কেউ জানে কেউ জানে না (৩২তম সংখ্যা)



শরাফুল ইসলাম

১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক সচিত্র স্বদেশে একটি তথ্য এবং ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিবেদন লিখেছিলাম। শিরোনাম ছিলো ‘বিজয়ের প্রথম উচ্চারণ, মহান বিজয় দিবস উপলে স্বদেশ বিশেষ সংখ্যাতে প্রকাশিত আমার এই লেখাটি খুব সমাদৃত হয়েছিলো। যদিও আমি তখন নগন্যদের চাইতেও এক ধাপ নীচের লেখক। কিন্তু লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বেশ ক’জন বিশেষ ব্যক্তি আমাকে বিশেষভাবে বাহবা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে চরমপত্র খ্যাত এম আর আখতার মুকুল চলচ্চিত্র এশার খান আতাউর রহমান কবি বেগম সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগঠক বেলাল মোহাম্মদ অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান শহীদুল ইসলাম, টি এইচ শিকদার এবং নাসির উদ্দিন ইফসুফ বাচ্চু।
সচিত্র স্বদেশ তখন একটি ঝলমলে আলোচিত আলোকিত সাপ্তাহিক ইতিহাসের বহুমাত্রিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রচ্ছদ কাহিনী হিসেবেও স্থান পেতো। আমার শিক সহ সাংবাদিক খন্দকার হাসনাত করিম ছিলেন এ কাগজের একজন অন্যতম সিপাহসালার। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বিদেশী সাংবাদিকের দৃষ্টিতে শেখ মুজিবের বাংলাদেশ তখন বেশ আলোচিত। আমার সাংবাদিকতা জীবনের শিক, গুরু কিংবা কমান্ডার হিসেবে দু’জনের নাম স্পষ্টারে বড় বড় হরফে লিখতে হবে। তাদের একজন মাহবুবুর রহমান রুশো অন্যজন খন্দকার হাসনাত করিম। এ ছাড়া সানাউল্লাহ নূরী, সিরাজুল হক, সৈয়দ সিরাজুল কবীর সহ স্বনামখ্যাত একজন প্রবীন সাংবাদিকের নিয়মিত উপদেশ পরামর্শ এবং নির্দেশনায় তাঁদের একজন অবুজ হিসেবে উত্তরনের পথ প্রসস্থ করেছে।

সচিত্র স্বদেশে ‘বিজয়ের প্রথম উচ্চরণ নিয়ে আলাপ কালে পিন্টু ভাই লুফে নেন বিষয়টি। মুহূর্তে শিরোনামে বেরিয়ে আসে তার মুখ থেকে। আর আমার স্বপ্ন জাগে এই প্রতিবেদন থেকে এক সময় একটি বই প্রকাশ করবো। পরবর্তীতে বিজয়ের প্রথম উচ্চরণ, গ্রন্থের কাজটি সম্পাদনা করেছি। কিন্তু কোন প্রকাশকের কাছে দেওয়ার সুযোগ পাইনি প্রবাসী হওয়ার কারনে। নি:সন্দেহে বইটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নির্ভেজাল দলিলের মর্যাদা পাবে এবং পেতেই হবে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে প্রখ্যাত কন্ঠ শিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদীর সহযোগিতা পেয়েছিলাম। তিনি তখন কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীতে চাকরী করতেন। তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা গুলো ইচ্ছেমতো ব্যবহারের সুযোগ দেন। ফটোকপি করার মতো সাহায্যও করেছেন তিনি। তাই একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পীর মর্যাদার তিনি যেমন শ্রদ্ধাম্পদেষু তেমনই মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কর্ম নিয়ে তার প্রসারিত সহযোগিতা কৃতজ্ঞতায় বেঁধে রাখার মতো।

বিজয়ের প্রথম উচ্চরণ শিরোনামের প্রতিবেদন এবং পরবর্তীতে গ্রন্থ প্রকাশের গরেষণাকালে আরও যাদের বিশেষ সহযোগিতা পেয়েছি, তারা হলেন নাসির উদ্দিন, ইউসুফ বাচ্চু, শফিকুল ইসলাম স্বপন, এ কিউ এম আবদুর রউফ, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, সজেয় শ্যাম, শহীদুল ইসলাম, মোবারক হোসেন খান।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। তাই দিনটি আমাদের বিজয় দিবস। এই বিজয়ের প্রথম দিনে অর্থাৎ বাংলাদেশ নামক নতুন স্বাধীন দেশের ১ দিন বয়সে সারা দেশে কি কি ঘটেছিলো। সংবাদ পত্র প্রকাশ রেডিওর অনুষ্ঠান শুরু, বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম পর্দা, প্রথম ঘোষণা, প্রথম গান, প্রথম নাটক অর্থাৎ প্রথম উচ্চারণ এই সব নিয়ে দুর্লভ ছবি সহ একটি ঐতিহাসিক প্রামাণ্য কাজ ছিলো এটা।
জাতীয় সম্প্রাচার কেন্দ্রে মোবারক হোসেন খান তখন রেডিওতে চাকরী করতেন। কুমিল্লার প্রখ্যাত খাঁ পরিবারের একজন সফল পুরুষ। তার বাবা ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ, চাচা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ভাই ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান, শেখ সাদী খান, চাচাতো ভাই ওস্তাদ আলী আকবর খান। মোবারক হোসেন খান ও একজন ওস্তাদ। তিনি সুর বাহারের সুবিখ্যাত ওস্তাদ। কিন্তু সরকারী আমলা হিসেবে তার সাফল্যও কম যায়নি। সর্বশেষে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দুই দফা দায়িত্ব পালন করেন। দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক সহ অসংখ্য পুরস্কার। আমি যথন শাহবাগে তার অফিসে যাই, তখন একজন কন্ঠ শিল্পী বসে ছিলেন তার ক।ে এসেছেন চট্ট্রগ্রাম থেকে। নাম কৈতরুন্নেসা।

(চলবে) 


কেউ জানে কেউ জানেনা (২৯তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম (গত সংখ্যার পর) টিনার অপমৃত্যু একজন নিষ্ঠাবার শিল্পীকে ছিনিয়ে নেয়। দৌলদিয়া ফেরীতে গাড়ী…


কেউ জানে কেউ জানেনা (৩১তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম (গত সংখ্যার পর) ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই কবি সাহিত্যিকদের পরিচিতিমূলক গ্রন্থ সংকলন করেছেন। বাংলা…


কেউ জানে কেউ জানে না (৩২তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম ১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক সচিত্র স্বদেশে একটি তথ্য এবং ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিবেদন লিখেছিলাম। শিরোনাম…


Then in time and history (38 issue)

Recapping the story told so far: A young man still in his teens arrives in…


[জাপান কাহিনী ] -প্রথম জাপানী বন্ধু

আশির আহমেদ:: {গত পর্বের কন্টিনিউনিটি দিচ্ছি। আমার পিতৃতুল্য যেই ব্যাক্তির কথা বলছি, উনার নাম আওয়ানো…

Then in time and history (38 issue)



Recapping the story told so far:

A young man still in his teens arrives in Tokyo from the then East Pakistan (presently Bangladesh) to study and happens to meet Shokichi, his long time pen pal. Together, one day they visit Kamakura, the military capital of feudal Japan, to explore. There, awash in the splendor of the seaside city, they suddenly discover telltale signs of misery and realize all too well that it isn’t all beauty extending before them… The mystery deepens when something terrible is whispered to the young man from Dhaka who could hardly suppress the rending cry now pressing deep in his heart… Then one day, Shokichi’s mother visits… and speaks against the girl her son loves…Shokichi listens intently, then, begs her to let him be… but discord lingers… Yet life evolves amid all its imperfections and mysteries and slowly things begin to take shape, as if on their own… And Yuriko, Shokichi’s mother, seems to undergo a subtle change of heart… Life’s dilemma still lingers… And, one day, to her utter disenchantment, Chiyo appears in the scene, followed by Crystal Clear…Then, Yuriko visits and meets Crystal…who later returns to America. In an unexpected turn of events, Marie suddenly encounters another reality of her life, as does Shokichi as she begins to drift away from him… Then one day, fond memories of his past begin to torment Shokichi… and continue to do so for a long time…

One

Beguiled, mystified and visibly offended, there he stood; oblivious to the glory of the fading sun, trying to sooth himself from the hurt deep inside, as splintered, fragmented bits of memory seemed to tug on him without a stop. Opposite him, in the shade of a pine tree, stood I, thinking nothing in particular, but enjoying the throbbing, pulsating colors of the evening sky.
Just about then, when the rushes and slanting hedges on the river bank and everything else in nature were smoking dusk, Shokichi stepped forward, and stood in front of me, and looking straight into my eyes, said, seeming quite out of sorts,

–“Is that all you could think of? Like me having Crystal as a substitute for Marie?”
–“Which makes one thing absolutely clear to me that in spite of so much time spent together, you could grasp very little of me.”

Thus, added Shokichi, rather as an afterthought.
It was, as though, he had a regular mask on, which was suddenly yanked away, baring him utterly, and revealing all things unsightly.

On hearing Shokichi, a twinge of regret ran through my mind, but before I could react, a voice from inside reached out to me, whispering: Go on, you had it right.

It was kind of weird, but I paid little attention to it, preferring to remain silent, and concentrating, rather selfishly, on things of my picking. But soon, I grew aware of the weight of things unsaid coming down to rest heavily upon me, and supposed, Marie might have seen things in a different light.
Now Shokichi, too, fell silent and let time slip past him. It was then that he got aware of a sudden stir inside him, as though, it was something akin to the echo of time rushing past him like a cool morning breeze, unseen, unheralded. And as if, it was, the whisper of bygone days, clamor of the churning of wheels of time that never stopped… not for once… since it all had began from the dawn of times, even before the big bang when stars and heavens exploded into existence…. and long before the discovery of mathematical eternity, and the very beginning of time that man viewed with an overpowering sense of awe.
Separated by time and historical perception… and …unaware of the tragic reality of our earthly existence, we stood upon this remote corner of planet earth, swept by a tide of a new kind of realization and an upsurge of wild emotion.

It was not that I recalled everything in an orderly manner, retelling things the way they happened… and it was also quite possible that they never did… Yet the images of things past were coming, literally, of their own, as if from the vast and unseen storehouses of memory.
However, then in an unusual turn of events, we suddenly found ourselves traveling back in time regardless of our own feelings, and presently, traced ourselves back in Kamakura, once the center of power in feudal Japan, as time tick-tocked, click-clocked past us, as we moved forward, and suddenly grew aware of the sniveling whimper of a child, which rose and fell in utter melancholy, piercing the stillness of this scenic seaside city. We looked around for the desperate, miserable child, but he was nowhere to be seen.
Now, in a very special way, life took on the quality of a dream, here, in the broad daylight of this city of Kamakura. And we found, to our surprise, that our sorties into the past could well stretch into long days and nights, and we could do absolutely nothing to hasten it to our advantage, and thus remained kind of prisoners of age and time.

The child, in his heart-rending anguish, cried unceasingly for a time, drawing sharp lines of torment upon our faces. Presently, he stopped for a time and then, cried, as if from within our hearts, the whining sobs now coming only sporadically, troubling us to the core. And the hurt feelings lingered
Soon, though, Shokichi hovered back to the present, and fell to thinking of Crystal, recalling that all initiatives for their physical intimacies were taken by her, and in a way, he was innocent of all that transpired between them since that time, when he was invited to her private flat for a home cooked evening meal and he was duly greeted by her, as she came out of the shower, wrapped only in a bath towel, which slipped down before his stunned eyes, even before he could reach her to hug, generating in him an insatiable hunger for the soft touch of a woman’s flesh and a desire to travel all the way.
This lust and hunger also led him on a later day to Chiyo who came visiting him one evening when light and shadows played before them in the western horizon. This timing, and something magical overcame these two young persons and they were soon joined in a perfect physical union. However, come morning, the things underwent a rapid change, and the pleasures of the night before were soon washed away by the onslaught of a torrent of tears issuing from Chiyo’s swollen eyes, even though Shokichi did nothing, and nothing at all, against her free will.

Two

We were finally made aware of the nature of things transpiring in Kamakura. It wasn’t all that beauty that we thought of. There were tears, too, shed in the colors of red and blue. Slowly, the gravity of the situation began to grow on us. The light-hearted playfulness in our personalities was no more. We stood speechless like strangers in the wilderness, no grain of the fun loving humor in us, remaining.
Could this pathetic cry of the child be for his father who had just been beheaded by the sword of a samurai? Or was it for his mother who might have been ordered into exile for no crime of her own?” Or was it a lament for his own life, appearing so expendable? No one could quite tell with a degree of certainty.
Thereon, the mournful whimpering rose again… and this time, it was coming from a distance, and was gradually fading. Soon, it grew louder once again…then faded… It continued this way for a time, grating unendurably upon the nerves…
Though utterly strange it might sound, Shokichi, too, had now begun to act somewhat erratically. His heart seemed to swell up in misery until it filled his bosom. And he had other things to mind, and other crosses to bear.

Three

Now, in another strange turn of events, we saw blood in the nature, flowing thick and crimson, among the mountains, blackening with time…

We saw swords of the samurai in action… men cut dead on their feet… blood spurting out and dripping down onto their feet and earth beneath… bodies twitching in the throes of death… sleep-drenched samurai, the common men with loincloth, tousled hair, peering out… heads rolling free… more blood gushing out… and flowing randomly… bodies falling onto bodies, lifeless, and some still alive and grasping for air…

The dead and spent bodies, piling up high upon the lamenting, rocky earth… and the assassins walking sure-footed, in the gathering furor, and under the cover of darkness… walking over fallen men and women, into the innermost corridors and outside gardens of the daimyo, with swords ready and poised for death thrusts… and spill more blood…
I turned around from all this and froze, refusing to see any more scenes from the samurai past, which are riddled with sudden spurts of cruelty.

Shokichi looked at me and smiled pensively, but didn’t utter a single word of comfort. He remained silent like a statue, smiling, as if sculptured in solid bronze.
–“Did Shokichi see what I did?” I wondered.

–“Or could all this be, of my own making? But how could that be?”
I inquired of myself in utter incredulity… Life was strange, and inexplicable, I surmised… and probably fate, too, having a part to play.

Four

The day was clear, but the wind was blowing forcefully from the sea. That drove away the heat and the sweat with it. The sea was so near I tested sea salt in the air… I was still in a trance, and flinched from falling shadows… and saw figures in samurai garbs walking past me with drawn swords… And I noticed kids dressed, too, like samurai, playing among the people with top-knotted hairs upon their heads… Young ladies in colorful kimonos, their legs curled under them, were seen bowing and serving tea to assembled guests in the house of a Daimyo, the top samurai in the region…

Presently a number of maids entered the parlor with covered dishes….They all wore uniform kimonos with blue and pink flower works on them and matching blue and silver-checked obis… The covered dish contained an assortment of specially prepared meat, fish and vegetables. It was served with a bowl of rice, soup and salted pickles.
An abundant supply of rice wine was also available for the honored guests. A lady with skillful fingers played the samisen, a stringed Japanese musical instrument in one elevated corner of the room… Suddenly, the purity of the music, the lushness of its rhythm, filled the hushed night with sheer ecstasy. The aggregation of samurais in the parlor, which was open to the garden and the sea beyond, sat spellbound, intrigues momentarily forgotten.

I seemed to enter into a world inside a world existing in parallel, and I didn’t know how I did it. I found myself extremely vulnerable communicating between the two realities. Shokichi was pressing me to walk to the seashore. But I wouldn’t move out of the city center as I found myself entrenched outside the parlor of the gathering samurais, enjoying the moment… Finally, with some persuasion and jostling, Shokichi succeeded in dragging me out of the crowd and on to the seashore. It was a ten-minute walk in a splendid environment. Once there in the seashore, we sat on the raised concrete embankment relishing the scenic beauty of the Pacific Ocean beyond which lay my motherland.
The waves breaking against the shores of Kamakura were cresting, and the gusts of wind were frothing the waves decorating the shores with a pale whiteness in the approaching evening darkness.

Suddenly… not vaguely or…distractedly as you might think… we saw her… Shokichi and me… standing clearly within our range of view… the lady in brocaded kimono who played the samisen in the parlor of a Daimyo… the gold threads of her evening dress catching the dim light of the station and shining, as she raised her hand in a gesture of goodwill…

Five

Her lips pursed in discontent, as she realized, with a bit of drama, what were to come, but Marie did not like it. She did not like the thought of it, not after Shokichi’s encounters with Crystal, the American girl, and Chiyo, her childhood friend, as if everything had happened quite mechanically, his brute emotions gaining the upper hand.
Marie would never approve of it.

Suddenly, the sky opened, and the rain came down, gradually raging into a terrible fury. The rain pounded the earth mercilessly.
And Shokichi, his expression intent and serious, and his eyes shaking in utter repentance, tried to beg her pardon, but Marie would not hear of it. Shokichi’s words were wrought with longing, but they did not touch her heart.
She had forgiven Crystal and Chiyo, but not Shokichi, for he had never imagined his adventures could have any negative consequences.

However, there was one very central, and unshiftable truth — Shokichi was no longer physically pure, which she was. Marie knew love involved a degree of suffering, but not this kind of suffering, for sure.
One strange thing was that, deep in her heart, Marie did not suffer from any hurt feelings, regardless of what Shokichi might or might not have done.

Would that mean she was never in love with him, not even for once?
The answer to that was probably yes, which is what hurt her the most. There, though, one might readily ask: what had she been doing with Shokichi this far?
She could not say.

It was probably life that took over by then, she supposed, speeding up things or events or scenes with people in it. No single human being had any part in it to play.


কেউ জানে কেউ জানেনা (২৯তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম (গত সংখ্যার পর) টিনার অপমৃত্যু একজন নিষ্ঠাবার শিল্পীকে ছিনিয়ে নেয়। দৌলদিয়া ফেরীতে গাড়ী…


কেউ জানে কেউ জানেনা (৩১তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম (গত সংখ্যার পর) ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই কবি সাহিত্যিকদের পরিচিতিমূলক গ্রন্থ সংকলন করেছেন। বাংলা…


কেউ জানে কেউ জানে না (৩২তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম ১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক সচিত্র স্বদেশে একটি তথ্য এবং ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিবেদন লিখেছিলাম। শিরোনাম…


Then in time and history (38 issue)

Recapping the story told so far: A young man still in his teens arrives in…


[জাপান কাহিনী ] -প্রথম জাপানী বন্ধু

আশির আহমেদ:: {গত পর্বের কন্টিনিউনিটি দিচ্ছি। আমার পিতৃতুল্য যেই ব্যাক্তির কথা বলছি, উনার নাম আওয়ানো…

[জাপান কাহিনী ] -প্রথম জাপানী বন্ধু



আশির আহমেদ::

{গত পর্বের কন্টিনিউনিটি দিচ্ছি। আমার পিতৃতুল্য যেই ব্যাক্তির কথা বলছি, উনার নাম আওয়ানো মিকিও। উনার ফিউনারেল নিয়েই এই পর্বে লিখার কথা। লিখতে গিয়ে মনে হলো, উনার সাথে কিভাবে পরিচয় হলো, তা জানানো দরকার} আওয়ানো ফ্যামিলির সাথে প্রথম দেখা ২৫ বছর আগে। ১৯৮৮ সালের ২২শে অক্টোবর। জাপানে আসার মাত্র ১৯ দিন পর। পরিচয়ের পর্ব টা ও বেশ নাটকীয়। আমাদের জাপানীজ স্কুলে একটা অনুষ্ঠান হচ্ছিল। প্রথম দেখা উনাদের একমাত্র ছেলে শিমনের সাথে। অনুষ্ঠান বলতে তেমন কিছু না। বিদেশী ছাত্রদের জন্য টোকেনের মাধ্যমে অতি সস্তায় দৈনন্দিন ব্যবহারযোগ্য জিনিস পত্র বিক্রি হচ্ছিল। বাংলাদেশ থেকে আসা আমরা তিন কিশোর টোকেনের নিয়ম কানুন বুঝতে না বুঝতেই সব সাবাড় হয়ে গেল। স্কুল আঙিনার এক পাশে দাড়িয়ে হতাশায় আক্রান্ত আমরা তিন জন গল্প করছিলাম। দেখি নয়-দশ বছরের একটা ছেলে। আমাদের দিকে হ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। কাধে একটা ক্যামেরা ঝুলানো। ক্যানন অটোবয়। আমার কাধে ও একই ক্যামেরা। খাচ বাংলায় গিয়ে বললাম, দ্যাখ তোর ক্যামেরা আর আমার ক্যামেরা এক। দিলাম তোরে একটা চিমটি। ছেলেটা খট খট করে হেসে উঠলো। আমরা যাই বলি ছেলেটা কেবলই হাসে। কিছুক্ষণ পর ওর বাবা-মা এসে হাজির হল। কারো কথা কেউ বুঝিনা। আমরা কিছু বলি, উনারা হাসেন। উনারা বলেন, আমরা হাসি। ডায়েরী থেকে কাগজ বের করে আমাদের ডরমিটরীর ঠিকানা আর ফোন নম্বর দিলাম। উনারা ও দিলেন। বাবা ইংরেজীতে ঠিকানা লিখছেন- মা ও ছেলে গর্বের সাথে দেখছেন। ঠিকানা লেখা শেষ, আবার ও হাসাহাসি। কথা শেষ, বল্লাম একটা ছবি নিতে চাই। ছবি নিতেই আমার রিল শেষ হয়ে গেল। ডিজিটাল ক্যামেরা তখনো আবিষ্কার হয়নি। ছেলেটাও ছবি নিল। তার ও রিল শেষ হয়ে গেল। আমি আবার ও গিয়ে চিমটি দিলাম। ছেলেটা হো হো করে হেসে উঠলো ।

সাত দিন পরের কথা। আমার পোষ্ট বক্সে দেখি একটা ফলের বাক্স আর সাথে জাপানী ভাষায় লিখা একটা চিঠি। দোভাষী দিয়ে চিঠি পড়ালাম। দোভাষী বল্লেন, আওয়ানো নামে এক ফ্যামিলির সাথে তোমাদের দেখা হয়েছিল। উনারা তোমাদের সাথে আবার দেখা করতে চান। আমি উত্তর দিলাম- আগামী ২৩ শে নভেম্বর আমাদের কোমাবা ফরেন স্টুডেন্ট্স হাউসে “ওপেন হাউস” ফেস্টিভাল হবে। আপনারা আমাদের দাওয়াত গ্রহন করুন। উনারা ওপেন হাউসে আসলেন। আমাদের সংগে সারাদিন কাটালেন। ইতিমধ্যে আমাদের জাপানীজ ভাষার ভালো উন্নতি হয়েছে। টুকটাক শব্দ বলি, উনারা চরম উৎসাহে শুনেন এবং হাসেন। নুতন বাচ্চারা নুতন শব্দ উচ্চারণ করলে সবাই যেমন হাততালি দিয়ে উঠে, ঠিক তেমন অবস্থা। টোকিও র ভাষা স্কুলে আমরা ছয়মাস কাটালাম। মোটামুটি প্রতি সপ্তাহেই উনারা আসতেন। আমাদের এদিক ওদিক নিয়ে যেতেন। রবিবার দুপুরের খাবার প্রায়ই একসংগে খেতাম। ১৯৮৯ সালের মার্চ মাস। আমাদের ভাষা শিক্ষা শেষ। আমরা তিনজন টোকিও ছাড়লাম। স্ব স্ব কলেজে লেখাপড়া শুরু করলাম। আমার চিঠি লেখার নেশা ছিল। উনাদের সাথে প্রতিনিয়ত পত্র ও টেলিফোন যোগাযোগ ছিল। ১৯৯০ সালের মার্চ মাস। বসন্তের ছুটিতে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশে যাচ্ছি। টোকি ও এসেই দেখি মহা কান্ড। আওয়ানো আম্মাজান একটি সুটকেস তৈরী করে রেখেছেন। আমার ভাই-বোন, বাবা-মা, কাজিন, বন্ধু-বান্ধব সবার জন্য গিফ্ট কিনে ব্যাগ ভর্তি করে রেখেছেন। আমি বাংলাদেশে পৌছে এক বিরাট চিঠি দিলাম। গিফট পেয়ে কার কি অনুভূতি সব লিখে পাঠালাম। এক মাস পর জাপানে ফিরে এসে টোকিও স্টেশনের কাছে এক রিভলভিং রেষ্টুরেন্টে বসলাম। বিল্ডিং টার উপরের তলাটা ঘুরে। খেতে খেতে ৩৬০ ডিগ্রী টোকিও দেখা যায়। আজ ছেলেটা আসেনি। ৪ ঘন্টা যাবৎ শুধু বাংলাদেশের গল্পই বলেছি। । গল্প আর শেষ হয় না।গল্প শুধু আমিই বলে যাচ্ছি। এক সময় মনে হলো উনারা ও কিছু বলতে চান। একজন আরেকজনের দিকে তাকাচ্ছেন, “আমি বলি- না তুমি বলো, না-না তুমি বলো” টাইপের চোখ চাওয়া চাওয়ির পিং পং চলছে। অতঃপর আমার জাপানী বাবা মুখ খুললেন। বল্লেন- আমাদের ছেলে শিমন একটু অসুস্থ। এই কথা বলার সাথেই সাথেই আম্মাজান রুমাল নিলেন। কি ঘটতে যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিনা। বাপজান বল্লেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই শিমনের জন্ম হলো। ওর ব্রেইন টা পর্যাপ্ত পরিমানে ডেভেলপ করেনি। জন্ম থেকে ও অমন ভাবে কখনো প্রাণ খুলে হাসেনি । ঐদিন স্কুলের আঙিনায় তোমাদের সঙ্গে যেদিন শিমনের প্রথম দেখা, তখন শিমন তোমাদের সাথে হাসাহাসি করছিল। শিমনের আম্মা আমাকে ডেকে নিয়ে দুর থেকে দেখালো। আমরা দুর থেকে নয়ন ভরে শিমনের উৎফুল্লতা দেখলাম। পরে আমরা ডাক্তারের সাথে এই কাহিনী বলেছি। ডাক্তার বল্লেন, যত পারো শিমন কে ওদের সাথে মিশতে দাও। ওর ব্রেইন ততই এক্টিভ হবে, পূর্ণতা আসবে। এইবার মা জিজ্ঞাস করলেন- আচ্ছা বলতো, তোমরা বাংলাদেশী ছেলেগুলো এতো হাসি-খুশি কেন? এত উচ্ছ্বাস তোমরা কোথায় পাও? এই প্রশ্নের উত্তর কিভাবে দিব? আমি বোকার মত উত্তর দিলাম- আমাদের মত ছেলে মেয়ে বাংলাদেশে বস্তায় বস্তায় আছে। মা বলে উঠলেন, তাহলে আমার ছেলেকে তোমরা একবার বাংলাদেশে নিয়ে যাবে? ওর সমবয়সী ছেলে মেয়েদের সাথে খেলাধুলা করবে। আমি কি উত্তর দিয়েছি, মনে নেই। তবে আজ হলে বলতাম, “আবার জিগায়” । যেই কথা সেই কাজ। ১৯৯৩ সালের বসন্তের ছুটিতে ১৩ বছরের শিমন আমাদের সাথে বাংলাদেশে এল। ১৯৮৮ সালে প্রথম ব্যাচে আমরা ৩ জন। ৮৯ সালে ২ জন। ৯০ সালে ৩ জন। এরকম করে মোটামোটি ডজন খানেক বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী তখন জাপানে। সবার সাথেই আওয়ানো ফ্যামিলির একই রকম সম্পর্ক। আমরা সবাই শিমন কে নিয়ে বাংলাদেশে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। ১৩ বছরের ধবধবে সাদা একটা জাপানী বাচ্চা। যেখানেই নিয়ে যাই সেখানেই সে মধ্যমণি। ঢাকার এক বিয়েতে নিয়ে গেলাম। ওর সমবয়সী এক মেয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। সে মহা খুশী। ঐ মেয়ের সাথে ছবি তোলার জন্য একটু পর পর আমাকে খোচায়। বুঝলাম, ছেলে নরমাল আছে। ১৪ দিন ছিল তার ভিসার মেয়াদ। আমরা তাকে এয়ারপোর্ট পৌছে দিতে যাচ্ছি, অনেক লাজুক ভঙ্গিতে কানে কানে বললো – আর কয়েকদিন থাকা যায়না? আমার তো এখনো স্কুল বন্ধ। আমার এক বছরের জুনিয়র ছেলেটা বলে উঠলো, “আশির ভাই, চলেন রেখে দেই, কাল অন্তত বলতে পারবো, বাংলাদেশে জাপানী এক পিস ইলিগ্যাল আছে”। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে শিমন কে বিমানে উঠিয়ে দিলাম। শিমনের অবস্থা অনেকটা ইম্প্রুভ করলেও মাঝে মাঝে আবার সে তার নিজস্ব জগতে ফিরে যায়। এখন শিমন একজন মঞ্চ অভিনেতা। টি,ভি তে বাইলিংগুয়েল মুভি গুলোতে আবহ কথক হিসাবে ও কাজ করে। আওয়ানো ফ্যামিলি মনে করেন, শিমনের অবস্থা যতটুকু ইম্প্রুভ করেছে তার পুরো ক্রেডিট জাপানে পড়তে আসা এই বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীদের। মা-জান মনে করেন, বাপ-জান যে অতিরিক্ত ৩ টি মাস বেচেছিলেন- তার ক্রেডিট ও একই ব্যাক্তিদের। পৃথিবীটা আসলেই ছোট। মানুষের মন তার চাইতে অনেক বড়। এই বড়ত্ব টুকু কাকতালীয় ভাবেই বের হয়ে আসে। পড়াশুনা আর ট্রেনিং দিয়ে কি আর সব হয়?
[চলবে]


কেউ জানে কেউ জানেনা (২৯তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম (গত সংখ্যার পর) টিনার অপমৃত্যু একজন নিষ্ঠাবার শিল্পীকে ছিনিয়ে নেয়। দৌলদিয়া ফেরীতে গাড়ী…


কেউ জানে কেউ জানেনা (৩১তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম (গত সংখ্যার পর) ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই কবি সাহিত্যিকদের পরিচিতিমূলক গ্রন্থ সংকলন করেছেন। বাংলা…


কেউ জানে কেউ জানে না (৩২তম সংখ্যা)

শরাফুল ইসলাম ১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক সচিত্র স্বদেশে একটি তথ্য এবং ইতিহাস ভিত্তিক প্রতিবেদন লিখেছিলাম। শিরোনাম…


Then in time and history (38 issue)

Recapping the story told so far: A young man still in his teens arrives in…


[জাপান কাহিনী ] -প্রথম জাপানী বন্ধু

আশির আহমেদ:: {গত পর্বের কন্টিনিউনিটি দিচ্ছি। আমার পিতৃতুল্য যেই ব্যাক্তির কথা বলছি, উনার নাম আওয়ানো…

শেষ গোঁ-টা ত্যাগ করুন, দেশের জন্য ভাল নিজের জন্যও ভাল



সাঈদ তারেক
নির্বাচন হবে কিনা হলে কি ধরনের হবে না হলে কি হবে এসব নিয়ে সারা দেশের মানুষ সন্দেহের দোলাচলে দুলে চললেও অন্তত: একজন মনে প্রাণে বিশ্বাষ করেন নির্বাচন যথা সময়েই হবে এবং তা সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ মতাসীনদের অধীনেই-, তিনি হচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়া। বিরোধীরা যেখানে আন্দোলনের দামামা পেটাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী সেখানে নৌকায় ভোট দিয়ে আবার তাকে মতায় পাঠানোর জন্য আকুল আবেদন করে ফিরছেন।
এটা একদিকে ভাল। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়া দেশে একটা নির্বাচনী আবহ তৈরীর চেষ্টা করছেন। মানুষ তো নির্বাচনই চায়। হানাহানি মারামারি রক্তারক্তির পরিবর্তে রাজনীতি নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত হোক এটাই তো সবার কাম্য। দেশে ভোট হোক, সবাই অবাধে ভোট দেয়ার সুযোগ পাক সে ভোটের ফলাফল ঠিকমত প্রকাশ হোক। কিন্তু সন্দেহ দেখা দিয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হলে তেমনটি হবে কিনা। সব দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, সবাই নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে কিনা মতার জন্য নিজেদের পছন্দের দলকে বেছে নিতে পারবে কিনা।

এই সন্দেহ থেকেই মূলত: তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী। গত আটান্ন মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর মনে এমন ধারনা দিতে পারেন নাই যে তার অধীনে নির্বাচনে গনরায় ঠিকমত প্রতিফলিত হতে পারবে। মানুষ এটাও মনে করেনা মৌলিক গনতান্ত্রিক সংবিধানিক বা মানবাধিকারের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল বা দেশে আইনের শাষনে বিন্দুমাত্র আন্তরিক। উল্টো তার সম্পর্কে ধারনা- কায়েম করেছেন একব্যক্তির শাষন খেয়ালখুশীর শাষন যাকে বলা হয় স্বৈর শাষন। আইন আদালত পকেটে প্রশাসনে দলীয় ক্যাডার র‌্যাব পুলিশ ঠ্যাঙারে বাহিনী। এক ব্যক্তির আঙুলে হেলনে যেখানে সবাই ওঠে আর বসে সেখানে আর যাই হোক গনতন্ত্র থাকেনা। মিডিয়াগুলো পর্যন্ত আজ্ঞাবহ। কোন একটা মিডিয়া বা অনুগ্রহভোগী সুশীলদের কাউকে আজ পর্যন্ত বলতে শোনা যায় নাই যে এই সরকার একটি স্বৈরাচারি সরকার, শেখ হাসিনা ‘স্বৈরাচার’। আমরা স্বাধীনতার পর বাকশালী স্বৈরাচার দেখেছি সামরিক স্বৈরাচার দেখেছি ’৯১-এর পর সংসদীয় স্বৈরাচার দেখেছি কিন্তু শেখ হাসিনা বর্তমানে যে ইচ্ছামর্জিতন্ত্র কায়েম করেছেন তা তূলনাহীন। আমাদের দেশে এরশাদ সাহেব স্বৈরাচার নামে ব্রান্ডেড। কেউ কেউ বলেন শেখ হাসিনা সেই এরশাদ স্বৈরাচারের চাইতেও নিকৃষ্ট স্বৈরাচার। এরশাদ সাহেব এ দেশের সংখ্যাগুরু ধর্মবিশ্বাষীদের মনে আঘাত দেয়ার সাহস পান নাই শেখ হাসিনা অবলীলায় তেমন কাজ করে গেছেন, সংবিধান থেকে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাষ’ তুলে দিয়েছেন। এরশাদ স্বৈরাচার অতীত খুঁচিয়ে পরিবেশ দূর্গন্ধময় করেন নাই শেখ হাসিনা তথাকথিত যুদ্ধাপরাধি বিচারের জজবা তুলে মানুষের মনে হিংসা ক্রোধ উষ্কে দিয়েছেন, সমাজে রক্তারক্তি হানাহনির পরিবেশ তৈরী করেছেন। এরশাদ সাহেব আইন আদালতকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন নাই শেখ হাসিনা পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকেই পদানত করে রেখেছেন। এরশাদ স্বৈরাচার মানী লোকদের মান রেখে চলেছেন শেখ হাসিনা পদে পদে দেশের তাবৎ জ্ঞানীগুনী শিতি ভদ্র সজ্জন বা সম্মানী লোকদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন অকারন বকাবাজি করেছেন ঢোলকবাহিনী সমবিভ্যারে তাদের চরিত্রহনন করে গেছেন। ভিন্নমত দমন করেছেন যাকে পছন্দ হয় নাই জেলে নিয়ে তুলেছেন।

এসব কারনেই ভয় নিজ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেখানে শেখ হাসিনা নিজেই প্লেয়ার নিজেই রেফারি- কতটুকু সাধুসন্তু হতে পারবেন। কথায় কথায় বলেন অন্যান্ন গনতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় আমাদের দেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে। অবশ্যই তাই হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশটা কি গনতান্ত্রিক? কোন গনতান্ত্রিক দেশে কি নির্বাচন কমিশন সরকারের অজ্ঞাবহ থাকে? বিচারকরা কি সরকারের চাহিদামাফিক রায় প্রদান করে? প্রশাসন কি আগে দেশের স্বার্থ দেখে না ব্যক্তির স্বার্থ দেখে! আইনশৃংখলা রাকারি বাহিনীগুলো কি সরকারের সেবক না জনগনের সেবক? হ্যাঁ মাননীয় শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনই সবাই মেনে নিতো যদি আটান্ন মাস ধরে তিনি দেশে স্বৈরাচার কায়েম না করতেন, যদি তিনি আওয়ামী শাসন চালু না করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেন, দেশের মানুষকে ‘আমাদের প’ আর ‘শত্র“প’ ভাগে ভাগ না করে সবাইকে আপন ভাবতে পারতেন। দেশে যদি আইনের শাসন থাকতো, আদালতগুলো স্বাধীন থাকতো প্রশাসন নিরুপে থাকতো র‌্যাব পুলিশ দলীয় ঠ্যাঙারে বাহিনী না হয়ে জনগনের সেবক বাহিনী হতো- দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতো। শেখ হাসিনা যদি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারতেন তার অধীনে নির্বাচন হলে অসুবিধা কি। শুধু তাই নয় মানুষ যদি এমনটাও মনে করতে পারতো এই ভদ্রমহিলা দেশের জন্য কিছু করতে পারুন নাই পারুন অন্তত: চেষ্টা করেছেন, এঁর হাতেই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ, ইনি মতায় থাকলে ভারতীয়রা এখানে এসে দাদাগীরি ফলাতে পারবেনা বা সংখ্যাগুরু ধর্মবিশ্বাষীর আবেগ অনুভূতির প্রতি ইনি ন্যুনতম শ্রদ্ধাশীল তাহলে পরের পাঁচ বছর কেন আজীবনের জন্য তাকে মতায় রেখে দিলেই বা তি কি! চুরি লুটপাট তো বিএনপি মতায় এলেও করবে, এরাও করছে। রাজনীতিকদের চুরি বাটপারি আঙুল ফুলে রাতারাতি কলাগাছ বনে যাওয়া এগুলো তো আমরা মেনেই নিয়েছি। আমাদের কাছে এদের খাওয়া যা ওদের খাওয়াও তা। কথা হচ্ছে দেশটা কোথায় থাকবে!

শেখ হাসিনা এই জায়গাটায় এসে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন নাই। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ বা খাদ্যোৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা- এসব অর্জনে হাসিনা সরকার কেন এ জাতীয় কোন সরকারেরই খুব একটা ভূমিকা থাকেনা। এরা শুধু রেকর্ডকিপারের ভূমিকা পালন করে। দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে কোটীর ওপর প্রবাসী গ্রামীন ব্যাংকের মত কয়েকটা এনজিও পোশাক শিল্প এবং কৃষক জনগোষ্ঠীসহ সাধারন মানুষের সচেতনতা। সরকারগুলো এসে শুধু পরের ধনে পোদ্দারীর মত ফুটানী মাড়ায়, সরকারের লোকজন পাবলিকের ঘাড় মটকিয়ে বাড়ী গাড়ী ব্যাংক ব্যালেন্স ষ্ফীত করে। কাজেই এ দেশে মতায় হাসিনা থাকলেন না খালেদা থাকলেন এটা খুব একটা ম্যাটার করেনা। এজন্য আমরা একটা সিস্টেম মেনে নিয়েছি- এই পাঁচ বছর ইনি পরের পাঁচ বছর উনি। যতদিন আল্লাহতায়ালা হায়াত রেখেছেন উনারা চালিয়ে যাবেন তাতে কেউ বাধ তো সাধেন নাই! সে হিসাবে পরের টার্ম বেগম জিয়ার। কিন্তু শেখ হাসিনা গোঁ ধরেছেন, উনি ছাড়বেন না।
গোলটা বেঁধেছে এখানেই। বেগম জিয়ার দাবী জেনুইন, হিসাবের পাওনা কে ছাড়ে! আবার ওদিকে মাননীয় শেখ হাসিনার কেসটাও একেবারে ফেলে দেবার মত নয়। পাঁচ বছরে আকামের ঘড়া এতটাই পূর্ণ হয়েছে যে মতায় না থাকলে অনেকের দেশেই থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে। রামরাজত্ব চলে যাচ্ছে এটা আঁচ করতে পেরে সরকার এবং সরকারি দলের লোকজন নাকি এর মধ্যেই বিভিন্ন দূতাবাসে গিয়ে ভিসার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু সকলেই তো আর ইন্ডিয়ায় ফ্যাট বাড়ী কিনতে বা ভাড়া করে রাখতে পারেন নাই। তাছাড়া পাঁচ বছরে কত আর কামানো গেছে! তা দিয়ে ইউরোপ আমেরিকায় বাড়ী কেনা বা সেসব দেশে গিয়ে দুই চার বছর থাকার মত সঙ্গতিই বা ক’জন অর্জন করতে পেরেছেন! এরপর রয়েছে পরের সরকার এলে লুটের টাকার ভাগ তাদেরকে দেয়া, নইলে সম্পত্তি বাজেয়াফ্ত বা জেল মামলা রিমান্ড!
মোদ্দা কথা পিঠ বাঁচানো বা জান মাল রার জন্যই পরের পাঁচ বছরও আওয়ামী লীগের মতায় থাকা দরকার। একটা ব্যপার পরিষ্কার হয়ে গেছে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন মানে পরের পাঁচ বছরও তিনিই মতায়। সরকারপ্রধান হিসাবে সকল মেকানিজম থাকবে তার হাতে। যেহেতু ছলে বলে কৌশলে তাকেই মতায় থাকতে হবে, সকল মেকানিজমই তিনি এস্তেমাল করবেন এটা বলাই বাহল্য। ওদিকে দলনিরুপে ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন হলে বেগম জিয়া বা বিরোধী জোট মতায়। কথা পরিষ্কার, যারা চাইছেন পরের পাঁচ বছরও শেখ হাসিনাই থাকুন তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প।ে যারা হাসিনা সরকারের বিদায় চান তারা তত্বাবধায়ক ব্যবস্থাপনার প।ে সে হিসাবে ব্যপারটা এসে দাঁড়িয়েছে পরের টার্মেও শেখ হাসিনা থাকবেন কি থাকবেন না।

নির্বাচন কবে হবে কেউ জানে না। নির্বাচন কার অধীনে হবে সে জটও এখনও খোলেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখনও তার সংকল্পে অটল। নির্বাচন পরিচালনাকারি সরকারের প্রধান পদে তাকে থাকতেই হবে। অবশ্য এটাও ঠিক সম্রাজ্ঞীর মর্যাদায় সরকার প্রধান হিসাবে যে সিকিউরিটি এবং রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তা তিনি এখন পেয়ে আসছেন মতা ছেড়ে দিলে সেসবের অনেক কিছুই থাকবে না। এতে ভোটের ক্যাম্পেইন তো দুরের কথা স্বাভাবিক চলাফেরাই অসুবিধা হয়ে যাবে। আবার এটাও ভাবতে পারেন মতা চলে গেলে দেশেই বা বসবাস করবেন কিভাবে। জনরোষ থেকে দলের লোকদেরকে বাঁচাবেন কিভাবে।

একথা বলার অপো রাখেনা জনমত আর এখন আগের মত শেখ হাসিনার পে নাই। দল নিরুপে ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন হলে পরাজয়ের আশংকা শতভাগ। এ অবস্থায় জোরজবরদস্তি করে হয়তো আরও কিছুদিন মতায় থেকে যাওয়া যাবে কিন্তু তা কোনক্রমেই আজীবনের জন্য প্রলম্বিত করা যাবে না। এক দিন না একদিন শেখ হাসিনাকে মতা থেকে যেতেই হবে। এটাই সত্য এটাই বাস্তব। যদি তাই হয় বাস্তবতাকে মেনে নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। শুণ্য কলশ বাজে বেশী বা ‘আবার মতায় আসার তথ্য আছে’ ‘আমরাই আবার মতায়’জাতীয় ঢক্কানিনাদ বাজিয়ে দলের লোকজনের মনোবল ধরে রাখা বা প্রশাসনকে পে রাখার ব্যপারটা ঠিক আছে কিন্তু ইতিহাসের আস্তাকুড়ে ঠাঁই নিতে না হলে ভবিতব্য মেনে নিতে হবে। সেফ এগজিট নিয়ে কথাবার্তা বলা শুরু করা যেতে পারে। যারা জট খুলতে দৌড়ঝাপ করছেন শেখ হাসিনাকে বোঝাতে পারেন বিরোধী দলে গেলেও তার নিরাপত্তা বা দেশে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। মতা চলে গেলেও তার কোন অসুবিধা হবেনা। অনেকে বলেন অতিমাত্রায় ভয় থেকে মানুষ প্রলাপ বকতে শুরু করে। মাননীয় শেখ হাসিনাকে এখন মতা হারানোর আতংক তাড়া করে ফিরছে। তিনি জানেন সরকারে না থাকলে কি পরিনতি হতে পারে। এ অবস্থায় তাকে আস্বস্ত করতে পারলে জেদ গোঁয়ার্ত্তুমি থেকে তিনি সড়ে আসতে পারেন বলে আমার ধারনা। তিনিও তো মানুষ। পাঁচ বছর অনেক গোঁয়ার্ত্তুমি তিনি করেছেন। এটা নিশ্চয়ই বুঝবেন এই শেষ গোয়ার্ত্তুমিটা ত্যাগ করলে দেশের জন্য ভাল তার জন্যও ভাল।


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


শেষ গোঁ-টা ত্যাগ করুন, দেশের জন্য ভাল নিজের জন্যও ভাল

সাঈদ তারেক নির্বাচন হবে কিনা হলে কি ধরনের হবে না হলে কি হবে এসব নিয়ে…


নজরুলের রাজনীতি এবং বিদ্রোহ

মোমিন মেহেদী মাগো! আমায় বলতে পারিস/ কোথায় ছিলাম আমি/ কোন-না জানা দেশ থেকে তোর কোলে…


দেশ বাঁচলে তবেই আপনারা বাঁচবেন

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দেখতে দেখতে ২১ দিন হয়ে গেল। কত মানুষের কত কথা, রাস্তায়…

নজরুলের রাজনীতি এবং বিদ্রোহ



মোমিন মেহেদী
মাগো! আমায় বলতে পারিস/ কোথায় ছিলাম আমি/ কোন-না জানা দেশ থেকে তোর কোলে এলাম নামি?/ আমি যখন আসিনি, মা তুই কি আঁখি মেলে/ চাঁদকে বুঝি বলতিস -ঐ ঘরছাড়া মোর ছেলে?/ শুকতারাকে বলতিস কি আয়রে নেমে আয়/ তোর রূপ যে মায়ের কোলে বেশী শোভা পায় ‘কোথায় ছিলাম আমি’ শীর্ষক ছড়ায় এভাবেই বলেছেন নতুন প্রজন্মের জন্য নিবেদিত কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আমাদের বাংলাদেশীদের জাতীয় কবিও। পাশাপাশি সাম্যের কবি, বিদ্রোহের কবি, সাহসের কবি এবং শিশু-কিশোর তথা নতুনের কবি। তিনিই একমাত্র কবি বাংলা সাহিত্যে যিনি নির্মাণ করেছেন নতুনদের জন্য অসংখ্য নিরিক্ষাধর্মী লেখা। শুধু এখানেই শেষ নয়; পড়ার ছলে ছড়ার ছলে তিনি নিয়ে এসেছেন ন¤্রতা-ভদ্রতা আর শুদ্ধতার শিক্ষাও। যার প্রমাণ মেলে মানুষ নয়; প্রজাপতির সাথে তাঁর কথা বলার মধ্য থেকে। যেমন তিনি নিজেকে অ- নে-ক বিনয়ী করে প্রজাপতির কাছে প্রশ্ন করছেন, প্রজাপতি, প্রজাপতি,/ কোথায় পেলে ভাই অমন রঙিন পাখা?/ ওই লাল-নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা…

তিনি নিজেকে কখনোই অন্যদের মত করে উপস্থাপন করেন নি। বরং অন্য কবি-ছড়াকারদের বিপরীতে হেঁটেছেন। তুলে ধরেছেন মায়ের প্রতি অগাধ সম্মান আর শ্রদ্ধার কথা, তুলে ধরেছেন বাবার প্রতি নিরন্তর আনুগত্যের কথা। পাশাপাশি শিক্ষক, বন্ধু, সহপাঠি; কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে তাও তুলে ধরতেন তাঁর লেখায়। ব্যাক্তি জীবনে নিজেকে কখনোই অন্যদের মত আরাম-আয়েশে রাখার সুযোগ পান নি। বাবা মারা গেছেন খুব ছোট বয়সে, ঘরে অভাব লেগেই থাকতো সবসময়; কিন্তু তারপরও তিনি পড়বেন, গড়বেন নতুন জীবন। এমন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সবসময়। যে কারনে লেটোর দলে গান গেয়ে, মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে, মক্তব্যে ওস্তাদজি হিসেবে শিক্ষা দান করে পড়ালেখা-জীবন যাপনের খরচ বহনের চেষ্টা করেছেন। পরে যখন তাতেও আর চলছিলো না, তখন আসানসোল শহরের রুটির দোকানে এসে চাকুরী নেন। দিনে রুটি বানান, রাতে বই পড়েন, সুর করে পূঁথি পড়েন। আসলে নজরুল তুলনাহীন একজন মানুষ, একজন কবি। যার রাজনীতি, যার সাহিত্যনীতি, যার সমাজনীতি, যার উদারনীতি আজো বাংলাদেশে সমাদৃত। আর এ কারনেই তিনি আমাদের মত একটা বীরের জাতির জাতীয় কবি। যাকে বলা যায়, আলোর পথের পথিকৃৎ। ছোটোবেলা থেকেই নজরুল খুব প্রতিভাধর ছিলেন। পাশাপাশি সাহসী, প্রত্যয়ী এবং বিশ্বাসী। যে কারনে জীবনে অনেক কষ্ট করে নিজেকে এত উঁচু পর্যায়ে আনতে পেরেছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ২৪ মে ( ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী ফকির আহমদ। মা জায়েদা খাতুন। খুব ছোটবেলায় নজরুলের বাবা-মা মারা যান। তারপর শুরু হয় দারিদ্র্য এবং অন্যসব প্রতিকূলতার সঙ্গে তার লড়াই। ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল বলে নজরুলের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। এই দুখু মিয়ার মত হাজারো দুখু মিয়া আমাদের চারপাশে এখনো আছে, কিন্তু তাঁর মত তারা প্রত্যয়ী না। যে কারনে তাদের পরিবর্তন আসে না। পরিবর্তন তখন-ই আসে যখন নিজেকে বিজয়ী করার জন্য নিবেদিত থাকে। আর সেই নিবেদিত থাকার তালিকায় আমাদের নতুনের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন এক নম্বরে। যে কারনে গ্রামের মক্তব থেকে প্রাথমিক শিা শেষ করেন নজরুল। মাত্র বারো বছর বয়সে যোগ দেন গ্রামের লেটো গানের দলে। গ্রামের মক্তবেও কিছুদিন শিকতা করেন তিনি। তারপর আসানসোলে রুটির দোকানে কাজ নেন। সেখানে এক বাঙালি পুলিশ অফিসারের নজরে পড়ে যান তিনি। সেই অফিসার তাকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে নিয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় নজরুল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাবাহিনীর হাবিলদার হিসেবে যোগদান করেন। এখানেই তার প্রাতিষ্ঠানিক শিার সমাপ্তি ঘটে। তিনি কিন্তু এর মধ্যেও তার প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবেও দেখিয়েছেন কৃতিত্ব। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে নবযুগ, লাঙ্গল ও ধূমকেতু পত্রিকা। নজরুলের প্রকাশিত প্রথম কবিতা ছিল ‘মুক্তি’। কিন্তু তাকে খ্যাতি এনে দেয় ‘বিদ্রোহী’ নামক কবিতা। এ কবিতার কারণে পরবর্তীতে তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি রচনা করে নজরুল ব্রিটিশ শাসকদের ব্যঙ্গ করেছিলেন। এ কারণে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে তাকে কারাগারে বন্দি করা হয়।

তবুও লেখালেখি ছাড়েননি নজরুল। একের পর এক কালজয়ী সব লেখা সৃষ্টি করেছেন। তিনি লিখেছেন, কারার ঐ লৌহ কপাট/ ভেঙে ফেল কর রে লোপাট শিকল পূঁজার পাষাণ বেদি/ ওরে ও তরুণ ঈষাণ বাজারে বাজারে বিষাণ বাজারে বাজা…
চির বিদ্রোহী মানুষ সবসময় আমাদের দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য নিবেদিত থেকেছেন। যে কারনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বিদ্রোহী বল বীর, বল উন্নত মম শির…

অন্যদিকে একটি জাতিকে বীরের জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে থাকার জন্য লিখেছেন, চল চল চল/ উর্ধ¦ গগণে বাজে মাদল চলরে চলরে চল/ অরুণ প্রাতের তরুণ দল/ চলরে চলরে চল…

অবশ্য সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, আমাদের রণ সঙ্গীত-ই হলো এই চলরে চলরে চল। এই রণ সঙ্গীতের মাধ্যমে আমাদের সেনা বাহিনী নিবেদিত হয় আমাদের দেশের জন্য। প্রাণপন লড়ে যায় এই দেশের জন্য। সেই রণ সঙ্গীতের জনক জাতীয় কবির প্রতি তিব্র ভালোবাসা-সম্মান আর শ্রদ্ধার ফুলের ডালা-ফুলের মালা।
তিনি সবসময়-ই পৃথিবী বিজয়ের স্বপ্ন দেখতেন। যখন বৃটিশরা দেশ চালাতো, তখন নজরুল পৃথিবী বিজয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে লিখতেন, থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে/ দেখব এবার জগৎটাকে/ কেমন করে ঘুরছে মানুষ/ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে…
কেননা, নজরুল জানতেন আমি বিজয় না করতে পারলেও বাঙালি জাতি একদিন ঠিকই বিজয় ছিনিয়ে আনবে ব্রিটিশদের কাছ থেকে, বেনিয়াদের কাছ থেকে অথবা অন্য কোন পরাশক্তির কাছ থেকে। হয়তো একারনেই আমি হব সকাল বেলার পাখি/ সবার আগে কুসুমবাগে উঠব আমি ডাকি/ সূর্যিমামা ওঠার আগে উঠব আমি জেগে/ হয়নি সকাল, ঘুমোও এখন মা বলবেন রেগে… লিখে আমাদের মত নতুনদের মনে নতুন আশার বীজ বুনেছেন। যাতে করে আমরা আমাদের দেশকে রাখি শত্রু মুক্ত।

তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য অনেক লিখেছেন। তার লেখা শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ঝিঙেফুল, সঞ্চয়ন, পিলে পটকা, ঘুম জাগানো পাখি, ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি এবং ছোটদের জন্য নাটকের মধ্যে আছে ‘পুতুলের বিয়ে’সহ অসংখ্য লেখা তিনি লিখেছেন নতুনের ঘুম ভাঙানের লক্ষ্যে, সাহসের পক্ষে।

যাইহোক, কষ্ট করতে করতে কান্ত কবি কাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাকশক্তি হারান। পরে চির বিদ্রোহী এই কবিকে বাংলাদেশ সরকার দেশে এনে জাতীয় কবির সম্মান প্রদান করে। এরপর বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি চিরদিনের জন্য পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। কিন্তু রেখেন নিরন্তর সব সম্পদ; যা কালে কালান্তরে নতুনদেরকে জাগিয়ে তুলবে বাংলাদেশকে ভালোবাসার জন্য, বিজয়ী করার জন্য। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর-ই লেখা গান, ‘মসজিদের-ই পাশে আমায় কবর দিও ভাই/ যেন সেথায় থেকে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই’ কথাকে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়। তিনি এখনো আজান শুনছেন, আর অপেক্ষা করছেন সেই বিজয়ের, যে বিজয় তিনি আনতে না পারলেও বাঙালি জাতি আনবেই। সেই চির বিজয়ীর জন্য নিবেদিন করছি আমাদের পঙতিমালা, বিদ্রোহী হয়ে বিদ্রোহ করে দেখালেন যেই পথ/ সেখানে নতুন আলো/ আপনার মত তৈরি আমরা সরাতে আঁধার কালো/ নজরুল প্রিয় ঝিঙেফুল প্রিয় প্রিয় আপনার সুর/ আপনার পথে হেঁটে যেতে যেতে যাবোই বহুদূর/ আনবো বিজয় আপনার সেই স্বপ্ন পুরন করে/ সাজানো থাকবে বাংলাদেশে সম্মান থরে থরে…

মোমিন মেহেদী : কলামিস্ট ও আহবায়ক, নতুনধারা বাংলাদেশ


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


শেষ গোঁ-টা ত্যাগ করুন, দেশের জন্য ভাল নিজের জন্যও ভাল

সাঈদ তারেক নির্বাচন হবে কিনা হলে কি ধরনের হবে না হলে কি হবে এসব নিয়ে…


নজরুলের রাজনীতি এবং বিদ্রোহ

মোমিন মেহেদী মাগো! আমায় বলতে পারিস/ কোথায় ছিলাম আমি/ কোন-না জানা দেশ থেকে তোর কোলে…


দেশ বাঁচলে তবেই আপনারা বাঁচবেন

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দেখতে দেখতে ২১ দিন হয়ে গেল। কত মানুষের কত কথা, রাস্তায়…

দেশের হানাহানির রাজনীতি বৃটেনে, অস্বস্তিতে প্রবাসীরা



আশিক মাহমুদ, লন্ডন থেকে

লন্ডন: বৃটেনে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে দেশের অসহনশীল রাজনৈতিক আবহাওয়ার প্রভাব বাড়ছে। সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনা সেই দিকেই দিকনির্দেশ করে। শুধু রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নয়, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনেও মতপার্থক্য নিয়ে ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।

বৃটেনে বসবাসরত রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা মনে করছেন, এসব ঘটনা বৃটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে যেমন অস্বস্তি তৈরি করছে তেমনি বাংলাদেশ ও দেশের মানুষ সম্পর্কেও বিরূপ বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে বৃটেন সরকারের কাছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এর প্রতিক্রিয়া অদূর ভবিষ্যতে পড়তে পারে বাংলাদেশী কমিউনিটির ওপর।

সবশেষ, গত ১০ সেপ্টেম্বর লন্ডনে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা ইউকের অফিসে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে লাঞ্ছিত করা হয়। যা দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের অস্থির রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে চলতি মাসেই বার্মিংহামে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সম্মেলনে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা আর কুইনমেরি ইউনিভার্সিটিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সেমিনার দলীয় অন্তঃকোন্দলে পণ্ড হওয়া প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিতে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। আর প্রতিটি ঘটনাতেই বৃটেন পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃটেনে একটি কর্মী সম্মেলন করেন, যা দলীয় কর্মীদের বিশৃঙ্খলায় পণ্ড হয়ে যায়। পরে স্থান পরিবর্তন করে সেই সভাটি সম্পন্ন হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বৃটেনে এসে হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ও সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব। এমনকি হামলার শিকার হতে হয়েছে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতিকেও। বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক লন্ডনে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে ডেগেনহাম এলাকায় হামলার শিকার হন। সম্প্রতি তার দেয়া কয়েকটি রায়ের কারণে দেশে বিদেশে তিনি ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হন।

এছাড়া লন্ডনে লাঞ্ছিত হয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। বার্মিংহামে হামলার শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত বর্ষিয়ান নেতা আব্দুল জলিল। বৃটেনে এসে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে আলোচিত সাংবাদিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহামুদুর রহমানকে।

এর আগে ২০১০ সালে হাউজ অব লর্ডসের সদস্যদের সামনে স্কুল অব ইকোনমিক্সসে আওয়ামী লীগ-বিএনপি লড়াই দেখেছেন বিদেশীরা। আর দলীয় সঙ্কীর্ণ রাজনীতির প্রভাব শুধু রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মাঝে নয়, পড়ছে বাংলাদেশভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোতেও।

বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহিব চৌধুরী বললেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে বৃটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে রাজনৈতিক সহিংসতা কমিউনিটির অসম্মান বয়ে আনছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এ ধরনের ঘটনাগুলো হেয় করছে বাংলাদেশীদের বিভিন্ন অর্জন।”

মুহিব চৌধুরী বলেন, “দেশের সহিংস রাজনীতিরই প্রভাব পড়ছে বৃটেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনে।” তার মতে, বাংলাদেশে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিপরীত দুই মেরুতে অবস্থান করে। দুই নেত্রী একে অপরের প্রতি যে অসহিষ্ণু রাজনৈতিক বক্তব্য দেন এরতার বৃটেনের রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে।

তিনি জানান, এর আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের সময় বৃটেনে এ ধরনের কিছু রাজনৈতিক সংঘাত হয়েছিল। পরে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি জানান, দেশে যখন আগামী নির্বাচনকালীন সরকার কী হবে তা নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে তখন সেই প্রভাব বৃটেনের বাংলাদেশী কমিউনীটিতেও পড়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুষ্ঠু নিরেপেক্ষ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে এর প্রভাব বৃটেনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোতে আরো তীব্রভাবে পড়বে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট নিরসন হলে তার ইতিবাচক প্রভাবও পড়বে বৃটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে।”

দীর্ঘদিন বসবাস করা এ প্রবীণ সাংবাদিক বৃটেনে বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে সহনশীলতা কমে যাবার পেছনে আরো কয়েকটি কারণকে দায়ী করেন। তার মতে, বিলেতে এক ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করতে এদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতা-কর্মী সহিংস পথ বেছে নিচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত না করে এ ধরনের ব্যক্তিরা ব্যবহার করছেন দলীয় হিংসা বিদ্বেষ।

রাজনৈতিক হামলার এসব ঘটনা নিয়ে কথা হয় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমানের সঙ্গে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুলতান মাহমুদ শরীফ বললেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগীরা আসন নিয়েছে। রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা। তিনি বলেন, ভিন্ন মত শুনতে না চাওয়ার প্রবণতা থেকেই এসব ঘটনা। তিনি আরো বলেন, সঠিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া না থাকায় রাজনীতির নামে এমন ধরনের ঘটনা চলছে।

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান জানান, বিএনপি কোনোভাবেই রাজনীতির নামে কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা সমর্থন করে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ভিন্ন উপায়ে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে। ফলে সারাদেশে একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণে দেশের সাধারন মানুষের মতো পৃথিবীর যেখানে বাংলাদেশীরা আছেন তারাও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন সরকারের প্রতি। এর প্রতিক্রিয়ায়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করেন মাহিদুর রহমান। তবে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে বৃটেন কমিউনিটির সবাইকে সহনশীল হবার আহ্বান জানান।

প্রায় দুই’শর বেশি দেশের মানুষ বৃটেনে অভিবাসী হিসেবে বসবাস করে। আর এই অভিবাসীদের মাঝে একটি বড় অংশ হলো বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসী। শত বছরের বেশি সময় ধরে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশীদের অর্জনও কম নয়। বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আছে বৃটেনে পার্লামেন্টে। আছে হাউজ অব লর্ডসের সদস্য। বৃটেনের অসংখ্য বারার কাউন্সিলরসহ বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে আছেন নির্বাহী মেয়র।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যে কারণেই বৃটেনে বাংলাদেশের রাজনীতিকেন্দ্রিক সহিংসতা হোক না কেন তা বাঙালি জাতির সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরছে। বৃটেনের মূলধারায় অবদান রাখা বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য বয়ে আনছে দুর্নাম। আর বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক ধারা বৃটেনে বেড়ে উঠা বাঙালি ছেলে মেয়েদের মাঝে দেশ সম্পর্কে তৈরি করছে অনাগ্রহ। তৈরি হচ্ছে, দেশবিমুখতা।


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…


যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে ফিলিস্তিন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে ফিলিস্তিন

যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তাকে 'আলোচনা'র জন্য ডাকা হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়া…


ইসলামে শিয়া-সুন্নি নেই, ধর্ম একটাই

ইসলামে শিয়া-সুন্নি নেই, ধর্ম একটাই

সুন্নি বা শিয়া নামে কোনো ধর্ম নেই, আমাদের ধর্ম একটাই, সেটা হলো ইসলাম।  বলেছেন তুরস্কের…


বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলার চেষ্টা ২০ আইএস জঙ্গি গ্রেফতার

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলার চেষ্টা ২০ আইএস জঙ্গি গ্রেফতার

বর্ষবরণের রাতে ভয়াবহ নাইট ক্লাব হামলার ছক ছিল৷ আইএস জঙ্গিদের সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিল সরকার৷…


প্রথমে হিন্দু রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে মিয়ানমার

প্রথমে হিন্দু রোহিঙ্গাদেরফেরত নিচ্ছে মিয়ানমার

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হবে৷ তবে মিয়ানমার ঘোষণা…


দেশের হানাহানির রাজনীতি বৃটেনে, অস্বস্তিতে প্রবাসীরা

আশিক মাহমুদ, লন্ডন থেকে লন্ডন: বৃটেনে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যে দেশের অসহনশীল রাজনৈতিক আবহাওয়ার প্রভাব বাড়ছে।…

দেশ বাঁচলে তবেই আপনারা বাঁচবেন



বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
দেখতে দেখতে ২১ দিন হয়ে গেল। কত মানুষের কত কথা, রাস্তায় দেখে কতজন হাউমাউ করে কাঁদে, কিছু বুঝি কিছু বুঝি না। কুশিমণি গলা ধরে জিজ্ঞাসা করে, ‘বাবা, তোমার শরীর খারাপ হয়নি তো?’ দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসের যন্ত্রণা ভোগ করছি, তাই কিছু কষ্ট তো হয়ই। কিন্তু তেমন খারাপ লাগে না। যে দেশকে জন্ম দিয়েছি সেই দেশের জন্য, সেই দেশের মানুষের জন্য কিছুই যখন করতে পারলাম না তখন অস্বস্তি নিয়ে থাকার চেয়ে ফুটপাতে পড়ে থাকা অনেক ভালো। অন্তর্দহন থেকে তো বেঁচে থাকা যায়। তাই খারাপের চেয়ে ভালোই লাগে বেশি। তবে কিছু কিছু জ্বালাতন যে নেই তেমন নয়। ব্যাংক, শেয়ার ব্যবসায়ী ও গার্মেন্টের বায়াররা ছবি তোলায় ব্যস্ত, তাতে কিছুটা খারাপ লাগে। আবার অনেকের সঙ্গে ছবি তুলতে বেশ ভালোও লাগে। এই যে বস্তির এক ছোট্ট বাচ্চা সোহেল কোলে শুয়ে নির্বিঘ্নে ঘুমাচ্ছে, এতে আমি কুশি মাকে কোলে নেওয়ার স্বাদ পাচ্ছি। তাই ভালো-মন্দ নিয়েই কেটে যাচ্ছে দিন-রাত। কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করে, আর কত দিন? বলেছি, যত দিন থাকলে কাজের কাজ হবে তত দিন। সেদিন কজন রিকশাওয়ালা সারা দেশ ঘোরার প্রস্তাব দিয়ে গেল। আমার কাছে প্রস্তাবটা খুব একটা মন্দ লাগেনি। দেখা যাক, দুই নেত্রী কী করেন। ২৮ জানুয়ারি অবস্থান নিয়েছি। নির্বিবাদী অহিংস কর্মসূচি। কাউকে কিছু বলতে যাইনি, শেষ পর্যন্ত বলবও না। আমি জানি, এই দুঃসময় থাকবে না, আজ অথবা কাল অবশ্যই বদল হবে। তাই আমার তেমন তাড়া নেই। কিন্তু পুলিশ বড় বিরক্ত করে। চুরি-চামারি লেগেই ছিল। গত জুমার আগের জুমায় বায়তুল মোকাররমে নামাজ আদায় করে ফিরে দেখি পুলিশ বাবারা সব নিয়ে গেছে। সেই চোরাচুরির নেতৃত্ব দিয়েছে আবার টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি লায়েক আলী বিশ্বাসের ছেলে ফরমান। আমি যখন ‘৯৩, ‘৯৪-এ টুঙ্গিপাড়ায় সপ্তাহব্যাপী বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতাম তখন লায়েক আলী বিশ্বাস আমার সঙ্গে ছায়ার মতো থাকতেন। বঙ্গবন্ধুর কবরের পাশে রাতে যখন ঘুমাতাম, জেগে ঘাড় ঘোরাতেই লায়েক আলী বিশ্বাসকে দেখতাম। সহযোগিতা পেয়ে মানুষ খুশি হয় কিন্তু তিনি সহযোগিতা করে খুশি হতেন। তার ছেলে শীতের রাতে আমার মাথার ওপর থেকে কাপড়ের ছায়া, বাতাস ফেরানোর চট কেন নেবে? শৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজ করা সে এক কঠিন ব্যাপার। বান বেটা বান, খসা বেটা খসান- হলো পুলিশের চাকরি। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম, তাই কিছু মনে করিনি। আসতে যেতে কত পুলিশ তার দুঃখের কথা বলে চোখের পানি ফেলে। মতিঝিলে যেদিন অবস্থান নিয়েছি, তার দু-এক দিন আগের কথা। খামারবাড়ির রাস্তায় সব সময় ট্রাফিকরা দারুণ সহযোগিতা করে। সেখানে এক সার্জেন্ট গাড়ি থামিয়ে বড় উদ্বেগের সঙ্গে বলেছিল, ‘স্যার, এভাবে আর কত দিন চলবে? আমরা কি একটু শান্তি পাব না?’ বড় কষ্ট লেগেছিল।

একনাগাড়ে ডিউটি করে পুলিশের লোকেরা বড় ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছে। কত আশা করে ট্রাফিক সার্জেন্টের চাকরি নিয়েছে, ২৩-২৪ বছর প্রমোশন নেই। এর আগে কয়েকবার সংসদে ট্রাফিক সার্জেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিলাম। প্রায় ১৫ বছর হবে ১৫০ জন সার্জেন্টকে প্রমোশন দিয়ে শান্তি মিশনে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। এখনো রাস্তায় বেরোলেই ট্রাফিকরা ধরে, ‘স্যার, সারা জীবন এক পদে চাকরি করা যায়?’ সার্জেন্টদের চাকরিতে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। অথচ তারাই বেশি রোদে পোড়ে, বৃষ্টিতে ভেজে। কিন্তু কার কথা বলব? দেশে এক অরাজক অবস্থা। হতাশার সাগরে জাতি নিমজ্জিত। কোথাও কোনো আশা নেই, আলোর দেখা নেই। এমন গুমোট অবস্থায় সব সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, এখানেও ঘটবে। কিন্তু সেটা যে কেমন হবে তা নিয়েই ভাবনা। সবকিছুতেই elasticity থাকা দরকার। বেশি শক্ত হলে ভেঙে অথবা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, কথাটা কাউকে বোঝাতে পারছি না। গুণীরা আছেন তাদের গুণ নিয়ে, শক্তিমানরা শক্তি নিয়ে। মানুষই যে দেশের মালিক, কর্মচারীর ঠেলায় অনেকে মালিকানাই ভুলে গেছে। এক অদ্ভুত ব্যাপার! প্রতি বছর কয়েক হাজার সশস্ত্র সদস্য জাতিসংঘে শান্তি মিশনে কাজ করে দারুণ সুনাম অর্জন করছে। কিন্তু জাতিসংঘ যে কী চিজ বুঝতে পারছি না। যাদের নিজেদের দেশে শান্তি নেই, তারা পৃথিবীর অন্য দেশে কীভাবে শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসেবে নিয়োগ পেতে পারে তা আমার বোধগম্য নয়। কিন্তু তবু এই বেমানান কাজটি অবলীলায় চলেছে। আমাদের দেশ থেকে যারা শান্তি মিশনে যায় তারা যথার্থই পৃথিবীর বহু দেশে শান্তি স্থাপনে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। সেজন্য জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলকে কি বলতে পারি না, যারা নিজের দেশে মা-বাবা, ভাই-বোনের বুকে গুলি চালায় তাদের বিশ্বশান্তিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ কোথায়?

সবাই ছেলেমেয়েকে নিজের বা নিজের সম্পদ মনে করে। আদতে জগৎ সংসারের কথা চিন্তা করলে সন্তান বাবা-মার নয়। সব সন্তানই রাজার বাগানের ফুলের মতো স্রষ্টার সম্পদ। আমার বাবা-মা যেমন আমায় লালন-পালন করেছেন, আমাদের ওপরেও দায়িত্ব আমাদের সন্তান-সন্ততির লালন-পালন করা। তারা আবার তাদের সন্তান-সন্ততিদের লালন-পালন করবে, এটাই আল্লাহর জগৎ সৃষ্টির রহস্য। গ্রামগঞ্জে ছেলে বাবার হাতের লাঠি। সবাই বেশি বেশি ছেলে চায়, যাতে আশপাশের কেউ তাদের হেলাফেলা করতে না পারে। আগেরকার দিনে যার ছেলে বেশি তার এলাকায় প্রভাব বেশি। এখন ছোট সংসারের টোনাটুনির যুগ। অনেকে আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা পছন্দ করে না। আমরা এখনো সে ধাঁচের হতে পারিনি। আমরা দুই মায়ের ১৫ সন্তান, এখনো ১০ জন আল্লাহর দয়ায় বেঁচে আছি। আমার এক ছেলে, দুই মেয়ে। স্ত্রী কিছুটা অসুস্থ। বাড়িতে থেকেও যে তারা স্বস্তিতে নেই তা বুঝলাম গত শনিবার গভীর রাতে। বড় মেয়ে কুঁড়ি গাড়িচালক হোসেনকে ফোন করেছিল, হোসেন তোমাদের ওখানে কি বৃষ্টি হচ্ছে? হোসেন যেই বলে, না এখানে বৃষ্টি নেই, অমনিই গুঁড়ি গুঁড়ি, তারপর অবিরাম বৃষ্টি। আমার ঘুম ভাঙে ২৫-৩০ জন কর্মী আমার মাথার ওপরের কাপড় ঠিক করছিল, পলিথিন লাগাচ্ছিল। কত কী করছিল। লোহার ভাঙা খাটিয়ায় বসে অবাক হলাম, ডানে বামে ফোঁটা ফোঁটা পড়লেও বিছানায় এক ফোঁটাও পড়েনি। একসময় মনে হচ্ছিল, এতগুলো হাত ওপরে তুলে ধরলে তাতেই বৃষ্টি ফিরে যাবে। কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-মমতায় হৃদয় ভরে গিয়েছিল। ‘৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নিবেদিত কর্মী পেয়েছিলাম, জীবন বাজি রেখে তারা দেশ স্বাধীন করেছে। এই অবক্ষয়ের জমানায় এত সুন্দর স্বার্থত্যাগী কর্মী খুব একটা পাওয়া যায় না। তাই ভাবছিলাম, আমার গায়ে এক ফোঁটা পানি যাতে না পড়ে তার জন্য কতজনের কত নিরন্তর প্রয়াস। কিন্তু দরিদ্র যারা রাস্তায় আছে, তাদের পানি ফেরাবে কে? যাদের মাথার ওপর ভালো ছায়া নেই, দুর্যোগ এলেই ভিজতে হয়, এই শীতের রাতে তাদের কী হচ্ছে? কোনো সদ্যপ্রসূত সন্তান নিয়ে অভাগা জননী কীভাবে কাটাচ্ছেন? বড় ব্যাকুল হয়েছিলাম, তোলপাড় করছিল হৃদয়। গুমরে উঠেছিল এক আর্তচিৎকারের হাহাকার, কবে হবে আমার দেশের নিরন্ন-নিরাশ্রয় মানুষের এই দুর্ভোগের অবসান। রাত কেটেছিল ভালোভাবেই। দিনেও ঠাণ্ডা বাতাস ছিল অবিরাম, আগের দিন ছিল ভালোবাসা দিবস। কে কাকে কতটা ভালোবাসে ঠিক বুঝতে পারি না। কারণ দয়া-মায়া-মানবতা আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছে। কেউ কারও নয়, সবাই যেন নিজের জন্য উন্মাদ-পাগলপ্রায়, মাতোয়ারা। পশুহৃদয়ে যে মমতা দেখা যায়, মানবহৃদয়ে এখন তাও নেই। শত কোলাহলের মাঝে বসে বসে ভাবী- কেন এমন হয়।

অবস্থানে বসার পর থেকে নিরন্তর পুলিশি জুলুম চলছিল, এখন কিছুটা কমে এসেছে। মনে হয় তারা ক্লান্ত-শ্রান্ত। অবরোধ-হরতাল আর দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী লোকদের কোনো বিরাম নেই। ওরা ভালোভাবে খেতেও পারে না, ঘুমাবে তো দূরের কথা। এই জুমার আগের জুমায় বায়তুল মোকাররম থেকে নামাজ আদায় করে এসে দেখেছিলাম সবকিছু নিয়ে গেছে। হুজুর মওলানা ভাসানী অভিযোগ করতেন, চোরেরা আমার পেশাব-পায়খানার বদনাটা নিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত আমার দশাও তাই। কিন্তু কী করব? পাটি বিছিয়ে রাস্তায় বসে ছিলাম। হঠাৎই আল্লাহর তরফ থেকে জয়পুরহাটের রশিদুল নামে একজন এসে হাজির। এটাওটা খাবারসহ তার মায়ের গায়ের শতছিন্ন কাপড়ের চমৎকার কাঁথা নিয়ে এসেছে আমার জন্য। মনে হলো এ যেন আল্লাহর অপার দয়া। ২০-২৫ বছর আগে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে রাজশাহীর বাঘায় গিয়েছিলাম। সে যাত্রায় এক ব্যাংক কর্মচারী রাজ্জাক ছিল। আর ছিল ছোট্ট বাচ্চা আনন্দ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস। জনাব আলাউদ্দিনের বাড়িতে এক রাত ছিলাম। সেখান থেকে হাজার-বারোশ’ টাকায় চমৎকার একটি নকশিকাঁথা কিনেছিলাম। জয়পুরহাটের রশিদুলের মায়ের হাতের কাঁথা সে নকশিকাঁথার চেয়ে হাজার গুণ উন্নতমানের। কী চমৎকার সেলাই! একসময় আবরাহা হাতি নিয়ে আল্লাহর ঘর কাবা দখল করতে গিয়েছিল। দয়াময় প্রভু আবাবিল পাখির দ্বারা পাথর ছুড়ে সে আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন। কেন যেন আজ প্রায় দুই সপ্তাহ রশিদুলের মায়ের কাঁথা গায়ে মনে হয় তার প্রতিটি সুইয়ের ফোঁড় আমায় অমঙ্গলের হাত থেকে বর্মের মতো রক্ষা করছে। সারা জীবন মনে হতো, মানুষ আমায় কম-বেশি ভালোবাসে। কিন্তু এতটা ভালোবাসে তা বুঝতে পারতাম না। অবস্থানে বসার আগে চিন্তা করতাম, আমি না হয় বাড়ির খাবার খেলাম কিন্তু কর্মীরা কী খাবে। এখন দেখছি প্রতিদিনই খাবার বেশি হয়। লোকজন এত ধরনের ফলমূল নিয়ে আসে, যা খেয়ে শেষ করা যায় না। পাঁচ-সাত হাত জায়গার মধ্যে ফুটপাতে থাকি, তাই রাখারও তেমন জায়গা নেই। সেই কবে ‘৭৫ সালের ১৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিরোধে ঘর থেকে বের হওয়ার পথে মা বলেছিলেন, ‘রাস্তায় বের হও। দেখবে আল্লাহর পথে শুধু আলোই আছে, কোনো অন্ধকার নেই।’ সেটি ছিল একটি ফারসি কবিতা, ‘খোদা কা ঘরমে দের হ্যায়, আন্ধের নেহি’। বড়লোকেরা কোনো টাকা-পয়সা দেয় না কিন্তু গরিবরা যখন ৫-১০ টাকা দেয় শত কষ্টেও চোখে পানি রাখতে পারি না। আমার দাবি বেশি নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জীবনের শেষ পর্যায়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এটুকুও কি বলতে পারব না, মানুষের কল্যাণে, দেশে শান্তি স্থাপনে যার সঙ্গে প্রয়োজন তার সঙ্গেই আলোচনা করুন, কথা বলুন।

একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বিরোধী দলের নেতা, তাকে শুধু বলেছি- হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করে অথবা স্থগিত করে সবাইকে নিয়ে নতুনভাবে আন্দোলনের কলাকৌশল ঠিক করুন। কেন যেন কেউ কথা শুনতে চায় না। আজ ২১ দিন ফুটপাতে আছি। কোনো স্ত্রীই এটা সহজভাবে নিতে পারে না। তাই ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার সাদামাঠা স্ত্রী কথা বলেছেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চৌকাঠে গিয়েছিলেন। অসুস্থ মানুষ বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি, ২০-২৫ মিনিট থেকে পা ভেঙে আসায় বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একসময় যার চুল অাঁচড়ে খোঁপা করে দিয়েছেন, যার ছেলেকে গোসল করিয়ে খাবার খাইয়ে ঘুম পাড়িয়েছেন, তার কাছে তো এতটুকু আশা করতেই পারেন। দুই দিন পর গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে। তার পুত্রের মৃত্যুতে সমবেদনা এবং অবরোধে মানুষের কষ্টের কথা বলতে। সেখানেও সরকার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী না হয় তার বাড়িতে ঢুকতে দেননি কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর কী? সেখানে কেন ঢুকতে দেবেন না? তাহলে কি বেগম খালেদা জিয়া বন্দী? বলে দিলেই তো হয়, তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। বিদেশের রাষ্ট্রদূতরা দেখা করতে পারেন, দেশের নাগরিক পারে না, এ তো নাগরিক অধিকার হরণ, খুনের চেয়েও বড় অপরাধ। কেউ শান্তির কথা শুনতে চায় না। কারণ শান্তি-সুস্থিতিতে তাদের কোনো লাভ নেই। যত লাভ অশান্তি আর অরাজকতায়। কয়েক দিন বেগম খালেদা জিয়ার খাওয়া-দাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছে। তা কেন হবে? ফাঁসির আসামিকেও তো যত্ন করে খাওয়ানো হয়। এসব অমানবিক কায়-কারবার ভালো নয়। বলতে চাইনি, তবু না বলে পারছি না। অতিসম্প্রতি প্রতিবেশী ভারতে দিলি্লর নির্বাচন থেকে আমাদের কিছু শেখা উচিত। শত বছরের পুরনো দল কংগ্রেস, দিলি্লর বিধানসভায় তাদের একটি আসনও নেই। অথচ তারা গত ১৫ বছর একটানা দিলি্ল শাসন করেছে। ৭০ আসনের ৬২টিতে জামানত হারিয়েছে, কোনোটিতেই দ্বিতীয় হয়নি। অন্যদিকে কয়েক মাস আগে লোকসভার ১০টি আসনের ১০টিই পেয়েছে বিজেপি। সেই দিলি্লর বিধানসভার ৭০টি আসনের বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩টি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির ঝাড়ুর সামনে কেউ টিকতে পারেনি। এ দেশেও যে তেমন হবে না, কে হলফ করে বলতে পারে? তাই সময় থাকতে দেশের কল্যাণে নেতা-নেত্রীদের সচেষ্ট হতে আহ্বান জানাচ্ছি।
লেখক : রাজনীতিক


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


শেষ গোঁ-টা ত্যাগ করুন, দেশের জন্য ভাল নিজের জন্যও ভাল

সাঈদ তারেক নির্বাচন হবে কিনা হলে কি ধরনের হবে না হলে কি হবে এসব নিয়ে…


নজরুলের রাজনীতি এবং বিদ্রোহ

মোমিন মেহেদী মাগো! আমায় বলতে পারিস/ কোথায় ছিলাম আমি/ কোন-না জানা দেশ থেকে তোর কোলে…


দেশ বাঁচলে তবেই আপনারা বাঁচবেন

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দেখতে দেখতে ২১ দিন হয়ে গেল। কত মানুষের কত কথা, রাস্তায়…

আরাকান অধিবাসীদের প্রাথমিক ইতিহাস



ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ

বাংলা ও আরাকান সীমান্তগত দিক থেকে শুধু প্রতিবেশীই নয় বরং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কোনো কোনো অঞ্চল বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় আরাকানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে বাংলায় ইসলাম প্রচারের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে যেমন চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচারকে আলোচনা করা হয় তেমনি আরাকানে ইসলামের আগমন আলোচনা করতে হলেও চট্টগ্রামের আলোচনা অপরিহার্য। মূলত: চট্টগ্রামে ইসলামের আগমন অর্থই হলো আরাকানে ইসলাম প্রচারের সূচনা। খ্রিস্টপূর্ব ২৬৬৬ অব্দ থেকেই আরাকানে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগতভাবে সংঘবদ্ধ সমাজ জীবনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। অস্ট্রো-এশীয় এবং ভোট-চীনা গোত্রীয় মানুষই আরাকান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের খ্রিস্টপূর্ব যুগের আদিবাসী বলে অনুমান করা হয়। মারু বংশীয় রাজারা বংশ পরম্পরায় তখন আরাকান শাসন করতেন। অযোধ্যা ও বিহার অঞ্চলের জৈন এবং পরবর্তীতে জড়বাদী হিন্দু ধর্মদর্শন কর্তৃক প্রভাবিত ছিল তৎকালীন আরাকানের সমাজ ব্যবস্থা। ক্রমশ এতে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, এমনকি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ধর্মবিশ্বাসের লোকেরা আরাকানের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে মগধ থেকে আগত চন্দ্র-সূর্য বংশের রাজাদের প্রভাবে আরাকানে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ধর্মের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব বিস্তার ঘটে। এভাবে পুরোপুরিভাবে ভারতীয়কৃত সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আরাকানের বিভিন্ন স্থানের নাম ভারতীয় অনুকরণে আমরাপুর, রামাবতী, ধন্যাবতী, বৈশালী, হংসবতী প্রভৃতি নাম করণ হয়। রাজবংশের নামও ছিল ভারতীয় অনুকরণে মারু, কানরাজগজি, চন্দ্র-সূর্যবংশ, পিনসা প্রভৃতি এবং আরাকানে রাজাদের নামও রাখা হতো ভারতীয় প্রথা অনুসারে। সেখানে ভারতীয় বর্ণমালা ব্রাহ্মীলিপিতে সংস্কৃত ভাষায় উৎকীর্ণ শিলালিপি ও শিবাদি দেবতার প্রতিষ্ঠা ছিল এবং মুদ্রায় বৃষমূর্তি, ধ্বজ প্রভৃতি অংকিত ছিল। খ্রিস্টপূর্ব থেকে খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতক পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও আরাকান একটি অখন্ড রাজ্য হিসেবে চন্দ্রসূর্য রাজাদের হাতে শাসিত হলেও সময়ের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের সমাজ গড়ে ওঠে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ধর্মীয় সভ্যতার আলোকে এবং আরাকানী সমাজ গড়ে ওঠে বৌদ্ধ ধর্মীয় সভ্যতার আলোকে।
প্রাচীন চট্টগ্রাম ও আরাকানের হিন্দু সম্প্রদায় মূলত ভারতবর্ষের হিন্দু জাতির অংশ। ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈদ্য, শুদ্র এই চার প্রধান বর্ণ ও ছত্রিশ জাত নিয়ে এখানকার হিন্দু সম্প্রদায় গঠিত হয়েছে বলা হলেও প্রকৃত অর্থে ৪১টি উপবর্ণের সমন্বয়ে তা গঠিত ছিল। প্রাচীনকালে গোত্রগত পেশার ভিত্তিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছিল। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকের মধ্যভাগে আর্যবংশীয় হিন্দুদের সাথে স্থানীয় আদিম জনগোষ্ঠীর বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। তৎকালীন সময়ে আরাকান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের হিন্দু সমাজে কৌলিন্য প্রথা প্রবল ছিল। বিয়ে-শাদী-নৃত্য নিমন্ত্রণে সামাজিক সিঁড়ি প্রথা প্রচলিত ছিল এবং তা কড়াকড়িভাবে পালন করা হতো। সামাজিক বৈঠকে কৌলিন্যের মান অনুসারে বংশের প্রধান ব্যক্তিরা সিঁড়ি বা লাইনের প্রথম স্থানে বসত। এরপর কৌলিন্যের মান অনুসারে সবাই পরপর লাইনে বসত। তাদের মধ্যে ছুৎবাই ছিল খুব বেশি। কুলীনরা অকুলীন বাড়িতে সচরাচর নিমন্ত্রণ গ্রহণ করতো না; বিশেষ কারণে বিশেষ কোনো বাড়িতে নিমন্ত্রণে গেলেও সেখানে যাওয়ার সময় পারিবারিক গোলাম বা দাস দ্বারা নিজেদের থালাবাটি সঙ্গে নিয়ে যেত। আরাকানের শাসকগোষ্ঠী হিন্দু ধর্মের অনুসারী হলেও সাধারণ জনগণ বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল। বিশেষত হিন্দুদের বর্ণ প্রথার কারণে ভারতের নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ত্রিপুরা হয়ে আরাকানে এসে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হয়ে যেত। ক্রমশ আরাকানের শাসকরারও সামাজিক পরিবেশের আলোকে নিজেদেরকে বৌদ্ধ মতাবলম্বী হিসেবে প্রকাশ করতে থাকে। বিশেষ করে আরাকান রাজা ছান্দা থুরিয়া (১৪৬-১৯৮) আরাকানের সমাজে বৌদ্ধ ধর্মমতের বিস্তার ঘটান। এভাবে ইসলাম আগমণের পূর্ব পর্যন্ত আরাকানী সমাজে বৌদ্ধ ধর্মের প্রায় একচেটিয়া প্রভাব প্রতিষ্ঠিত ছিল।

আরাকানে ইসলামের আগমন
পঞ্চম শতাব্দীর শেষ থেকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুদের হাতে নিম্নবর্ণের হিন্দু-বৌদ্ধরা ব্যাপকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। আরাকানের শাসকরা হিন্দুধর্মে বিশ্বাসী হলেও বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি অনুরাগী হওয়ার কারণে আরাকান অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের দ্রুত প্রসার ঘটে। হিজরি প্রথম শতকের শেষ দিকে (৯৬ হিজরী) ৭১২ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া শাসনামলে মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধু অঞ্চলে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার মধ্যদিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রাজনৈতিকভাবে ইসলামের প্রতিষ্ঠা শুরুহলেও মূলত পবিত্র মক্কায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রায় সমসাময়িক কালে মহানবী (স.) এর জীবদ্দশাতেই ভারতীয় উপমহাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশেষত আরাকান অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছায়। কেননা খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর পূর্ব থেকে আরব বণিকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক পথে ভারত, বার্মা ও চীনের ক্যান্টন বন্দরে বাণিজ্যিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিল। সে সূত্রেই আরবের কুরাইশরাও ইসলাম পূর্ব যুগেই এ বাণিজ্যপথে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। বিশেষত পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীতে পারস্য (ইরান) ও রোমান সাম্রাজ্যের মধ্যে অব্যাহত যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে আরবদের স্থল বাণিজ্যপথ মারাত্মকভাবে বিপদ সংকুল হয়ে পড়েছিল। ইয়েমেন ও হাজরা মাউতের আরব বণিকদের নৌবাণিজ্যের পূর্ব অভিজ্ঞতার সুবাদে আরবের কুরাইশরাও নৌবাণিজ্যে আগ্রহী হয়ে পড়ে। সে সূত্রেই মহানবী (স.) এর আগমনের আগেই তারা ভারতীয় উপমহাদেশ, বার্মা, কম্বোডিয়া ও চীনের ক্যান্টন পর্যন্ত বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপন করেছিল এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীর সূচনা লগ্নেই তারা দক্ষিণ ভারতের মালাবার, কালিকট, চেররবন্দর, তৎকালীন আরাকানের চট্টগ্রাম ও আকিয়াবের সমুদ্রোপকূলে স্থায়ী বাণিজ্যিক উপনিবেশও গড়ে তোলে। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার সমসাময়িক কালের মুসলমানরাও বাণিজ্যিক কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্য করতে আসে এবং সপ্তম শতাব্দী থেকে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত চীনা বাণিজ্যে মুসলিম প্রভাব অব্যাহত রাখে। তৎকালীন দক্ষিণ চীনের ক্যান্টন বন্দর ‘খানফু’ নামে পরিচিত ছিল। মুসলিম বণিকরা এ সময় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশেষত মালাবার এবং চট্টগ্রাম থেকে কাঠ, মসলা, সুগন্ধী দ্রব্য ও ঔষধি গাছ-গাছড়া সংগ্রহ করতেন। বাণিজ্যিক কারণে মুসলমানরা এ সব অঞ্চল সফর করলেও মূলত ইসলাম প্রচার তাদের মুখ্য বিষয় ছিল।

চীনের কোয়াংটা শহরে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন কাদেসিয়া যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি হযরত সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাসের পিতা আবু ওয়াক্কাস মালিক ইবনে ওয়াইব। এরই অদূরে তাঁর মাজার এখনো বিদ্যমান। আবু ওয়াক্কাস (রা.) মহানবী (সা.) এর নবুয়তের সপ্তম বছরে হযরত কায়স ইবনে হুযায়ফা (রা.) হযরত ওরওয়াহ ইবনে আছাছা (রা.) এবং হযরত আবু কায়স ইবনে হারেছ (রা.) কে সঙ্গে নিয়ে একখানা সমুদ্র জাহাজে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক পথে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তারা উক্ত জাহাজে প্রথমত ভারতের মালাবারে এসে উপস্থিত হন এবং সেখানকার রাজা চেরুমল পেরুমলসহ বহুসংখ্যক লোককে ইসলামে দীক্ষিত করে চট্টগ্রামে এসে যাত্রা বিরতি করেন। অতঃপর তিনি ৬২৬ খ্রিস্টাব্দে চীনের ক্যান্টন বন্দরে গিয়ে উপস্থিত হন। আবু ওয়াক্কাস (রা.)এর দলটি ৬১৭ খ্রিস্টাব্দে রওয়ানা দিয়ে প্রায় নয় বছর পর চীনে পৌঁছায়। এ থেকে অনুমান করা যায় যে, এ নয় বছর তারা পথিমধ্যে বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ইসলাম প্রচারের কাজে ব্যয় করেছেন। কারণ চীনে আগমনের জন্য আরবদেশ থেকে রওনা করলে বাতাসের গতিবেগের কারণে বিভিন্ন স্থানে নোঙ্গর করতে হতো। বিশেষত বণিকেরা এক্ষেত্রে মালাবার, চেরর, চট্টগ্রাম, আকিয়াব, চীনের ক্যান্টন প্রভৃতি স্থানে জাহাজ নোঙ্গর করত। অতএব, অনুমান করা যায় যে, তিনি মালাবারের পর চট্টগ্রাম ও আকিয়াবেও জাহাজ নোঙ্গর করে ইসলাম প্রচারের কাজ করেছেন এবং সে সূত্রেই হিন্দের (বৃহত্তর ভারতের কোন অঞ্চলের) জনৈক রাজা কর্তৃক মহানবী (সা.) এর কাছে তোহফা পাঠানোর উল্লেখ পাওয়া যায়। হযরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হিন্দের জনৈক শাসক মহানবী (সা.) এর কাছে এক পোটলা হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন যার মধ্যে আদাও ছিল। মহানবী (সা.) সাহাবিদেরকে তার (আদার) এক টুকরা করে খেতে দিয়েছিলেন এবং (রাবি বলেন) আমাকেও এক টুকরা খেতে দেয়া হয়েছিল। হিন্দের কোন শাসক মহানবী (সা.) এর কাছে হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না। তবে, রুহমী রাজ্যের শাসকরা বহুকাল আগে থেকেই পারস্যের শাসকদের কাছে মূল্যবান হাদিয়া-তোহফা পাঠাতো। সম্ভবত এ রুহমী রাজাদেরই কোনো রাজা মহানবী (সা.) এর কাছে হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, রুহমী রাজ্য সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য থাকলেও বেশিরভাগ ঐতিহাসিক রুহমী বলতে আরাকান রাজ্যকে বুঝিয়েছেন। কেননা, আরাকানের পূর্ব নাম ‘রোখাম’। এটি আরবি শব্দ; যার অর্থ শ্বেতপাথর এবং আরাকানের প্রাচীন রাজধানী ম্রোহংয়ের পূর্বনাম কায়কপ্রু। এটি বার্মিজ শব্দ; যার অর্থও শ্বেত পাথর। এদিক থেকে কায়াকপ্রু অঞ্চল ও রোখাম একই অঞ্চল। সে কারণে রুহমী বলতে রোখাম বা আরাকানকেই বুঝানো যায়। মনে করা হয় যে, রোখাম শব্দটির বিকৃতরূপই রুহমী। তবে কেউ কেউ রুহমী বলতে রামুকে বুঝিয়েছেন। যদি এটা ধরে নেয়া হয় তবুও আরাকানই হয়। কেননা তখন রামু আরাকানেরই অংশ ছিল। তাছাড়া হাজার বছরের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আরাকানের ঐতিহ্যও অস্বীকার করা যায় না।

সপ্তম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে আরব মুসলিম বণিকরা চট্টগ্রাম-আরাকান অঞ্চলে বাণিজ্য মিশন নিয়ে যাতায়াত শুরু করলেও অষ্টম শতাব্দীতে তাদের আগমন আরো বেড়ে যায়। এ সময় চট্টগ্রাম ও আরাকানে আগত আরব বণিকদের সংস্পর্শে এ এলাকার মানুষ ইসলাম সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। বণিকরা কেউ সপরিবারে আসেননি। অন্যদিকে মৌসুমী বায়ুর জন্য তাদেরকে প্রায় ৫/৬ মাস অপেক্ষা করতে হতো। এ সময় তারা স্থানীয় হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মহিলাদের বিয়ে করতেন। বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ মহিলারা যেমন ইসলাম গ্রহণ করতেন তেমনি তাঁদের গর্ভস্থ সন্তানরাও ইসলামের সুমহান আদর্শকে গ্রহণ করেই বেড়ে ওঠেন। এভাবে ক্রমশ আরব বণিক, বহিরাগত মুসলিম দরবেশ, সুফি, উলামা ও ইসলাম প্রচারকদের উৎসাহ উদ্দীপনায় চট্টগ্রাম ও আরাকানে বসবাসরত নির্যাতিত হিন্দু ও বৌদ্ধরা ব্যাপক হারে ইসলাম গ্রহণ করে। ফলে চট্টগ্রামসহ মুসলিম পরিবারের সমন্বয়ে একটি মুসলিম সমাজ গড়ে ওঠে। দশম শতাব্দীতে সেখানে মুসলিম সমাজের প্রভাব এতটা বেড়ে গিয়েছিল যে, কোনো কোনো গবেষক একে ছোটখাট মুসলিম রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করে এর আমীরকে ‘সুলতান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ সুলতানের অধীনস্ত এলাকা ছিল মেঘনা নদীর পূর্বতীর থেকে নাফ নদীর উত্তর তীরবর্তী সমুদ্রোপকুলবর্তী ভূ-ভাগ পর্যন্ত।

আরাকানের জাতীয় ইতিহাস রাজোয়াংয়ের সূত্রে তারা উল্লেখ করেন যে, আরাকানরাজ সুলতইঙ্গ-ৎ-চন্দ্র (৯৫১-৯৫৭) ৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে রাজ্য জয়ে বের হন। তিনি নিজ রাজ্যের সীমা অতিক্রম করে ‘থুরতন’কে পরাজিত করে চেত্তাগৌং – এ একটি পাথর নির্মিত বিজয়স্তম্ভ নির্মাণ করে পাত্র মিত্রের অনুরোধে তিনি স্বরাজ্যে ফিরে যান। এ ‘চেত্তাগৌং’ অর্থ যুদ্ধ করা অনুচিত। এ শব্দ থেকেই চট্টগ্রাম নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। উল্লেখ্য যে, এখানে ‘থুরতন’কে পরাজিত করা বলতে অর্থাত সেই মেঘনা অববাহিকায় প্রতিষ্ঠিত নব ইসলামী রাজ্যের সুলতানকে বুঝানো হয়েছে বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেন। কিন্তু এ বিষয়টি বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। তবে বাংলায় ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ার অনেক আগেই যে চট্টগ্রাম আরাকানে ইসলামী পরিবেশ সম্বলিত সামাজিক অবকাঠামো নির্মিত হয়েছিল তা নিঃসন্দেহে বলা যায় এবং বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর তা যে আরো সুদৃঢ়রূপ লাভ করেছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়।

নাইম বিন হাম্মাদ এর উদ্ধৃতিতে রুহমী রাজা কর্তৃক খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজকে (৭১৭-৭২০ খ্রি.) চিঠি পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়। সে চিঠিতে বলা হয়েছে-“রুহমী শাহেন শাহের পক্ষ থেকে যিনি হাজার বাদশাহর অধঃস্তন পুরুষ, যার স্ত্রীও হাজার বাদশাহের অধঃস্তন কন্যা এবং যার হাতিশালায় সহস্ত্র হাতি ও যার রাজ্যে দু’টি নহর রয়েছে সেগুলোতে উদ উৎপন্ন হয়। এছাড়া কর্পুর, করমচা, বাদাম গাছও রয়েছে এবং যার প্রতিপত্তি ১২ শত মাইল দূর থেকেও পাওয়া যায়। এর পক্ষ থেকে আরবের বাদশাহ যিনি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করেন না তার প্রতি। অতপর: আমি আপনার নিকট কিছু হাদিয়া পাঠাচ্ছি। বস্তুত এটি হাদিয়া নয় বরং কৃতজ্ঞতা। আমি আশা করি আপনি আমার কাছে এমন একজন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি ইসলাম বুঝাবেন ও শুনাবেন।

আরাকানের চন্দ্র-সূর্য বংশের প্রথম রাজা মহৎ ইঙ্গ চন্দ্র (৭৮৮-৮১০ খ্রি.)৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে বৈশালীতে রাজধানী স্থাপন করে শাসনকাজ পরিচালনা শুরুকরেন। তার উদারনীতির কারণে মুসলমানরা ইসলাম প্রচারের ব্যাপক সুযোগ পায় এবং সে সূত্রেই আরব মুসলিম বণিকরা রাহাম্বী বন্দরসহ আরাকানের নৌবন্দরগুলোতে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ও ইসলাম প্রচার মিশন পরিচালনা করতে থাকে। এ রাজার শাসনামলেই কয়েকটি আরব মুসলিম বাণিজ্যবহর রামব্রী দ্বীপের পাশে বিধ্বস্ত হলে জাহাজের আরোহীরা রহম বলে চিৎকারের মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন করতে থাকে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে রাজার কাছে নিয়ে যায়। রাজা তাদের বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত আচরণে মুগ্ধ হয়ে আরাকানেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেন। এভাবে অষ্টম শতাব্দী থেকে দশম শতাব্দী পর্যন্ত আরাকানের উপকূলীয় অঞ্চল হতে শুরু করে মেঘনা নদীর পূর্ব তীরবর্তী বিস্তীর্ণ বন্দরগুলো আরব বণিকদের কর্মততপরতায় মুখরিত হয়ে ওঠে। এমনকি মুসলমানদের সুমহান আদর্শেরপ্রতিও শাসকরা মনস্তাত্বিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ার নিদর্শন পাওয়া যায়। কেননা খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজ (৭১৭-৭২০ খ্রি.) এবং আব্বাসীয় খলিফা মামুনকে (৮১৩-৮৩৩ খ্রি.) রুহমীর রাজা চিঠি লিখেছিল। রুহমী বলতে আরাকান বুঝানো হলে আরাকানের শাসক যথাক্রমে রাজা সূর্যক্ষিতি (৭১৪-৭২৩ খ্রি.) এবং সূর্য ইঙ্গ চন্দ্র (৮১০-৮৩০ খ্রি.) এ চিঠিগুলো লিখেছিলেন।

দশম ও একাদশ শতাব্দীতে আরব বণিক ও সুফি দরবেশদের মধ্যে বদরুদ্দিন (বদর শাহ) নামে একজন ইসলাম প্রচারক এ অঞ্চলে আসেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। তার নামানুসারে অসমের সীমা থেকে শুরু করে মালয় উপদ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ‘বদর মোকাম’ নামে মসজিদও নির্মিত হয়েছে। ড. মুহাম্মদ এনামুল হক ও আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ বলেন, খ্রিস্টীয় নবম ও দশম শতাব্দীতে আরাকানে ইসলাম বিস্তৃতি ও মুসলমানদের প্রভাব অন্যান্য ঐতিহাসিকও স্বীকার করেছেন। এই সময় হইতেই অসমের সীমা হতে মালয় উপদ্বীপ পর্যন্ত সমদ্র তীরবর্তী ভূ-ভাগের নানা স্থানে ‘বুদ্ধের মোকাম’ নামক এক প্রকার অদ্ভূত মসজিদ গড়ে উঠতে থাকে; এই মসজিদগুলোকে বৌদ্ধ, চীনা ও মুসলমান জাতি সমভাবে সম্মান করে থাকে।

উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বদর মোকাম মসজিদটি নবম অথবা দশম শতাব্দীর বলে অনুমান করা হলেও আরাকানী লেখক ডা. মুহাম্মদ ইউনুস একে ৭ম শতাব্দীর শেষভাগে নির্মিত বলে দাবি করেছেন। এমনকি ঐতিহাসিক ড. আবদুল করিমের বইতেও বদর মোকামের ছবি দিয়ে এটাকে সপ্তম শতাব্দীর শেষ ভাগে রচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, বিভিন্ন বর্ণনায় চতুর্দশ, অষ্টাদশ প্রভৃতি শতাব্দীতে নির্মিত বলে তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু দশম ও একাদশ শতাব্দী থেকেই বদর উদ্দীন, বদরশাহ প্রভৃতি নামে পির বদরের সন্ধান পাওয়া যায়। এ প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে ‘বদর মোকাম’কে দশম শতাব্দীর মনে করা যেতে পারে।

আকিয়াবে অবস্থিত বদর মোকামে দু’টি দালান আছে। একটি টিলার উপরে। এটির উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দু’দিকে দু’টি দরজা আছে। সেখানে একটি মসজিদ রয়েছে। মসজিদটি চার কোণা মিনার ও গম্বুজ বিশিষ্ট। পশ্চিমের দেয়ালে বদর মোকামের মূল পরিচালকের নিযুক্তিপত্র ফারসি ভাষায় লেখা হয়েছে। এ মসজিদটি বৌদ্ধ প্যাগোডা ও ভারতীয় মসজিদের মিশ্র নির্মাণ শৈলীতে নির্মিত। উল্লেখিত বদর মোকাম মসজিদের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে একটি পাথর রয়েছে যেখানে পির বদরের পায়ের পাতার চিহ্ন ও হাটুর দাগ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অনুমান করা হয় যে, হযরত বদর উদ্দীন (রহ.) অনবরত ইবাদত ও সাধনা করার ফলে উক্ত পাথরে তাঁর পায়ের হাঁটুর দাগ বসে গেছে। আরাকানী জনগণসহ সমুদ্রপথে চলাচলকারী বণিক ও নাবিকরা তাঁকে ব্যাপকভাবে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করে থাকে। পির বদর সমুদ্র পথে যাতায়াত করতেন বলে নাবিকরা তাকে ‘দরিয়া পির’ বলে বিশেষভাবে স্মরণ করে; এমনকি তাঁর আস্তানা, চিল্লাখানা বা দরগাহও সমুদ্রের উপকূলে। তাই তিনি হয়তো আরব দেশ থেকেই এসে থাকবেন। যদি তাই হয়ে থাকে তবে সপ্তম শতাব্দীর শেষ ভাগে যেসব বণিক ও নাবিক ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছিলেন তাদের মধ্যে কেউ ‘বদর’ নামে ছিলেন না তা কি করে বলা যাবে? হয়তো তখন থেকে আকিয়াবে মসজিদ স্থাপিত হলেও ত্রয়োদশ কিংবা চতুর্দশ শতাব্দীতে বদর উদ্দীন নামক কোনো অলী এসে সে মসজিদে নতুনভাবে আবাদ করেন এবং ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে সওদাগর ভ্রাতৃদ্বয় ওই মসজিদ আবার সংস্কার করেন। মসজিদের ভেতরে রক্ষিত পা ও হাঁটু চিহ্নিত পাথরটি পির বদরের জীবদ্দশাতেই ‘বদর মোকামে’র অস্তিত্ত্ব বজায় থাকার প্রমাণ বহন করে।

এভাবে চট্টগ্রাম এবং আরাকানে আগত ও বসতি স্থাপনকারী আরব বণিক সম্প্রদায়, নাবিক, সুফি, দরবেশ শ্রেণী এবং ত্রয়োদশ শতকের পর থেকে তুর্কি, পাঠান ও মোগলদের শাসনামলে বাংলা থেকে আগত মুসলমানদের সঙ্গে এ অঞ্চলের (চট্টগ্রাম-আরাকান) নিম্নবর্ণের হিন্দু ও বৌদ্ধদের সংমিশ্রণ ঘটে এবং তারা ব্যাপকহারে ইসলামে দীক্ষা গ্রহণ করেন। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চল ছিল বাংলা, আরাকান, ত্রিপুরা ও বার্মার লক্ষ্যস্থল এবং আরাকান রাজ্যের অধীনে চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন শাসিত হওয়ার ফলে চট্টগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠী, নবদীক্ষিত মুসলমান, বহিরাগত ইসলাম প্রচারক-বণিক, সুফি-দরবেশ, উলামা সম্প্রদায় অবাধে আরাকানে ইসলাম প্রচারের জন্য যাতায়াত করতেন। ফলে, চট্টগ্রামের মতো আরাকানেও একটি ইসলামী পরিবেশ সম্বলিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। পর্দা প্রথা, খাদ্যাভ্যাস, রান্না পদ্ধতি, এমনকি মানবীয় আচরণেও ইসলামের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। পরবর্তীতে বরেণ্য পির-দরবেশদের মধ্যে চকপিউ এর মুন্সী আবদুন নবী, আকিয়াবের শাহ মোনায়েম (বাবাজি), হায়দার আলী শাহ (কাহারুশাহ), নূরুল্লাহ শাহ (কৈলা শাহ) এবং আজল উদ্দীন শাহের (আজলা শাহ) নাম উল্লেখযোগ্য। বদরুদ্দীন বদরে আলম যাহিদী নামক একজন অলী তিন/চারশ’ অনুগামী ইসলাম প্রচারক নিয়ে ভারতের মিরাঠাবাদ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তিনি ১৩৮০ খ্রিস্টাব্দে বিহারে চলে যান এবং ১৪৪০ খ্রিস্টাব্দে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তারা নানারূপ বিকৃত বৌদ্ধ-হিন্দুয়ানী আচরণ ও প্রথা রহিত করে মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন সত্যিকারের ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে গড়ে তোলার জন্য আমরণ চেষ্টা করেছেন। এভাবে আরাকানের সামাজিক অবকাঠামোগত ভিত্তিতে ইসলামের সম্পৃক্ততা দ্রুত বেড়ে যায়।

বাংলার সুলতান জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহের (১৪১৫-১৬; ১৪১৮-৩৩ খ্রি.) সহায়তার সুবাদে নরমিখলা কর্তৃক আরাকান পুনরুদ্ধারের মধ্যদিয়ে পঞ্চদশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকে সেখানকার রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রতিফলন ঘটলেও একাদশ শতাব্দীতেও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে মুসলমানদের ততপরতা পরিলক্ষিত হয়। আরাকানের পিনসা বা চাম্পাওয়াত বংশের শেষ রাজা পোন্যাক এর রাজত্বকালে ১০৫৭ খ্রিস্টাব্দে পগাঁ রাজা আনওয়ারাথা আরাকান জয় করে পঁগা রাজ্যের সীমাকে বৃদ্ধি করেন এবং কৌলিন্য অর্জন ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য আরাকানের বৈশালী রাজকন্যা পঞ্চকল্যানীকে বিয়ে করেন। অতঃপর তিনি ১০৫৯ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও পাট্টিকারা (বর্তমান বাংলদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা) জয় করে ততকালীন বাংলার সীমান্ত পর্যন্ত রাজ্যের বিস্তৃতি ঘটান।

উল্লেখ্য, প্রাচীনকালে বার্মার একক কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সে সময় থেটন, পেগু, পঁগা, আভা, প্রোম, প্রভৃতি পাঁচটি রাজ্যের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে আনওয়ারাথা কর্তৃক ১০৪৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত পঁগা রাজ্য মাত্র পনের বছরের মধ্যে বিশাল শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। এর আগে বার্মা, আরাকান ও বাংলায় মহাযান বা তান্ত্রিক বৌদ্ধ মতবাদ প্রচলিত ছিল। কিন্তু আনওয়ারাথা’র শাসনামলে আরাকান, চট্টগ্রাম ও পাট্টিকারা অঞ্চলে হীনযান বা থেরবাদ বৌদ্ধমত প্রচারিত হয়। রাজা আনওয়ারাথাই উদার ধর্মীয়নীতি গ্রহণের মাধ্যমে মুসলমান বণিক, নাবিক, ধর্ম প্রচারকদের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করে দেন এবং রাজ্যের সৈন্য বিভাগসহ তাঁর নিজের দেহরক্ষী বাহিনীতেও মুসলমানদের নিয়োগ দেন। শুধু তাই নয়, তার সন্তানের গৃহশিক্ষক হিসেবে জনৈক মুসলিম ব্যক্তিকে নিয়োগ দেন। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে প্রথমবারের মতো মুসলমানদের কর্মতৎপরতা পরিলক্ষিত হয়।

আনওয়ারাথা’র মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সাউলু ১০৭৭ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর শৈশবকালের মুসলিম গৃহ শিক্ষকের পুত্র, দুধভাই ও বাল্যবন্ধু আবদুর রহমান খানকে (বর্মী ভাষায় ইয়ামানকান) বন্ধুত্বপ্রীতির নিদর্শন স্বরূপ উস্ সা নগরীর (বর্তমান পেগু) শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। কিন্তু, পরবর্তীতে দু’বন্ধুর মাঝে ভুল বুঝাবুঝির কারণে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে সউলুর বিরুদ্ধে আবদুর রহমান বিজয়ী হলেও সউলুর অন্য ভাই কানজিত্থা’র ষড়যন্ত্রে তিনি নিহত হন। এভাবেই আবদুর রহমান খানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বার্মা তথা আরাকান অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে মুসলিম প্রভাবের সূচনালগ্নেই সূর্য অস্তমিত হয়। ফলে, আরাকান তথা বার্মার প্রশাসনে মুসলিম প্রভাব শুরুতেই সমাপ্তি ঘটে।

আরাকানের মুসলিম প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-আরাকানে তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব কমতে থাকে এবং চট্টগ্রামের পন্ডিত বিহার ক্রমশ অধঃপতিত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, ত্রয়োদশ শতকের পর থেকে তুর্কি, পাঠান ও গৌড় থেকে আগত মুসলমানদের সংস্পর্শে আরাকানী সমাজে ইসলামের প্রভাব বিস্তৃত হয় এবং গৌড়ের মুসলমান সমাজ-সংস্কৃতির সঙ্গে চট্টগ্রাম-আরাকানের অবিচ্ছেদ্য যোগাযোগ স্থাপিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালে যখন চট্টগ্রাম-আরাকান সফর করেন। তখন তিনি সেখানে অনেক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার দেখেছিলেন। মূলত পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে আরাকানি সমাজে ইসলামের যে প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে তার প্রধান বিষয় হচ্ছে পর্দা প্রথা। ততকালীন আরাকানি সমাজে মুসলমান নারীদের পর্দা পালনের প্রভাবে আরাকানের অমুসলিম নারীদের মাঝেও এর বিস্তার ঘটে। এ সূত্রেই আরাকানি মুসলমানদের বিস্তৃতি। এছাড়া প্রাচীনকালে আরব মুসলমান বণিকরা নৌ-বিদ্যায় দক্ষ ছিলেন। তাদের সংস্পর্শে এসে চট্টগ্রাম-আরাকানের মুসলমানরাও নৌ-বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম-আরাকানের বিভিন্ন শহরের নানা স্থানের আরবি নাম, খেলাধুলা, রীতিনীতি ও আচার ব্যবহারে আরবীয় প্রভাব রয়েছে। এমনকি কথা বার্তায় আরবী ভাষার অনুকরণে ‘লা’ (না বোধক শব্দ বাক্যের সূচনালগ্নে ‘আঁই ন যাইয়ুম’) ব্যবহার সুস্পষ্টভাবে আরব প্রভাবের ফল- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

লেখক: ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ
সহকারী অধ্যাপক,
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


আরাকান অধিবাসীদের প্রাথমিক ইতিহাস

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ বাংলা ও আরাকান সীমান্তগত দিক থেকে শুধু প্রতিবেশীই নয় বরং বাংলাদেশের…


যেভাবে আমরা বই পেলাম এবং আমাদের ঐতিহ্য

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বইয়ের যাত্রা কবে শুরু তা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ উল্লেখ করে কেউ বলতে পরেনি…


মসনবীর কবি রুমী

মসনবীর কবি রুমী রাজু রফিক সাহিত্য মানুষের জীবনের নানা কথার বিচিত্র কথক। আর এক কথায়…


রবীর উপর বাউলের প্রভাব

রবীর উপর বাউলের প্রভাব কবীর হুমায়ুন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একজন মানুষের…

যেভাবে আমরা বই পেলাম এবং আমাদের ঐতিহ্য



মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন

বইয়ের যাত্রা কবে শুরু তা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ উল্লেখ করে কেউ বলতে পরেনি বা পারা সম্ভব কিনা তা জানা নেই। তবে তা বলতে না পারলেও বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন খ্রীষ্টপূর্ব সপ্তম থেকে চতুর্থ সহ¯্রাব্দের মাঝে কোন এক সময় বইয়ের যাত্রা শুরু হয়। তার চেয়েও খাঁটি কথা মানুষ যখন থেকে মুখের ভাষাকে বিভিন্ন প্রতীকের মাধ্যমে ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছে তখন থেকে বইয়ের যাত্রা শুরু। এক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠতে পারে বইতো কতগুলো নির্দিষ্ট বর্ণমালায় সজ্জিত রূপ, যা অলঙ্কারপূর্ণ ও নান্দনিকতার বিকাশের ফল। তাই বলে প্রতীকের প্রকাশকে কি বই বলা যাবে বা আদৌ যৌক্তিক হবে? জবাবে বলতে হবে, এর চেয়ে নিগূঢ় বাস্তবতা আর নেই। কারণ বর্তমান সময়ের দৃষ্টিনান্দিক ও শৃঙ্খলিত বর্ণমালা নানা প্রয়োজন ও দাবীর প্রেক্ষাপটেই বিবর্তিত হয়ে আজকে এই রূপ ধারণ করেছে।

মানুষ শুরুতে কিসের উপর লেখা শুরু করেছে তা নিয়েও বিতর্ক আছে, যা থেকে যাবে; কারণ এর নির্দিষ্ট ইতিহাস উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং সম্ভব হবেও না। তবে থাকলেও সবার একথা মেনে নেয়া ভাল প্রতীকগুলো কাঠে, পাথরে বা নরম কাদা মাটিতে, গাছের বাকলে ও পাতায় লিপিবদ্ধ করেছিল। এদের মধ্যে কাঠে লেখার প্রবণতা ছিল বেশি কেননা কাঠে লেখার উপায় ছিল কিছুটা সহজ ও স্থায়ী। এছাড়া নানা বিবর্তনের ধারা পর্যবেক্ষণ করলে এটা সহজেই প্রতীয়মান হয় যে প্রতীকের পর মানুষ নানা চিত্রায়নের মাধ্যমে নিজেদের মনোভাব প্রকাশ করত, যা ধীরে ধীরে বর্ণ তৈরী করে এবং সেগুলিকে আধুনিক রূপ দিয়ে আজকের এই নান্দনিককতা আমাদের কাছে এসেছে।

আরো মজার বিষয় হলো বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আমরা যে চিকা মারা দেখি তা সত্যিকার অর্থে লিখন পদ্ধতিগুলোর প্রাচীনতম উপায়গুলোর একটি। যেমন খ্রস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে অসুর রাজাদের প্রচীনতম সংগ্রহশালা রাখা আবিষ্কৃত লাইব্রেরীগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম। এই সংগ্রহশালা থেকে জানা যায় মানুষ সে সময়ে ভিজা কাদায় ছাপ দেয়ার জন্য ক্যালমাস নামক একধরনের ত্রিভুজ ব্যবহার করত। এধরণের বাইশহাজার নিদর্শন সেখানে আরো উজ্জ্বল প্রতীক হিসাবে এই আদি সত্য সবাইকে বলে যাচ্ছে।

তবে পাশাপাশি আমাদের মনে রাখতে হবে বর্ণমালার বিকাশই কেবল বইয়ের আধুনিক রূপ দিতে হয়নি, বর্ণমালার পাশাপাশি সেগুলিকে লিপিবদ্ধ করার স্থানগুলোকেও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে কাগজ আবিষ্কারের প্রাচীন স্থান চীন হলেও খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ সালে মিশরে প্যাপিরাস তৈরী করে রাজতন্ত্রের সকল নথিপত্র লিপিবদ্ধ করা হতো। তাই কাঠ, পাতা বা পাথর ছেড়ে প্যাপিরাসে লিখন পদ্ধতিই হচ্ছে লিখন পদ্ধতির আধুনিকতম রূপ।

বিভিন্ন দেশে সভ্যতার বিকাশের অন্যতম কারণ হচ্ছে কাগজ আবিষ্কারের মাধ্যমে বই বানানো বা লিখন। এক সময়ের বর্বর বা জলদস্যু আমেরিকায় ‘আমাতে’ নামের যে কাগজ তৈরী করত তাতে বিভিন্ন বই লিখতে সে দেশীয় পন্ডিতেরা। আর এভাবেই সেখানে মায়া সভ্যতার গোড়া পত্তন ঘটে। এই বই লিখন যাত্রার মধ্য দিয়েই আমেরিকার সভ্যতার যাত্র শুরু হয়। কিন্তু এতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্পেনিশরা। স্পেনিশরা আমেরিকা দখল করে অখ্রিস্টিয় বই বলে অধিকাংশ বই ধ্বংস করে। তবে যে ক’টি বই বেঁচে ছিল তা পৃথিবীর সভ্যতার বিকাশের ধারা ও বিবর্তনকে মনে করিয়ে দেয় সবাইকে।

দীর্ঘকাল টিকে থাকা প্যাপিরাস কাগজ খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে পার্চমেন্ট নামক কাগজ গরু, ভেড়া বা গাধার চামড়া থেকে তৈরী হতো বলে স্থায়ীত্ব বেশি ছিল। তাই পারগ্যামন রাজা দ্বিতীয় এউমেনেস পার্চমেন্ট কাগজে বই লেখার প্রচলন চালু করেন। ফলে প্যাপিরাসে বই লেখার প্রচলন বন্ধ হয়ে যায়।

গ্রিক সভ্যতার কথা সবার জানা আছে। গ্রিক সভ্যতার জয়জয়কার সবার মুখে মুখে। তাই অনেক সভ্যতার অবদান ঢাকা পড়ে গেছে এই গ্রিক সভ্যতার অতিরিক্ত বর্ণনায়। আবার অনেক পৌরনিক কাহিনী আমাদের হৃদয়ে স্থায়ীত্ব লাভ করে নিয়েছে সত্য হিসাবে। যেমন, টলেমি সোটার লাইব্রেরী গড়েছিলেন খিস্ট্রপূর্ব বহুপূর্বে। যেখানে বই বা ভলিউম ছিল ৫০০৯০০। কিন্তু খিস্ট্রপূর্ব ৪৭ সালে তা ধ্বংস হয়ে যায়। অন্যদিকে প্যারাগ্যামন লাইব্রেরী গড়ে উঠেছিল খিস্ট্রপূর্ব বহুপূর্বেই। যেখানে বই ছিল ২০০০০০। কিন্তু ৬৪২ সালের দিকে আরব বিজয়ে এই লাইব্রেরী ধ্বংস বা নষ্ট হয়ে যায় বলে পশ্চিমারা দাবী করেছেন এবং আমরা তা বিশ্বাস করেছি। মজার বিষয় হচ্ছে এর পক্ষে কোন যুক্তি কেন নেই? কোন প্রমাণ নেই? সভ্যতার বিকাশমানতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য এরকম পৌরণিক ও আজগুবি কাহিনী তৈরীর প্রয়োজনীয়তা কী? কেন আমরা অন্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে আত্মতুষ্টি লাভ করি?

এদেশের বহুপূর্বেই হাতের লেখা বইয়ের প্রচলন ছিল। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ‘চর্যাপদ’। কিন্তু সেগুলোকে রাজনৈতিক ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য পুঁথি হিসাবে আখ্যাদিয়ে প্রাচীন বইয়ের মর্যাদা দিতে আমাদের অনীহা বেশ জোরালো। তাছাড়া বাংলা ভাষায় বইয়ের আদি ও ইতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মাহবুব রশিদ বলেন, “ভূর্জপত্র থেকে শুরু করে তালপাতা, এমনকি তুলট কাগজ দিয়ে পুঁথি ভুতোর সাথে ভাতের মাড় আঠার লেই মিশিয়ে তৈরী করা হতো কালি, আঁকা হতো রঙ্গীন ছবি।” কী দূর্ভাগ্য এ জাতির! তালপাতায় লেখা হতো বলে এই লেখাগুলি বইয়ের মর্যাদা পায়নি। কিন্তু গ্রিক বা জার্মানিরা যা দিয়েই লিখতো তাকে সম্মান করার প্রবণতা দেখে জাতির মাথা উঁচু করে থাকতে পারে না।

তবে মুদ্রণ যন্ত্র আবিস্কার হবার পরও দীর্ঘ সময় লেগেছে বাংলাভাষায় প্রথম মুদ্রিত বই ছাপতে। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্মচারী বাংলা ভাষাবিদ নাথানিয়েল ব্রাসি হালেদ ব্রিটিশ কর্মচারীদের বাংলাভাষা শিখানোর জন্য যে ব্যাকরণ বই প্রকাশ করেন তাই তাই প্রথম মুদ্রিত বাংলা বই। এভাবেই আমরা ধীরে ধীরে বই পেয়েছি। সবার আগে নিজের ইতিহাস জেনে নিজের ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা করা শিখতে হবে এবং নিজের অজানাকে জেনে অন্যদের ঐতিহ্যকেও শ্রদ্ধা করতে হবে । তবে নিজের অংহকারে বস্তু হিসাবে অন্যদের ঐতিহ্যকে চর্চা না করাই বুদ্ধিমানে কাজ।

লেখক: মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
প্রভাষক, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ
ও সেক্রেটারি, চারুতা ফাউন্ডেশন
jashimnub@yahoo.com


আরাকান অধিবাসীদের প্রাথমিক ইতিহাস

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ বাংলা ও আরাকান সীমান্তগত দিক থেকে শুধু প্রতিবেশীই নয় বরং বাংলাদেশের…


যেভাবে আমরা বই পেলাম এবং আমাদের ঐতিহ্য

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বইয়ের যাত্রা কবে শুরু তা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ উল্লেখ করে কেউ বলতে পরেনি…


মসনবীর কবি রুমী

মসনবীর কবি রুমী রাজু রফিক সাহিত্য মানুষের জীবনের নানা কথার বিচিত্র কথক। আর এক কথায়…


রবীর উপর বাউলের প্রভাব

রবীর উপর বাউলের প্রভাব কবীর হুমায়ুন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একজন মানুষের…

মসনবীর কবি রুমী



মসনবীর কবি রুমী

রাজু রফিক

সাহিত্য মানুষের জীবনের নানা কথার বিচিত্র কথক। আর এক কথায় জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। তাইতো পার্থিব জীবনের শত কোলাহলের মাঝেও মানুষের মন জীবনের স্বাদ পেতে বড্ড বেশী তৃষ্ণার্ত। আর সে তৃষ্ণা নিবারনের জন্য যাদের ধ্যান ও জ্ঞান, চিন্তা ও চেতনা নিরন্তর, সেই কবি-সাহিত্যিকদের অবদান যুগে যুগে দেশে দেশে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং সম্মানিত। বিশ্ব সাহিত্যে ঠিক তেমনি উজ্জ্বেল নক্ষত্র এক আলোকিত নাম হচ্ছে ইরানের মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি। ফরাসী সাহিত্যের এ বিষ্ময়কর প্রতিভা গোটা বিশ্বে এক মহান আধ্যাত্যিক কবি হিসেবে সুপরিচিত। রুমীর আসল নাম ছিল জালাল উদ্দিন বলখী, যিনি পরবর্তীতে জালালউদ্দীন রুমী এবং পাশ্চাত্যে জগতে রুমী হিসেবেই খ্যাত।

ইংরেজী ১২০৭ সালের ৩০ শে সেপ্টেম্বরে বর্তমান তাজিকিস্তানের খোরাসান অঞ্চলের বলখ প্রদেশে তাঁর জন্ম। তাঁর বাবার নাম ছিল বাহাউদ্দীন ওয়ালাদ, যিনি একাধারে ধর্মতাত্বিক বিচারক ও সূফী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন এবং মার নাম মুমীনা খাতুন যাদের পরিবার কয়েক পুরুষ ধরে ইসলাম প্রচার কাজের জন্যে ছিল সামরিক পরিচিত।

পৃথিবীর অন্যতম বাস্তবতা যুদ্ধ ও অশান্তি। আর এ অশান্ত পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেবার লক্ষ্যে ইসলামের শান্তি ও মানবতাবাদী দর্শনকে তিনি গভীরভাবে আত্নস্ত করেছিলেন এবং মানুষে মানুষে প্রেম ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই সত্যের বাণীকে বিশ্বময় ছাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। আর তার সেই প্রচেষ্টার অন্যতম ফসল হচ্ছে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ মসনভী। মসনভী সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে এটা হচ্ছে আল কোরআনের সারমর্ম। মূলত আল কোরআনের সারবক্তব্যকে কবি তাঁর গল্প ও নীতিবাক্যের মাধ্যমে সাবলীলভাবে প্রকাশ করেছেন। এ কথার প্রচালিত আছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে নীতিশাস্ত্র রচিত হয়েছিল “দীওয়ানে হাফিজ” এবং রুমীর মসনভী শরীদে ছায়া অবলম্বনে। সাম্প্রতিক কালে পশ্চাত্যে বিশ্ব মাওলানা। রুমীকে গভীরভাবে আত্নস্হ করেছে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর লেখার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারটি। আর এ প্রেক্ষাপটে UNESCO গত ২০০৭ সালকে মাওলানা রুমী বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এ থেকে বোঝা স্পষ্ট যে যুগের জীর্নতাকে পেছন ফেলে রুমীর কবিতা আজ বড্ড প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয়।

রুমীর কবি মানস বুঝতে গেলে তার রচিত ছয় খন্ডে সমাপ্ত মসনভী শরীফ আমাদের বেশ সাহায্য করতে পারে। আসলে স্রষ্টা প্রেমের উপর এত বড় মহাকাব্য পৃথিবীর অন্য কোন ভাষায় ও সাহিত্যে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। কাব্যকলার যত রূপ ও আঙ্গিক আছে তার সমাহার রুমীর কবিতায় বর্তমান। Epic/Lyric/ode/elegy অর্থ্যা কাব্যের যত রূপ এবং বিভাগ আছে তার সবই পাওয়া যায় তাঁর কবিতায়। রুমীর ভাষা, ছন্দ, শব্দ-চয়ন, উপসা রূপকল্প, প্রতীক তথা অলংকার শাস্ত্র প্রয়োগ ও ছন্দ প্রকরনে যে নৈপুন্য দেখা যায় তা আর কোথাও দেখা যায় না। তাই সারা বিশ্ব রুমীর কাব্য শ্রেষ্ঠত্বে এবং সাহিত্য এত মুগ্ধ ও অভিভূত।
মানবাত্বার ইতিকথা বর্ণনার মধ্য দিয়ে রুমী আমাদের অনন্ত জীবনের সন্ধান দিয়েছেন। তার কাব্যের ছত্রে ছত্রে আমাদের আত্না জেগে ওঠে, অন্তরের অন্বেষায় আমাদের স্বত্ত্বা উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। রুমীর কাব্যপ্রেরনা মূলত তাওহীদ ও রেসালাত ভিত্তিক। তিনি ইমানদার ও নেক আমলের কবি যিনি তাঁর অসাধারণ কাব্যপ্রতিভায় হেদায়েতের পথকে প্রশস্ত করেছেন।

কাব্যকলায় রুমী যে Art অবলম্বন করেছেন তা গভীরভাবে প্রানধানযোগ্য। সষ্ট্রার প্রতি আমাদের প্রেমকে প্রকাশ করার জন্যে তিনি যে পন্থা অবলম্বন করেছেন, তা হলো প্রেমস্পদের গোপন কথা লুকানো থাকা ভালো বিভিন্ন গল্পের মাধম্যে তা বলা যাবে। এবং গোপন কথা অন্যের কথা বর্তায় বলা যাবে। তুচ্ছ ঘাসের উপর পাহাড় রাখা যাবে না। সূর্যকে কাছে আনলে অস্তিত্ত্ব বিপন্ন হবে ইত্যাদি। তাই কবিতায় বিশেষত মসনভীতে অসংখ্য বাস্তব, কাল্পনিক কাহিনী, উপকথা নীতিগল্প রূপক কাহিনী, তার সাথে সংযোজিত করেছেন গভীর চিন্তা চেতনার স্রোত, যাতে স্রষ্টার প্রেমের ঝংকার মানুষ অনুভব করতে পারে Nicholson তাই রুমীকে The greatest mystical Post হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে রুমীর সেই প্রসিদ্ধ উক্তির কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে তিনি বলেছেন “আমি প্রস্তররূপে ছিলাম, সেখান থেকে উদ্ভিদ রূপে জন্ম নিলাম, উদ্ভিদরূপ থেকে প্রানীরূপে জন্ম নিলাম, মানুষ হিসেবে মৃত্যুর পর ফেরেশতা হব। তারপর আরো উর্ধ্বজগতের অস্তিত্ত্ব লাভ করবো, তারপর আমি অনন্তে বিলীন হয়ে যাবো। আমাদের Universal Existence বা বিশ্বজনীন অস্তিত্বের কথা বলতে গিয়ে রুমী বলেছেন “আমি সূর্য কিরণের কণা, আমি সূর্যের গোলক, আমি প্রভাতের আলো, আমি সন্ধ্যার বায়ু।” বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় রুমীর কবিতা, বিশেষত মসনভী অনুদিত হয়েছে নানাবিধ গবেষণা গ্রন্থ। যেমনটা কোলম্যান বার্কস লিখেছেন “The Soul of Rumi” ১২৭৩ সালের ১৭ই ডিসেম্বর কেনিয়াতে বিশ্ব কাব্যজগতের এ অসাধারন প্রতিভা ইন্তেকাল করেন এবং তাকে তার বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

রুমী হয়তো শারিরীক ভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু একথা নিশ্চিত তাঁর কবিতা আজও বেশ জীবন্ত এবং ভাবময়। হৃদয়ের গভীর বোধ লোকে তাই বলতে দ্বিধা নেই রুমীর কাব্যপাঠের মাধ্যমে মানুষের মাঝে খোদা প্রেম, জীব প্রেম, মানব প্রেম যতই জাগ্রত হবে, হিংসায় উনুত্ত এই পৃথিবীর জন্য ততই হবে কল্যানকর ও মঙ্গলময়।


আরাকান অধিবাসীদের প্রাথমিক ইতিহাস

ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ বাংলা ও আরাকান সীমান্তগত দিক থেকে শুধু প্রতিবেশীই নয় বরং বাংলাদেশের…


যেভাবে আমরা বই পেলাম এবং আমাদের ঐতিহ্য

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বইয়ের যাত্রা কবে শুরু তা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ উল্লেখ করে কেউ বলতে পরেনি…


মসনবীর কবি রুমী

মসনবীর কবি রুমী রাজু রফিক সাহিত্য মানুষের জীবনের নানা কথার বিচিত্র কথক। আর এক কথায়…


রবীর উপর বাউলের প্রভাব

রবীর উপর বাউলের প্রভাব কবীর হুমায়ুন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একজন মানুষের…