ফটোগ্রাফিতে ক্যারিয়ার



একটা ছবির অনেক ক্ষমতা আছে। কিছু না বলে একটা ছবি দিয়ে অনেক সত্যিকে তুলে ধরা যায়। আজকের দুনিয়ায় মিডিয়া থেকে শুরু করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনে অর্থাৎ বিয়ে, জন্মদিন ইত্যাদি উৎসব-অনুষ্ঠানেও ছবি আমাদের জীবনের একটা অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুতরাং ফটোগ্রাফার বা আলোকচিত্রীর ক্যারিয়ারটা ভবিষ্যতে যে বেশ মজবুত হচ্ছে সেটা বোঝাই যাচ্ছে। ফটোগ্রাফার হলেই হলো না, ভালো ফটোগ্রাফার হতে হবে। কারণ বাজারে দামি ক্যামেরা এবং ক্যামেরার পেছনের লোকেরও অভাব নেই। সবারই বগলে একটা করে ক্যামেরা গোঁজা থাকে।

কত রকম ক্যারিয়ার : অনেক রকম ফটোগ্রাফার কাজ করে আমাদের আশপাশে। প্রত্যেকের কাজের ক্ষেত্র আলাদা। যেমন ফ্যাশন ফটোগ্রাফাররা ফ্যাশন শুট করে, ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফাররা জীবজন্তুর ছবি তুলে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফটোগ্রাফাররা মেশিনের ছবি তুলে, আবার ফরেনসিক ফটোগ্রাফারদের কাজ বিভিন্ন অ্যাসপেক্ট থেকে কোনো ক্রাইমের ছবি তোলা, যেমন কোনো খুন হলে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে লাশের ছবি তোলা, যাতে ছবি দেখে তদন্ত করতে সুবিধা হয়। সায়েন্টিফিক ফটোগ্রাফাররা আবার রিসার্চ ওয়ার্কের ছবি তুলে। এর বাইরেও রয়েছে ন্যাচার অর্থাৎ প্রকৃতির ছবি তোলা। ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফার, তাদের কাজ শুধু বিভিন্ন স্থানকে দর্শনীয় স্থানের মতো করে ছবি তোলা। সুতরাং যে কোনো ফটোগ্রাফিই পেশা হিসেবে বেছে নেয়া যায়।
আয় : ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারদের তেমন কোনো ফিক্সড বেতন হয় না। ৩০-৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। আর ব্যক্তিগতভাবে যদি ফটো বিক্রি করে, তা হলে তো সে রোজগারের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। প্রাথমিক অবস্থায় স্টুডিও ব্যবসায় নামার পূর্বে আপনার ফটোগ্রাফির ওপর বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সম্ভব না হলে বাজারে প্রচলিত ফটোগ্রাফির ওপর লেখা মানসম্পন্ন বই ক্রয়ের মাধ্যমে নিজের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করতে পারেন।

রেজ্যুলেশন : রেজ্যুলেশন যত বেশি হবে আপনার ছবি তোলার মান তত উন্নত হবে। একটি ভালো রেজ্যুলেশনের ক্যামেরা আপনাকে ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাড়তি স্বাধীনতা দেবে। যার ফলে আপনি স্পষ্ট ও বড় সাইজের ছবি তুলতে এবং প্রিন্ট করতে পারবেন। কেননা, এটি ২ মেগাপিক্সেল ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে আপনি ৫ বাই ৭ ইঞ্চি ছবি প্রিন্ট দিতে পারবেন কিন্তু ৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে খুব সহজেই ৮ বাই ১০ ইঞ্চি প্রিন্ট দিতে পারবেন যা ৪ মেগাপিক্সেলের ক্ষেত্রে ১১ বাই ১৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হবে।

জুম লেন্স : কম দামি ক্যামেরায় প্রায়ই অপটিক্যাল জুম লেন্স থাকে না। তাই বাড়তি রেজ্যুলেশনের সঙ্গে বাড়তি জুমের একটি ক্যামেরা কিনতে হলে আপনাকে কিছুটা বাড়তি টাকা গোনার দুঃখ সয়ে নিতে হবে।

আজকাল বাজারে ১০ এক্স ক্ষমতার জুম লেন্সও পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্পোর্টস ফটোগ্রাফি ছাড়া এ ধরনের ক্যামেরা সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। আর জুম লেন্স কেনার ক্ষেত্রে ট্রাইপডের বিষয়টিও আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। কেননা টেলিফটো লেন্থ বা দূরত্বটা যদি বেশি হয় তাহলে হাত কেঁপে যাওয়ার কারণে লেন্স কিনবার ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের ধোঁকায় পড়বেন না।

ম্যানুয়াল ফোকাস : অনেক সময় ক্লোজ-শট নেয়ার জন্য বা ফোকাস লক হয়ে গেলে ম্যানুয়াল ফোকাসিংয়ের দরকার হয়ে পড়ে। লো-অ্যান্ড ডিজিটাল ক্যামেরার ক্ষেত্রে প্রায়ই এ অপশনটি বাদ দেয়া হয়। কিন্তু ডিজিটাল ফোকাসিংয়ে শুধু আগে থেকেই নির্ধারিত কিছু দূরত্বে ফোকাসিং করা যায়।

ওস্টারেজ : সর্বোচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবির ক্ষেত্রে একটি ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় ৮ থেকে ১০টি ছবি সংরক্ষণ করা যায়। যদিও ডিজিটাল ক্যামেরার সঙ্গে কত মেগাবাইটের স্টোরেজ থাকে এটা প্রায়ই তেমন গুরুত্ব বহন করে না। কারণ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইউজারকে আলাদা মেমোরি কার্ড কিনতে হয়। এটি এড়াবার জন্য অনেকেই ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে তা কম্পিউটার বা অন্য কোনো স্টোরেজ ডিভাইসে ট্রান্সফার করে ফেলেন।

ব্যাটারি : ডিজিটাল ক্যামেরায় কয়েক ধরনের ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-এ ব্যাটারি, নন-রিচার্জেবল অ্যালকালাইন ব্যাটারি, রিচার্জেবল নিকেল মেটাল হাইড্রাইড ব্যাটারি, হাই ক্যাপাসিটি ডিসপোজেবল সিআরভিথ্রি ব্যাটারি প্রভৃতি। আপনি কোন ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করবেন তা নির্ভর করবে আপনার কাজের ধরন এবং একটানা কতক্ষণ কাজ করবেন অর্থাৎ আপনি কত সময়ের জন্য ব্যাটারি ব্যাকআপ চান তার ওপর। এ ছাড়াও স্বল্প পরিসরে ডিজিটাল ফটোস্টুডিও তৈরি করতে মাত্র ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে পর্যাপ্ত জ্ঞান নিয়ে যে কেউ ডিজিটাল স্টুডিওর মালিক হতে পারেন।

পাতাটি ৩৫৭৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


ফেসবুকই খুঁজে নিল বাংলার মেহেদীকে

চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে ছুটতে আমাদের স্যান্ডেলের তলা যেখানে ইঞ্চি থেকে সহসাই সেন্টিমিটারে…


ফটোগ্রাফিতে ক্যারিয়ার

একটা ছবির অনেক ক্ষমতা আছে। কিছু না বলে একটা ছবি দিয়ে অনেক সত্যিকে তুলে ধরা…


কর্মক্ষেত্রে সকলের সুনজরে পড়ার ৫ টি সহজ উপায়

কর্মক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সুনজরে পড়ার জন্য অনেকেই অনেক ধরণের কাজ করে থাকেন। অনেকে তো ন্যায় অন্যায়…

কর্মক্ষেত্রে সকলের সুনজরে পড়ার ৫ টি সহজ উপায়



কর্মক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সুনজরে পড়ার জন্য অনেকেই অনেক ধরণের কাজ করে থাকেন। অনেকে তো ন্যায় অন্যায় ভুলে যেয়ে অনেক অন্যায় কাজও করে ফেলেন। নিজে ওপরে উঠার নেশায় নিজের সততাও বিসর্জন দিয়ে থাকেন অনেকে। আবার অনেকে মনে করেন কলিগদের সম্পর্কে কথা লাগালে কর্মকর্তাদের নজরে পরা যাবে অনেক দ্রুত।

এই সবই ভুল কাজ। এতে করে আপনি হয়তো নজরে পরবেন তবে সুনজরে নয়। আপনার উপরের কর্মকর্তা আপনার সম্পর্কে ভালো কিছু চিন্তা করতে পারবেন না এবং আপনি অফিসে একটি বিরক্তিকর মানুষ হিসেবে পরিচিতি পাবেন। তার চাইতে করুন না এই সহজ কাজগুলো। দেখবেন খুব সহজেই নজরে পড়ছেন সবার এবং তা অবশ্যই সুনজর।
অর্ডার পাওয়ার জন্য বসে থাকবেন না

কোন কাজ সামনে আসলে তা দ্রুত করে ফেলুন। কারো বলার জন্য অপেক্ষা করবেন না। ধরুন আপনার কোনো কলিগ একটি ভুল কাজ করে ফেলেছেন। সেটি আপনাকে না বলা পর্যন্ত বসে থাকবেন না। যদি আপনার হাতে ক্ষমতা থাকে তবে তা ঠিক করে ফেলুন। এভাবে যে যে কাজগুলো করে ফেলা সম্ভব তা আগে থেকেই করে ফেলুন। এতে করে আপনি যে কাজে আগ্রহী এবং পারদর্শী তা প্রকাশ পাবে। এবং আপনি সকলের নজরে পরে যাবেন।
মিটিং এ অংশগ্রহণ করুন

অফিসে মিটিং হলে তাতে মুটামুটি সবাই বাধ্য হয়েই অংশ নিয়ে থাকেন। কিন্তু এই অংশ নেয়া মানে অংশগ্রহণ বুঝায় না। আপনি মিটিং এ বসে ঝিমাতে থাক্লেন, কিংবা মোবাইল বা ট্যাব নিয়ে পরে থাকলেন তবে আপনার সুনজরে পড়ার সম্ভাবনা নেই। মিটিং এ পুরোপুরি অংশগ্রহন করুন। প্রয়োজনের সময় চুপ করে বসে না থেকে কথা বলুন। দরকার হলে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন। এতে করেই আপনি হয়ে উঠতে পারবেন প্রিয়পাত্র।
গুছানো ভাবে কাজ করুন

অগোছালো কাজ কারো কাছেই পছন্দের নয়। আপনার কাজের ধারা যদি অগোছালো হয়ে থাকে তবে আপনি নজরে পড়তে বাধ্য কিন্তু তা সুনজর হবে না। সুনজরে পড়তে চাইলে সকল কাজ গুছিয়ে করার চেষ্টা করুন। নিজের ডেস্ক এবং অফিসের পরিবেশটা নিজ উদ্যোগে গুছিয়ে আনার চেষ্টা করুন। এতে করে মনও গোছানো কাজের জন্য তৈরি হয়ে যাবে। হাতের কাছে এবং গোছানোভাবে জিনিস থাকলে কাজও গোছানো হবে।
নিজেকে সব সময় তৈরি রাখুন

সকল ধরণের কাজের জন্য নিজেকে তৈরি রাখুন। হতে পারে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাখা হয়েছে কিন্তু কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজনে হয়তো আপনাকে যে কোনো কাজ করতে করতে হতে পারে। আপনি যদি তখন না বলে দেন তাহলে কি তা ভালো হয়? নিজেকে এমনভাবে তৈরি রাখুন যাতে আপনি নিজের ক্ষেত্র ছাড়াও কাজ করতে পারেন তা বুঝাতে পারেন। এতে করে বসের সুনজরে পরে যাবেন আপনি।
কলিগদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন

কলিগদের নিজের প্রতিযোগী এবং শত্রু ভেবে বসবেন না। কলিগদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন। এতে করে দুটি সুবিধা পাবেন আপনি। প্রথমত, অফিসে বন্ধু এবং বন্ধুর মতো সাহায্য করার মানুষ পাবেন। এবং দ্বিতীয়ত। কলিগদের কছে আপনার সুনাম আপনাকে আপনার বসের সুপাত্রে পরিনত করবে।

পাতাটি ৪৬৮৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


ফেসবুকই খুঁজে নিল বাংলার মেহেদীকে

চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে ছুটতে আমাদের স্যান্ডেলের তলা যেখানে ইঞ্চি থেকে সহসাই সেন্টিমিটারে…


ফটোগ্রাফিতে ক্যারিয়ার

একটা ছবির অনেক ক্ষমতা আছে। কিছু না বলে একটা ছবি দিয়ে অনেক সত্যিকে তুলে ধরা…


কর্মক্ষেত্রে সকলের সুনজরে পড়ার ৫ টি সহজ উপায়

কর্মক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সুনজরে পড়ার জন্য অনেকেই অনেক ধরণের কাজ করে থাকেন। অনেকে তো ন্যায় অন্যায়…

ক্যারিয়ার ভিত্তিক জীবন গঠনে অবদান রাখছে লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ



দশদিক প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভিত্তিক জীবন গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায় ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ। সময়ের ব্যবধানে লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজটি আজ সকলের কাছে একটি স্বনামধন্য, গৌরবমন্ডিত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজটি এক মনোরম পরিবেশে অবস্তিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটি শিক্ষার প্রকৃত অর্থ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সদা সচেষ্ট। শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মান রক্ষা করে সম্ভাবনা সৃষ্টির মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আকাঙ্খার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে চেষ্টা করছে লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ।

কলেজটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এর নিয়ম কানুন অনুসরণ করার মাধ্যমে মেধা ও দক্ষতার সমন্বয়ে তাদের কাঙ্খিত গন্তব্যের দিকে পৌঁছাতে চেষ্টা করছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পাঠদান ও শিক্ষানুরাগী উপদেষ্টামন্ডলী দ্বারা পরিচালিত। একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও লেসনপ্ল্যান অনুযায়ী মনোরম পরিবেশে উন্নত পাঠদানের ব্যবস্থা। মেধাবী ও গরিব ছাত্র/ছত্রীদের ফুল ফ্রি, হাফ ফ্রি এবং বৃত্তির বিশেষ ব্যবস্থা। সমৃদ্ধ সাইন্সল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব ও সুসজ্জিত লাইব্রেরী। সুনিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খলা, ধর্মীয় অনুশাসন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ এর চেয়ারম্যান এ কে এম মোস্তফা কামাল বলেন, “গতানুগতিক শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীকে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারে না। একজন শিক্ষার্থীর মানবিক গুণাবলী ও নৈতিকতা বিকাশের জন্য পাঠ্যপুস্তক নির্ভর লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রয়োজন নিজেকে মানসম্মত শিক্ষা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করা। লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ ক্রমাগত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধ পরিকর। তাই এই বিদ্যাপীঠটি একজন শিক্ষার্থীকে অধ্যয়নের মাধ্যমে ভাল ফলাফলের পাশাপাশি নীতি ও আদর্শের পথে চলতে উৎসাহ প্রদান করে।”

কলেজের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম সবুজ বলেন, “লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ সুপরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সোনালী সোপানের আলোকিত পথে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারাবদ্ধ। শিক্ষা জাতিকে মুক্তি দেয়। আর নিরক্ষরতা মানুষকে শৃংখলিত করে রাখে। নিরক্ষর মানুষ কোন অবদান রাখতে পারে না।”
অধ্যক্ষ ড. শাহীনা বেগম জানান, “জন্মের পর থেকেই মানুষ কোন না কোন প্রতিভার অধিকারী হয়। কিন্তু সে প্রতিভা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষের নিজ নিজ প্রতিভা বিকশিত হয়। বর্তমান বিশ্বে উন্নত দেশ গুলোতে জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করার জন্য বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বস্তরে চালু করেছে। মানসম্মত আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমাদের নতুন প্রজন্ম নিজেদেরকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করে নিরক্ষরতা, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার অবসান ঘটিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে সেই লক্ষ্যেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার প্রধান কারিগর হচ্ছে নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক। কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি আধুনিক যুগের সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ বিষয় যা সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ স্থান দখল করে আছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়, তা অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”

“আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তিতে দক্ষ, সে সাথে নৈতিক মূল্যবোধ, জনগনের প্রতি শ্রদ্বাবান, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলাই হবে আমাদের শিক্ষার মূল লক্ষ্য। এক দিকে যেমন সার্বজনীন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে তেমনি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বমানে উন্নীত করতে হবে। আমাদের দেশে বর্তমানে যে সব সমস্যা রয়েছে তার মূলে রয়েছে শিক্ষাহীনতা। শিক্ষা উন্নত জাতির পূর্বশর্ত। শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ নিত্য নতুন উদ্ভাবনে মত্ত। তাই বর্তমানে আধুনিক বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষকে যথাযথ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আর এ লক্ষ্যেকে সামনে রেখে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ।”

ভর্তি সহ যে কোন তথ্যের জন্য যোগাযোগ: বাড়ি ৯, রোড ২৬, সেক্টর ৭ উত্তরা, ঢাকা। মোবাইল: ০১৯৭৭৪৪৬৬২৬।

পাতাটি ৩৫৯৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মন্ত্রীর আশ্বাসে ভাঙল শিক্ষকদের অনশন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের আশ্বাসে তিনদিন পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনশন ভেঙে আন্দোলন…


ক্যারিয়ার ভিত্তিক জীবন গঠনে অবদান রাখছে লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ

দশদিক প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভিত্তিক জীবন গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায় ২০০৯…


বেসরকারি ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% আসনই খালি

আসন সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই আছে, যেগুলোর মোট আসনের বড়…


ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে: গণশিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।…

বেসরকারি ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% আসনই খালি



আসন সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই আছে, যেগুলোর মোট আসনের বড় একটি অংশ খালি থাকছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিবেদনে এ ধরনের বেসরকারি ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র উঠে এসেছে, যেগুলোর ৭০ শতাংশ আসনই খালি। আসন খালি থাকার কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মানসম্মত শিক্ষার অভাবকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর ইউজিসি এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেখছে উচ্চশিক্ষার প্রতিবন্ধক হিসেবে।

ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আসন রয়েছে ৩ হাজার ২০০টি। এর বিপরীতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন ২১৮ জন, মোট আসনের যা মাত্র ৭ শতাংশ। এ হিসাবে ৯৩ শতাংশ আসনই খালি পড়ে আছে। ওই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পুরোটাই ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের। অন্য কোনো বিভাগে শিক্ষার্থী পায়নি ইস্ট ডেল্টা।

২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে আসন সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৭৫। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ভর্তি হন ২ হাজার ৯৬৪ জন; মোট আসন সংখ্যার হিসাবে যা মাত্র ১৬ শতাংশ। একই বছর প্রতিষ্ঠিত মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি ১ হাজার ২২৫টি আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী পেয়েছে ৩০৪ জন বা ২৪ শতাংশ। এছাড়া সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি ৩৫০ আসনের বিপরীতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী পায় ৪৫ জন বা ১৩ শতাংশ। এছাড়া ওয়ার্ল্ভ্র ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ৬ হাজার ৭৫০ আসনের বিপরীতে ওই শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি হন ১ হাজার ৭৯৯ জন, মোট আসনের যা ২৭ শতাংশ। একই পরিস্থিতি দারুল ইহসান ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রেও। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এ দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পায় আসনের ২৫ শতাংশ।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, সরকার যত্রতত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিচ্ছে। এ সুযোগে শিক্ষার মান নিশ্চিত না করেই অনেকে ব্যবসায় নামছে। মানসম্মত শিক্ষা দিতে না পারায় এসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীও পাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা গাফিলতির কারণে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যর্থতায় তাদের ভবিষ্যত্ হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সরকারেরও উচিত শিগগিরই এগুলোর মানোন্নয়নের ব্যবস্থা করা।

২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষার্থী সংকটে আছে। এর মধ্যে ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটিতে গত বছর বিভিন্ন সেমিস্টার মিলে শিক্ষার্থী ভর্তি হন মাত্র ৬০ জন, মোট আসনের যা ১৫ শতাংশ। এছাড়া হামদর্দ ইউনিভার্সিটি আসনের ২৭ শতাংশ বা ৭৬ জন ও ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২৩ শতাংশ বা ৮০ জন শিক্ষার্থী টানতে সমর্থ হয়।
মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর এএএম ভুঁইঞা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের দাবি জানানো হলেও মালিকপক্ষ সেগুলো পূরণ করে না। হোস্টেল, উন্নত বিজ্ঞানাগারের মতো বিভিন্ন মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেও ব্যর্থ হচ্ছে তারা। এসব কারণে শিক্ষার্থীও সেভাবে আসছে না।

সরেজমিনে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থী না থাকলেও চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কার্যক্রম চলে বছরজুড়েই। ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য। প্রতিটি কোর্সে শিক্ষার্থীর আসন পূরণ হয়েছে বলেও জানানো হয়। শিক্ষার্থী টানতে গতানুগতিক ছাড়ের বাইরেও বিভিন্ন উপলক্ষে ছাড়ের কথা বলা হচ্ছে। এর পরও কাজ না হলে সরাসরি কমানো হচ্ছে টিউশন ফি।

যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর হার এক হবে না, এটাই স্বাভাবিক। তবে শিক্ষার মান, ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রসারের মাধ্যমে তা বাড়ানো সম্ভব। আমরা চাই, সব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মানোন্নয়ন করে ন্যূনতম শিক্ষার্থী হার পূরণ করুক। অনুমোদনের শর্ত পূরণে কেউ ব্যর্থ হলে ইউজিসি প্রাথমিক পদক্ষেপ নেবে। তার পরও কাজ না হলে মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাতাটি ৪৬৩৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মন্ত্রীর আশ্বাসে ভাঙল শিক্ষকদের অনশন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের আশ্বাসে তিনদিন পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনশন ভেঙে আন্দোলন…


ক্যারিয়ার ভিত্তিক জীবন গঠনে অবদান রাখছে লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ

দশদিক প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভিত্তিক জীবন গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায় ২০০৯…


বেসরকারি ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% আসনই খালি

আসন সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই আছে, যেগুলোর মোট আসনের বড়…


ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে: গণশিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।…

ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে: গণশিক্ষামন্ত্রী



প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

রোববার দুপুরে আশুলিয়া ইউনিয়নের টঙ্গাবাড়ী এলাকায় আনোয়ার জং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

গণশিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। এ দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষকদের।

স্কুল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পিয়ার্স, আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন মাদবর, সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরকার আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

পাতাটি ১০৫৫ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মন্ত্রীর আশ্বাসে ভাঙল শিক্ষকদের অনশন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের আশ্বাসে তিনদিন পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনশন ভেঙে আন্দোলন…


ক্যারিয়ার ভিত্তিক জীবন গঠনে অবদান রাখছে লাইটহাউস ক্যারিয়ার কলেজ

দশদিক প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ভিত্তিক জীবন গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায় ২০০৯…


বেসরকারি ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% আসনই খালি

আসন সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই আছে, যেগুলোর মোট আসনের বড়…


ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে: গণশিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা খাতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।…

টোকিও সুসিন কগিয়ে থেকে সনি করপোরেশন



আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকা, জাপানী দুই উদ্যোক্তা। সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে জাপান তখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আজ থেকে ৬৬ বছর আগে আজ অর্থাত্ ৭ মে, ১৯৪৮ সালে এ দুজন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন টোকিও সুসিন কগিয়ো বা টোকিও টেলিকমিউনিকেশনস ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। ঘরে ঘরে রেডিও বা এ জাতীয় ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতেই মনোযোগী হন তারা। স্বপ্ন ছিল এমন এক ডিভাইস উদ্ভাবনের, যেটা রেডিও থেকে সম্প্রচারিত তথ্য সংগ্রহ করে ছাপিয়ে ফেলবে গোটা একটা সংবাদপত্র।

তো উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতে জুতসই একটা নাম খুঁজছিলেন এ দুই উদ্যোক্তা। প্রথমে ভাবলেন কোম্পানির আদ্যাক্ষর ব্যবহার করে নাম রাখবেন, অর্থাত্ টিটিকে হবে তাদের ব্র্যান্ড নেম। কিন্তু দেখা গেল, দেশটির এক রেলওয়ে কোম্পানি এ নামেই চলছে। তারপর সিদ্ধান্ত নিলেন কোম্পানির নাম হবে ততসুকো। কিন্তু দেখা গেল, আমেরিকানদের এ নাম উচ্চারণ করতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। এরপর নাম সাব্যস্ত করলেন টোকিও টেলিটেক। সেটাও টিকল না, কারণ এ নামে যুক্তরাষ্ট্রেই রয়েছে এক কোম্পানি।
সবশেষে চূড়ান্ত নাম মনোনীত হলো ‘সনি’। দুটো শব্দের মিশ্রিত রূপ এই সনি। ল্যাটিন শব্দ ‘সোনাস’ হচ্ছে শব্দ বা কম্পনের মূল রূপ। আর ‘সনি’ শব্দটি পঞ্চাশের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহার করা হত শিশু বা কিশোরদের ডাকতে।

হ্যাঁ, আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকার যে কোম্পানির কথা এতক্ষণ বলছিলাম আমরা, সেটাই আজকের সনি করপোরেশন। বিশ্বের অন্যতম এক ইলেক্ট্রনিক কোম্পানি। পোর্টেবল অডিও প্লেয়ার উদ্ভাবনের মাধ্যমে যারা বদলে দিয়েছিল সঙ্গীত উপভোগের ধরণ।

যে পণ্যটি সনি প্রথম ব্যাপক আকারে বাজারে ছাড়ে তা ছিল কাঠের একটি রাইস কুকার। কিন্তু পণ্যটি ছিল ফ্লপ। কারণ, এতে রান্না করা ভাত কখনো হয়তো শক্ত থাকত, না হয় নরম হয়ে


টোকিও সুসিন কগিয়ে থেকে সনি করপোরেশন

আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকা, জাপানী দুই উদ্যোক্তা। সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও পরাজয়ের…


দরিদ্র ঘরের ‘সুন্দর পিচাই’ আজ গুগলের সিইও

দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে আলাদা ঘর পেত না ছেলেটা। রাতে ভাইকে নিয়ে শুয়ে পড়তেন বসার…


ফেসবুকের নতুন ফিচার ‘মেসেঞ্জার ডে’

ফটো শেয়ারিং মোবাইল সার্ভিস স্ন্যাপচ্যাটের সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন এক পরিষেবা আনল ফেসবুক। নিজেদের মেসেজিং…

দরিদ্র ঘরের ‘সুন্দর পিচাই’ আজ গুগলের সিইও



দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে আলাদা ঘর পেত না ছেলেটা। রাতে ভাইকে নিয়ে শুয়ে পড়তেন বসার ঘরেই। ঘুমের মধ্যেও ঘুরে ঘুরে আসত স্বপ্ন। বড় হওয়ার স্বপ্ন। প্রযুক্তি নিয়ে পড়ার স্বপ্ন। যে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন বাবা। বলেছিলেন‚ মন দিয়ে পড়াশোনার কোনও বিকল্প নেই| তাতে অবশ্য ছেদ পড়ত না ক্রিকেট খেলায়। চেন্নাইয়ে নিজের স্কুলকে জেলা স্তরে চ্যাম্পিয়নও করেছিলেন তিনি। ছিলেন অধিনায়ক। সেই ছাত্র এখন ৪৩’র যুবক। তার কাঁধে এখনও গুরু দায়িত্ব। স্কুল টিমের বদলে এখন চ্যাম্পিয়নের জায়গায় বসাতে হবে গুগলকে। নিজের সংস্থার সঙ্গে দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সারথি পিচাই সুন্দররাজন। বিশ্ব যাকে চেনে সুন্দর পিচাই নামে।

ভারতের চেন্নাইয়ের স্কুল থেকে পাশের পরে খড়গপুর আইআইটি (IIT) থেকে মেটালার্জিক্যাল শাখায় ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন সুন্দর। সুযোগ আসে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করার। করেননি তিনি। একই প্রতিষ্ঠানে এমএস করেন। এরপর এমবিএ সম্পূর্ণ করেন পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যেখানে তিনি ছিলেন সিয়েবেল এবং পামার স্কলার।

দুটি সংস্থায় চাকরির পরে ২০০৪-এ গুগল-এ যোগ দেন সুন্দর। প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এগার বছরে উল্কাবেগে উত্থানের পরে আজ সুন্দর গুগলের সিইও।

ছোটবেলায় ছেলের ফোন নম্বর মনে রাখার স্মৃতিশক্তি দেখে মুগ্ধ হতেন সুন্দরের বাবা রঘুনাথ পিচাই। এখনও সুন্দরের বিনম্র স্বভাব‚ ডাউন টু আর্থ মানসিকতা দেখে অবাক হয় তার আশপাশের মানুষেরা। আসলে সুন্দর ভুলতে পারেন না তার অতীত ‚ যেখানে গ্রথিত আছে তার শিকড়। গুগলের সিইও ভুলে যাননি ছোটবেলায় তার বাড়িতে টেলিভিশন সেট ছিল না। গাড়ি তো দূর অস্ত। সুন্দরের প্রথমবার বিদেশযাত্রার টিকিটের যা দাম ছিল‚ তার বাবার বার্ষিক আয় ছিল তার থেকেও কম। সেই জমিনের উপর পা রেখেই মাথা তুলেছেন সুন্দর।

বাবা, মা আর দুই ভাই— এক স্কুটারে চার জন। জায়গার হয়তো টানাটানি ছিল, কিন্তু ইচ্ছে আর সঙ্কল্পের জ্বালানি একটু বেশিই ছিল দু’চাকার ওই বাহনে। তাই চেন্নাইয়ের অতি সাধারণ দু’কামরার ফ্ল্যাট থেকে যাত্রা শুরু করলেও, সিলিকন ভ্যালির আগে তা থামেনি। আর গুগ্‌লের মতো এক ডাকে চেনা সংস্থার সিইও হয়েও তাকে রূপকথা মনে হতে দেননি বাড়ির বড় ছেলে পিচাই সুন্দররাজন। তথ্যপ্রযুক্তির তামাম দুনিয়া যাঁকে সুন্দর পিচাই নামে চেনে। মঙ্গলবারই আইআইটি খড়্গপুরের এই প্রাক্তনীর হাতে গুগ্‌লের রাজ্যপাট তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ।

অনেকে বলছেন, রূপকথা না হোক, এক হিসেবে ইতিহাসই তো তৈরি হল এ দিন। মাইক্রোসফট আর গুগ্‌লের মতো দুই চির যুযুধান দৈত্যের মাথাতেই বসে পড়লেন দুই ভারতীয়। হয়তো সিলমোহরও পড়ল তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণের উপরে।

সকলকে চমকে দিয়ে এ দিন পেজ জানান, চোখ ধাঁধানো সাফল্য সত্ত্বেও গুগ্‌লের ব্যবসা ঢেলে সাজছেন তাঁরা। এ বার থেকে মূল সংস্থার নাম হবে অ্যালফাবেট। তার নেতৃত্ব দেবেন তিনি এবং অন্য প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন। আর সেই অ্যালফাবেটের প্রধান শাখা হবে গুগ্‌ল। যার আওতায় থাকবে অ্যান্ড্রয়েড, সার্চ, অ্যাড (বিজ্ঞাপন), ইউটিউব, ম্যাপের মতো ব্যবসা। এই ছিপছিপে, মেদহীন গুগ্‌ল সামলানোর দায়িত্ব বর্তাবে সুন্দরের উপর। যাঁকে ওই কাজে পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন তিনি! পেজের কথায়, ‘‘আমি ভাগ্যবান যে, সুন্দরের মতো মেধাবী, পরিশ্রমী আর গুগ্‌লের প্রতি দায়বদ্ধ লোক সংস্থা চালাবেন।’’

মেদহীন, কারণ এই নতুন গুগ্‌লই আসলে অ্যালফাবেটের রাজকোষ। বছরে প্রায় ৬,৬০০ কোটি ডলারের ব্যবসা করে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি বহুজাতিকটি। মুনাফা ১,৬০০ কোটি। আর এর প্রায় পুরোটাই আসে সেই সমস্ত ব্যবসা থেকে, যার দায়িত্ব যাচ্ছে সুন্দরের হাতে। যেমন, অ্যান্ড্রয়েড। পৃথিবীর ৭৮% স্মার্টফোনের পেটেই সেঁধিয়ে রয়েছে এই প্রযুক্তি (সফটওয়্যার)। গুগ্‌লের ‘সার্চ’ (নেটে তথ্য খোঁজা) আর তার
সঙ্গে মিলিয়ে বিজ্ঞাপনই পেজের সংসারের মূল রোজগার। একই রকম জনপ্রিয় ইউটিউব, গুগ্‌ল ম্যাপ, আর অ্যাপ (মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন)। পেজের দাবি, গত কয়েক মাসে সুন্দর যে ভাবে সব সামলাচ্ছিলেন, তাতে এই ঘোষণা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা ছিল। কোনও রূপকথা নয়।

মাত্র ৪৩ বছরে গুগ্‌লের রাশ হাতে এল। অথচ ১২ বছর বয়স হওয়ার আগে টেলিফোনেও হাত দেননি সুন্দর। বাড়িতে ছিলই না। ছিল না টিভি। চেন্নাইয়ে চরকি পাক খেতেন বাদুড়ঝোলা বাস বা স্কুটারে।

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা কারখানার ইঞ্জিনিয়ার। সুন্দর হওয়ার আগে মা কাজ করেছেন স্টেনোগ্রাফারের। সুন্দরকে বিদেশে পড়তে পাঠানোর জন্য ঋণ জোগাড় করতে পারেননি বাবা। তবু হাল ছাড়েননি। নিজের অ্যাকাউন্ট প্রায় খালি করে তুলে দিয়েছেন থোক
টাকা। যা তখন তাঁর এক বছরের বেতনের থেকেও বেশি। এত ভাল লগ্নি গুগ্‌লও করেছে কি?

স্কুলে বরাবর ভাল রেজাল্ট করা সুন্দর ছিলেন ক্রিকেট ক্যাপ্টেন। ফুটবলের আদ্যন্ত ভক্ত। এর পর আইআইটি খড়্গপুর। যেখানে প্রায়ই তাঁকে দেখা গিয়েছে ক্ষয়ে আসা হাওয়াই চপ্পল পায়ে। স্নাতকোত্তর স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। যা গুগ্‌লের আঁতুড়ও। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল, সেখান থেকেই পিএইচডি শেষ করে অধ্যাপক হবেন। তার বদলে এমবিএ করলেন হোয়ার্টন বিজনেস স্কুল থেকে। ২০০৪ সালে গুগ্‌লের সদর দফতরে প্রথম পা। চাকরির ইন্টারভিউ চলাকালীন তাঁকে বলা হয়েছিল সে দিনই নাকি জি-মেল বাজারে আনছে সংস্থা। সুন্দর ভেবেছিলেন, নেহাতই এপ্রিল ফুলের মস্করা। বাকিটা ইতিহাস।

গত এক দশকে দুনিয়ায় সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় সুন্দর এসেছিলেন নিছক প্রোজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে। গোড়ার দিকে তাঁকে শীর্ষ পদের দাবিদারও সে ভাবে মনে করেননি কেউ। শান্ত, মৃদুভাষী, সহকর্মীদের সঙ্গে ভাল ব্যবহারে অভ্যস্ত— এমন লোক যে আস্ত জাহাজের ক্যাপ্টেন হতে পারেন, এমনটা অনেকেই ভাবেননি।

সেই ভাবনায় বদলের শুরু বছর দুই আগে। ওয়েব দুনিয়ায় ঢুকতে মাইক্রোসফটের ব্রাউজার ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের জমি অনেকটাই সরিয়ে নিয়ে গেল গুগ্‌লের ক্রোম। তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়া চোখ কচলে দেখল, সেই সাফল্যের অন্যতম কারিগর মৃদুভাষী সুন্দরই। সাফল্য আরও বড় মাপে এল অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে স্মার্টফোনের বাজার ধরার মাধ্যমে। তাই অক্টোবরে পেজ যখন সুন্দরকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে নিয়ে এলেন, তখনই কাউন্ট-ডাউন শুরু হয়ে গিয়েছিল চূড়ান্ত ঘোষণার।

গুগ্‌লে সহকর্মীরা বলেন, ক্রেতার চাহিদা অনুসারে প্রযুক্তিকে ব্যবহারে সুন্দর ওস্তাদ। পেজ বলেন, ‘‘সুন্দরের আসল গুণ হল খুব কঠিন প্রযুক্তির খুব সহজ প্রয়োগ।’’ সুন্দর নিজে বলেন, ‘‘আমি চাই প্রযুক্তি হবে ক্রেতার চাহিদার চাকর। যেমন, যদি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভুলতে বসি, তখনই যেন চিৎকার করে আমার ফোন। যাতে তা মিস না হয়।’’ প্রযুক্তির প্রতি এই সমর্পণের পাশাপাশি সুন্দরকে এই উচ্চতায় তুলে এনেছে তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি, বরফ শীতল স্নায়ু এবং সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রেখেও চূড়ান্ত দর কষাকষির ক্ষমতা। এতটাই যে, স্যামসাংয়ের মতো সংস্থাকে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার ‘হুমকি’ দিতে পিছপা হননি তিনি। সহকর্মীদের মতে, এই সব গুণ ছিল বলেই কিছু দিন আগেও তাঁকে সিইও হিসেবে পেতে কাড়াকাড়ি করেছে টুইটার, মাইক্রোসফট। ওই সব বিরল ক্ষমতা আছে বলেই মাইক্রোসফটের সত্য নাদেল্লা কিংবা পেপসির ইন্দ্রা নুয়ির মতো বিদেশে ভারতীয় সাফল্যের লোকগাথা হয়ে গেলেন সুন্দর। এ দিন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, নাদেল্লা, অ্যাপলের কর্ণধার টিম কুক। মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সুন্দর টুইট করেছেন, ‘‘আশা করি শীঘ্রই আপনার সঙ্গে দেখা হবে।’’

বেশ কয়েক দশক ধরে সব চেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি বহুজাতিকগুলির শীর্ষে যাঁরা থাকতেন, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা হতেন নাটুকে, ‘লার্জার দ্যান লাইফ’। যেমন, অ্যাপলের স্টিভ জোবস। মাইক্রোসফটের স্টিভ বামার। গুগ্‌লেরই পেজ-ব্রিন জুটি। সেখানে এখন আই-ফোন তৈরির সংস্থার দায়িত্বে মিতভাষী কুক। বিল গেটসের সংস্থায় ভদ্র নাদেল্লা। আর গুগ্‌লে সুন্দর। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, সিলিকন ভ্যালি কি তবে বদলাচ্ছে?

চমকে দেওয়া বদল অবশ্য এ দিন করেছে গুগ্‌ল। সংস্থার মূল ব্যবসা থেকে উদ্ভাবনী কিন্তু এখনও তেমন রিটার্ন না-দেওয়া ব্যবসাগুলিকে আলাদা করেছে। যেমন, চালকবিহীন গাড়ি কিংবা বেলুনে নেট সংযোগ দেওয়ার প্রকল্প। বেশ অদ্ভুত নতুন মূল সংস্থার নাম— অ্যালফাবেট। অনেকে বলছেন, শূন্য থেকে শুরু করে এই উচ্চতায় পৌঁছনো এবং সেখান থেকে ফের নতুন দৌড় শুরু করা। এটাই তো চিরকালের মার্কিন স্বপ্ন, ‘আমেরিকান ড্রিম’। আর সুন্দর সেই মার্কিন উড়ানের সঙ্গে ভারতীয় স্বপ্নের মোহনা। যে স্বপ্নে তিনি একা নন, পরিবারও একই রকম মশগুল।

আমেরিকায় এসে ৬০ ডলার দিয়ে ব্যাগ কিনতে পারেননি। আজ ৬,৬০০ কোটি ডলারের সংস্থা তাঁর কাঁধে। এই জয় শুধু সুন্দরের নয়। স্কুটারের চার সওয়ারিরই। জয় নিখাদ ভারতীয় স্বপ্নের।

শান্তশিষ্ট, লাজুক ছেলেটাকে উপর থেকে দেখে আলাদা করে খুব নজরকাড়া মনে হতো না। কিন্তু তাকে কোনো প্রশ্ন করলেই ঝটিতি বেরিয়ে আসত ভিতরের শাণিত চেহারাটা। চটপট নিখুঁত উত্তরে একেবারে তাজ্জব হয়ে যেতেন শিক্ষকরা।

মেধাবী ছাত্র আইআইটি-তে অনেকেই থাকেন। কিন্তু মেটালার্জি অ্যান্ড মেটিরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র পি সুন্দররাজনের বি টেক স্তরের ‘থিসিস’-এও ছিল উদ্ভাবনী চিন্তার ছোঁয়া। পড়ার সময় থেকেই ঝোঁক ছিল বৈদ্যুতিন মাধ্যমে ব্যবহৃত ধাতু (সিলিকন, গ্যালিয়াম) নিয়ে কাজ করার। এ সব দেখে নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় আইআইটি খড়কপুরের শিক্ষক-অধ্যাপকদের অনেকে বলতেন, ‘‘এ ছেলে লম্বা রেসের ঘোড়া।’’ কিন্তু পিচাই সুন্দররাজনের (দুনিয়া যাকে সুন্দর পিচাই নামে চেনে) দৌড়টা যে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে গুগলের সিইও পদে পৌঁছে যাবে, এতটা বোধ হয় আশা করেননি তারাও।

শান্ত ছেলেটা পড়াশোনার বাইরে ক্যাম্পাসে বেশি মেলামেশা করত না। তাই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী গুগ্ল-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন শুনেও অনেকেই মনে করতে পারেননি তাকে। কর্পোরেট দুনিয়ায় পরিচিত সুন্দর পিচাইকে আইআইটি নথিপত্রেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মেটালার্জি অ্যান্ড মেটিরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক সনৎ রায়ই মনে করিয়ে দেন, আইআইটি-র নথিপত্রে ওর নাম ছিল পি সুন্দররাজন। ১৯৯৩-এ মেটালার্জি অ্যান্ড মেটিরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি টেক পাশ পি সুন্দররাজনই এখন নাম বদলিয়ে সুন্দর পিচাই!

মেধাবী সুন্দররাজনকে শিক্ষকেরা মনে রেখেছেন তার অমায়িক ব্যবহারের কারণেও। সনৎবাবু বলছেন, ‘‘ধাতুবিদ্যার কঠিনতম বিষয়েও সড়গড়, ঝরঝরে ইংরেজি বলতে পারা সুন্দরের মধ্যে কোনো দেখনদারি ভাব ছিল না।’’ ছাত্রের এই অনবদ্য কীর্তির পরে উচ্ছ্বসিত কানপুর আইআইটি-র ডিরেক্টর অধ্যাপক ইন্দ্রনীল মান্না। তার অধীনেই (তিনি তখন খড়কপুরে মেটালার্জি বিভাগের শিক্ষক) স্নাতক স্তরের ‘থিসিস’ করেছিলেন সুন্দর। ইন্দ্রনীলবাবু বলছেন, ‘‘ল্যাবরেটরিতে যেকোনো সমস্যা লিখে ফেলতেও সুন্দরের জুড়ি মেলা ভার। এত ভালো লেখার হাত কম দেখা যায়।’’ তার সঙ্গে ছিল দুরন্ত স্মৃতিশক্তি। একসঙ্গে অনেক ফোন নম্বর মনে রাখতে পারতেন। সহপাঠীদের অনেকে বলছেন, ‘‘ও ছিল ছুপা রুস্তম।’’

কী রকম? ক্যাম্পাসেই সুন্দরের পরিচয় হয়েছিল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসা অঞ্জলির সঙ্গে। পড়ার সময় দু’জনের প্রেম কিন্তু টেরই পাননি কেউ! পরে সেই অঞ্জলিই সুন্দরের ঘরণী। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু বন্ধু ছিল। তার মধ্যে স্বামীনাথন বলে আর এক যুবকের কথা মনে আছে ইন্দ্রনীলের। মেধাবী স্বামীনাথন পরে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করার রাতেই গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।

আইআইটি ক্যাম্পাসে সুন্দরকে পড়ার বাইরে সে ভাবে দেখা না গেলেও টুইটারে কিন্তু তিনি ফুটবল থেকে সমকামী বিয়ে, সবেতেই সপ্রতিভ। টুইটারেই সুন্দরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে সত্য নাদেল্লা, টিম কুক সকলেই। সুন্দর এ দিন টুইটে মোদীকে উত্তরও দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘আশা করছি শিগগিরি আমাদের দেখা হবে!’’

সেপ্টেম্বরে সিলিকন ভ্যালিতে যাওয়ার কথা রয়েছে মোদির। সেখানে তার সঙ্গে সুন্দরের কথা হয় কি না, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সবাই। গত বছরে সুন্দরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল শাহরুখ খানের। গত বছর অক্টোবরে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ছবির প্রচারে গুগ্ল-এর অফিসে গিয়েছিলেন শাহরুখ। বলেছিলেন, এক সময় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারই হতে চেয়েছিলেন তিনি। সুন্দরের পাল্টা প্রস্তাব ছিল শাহরুখের কাছে, ‘‘আপনি কি এখনও পেশা বদল করতে চান?’’

গুগ্ল অফিসেও সুন্দর জনপ্রিয় তার এমনই অমায়িক ব্যবহারের জন্য। গুগ্ল-এর জনসংযোগ বিভাগের প্রাক্তন কর্ত্রী পরমা রায়চৌধুরী (বর্তমানে সফটব্যাঙ্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট) বলছেন, ‘‘গুগ্ল ক্রোম নিয়ে সুন্দরের সাক্ষাৎকার প্রয়োজন ছিল। ওকে বলতেই অনুরোধ করল, ৩০ মিনিট পরে কথা বলতে। কারণ, সে সময় ও বাচ্চাদের ঘুম পাড়াচ্ছিল।’’ পরমা বলছেন, বড় কাজের মধ্যে ছোট ছোট ব্যাপারগুলোও কখনও সুন্দরের নজর এড়ায় না।

তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষে উঠে আসার পিছনে মেধার সঙ্গে অমায়িক ব্যবহারের রসায়ন তো রয়েইছে। আবার আইআইটি-র অন্দরে একটা অন্য রসিকতাও চলছে। ক্যাম্পাসের নেহরু হল-ও (বি টেক পড়ার সময় সুন্দরের ঠিকানা) নাকি এই চমকপ্রদ উত্থানের পিছনে অনেকটা দায়ী। বি টেক পড়ার সময় ওই বাড়িতে চার বছর থাকলে নাকি জীবনটা বদলে যেতে পারে! যার উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক ছাত্রের নাম!

রেভিনিউ সার্ভিসের উঁচু পদ ছেড়ে ৪৭ বছর বয়সে যিনি এখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী! অরবিন্দ কেজরীওয়াল!

পাতাটি ২৪৬৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


টোকিও সুসিন কগিয়ে থেকে সনি করপোরেশন

আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকা, জাপানী দুই উদ্যোক্তা। সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও পরাজয়ের…


দরিদ্র ঘরের ‘সুন্দর পিচাই’ আজ গুগলের সিইও

দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে আলাদা ঘর পেত না ছেলেটা। রাতে ভাইকে নিয়ে শুয়ে পড়তেন বসার…


ফেসবুকের নতুন ফিচার ‘মেসেঞ্জার ডে’

ফটো শেয়ারিং মোবাইল সার্ভিস স্ন্যাপচ্যাটের সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন এক পরিষেবা আনল ফেসবুক। নিজেদের মেসেজিং…

ফেসবুকের নতুন ফিচার ‘মেসেঞ্জার ডে’



ফটো শেয়ারিং মোবাইল সার্ভিস স্ন্যাপচ্যাটের সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন এক পরিষেবা আনল ফেসবুক। নিজেদের মেসেজিং মেসেঞ্জারে ‘মেসেঞ্জার ডে’ নামের নতুন এক ফিচার চালু করেছে। এই ফিচার ব্যবহারের মাধ্যমে ইউজাররা এমন ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে পারবেন, যা একদিন পর অটোম্যাটিকভাবে মুছে যাবে।

এই ফিচারে স্ন্যাপচ্যাটের ‘স্টোরিজ’ ফিচারকে অনুকরণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতোমধ্যে পোল্যান্ডে নতুন এক ফিচার চালু হয়েছে। ফেসবুক মেসেঞ্জারের চ্যাটবক্সের একদম উপরে ‘মেসেঞ্জার ডে’ অপশনটি দেখা যাবে।

ইউজাররা এই ফিচারের মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিও পোস্ট করার সময় তাতে অ্যানিমেটেড টেক্সট বা গ্রাফিক্স ইউজ করতে পারবেন। এর আগে ফেসবুকের তরফ থেকে জানিয়েছিল, ইউজাররা ‘ফেস-সোয়াপিং এমএসকিউআরডি’ নামের অ্যাপ ইউজ করে লাইভে যেতে পারবেন। ইতোমধ্যেই বিজ্ঞাপন ব্যবসায় আধিপত্য বজায় রেখেছে ফেসবুক।

নিজেদের অধীনে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ আর মেসেঞ্জার-এর মতো মেসেজিং অ্যাপ, যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ব্যবসায় আরও বেশি আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ রয়েছে, এমনটাই আভাস দিয়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক-এ অনুষ্ঠিত অ্যাডভার্টাইজিং উইক-এ এক সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মকর্তারা জানান, সংস্থাটি তাদের মেসেজিং অ্যাপগুলোকে ব্র্যান্ডগুলোর জন্য স্বাভাবিকভাবে খাপ খাওয়ানোর জায়গা হিসেবে দেখছে।

পাতাটি ১০৬৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


টোকিও সুসিন কগিয়ে থেকে সনি করপোরেশন

আকিও মরিতা এবং মাসারু ইবুকা, জাপানী দুই উদ্যোক্তা। সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও পরাজয়ের…


দরিদ্র ঘরের ‘সুন্দর পিচাই’ আজ গুগলের সিইও

দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে আলাদা ঘর পেত না ছেলেটা। রাতে ভাইকে নিয়ে শুয়ে পড়তেন বসার…


ফেসবুকের নতুন ফিচার ‘মেসেঞ্জার ডে’

ফটো শেয়ারিং মোবাইল সার্ভিস স্ন্যাপচ্যাটের সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন এক পরিষেবা আনল ফেসবুক। নিজেদের মেসেজিং…

প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পেলেন টাঙ্গাইলের এসপি ও তদন্ত কর্মকর্তা



টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলার তদারককারী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর ও এসআই অশোক কুমার সিংহ।

পুলিশ বিভাগ সূত্র জানায়, সালেহ মোহাম্মদ তানভীরকে ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার সফল তদারকি ও জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য এবং অশোক কুমার সিংহকে বহুল আলোচিত ওই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং বেশকিছু অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পদক দেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে শহরের কলেজপাড়া এলাকায় তার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার তিনদিন পর ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার প্রথমে সদর থানা পুলিশকে দেওয়া হয়। প্রায় এক বছরেও এর রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় পরে ২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অশোক কুমার সিংহকে। প্রায় সাত মাস তদন্ত শেষে এই হত্যাকা-ে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া তাদের জবানবন্দিতে ফারুক আহমেদ হত্যার সঙ্গে টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আমানুর রহমান খান (রানা) এবং তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। এ ঘটনার পর থেকে সাংসদ আমানুর ও তার ভাইদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

পাতাটি ২৯৬৯ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পেলেন টাঙ্গাইলের এসপি ও তদন্ত কর্মকর্তা

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলার তদারককারী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা…


পুরোনো পথেই নতুন বাজেট

রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন। আমাদের শিল্পানুরাগী অর্থমন্ত্রী ব্যর্থতার আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলেননি ঠিকই,…


রেমিটেন্সকে ‘বন্ড’ আকারে বাজারে ছাড়ার পরামর্শ মসিউরের

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সকে আরো বিনিয়োগমুখী করতে একে ডলারের…

পুরোনো পথেই নতুন বাজেট



রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন। আমাদের শিল্পানুরাগী অর্থমন্ত্রী ব্যর্থতার আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলেননি ঠিকই, তবে সম্ভবত এই প্রথম ব্যর্থতার একটি বড় তালিকা দিলেন। ২০০৯ সাল থেকে অনেক ধরনের পরিকল্পনা নিলেও যা যা করতে পারলেন না, তা অকপটেই বললেন তিনি।

কবিগুরুর ওই গানেই এর পরে লিখেছিলেন, ‘একলা রাতের অন্ধকারে আমি চাই পথের আলো।’ অর্থমন্ত্রী এ কথাটি আর মনে রাখলেন না। ব্যর্থতা নিয়েও বাজেটে অনেক আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি, কিন্তু কোন পথে যাবেন সেটি জানাতে পারলেন না। নতুন অর্থবছরে তিনি ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চক্র ভেঙে ৭ শতাংশে নিয়ে যেতে চেয়েছেন, বাড়াতে চেয়েছেন বেসরকারি বিনিয়োগ, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরেছেন ৩০ শতাংশের বেশি। কিন্তু কীভাবে তা করবেন তা বলেননি। রবীন্দ্রনাথ যেমনটি বলেছেন, ‘দেখতে তোমায় না যদি পাই নাই-বা দেখি’।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পুরোনো পথে হেঁটেই দেশকে ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধির সোপানে আরোহণ’ করার স্বপ্ন দেখালেন। তবে এ জন্য চাইলেন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে। আর আড়ালে রাখলেন সংস্কার করতে না পারাকে। অর্থাৎ অর্থনীতির সব ধরনের কাঠামোগত সমস্যার কোনো সমাধান না দিয়েই সমৃদ্ধিশালী দেশের কাতারে শামিল হওয়ার স্বপ্ন দেখালেন।

আপনার জন্য কী আছে: আপনারা যাঁরা নিয়মিত কর দেন, তাঁদের ওপর বোঝা বাড়তে পারে। কারণ, রাজস্ব আয়ের যে পরিকল্পনা অর্থমন্ত্রী নিয়েছেন, তা আগের তুলনায় ৩০ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, ‘সত্যিই উচ্চাভিলাষী।’ অর্থমন্ত্রীর আশা, এই রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। কারণ, কর কর্মকর্তার সংখ্যা বেড়েছে, দক্ষতাও বেড়েছে। চিহ্নিত করা হচ্ছে নতুন নতুন করদাতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা না হলে পুরোনো করদাতাদের ওপরেই চাপবে রাজস্ব আদায়ের চাপ। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এই হারে রাজস্ব আদায় কখনোই করতে পারেনি এনবিআর।

তবে নানা ধরনের করছাড়ও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। করমুক্ত আয়ের সীমা ৩০ হাজার টাকা বাড়িয়ে আড়াই লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে ধনীদের খানিকটা ছাড় দিয়েছেন, এখন সারচার্জ দিতে হবে সোয়া দুই কোটি টাকার সম্পদ থাকলে, দুই কোটি টাকা নয়। তবে অর্থমন্ত্রী সম্ভবত বাধার মুখে পড়বেন পোশাকমালিকদের পক্ষ থেকে। পোশাক খাতে ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করার কথা বলেছেন। এর আগেও অর্থমন্ত্রী এই চেষ্টা করেও পিছিয়ে এসেছিলেন। এবার কি পারবেন?

অর্থমন্ত্রী রাজস্ব আদায়ে এবার করের আওতা বাড়িয়েছেন। ছোট ছোট অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অর্থমন্ত্রীর বড় ভরসা এখনো উৎসে কর। আগে থেকে কেটে রাখা হয় বলে এই কর আদায় করা সহজ। অর্থমন্ত্রী এই পথটি আরও সহজ করার জন্য উৎসে আয়কর কাটার জন্য একটি স্বতন্ত্র কর অঞ্চল গঠনের প্রস্তাবও করেছেন। আরেকটি সহজ কর আদায় পদ্ধতি হলো সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধি। এতে প্রশংসা পাওয়া যায়, রাজস্বও মেলে। অর্থমন্ত্রী তাও করেছেন। তবে মোবাইল ফোনে কথা বলাসহ ডেটা ব্যবহারের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় হবে না।

পোশাক লবি সফল না হলেও দেশীয় শিল্পের কোনো কোনো উদ্যোক্তা সফল হয়েছেন। রাজশাহীর একজন সাংসদ ব্যাটারিচালিত গাড়ি সংযোজন শিল্প প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিলেন মাত্রই। একজন ব্যবসায়ী নেতার আছে গাড়ি সংযোজন শিল্প। এঁরা সবাই পেলেন বিশেষ করছাড়।

প্রত্যাশা সীমাহীন: ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শেষ করে সপ্তম পরিকল্পনায় ঢুকছে অর্থনীতি। স্বভাবতই অর্থমন্ত্রী বিগত পাঁচ বছরের একটি মূল্যায়ন করেছেন। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের উচ্চ প্রবৃদ্ধির একটি পথ রচনার কথাও বলেছেন। অবশ্যই গড়ে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন দেশের ইতিহাসে বিরল। তারপরও অর্থমন্ত্রীকে মানতে হয়েছে যে ‘আমার স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথগতি, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের অপর্যাপ্ততার কারণে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে লক্ষ্য অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়নি।’ তবে অর্থমন্ত্রীর আশা, সপ্তম পরিকল্পনার মেয়াদে (২০১৬-২০) জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ।

এ রকম এক প্রত্যাশা নিয়ে জাতীয় সংসদে আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব দিলেন, আকারে তা বিশাল, ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। যদিও বিশাল বাজেট দেওয়ার এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা কিন্তু অন্য রকম। এই বাজেট হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা, যা ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সুতরাং দেখা যাচ্ছে জিডিপি যতটা বেড়েছে, বাজেট সেই তুলনায় বাড়েনি, বরং কমেছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিদায়ী অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।
ব্যয় করতে না পারায় অর্থমন্ত্রী চলতি অর্থবছরের বাজেটে বড় ধরনের সংশোধন করেছেন। এতে বাজেট হচ্ছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার, যা জিডিপির ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সংশোধন করায় আগের বাজেটের তুলনায় নতুন বাজেট খানিকটা মোটাতাজা দেখালেও তা বাস্তবায়ন না করতে পারার সুফল। কেননা, মূল বাজেটের তুলনায় প্রায় সবগুলো সূচকই নিম্নগামী। যেমন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আকার ছিল জিডিপির ৬ শতাংশ, হয়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। আবার রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর নতুন বাজেট প্রস্তাব হচ্ছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রীর সমস্যা বাজেট পরিকল্পনায় নয়, বাজেট বাস্তবায়নে। অর্থনীতির আকার ও জিডিপির বিবেচনায় বাজেট ব্যয়ের পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মতই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা, কিন্তু আয়ের দিক থেকে বাজেট উচ্চাভিলাষী। আয় কম বলে ব্যয়ও করতে পারছেন না অর্থমন্ত্রী। আরেকটি ব্যর্থতা হচ্ছে প্রকল্প সাহায্য কম পাওয়া। এসব কারণে বড় বাজেট দিয়ে বারবার সংশোধন করতে হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে।

ঘাটতি অর্থায়নের দুশ্চিন্তা: ৮০ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রীর ভরসা অভ্যন্তরীণ। কারণ, ২৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নিয়ে ঘাটতি মেটানোর পরিকল্পনার কথা তিনি জানালেন। আর বাকি ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা আসবে অভ্যন্তরীণ ঋণ নিয়ে। এর মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

আগের অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল নয় হাজার কোটি টাকার। কিন্তু হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকার। এর ফলে সুদ পরিশোধের দায় বেড়েছে অনেক। এ কারণে কমানো হয়েছে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি বিক্রি কম হয়, কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক ঋণ না পাওয়া যায় তাহলে ভরসা ব্যাংক ব্যবস্থার ঋণ। এতে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়। আর বেসরকারি খাত তো বঞ্চিত হবেই।

দুশ্চিন্তা আরও আছে: এক বছর আগেও বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হতো মোট অনুন্নত বাজেটের ১৭ শতাংশ। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর কারণে সেটি এখন ২৩ শতাংশ হয়ে গেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দ্বিগুণ হলে এর প্রভাব কতটা পড়বে অর্থনীতিতে? অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা অগ্রাধিকার খাতে সঞ্চালন করা হবে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর নেই। ফলে বাড়তি করের বোঝা নিয়ে এই বাজেট কতটা স্বস্তি দেবে, সেটাই এখন প্রশ্ন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আশা, চলতি মেয়াদ শেষেই বাংলাদেশের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ও শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে, যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলো যানজটমুক্ত হবে, কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে।
দুই বছর আগে অর্থমন্ত্রী যাকে ‘অশোভনীয় আশাবাদ’ বলেছিলেন, তাকে এবার সংশোধন করে বলেছেন, ‘অশোধনীয় আশাবাদ।’ এই বাজেট কতটা পূরণ করবে তা?

পাতাটি ৩৮৯৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক পেলেন টাঙ্গাইলের এসপি ও তদন্ত কর্মকর্তা

টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য মামলার তদারককারী এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা…


পুরোনো পথেই নতুন বাজেট

রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে বলেছিলেন। আমাদের শিল্পানুরাগী অর্থমন্ত্রী ব্যর্থতার আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলেননি ঠিকই,…


রেমিটেন্সকে ‘বন্ড’ আকারে বাজারে ছাড়ার পরামর্শ মসিউরের

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সকে আরো বিনিয়োগমুখী করতে একে ডলারের…