রবীর উপর বাউলের প্রভাব



রবীর উপর বাউলের প্রভাব

কবীর হুমায়ুন

বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একজন মানুষের জীবন ও কর্ম-পরিধির আলোকে বাঙালী সংস্কৃতির সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত। তাঁর ভেতর সর্বাধিক পরিমানে প্রকাশ ঘটেছে বাঙালীর সৌন্দর্যবোধ ও মননশীলতার উপাদানসমূহ। রবীন্দ্রনাথ নিজেই রবির ন্যায় উজ্জ্বলতম। তাঁকে বাংলা ভাষা-ভাষীদের মাঝে পরিচয় করে দেয়ার প্রচেষ্টা মূর্খতা বা দৃষ্টতার সামীল। তবুও তাঁর পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে সবকিছু ছাপিয়ে একটি বিশেষভাবে উল্লেখ্য বিশেষণকেই আমরা বেশি ব্যবহার করি ‘কবিগুরুর’। কবিগুরুও জন্ম ১৮৬১ খ্রীষ্টাব্দে আর মৃত্যু ১৯৪১ এ। এই প্রায় আশি বছরের জীবনের সময়কালে বাংলাদেশ, বাঙ্গালী সমাজ, বাংলা সাহিত্য তাঁর অবদানে এতো ব্যাপকতম বিস্তৃত; তা পরিমাপের কোন মাপকাঠি অদ্যাবধি কোন বাঙ্গালী লেখক, সাহিত্যিক, কবি, সমালোচক, বা বাংলা সাহিত্যে বিজ্ঞজনেরা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হননি। বাংলা সহিত্যের এমন কোন ক্ষেত্র নেই-কবিতা, গল্প, উপন্যাস, গান ইত্যাদি যেখানে করিগুরু রবীন্দ্রনাথের সফল পদচারনা পরিলক্ষিত হয় না। গুনগত ও পরিমানগত উভয়দিকে তিনি অপ্রতিদ্বন্ধী ও অনতিক্রম্য। বাংলা সাহিত্যের সূচনা লগ্ন হতে আজ পর্যন্ত কেহই তাঁর কর্ম পরিধিকে স্পর্শ করতে পারেনি। রবীন্দ্রনাত্তের কবি সাহিত্যিকবৃন্দ কমবেশি সকলেই রবীন্দ্রনাথের আলোকচ্ছটায় প্রভাবিত। বাংলা সাহিত্যকে তিনি বিশ্ব সাহিত্যের মর্যাদা এনে দিয়েছেন।
বৈশ্বিক সমাজে বাংলা ভাষাকে স্বকীয় প্রভায় উচ্চাসনে আসীন করেছেন ‘গীতাঞ্জলি’ এর নোবেল প্রপ্তির মাধ্যমে। এর পূর্বে বাংলা ভাষার রচনা-সেই চর্যাপদ হতে রবীন্দ্র-পূর্ব সাহিত্য, বাংলা ভাষার চিন্তা-চেতনার প্রকাশ যতই বলিষ্ঠ ও সমৃদ্ধশালী হোক না কেনো, বিশ্ব সাহিত্যাঙ্গনে বাংলা ভাষা ও বাঙালীদের স্বকীয় মর্যাদায় পরিচিত পায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য কর্মে, চিন্তা-চেতনায়, নিজস্বতায় বৈশ্বিক পরিমন্ডলে অনন্য হয়ে। পরবর্তীতে বাংলা ও বাংলা সাহিত্য আরও বিশ্বজনীন হয়ে উঠে। বিশেষ করে যাকে মাতৃভাষা রূপে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রক্ত বিনিময় মূল্য দিতে কার্পণ্য করেননি এ ভাষাভাষীর যুবাপ্রাণ। তাই বর্তমানে বাংলা ভাষাকেই কেন্দ্র করে উদ্যাপিত হয় – ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি অনন্য রচনা। যার প্রকাশ রবীন্দ্রনাথকে এনে দিয়েছে ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সম্মান ও মর্যাদা। বাংলা সাহ্যিত্যকে এনে দিয়েছে বিশ্ব সমাজে আলাদা ভাবে পরিচিতি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যে একটি সম্বৃদ্ধি ও বলিষ্ঠ তা প্রতিভাত করে তুলেছে বিশ্ব সাহিত্য সংস্কৃতি পরিমন্ডলে। এই গীতাঞ্জলি কাব্যেও অন্তর্গত অধিকাংশ রচনাই গান। এই সকল গান বা গীতগুলোর সাথে অনেকটা সাযুস্য খুঁজে পাই বাংলার বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এর রচনার সাথে। খুব গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করলে মনে হয় গ্রাম্য শব্দ বিন্যাসের ভাবধারা ও চেতনাগুলো পরিশীলিত ভাষায় পরিমার্জিত রূপে প্রকাশিত হয়েছে গীতাঞ্জলিতে।
ফকির লালন শাহ স্বয়ং মহা ভাব সমুদ্র। তিনি মাতৃযোনি সম্ভূত সাধারণ মানব সন্তান হলেও একটি আদর্শিক ভাবধারা নিয়ে দার্শনিকতার জগতে আতœমুক্তির একটি পন্থায় জীবন পরিচালনার মহামন্ত্র প্রচার করে গিয়েছেন। তখনকার ধর্ম ভিত্তিক খন্ড-বিখন্ড সমাজ ব্যবস্থাকে ঐক্যসূত্রে বাঁধার পরিকল্পনার মহা প্রয়াস নিয়ে লালন শাহ সমাজে তৈরী করেছেন একটি ভাবদর্শন। যাকে লালন দর্শন বা বাউল-দর্শন অভিধায় আক্ষায়িত করা হয়ে থাকে। লালন শাহের বাণী বা কালামের (লালন শাহের গানের কলিকে লালন ভাবাদর্শে আদর্শিত বা লালন ভক্তগন ‘কালাম’ বলে অভিহিত করে থাকেন। তাই আমিও এ লেখার অনেক স্থানে সেইভাবে উল্লেখ করেছি।) লালন গীতির কোন লিখিত রূপ লালন সাঁইয়ের স্বহস্তে না থাকার কারণে তাঁর ভাব শিষ্যদের কন্ঠে বা খাতায় মূল ভাবাদর্শেও রূপখানি অনেকাংশে বিকৃত হয়ে গিয়েছে। এমনকি তাঁর দেহান্তরের পরে বহু সংগ্রাহক সংকলকগনও সংশোধনের নামে যথেচ্ছা বিকৃত ঘটিয়েছে। তথাপি লালন প্রেমিক বা লালান ভাবাদর্শে বিশ্বাসীগণ লালনের কালামকে অর্থাৎ লালন সঙ্গীতকে- তাঁর দর্শনকে বা লালনের স্বকীয় প্রভাময় ভাবাদর্শকে বাংলা সাহিত্য ভান্ডারে ধরে রাখার অনেক চেষ্টা ও কষ্ট করেছেন। বহু ত্যাগ-তিতীক্ষা ও শ্রম ও সময় ব্যয় বরেছেন। তাঁরা সংখ্যায় অনেক। সেই ফকির লালন শাহের জীবনকাল থেকে শুরু করে আজ অবধি সেই সকল জ্ঞানী অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিগণ কর্ম প্রয়াস চালিয়ে আসছেন। ঐ সকল জ্ঞানী অনুসন্ধিৎসু সংগ্রাহক ও সংকলকদের মধ্যে আমরা পরম শ্রদ্ধাসাথে একজনকে বিশেষভাবে স্মরণ করতে পারি। তিনি হলেন মহৎ প্রাণ করিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যিনি মহারাজ ফকির লালন শাহের প্রতি প্রচন্ড ভালোবাসা আর গুরু ভাবজ্ঞানে লালন সঙ্গীতের সংগ্রহক ও সংকলক রূপে নিঃসন্দেহে এর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন।
ফকির লালন শাহের জন্ম, সম্প্রদায় পরিচয় নিয়ে লালন গবেষকদের মাঝে ব্যাপক মতবিরোধী বিতর্ক, এমনকি পরস্পর বিরোধী অমীমাংসিত এক জটিলতর বিবিধ এখনো চলে আসছে। কিন্তু লালন শাহের জন্ম বা জাতের কোন পদবী যোগ করেননি। তাঁর নামের আগে বা পিছে। মানুষ ও মানুষের আতœা পরমাতœার কাছে জাত-পরিচয় তাঁর কাছে ছিল অতীব গৌণ। তাঁর ভাষা,-
‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে।
লালন কয় জাতের কী রূপ,
দেখলাম না এই নজরে।’
অথবা
‘সবে বলে লালন ফকির হিন্দু কি যবন।
লালন বলে আমার আমি
না জানি সন্ধান।’
লালন সাঁই সব সময় বিলীন থাকতেন পরমাতœার মাঝে। আর সেই অসীম পরম আতœার মাঝেই খুঁজে বেরিয়েছেন মানবসত্ত্বার মানুষকে। মানবতাই তাঁর নিকট ছিল বিশেষ গুরুত্ববহ। তাই তিনি সহজেই বলতে পারতেন প্রচলিত ধর্ম মানুষের মাঝে বিরোধের সৃষ্ঠি করে। পরমাতœার সাথে মানুষের একাতœ হওয়ার ধর্মই মানবতা ধর্ম। যা মানবাতœার দিব্যজ্ঞানের পরিচায়ক। তাঁর ভাষায়-
‘ডানে বেদ, বামে কোরান,
মাঝখানে ফকিরের বয়ান,
যার হবে সেই দিব্যজ্ঞান
সেহি দেখতে পায়।
আর এই বাণীর দ্যোতনা খুঁজে পাই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায়। তিনি সীমাবদ্ধতার ভেতর খুঁজেছেন অসীমের আলোক রশ্নি। অন্য এক ধরনের ভাব দর্শনে আলিঙ্গন করতে চেয়েছেন অসীমত্বের মাঝে অস্তিত্বের সন্ধান। বিশালতের মাঝে খুঁজে ফিরেছেন স্বীয় আতœার অস্তিত্ব। পরমের মাঝে বিলীন হওয়ার আনন্দ রাশি। তাই তিনি লেখনীর তুলিতে ছাপিয়ে তোলেন সেই আকাঙ্খার সুর ও ছন্দ
‘সীমার মাঝে, অসীম, তুমি
বাজাও আপন সুর।
আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ
তাই এত মধুর।
কত বর্ণে কত গন্ধে
কত গানে কত ছন্দে,
অরূপ, তোমার রূপের লীলায়
জাগে হৃদয়পর।’
কালজয়ী মহা পুরুষ ক্ষণজন্মা বাউল ফকির লালন শাহকে স্থান-কাল সীমানায় আবব্দ করে তাঁর কর্মপ্রয়াসের চেতনার ভাবগাস্তীর্যের ও দার্শনিকতার রসবোধ আস্বাদন করার চেষ্টা চরম মূর্খতার সামীল। তিনি স্থান-কাল উর্ত্তীর্ণ মহা সত্যময় এক দর্শনের উদ্গতা। লালন শাহের প্রয়ান ১৮৯০ খ্রীস্টাব্দে হলেও তাঁর জন্ম ১৭৭৫-১৭৭৭ সালে। শতাধিক বছরের জীবন ধারার পথ পরিক্রমায় উখিত লালনাদর্শের ভাবধারায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে বিপুল ভাবে প্রভাবিত হয়েছেন।
অনন্ত কালচক্রের নানা পর্বে লোকাস্তরের মহাপুরুষগণ ধীর-স্থিরতা, ভারসাম্য ও শান্তি পূণঃ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এ জগতে জন্ম গ্রহন করেন। সেই সকল মহা মানবগণ তাঁর চেয়ে অধিকতর শান্তিধর, গুণধর বা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বের কাছে নিজেকে সমর্পন করে থকেন। আর, এই আতœ সমর্পন নীচতা নয়; হীনতা নয়। এ হলো শক্তির উন্মষ। সেই শক্তি হলো ভক্তির শক্তি। শক্তিহীন অবস্থায় যেমন শক্তিমানকে স্পর্শ করা যায় না; ক্ষুদ্রতা দিয়ে যেমন বৃহৎকে বুঝা যায়না; পরম সত্যকে তেমনি খন্ডিত বিচারবুদ্ধি বা সংকীর্ণতা দিয়ে অনুধাবন করা যায় না। এমনটিই ঘটেছে ফকিররাজ লালান শাহের মূল্যায়ন প্রচেষ্টায়। তাই হয়তো বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং লালন দর্শনের শক্তির মূল্যায়ন সর্বপ্রথম অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যথাসাধ্য পরিমার্জনা করে ফকির লালন শাহের কুড়িটি গান সংগ্রহ বলে সর্বপ্রথম ‘প্রবাসী পত্রিকায় ১৯০৫ সালে (১৩১২ সালেরে আশ্বিন সংখ্যায়) “হারামনি” বিভাগে প্রকাশ করেছিল। অর্থাৎ কবিগুরুর চিন্তা- চেতনায় বাউল লালন শাহের সঙ্গীত সম্পদ ছিল অমূল্য সম্পদ। তাই “হারামনি” শিরোনামে স্থান পেয়েছিলো লালনগীতি। আর তখন থেকেই কোলকাতা কেন্দ্রিক শহরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একাংশ ‘গ্রাম্য’ ‘অশিক্ষিত’ এ বাংলাদেশে-বাংলা ভাষার লালন দর্শন নামে অদ্বিতীয় অবিসরনীয় একটি দর্শন আছে, যা সাধারন মানুষের চেতনায় মননে আলোড়ন সৃষ্টি করে চলছে, তা অবগতি হলেন। লালন সঙ্গীতের দার্শনিক ও নান্দনিক প্রভাব যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রচন্ডভাবে আলোড়িত করে তুলেছিলো-তেমনি শহওে শিক্ষিত সমাজকে নাড়া নিয়ে গেলো। শুধুমাত্র কোলকাতা কেন্দ্রিক শিক্ষিত সমাজ নয়; লালন দর্শনের আধ্যাতিœকতা, ভাবগাম্ভীর্য ও মাহাত্তের গুঢ়তায় বিমোহত হয়েছিল সকল শিক্ষিত ও জ্ঞানী সমাজ। ক্রমে ক্রমে তা বিশ্বজনীনতায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। লালন দর্শন ভারত-বাংলাদেশের গন্ডি ছেড়ে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানী, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ডসহ বিশ্বের অনেক দেশেই লালন দর্শনের গঠন পাঠন ও চর্চা চলতে শুরু হরে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের নিজের ভাষায়- ‘আমার লেখা যারা পড়েছেন, তাঁরা জানেন বাউল পদাবলীর প্রতি আমার অনুরাগ আমি অনেক লেখায় প্রকাশ করেছি। শিলাইদহে যখন ছিলাম, বাউল দলের সঙ্গে আমার সর্বদাই লেখা সাক্ষাৎ ও আলাপ-আলোচনা হতো। আমার অনেক গনে আমি বহু সুর গ্রহন করেছি এবং অনেক গানে অণ্য রাগরগিনীর সাথে আমার জ্ঞান বা অজ্ঞাতসারে বাউল সুরের মিল ঘটেছে। এর থেকে বোঝা যাবে, বাউলের সুর ও বাণী কোন এক সময় আমার মনের মধ্যে সহজ হয়ে মিশে গেছে। আমার মনে আছে, তখন আমার নবীন বয়স-শিলাইদ (কুষ্টিয়া) অঞ্চলের এক বাউল একতারা হাতে বাজিয়ে গেয়েছিল-
‘কোথায় পাবো তাঁরে-আমার মনের মানুষ যেঁরে।
হারায়ে সেই মানুষে-তাঁর উদ্দেশ্যে
দেশ-বিদেশে বেড়াই ঘুরে॥’
(এই গানটি গেয়েছিল-ফকির লালন শাহের ভাবশিষ্য গগন হরকরা। যার আসল নাম বাউল গগনচন্দ্র দাস। বাউলগণ পরমেশ্বরকে নারী-জ্ঞানে ভালোবেসে, শ্রদ্ধায়, ভক্তি-প্রেমে অন্তরে তাঁর সান্যিধ্য প্রাপ্তির লাভের আশায় হৃদয়ের সমস্ত চেতনা, আবেগ মস্থিত সুরাশ্রয়ে বিমোহিত হয়ে আকুলিত প্রাণে সুর তুলে থাকেন।)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজের ভাষায় ঐ বাউলের গানের কথা ও সুরের মাধুর্য আমাকে এতোই বিমোহিত করেছিলো যে, আমি সেই সুর ও ছন্দে বাংলাদেশকে মাতৃরূপ জ্ঞানে লিখেছি-
‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি,
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস
আমার প্রাণে বাঁজায় বাঁশি॥;
যা বর্তমানে রক্তস্নাত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জাতীয় সঙ্গীত। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশকে মাতৃ-জ্ঞানে ভালোবেসে, শ্রদ্ধায় ভক্তি-প্রেমে, অন্তরে সমস্ত চেতনায় লালন শাহের সুর ও ছন্দে রচনা করেছিলেন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। অর্থাৎ, আমাদের রক্তের ঝর্ণাধারার বিনিময় অর্জিত জাতীয় সঙ্গীত ভাষা ও শব্দ বিন্যাসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ দৃশ্যমান হলেও; সুর ও ছন্দে এবং প্রেরণার উৎস হিসেবে বাউল সম্রাট লালন শাহের অবদানকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই।
কুষ্টিয়ার বিশেষভাবে শিলাইদহে কবিগুরু বাউলের সাথে সাধুসঙ্গ করেছিলেন বলে তিনি যে উল্লেখ করেছেন তা মূলতঃ ফকির লালন এবং তাঁর ভাবদর্শনের অনুসারীদেরকেই বুঝিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হৃদয় থেকে ফকির লালন শাহকে গুরুরূপে গ্রহণ করেছিলেন। যা তাঁর সাহিত্য দর্শনে স্পষ্ট। বিপুল এ বিশ্বে ঈশ্বরের অবস্থানই মানুষের অস্তিত্ব। পরমেশ্বরই মানুষকে কৃষ্ণগহ্বর হতে দেখিয়েছেন আলোকের পথ। অদৃশ্য শক্তির প্রতি বিশ্বাসের মূলমন্ত্রই ফকির লালন শাহের ধর্ম দর্শন। আর তাঁ ধর্ম দর্শন অভিব্যক্ত হয়েছে অবিনাশী পদাবলীর সঙ্গীতের ফল্গুধারায়, স্বর্গীয় ব্যঞ্জনায়। লালন সাধক। তিনি একজন তত্ত্বজ্ঞা মহাকবি। আর তত্ত্ব সাহিত্যের সবচেয়ে বড় কথা আতœতত্ত্ব। এ দর্শনই লালন সাহিত্যের প্রাণ। সঙ্গীতের জন্ম বা উদ্ভব হয়েছে ধ্যান সাধনা থেকে। আতœদ্রষ্টা মহাপুরুষগণই সঙ্গীতের আদি জনক। ভারতীয় দর্শন, ঈশ্বরের চেতনা রবীন্দ্রনাথ তুলে এনেছিলেন শ্রীমদভগবদগীতা হতে। যা বিস্তৃত হয়েছে গানের সুর ও ছন্দে ‘গীতাঞ্জলি’তে। আর এ গীতাঞ্জলির প্রতি ছন্দে ছন্দে খঁজে পাওয়া যায় ফকির লালন শাহের সঙ্গীতের বা লালন দর্শনের মূল ভাবাদর্শের পরশ। রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির গীতধারায় যদি আমারা আধ্যাতিœকতার চেতনায় নিবিষ্টতায় রসাস্বাদন করি ত’হলে আমরা দেখবো যে লালনের দর্শনের বা লালন কালামের পরিশীলিত রচনার ধারাবাহিকতা।
লালনের কালামে বিনয় ও মানবীয় আমিত্ব শূন্যতার এক কৌশল মাত্র। গুরুর চরণে নিজেকে অধম ও গুরুত্বহীনভাবে তুলে ধরে গুরুকে সর্বোত্তমরূপে প্রকাশ করার এক কৌশল সাঁইজী তুলে ধরেছেন তাঁর সুরে ও কালামে। পরম আতœাকে কল্পনা করেছেন গুরুর ভনিতায়। সেই কথাই যেন আমরা শুনতে পাই কবিগুরু রবী ঠাকুরের কন্ঠে-
‘তুমি কেমন করে গান কর যে, গুণী,
অবাক হয়ে শুনি কেবল শুনি।
সুরের আলো ভূবন ফেলে ছেয়ে,
সুরের হাওয়া চলে গগন বেয়ে,
পাষাণ টুটে ব্যাকুল বেগে ধেয়ে
বহিয়া যায় সুরের সুরধুনী।’
রবিন্দ্রনাথ অরূপের (নিরাকার) অপরূপ রূপে অবগাহনের নিমিত্তে অতল রূপ সাগরে ডুব দিয়েছেন অরূপ রতন (অমূল্য রতন) আশা করি, তাঁর ভাষায়-
‘রূপসাগরে ডুব দিয়েছি
অরূপ রতন আশা করি;
ঘাটে ঘাটে ঘুরব না আর
তাসিয়ে আমার জীর্ণ তরী।
সময় যেন হয় রে এবার
ঢেউ-খাওয়া সব চুকিয়ে দেবার
সুাধায় এবার তলিয়ে গিয়ে
অমর হয়ে রব মরি।’
আর লালনের দার্শনিকতায় প্রবাহমান গুনরাজির অসীমান্তিক মহা ভাব-সাগরে সাঁতার কেটে জানিনা কতুটুকু ছুতে পারবে অমূল্য সেই নিধি। তিনি দয়াল, এই ভরসায় বাঞ্ছা করি তাঁর মহানাম কীর্তনের এ মহাসত্যই লালন দর্শনের আদিপাঠ। লালনের কালামে ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রূপ সাগরে ডুব দিয়ে অরূপ রতন পাওয়ার আকাঙ্খার অনেক পূর্বেই। লালন তাঁর একতারার তারে সুরে ও ছন্দে গেয়ে গেছেন।
‘রূপের তুলনা রূপে।
ফণি মণি সৌদামিনী
কী আর তাঁর কাছে শোভে॥
যে দেখেছে সেই অটল রূপ
বাক্ নাহি তার, মেরেছে চুপ।
পার হলো সে এ ভবকুপ
রূপের মালা হৃদয়ে জপে॥
এই রূপের তুলনা মানবসত্ত্বায় নিহিত বস্তমোহমুক্ত নিষ্কামী মহা মানবের স্বরূপ। যে মহা মানব সম্যক গুরুদেবের কাছে সম্পূর্ণ আতœ-সমর্পিত চিত্তে কঠিন ধ্যানব্রত অবস্থায় শিক্ষা গ্রহন করেন। যেখানে অরূপে (অস্তিত্বহীনতায়) খুঁজে ফেরে রূপের সন্ধান। যেখানে নিজেকে জানা এর জন্য পরিপূর্ন আতœদর্শনে ব্যাপক থাকে। লালন তাঁর তত্ত্ব সহিত্য নতুন কিছুই বলেননি। যুগে যুগে মহা পুরুষ, অবতার, পয়গম্বর বা ঈশ্বরের প্রিয় ব্যক্তিগণ যা বলেছেন, সেই সকল বাণীই তার সুরধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। আমিত্বের উৎসর্গ সাধন করা- এ ধারায় আপন মনের জাগতিক লোভ লালসাময় কঠিন আসক্তির বন্ধন ছিন্ন পরিশুদ্ধ স্বাত্ত্বিকতা অর্জনের নিমিত্তে আতœ দর্শনের শিক্ষাদান করাই লালন দর্শনের সারকথা। অর্থাৎ, সক্রেটিসের দর্শনে- কহড়ি ঞযুংবষভ নিজেকে জান। সিদ্ধার্থ গৌতমের বার্ণ- ‘আতœনং বিদ্ধি’- আপনাকে জ্ঞানী করে তোল। সনাতন ধর্মালম্বীদের (হিন্দু ধর্মমতে) চেতনায় যাকে বলে, ‘নিঃশ্রেয়স’- আতœার বিশুদ্ধ উন্নতির মাধশ্যে মোক্ষ লাভ করন। আর ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মোহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম- তাঁহার উপর শান্তি বর্ষিত হউক) আর বাণী-‘মান আরাফা নাফসাহুম ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু।’-যে নিজেকে চিনেছে বা নিজেকে ধ্যান করেছে, সে পরমাতœা বা ঈশ্বরকে চিনেছে। সেই কথাই ফকির লালন চেতনায় বেজে উঠেছে হাজার কথায়, বিবিধ সুরে। অর্থাৎ, পৃথিবীর সকল ধর্মের উৎস চেতনা পরিশুদ্ধ আতœার অনুসন্ধান করা। যার মাধ্যমে পরমাতœার সান্নিধ্য লাভের প্রচেষ্টায় ব্রতী হওয়া। তাই লালন ফকির দ্বিধাহীন চিত্তে প্রকাশ করেছেন-
‘যার আপন খবর আপনার হয় না।
একবার আপনারে চিনতে পারলেরে
যাবে অচেনারে চেনা ॥
আতœারূপে কর্তা হরি,
নিষ্ঠা হলে মিলবে তাঁরই ঠিকানা।
ঘুরে বেড়াও দিল্লি লাহোর
কোলের ঘোর তো যায় না ॥
ধর্ম তত্ত্বে পরমাতœা বা ঈশ্বরকে অনুসন্ধানের জন্য বৈরাগ্য সাধন প্রক্রিয়ার বনে-জঙ্গলে, পাহার-পর্বতে, অথবা মক্কা-মদিনাতে যাওয়ার তাগিত অনুভব করেনি লালন শাহ; তেমনি তাঁর ভাবশিষ্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও লালন দর্শনের মতোই ঈশ্বরের মহিমা খুঁজে ফিরেছেন মানুষের মাঝে। মানুষই ঈশ্বর, মানুষই দেবতা, মানুষের মাঝেই পরমাতœার অস্থিত্বলীন। তাই লালন শাহের কন্ঠে যেমন শুনি-
‘ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার।
সর্বসাধন সিদ্ধি হয় তার ॥
নিরাকারে জ্যোতির্ময় যে
আকার সাকার হইল সে
যে জন দিব্যজ্ঞানী হয়, সেহি জানতে পায়
কলি যুগে হল মানুষ অবতার ॥
অপরদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লালন শাহের ভাব দর্শনের দ্যোতনাকে আরও উচ্চমার্গ্মে তুলে ধরেছেন। মনে হয় লালনের চিন্তা-চেতনাকে শারীর ও সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন স্বয়ং কবিগুরু। মার্জিত ভাষায় পরিশীলিত সুরের মাধুর্য দিয়ে কবিগুরু একতারার সুরের স্থানে বীণার তালে ঝংকৃত করেছেন মানব ও মানবতার মাঝেই পরমাতœার অস্তিত্ব। সেই পরমাতœাকে পেতে হলে আমিত্বের অহংবোধ লীন করে দিতে হবে মানুষ-গুরু সাধনে; মানবতার পরাকাষ্ঠা দেদীপ্যমান করে। কবিগুরু ভাষায় তা হলো-
‘ভজন পূজন সাধন আরাধনা
সমস্ত থাক পড়ে
রুদ্ধদ্বারে দেবালয়ের কোণে
কেন আছিস ওরে।
তিনি গেছেন যেথায় মাটি ভেঙ্গে
করছে চাষা চাষ-
পাথর ভেঙে কাটছে যেথায় পথ,
খাটছে বারো মাস।
রৌদ্রে জলে আছেন সবার সাথে,
ধূলা তাঁহার লেগেছে দুই হাতে-
তাঁরই মতন শুচি বসন ছাড়ি
আয় রে ধুলার ‘পরে।’
অপরদিকে, ফকির লালন শাহ মানবদেহে নিহিত আলোকিত সত্তার উন্মেষের ইচ্ছার স্বীয় কন্ঠে উচ্চারণ করেন-
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি।
মানুষ ছাড়া মনের আমার
দেখিরে সব শূন্যকার
লালন বলে মানুষ আকার
ভজলে পাবি ॥
লালন ফকির তাঁর পরমাতœার সাথে মিলনের প্রচন্ড আকাঙ্খা তাঁকে উন্মাতাল করে রাখতো, তাই সে প্রভুর সাথে মিলনের আকাঙ্খায় বেদন সুরে গেয়ে বেড়ায়-
‘মিলন হবে কতোদিনে।
আমার মনের মানুষের সনে ॥
ঐ রূপ যখন স্মরণ হয়
থাকে না লোক লজ্জার ভয়
লালন ফকির ভেবে বলে সদাই
ও প্রেম যে করে সেই জানে ॥
প্রভুর সাথে মিলনের ইচ্ছা লালনকে যেমন চাতক প্রায় জোছনালোকের প্রত্যাশায় দিন গুনতে, তেমনি প্রভুর সান্নিধ্য পাবার আশায় রবীন্দ্রনাথ ব্যাকুল হৃদয়ে গাইতেন-
‘যদি তোমার দেখা না পাই প্রভু,
এবার এ জীবনে,
তবে তোমায় আমি পাইনি যেন,
সে কথা রয় মনে।
যেন ভুলে না যাই, বেদনা পাই
শয়নে স্বপনে।’
অথবা
‘আমার মিলন লাগি তুমি
আসছ কবে থেকে।
তোমার চন্দ্র সূর্য তোমায়
রাখবে কোথায় ঢেকে।
কত কালের সকাল-সাঁঝে
তোমার চরণধ্বনি বাজে
গোপনে দূত হৃদয়-মাঝে
গেছে আমায় ডেকে।’
বাউল সম্রাট লালন ফকির এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এ দু’জন মহৎ-প্রাণ ও সাধুর কর্ম ও রচনার কিছু দিক নিয়ে আলোকপাত করেছি বটে। লালন শাহের প্রয়াণের সময়কালে রবীন্দ্রনাথের পূর্ণ যৌবনকাল। তখন তাঁর বয়স ২৮/২৯ বছর। যে ‘গীতাঞ্জলি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে এবং বাংলা ভাষাকে অনে দিয়েছে সুনাম, সম্মৃদ্ধি ও বিশ্বজনীনতা। সেই ‘গীতাঞ্জলি’ প্রতিটি ‘গীত’ ধরে-স্থীরতার সাথে পাঠ করলে নিজের অজান্তে মনে হবে- এ কথাগুলো তাঁর পূর্ব-পুরুষ বাউল কবি ফকির লালন শাহ আগেই বলে গেছেন। অর্থাৎ, ‘গীতাঞ্জলি’র গানগুলো লেখার সময় কবিগুরু প্রচন্ডভাবে বাউল কবি লালনের রজনার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। আমার বলতে দ্বিধা নেই যে, রবীন্দ্রনাথের নোবেল এর মতো পুরস্কার ও সম্মানের পিছনে লালন দর্শনের প্রভুত অবদান বিদ্যমান। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যেভাবে দুই বাংলায় বাঙ্গালীগণ উচ্ছাসিত ও উদ্বেলিত হয়ে স্মরন; সেইরূপ হয়না বাউল সম্ম্রাট লালন শাহের ক্ষেত্রে।


আরাকান অধিবাসীদের প্রাথমিক ইতিহাস

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ বাংলা ও আরাকান সীমান্তগত দিক থেকে শুধু প্রতিবেশীই নয় বরং বাংলাদেশের…


যেভাবে আমরা বই পেলাম এবং আমাদের ঐতিহ্য

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বইয়ের যাত্রা কবে শুরু তা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ উল্লেখ করে কেউ বলতে পরেনি…


মসনবীর কবি রুমী

মসনবীর কবি রুমী রাজু রফিক সাহিত্য মানুষের জীবনের নানা কথার বিচিত্র কথক। আর এক কথায়…


রবীর উপর বাউলের প্রভাব

রবীর উপর বাউলের প্রভাব কবীর হুমায়ুন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একজন মানুষের…

মালয়েশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন



দশদিক ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪ তম জন্মদিন ও শিশু দিবস পালন করা হয়েছে। গত ১৭ মার্চ দূতাবাসের উদ্যোগে এ দিবসটি পালন করা হয়। হাই কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ফার্ষ্ট সেক্রেটারী মোসলোমা নাজনিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, দূতাবাসের ফার্ষ্ট সেক্রেটারি এম এস কে শাহীন, ডিফেন্স অ্যাডভাইজার মোঃ আবুল বাসার, লেবার কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস, সেকেন্ড সেক্রেটারী মোঃ মিজানুর রহমান, ফাষ্ট সেক্রেটারী শাহিদা সুলতানা, ধনন্জয় কুমার দাস, মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি এ.কে.এম আলমগীর হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেলোয়ার হোসেন মজনু, মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন পান্না, খাইরুল উদ্দিন আহমেদ, এস এম হানিফ, মালয়াশিয়া আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মাহতাব খন্দকার, আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুবুল হক মজুমদার, শাখাওয়াত হোসেন জুসেফ, যুকলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জহির, বিজন মজুমদার রেজাউল হক লায়ন, মজিব বাবু প্রমূখ। আলোচনা সভা শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি ও বর্তমান শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর মত সাহসী ও দেশপ্রেমিক জন নেতা যদি বাংলার মাটিতে জন্ম না হত তাহলে বাংলাদেশ নামক কোন দেশের জন্ম হত না। যতদিন লাল সবুজ পতাকা থাকবে ততদিন আমাদের মনে করিয়ে দিবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কথা। তাই আসুন এই দিনে আমরা তার প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে সোনার বাংলা গড়ার কাজে মনোনিবেশ করি এবং বর্তমান প্রজন্মের শিশুদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালন করে যোগ্য দেশ প্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলি।


মালয়েশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

দশদিক ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪ তম জন্মদিন ও শিশু দিবস পালন…


পদ্মা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর বাসীর আহবান

দশদিক ডেস্ক: সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর প্রবাসীদের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে বুকিত বিংতাং ইমবি হোটেলের হল রুমে…


মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের ৭ মার্চ উদযাপন

দশদিক প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক ৭মার্চ উদযাপন করল মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগ। মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরস্থ সাইদ বিষ্ট্র হলরুমে…


মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন

দশদিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব হল রুমে মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন…

পদ্মা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর বাসীর আহবান



দশদিক ডেস্ক: সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর প্রবাসীদের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে বুকিত বিংতাং ইমবি হোটেলের হল রুমে প্রবাসী কমিউনিটি নেতা হাফিজুর রহমান ডাবলুর সভাপতিত্বে বিজন মজুমদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টর এ.কে.এম মুজাহিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া বাংলাদেশী কমিউনিটি নেতা মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির, মুজিবর রহমান বাবু, কাজী সোহেল মাহমুদ ও মোঃ মাহাবুবুর রহমান রুবেল। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির, মুজিবুর রহমান বাবু, কাজী সুহেল মাহমুদ, মোঃ মাহাবুর রহমান রুবেল। আর ও বক্তব্য রাখেন মোঃ আলাউদ্দিন, রুবেল, মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ ওয়িলিয়াম, মোঃ জাবেদ, আব্দুল মান্নান মন্টু, দেলোয়ার মোড়ল, রাসেল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কালাম আজাদ, শেখ মোমিন, ইলিয়াছ, আমিনুল ইসলাম ডানিশ, সৌরভ, সাইদুল, জামাল উদ্দিন, হায়দার খাঁন প্রমুহ। প্রধান অতিথি ডক্টর এ.কে.এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “পদ্মা সেতু এখন শুধু শরিয়তপুর-মাদারীপুর-মুন্সিগঞ্জ সহ-দক্ষিন অঞ্চলের নয় এটা এখন সারা বাংলাদেশের একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


মালয়েশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

দশদিক ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪ তম জন্মদিন ও শিশু দিবস পালন…


পদ্মা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর বাসীর আহবান

দশদিক ডেস্ক: সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর প্রবাসীদের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে বুকিত বিংতাং ইমবি হোটেলের হল রুমে…


মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের ৭ মার্চ উদযাপন

দশদিক প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক ৭মার্চ উদযাপন করল মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগ। মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরস্থ সাইদ বিষ্ট্র হলরুমে…


মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন

দশদিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব হল রুমে মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন…

মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের ৭ মার্চ উদযাপন



দশদিক প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক ৭মার্চ উদযাপন করল মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগ। মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরস্থ সাইদ বিষ্ট্র হলরুমে অনুষ্টিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ মন্ডল, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অল-ইউরোপিয়ান আওয়ামীলীগের জেনারেল সেক্রেটারি এম,এ,গণি। উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মকবুল হোসেন মুকুল, সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান ডাবলু, অহিদুর রহমান অহিদ, হাজ্বী মোঃ জাকারিয়া আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা শওকত হোসেন পান্না, হাজ্বী মোঃ মতিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাশেদ বাদল, যুগ্ন-সম্পাদক মাহতাব খন্দকার, হুমায়ুন কবির ও যুবলীগ নেতা মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির সহ-মালয়েশিয়া যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। এম,এ,গণি বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার পর আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্খিত মুক্তির লক্ষ্যে। ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিতকা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয়- তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।


মালয়েশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

দশদিক ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪ তম জন্মদিন ও শিশু দিবস পালন…


পদ্মা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর বাসীর আহবান

দশদিক ডেস্ক: সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর প্রবাসীদের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে বুকিত বিংতাং ইমবি হোটেলের হল রুমে…


মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের ৭ মার্চ উদযাপন

দশদিক প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক ৭মার্চ উদযাপন করল মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগ। মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরস্থ সাইদ বিষ্ট্র হলরুমে…


মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন

দশদিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব হল রুমে মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন…

মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন



দশদিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব হল রুমে মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। হাওলাদার মিল্টন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, মালয়েশিয়া জতীয় পার্টির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম রহমান পারভেজ উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা করায় গৌরনদী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। খবর পেয়ে তাৎখনিক ভাবে আমরা এ সংবাদ সম্মেলন করছি। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ বদিউজ্জামান শাহীন, মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির নেতা, মো: শামছু মিয়া, মোরশেদ আহমেদ দুলাল, মো: সুমন মিয়া প্রমূখ।


মালয়েশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

দশদিক ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪ তম জন্মদিন ও শিশু দিবস পালন…


পদ্মা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর বাসীর আহবান

দশদিক ডেস্ক: সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর প্রবাসীদের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে বুকিত বিংতাং ইমবি হোটেলের হল রুমে…


মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের ৭ মার্চ উদযাপন

দশদিক প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক ৭মার্চ উদযাপন করল মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগ। মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরস্থ সাইদ বিষ্ট্র হলরুমে…


মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন

দশদিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব হল রুমে মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন…

জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন



বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা হয় অমর একুশে উপলক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ও সমকালীন বাংলাদেশে রাজনীতি নামে মানুষ পুড়িয়ে মারার যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে তার প্রতিবাদে প্রবাসীদের মত বিনিময় সভা। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাড়াও প্রবাসী ও মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাপান শাখার সভাপতি ছালেহ মোঃ আরিফ সূচনা পর্বে উপস্থিত থাকলেও জরুরি কাজে বাইরে চলে গেলে সহ সভাপতি সনত বড়ুয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হীরা এ সময়ে মঞ্চে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অমর একুশের বীর শহীদদের প্রতি এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে সহিংসতায় হতাহতের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। মহান একুশে ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে- আব্দুর রহমান, কাজী ইনসানুল হক, সর্দার, বিমান পোদ্দার, মোতালেব শাহ আইয়ুব প্রিন্স, আব্দুর রাজ্জাক, মোল্লা আলমগীর, মোঃ জাহিদ হোসেন, গোলাম মাসুম, নাজমুল আলম রতন, মনির হোসেন কর্নেল, সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ আলম, কামরুল হাসান লিপু, ওয়াহিদ মোল্লা, জাকির হোসেন জোয়ার্দার, সলিমুল্লাহ কাজল, হারুনুর রশীদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন এটি হরতাল নয় খুনতাল। এই হরতালে জনগনের সম্পৃক্ততা নেই। রাস্তায় কেবল পেট্রোল বোমা আতঙ্ক, পুড়ে অংঙ্গার হওয়ার হয়, সম্পদ হারানোর ভয় নিয়ে, জনগনকে আতঙ্কে রেখে ভয় দেখিয়ে সব বন্ধ করার নাম আন্দোলন হতে পারে না। সংবিধান কোনো নেতা বা নেত্রীকে, কোনো রাজনৈতিক দলকে এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত করার কিম্বা রাষ্ট্রীয় ক্ষতিসাধন করার অধিকার দেয়নি। বক্তারা কেউ কেউ যেমন সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছেন কিন্তু বেশির ভাগই হত্যাকারীদের সাথে কোনো আপোস নয়, সংলাপ নয় -প্রয়োজনে সবচেয়ে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে সিদ্দিকুর রহমান সম্প্রতি জাপানে রসুল (সাঃ)কে নিয়ে বিদ্রুপ করে চার্লি হেবডোর কার্টুন প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানান। জাপানের প্রকাশক দাইসেন শোকান মুসলমান গ্রুপ গুলোর তীব্র বিরোধীতা উপেক্ষা করে বইটি প্রকাশ করে জাপানে বসবাসরত মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন মন্তব্য করেন ও সবাই মিলে এর প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। সবশেষে সভার সভাপতি সনত বড়ুয়া সকলকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাদের মতামত প্রদান করায় ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…

নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি



১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩। দিনটি ছিল সোমবার। সময় ছিল সকাল ৮টা ৪৩ মিনিট।

৮১ বছর পর ২৫ এপ্রিল ২০১৫ মধ্যদুপুরে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৯। দিনটি ছিল শনিবার। এই ভূমিকম্পে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৬০ জন। ভূমিকম্পে উনিশ শতকে (১৮৩২ সাল) নির্মিত একটি প্রাচীন টাওয়ার ভেঙে গেছে যা গত ১০ বছর ধরে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা ছিল।

ভূমিকম্পের পর পরই বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিক শোক জানানোসহ সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দেয়, যা সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল। বসে নেই প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজনও। বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেরণ করে নেপালিদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
মানুষ মানুষের জন্য সেøাগানকে সামনে রেখে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালি জনগণের পাশে থাকার জন্য এক চ্যারিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। সংগৃহীত অর্থ নেপাল দূতাবাসের মাধ্যমে নেপালি জনগণের জন্য প্রেরণ করে।

৩১ মে রোববার টোকিওর কিতা সিটি ওজি হোকু তোপিয়া প্যাগাসাস হলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন। দূতাবাস এবং জাপান সফররত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী সস্ত্রীক উপস্থিত থেকে প্রবাসীদের আয়োজনে অংশ নিলে আয়োজনের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
জাপান প্রবাসীদের প্রিয় দুটি সাংস্কৃতিক দল ‘উত্তরণ’ ও ‘স্বরলিপি’ এবং প্রবাসী শিল্পীরা অংশ নিয়ে সংীত পরিবেশনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেন। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত দর্শক শ্রোতা ও অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সম্মিলিত অনুদানের পরিমাণ হয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৫০০ ইয়েন।
সংগৃহীত অর্থের পুরোটাই নেপাল দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়।

২ জুন মঙ্গলবার কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ টোকিওস্থ নেপাল দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করেন। নেপাল দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মদন কুমার ভাট্টারাই প্রবাসী নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ গ্রহণ করেন। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সংগৃহীত অর্থের অঙ্কটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় হলো মানবতা। নেপালি জনগণের জন্য বাংলাদেশিদের সহৃদয়তা, সদিচ্ছা এবং স্পিরিট নেপালি জনগণ চির কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে সুখেন ব্রহ্ম, বাদল চাকলাদার, কাজী এনামুল হক এবং জুয়েল আহসান কামরুল রাষ্ট্রদূতের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। এই সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব দ্য চ্যান্সারি বা দূতালয় প্রধান নূর এ আলম, ইকোনমিক মিনিস্টার জীবন রঞ্জন মজুমদার এবং ‘সাপ্তাহিক’ জাপান প্রতিনিধি রাহমান মনি উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ হস্তান্তর উত্তর এক আলাপচারিতায় রাষ্ট্রদূত মদন কুমার বলেন, ৮১ বছর পর বড় ভূমিকম্প নেপাল পুনর্গঠনে এক বার্তা এনে দিয়েছে। যদিও এমনটি কারোরই কাম্য নয়। তারপরও বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা আমাদের জন্য রয়েছে এই ভূমিকম্পে। আমাদের সেগুলো মাথায় রেখে নেপাল পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।
৩ মে ২০১৫ প্রবাস প্রজন্ম অনুষ্ঠানেও নেপালের জন্য শোক ও সহমর্মিতা জানানো হয়। -রাহমান মনি


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…

মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫



রাহমান মনি:
ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট ভাবে উল্লেখিত।তা সত্বেও প্রবাসের ব্যস্ততম দিনে এবং ভিন্ন পরিবেশে ধর্মীয় আয়োজন, আচার পালন ইচ্ছা ও সামর্থ থাকার পরও অনেক সময় হয়ে ওঠেনা।আর দিনটি যদি হয় কর্ম দিবস তা হলে তো আর কথাই থাকে না।ইসলামী দেশগুলোতে প্রবাসীরা কিছুটা সুবিধা ভোগ করতে পারলেও জাপানের মত দেশে যেখানে ধমীয় আচার পালনের জন্য, এমনকি মে দিবসেও কোন সরকারী ছুটি থাকেনা, সেখানে ঈদের ছুটি আশা করা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকেই হয়তো পূর্র্ ছুটি নিয়ে কিংবা অর্ধ বেলা ছুটি ভোগ করে ঈদের নামাজটা আদায় করে থাকেন। কিন্তু ভিন্ন পরিবেশ হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতি প্রিয় এবং ধম ভীরু বাঙ্গালী যে বসে থাকার নয় তা আরেকবা্র প্রমাণ করল জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি। ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের মত এবারও মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান ঈদ উত্তর এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আয়োজন করে।গত ৪ অক্টোবর রোববার টোকিওর অইয়ামা বুনকা কাইকান এ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রায় অধ সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় জাপানিজ সুহৃদরা সতস্তফুর্ত অংশগ্রহন করেন।খোদ রাজধানীতে এবারের আয়োজন হওয়ায় ধর্ম বর্ণ নির্বি শেষে সকলের উৎসব মুখর অংশগ্রহনে আয়োজন স্থলটি হয়ে ওঠে এক চিলতে বাংলাদেশ।
ঈদ পুনর্মিলনী-২০১৫আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসাবে সস্ত্রীক উপস্থিথ ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। পুরো অনুষ্ঠানকে 3টি পর্বে ভাগ করা হয়। পরিচালনায় ছিলেন নাজমুল হাসান রতন এবং জুয়েল আহসান। প্রথম পর্বে সংগঠনের সভাপতি বাদল চাকলাদারের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য পর্বে উপবিষ্ট ছিলেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন,এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাৎসুও ইয়োশিনারি, সংগঠনের সাধারণ সমাম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নু, বর্তমানে জাপান প্রবাসী জাপান সফররত বৃটেন প্রবাসী খুররম আহমেদ, রাষ্ট্রদূত পত্নি ফাহমিদা জাবিস সোমা। শুভেচ্ছা বক্তব্যের শুরুতেই অতি সম্প্রতি পবিত্র হজ পালনকালে মিনাতে বহু প্রাণহানী, 28 সেপ্টেম্বর ঢাকাতে ইতালিয়ান নাগরিক এবং 3 অক্টোবররংপুরে নিহত জাপানী নাগরিক হোশি কোনিওর স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জাপানপ্রবাসী সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের প্রায় সবাই, সকল মিডিয়া কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান।। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সকলকে ঈদরে আয়োজনে আপ্যায়ন করা হয়। শেষ পর্বে প্রবাসীদের প্রিয় সাংস্কৃতিক দল স্বরলিপি এবং উত্তরন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মনো মুগ্ধ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেন। ছবি: রাহমান মনি।


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…

টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ



-মোহাম্মাদ নাহিদ:
জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে দূতাবাসের নতুন ঠিকানায় নিজস্ব ভূমিতে, নিজস্ব ভবনে দূতাবাসের দৈনন্দিন কাজ কর্ম নতুন উদ্দমে শুরু করেছেন।জাপানের গুরুত্ব পূর্ণ এলাকা ( পার্লামেন্ট ভবন, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়,প্রধান মন্ত্রীর কারযালয়,জাপান সম্রাটের আবাস স্থল) এর কাছাকাছি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থে জাপান সরকারের কাছ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি কম কিস্থিতে কেনা ৭১৪ বর্গ মিটার জমিতে ১১১ কোটি ইয়েন দামে ক্রয় করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ সরকার। জাপানে বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতিক,জাপানের বুকে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের ছোট্ট বাংলাদেশ।শ্রদ্ধার সাথে আজ স্মরণ করছি সেই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের রক্ত ঋণে , অর্জিত এই পতাকা । উড়াচ্ছে জাপান, উড়াচ্ছে বিশ্ব ।জাপান প্রবাসীরা খুঁজে পেয়েছেন নকশী কাঁথার ঢং

বাংলার ঐতিহ্য দু –চালা ঘরের আবেশে , সাকুরা ফুলের সৌরভ মাখা এক অপলক সৃষ্টি। যা দেখলে মণ জুড়িয়ে যায় মন ছুঁয়ে যায়। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের নভেম্বরের ২৮ তারিখে জাপানের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় এর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। সেই সাথে আশা প্রকাশ করেন যত দ্রুত সম্ভব এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থমন্ত্রীকে জোর তাগিদ দেন। দূতাবাস নির্মাণের উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেন জাপান প্রবাসী বাঙ্গালীদের জোর দাবীর ফলে। প্রথমে দুদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প সুদে জাপান সরকারের কাজ থেকে বাংলাদেশ এই জায়গাটি লাভ করেন। জমিটা টোকিওর চিইয়দা কু, কিওই চো ৩-২৯ এ অত্যন্ত গুরুত্ত পূর্ণ একটি এলাকায় অবস্থিত।এর মূল্য অনেক দিক থেকে বিচার্য ।জমির পরিমান ৭১৪ বর্গমিটার। নির্মাণ কাজটি ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে শুরু হয়ে ২০১২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিভিন্ন জটিলতার কারণে থমকে গিয়েছিল। প্রকৃত সমাপ্তি মার্চ ২০১৬। ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ দীর্ঘ চার বছর বিভিন্ন জটিলতায় থমকে গিয়েছিল নির্মাণ কাজ।অন্যান্য দেশের দূতাবাস জাপানে নির্মাণ করেছেন তাদের দূতাবাস নির্মাণ করতে এতটা সময় ক্ষেপণ করা হয়নি। যা বিরল ঘটনা।তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আশরাফ উদ-দৌলার সময়ে দূতাবাস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জমি কেনা ও ভবন নির্মাণ এর প্রচেষ্টা শুরু হয়। একাধিক কিস্থি পরিশোধ করা হয়। দূতাবাস ভবন নির্মাণ এর জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়। রাষ্ট্রদূত মজিবর রহমান ভুইয়া এর সময় মাননীয় প্রথান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তী কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে।মজিবর রাহমান ভুইয়া চলে যাবার পর তৎকালীন দূতাবাসের চার্জ দ্যা এফেয়ারস ডঃ জীবন রঞ্জন মজুমদার এর সময় কালে এর অগ্রগতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মমেন এর সময়কালে দূতাবাস ভবনটি দ্রুততার সাথে সম্পূর্ণ হয় । সদ্য নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার সময় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।চার জন রাষ্ট্রদূতের নিকট জাপান প্রবাসীরা কৃতজ্ঞ।

জাপানী স্থাপত্য উপদেষ্টা ফার্ম কেপিএএবং বাংলাদেশের স্থাপত্য উপদেষ্টা ফার্ম ভার্নাকুলার আর্কিটেক্টস যৌথ ভাবে এই দূতাবাস কমপ্লেক্সটির নকশা প্রনয়ন করেছেন। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ছিলেন মুরামত কর্পোরেশন । জাপানী স্থপতিদের মধ্যে রয়েছেন স্থপতি ইউশি কিতাগাওয়া এবং স্থপতি মাশাহিরো ওনো ,বাংলাদেশের স্থপতি ছিলেন ভার্নাকুলার আর্কিটেক্টস এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান স্থপতি ডঃ মাসুম ইকবাল । জাপানে বাঙালী কমিউনিটিতে সামাজিক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক কারণে বেশ পরিচিত ।বিশেষ করে টোকিওস্থ ইকেবুকুরো নিশিগুচি পার্কে স্থাপিত শহীদ মিনার নির্মাণের প্রস্তাব তিনিই প্রথম ২০০৪ সালে জাপানের বাংলা কাগজ পরবাস আয়োজিত ভাষা শহীদ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে প্রবাসী বাঙ্গালিরা , বাংলাদেশ দূতাবাস,বাংলাদেশ সরকার ও তশিমা কু এর যৌথ উদ্যোগে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি স্থায়ী শহীদ মিনার। ২০১০ সালের প্রথম দিকে ডঃ মাসুম ইকবাল জাপানের চিবা ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনি ভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।২০০০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর .২০০৩ সালে তিনি জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য জাপানে আসেন।জাপানে অবস্থান কালে তিনি এন এইচ কে বাংলা বিভাগে সংবাদ পাঠক হিসেবে জড়িত ছিলেন। ডঃ মাসুম ইকবালআওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ- সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডঃ মাসুম ইকবাল এর কথা এতো বলার কারণ, নির্মাণাধীন দূতাবাসের মুল ডিজাইন করেছেন সেখানে যোগ করেছেন বাঙ্গালীর ঐতিহ্য দু চালা ঘর এর আকৃতি , নকশী কাথা, বাংলার কৃষ্টি , সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের কথা মাথায় রেখেই । মুল প্রোগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও তার শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালবাসায় এটিকে যোগ করেছিলেন।সেখানে ভবন তৈরি হবার পর কোন স্মৃতি সৌধ দেখতে পাইনি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অনেক ধন্যবাদ । শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা হলেও আত্মা শান্তি পাবে। যদিও মূল নকশা অনুযায়ী ত্রিমাত্রিক না হলেও একটি দ্বিমাত্রিক স্মৃতি সৌধ যুক্ত করা হয়।

দূতাবাসের পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু কিছু দুর্নীতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে যথা-১,স্থপতিদের মুল নকশার পরিবর্তন করে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বেজমেন্ট এ কার পারকিং বাতিল করা হয়েছে।২,বাংলাদেশের স্থপতির নাম এবং প্রতিষ্ঠান এর নাম বাদ দেয়ার কথা শুনা যাচ্ছে ।
বা-দিক থেকে স্থপতি মাসাহিরো ওনো, মূল্যায়ন কমিটির প্রধান আব্দুল হাই,সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস,স্থপতি ইউশি কিতাগাওা,মাকোতো হারাদা,এবং স্থপতি ডঃ মাসুম ইকবাল পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে বৈঠক শেষে।

বেজমেন্ট কার পার্কিং স্থপতিদের মূল ডিজাইনে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বি-১ এগাড়ী রাখার ব্যবস্থা থাকা সত্তেও তা বাতিল করেন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক। এই ব্যবস্থাটি না থাকার কারণে দূতাবাসে আমন্ত্রিত অতিথি, প্রবাসী বাংলাদেশী বৃন্দ, বিভিন্ন দেশের ভিসা গ্রহীতা গন সহ সকলের জন্য অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে।অধিকাংশ লোকজন গাড়ী নিয়ে দূতাবাসে আসবেন পারকিং না থাকার দরুন দূতাবাসের সামনেই গাড়ী রেখে ভিতরে প্রবেশ করবেন।এরকম চলতে থাকলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে আসেপাশের অধিবাসীরা। কয়েকদিন পূর্বে দূতাবাস দেখতে আসা এক পর্যটকের ধুম পান করার অভিযোগ শুনতে হয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদেরকে।এখানে উল্লেখ্য যে জাপান সম্রাটের অতি নিকট আত্মীয় স্বজনদের আবাস স্থল এর আশেপাশে।জাপান প্রবাসীদের বাংলাদেশের জাতীয় অনুষ্ঠানে গুলিতে হট্টগোল বলাই বাহুল্য। এ থেকে উপলব্ধি করা যায় বঙ্গবন্ধুর সময় কাল থেকে জাপান বাংলাদেশের যে বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল তা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক এটাকে বাতিল করার ফলে জাপান বাংলাদেশের বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্কের ফাটল ধরবে বলে অনেকেই ধারনাকরছেন।বিষয়টিতে প্রবাসীরা ক্ষোভ জানাচ্ছেন।এখানে দুর্নীতির আভাস পাচ্ছেন অনেকে।

বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দেয়ার কথা শুনা যাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের মূল নকশার সাথে জড়িত স্থপতি ডঃ মাসুম ইকবাল কে এবং তার প্রতিষ্ঠান ভার্নাকুলার আর্কিটেক্ট এর নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এদিকে দূতাবাসে ভবন সম্পর্কিত কোন কাগজ পত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।কাজটি আমাদের বাংলাদেশী স্থপতি অন্তর্ভুক্তির বিনিময়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট নম্বর (১০) বরাদ্দ ছিল । যাকে ডোমেস্টিক প্রেফারেন্স বলা হয়। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বেনিফিট অব ডোমেস্টিক প্রেফারেন্স গ্রহণ করে পরবর্তীতে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। ভবন নির্মাণের শেষ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয় ডঃ মাসুম ইকবাল এর সাথে । তার নাম এবং প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দেয়া হয়েছে জানতে পারেন জাপান প্রবাসী সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হক এর নিকট থেকে। স্থপতি ডঃ মাসুম ইকবাল বলেন, ( জাপানে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার খবর পেয়েছি এবং গত মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে , বিষয়টি খুবই আনন্দের নিঃসন্দেহে । জাপান প্রবাসী বাঙ্গালীরা এখন একটি নিজেদের জায়গায় মিলিত হতে পারবেন, দূতাবাসের কার্যক্রম খুব ভালভাবে সম্পাদিত হতে পারবে। এর ডিজাইন প্রনয়নে শুরু থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠান ভার্নাকুলার আর্কিটেক্ট সহ- পরামর্শক হিসাবে ছিল, এবং ভার্নাকুলার এর পক্ষ থেকে আমি ও আরেকজন স্থপতি আশিক ভাস্কর মান্নান প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। যদিও তখন দেশে আমার সাথে প্রকল্পটিতে আরও দুজন স্থপতি শরিফুল ইসলাম ও স্থপতি সুব্রত বিশ্বাস বাপ্পি কাজ করেছেন।আমাদের কোম্পানির নাম বাদ দিয়েছেন, শুনতে পাচ্ছি। যা সম্পূর্ণ ভাবে বেআইনি । বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে আমাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে মান্যবর রাষ্ট্রদূত (প্রকল্প পরিচালক) বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে)।

আগামী ২৫ থেকে ২৮ মে জি-৭ দেশ সমূহের আউটরিচ মিটিং এ যোগ দেওয়ার জন্য জাপানের প্রধান মন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশর প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমন্ত্রন জানিয়েছেন।ঐ সময়ের মধ্যে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা,বাংলাদেশ দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করিবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

জাপানে বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস নির্মাণ করে পৃথিবীর বুকে নতুন ভাবে পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠতায় দূতাবাস ভবনটি দ্রুততার সাথে শেষ করে বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিলেন। অভিনন্দন বাংলাদেশ সরকার কে । আমরা খুঁজে পেয়েছি একটি নিজস্ব ঠিকানা ।আপন আলোয় উদ্ভাসিত নতুন পরিসর।


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন



রাহমান মনি::
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে পাসপোর্টের তথ্য লেখা এবং পড়ার কাজটি শুরু করেছে। যাকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা সংক্ষেপে এমআরপি (গজচ) বলা হয়ে থাকে। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলো এতদিন পিছিয়ে ছিল। উন্নত দেশগুলো বারবার চাপ দেয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ হচ্ছিল না বা উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেকটাই উদাসীন ভাব দেখিয়েছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

অবশেষে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রথা চালু করার জন্য। আগামী মার্চ ২০১৫ এর সময়সীমা। এরপর আর হাতে লেখা কোনো পাসপোর্ট গ্রহণ করা হবে না। অর্থাৎ এর মধ্যে যারা ব্যর্থ হবেন, তারা আন্তর্জাতিক মহল থেকে ছিটকে পড়বেন।

বর্তমানে সারাবিশ্বে বিভিন্ন কারণে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বসবাস করছেন বৈধভাবে। আর অবৈধপথে এবং প্রতি বছর যাতায়াত করছেন আরও বহুসংখ্যক। এদের প্রত্যেকেরই দরকার সরকারি ছাড়পত্র বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশিদের পাসপোর্টের রং সবুজ হওয়ায় প্রবাসীদের কাছে তা সবুজ পাসপোর্ট হিসেবেই সমধিক পরিচিত।

বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৫, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭, কুয়েতে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৩৬২, মালয়েশিয়ায় ৭ লাখ ৮ হাজার ৪৪২, সিঙ্গাপুরে ৫ লাখ ২১ হাজার ৭৩৫, ওমানে ৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ এবং কাতারে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ জন শ্রমিক গিয়েছেন। (সূত্র : মানবজমিন)

আর জাপানে এই সংখ্যা নেহায়েতই কম। ইন্টারনেট সূত্র অনুযায়ী ৯ হাজার ৮৮২ জন। দূতাবাস সূত্র অনুযায়ী প্রায় ১১ হাজার। যার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬০০ জন এবং অন্যভাবে ৯ হাজারেরও কিছু বেশি।
আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের চাপে বাংলাদেশে ২০১৩তেই এমআরপি কার্যক্রম শুরু হলে জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৫ মার্চ ২০১৪তে। টোকিও দূতাবাস ৪২তম মিশন হিসেবে এমআরপি ও এমআরভি (মেশিন রিডেবল ভিসা) চালু হয়।

বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তাক আহম্মেদ, এমআরপি এবং এমআরভি প্রজেক্টের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাসুদ রেজওয়ান দূতাবাস ভবনে স্থানীয় প্রবাসী মিডিয়াকর্মী এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করেন।

প্রথমদিকে প্রবাসীদের অজ্ঞতা এবং দূতাবাসের সীমাবদ্ধতার জন্য প্রতিদিন ৮-১০টির বেশি কাজ করা যেত না। প্রবাসীদের অজ্ঞতা বলতে এমআরপি শুরু হওয়ার কথা না জানা, জানলেও অনলাইনে ফিলআপ না করে সরাসরি দূতাবাসের দ্বারস্থ হওয়া, জন্মনিবন্ধন না করানো ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। আর দূতাবাসের সীমাবদ্ধতা বলতে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের অভাব, স্থান সঙ্কুলান, কাজের পরিবেশকে বুঝানো হয়েছে।

এই বছর এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ৮/৯টির মতো আবেদন জমা নিতে পারছেন। যদি এই ধারা বজায় থাকে তাহলে ২০১৫ মার্চের মধ্যে সকলের পাসপোর্ট এমআরপিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না বলে বেশ উদ্বিগ্ন রয়েছেন তিনি।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং মেধাবীদের তিনি এমআরপি ও এমআরভি সেকশনে নিয়োগ দেন। দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি শাহনাজ রানুর নেতৃত্বে ৭ জন তরুণ মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে কনস্যুলার ভবনে স্থানান্তর করেন।

১৫ জুলাই ২০১৪ শাহনাজ রানু দায়িত্ব বুঝে নিয়ে রাষ্ট্রদূতের পরামর্শ মোতাবেক কাজ শুরু করেন। প্রথম চার মাসে যেখানে ৯শ’র মতো পাসপোর্টের আবেদন জমা নিতে পেরেছিলেন সেখানে পরবর্তী দুই (১৫ জুলাই-১৫ সেপ্টেম্বর) মাসে ১১শ’রও কিছু বেশি আবেদন জমা নিতে পেরেছেন। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম রোববার সর্বাধিক ৪২টি আবেদন জমা এবং ৫০টি পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে সক্ষম হন যা এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ রেকর্ডও বটে। উল্লেখ্য, প্রবাসীদের অনুরোধে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের (চারদলীয় জোট) নির্দেশে মাসের ১ম রোববার দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগ খোলা রাখা হয় এবং দূর-দূরান্ত থেকে প্রবাসীরা বিভিন্ন কাজের জন্য আসেন।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এমআরপি নিয়ে কাজের গতিতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছিলাম না। যেভাবে বা যে গতিতে কাজ এগোচ্ছিল তাতে করে ২০১৫ মার্চের মধ্যে সব পাসপোর্ট প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে আমার ধারণা হয়। কিন্তু এর মধ্যে তো কাজটি করতেই হবে। নচেৎ প্রবাসীরা বিপদে পড়ে যাবে। তাই সার্বিক বিবেচনায় গত জুলাই মাসে আমি কলিগদের সঙ্গে মিটিং করে মিশনের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন বা রি-অর্গানাইজড করি। শাহনাজ রানুর নেতৃত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম তৈরি করে দেই। এদের সবাই তরুণ ও মেধাবী। এখন মনে হচ্ছে কাজটি করা ভালোই হয়েছে। সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। তারাও বেশ আস্থা নিয়ে কাজ করছে।

গত দুই মাসের পর্যালোচনায় কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন এখন ২০ থেকে ২৫টি আবেদন গ্রহণ করতে পারছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি এমআরভি প্রদান করতে পারছেন। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও টিম যেভাবে কাজ করতে পারছে তাতে আমি আশাবাদী যে, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা সেবা প্রদানে সক্ষম হব। এখন প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের জানান দিতে হবে। আমরা ওয়েবসাইটে দিয়েছি। সম্ভাব্য সকল ধরনের প্রচারের ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রবাসীরা সময় থাকতেই যদি আসেন উভয়ের জন্য মঙ্গল হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কাজে গতি আনার জন্য স্থানীয়ভাবে অস্থায়ীভিত্তিতে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিজাম নামের নিয়োগকৃত ছেলেটির প্রথম দুই মাস কাজের মূল্যায়ন করেই এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে। আপনি জানেন, মাসের প্রথম রোববার দূতাবাসের কনুস্যলার বিভাগ খোলা থাকে এবং সেই দিনই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আবেদন জমা এবং পাসপোর্ট প্রদান হয়ে থাকে। যদি বিশেষ দরকার হয়, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে মাসে ২টি রোববার খোলা রেখে প্রবাসীদের সেবা দেবার চিন্তাও রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানান, একটি মাত্র ক্যামেরা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় সার্ভার থেকে লিংকটি ডাউনলোড করতে মাঝপথেই থেমে যায় সেভ করার আগেই। সেই ক্ষেত্রে আবার প্রথম থেকে কাজটি শুরু করতে হয়। ডাউনলোডেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি রয়ে যায়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও কাজে বিড়ম্বনা হয়। সিঙ্গেল সিস্টেমের কারণেই এটা বেশি হয়। এছাড়া একটি মাত্র ক্যামেরা, যদি কোনো কারণে বিগড়ে বসে বা ভেঙে যায় বা অকেজো হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আরও বেশি বিপদে পড়তে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে আমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন শীঘ্রই তিনি ব্যাকআপ সিস্টেমের ব্যবস্থা নিবেন। আপনি জানেন যে, এমআরপি এবং এমআরভির পুরো কাজটি পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা। সেনাবাহিনীর একদল চৌকস অফিসার এই সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদেরই নিরলস প্রচেষ্টায় কাজটি এগিয়ে চলেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসীরা যদি আরেকটু সচেতন হন, তাহলে কাজটি আরও সহজতর হয়। যেমন অনেকেই অনলাইনে ফরমটি পূরণ না করে হাতে লিখে নিয়ে আসেন। হাতে লেখা ফরম নিয়ে এলে বানান ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সময়ও লাগে বেশি। যেমন অনলাইনে পূরণ করে প্রিন্ট করে নিয়ে এলে কিংবা কর্তৃপক্ষ প্রেরিত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে আসার পরও সব মিলিয়ে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগে যায় এক একটি আবেদনের ক্ষেত্রে। আর হাতে লিখে নিয়ে এলে তা দেখে দেখে কম্পোজসহ সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট।

এছাড়া শিশুদের বেলায় সময় লাগে আরও বেশি। যেমন দুধের একটি শিশুর ছবি তুলতে গেলে অনেক বেগ পেতে হয়। কম্পিউটারের ডাটাবেজ অনুযায়ী ছবির বেলায় মুখমণ্ডলের ছবি থাকতে হবে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং পিছন দিকটা হতে হবে সাদা। এখন ওই শিশুকে তো আর বসিয়ে কিংবা দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা যাবে না। তুলতে হবে মায়ের কোলে। তাহলে আবার ব্যাকসাইড শর্ত ভঙ্গ হবে। শর্ত ভঙ্গ হলে কম্পিউটার তা গ্রহণ করবে না। তাই অনেক সময় কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হলে তারা কিছুটা শিথিল করেছেন শিশুদের ছবি তোলার বেলায়। পাসপোর্ট ডেলিভারিতেও সময় কম লাগছে এখন। প্রথমদিকে আবেদন গ্রহণ করার পর থেকে প্রদান করা পর্যন্ত ৬ সপ্তাহের ওপর সময় লেগে যেত। এখন ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছি।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিবন্ধীদের বেলায় দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকে।

স্থান সঙ্কুলান সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আপনি জানেন এটি একটি ভাড়া বাড়ি। বাড়িটি ভাড়া নিয়ে আমরা যাবতীয় কর্ম পরিচালনা করছি। সেই কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা সব ধরনের সেবা দিতে পারছি না। তবে আগামীতে যখন আমাদের নিজস্ব ভবন হবে, তখন আমরা প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের কথাটি মাথায় রেখে দূতাবাস ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করব।

কবে নাগাদ নিজস্ব ভবন নির্মিত হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বছরের শেষ নাগাদ কাজটি শুরু হবে এবং আগামী ১৪ মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। সেই হিসাবে ইনশাআল্লাহ ২০১৬ সালে জাপানপ্রবাসীরা জাপানের মাটিতে তাদের নিজস্ব দূতাবাস ভবন পাবেন এবং দূতাবাসও সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে সচেষ্ট থাকবে।
এছাড়াও রাষ্ট্রদূত জানান, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী জাপানি ভাষায় ভাষান্তরের কাজটিও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এনএইচকে (জাপান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) ওয়াও-এর বাংলা বিভাগের প্রধান ওয়াতানাবে কাজটি করছেন। আপনারা কিছুদিনের মধ্যেই জাপানিদের কাছে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পৌঁছে দিতে পারবেন। জাপানিরা বঙ্গবন্ধুকে আরও ভালোভাবে জানবে, সেই সঙ্গে জানবে বাংলাদেশকে।

দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব এবং এমআরপি ও এমআরভি টিমপ্রধান শাহনাজ রানু জানান, রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে এবং তার তদারকিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা কাজটি করতে পারব ইনশাআল্লাহ। তবে এই ব্যাপারে প্রবাসীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা যদি সময় শেষ হওয়ার আগেই কাজটি করিয়ে নেন তাহলে ভালো হয়।

কাজ করতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহনাজ রানু বলেন, সমস্যা তো কিছু হচ্ছেই। যেমন ধরেন, সবকিছুই করতে হচ্ছে অনলাইনে। এখানে জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপার আছে। অনেক প্রবাসীই আছেন অনেক আগেই দেশ ছেড়েছেন। জন্মনিবন্ধন কী তা-ও জানেন না এমন প্রবাসীও রয়েছেন। এখন বাংলাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ে আন্তর্জাল সুবিধা অতটা সহজলভ্য নয়, তাই সর্বশেষ আপডেট জানা সম্ভব হচ্ছে না। জন্মনিবন্ধন করেননি এমন প্রবাসীও রয়েছেন। আবার করে থাকলেও কপি বা মূল কোনোটাই সঙ্গে নেই। এমনকি নম্বরটি পর্যন্ত জানেন না। অজোপাড়াগাঁ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইমেইল বা অন্য কোনো প্রসেসে আনাও সম্ভব নয়। বাইপোস্টে আনা সময়সাপেক্ষ। আবার দেখা যায় পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধ পত্রের তথ্য অভিন্ন নয়। বানান ভুলও থাকে। সেই ক্ষেত্রে আমরা এখান থেকে পাসপোর্টে দেয়া তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি নিয়ে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করে থাকি। কী করব বলেন, এটার জন্য তো আর সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। আবার এটা ছাড়া অনলাইনও আবেদনটি গ্রহণ করবে না।

স্থানীয় প্রবাসী রাজনৈতিক বা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে কোনো প্রকার চাপ বা তদবিরের সম্মুখীন হচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহনাজ রানু বলেন, অন্য দেশের কথা বলতে পারব না। তবে, যেহেতু জাপানে কাজ করছি তাই এখানকার অভিজ্ঞতা থেকেই বলব, কোনো ধরনের চাপ তদবির এখানকার নেতৃবৃন্দ করছেন না। বরং সহযোগিতাই করছেন, এমনকি নিয়ম মেনেই নিজেরটাও করছেন। জাপান প্রবাসীরা খুব হেল্পফুল। তারা একদিকে যেমন জাপানি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তেমনি অপরদিকে রয়েছে গভীর দেশপ্রেম। দেশের কোনো বদনাম হবে, এমন কোনো কাজ তারা করছেন না। সেই হিসেবে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবতী মনে করি এমন একটি পরিবেশ পেয়ে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশ সংস্কৃতির সব ধরনের আয়োজনই তারা জাপানের আইন মেনেই করে থাকে। সবচেয়ে গর্বের ব্যাপার হচ্ছে এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক এমআরপি সমস্যাজনিত কারণে ঝুঁকিতে রয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারলে এসব দেশে লাখ লাখ শ্রমিককে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে হবে।

বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সাতটি দেশে অবস্থিত ১০টি মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং স্থাপনের অনুমোদন দেন। সরকারি আদেশও জারি করা হয়। কিন্তু বাদ সাধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিজেদের কর্তৃত্ব হাতছাড়া করতে রাজি নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা উইংয়ের জন্য সৃষ্টি করা ৭৩টি নতুন পদের বিরোধিতা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেরিত এক চিঠিতে জানা যায়, সারা বিশ্বে ২০১৫ সালের মধ্যে এমআরপি এবং এমআরভি কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং। তা নিত্যান্তই সাময়িক। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, আউট সোর্সিং কার্যক্রমের দ্রুত বাস্তবায়ন, এমআরপি ও এমআরভি-র ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার যেমন অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই, ঢাকাস্থ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব। এতে একদিকে যেন নতুন পদ সৃষ্টি ও দাপ্তরিক স্থাপনা সম্প্রসারণ এড়ানো সম্ভব হবে, তেমনি অপরদিকে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ভার পরিহার করেও উন্নত কনস্যুলার সেবা দেয়া সম্ভব হবে। সূত্র মানবজমিন।

চিঠি চালাচালিতে যা-ই উঠে আসুক না কেন, স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে মিশনগুলোতে এত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীদের এমআরপি প্রদান যে প্রায় অসম্ভব, এটাই বাস্তবতা। আর তা সম্ভব না হলে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে প্রবাসীদের। যাদের অর্থে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তাদের বিড়ম্বনা লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ পদক্ষেপ নেবেন, এটাই প্রবাসীদের কাম্য। জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের আশাবাদে জাপানপ্রবাসীরা সন্তুষ্ট হতে পারলেও অন্যান্য দেশে আশার আলো ক্ষীণ। সরকার যত তাড়াতাড়ি বিষয়টি অনুধাবন করে ব্যবস্থা নিতে পারবে, প্রবাসীদের ততটাই মঙ্গল হবে।
rahmanmoni@gmail.com

-সৌজন্যেঃ সাপ্তাহিক

পাতাটি ৩০৮০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…