমে জড়িয়ে পড়বো এবং পরিণামে শেষ হয়ে যাবো।

মালিক শ্রমিকবিরোধ চিরন্তন একটি সমস্যা। মালিকরা শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে অধিক কাজ করিয়ে নিতে চায়। অধিক উৎপাদন মানে অধিক মুনাফা অধিক অর্থ-সম্পদ। কিন্তু একজন পরিশ্রম করে অথচ ন্যায্য মজুরি পাবে না অন্যজন তাকে বঞ্চিত করে শ্রমের ফল ভোগ করবে এরকম সামাজিক ব্যবস্থা জুলুম। যারা এরকম জীবনব্যবস্থা সমর্থন করে বা কায়েম করতে চায় সেসব জালিমের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা এবং জেহাদ করা ঈমানদার ব্যক্তির কর্তব্য। যারা অন্যের শ্রমের ফল অনধিকারভাবে অন্যায়ভাবে ভোগ করে তারা জালিম। আল্লাহ জীবিকার উপাদান বিশ্বে ছড়িয়ে রেখে দিয়েছেন। বান্দা পরিশ্রম করে মহান রাজ্জাকের নিকট হতে রিজিক গ্রহণ করবে এটাই আল্লাহর বিধান। যে অন্যের শ্রমের ফলভোগ করে তার রিযিকদাতা হয়ে দাঁড়ালো ঐ ব্যক্তিকে জালিম রিযিকদাতা বানিয়ে দেয়, এটা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

ইসলামী সমাজে সকল ব্যক্তিই শ্রমিক। হযরত আদম (আ) থেকে হযরত মোহাম্মদ (সা) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূলই ছিলেন শ্রমিক। অধিকাংশ নবী মেষপালকের কাজ করেছেন। আমাদের নবীও মেষ চরাতেন। বিবি খাদিজার ব্যবসায় দায়িত্ব নিয়ে তিনি একাধিক দেশে গেছেন। তিনি কূপ থেকে পানি তোলার পারিশ্রমিক হিসেবে এক বালতির হিসাবে একটি করে খেজুর পারিশ্রমিক পেতেন। তিনি অন্যের ক্ষেতে পানি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শ্রমিকের মজুরি তার গায়ের ঘাম শুকানোর আগে দিয়ে দাও।
ইসলামী সমাজে শ্রমিকদের পানাহার এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা মালিকের মতো হতে হবে। গোলামের বা দাসের জীবনযাত্রায় মান সম্পর্কে ইসলামের বিধান সুস্পষ্ট। মালিক যে রকম খাবার খাবে যে রকম পোশাক পরিধান করবে যে রকম বিছানায় ঘুমাবে গোলামকেও তাই দিতে হবে। বিদায় হজের ভাষণে রাসূল (সা) দাস-দাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে মহান আল্লাহর নিকট কৈফিয়ত দিতে হবে। জবাবদিহি করতে হবে।

ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান হযরত ওমর (রা) তালি দেয়া জামা পরিধান করতেন। বর্তমানে তালি দেয়া জামা গায়ে কোন সরকারি কর্মচারী তো দূরের কথা কোন ভিক্ষুকেরও দেখা যায় না। যে সময় খলিফার চেয়ে কম বেতনের কোন কর্মচারী ছিল না। খলিফা রাষ্ট্রের দরিদ্রতম ব্যক্তির চেয়ে উচ্চতর জীবন যাপন করতেন না। কারণ ইসলামী রাষ্ট্রে জনগণ হলো রাষ্ট্রের মালিক খলিফা তাদের ভৃত্য। ভৃত্যের জীবনযাত্রার মান মালিকের চেয়ে উন্নত হতে পারে না। হযরত আবু বকর (রা) কে পুরাতন কাপড় পরিয়ে কাফন দেয়া হয়েছিল। হযরত ওসমান (রা) পিপাসার্ত অবস্থায় শাহাদাতবরণ করেন। কারণ তাঁর বাড়িতে পানীয় জলের কোন কূপ ছিল না। বিদ্রোহীরা তাকে অবরোধ করে রেখে বাইরে থেকে পানি আনা বন্ধ করে দিয়েছিল। রাসূল (সা) প্রবর্তিত অর্থব্যবস্থার মূল দর্শন হচ্ছে সমাজে ও রাষ্ট্রে সুষম ভারসাম্যপূর্ণ কার্যকর অর্থব্যবস্থার প্রবর্তন। রাসূল (সা) বলেছেন, যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ সম্পদ রয়েছে তার উচিত অভাবগ্রস্তকে তা দিয়ে দেয়া। যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য ও পানীয় রয়েছে সে যার কাছে ওইগুলো নেই তাকে দিয়ে দেবে। আবু সাঈদ খুদরি (রা) বলেন, রাসূল (সা) এভাবে বিভিন্ন সম্পদের কথা উল্লেখ করে বলতে থাকলেন। তখন আমাদের নিকট প্রতিভাত হলো আমাদের কারোরই প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদের ওপর কোন অধিকার নেই। রাসূল (সা) বলেছেন, দৈহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে যা উপার্জিত হয় তাই হচ্ছে উত্তম জীবিকা। শ্রমিকের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ তার ওপর চাপিয়ে দিতে রাসূল (সা) নিষেধ করেছেন।

ইসলামী সমাজে স্বাভাবিক গতিতে জীবনের সকল কাজ সম্পন্ন হবে। মানুষ সুখে-শান্তিতে দুনিয়ার জীবন অতিবাহিত করবে এবং সৎ জীবন যাপন করার কারণে আখেরাতেও মুক্তির আশা করতে পারবে। মানুষের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন সকলের প্রায় এক। তাই মৌলিক প্রয়োজন মেটাবার জন্য ভোগের স্তরের পরিমাণও ছিল একই রকম। মালিককে শুধু যে শ্রমিকের সুখ-সুবিধা, আহার-বিনোদনের চাহিদার প্রতিই লক্ষ্য রাখতে হয় তা নয় বরং প্রতিবেশীর প্রয়োজনের প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হয়। প্রতিবেশী অভুক্ত জেনে যদি কেউ দু’বেলা পেট ভরে খায় তবে সে মোমেন থাকে না।

যে কোন কাজ করাকেই শ্রম বলা হয়। শ্রমিককে ইংরেজিতে খধনড়ঁৎ বলা হয়, আর আরবিতে বলা হয় আমেল। সাধারণ অর্থে যারা পরিশ্রম করে তাদেরকেই শ্রমিক বলা হয়। প্রচলিত অর্থে সমাজে বা রাষ্ট্রে যারা অন্যের অধীনে অর্থের বিনিময়ে পরিশ্রম করে তাদেরকে শ্রমিক বলা হয়। আল্লাহ পাক রাববুল আলামিন প্রত্যেক মানুষকে তার গোলামি করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর আল্লাহর বিধান মতো কাজ করার নামই আমল। এক অর্থে প্রতিটি মুসলমান শ্রমিক হিসাবে শ্রম দিয়ে থাকেন। একজন প্রেসিডেন্টও শ্রম দিয়ে থাকেন, আবার একজন দিনমজুরও শ্রম দিয়ে থাকেন- এ অর্থে সবাই শ্রমিক।

কুরআন হাদিসের আলোকে শ্রমিকের অধিকার : ১. মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। সুতরাং তোমরা তোমাদের মধ্যে সদ্ভাব স্থাপন করে দেবে। আল-হুজুরাত। ২. তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই, আল্লাহ যে ভাইকে তোমার অধীন করে দিয়েছেন তাকে তাই খেতে দাও যা তুমি নিজে খাও, তাকে তাই পরিধান করতে দাও যা তুমি নিজে পরিধান কর। বুখারী আবু হুরায়রা (রা) ৩. ক্ষমতার বলে অধীনস্থ চাকর-বাকর-দাসীর প্রতি খারাপ আচরণকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আপনি কি বলেননি অন্যান্য জাতির তুলনায় এ জাতির মধ্যে ইয়াতিম ও গোলামের সংখ্যা বেশি হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতএব তোমরা তাদেরকে সন্তানের মত আদর যতœ করবে এবং তোমরা যাই খাবে তাদেরকে তাই খাওয়াবে। হযরত আবু বকর (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, অধীনস্থদের সাথে ক্ষমতার অপব্যবহারকারী জানাতে প্রবেশ করতে পারবে না।-ইবনে মাযাহ্। ৪. আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, কেউ তার অধীনস্থকে অন্যায়ভাবে এক দোররা মারলেও কিয়ামতের বিচারের দিনে তার থেকে এ বদলা নেয়া হবে।-তাবরানী। ৫. হযরত ওমর (রা) বলেন, যৌবনকালে যে ব্যক্তি শ্রম দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের খেদমত করেছেন বৃদ্ধকালে সরকার তার হাতে ভিক্ষার ঝুলি দিতে পারে না -ইবনে মাযাহ্। ৬. দাস-দাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার সৌভাগ্য, আর তাদের সাথে দুর্ব্যবহার দুর্ভাগ্য। ৭. মজুরকে তার কাজ হতে অংশ দান কর, কারণ আল্লাহর মজুরকে বঞ্চিত করা যায় না।-মুসনাদে আহমাদ। ৮. তোমাদের খাদেম যদি তোমার খাদ্য প্রস্তুত করে এবং তা নিয়ে যদি তোমার কাছে আসে যা রান্না করার সময় আগুনের তাপ ও ধোঁয়া তাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে তখন তাকে খাওয়াবে। খানা যদি অল্প হয় তবে তার হাতে এক মুঠো, দু’ মুঠো অবশ্যই তুলে দেবে।-মুসলিম। ৯. উমর ইবনে হুরাইস (রা) হতে বর্ণিত নবী করিম (সা) বলেছেন, তোমরা তোমাদের কর্মচারীদের থেকে যতটা হাল্কা কাজ নেবে। তোমাদের আমলনামায় ততটা পুরস্কার ও পুণ্য লেখা হবে। ১০. হযরত যুবাইর (রা) বলেছেন, নবী করিম (সা) চাকরের সাথে একত্রে বসে খেতে বলেছেন। ১১. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বলেছেন, এক ব্যক্তি নবী করিম (সা) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহর রাসূল (সা) চাকর-বাকরকে কতবার ক্ষমা করব? তিনি চুপ রইলেন। সে পুনরায় তাঁকে প্রশ্ন করলে এবারও তিনি চুপ রইলেন। সে পুনরায় তাঁকে প্রশ্ন করলে এবারও তিনি চুপ রইলেন। চতুর্থবার বলার পর তিনি বললেন দৈনিক সত্তর বার ক্ষমা করবে।-আবুদাউদ। ১২. আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী করিম (সা) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন আমার দাস, আমার দাসী না বলে কেননা আমরা সকলে আল্লাহর দাস-দাসী।

১৩. রাসূল (সা) বলেছেন তোমাদের কেউ তার পিঠে বহন করে কাঠের বোঝা এনে বিক্রি করা, কারো নিকট ভিক্ষা চাওয়ার চেয়ে উত্তম, চাই সে দিক বা না দিক। বুখারী মুসলিম-আবু হুরায়রা। ১৪. যে ব্যক্তি মানুষের কাছে চায়, অথচ তার নিকট বেঁচে থাকার সম্বল আছে, নিশ্চয় সে অধিক জাহান্নামের আগুন সংগ্রহ করছে।-আবু দাউদ। ১৫. দেহের যে অংশ হারাম খাদ্য দ্বারা গঠিত তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম খাদ্যের গঠিত শরীরের জন্য জাহান্নামের আগুনই উপযুক্ত-আহমাদ-বায়হাকি-জাবের (রা) নবী রাসূলগণও শ্রমিক হিসাবে কাজ করেছেন। তারা বিভিন্ন পেশায় শ্রম দান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের কাছে শ্রমের মর্যাদা ছিল অনেক উচ্চে। নিজ হাতে কাজ করে শ্রমিক দিয়ে খাবার খাওয়ার মত উত্তম খানা আর হতে পারে না।
১. হযরত আদম আলাইহিস সালাম কৃষক ছিলেন। ২. হযরত নূহ আলাইহিস সালাম ছুতার (কাঠমিস্ত্রি) ছিলেন। ৩. হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম কর্মকার ছিলেন। ৪. হযরত ইদ্রিস আলাইহিস সালাম দর্জি ছিলেন। ৫. হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ছুতার (কাঠমিস্ত্রি) ছিলেন। ৬. হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম রাজমিস্ত্রি ছিলেন। ৭. হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম রাজমিস্ত্রি সহকারী (যোগাড়ি) ছিলেন। ৮. হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ছাগলের রাখাল ছিলেন। ৯. আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা) ছাগল চরিয়েছেন।

হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছি যে, গোলামের সাথে ভালো আচরণ করবে এবং তাদের কোন প্রকার কষ্ট দেবে না। তোমরা কি জান না যে, তাদেরও একটি অন্তর আছে, যা কষ্ট পেলে ব্যথা পায় এবং আরাম পেলে আনন্দিত হয়। তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা তাদেরকে হীন মনে কর এবং তাদের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কর না। এটা কি জাহেলিয়াতের যুগের মানসিকতা নয়? অবশ্য এটাই জুলুম এবং বেইনসাফী। আমি জানি, জাহেলিয়াতের যুগে তাদের কোনো মর্যাদা ছিল না, গোলামদেরকে পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট মনে করা হতো, আল্লাহর সকল বান্দা যে এক, তারা ভুলে গিয়েছিল। সে সমাজের রাষ্ট্রপতি, সমাজপতি ও দলপতিরা সকল মান সম্মান ও মর্যাদা একক অধিকারী হয়ে বসেছিল। অথচ অধীনস্থরা ইনসাফের দাবি করার অধিকার রাখে। আমার সেই যুগের কথা মনে আছে, যখন রাষ্ট্রপতি, সমাজপতি ও দলপতিরা নিজেদেরকে মর্যাদা সম্পন্ন ও সম্মানিত মনে করত এবং নিজেদেরকে নির্লোভ ও নির্দোষ বলে প্রচার করতো। তাদের নিকট অধীনস্থ খাদেমদের জীবনের উদ্দেশ্য ছিল- তারা তাদের মালিকদের খেদমত করবে, তাদের জুলুম নির্যাতন সহ্য করে থাকবে, তাদের সামনে বসাও ছিল অন্যায়, তাদের সামনে কথা বলা ছিল মহাপাপ এবং তাদের কোন অপকর্মের প্রতিবাদ করা ছিল মৃত্যুদন্ড তুল্য। কিন্তু ইসলাম এসে তাদের এসব অমানবিক আচরণ ও সকল গর্ব, অহঙ্কার পদদলিত করে দিল।
হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর ফরমান জানিয়ে দিচ্ছি যে, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তোমাদের মধ্যে মুত্তাকি। তোমরা জান, মানবজাতি আদমের সন্তান এবং আদম হচ্ছে মাটির তৈরি। অতএব অহঙ্কার করার কী কারণ থাকতে পারে? স্মরণ রাখ ইসলামের দৃষ্টিতে সকল মানুষের মর্যাদা সমান। ইসলামী আদর্শের কাছে মনিব- গোলাম, বড়-ছোট, আমীর-গরিব সবাই সমান। মানুষের মধ্যে শুধু তাকওয়া এবং সৎ কাজের মাধ্যমে পার্থক্য হতে পারে। এটাই যখন প্রকৃত ব্যাপার, তবে তোমরা কেন তোমাদের অধীনস্থদের হীন মনে কর, আমি লক্ষ্য করছি যে, যখন কোন চেহারাকে রক্তিম করে নিজেকে পেশ করে এবং খাদেমের পক্ষ থেকে সামান্যতম ভুলও বরদাস্ত করে না, ইহা জাহেলিয়াতের আচরণ ছাড়া আর কিছু হতে পারে? মালিকের চেয়ে গোলাম অনেক ভালো এবং মহান আল্লাহর কাছে তার আমল পছন্দনীয়।

পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন সভা-সেমিনারের। অতিব শ্রমিকভক্ত কোনো মালিক হয়তো শ্রমিকদের মাঝে ফ্রি খাবার বিতরন করছেন এই দিন উপলক্ষ্য। হুংকার-শ্লোগান দিয়ে হয়তো কোনো দায়িত্বশীর ব্যক্তিত্ব বলছেন, এগিয়ে চলো শ্রমিক ভাইয়েরা আমরা আছি তোমাদের সাথে। কিন্তু বাস্তবে কাজই হচ্ছে না কোনো। যিনি শ্রমিক খেটেই মরছেন তিনি। আর যিনি মালিক অত্যাচার আর অবহলোর পাহাড় গড়েই চলছেন তিনি। যে গার্মেন্টস শ্রমিক কোটি কোটি মানুষের বস্ত্র তৈরী করে উন্নত বিশ্বে প্রেরণ করছে, তার স্ত্রী ও সন্তানের দেহে বস্ত্র নেই। যে শ্রমিক বহুজাতিক কোম্পানীতে কোটি কোটি মানুষের জন্য ওষুধ তৈরী করছে সেই মৃত্যুর সময় মুখে দেয়ার মতো ওষুধ পায় না, খাদ্যের অভাবে বিরাট বিরাট অট্টালিকায় শ্রমিকের হাড় ও মাংস একাকার হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সভ্যতার চরম উন্নতির এ যুগে সর্বত্রই মেহনতী মানুষ লাঞ্চিত, বঞ্চিত, শোষিত এবং অবহেলিত। তাহলে সমাধান কোথায়? কোথায় এই অবহেলা-অত্যাচর আর বঞ্চনা-শোষণের শেষ সীমানা? সমাধান দিয়েছে ইসলাম। প্রকৃত অর্থে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নীতিমালা বাতিয়েছেন রাসুল [সা.]। সুন্দর এ পৃথিবীর রূপ-লাবণ্যতায় শ্রমিকদের কৃতিত্বই অগ্রগণ্য। কিন্তু শত আক্ষেপ! সভ্যতার কারিগর এ শ্রেণীটি সর্বদাই উপেক্ষিত, অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত। উদয়াস্ত উষ্ণ ঘামের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নিয়ে খেটে যে শ্রমিক তার মালিকের অর্থযন্ত্রটি সচল রাখে, সেই মালিকেরই অবিচারে শ্রমিকদের অচল জীবনটি আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এটাকে সেই মৌমাছির সাথে তুলনা করা যায়, যারা দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে চাকে সঞ্চয় করে, কিন্তু তার ভাগ্যে একফোঁটা মধুও জোটে না। পুঁজিবাদের সমর্থক ম্যানডেভিল তার বই ‘ফিবল অব দি বিজ’ গ্রন্থে লিখেছেন-“ গরীব ও অসহায় লোকদের থেকে কাজ নেয়ার একমাত্র উপায় হল তাদেরকে গরীব থাকতে দাও এবং সবসময় তাদেরকে পরনির্ভরশীল করে রাখ। এদের যা প্রয়োজন তা কিঞ্চিত পূরণ কর। খেটে খাওয়া (শ্রমজীবী) মানুষকে স্বাবলম্বী করা আত্মঘাতী পদক্ষেপ বৈ কিছুই নয়।” এজন্য সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদী বিশ্ব চায় না আমাদের মতো দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাবলম্বী হোক। সুতরাং সমাজতন্ত্র ও পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় মালিক-শ্রমিকের বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা ও শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। আর এজন্য সর্বাগ্রে উচিত ইসলাম প্রদর্শিত মালিক-শ্রমিক নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন।

পাতাটি ১৬৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


পথ চলার বিশ্বস্ত বন্ধু টয়োটা

এইচ এম দুলাল:: পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং সৃজনশীলতা এই তিনকে একবিন্দুতে মিলিত করতে পারলে যে কোনো…


শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ রঙ্গে ভরা বৈশাখ আবার আইলো রে

এইচ এম দুলাল:: “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে বৎসরের…


জীবনের পরিবর্তনে চাই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি

এইচ এম দুলাল:: তরুণ প্রজন্মের বড় একটা অংশকে আমারা হতাশায় ভুগতে দেখি । তারা অনেক…


মে দিবসের চেতনা ও শ্রমিকের অধিকার জাগ্রত হোক মানবতা

এইচ এম দুলাল:: উত্তর থেকে দক্ষিণ ও পশ্চিম থেকে পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আজ প্রযুক্তির…

মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের যে ভাবে নির্যাতন করে মারা হয় তা যে কোন সমান্য বিবেকবান মানুষও তা সহ্য করতে কষ্ট হবে। এ সব নারী ও শিশুদের অপরাধ তারা মুসলিম। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় সারিবদ্ধ ভাবে শিশুদের হাত বিছিয়ে তার উপর মটর সাইকেল চালিয়ে তাদের দু’হাত ভেঙ্গে দিচ্ছে আর বর্বর বৌদ্ধরা তা উপভোগ করছে। আরেকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে নির্যাতনে মৃত শিশুরা পানিতে ভাসছে। নারী নির্যাতনে যে মাত্রা তা কোন সভ্য মানুষ কল্পনাও করতে পারবেনা। এমন অনেক জনপদ পুরুষ শুন্য। প্রতিদিন শত শত লোক কে হত্যা করা হচ্ছে, যা বিশ্ব বিবেক দেখেও না দেখার ভান করছে। হায়রে মানবতা ! রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী। জাতিসঙ্ঘের ঘোষণা অনুযায়ী পৃথিবীতে সবচে নির্যাতিত সংখ্যালঘু জাতির নাম রোহিঙ্গা মুসলিম। কুকুর না খেয়ে মারা গেলে যে সভ্য দুনিয়ায় চোখের পানির স্রোত বয়ে যায়, বন্য প্রাণী বাঁচাতে যেখানে কোটি কোটি ডলারের ফান্ড অনায়াসে সংগৃহীত হয়, মায়ানমারে মাসের পর মাস নির্বিচারে নিরপরাধ নারী-শিশু-বৃদ্ধকে হত্যা করার পরও সেখানে কোনো সাড়া পড়ে না। এই বিশ্বে বাঘ সংরক্ষণের আহ্বানে পত্রিকার শিরোনাম করা হয়, সম্মেলন হয় কিন্তু সারাবিশ্বে ৫৭টি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ থাকা সত্ত্বেও মুসলিমদের গণহত্যা থেকে রক্ষা করতে কোনো সম্মেলন হয় না।

দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের শত শত মুসলিম রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছেন আর সীমান্তে এসে তারা পুশব্যাকের ফলে আবার ফিরে যাচ্ছেন স্বদেশে অথবা ভাসছেন সমুদ্রে। বেদনার আরেকটি দিক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে এই নিষ্ঠুরতা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইনে নতুন করে শুরু হয়েছে সামরিক অভিযান। খবর অনুযায়ী এতে প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক রোহিঙ্গা আর এই সম্প্রদায়ভুক্তরা প্রাণ বাঁচানোর লক্ষ্যে দলে দলে ছুটছেন বাংলাদেশ অভিমুখে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশব্যাক করা ছাড়া উপায় কী! ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা যথেষ্ট সমস্যা সৃষ্টি করেছেন এ দেশের জন্য। বর্তমানে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ। এএফপির খবর অনুযায়ী সাম্প্রতিক ঘটনায় ১৫ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাড়িছাড়া হয়েছে। শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা এবং ১৫ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া কম কথা নয়। এতেও যদি বিশ্ববিবেকে দংশন না হয়, তাহলে আর কবে হবে? মানবিক বিপর্যয় আর কাকে বলে আমরা জানি না। মিয়ানমারের জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সূচি। দেশটির গণতন্ত্র উদ্ধারে সাহসী অবদান এবং শান্তি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পান এই নেত্রী। সম্প্রতি তার দেশ মায়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানে বাস্তুহারা অসংখ্য রোহিঙ্গা মুসলমান এবং রোহিঙ্গা নারীরা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের ঘরবাড়ি। মিয়ানমারের আকাশে-বাতাসে লাশের গন্ধ।শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সূচি কি শান্তির বদলে এভিাবেই অশান্তির দাবানলের পাশে মূর্তি হবেন? নোবেল বিজয়ী সূচিসহ বিশ্ব মোড়লদের হস্তক্ষেপই বন্ধ হতে পারে এই গণহত্যা!
পাতাটি ৯০৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত ১২টা ০১মিনিটের সাথে সাথে স্মৃতি হয়ে গেল ইংরেজি ২০১৬ সাল। নতুন সূর্যদ্বয়ের সাথে সাথে নতুন বছর ২০১৭ সালের নতুন দিনের শুরু। গত বছরের ঘটনা গুলো সময়ের ছায়া পথে হারিয়ে যাবে অতিতের গর্ভে। এর মাঝেই অতীত ফিরবে স্মৃতি হয়ে । এসেছে নুতন বছর । নতুনকে স্বাগত জানাতে মানুষের উদ্দীপনা সবসময়। নতুনের মধ্যে নিহিত সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয় নিকট অতীত অথবা সুদূর অতীত থেকে নেয়া শিক্ষা থেকে। তাই নতুন সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ন করার সুযোগ করে দিতে এল নতুন বছর। সময় কারো জন্য থেমে থাকেনা। চলতে থাকে আপন গতিতে। এভাবেই চলে যায় দিন, মাস, বছর। পুরনো দিনের গ্লানি ভুলে নতুন বছরে নতুন করে বিশ্বকে দেখার, দেখানোর তাগিদ নিয়ে নতুন সূর্যকে আপন করে নিবে বিশ্ব। নতুন মানেই চির তরুন, নতুন মানেই এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। আর তাই নতুন বছর মানেই ছোট বড় সবার কাছে নতুন দিনের প্রেরণা, নতুন ভাবে জেগে ওঠার তাগিদ, অনিষ্টের বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াই করার স্বপ্ন। বাংলাদেশে ইংরেজি নতুন বছর মানেই শীতের কুয়াশাভেদ করে আসা নতুন সূর্যকে বরণ করে নেওয়া। উঠোনে বসে নতুন আসা নরম রোদকে সঙ্গী করে পিঠা উৎসবে মেতে উঠা। বাংলাদেশে ইংরেজি নতুন বছর মানেই ঘর ভর্তি নতুন বইয়ের গন্ধ। নতুন ক্লাসে ওঠার আনন্দ। নতুন বইয়ের মলাট বাঁধার আনন্দ। আর নতুন করে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখা, এবার ভালো করবই।

নতুন বছরের শুভাগমনে আমাদের দেশের আগের বছরের জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে যাক। এইটাই হোক প্রত্যাশা। গত বছর আমাদের যেমন ছিল সফলতা, তেমনি ছিল হয়তো কিছু ব্যর্থতাও। সব ব্যর্থতা কাটিয়ে এই নতুন বছরটি যেন রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল- অবরোধ, হানাহানি আর নৈরাজ্যের মধ্যে না কাটে। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। ২০১৭ সালটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কল্যাণকর হোক। সবাইকে নব উদ্দোমে এগিয়ে যাবার প্রেরনা যোগাবে নববর্ষ। নতুন বছরে আমাদের সবার প্রত্যাশা ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত, অসামপ্রদায়িক একটি সোনার বাংলাদেশের। সবাইকে জানাই ইংরেজি নতুন বছরের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। শুভ হোক ইংরেজি নববর্ষ। আমাদের সকলের জীবন থেকেই চলে গেল ২০১৬ সাল। এলো নতুন বছর। স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭। দশদিকের সকল পাঠক, বিজ্ঞাপন দাতা, শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ইংরেজি নববর্ষের প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
পাতাটি ৫৭১ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি..
ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত পাতা- আজও শোষিত লাঞ্চিত বাঙালি হৃদয়ের নিভৃতে কী এক অব্যক্ত অনুভব অনুভূতি ভিড় করে। কৃষ্ণচূড়া, শিমূল , পলাশের লালিমায় কিংবা ন্যায় সত্য সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় যখন খুন ঝরে, বাঙালি চেতনায় একুশ জাগ্রত হয় তখনই। শোক শক্তি আর গর্বের মাস, মহান ভাষার অধিকার আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারি। এ মাসটির সাথে মিশে গেছে বাঙালির কৃষ্টি সংস্কৃতি ঐতিহ্য আর বীরত্ব গাঁথা। এ মাসেই দেখা মিলবে একুশে ফেব্রুয়ারি রাত্রির বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনা এক আলো ঝলমল সকালের। যার স্পর্শে বাঙ্গালীর চেতনা শানিত ও বিকশিত হয়ে জাতি আজ স্বাধীকারের স্বাদ লাভ করেছে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মায়ের মুখের ভাষার জন্য এ দেশের দামাল ছেলেরা বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির উপর চাপিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে সেদিন এদেশের দামাল ছেলেরা ঢাকার রাজপথে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করেছিলেন নিজের জীবন দিয়ে মাতৃভাষা বাংলার সম্মান রক্ষা করে। তাই সেদিন রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার্থে জীবন উৎসর্গ করা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার কোন দলের লোক ছিলেন – সেটা এদেশের গণমানুষ বিবেচনা করেনি। গণমানুষের মনে এঁরা দেশপ্রেমিক সূর্যসন্তান। সেদিনের সেই আত্মদানই পরবর্তীকালে রূপ নিয়েছিল বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে। পাকিস্তানি শাসক এবং তাদের দোসরদের সব চক্রান্ত, সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাঙালি জাতি এগিয়ে গেল তার অভীষ্ট লক্ষ্যে। একুশে ফেব্রুয়ারি এক দিনে আসেনি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি এই গৌরবের মাস। ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা ফিরে তাকাই আমাদের শিকড়ের দিকে। আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস-ঐতিহ্য নতুন করে আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগায়। সঙ্গত কারণেই ভাষার মাস নিয়ে আমাদের মধ্যে একটি অন্য রকম আবেগ কাজ করে। সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ থাকে মাসজুড়েই। শহীদের স্মরণে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশের গ্রন্থমেলা।

মাসটিকে ঘিরে দেশে ও প্রবাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পালন করবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম হলো স্বাধীন বাংলাদেশের। তাই এই ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে আমাদের এত অহংকার, এত গর্ব। মাতৃভাষার জন্য বুকের রক্ত দেয়ার এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আর সেই বিরল আত্মদানের স্বীকৃতিও মিলেছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে আজ একুশে ফেব্রুয়ারিকে পালন করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে সেই অমর শহীদদের, যারা ভাষার জন্য তাদের জীবন দিয়ে গেছেন। সত্যি আজও ভাই হারানোর কষ্ট বাঙালি ভুলতে পারেনি।
পাতাটি ৬২২ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…

জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা



সানাউল হক
সম্পাদক,দশদিক

উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। স্থায়ী বসবাসের আবেদনগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি পয়েন্ট পদ্ধতির আশ্রয় নেয় এই মন্ত্রণালয়। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জাপান। কারণ জাপানিরা যেমন ভদ্র জাতি তেমনি কর্তব্যপরায়ণও। সেই জানানে মাত্র এক বছরেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাবেন! কীভাবে? দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া জাপানকে পৃথিবীর এক নম্বর সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে চেনেন অনেকেই। প্রযুক্তিতেও জাপানিদের জুড়ি নেই। জাপানকে অনুসরণ করেই আজ চীন প্রযুক্তিতে উন্নত। স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বা পড়াশুনার জন্য তাই অনেকেই জাপানকে বেঁছে নেন। তবে বিদেশী দক্ষ পেশাজীবীদের জাপানে বসবাস উৎসাহিত করতে অভিবাসনের পূর্বের নিয়ম সংস্কার করে পরিবর্তন এনেছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম হলো, পর্যাপ্ত পয়েন্ট অর্জন করতে পারলে যে কেও মাত্র এক বছরেই দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ পাবেন। এ বছরের মার্চ হতে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে বলে সম্প্রতি জাপানের অভিবাসন ব্যুরো জানিয়েছে। ইতিপূর্বে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে দেশটিতে ন্যূনতম ১০ বছর থাকতে হতো। মূলত ২০১২ সালে জাপান সরকার ওই নিয়মটি বদলে ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ চালু করেছে। তখন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম থাকার সময় কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। সম্প্রতি দেশটির বিচার বিভাগ তিন বছর পূর্বের ওই নিয়মটি সংস্কারের ঘোষণা দেয়। এতে ডক্টরেট পাওয়া বিদেশীদের জন্য ৩০ ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের জন্য ২০ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষক, গবেষক বা অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে পেশাজীবীরা জাপানে ৩ থেকে ৭ বছর কাজ করলে ৫ হতে ১৫ পয়েন্ট অর্জন করবেন। শুধু তাই নয়, অন্তত ৪টি বিশেষ ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনকারী বিদেশীরা পাবেন ২০ বোনাস পয়েন্ট। সেইসঙ্গে জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকলে পাওয়া যাবে আরও ১৫ পয়েন্ট। সবগুলো পয়েন্ট যোগ করে ৭০ পয়েন্ট হলে ৩ বছর জাপানে বসবাস করছেন এমন বিদেশীরা স্থায়ী হওয়ার আবেদন করতে পারবেন। ৮০ পয়েন্টধারীদের ক্ষেত্রে এই সুযোগ পাবেন এক বছরেই। বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে পেশাগত অর্জন এবং বার্ষিক বেতনের পরিমাণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক্ষেত্রে, অন্তত ৭০ পয়েন্ট পেতে হবে এবং আবেদনকারীকে অবশ্যই জাপানে পাঁচ বছর ধরে বসবাস করতে হবে। মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাগণ বাধ্যতামূলক বসবাসের এই সীমাটিকে তিন বছরে নামিয়ে আনতে চান। আর যে আবেদনকারীর ৮০ বা তার বেশি পয়েন্ট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও এক বছর কমে যাবে। অন্যদিকে, শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারীরা বেশি পয়েন্ট পাবেন। এছাড়া, আই.টি. কিংবা অন্যান্য বর্ধনশীল ক্ষেত্রের সর্বাধুনিক প্রকল্পে যুক্ত ব্যক্তিরাও বেশি পয়েন্ট পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।প্রায় মাসখানেক নতুন এই প্রস্তাবের ওপর নাগরিক মতামত নেয়ার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। দ্রুত হলে আগামী মার্চ মাসের শেষে এই পদ্ধতি চালু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, জাপানে ১০ হাজারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন যাদের মধ্যে দীর্ঘদিন বসবাস করে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন অনেকেই। এই নীতি বাংলাদেশীদের জন্যও সুযোগ বয়ে আনবে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

পাতাটি ৫৯৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা: নীরব বিশ্ববিবেক

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক একটি সভ্য যুগে বাস করেও আমরা কতটা নিষ্ঠুরতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি! রোহিঙ্গা শিশুদের…


স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০১৭

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক বিদায় ২০১৬, স্বাগত ২০১৭ সাল। বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েগেল পুরাতন বছরের রাত…


শোক শক্তি আর গর্বের প্রিয় ফেব্রুয়ারি

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি.. ফেব্রুয়ারির গৌরবদীপ্ত…


জাপানে স্থায়ী বসবাসের শর্তাবলী শিথিলের পরিকল্পনা

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাজীবীদের জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী…


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা..। শুরু হল…


স্বাগত মাহে রমজান

সানাউল হক সম্পাদক,দশদিক খোশ আমদেদ মাহে রমজান। সত্য-অসত্য, পাপ-পূণ্য এবং ভালো-মন্দের যথার্থ উপলব্ধির মাধ্যমে মানব…