মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন



দশদিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব হল রুমে মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়। হাওলাদার মিল্টন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, মালয়েশিয়া জতীয় পার্টির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম রহমান পারভেজ উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা করায় গৌরনদী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। খবর পেয়ে তাৎখনিক ভাবে আমরা এ সংবাদ সম্মেলন করছি। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ বদিউজ্জামান শাহীন, মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির নেতা, মো: শামছু মিয়া, মোরশেদ আহমেদ দুলাল, মো: সুমন মিয়া প্রমূখ।


মালয়েশিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

দশদিক ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৪ তম জন্মদিন ও শিশু দিবস পালন…


পদ্মা সেতু দ্রুত বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর বাসীর আহবান

দশদিক ডেস্ক: সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী শরিয়তপুর প্রবাসীদের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে বুকিত বিংতাং ইমবি হোটেলের হল রুমে…


মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের ৭ মার্চ উদযাপন

দশদিক প্রতিবেদক: ঐতিহাসিক ৭মার্চ উদযাপন করল মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগ। মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরস্থ সাইদ বিষ্ট্র হলরুমে…


মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন

দশদিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব হল রুমে মালয়েশিয়া জাতীয় পার্টির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন…

জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন



বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা হয় অমর একুশে উপলক্ষ্যে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ও সমকালীন বাংলাদেশে রাজনীতি নামে মানুষ পুড়িয়ে মারার যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে তার প্রতিবাদে প্রবাসীদের মত বিনিময় সভা। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাড়াও প্রবাসী ও মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাপান শাখার সভাপতি ছালেহ মোঃ আরিফ সূচনা পর্বে উপস্থিত থাকলেও জরুরি কাজে বাইরে চলে গেলে সহ সভাপতি সনত বড়ুয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হীরা এ সময়ে মঞ্চে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অমর একুশের বীর শহীদদের প্রতি এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে সহিংসতায় হতাহতের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। মহান একুশে ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে- আব্দুর রহমান, কাজী ইনসানুল হক, সর্দার, বিমান পোদ্দার, মোতালেব শাহ আইয়ুব প্রিন্স, আব্দুর রাজ্জাক, মোল্লা আলমগীর, মোঃ জাহিদ হোসেন, গোলাম মাসুম, নাজমুল আলম রতন, মনির হোসেন কর্নেল, সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ আলম, কামরুল হাসান লিপু, ওয়াহিদ মোল্লা, জাকির হোসেন জোয়ার্দার, সলিমুল্লাহ কাজল, হারুনুর রশীদ প্রমুখ। বক্তারা বলেন এটি হরতাল নয় খুনতাল। এই হরতালে জনগনের সম্পৃক্ততা নেই। রাস্তায় কেবল পেট্রোল বোমা আতঙ্ক, পুড়ে অংঙ্গার হওয়ার হয়, সম্পদ হারানোর ভয় নিয়ে, জনগনকে আতঙ্কে রেখে ভয় দেখিয়ে সব বন্ধ করার নাম আন্দোলন হতে পারে না। সংবিধান কোনো নেতা বা নেত্রীকে, কোনো রাজনৈতিক দলকে এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত করার কিম্বা রাষ্ট্রীয় ক্ষতিসাধন করার অধিকার দেয়নি। বক্তারা কেউ কেউ যেমন সংলাপকে স্বাগত জানিয়েছেন কিন্তু বেশির ভাগই হত্যাকারীদের সাথে কোনো আপোস নয়, সংলাপ নয় -প্রয়োজনে সবচেয়ে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে সিদ্দিকুর রহমান সম্প্রতি জাপানে রসুল (সাঃ)কে নিয়ে বিদ্রুপ করে চার্লি হেবডোর কার্টুন প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানান। জাপানের প্রকাশক দাইসেন শোকান মুসলমান গ্রুপ গুলোর তীব্র বিরোধীতা উপেক্ষা করে বইটি প্রকাশ করে জাপানে বসবাসরত মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন মন্তব্য করেন ও সবাই মিলে এর প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। সবশেষে সভার সভাপতি সনত বড়ুয়া সকলকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাদের মতামত প্রদান করায় ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…

নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি



১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩। দিনটি ছিল সোমবার। সময় ছিল সকাল ৮টা ৪৩ মিনিট।

৮১ বছর পর ২৫ এপ্রিল ২০১৫ মধ্যদুপুরে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৯। দিনটি ছিল শনিবার। এই ভূমিকম্পে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৬০ জন। ভূমিকম্পে উনিশ শতকে (১৮৩২ সাল) নির্মিত একটি প্রাচীন টাওয়ার ভেঙে গেছে যা গত ১০ বছর ধরে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা ছিল।

ভূমিকম্পের পর পরই বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিক শোক জানানোসহ সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকার ঘোষণা দেয়, যা সত্যিই প্রশংসনীয় ছিল। বসে নেই প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজনও। বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেরণ করে নেপালিদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
মানুষ মানুষের জন্য সেøাগানকে সামনে রেখে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালি জনগণের পাশে থাকার জন্য এক চ্যারিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। সংগৃহীত অর্থ নেপাল দূতাবাসের মাধ্যমে নেপালি জনগণের জন্য প্রেরণ করে।

৩১ মে রোববার টোকিওর কিতা সিটি ওজি হোকু তোপিয়া প্যাগাসাস হলে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন। দূতাবাস এবং জাপান সফররত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী সস্ত্রীক উপস্থিত থেকে প্রবাসীদের আয়োজনে অংশ নিলে আয়োজনের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
জাপান প্রবাসীদের প্রিয় দুটি সাংস্কৃতিক দল ‘উত্তরণ’ ও ‘স্বরলিপি’ এবং প্রবাসী শিল্পীরা অংশ নিয়ে সংীত পরিবেশনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেন। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং উপস্থিত দর্শক শ্রোতা ও অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সম্মিলিত অনুদানের পরিমাণ হয় ৫ লাখ ৫ হাজার ৫০০ ইয়েন।
সংগৃহীত অর্থের পুরোটাই নেপাল দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়।

২ জুন মঙ্গলবার কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ টোকিওস্থ নেপাল দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করেন। নেপাল দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মদন কুমার ভাট্টারাই প্রবাসী নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ গ্রহণ করেন। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, সংগৃহীত অর্থের অঙ্কটা বড় কথা নয়, সবচেয়ে বড় হলো মানবতা। নেপালি জনগণের জন্য বাংলাদেশিদের সহৃদয়তা, সদিচ্ছা এবং স্পিরিট নেপালি জনগণ চির কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে সুখেন ব্রহ্ম, বাদল চাকলাদার, কাজী এনামুল হক এবং জুয়েল আহসান কামরুল রাষ্ট্রদূতের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। এই সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের হেড অব দ্য চ্যান্সারি বা দূতালয় প্রধান নূর এ আলম, ইকোনমিক মিনিস্টার জীবন রঞ্জন মজুমদার এবং ‘সাপ্তাহিক’ জাপান প্রতিনিধি রাহমান মনি উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ হস্তান্তর উত্তর এক আলাপচারিতায় রাষ্ট্রদূত মদন কুমার বলেন, ৮১ বছর পর বড় ভূমিকম্প নেপাল পুনর্গঠনে এক বার্তা এনে দিয়েছে। যদিও এমনটি কারোরই কাম্য নয়। তারপরও বেশ কয়েকটি সতর্কবার্তা আমাদের জন্য রয়েছে এই ভূমিকম্পে। আমাদের সেগুলো মাথায় রেখে নেপাল পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।
৩ মে ২০১৫ প্রবাস প্রজন্ম অনুষ্ঠানেও নেপালের জন্য শোক ও সহমর্মিতা জানানো হয়। -রাহমান মনি


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…

মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫



রাহমান মনি:
ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট ভাবে উল্লেখিত।তা সত্বেও প্রবাসের ব্যস্ততম দিনে এবং ভিন্ন পরিবেশে ধর্মীয় আয়োজন, আচার পালন ইচ্ছা ও সামর্থ থাকার পরও অনেক সময় হয়ে ওঠেনা।আর দিনটি যদি হয় কর্ম দিবস তা হলে তো আর কথাই থাকে না।ইসলামী দেশগুলোতে প্রবাসীরা কিছুটা সুবিধা ভোগ করতে পারলেও জাপানের মত দেশে যেখানে ধমীয় আচার পালনের জন্য, এমনকি মে দিবসেও কোন সরকারী ছুটি থাকেনা, সেখানে ঈদের ছুটি আশা করা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকেই হয়তো পূর্র্ ছুটি নিয়ে কিংবা অর্ধ বেলা ছুটি ভোগ করে ঈদের নামাজটা আদায় করে থাকেন। কিন্তু ভিন্ন পরিবেশ হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতি প্রিয় এবং ধম ভীরু বাঙ্গালী যে বসে থাকার নয় তা আরেকবা্র প্রমাণ করল জাপান প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি। ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের মত এবারও মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান ঈদ উত্তর এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আয়োজন করে।গত ৪ অক্টোবর রোববার টোকিওর অইয়ামা বুনকা কাইকান এ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রায় অধ সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় জাপানিজ সুহৃদরা সতস্তফুর্ত অংশগ্রহন করেন।খোদ রাজধানীতে এবারের আয়োজন হওয়ায় ধর্ম বর্ণ নির্বি শেষে সকলের উৎসব মুখর অংশগ্রহনে আয়োজন স্থলটি হয়ে ওঠে এক চিলতে বাংলাদেশ।
ঈদ পুনর্মিলনী-২০১৫আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসাবে সস্ত্রীক উপস্থিথ ছিলেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। পুরো অনুষ্ঠানকে 3টি পর্বে ভাগ করা হয়। পরিচালনায় ছিলেন নাজমুল হাসান রতন এবং জুয়েল আহসান। প্রথম পর্বে সংগঠনের সভাপতি বাদল চাকলাদারের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য পর্বে উপবিষ্ট ছিলেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন,এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাৎসুও ইয়োশিনারি, সংগঠনের সাধারণ সমাম্পাদক এমডি এস ইসলাম নান্নু, বর্তমানে জাপান প্রবাসী জাপান সফররত বৃটেন প্রবাসী খুররম আহমেদ, রাষ্ট্রদূত পত্নি ফাহমিদা জাবিস সোমা। শুভেচ্ছা বক্তব্যের শুরুতেই অতি সম্প্রতি পবিত্র হজ পালনকালে মিনাতে বহু প্রাণহানী, 28 সেপ্টেম্বর ঢাকাতে ইতালিয়ান নাগরিক এবং 3 অক্টোবররংপুরে নিহত জাপানী নাগরিক হোশি কোনিওর স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জাপানপ্রবাসী সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের প্রায় সবাই, সকল মিডিয়া কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান।। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সকলকে ঈদরে আয়োজনে আপ্যায়ন করা হয়। শেষ পর্বে প্রবাসীদের প্রিয় সাংস্কৃতিক দল স্বরলিপি এবং উত্তরন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মনো মুগ্ধ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেন। ছবি: রাহমান মনি।


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…

টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ



-মোহাম্মাদ নাহিদ:
জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে দূতাবাসের নতুন ঠিকানায় নিজস্ব ভূমিতে, নিজস্ব ভবনে দূতাবাসের দৈনন্দিন কাজ কর্ম নতুন উদ্দমে শুরু করেছেন।জাপানের গুরুত্ব পূর্ণ এলাকা ( পার্লামেন্ট ভবন, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়,প্রধান মন্ত্রীর কারযালয়,জাপান সম্রাটের আবাস স্থল) এর কাছাকাছি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থে জাপান সরকারের কাছ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি কম কিস্থিতে কেনা ৭১৪ বর্গ মিটার জমিতে ১১১ কোটি ইয়েন দামে ক্রয় করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ সরকার। জাপানে বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতিক,জাপানের বুকে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের ছোট্ট বাংলাদেশ।শ্রদ্ধার সাথে আজ স্মরণ করছি সেই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের রক্ত ঋণে , অর্জিত এই পতাকা । উড়াচ্ছে জাপান, উড়াচ্ছে বিশ্ব ।জাপান প্রবাসীরা খুঁজে পেয়েছেন নকশী কাঁথার ঢং

বাংলার ঐতিহ্য দু –চালা ঘরের আবেশে , সাকুরা ফুলের সৌরভ মাখা এক অপলক সৃষ্টি। যা দেখলে মণ জুড়িয়ে যায় মন ছুঁয়ে যায়। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের নভেম্বরের ২৮ তারিখে জাপানের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় এর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। সেই সাথে আশা প্রকাশ করেন যত দ্রুত সম্ভব এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থমন্ত্রীকে জোর তাগিদ দেন। দূতাবাস নির্মাণের উদ্যোগ বাংলাদেশ সরকার গ্রহণ করেন জাপান প্রবাসী বাঙ্গালীদের জোর দাবীর ফলে। প্রথমে দুদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প সুদে জাপান সরকারের কাজ থেকে বাংলাদেশ এই জায়গাটি লাভ করেন। জমিটা টোকিওর চিইয়দা কু, কিওই চো ৩-২৯ এ অত্যন্ত গুরুত্ত পূর্ণ একটি এলাকায় অবস্থিত।এর মূল্য অনেক দিক থেকে বিচার্য ।জমির পরিমান ৭১৪ বর্গমিটার। নির্মাণ কাজটি ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে শুরু হয়ে ২০১২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিভিন্ন জটিলতার কারণে থমকে গিয়েছিল। প্রকৃত সমাপ্তি মার্চ ২০১৬। ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ দীর্ঘ চার বছর বিভিন্ন জটিলতায় থমকে গিয়েছিল নির্মাণ কাজ।অন্যান্য দেশের দূতাবাস জাপানে নির্মাণ করেছেন তাদের দূতাবাস নির্মাণ করতে এতটা সময় ক্ষেপণ করা হয়নি। যা বিরল ঘটনা।তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আশরাফ উদ-দৌলার সময়ে দূতাবাস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জমি কেনা ও ভবন নির্মাণ এর প্রচেষ্টা শুরু হয়। একাধিক কিস্থি পরিশোধ করা হয়। দূতাবাস ভবন নির্মাণ এর জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়। রাষ্ট্রদূত মজিবর রহমান ভুইয়া এর সময় মাননীয় প্রথান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তী কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে।মজিবর রাহমান ভুইয়া চলে যাবার পর তৎকালীন দূতাবাসের চার্জ দ্যা এফেয়ারস ডঃ জীবন রঞ্জন মজুমদার এর সময় কালে এর অগ্রগতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মমেন এর সময়কালে দূতাবাস ভবনটি দ্রুততার সাথে সম্পূর্ণ হয় । সদ্য নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার সময় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।চার জন রাষ্ট্রদূতের নিকট জাপান প্রবাসীরা কৃতজ্ঞ।

জাপানী স্থাপত্য উপদেষ্টা ফার্ম কেপিএএবং বাংলাদেশের স্থাপত্য উপদেষ্টা ফার্ম ভার্নাকুলার আর্কিটেক্টস যৌথ ভাবে এই দূতাবাস কমপ্লেক্সটির নকশা প্রনয়ন করেছেন। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ছিলেন মুরামত কর্পোরেশন । জাপানী স্থপতিদের মধ্যে রয়েছেন স্থপতি ইউশি কিতাগাওয়া এবং স্থপতি মাশাহিরো ওনো ,বাংলাদেশের স্থপতি ছিলেন ভার্নাকুলার আর্কিটেক্টস এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান স্থপতি ডঃ মাসুম ইকবাল । জাপানে বাঙালী কমিউনিটিতে সামাজিক, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক কারণে বেশ পরিচিত ।বিশেষ করে টোকিওস্থ ইকেবুকুরো নিশিগুচি পার্কে স্থাপিত শহীদ মিনার নির্মাণের প্রস্তাব তিনিই প্রথম ২০০৪ সালে জাপানের বাংলা কাগজ পরবাস আয়োজিত ভাষা শহীদ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে প্রবাসী বাঙ্গালিরা , বাংলাদেশ দূতাবাস,বাংলাদেশ সরকার ও তশিমা কু এর যৌথ উদ্যোগে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি স্থায়ী শহীদ মিনার। ২০১০ সালের প্রথম দিকে ডঃ মাসুম ইকবাল জাপানের চিবা ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষে দেশে ফিরে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনি ভার্সিটি বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।২০০০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর .২০০৩ সালে তিনি জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য জাপানে আসেন।জাপানে অবস্থান কালে তিনি এন এইচ কে বাংলা বিভাগে সংবাদ পাঠক হিসেবে জড়িত ছিলেন। ডঃ মাসুম ইকবালআওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে জড়িত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ- সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডঃ মাসুম ইকবাল এর কথা এতো বলার কারণ, নির্মাণাধীন দূতাবাসের মুল ডিজাইন করেছেন সেখানে যোগ করেছেন বাঙ্গালীর ঐতিহ্য দু চালা ঘর এর আকৃতি , নকশী কাথা, বাংলার কৃষ্টি , সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের কথা মাথায় রেখেই । মুল প্রোগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও তার শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ভালবাসায় এটিকে যোগ করেছিলেন।সেখানে ভবন তৈরি হবার পর কোন স্মৃতি সৌধ দেখতে পাইনি। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অনেক ধন্যবাদ । শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা হলেও আত্মা শান্তি পাবে। যদিও মূল নকশা অনুযায়ী ত্রিমাত্রিক না হলেও একটি দ্বিমাত্রিক স্মৃতি সৌধ যুক্ত করা হয়।

দূতাবাসের পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু কিছু দুর্নীতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে যথা-১,স্থপতিদের মুল নকশার পরিবর্তন করে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বেজমেন্ট এ কার পারকিং বাতিল করা হয়েছে।২,বাংলাদেশের স্থপতির নাম এবং প্রতিষ্ঠান এর নাম বাদ দেয়ার কথা শুনা যাচ্ছে ।
বা-দিক থেকে স্থপতি মাসাহিরো ওনো, মূল্যায়ন কমিটির প্রধান আব্দুল হাই,সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস,স্থপতি ইউশি কিতাগাওা,মাকোতো হারাদা,এবং স্থপতি ডঃ মাসুম ইকবাল পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে বৈঠক শেষে।

বেজমেন্ট কার পার্কিং স্থপতিদের মূল ডিজাইনে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য বি-১ এগাড়ী রাখার ব্যবস্থা থাকা সত্তেও তা বাতিল করেন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক। এই ব্যবস্থাটি না থাকার কারণে দূতাবাসে আমন্ত্রিত অতিথি, প্রবাসী বাংলাদেশী বৃন্দ, বিভিন্ন দেশের ভিসা গ্রহীতা গন সহ সকলের জন্য অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে।অধিকাংশ লোকজন গাড়ী নিয়ে দূতাবাসে আসবেন পারকিং না থাকার দরুন দূতাবাসের সামনেই গাড়ী রেখে ভিতরে প্রবেশ করবেন।এরকম চলতে থাকলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে আসেপাশের অধিবাসীরা। কয়েকদিন পূর্বে দূতাবাস দেখতে আসা এক পর্যটকের ধুম পান করার অভিযোগ শুনতে হয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদেরকে।এখানে উল্লেখ্য যে জাপান সম্রাটের অতি নিকট আত্মীয় স্বজনদের আবাস স্থল এর আশেপাশে।জাপান প্রবাসীদের বাংলাদেশের জাতীয় অনুষ্ঠানে গুলিতে হট্টগোল বলাই বাহুল্য। এ থেকে উপলব্ধি করা যায় বঙ্গবন্ধুর সময় কাল থেকে জাপান বাংলাদেশের যে বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল তা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক এটাকে বাতিল করার ফলে জাপান বাংলাদেশের বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্কের ফাটল ধরবে বলে অনেকেই ধারনাকরছেন।বিষয়টিতে প্রবাসীরা ক্ষোভ জানাচ্ছেন।এখানে দুর্নীতির আভাস পাচ্ছেন অনেকে।

বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দেয়ার কথা শুনা যাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের মূল নকশার সাথে জড়িত স্থপতি ডঃ মাসুম ইকবাল কে এবং তার প্রতিষ্ঠান ভার্নাকুলার আর্কিটেক্ট এর নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এদিকে দূতাবাসে ভবন সম্পর্কিত কোন কাগজ পত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।কাজটি আমাদের বাংলাদেশী স্থপতি অন্তর্ভুক্তির বিনিময়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট নম্বর (১০) বরাদ্দ ছিল । যাকে ডোমেস্টিক প্রেফারেন্স বলা হয়। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বেনিফিট অব ডোমেস্টিক প্রেফারেন্স গ্রহণ করে পরবর্তীতে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। ভবন নির্মাণের শেষ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয় ডঃ মাসুম ইকবাল এর সাথে । তার নাম এবং প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দেয়া হয়েছে জানতে পারেন জাপান প্রবাসী সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হক এর নিকট থেকে। স্থপতি ডঃ মাসুম ইকবাল বলেন, ( জাপানে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার খবর পেয়েছি এবং গত মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে , বিষয়টি খুবই আনন্দের নিঃসন্দেহে । জাপান প্রবাসী বাঙ্গালীরা এখন একটি নিজেদের জায়গায় মিলিত হতে পারবেন, দূতাবাসের কার্যক্রম খুব ভালভাবে সম্পাদিত হতে পারবে। এর ডিজাইন প্রনয়নে শুরু থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠান ভার্নাকুলার আর্কিটেক্ট সহ- পরামর্শক হিসাবে ছিল, এবং ভার্নাকুলার এর পক্ষ থেকে আমি ও আরেকজন স্থপতি আশিক ভাস্কর মান্নান প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। যদিও তখন দেশে আমার সাথে প্রকল্পটিতে আরও দুজন স্থপতি শরিফুল ইসলাম ও স্থপতি সুব্রত বিশ্বাস বাপ্পি কাজ করেছেন।আমাদের কোম্পানির নাম বাদ দিয়েছেন, শুনতে পাচ্ছি। যা সম্পূর্ণ ভাবে বেআইনি । বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে আমাদের কোম্পানির পক্ষ থেকে মান্যবর রাষ্ট্রদূত (প্রকল্প পরিচালক) বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে)।

আগামী ২৫ থেকে ২৮ মে জি-৭ দেশ সমূহের আউটরিচ মিটিং এ যোগ দেওয়ার জন্য জাপানের প্রধান মন্ত্রী শিনজো আবে বাংলাদেশর প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে আমন্ত্রন জানিয়েছেন।ঐ সময়ের মধ্যে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা,বাংলাদেশ দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করিবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

জাপানে বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস নির্মাণ করে পৃথিবীর বুকে নতুন ভাবে পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠতায় দূতাবাস ভবনটি দ্রুততার সাথে শেষ করে বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিলেন। অভিনন্দন বাংলাদেশ সরকার কে । আমরা খুঁজে পেয়েছি একটি নিজস্ব ঠিকানা ।আপন আলোয় উদ্ভাসিত নতুন পরিসর।


জাপানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অমর একুশে উদযাপন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাপান শাখার আয়োজনে রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি টোকিওর মাচিয়া বুনকা সেন্টারে আয়োজন করা…


নেপালের ভূমিকম্পে বিধ্বস্তদের পাশে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি

১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল নেপালে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের…


মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর সোসাইটি জাপান আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ২০১৫

রাহমান মনি: ত্যাগের মাধ্যমে আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার অন্যতম বিধান ঈদুল আজাহা ইসলামে সুনিদিষ্ট…


টোকিওতেনিজস্বএক খণ্ড বাংলাদেশ

-মোহাম্মাদ নাহিদ: জাপানে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী দূতাবাস প্রকল্পের (গ্রীন বর্ষা )কাজ শেষ হয়েছে। মার্চ মাসের…

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন



রাহমান মনি::
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে পাসপোর্টের তথ্য লেখা এবং পড়ার কাজটি শুরু করেছে। যাকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা সংক্ষেপে এমআরপি (গজচ) বলা হয়ে থাকে। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলো এতদিন পিছিয়ে ছিল। উন্নত দেশগুলো বারবার চাপ দেয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ হচ্ছিল না বা উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেকটাই উদাসীন ভাব দেখিয়েছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

অবশেষে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রথা চালু করার জন্য। আগামী মার্চ ২০১৫ এর সময়সীমা। এরপর আর হাতে লেখা কোনো পাসপোর্ট গ্রহণ করা হবে না। অর্থাৎ এর মধ্যে যারা ব্যর্থ হবেন, তারা আন্তর্জাতিক মহল থেকে ছিটকে পড়বেন।

বর্তমানে সারাবিশ্বে বিভিন্ন কারণে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বসবাস করছেন বৈধভাবে। আর অবৈধপথে এবং প্রতি বছর যাতায়াত করছেন আরও বহুসংখ্যক। এদের প্রত্যেকেরই দরকার সরকারি ছাড়পত্র বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশিদের পাসপোর্টের রং সবুজ হওয়ায় প্রবাসীদের কাছে তা সবুজ পাসপোর্ট হিসেবেই সমধিক পরিচিত।

বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৫, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭, কুয়েতে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৩৬২, মালয়েশিয়ায় ৭ লাখ ৮ হাজার ৪৪২, সিঙ্গাপুরে ৫ লাখ ২১ হাজার ৭৩৫, ওমানে ৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ এবং কাতারে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ জন শ্রমিক গিয়েছেন। (সূত্র : মানবজমিন)

আর জাপানে এই সংখ্যা নেহায়েতই কম। ইন্টারনেট সূত্র অনুযায়ী ৯ হাজার ৮৮২ জন। দূতাবাস সূত্র অনুযায়ী প্রায় ১১ হাজার। যার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬০০ জন এবং অন্যভাবে ৯ হাজারেরও কিছু বেশি।
আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের চাপে বাংলাদেশে ২০১৩তেই এমআরপি কার্যক্রম শুরু হলে জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৫ মার্চ ২০১৪তে। টোকিও দূতাবাস ৪২তম মিশন হিসেবে এমআরপি ও এমআরভি (মেশিন রিডেবল ভিসা) চালু হয়।

বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তাক আহম্মেদ, এমআরপি এবং এমআরভি প্রজেক্টের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাসুদ রেজওয়ান দূতাবাস ভবনে স্থানীয় প্রবাসী মিডিয়াকর্মী এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করেন।

প্রথমদিকে প্রবাসীদের অজ্ঞতা এবং দূতাবাসের সীমাবদ্ধতার জন্য প্রতিদিন ৮-১০টির বেশি কাজ করা যেত না। প্রবাসীদের অজ্ঞতা বলতে এমআরপি শুরু হওয়ার কথা না জানা, জানলেও অনলাইনে ফিলআপ না করে সরাসরি দূতাবাসের দ্বারস্থ হওয়া, জন্মনিবন্ধন না করানো ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। আর দূতাবাসের সীমাবদ্ধতা বলতে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের অভাব, স্থান সঙ্কুলান, কাজের পরিবেশকে বুঝানো হয়েছে।

এই বছর এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ৮/৯টির মতো আবেদন জমা নিতে পারছেন। যদি এই ধারা বজায় থাকে তাহলে ২০১৫ মার্চের মধ্যে সকলের পাসপোর্ট এমআরপিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না বলে বেশ উদ্বিগ্ন রয়েছেন তিনি।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং মেধাবীদের তিনি এমআরপি ও এমআরভি সেকশনে নিয়োগ দেন। দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি শাহনাজ রানুর নেতৃত্বে ৭ জন তরুণ মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে কনস্যুলার ভবনে স্থানান্তর করেন।

১৫ জুলাই ২০১৪ শাহনাজ রানু দায়িত্ব বুঝে নিয়ে রাষ্ট্রদূতের পরামর্শ মোতাবেক কাজ শুরু করেন। প্রথম চার মাসে যেখানে ৯শ’র মতো পাসপোর্টের আবেদন জমা নিতে পেরেছিলেন সেখানে পরবর্তী দুই (১৫ জুলাই-১৫ সেপ্টেম্বর) মাসে ১১শ’রও কিছু বেশি আবেদন জমা নিতে পেরেছেন। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম রোববার সর্বাধিক ৪২টি আবেদন জমা এবং ৫০টি পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে সক্ষম হন যা এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ রেকর্ডও বটে। উল্লেখ্য, প্রবাসীদের অনুরোধে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের (চারদলীয় জোট) নির্দেশে মাসের ১ম রোববার দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগ খোলা রাখা হয় এবং দূর-দূরান্ত থেকে প্রবাসীরা বিভিন্ন কাজের জন্য আসেন।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এমআরপি নিয়ে কাজের গতিতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছিলাম না। যেভাবে বা যে গতিতে কাজ এগোচ্ছিল তাতে করে ২০১৫ মার্চের মধ্যে সব পাসপোর্ট প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে আমার ধারণা হয়। কিন্তু এর মধ্যে তো কাজটি করতেই হবে। নচেৎ প্রবাসীরা বিপদে পড়ে যাবে। তাই সার্বিক বিবেচনায় গত জুলাই মাসে আমি কলিগদের সঙ্গে মিটিং করে মিশনের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন বা রি-অর্গানাইজড করি। শাহনাজ রানুর নেতৃত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম তৈরি করে দেই। এদের সবাই তরুণ ও মেধাবী। এখন মনে হচ্ছে কাজটি করা ভালোই হয়েছে। সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। তারাও বেশ আস্থা নিয়ে কাজ করছে।

গত দুই মাসের পর্যালোচনায় কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন এখন ২০ থেকে ২৫টি আবেদন গ্রহণ করতে পারছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি এমআরভি প্রদান করতে পারছেন। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও টিম যেভাবে কাজ করতে পারছে তাতে আমি আশাবাদী যে, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা সেবা প্রদানে সক্ষম হব। এখন প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের জানান দিতে হবে। আমরা ওয়েবসাইটে দিয়েছি। সম্ভাব্য সকল ধরনের প্রচারের ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রবাসীরা সময় থাকতেই যদি আসেন উভয়ের জন্য মঙ্গল হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কাজে গতি আনার জন্য স্থানীয়ভাবে অস্থায়ীভিত্তিতে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিজাম নামের নিয়োগকৃত ছেলেটির প্রথম দুই মাস কাজের মূল্যায়ন করেই এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে। আপনি জানেন, মাসের প্রথম রোববার দূতাবাসের কনুস্যলার বিভাগ খোলা থাকে এবং সেই দিনই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আবেদন জমা এবং পাসপোর্ট প্রদান হয়ে থাকে। যদি বিশেষ দরকার হয়, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে মাসে ২টি রোববার খোলা রেখে প্রবাসীদের সেবা দেবার চিন্তাও রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানান, একটি মাত্র ক্যামেরা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় সার্ভার থেকে লিংকটি ডাউনলোড করতে মাঝপথেই থেমে যায় সেভ করার আগেই। সেই ক্ষেত্রে আবার প্রথম থেকে কাজটি শুরু করতে হয়। ডাউনলোডেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি রয়ে যায়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও কাজে বিড়ম্বনা হয়। সিঙ্গেল সিস্টেমের কারণেই এটা বেশি হয়। এছাড়া একটি মাত্র ক্যামেরা, যদি কোনো কারণে বিগড়ে বসে বা ভেঙে যায় বা অকেজো হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আরও বেশি বিপদে পড়তে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে আমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন শীঘ্রই তিনি ব্যাকআপ সিস্টেমের ব্যবস্থা নিবেন। আপনি জানেন যে, এমআরপি এবং এমআরভির পুরো কাজটি পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা। সেনাবাহিনীর একদল চৌকস অফিসার এই সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদেরই নিরলস প্রচেষ্টায় কাজটি এগিয়ে চলেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসীরা যদি আরেকটু সচেতন হন, তাহলে কাজটি আরও সহজতর হয়। যেমন অনেকেই অনলাইনে ফরমটি পূরণ না করে হাতে লিখে নিয়ে আসেন। হাতে লেখা ফরম নিয়ে এলে বানান ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সময়ও লাগে বেশি। যেমন অনলাইনে পূরণ করে প্রিন্ট করে নিয়ে এলে কিংবা কর্তৃপক্ষ প্রেরিত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে আসার পরও সব মিলিয়ে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগে যায় এক একটি আবেদনের ক্ষেত্রে। আর হাতে লিখে নিয়ে এলে তা দেখে দেখে কম্পোজসহ সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট।

এছাড়া শিশুদের বেলায় সময় লাগে আরও বেশি। যেমন দুধের একটি শিশুর ছবি তুলতে গেলে অনেক বেগ পেতে হয়। কম্পিউটারের ডাটাবেজ অনুযায়ী ছবির বেলায় মুখমণ্ডলের ছবি থাকতে হবে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং পিছন দিকটা হতে হবে সাদা। এখন ওই শিশুকে তো আর বসিয়ে কিংবা দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা যাবে না। তুলতে হবে মায়ের কোলে। তাহলে আবার ব্যাকসাইড শর্ত ভঙ্গ হবে। শর্ত ভঙ্গ হলে কম্পিউটার তা গ্রহণ করবে না। তাই অনেক সময় কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হলে তারা কিছুটা শিথিল করেছেন শিশুদের ছবি তোলার বেলায়। পাসপোর্ট ডেলিভারিতেও সময় কম লাগছে এখন। প্রথমদিকে আবেদন গ্রহণ করার পর থেকে প্রদান করা পর্যন্ত ৬ সপ্তাহের ওপর সময় লেগে যেত। এখন ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছি।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিবন্ধীদের বেলায় দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকে।

স্থান সঙ্কুলান সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আপনি জানেন এটি একটি ভাড়া বাড়ি। বাড়িটি ভাড়া নিয়ে আমরা যাবতীয় কর্ম পরিচালনা করছি। সেই কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা সব ধরনের সেবা দিতে পারছি না। তবে আগামীতে যখন আমাদের নিজস্ব ভবন হবে, তখন আমরা প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের কথাটি মাথায় রেখে দূতাবাস ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করব।

কবে নাগাদ নিজস্ব ভবন নির্মিত হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বছরের শেষ নাগাদ কাজটি শুরু হবে এবং আগামী ১৪ মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। সেই হিসাবে ইনশাআল্লাহ ২০১৬ সালে জাপানপ্রবাসীরা জাপানের মাটিতে তাদের নিজস্ব দূতাবাস ভবন পাবেন এবং দূতাবাসও সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে সচেষ্ট থাকবে।
এছাড়াও রাষ্ট্রদূত জানান, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী জাপানি ভাষায় ভাষান্তরের কাজটিও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এনএইচকে (জাপান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) ওয়াও-এর বাংলা বিভাগের প্রধান ওয়াতানাবে কাজটি করছেন। আপনারা কিছুদিনের মধ্যেই জাপানিদের কাছে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পৌঁছে দিতে পারবেন। জাপানিরা বঙ্গবন্ধুকে আরও ভালোভাবে জানবে, সেই সঙ্গে জানবে বাংলাদেশকে।

দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব এবং এমআরপি ও এমআরভি টিমপ্রধান শাহনাজ রানু জানান, রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে এবং তার তদারকিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা কাজটি করতে পারব ইনশাআল্লাহ। তবে এই ব্যাপারে প্রবাসীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা যদি সময় শেষ হওয়ার আগেই কাজটি করিয়ে নেন তাহলে ভালো হয়।

কাজ করতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহনাজ রানু বলেন, সমস্যা তো কিছু হচ্ছেই। যেমন ধরেন, সবকিছুই করতে হচ্ছে অনলাইনে। এখানে জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপার আছে। অনেক প্রবাসীই আছেন অনেক আগেই দেশ ছেড়েছেন। জন্মনিবন্ধন কী তা-ও জানেন না এমন প্রবাসীও রয়েছেন। এখন বাংলাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ে আন্তর্জাল সুবিধা অতটা সহজলভ্য নয়, তাই সর্বশেষ আপডেট জানা সম্ভব হচ্ছে না। জন্মনিবন্ধন করেননি এমন প্রবাসীও রয়েছেন। আবার করে থাকলেও কপি বা মূল কোনোটাই সঙ্গে নেই। এমনকি নম্বরটি পর্যন্ত জানেন না। অজোপাড়াগাঁ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইমেইল বা অন্য কোনো প্রসেসে আনাও সম্ভব নয়। বাইপোস্টে আনা সময়সাপেক্ষ। আবার দেখা যায় পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধ পত্রের তথ্য অভিন্ন নয়। বানান ভুলও থাকে। সেই ক্ষেত্রে আমরা এখান থেকে পাসপোর্টে দেয়া তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি নিয়ে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করে থাকি। কী করব বলেন, এটার জন্য তো আর সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। আবার এটা ছাড়া অনলাইনও আবেদনটি গ্রহণ করবে না।

স্থানীয় প্রবাসী রাজনৈতিক বা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে কোনো প্রকার চাপ বা তদবিরের সম্মুখীন হচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহনাজ রানু বলেন, অন্য দেশের কথা বলতে পারব না। তবে, যেহেতু জাপানে কাজ করছি তাই এখানকার অভিজ্ঞতা থেকেই বলব, কোনো ধরনের চাপ তদবির এখানকার নেতৃবৃন্দ করছেন না। বরং সহযোগিতাই করছেন, এমনকি নিয়ম মেনেই নিজেরটাও করছেন। জাপান প্রবাসীরা খুব হেল্পফুল। তারা একদিকে যেমন জাপানি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তেমনি অপরদিকে রয়েছে গভীর দেশপ্রেম। দেশের কোনো বদনাম হবে, এমন কোনো কাজ তারা করছেন না। সেই হিসেবে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবতী মনে করি এমন একটি পরিবেশ পেয়ে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশ সংস্কৃতির সব ধরনের আয়োজনই তারা জাপানের আইন মেনেই করে থাকে। সবচেয়ে গর্বের ব্যাপার হচ্ছে এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক এমআরপি সমস্যাজনিত কারণে ঝুঁকিতে রয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারলে এসব দেশে লাখ লাখ শ্রমিককে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে হবে।

বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সাতটি দেশে অবস্থিত ১০টি মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং স্থাপনের অনুমোদন দেন। সরকারি আদেশও জারি করা হয়। কিন্তু বাদ সাধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিজেদের কর্তৃত্ব হাতছাড়া করতে রাজি নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা উইংয়ের জন্য সৃষ্টি করা ৭৩টি নতুন পদের বিরোধিতা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেরিত এক চিঠিতে জানা যায়, সারা বিশ্বে ২০১৫ সালের মধ্যে এমআরপি এবং এমআরভি কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং। তা নিত্যান্তই সাময়িক। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, আউট সোর্সিং কার্যক্রমের দ্রুত বাস্তবায়ন, এমআরপি ও এমআরভি-র ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার যেমন অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই, ঢাকাস্থ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব। এতে একদিকে যেন নতুন পদ সৃষ্টি ও দাপ্তরিক স্থাপনা সম্প্রসারণ এড়ানো সম্ভব হবে, তেমনি অপরদিকে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ভার পরিহার করেও উন্নত কনস্যুলার সেবা দেয়া সম্ভব হবে। সূত্র মানবজমিন।

চিঠি চালাচালিতে যা-ই উঠে আসুক না কেন, স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে মিশনগুলোতে এত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীদের এমআরপি প্রদান যে প্রায় অসম্ভব, এটাই বাস্তবতা। আর তা সম্ভব না হলে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে প্রবাসীদের। যাদের অর্থে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তাদের বিড়ম্বনা লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ পদক্ষেপ নেবেন, এটাই প্রবাসীদের কাম্য। জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের আশাবাদে জাপানপ্রবাসীরা সন্তুষ্ট হতে পারলেও অন্যান্য দেশে আশার আলো ক্ষীণ। সরকার যত তাড়াতাড়ি বিষয়টি অনুধাবন করে ব্যবস্থা নিতে পারবে, প্রবাসীদের ততটাই মঙ্গল হবে।
rahmanmoni@gmail.com

-সৌজন্যেঃ সাপ্তাহিক

পাতাটি ৩০৮০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…

টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস



২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপিত হয়।

মায়ের ভাষার দাবিতে বাঙালীর আত্মত্যাগের মহিমান্বিত এক দিন । যেদিন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের বুকের রক্তে ভেসেছিল ঢাকার রাজপথ । বাঙালীর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন । এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে এই দিনটি ।

প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে দূর দূরান্ত থেকে আগত প্রবাসীদের উপস্থিততে প্রথমে জাপানস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং পরে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ পেশা জিবীরা শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন ৷ বিষ্ময়কর হলেও সত্য কতিপয় জাপানীজও উপস্থিত ছিলেন ৷ একই সাথে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রবাসী সাংবাদিক ও টিভি রিপোর্টার ৷

পাতাটি ২৭০০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…

জাপানে বৈশাখী মেলা



জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ সোসাইটি জাপানের উদ্যোগে। টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে য়োয়োগি কোওয়েন উদ্যানে সমবেত হতেন শীত শীত ছুটির দিন রবিবারে। অনেকটা বনভোজনের আদলে ঘরে তৈরি খাবারদাবার নিয়ে এসে উদ্যানে বসে ‘এসো হে বৈশাখ/এসো এসো/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে…’ গান গেয়ে বর্ষবরণের স্মৃতি আমার মনে এখনো উজ্জ্বল—এটা আশি দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। জাপানে এপ্রিল মাস পর্যন্ত শীত থাকে, তার মধ্যেও প্রাণের টানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈশাখ উদযাপন করতে ভোলেন না।

২০০০ সাল থেকে ‘টোকিও বৈশাখী মেলা এবং কারি ফেস্টিভ্যালে’র সূচনা। এটা প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে টোকিওর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ইকেবুকুরো শহরের নিশিগুচি কোওয়েন বা নিশিগুচি প্রাঙ্গণে। এখন অবশ্য প্রাঙ্গণটি ‘শহীদ মিনার পার্ক’ নামে পরিচিতি লাভ করছে। কেননা প্রাঙ্গণে ২০০৫ সালে স্থাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের প্রতীক শহীদ মিনার। শহীদ মিনারের পাশেই বৈশাখী মেলা আজ একসূত্রে বাঁধা পড়ে গেছে। ওসাকা, ফুকুওকা প্রভৃতি শহরেও বৈশাখী মেলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এ বছর ১৬তম টোকিও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ ১৯ এপ্রিল রবিবার। বস্তুত মেলার প্রস্তুতি তিন মাস পূর্ব থেকেই শুরু হয়ে যায়। মেলার আয়োজক কমিটির মূল সমন্বয়ক হচ্ছেন প্রবাসীদের প্রিয়মুখ ডা. শেখ আলীমুজ্জামান। কার্যকরী সদস্যরা হচ্ছেন সুখেন ব্রহ্ম, ছালেহ মোহামাম্মদ আরিফ, আসলাম হীরা, জাকির হোসেন জোয়ারদার, কাজী ইনসান, জুয়েল এম কিউ, মো. জসিম উদ্দিন, মাসুদুর রহমান, বিমান পোদ্দার, আসগর আহমেদ, বহ্নি আহমেদ প্রমুখ। শিশুদের অনুষ্ঠানের প্রধান পরিচালক কণ্ঠশিল্পী ববিতা পোদ্দার। স্থানীয় দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠন—উত্তরণ কালচারাল গ্রুপ এবং স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি মেলার অনুষ্ঠানে প্রভূত সহযোগিতা করে থাকে। প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একাধিক কণ্ঠশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা এসে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে মাতিয়ে দিয়ে যান একদিনের অনুষ্ঠানে। বাঙালি শিল্পীদের পাশাপাশি জাপানি সংস্কৃতিকর্মী এবং শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করে থাকেন। মঞ্চে উঠে আসেন অন্যান্য দেশের দর্শকও, যারা বাঙালি সংস্কৃতির কথা জানেন। কাজেই টোকিও বৈশাখী মেলাকে আন্তর্জাতিক ভাববিনিময়ের মেলাও বলা যায়।

সকাল দশটায় মেলার উদ্বোধন হয় ‘এসো হে বৈশাখ’ সমবেত কণ্ঠে গাওয়ার মাধ্যমে কিন্তু মেলার নিজস্ব উদ্বোধনী সঙ্গীতও গাওয়া হয় ‘এক বৃন্তে শাপলা আমি তুমি সাকুরা’। দশটার আগেই দূরদূরান্ত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসে হাজির হতে থাকেন। বেশ শীত থাকা সত্ত্বেও পুরুষরা পাঞ্জাবি এবং মেয়েরা বাহারি শাড়ি পরে মেলায় আসেন। সাম্প্রতিককালে শিশুরা বৈশাখের বিশেষ ডিজাইনের জামা পরে আসছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতসহ বিশিষ্ট প্রবাসী এবং জাপানিরা উপস্থিত থাকেন। তারা বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য এবং দুদেশের মৈত্রী সম্পর্ক নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এরপর শুরু হয় সারাদিনব্যাপী নাচ-গান-আবৃত্তি, শুভেচ্ছা বক্তব্য, শিশুদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা, লটারি ইত্যাদি। মঞ্চে শিশুদের নাচ-গানের অনুষ্ঠান অত্যন্ত আনন্দদায়ক। স্থানীয় শিল্পীদের গানের পর বাংলাদেশ থেকে শিল্পীরা বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমনভাবে মাতিয়ে তোলেন মঞ্চ যে মেলাটি ছোটখাটো একটি বাংলাদেশে পরিণত হয়ে যায়!

মেলায় প্রায় ৪০টির কাছাকাছি স্টল থাকে, যার অধিকাংশই হচ্ছে ভারতীয় ও বাংলাদেশি খাবারের। এছাড়া গ্রন্থ, ভ্রমণ, টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার, পোশাক ইত্যাদিও বিদ্যমান। বাংলাদেশ-জাপান সোসাইটির উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবারও ব্যবস্থা থাকে।

বর্ণাঢ্য বাঙালি সংস্কৃতি ক্রমশই জাপানিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেইসঙ্গে সুস্বাদু কারির সুগন্ধে বিমোহিত জাপানিদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতি। তারা উত্সুক হয়ে থাকেন কখন এপ্রিল মাস আসবে আর বৈচিত্র্যময় বৈশাখী মেলায় একদিনের জন্য বাঙালির সঙ্গে নাচেগানে মেতে উঠবেন!

টোকিও বৈশাখী মেলা এখন প্রবাসীদের কাছে এককথায় প্রাণের মেলা। ব্যস্ততম নিরানন্দ জীবনে এই উত্সব এখন একটি বার্ষিক মিলনমেলাও বটে! বৈশাখী মেলা নেই এমনটি আমাদের কাছে এখন ভাবনারও অতীত! -সূত্র:প্রবীর বিকাশ সরকার, দৈনিক ইত্তেফাক।

পাতাটি ২৬৮৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…

জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা



উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত ‘প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫’। প্রবাস প্রজন্মের এবারের আয়োজন ছিল সপ্তমবারের মতো।

প্রবাসী শিশু-কিশোরদের জীবনে মননে বাজুক ‘দেশ, মাটি ও মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সুরধারা’ সেøাগানকে সামনে রেখে জাপানে ২০০৭ সালে প্রবাস প্রজন্ম যাত্রা শুরু করে। সেই থেকে শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতির প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্য একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে হৃদয়বানদের আর্থিক অনুদান এবং সর্বস্তরের প্রবাসী ও দূতাবাসের সহযোগিতায়। আর এতে অলঙ্করণ করছেন বাংলাদেশ থেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বনামধন্য এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ এবং তাদের অভিভাবকদের উৎসাহ জোগাতে প্রতিবছর প্রবাস প্রজন্মের ডাকে তারা অংশ নিয়ে থাকেন। এ বছরও এসেছেন।

এই পর্যন্ত প্রবাস প্রজন্ম জাপানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা শিশু-কিশোরদের উৎসাহ জুগিয়েছেন তারা হলেন ড. জাফর ইকবাল, ড. ইয়াসমিন, ফরিদুর রেজা সাগর, গোলাম মোর্তোজা, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফাহমিদা নবী, সুবীর নন্দী, মুস্তাফা মনোয়ার, বারী সিদ্দিকী প্রমুখ। তাদের সবাইকে প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও জাপানের প্রথম সারির মডেল, গায়িকা এবং টিভি ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোলা এবং জাপান প্রবাসী ছড়াকার বদরুল বোরহানকেও বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।

৭ম প্রবাস প্রজন্ম জাপান ২০১৫ সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম ও আবিদা সুলতানা দম্পতি। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের ভুবনে অবদান রাখার জন্য তাদের এ সম্মাননা দেয়া হয়।

প্রবাস প্রজন্ম জাপানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২ মে জাপানে পৌঁছেন শিল্পী দম্পতি। তাদের অংশগ্রহণে প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ আয়োজনের মর্যাদা ও গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। অতিথিদের কাছে পেয়ে শিশু-কিশোর এবং সর্বস্তরের প্রবাসী আনন্দে মেতে ওঠে। অনুষ্ঠান ঘোষণার পর অতিথিদের নাম প্রকাশের দিন থেকেই এই উদ্দীপনা কাজ করছিল।
৩ মে ২০১৫ রোববার টোকিওর কিতা সিটি তাকিনোগাওয়া কাইকানে আয়োজিত ৭ম প্রবাস প্রজন্ম জাপান ২০১৫ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির (এপিএফএস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুহৃদ ইয়োশিনারি কাৎসুও এবং গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন জাপানের ব্যুরোপ্রধান গোতো আয়া।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মুনশী কে. আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বজিত দত্ত বাপ্পা ও রাহমান মাহিনুর আইকো ইফা।

বরাবরের মতো এবারও অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পিয়ানোতে জাতীয় সংগীতের সুর তোলেন মাহিন মাহাদি ঠাকুর। মাহিন প্রবাস প্রজন্ম জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে আসছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান দেখাতে অনুষ্ঠানে আগত বিভিন্ন দেশের নাগরিক দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন।
জাতীয় সংগীতের পর শুরু হয় মূল আয়োজন। প্রথমেই আমন্ত্রিত অতিথিদের মঞ্চে আহ্বান জানানো হয়। এরপর একদল শিশু-কিশোর অতিথিদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়। এরপর অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব হিসেবে অতিথিবর্গের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা ২০১৫ প্রদান করা হয়। প্রথমেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক মুনশী কে. আজাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি সবাইকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনটির আদর্শ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

এরপর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাদল চাকলাদার। বাদল চাকলাদার তার বক্তব্যে শিশু-কিশোরদের জন্য অত্যন্ত জরুরি এমন উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এমন একটি মহতী উদ্যোগকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি একজন অভিভাবক হিসেবে বলেন, আমার মতো যারা নিজ সন্তানকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে চান, তাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে সংগঠনটি টিকিয়ে রাখা এবং সন্তানকে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি প্রবাস প্রজন্ম জাপানকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথি কাৎসুও ইয়োশিনারি বলেন, আমি বাঙালিকে ভালোবাসি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশিদের দ্বারা যে কোনো আয়োজনে নিজেকে সম্পৃক্ত করাকে ধন্য মনে করি। ৮ বছর আগে এই সংগঠনটি যখন যাত্রা শুরু করে তখন থেকেই আমি এর সঙ্গে জড়িত। জাপানে বাঙালিরা অনেক বড় বড় আয়োজন করে থাকে। কিছু কিছু আয়োজনে আমিও থাকি। আমার কোনো জাপানি বন্ধু নেই। কিন্তু অনেক বাংলাদেশি বন্ধু আছেন। আমি সুযোগ পেলেই বাংলাদেশিদের কাছে ছুটে যাই। আমার স্ত্রীও বাংলাদেশিদের উষ্ণ আতিথেয়তায় প্রশংসা করেন।

আরেক বিশেষ অতিথি গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন জাপান ব্যুরোপ্রধান গোতো আয়া তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি জনাব ইয়োশিনারির মতো বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকলেও রাহমান মনির মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করছি। রাহমান মনি গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশনের একজন সদস্য। তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন। ভবিষ্যতে আমরা বাংলাদেশেও এর কার্যপরিধি বিস্তারিত করার চেষ্টা করছি।
আমন্ত্রিত এবং ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা প্রাপ্তদের বক্তব্যের পূর্বে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। এ সময় শিল্পী আবিদা সুলতানা মঞ্চে উপস্থিত না থাকায় শুধু রফিকুল আলমের হাতে ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা ২০১৫ তুলে দেয়া হয়। রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এ সম্মাননা তার হাতে তুলে দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন কণ্ঠযোদ্ধা এবং বাংলা গানে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অবদান রাখার জন্য তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়।
রফিকুল আলম তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, জীবনে অনেক দেশ ঘুরেছি, অনেক পুরস্কার পেয়েছি, কিন্তু আজকের এ সম্মান আমার জীবনে একটি বিরল ও শ্রেষ্ঠ অর্জন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য কোনো পুরস্কারই আমি পাইনি, রাষ্ট্র বা কোনো সংস্থা থেকে। এই প্রথম। তাও আবার বিদেশের মাটিতে এবং জাপানের মতো জায়গায় এবং একটি শিশু সংগঠন থেকে। যারাই নাকি একদিন দেশের হাল ধরবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা রাখে না। কিন্তু বিদেশে বসবাসরত শিশু-কিশোরদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি এতটা সম্মান দেখাবে তা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। আপনারা সেই অসাধ্য ব্যাপারটিকে সাধ্য রাখার চেষ্টা করছেন, এই জন্য আপনাদের আমি স্যালুট জানাই।

প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রবাস প্রজন্ম জাপানের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এই পর্যন্ত তারা ৭ বার এ আয়োজন করতে পেরেছে, যার ২টির মধ্যে আমি উপস্থিত ছিলাম। শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক কষ্ট সাধন করতে হয়। একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলে অনেক বিড়ম্বনা হয়। সেই সব বিড়ম্বনা পার হয়ে কাজ করতে হবে। তবে আমার মনে হয় যেহেতু এটি একটি শিশু সংগঠন, তাই প্রতিটি শিশুকেই বা সর্বাধিকসংখ্যক শিশুকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া উচিত। এতে করে তারা আরও বেশি উৎসাহিত হবে।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয় ১ম পর্ব।

অনুষ্ঠানের ২য় পর্ব ছিল শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পর্ব। যা অনুষ্ঠানের মূল এবং আকর্ষণীয় পর্ব। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পর্বটি পরিচালনা করেন রাহমান মাহিনুর আইকো ইফা।
খবর, নাচ, গান, অভিনয়, গিটার, পিয়ানো, আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠান ঢেলে সাজানো হয়। রাহমান মনির পরিকল্পনা ও সম্পাদনায় অনুষ্ঠানের প্রথমেই প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ সংবাদ পাঠ করেন মৌ হোসেন। প্রবাস প্রজন্ম সংবাদে বাংলাদেশিদের (জাপানে) কার্যপরিধির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

এরপর জাপান প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি একটি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে। স্বরলিপির নাচের শিক্ষিকা কলির ক্যালিওগ্রাফিতে নাচের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয় জাপানে। দলের অন্য সদস্যরা হলো কথাশ্রী বিশ্বাস, রাইহানা আহমেদ, রেইনা হোসাইন, ইউকি, প্রগতি ঘোষ, সেজুতি ব্রহ্ম, ভাগ্যশ্রী পাল, এনচান প্রমুখ।
এছাড়াও শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে নিশাত হায়দার লামিয়া, ওয়াশি রহমান, অংকিক নন্দী, আজরিন তারিমা নাবা, নাস্রাহ আহমেদ, রাইহানা আহমেদ, রেয়ন হোসাইন, রেইনা হোসাইন, সুমেলী শারমিতা রাহমান ও আকি বড়–য়া।

আবৃত্তি করে শোনায় জেসিয়া বিনতে জাবেদ, নাপিজা অর্পি, আকিব হায়দার লাবিব, নবুয়াত আহমেদ ও আজরিন তারিমা নাবা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা মনোনীত আবিদা সুলতানা অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হলে তাকে মঞ্চে আহ্বান জানানো হয় এবং তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
অনুভূতি জানিয়ে আবিদা সুলতানা বলেন, জীবনে অনেক দেশেই শো করেছি। কোনো দেশেই প্রবাসীদের কোনো এওয়ার্ড পাইনি। এই প্রথম শুধু এওয়ার্ড দেয়ার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সম্মান বিরল। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়। আপনারা শিশু-কিশোরদের দেশীয় সংস্কৃতি শেখানোর জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন, যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যি-ই প্রশংসনীয়। পৃথিবীর সব দেশের প্রবাসীর জন্য তা অনুকরণীয়। আপনারা শুরু করে দিলেন। অনেক দেশই হয়ত এখন তা অনুসরণ করবে। এবং করা উচিত বলে আমি মনে করি। বসবাসরত দেশগুলোর ভাষা এবং সংস্কৃতি শিশুরা অবশ্যই শিখবে তবে সেই সঙ্গে নিজস্ব সংস্কৃতিও শিখতে হবে।

শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাপান প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত আরেকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্তরণ বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক দল তাদের উপহার হিসেবে একটি ভ্যারাইটি অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। দুই প্রজন্মের সমন্বয়ে উত্তরণ ভ্যারাইটি নাচ, গান ও জাপানি কোরাস দিয়ে সাজানো ছিল।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নওরিন হাকিম, সুহিনা বড়–য়া, অহনা বড়–য়া, সাজিদ আলম খান এবং তাশদিদ আলী, নামিরা জামান, রাদিয়া জামান পিয়ানোতে সুর তোলে।
এছাড়াও অভিনয় ও নাটকে অংশ নেয় তনুশ্রী পাল, ভাগ্যশ্রী পাল, লামিয়া হায়দার, ওয়াশি রহমান ও অংকিক নন্দী।
বাংলাদেশ প্রবাসীকল্যাণ সমিতি জাপান প্রতিবারের মতো এবারও ফ্যাশন শো পরিবেশন করে। বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের বিভিন্ন কাজে একঝাঁক শিশু-কিশোর ফ্যাশনসচেতন এতে অংশ নেয়।
এরপর ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননাপ্রাপ্ত আমন্ত্রিত অতিথিদ্বয় গান পরিবেশন করেন। প্রথমে মঞ্চে উপস্থিত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সংগীত জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি, সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন।
এরপর মঞ্চে উপস্থিত হন সংগীত জগতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র সংগীতশিল্পী আবিদা সুলতানা। আবিদা সুলতানাও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। দর্শকদের অনুরোধে আবিদা সুলতানা ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’ গানটি গেয়ে শোনান।
একক সংগীত পরিবেশ শেষে শিল্পী দম্পতির ডুয়েল সংগীত শুরু হলে বিভিন্ন অনুরোধ আসতে থাকায় সময় স্বল্পতার কারণে আয়োজকদের অনুরোধে ডুয়েল সংগীত শেষ হয়।
এরপর কাহাল আর্ট গ্রুপ পরিচালিত শিশু-কিশোরদের চিত্রকলা প্রদর্শনীর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিল্পী কামরুল হাসান লিপু এবং লাকি হাসান। চিত্রকলা প্রদর্শনীতে এবার প্রথম স্থান অধিকার করে সোহান নন্দী। সুমেলী শারমিতা রহমান ও সাদনান সাফিন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

এবারের প্রবাস প্রজন্ম অনুষ্ঠানে নির্ধারিত অনুষ্ঠান সূচির বাইরে বিশেষ এবং আকর্ষণীয় একটি পর্ব ছিল রাহমান মনি কর্তৃক জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হীরাকে একইসঙ্গে মঞ্চে আহ্বান। সাধারণত রাহমান মনি পর্দার আড়ালেই কাজ করে থাকেন। হঠাৎ তার এই ঘোষণায় প্রায় পাঁচ শতাধিক আসনবিশিষ্ট হল কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক শ্রোতা নড়েচড়ে বসেন। না জানি কী ঘটতে যাচ্ছেÑ এই অজানা আশঙ্কায় কিছুটা ভীত হয়ে পড়েন অনেকেই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাহমান মনি তাদের দুজন থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য কামনা করলে উভয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে বিদেশের মাটিতে এককাতারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাদের অভিনন্দন জানিয়ে রাহমান মনি তাদের এই সহাবস্থান এবং অঙ্গীকার ব্যক্ত করার কথা স্ব স্ব দলীয় প্রধানের কাছে পৌঁছে দিয়ে বাংলাদেশেও দেশের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান কামনা করলে উপস্থিত দর্শক শ্রোতা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে সমর্থন ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, জাপানে বাংলাদেশের স্বার্থে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসী এক হয়ে কাজ করে থাকেন।

এবার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র একজন শিক্ষাজীবন শুরু করায় প্রবাস প্রজন্মর পক্ষ থেকে অভিনন্দন উপহার দেয়া হয়। ভাগ্যশ্রী পাল শিল্পী রফিকুল আলমের হাত থেকে এই উপহার গ্রহণ করে।
৭ম প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ আয়োজনে স্পনসর ছিলেন এমডি এস. ইসলাম নান্নু, বাদল চাকলাদার, হিমু উদ্দীন, নাসিরুল হাকিম, মামুনুর রশিদ, আহসান শামীম, হুমায়ুন কবীর, সানাউল হক, মাহবুবুর রহমান, মনজুর মোর্শেদ, শাহীন রহমান, মোবারক হোসেন হৃদয়, মণি ঠাকুর, সুনীল রায়, এশিয়ান ক্লাব, গ্রিন গ্লাস, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি, কে এস ইন্টারন্যাশনাল, জান্নাত হালাল ফুড, প্রবাসী হালাল ফুড এন্ড রেমিট্যান্স, মুকুল মুস্তাফিজ, মনির হোসেন কর্নেল, নাদিয়া কো. লিমিটেড, চৌধুরী শাহীন, মাহবুবুর রহমান খান, আশরাফুল ইসলাম শেলী, জসীম উদ্দিন, মাইনুল হক দিদার, সুজুকি রিপন, এশিয়ান বিজনেস নেটওয়ার্ক, আতিকুল হায়দার, এ জেড এম জালাল, ফজলে মাহমুদ মুক্তা, বি এম গোলাম মাসুম জিকো, নন্দী খোকন কুমার, কামরুল আহসান জুয়েল, মকবুল হোসেন, কামাল উদ্দিন টুলু, হোসাইন মুনীর, কবি মিল্টন, আঃ রাজ্জাক, কাজী এনামুল হক, সিরাজুল ইসলাম। মঞ্চসজ্জায় শিল্পী কামরুল হাসান লিপু।
সহযোগিতায় ছিল স্বরলিপি, উত্তরণ, কাহাল আর্ট গ্রুপ, প্রবাসীকল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ দূতাবাস, তানিয়া ইসলাম মিথুন, মৌ হোসেন, কাজী ইনসানুল হক, আনিসুর রহমান, জাহিদ হোসেন চৌধুরী, ফজলুর রহমান রতন, নাজিম উদ্দিন, দেশবিদেশ ওয়েব, বাংলাদেশ টাইগারস, নিহন বাংলা ডটকম প্রমুখ।
মিডিয়া পার্টনার ছিল বহুল পঠিত, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক’। সার্বিক যোগাযোগ, পরিকল্পনা, পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন ‘সাপ্তাহিক’ প্রতিনিধি রাহমান মনি।
rahmanmoni@gmail.com

পাতাটি ২৫৬৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…

মন ময়ূরী আজি পেখম মেলে



-এস জে রতন
ত কিছু করতে যে চায় মন।
করে আনচান হৃদয়, ।
খন্ডিত বা আংশিক নয় ।
পুরো প্রাপ্তিতে প্রতি অনুক্ষণ;
থলে ভরা কচকচে কয়েন ।
মন আকুলি খরচের লাগি ।
কেহ নাহি নিয়ন্ত্রিত জীবন মাগি।
মানে, শ্রদ্ধায় বড়, যিনি নিয়ন্ত্রিত রহেন।
হঠাৎ বৃষ্টি। কাঁধে ঝোলানো অফিসের ব্যাগ থেকে ছাতা বের করতে করতেই বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। এমন শীতের মৌসুমেও যে হঠাৎ করে বেরসিক বৃষ্টি নামতে পারে, ভাবনাতেও ছিল না। ছাতাটা চারফোল্ডিং-এর ছিল। ছাতার বাঁটের বাটনে চাপ দিতেই আচমকা বাতাসে পটাস শব্দে ঝুরঝুর করে দু’শো পঞ্চাশ টাকার ছাতাটির সকল কল-কব্জা, ডানা ভেঙ্গে চুরমার হলো। আপাতত অকাল মৃত্যু হলো ছাতার। যে উদ্দেশ্যে ছাতা ব্যাগে করে কবে বৃষ্টি আসবে তার আশঙ্কায় প্রতিদিন বয়ে বেড়ানো, সেই ছাতাই কি না সময়ের প্রয়োজনে বিগড়ে গেল। মেজাজটা তেতিয়ে উঠলো। কষ্টে, দু:খে ভিজেই অফিসের বাকিটা পথ হাঁটা শুরু করলো তমাল।

তারপর হাঁচি পর হাঁচি। এ যেন হাঁচি নয় একেকটা গ্রেনেড বিস্ফোরণ। সারাদিন ভেজা শার্ট-প্যান্ট শরীরের তাপেই শুকায়। রাত্রে ভীষণ জ্বর, কাশি, ঠান্ডায় বুক ধরে আসছিল। সামান্য ধৈর্যচ্যুতিতেই এ অবস্থা হলো তমালের। সেদিন বৃষ্টির সময় কাছের কোন দোকানে বা কোন শেড-এ একটু সময় দাঁড়ালেই হয়তো এই অসুস্থতাটুকু এড়িয়ে যাওয়া যেত। অল্প নিয়ন্ত্রণহীন হওয়াতেই যা হলো পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হলে কি হয় তা সহজেই অনুমান করা যায়।

ফেইসবুকে সত্য মিথ্যের মিশেল নতুন কিছু নয়। কোন তথ্যটি যে সত্য আর কোনটি যে মিথ্যে তা নির্ণয় করা খুবই মুশকিল কাজ। আলফ্রেড নোবেল তার আবিষ্কারের অপব্যবহার রোধে ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন। মার্ক জুকারবার্গ ফেইসবুকের মাধ্যমে তথ্যাদি আদান-প্রদান করে একে অপরের সাথে সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিপরীত মানসিকতা আর অনিয়ন্ত্রিত বাসনা কেন যেন প্রকৃত তথ্য দিতে কুণ্ঠিত করে আমাদের। তাই হরহামেশাই মিথ্যের আশ্রয় নেয় মানুষ। মানুষের এই অপইচ্ছের বিপরীতে আছে সুনিয়ন্ত্রিত আর পরিকল্পিত জীবন। রায়হান দু’বছর হলো একটি সরকারী ব্যাংকে সিনিয়র পদে কাজ করছেন। মেধাবী বলে এই চাকরিটা পেতে তার খুব বেগ পেতে হয়নি। আরো কয়েকটা ভাল চাকরীর অফার আছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে জয়েন করলেই হয়ে যায়। রাত্রে মেসে ফিরে ল্যাপটপে ফেইসবুকটা যেন বাড়তি আনন্দ দেয় তাকে। সদ্য ছেড়ে আসা ভার্সিটির কিছু বন্ধু-বান্ধবি আছে ফ্রেন্ড লিস্টে। তাদের সাথে পারিবারিক, অফিসিয়াল, মনস্তাত্ত্বিক বিভিন্ন ভাললাগা মন্দলাগার বিষয়গুলো শেয়ার করেন। রশ্মি নামের এক বান্ধবির সাথে ইদানিং চ্যাটিংটা বেশি হচ্ছে। রশ্মিকে সে চেনে ভার্সিটি জীবন থেকেই। কিছুদিন পাঁচ-সাতজন বন্ধুর সাথে এক হয়ে এক শিক্ষকের কাছে ফিন্যান্স পড়ার সময় ঐ মেয়েটিকেও কাছ থেকে চেনা হয়। কিন্তু তখন বন্ধুত্বের সম্পর্কটাই মুখ্য ছিল। তখন অন্য কিছু ভাবার কারো কোন সময় বা ইচ্ছে ছিল না। তারপর একে একে সবার বিভিন্ন অফিসে চাকরী হয় আর ফেইসবুকে যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ফেইসবুকের সব তথ্য যে রায়হান বিশ্বাস করতো তা কিন্তু নয়। তবে কিছু কিছু তো বিশ্বাসযোগ্য হতেই পারে। চাকরী আর ব্যস্ততায় রশ্মি এবং রায়হানের মধ্যে দেখা করা সম্ভব হচ্ছিল না। দেখা করার ব্যাপারে রশ্মির আগ্রহও কম ছিল। রায়হান এমনিতেই খুব নিয়ম মেনে চলা ছেলে। যথা সময়ে গোসল, নাস্তা, অফিস যাওয়া, খাওয়া, পড়ালেখা, বিনোদন সব কিছুতেই একটা নিয়ন্ত্রণের ছাপ আছে তার। কিন্তু হঠাৎ কেন যেন অফিস শেষে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হওয়া বা খাবারের আগে যেন ফেইসবুকটাই আগে চেক করে দেখতে হবে, যে কে কে তাকে কি ম্যাসেজ দিল বা কি চ্যাট করলো বা কারা কারা চ্যাটে বা অনলাইনে আছে। নেশার মতই হয়ে গেল প্রায়। বুঝতে পারলো এটা নেশায় রূপ নিচ্ছে, বিশেষ করে রশ্মির সাথে চ্যাটিং বেড়েই চলেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাটিং চলছে। ইচ্ছে করলেই কল করে মনের সব কথা জানানোর সুযোগ থাকলেও সেটা না করে শুধু চ্যাট করে সময় কাটাতে থাকলো তারা। একসময় রশ্মিকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিল রায়হান। রায়হানের মতো স্থিরবুদ্ধি সম্পন্ন ছেলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এমনটা ভাবা তার অভিভাবকদের কাছে যথার্থই মনে হতে পারে।

ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে, ছেলের জন্য মা পাত্রী দেখছেন। ছেলেকে বিভিন্ন জায়গায় মেয়ে দেখাতেও নিয়ে গেছেন। কোন মেয়েই তার কাছে পছন্দসই হচ্ছে না। আবার রায়হান তার পছন্দের কথাও বলতে পারছে না। একদিন রশ্মির সাথে চ্যাট করে সিদ্ধান্ত হলো যে তারা কোন এক রেস্টুরেন্টে দেখা করবে। রায়হানের সাথে বাবা মা বোনও ছিল। এটাই প্রথম দেখা হবে রায়হান আর রশ্মিও মধ্যে। রায়হান তার বাবা মা বোনকে না করেছিল যেন প্রথম দেখাতে তারা না থাকেন। কিন্তু নাছোড় বান্দা সবাই, আর রায়হানের কাছে রশ্মির কথা শুনতে শুনতে যেন ব্যাপারটা এমনই হয়েছিল যে রশ্মির সাথে সবার কতো পরিচয় আছে আর সাক্ষাৎ হয়েছে। সবাই রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা করছে। আইফোনে চ্যাট চলছিল। -আমরা অপেক্ষা করছি তোমার সাথে দেখা করবো বলে। – ওকে কাছেই এসে গেছি। এক্ষুণি ঢুকবো। -ঠিক আছে। -না ঠিক নেই। -কেন? -আমার পক্ষে তোমাদের সাথে দেখা করা সম্ভব না। রশ্মি নামের যে মেয়েটি এতদিন রায়হানের সাথে চ্যাট করতো সে সদ্য ইন্টার পাশ করা একটি ছেলে। তার কোন এক পরিচিতার নাম ব্যবহার করে মেয়ে সেজে এতদিন চ্যাট করেছে। রেস্টুরেন্টে ঢুকে রায়হান ও তার পরিবারের সবাইকে খুব কাছে থেকে দেখে, বসে সময় নিয়ে চ্যাট করে জানাচ্ছিল তার এই অপারগতার কথাগুলো। রেস্টুরেন্ট জমজমাট। সন্ধ্যার সময়। অফিস বা ক্লাস বা কাজ সেরে সবাই এই সময়টাতে রেস্টুরেন্টে ঢোকে। বোঝার কোন উপায়ই থাকলো না যে কোন মেয়েটি বা মানুষটি রায়হানের সাথে চ্যাট করছে। চ্যাট চলছে।

-কি হয়েছে রশ্মি? আমাকে খুলে বলো! -না, বলতে পারবো না। তবে এটা আমার অন্যায় হয়েছে। এতটুকু শুধু বলতে পারি, আমি আসলে রশ্মি না। আপনার সাথে মিথ্যে করে মিথ্যে তথ্য দিয়ে এতদিন মজা করার জন্য এগুলো করেছি। রায়হানের সারা জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতা, সফলতা, চৌকসপনা, বুদ্ধিমত্তা মুহূর্তেই উবে গেল যেন। ভাবতেই পারছিল না যে কেন কোন মুহূর্তের জন্যও তার কাছে স্পষ্ট হলো না যে সে কোন নারীর সাথে চ্যাট বা যোগাযোগ করছিল না। নিজেকে যারপর নাই খুব বোকা মনে হলে লাগলো। বিশেষ করে এমন সিরিয়াস ব্যাপারে যে বোকা হতে পারে মানুষ তা যেন তার মস্তিষ্কেই ঢুকছিল না। রায়হান স্তব্ধ হয়ে গেল। বাবা মা বোন জিজ্ঞেস করলো -কি হলো? -না, অ্যাকসিডেন্ট, সে আসতে পারবে না। পরে বলছি। চলো বাসায় চলো। রায়হান নিজের কাছ থেকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। তাই এতো বড়ো বোকা সাজতে হলো। আবেগ, সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা আর গুরুত্ব দেয়ার বিষয়গুলো হয়ে উঠলো অর্থহীন।

সাগরকে সবাই চেহারায় ফিট বলেই স্মার্ট বলত। স্মার্ট হবার জন্য আরো যে বিষয়গুলো আছে তা পরিমাপ করার আগেই বিশেষ করে মেয়েরা তাকে সহজ কথায় স্মার্ট আর হ্যান্ডসাম বলত। এটাকে পঁূঁজি করে সাগরও কম যেতো না। সাগরের বুকে যেমন সব নদীরা এসে মেশে। তেমনটি প্রেমিকার সংখ্যা নেহায়েত কম ছিল না সাগরের। খাওয়া দাওয়ায় একটু নাক সিটকানো ভাব আর বেছে বেছে খাওয়ার অভ্যাসই নাকি সাগরের শরীর ফিট রাখার মন্ত্র। পার্কে, সাইবার ক্যাফে, কম্পিউটার ল্যাবে, সিনেপ্লেক্সে, আড্ডায় বেশি দেখা গেলেও রেস্টুরেন্ট বা খাবারের কোন আয়জনে কমই দেখা যেত। হঠাৎ এক অসুস্থতার কারণে তাকে বেশি পরিমাণে আমিষ ও ¯েœহ জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিলেন ডাক্তার। মাস দুই সেই অসুস্থতা কটিয়ে উঠে স্বাভাবিক হলো। কিন্তু ততদিনে খাদ্যাভাসটা যেন বদলেই গেল। নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা কিছুটা হলেও শিথিল হলো। বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন সবাই বলল- মাত্র তো অসুখ থেকে সেরে উঠলি, একটু ধৈর্য ধর, তারপর শরীরটাকে আবারো ফিট করতে পারবি। সেই যে শুরু হলো। এখন সাগরকে চিনতে গেলে ভূড়ি আর বিশাল দেহ দেখে চিনতে হয়। নিয়ন্ত্রণ এমন একটা বিষয় এটা ধীরে ধীরে অনিয়ন্ত্রণের দিকে যেতে থাকলে তাকে ফিরিয়ে আনা দুষ্কর হয়। তারপরও পরিকল্পনা, ধৈর্য আর সংকল্প মানুষকে যে কোন অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এই সুযোগটি থাকে। সেই জন্য দরকার আত্মসমালোচনা, ধৈর্য, একাগ্রতা আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। এটা থাকলে অসাধ্যকে সাধ্য করা সম্ভব।

ছোট্ট শিশু রাব্বি। একটা লাল পিঁপড়া তার বাহু বেয়ে হাতের কব্জির দিকে নামছিল। হঠাৎ বিষাক্ত কামড়। অপর হাত দিয়ে মলে দিল রাব্বি। মাকে বলল- মা পিঁপড়া। মা কাছে এসে দেখলো বেশ ফুলে গেছে রাব্বির হাতটা। ছোট্ট লাল পিঁপড়াটি আধ মরা হয়ে ফ্লোরো পড়ে আছে। রাব্বির ফুলে যাওয়া হাতের স্থানে বাম লাগাতে লাগাতে তার মা খেয়াল করলো, পিঁপড়াটি একটু ছটফট করে শান্ত হলো। তারপর তার শরীরটা ব্যায়ামের মতো করে ঠিকঠাক করে নেবার চেষ্ট করলো। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে শরীরটা ঠিক হলো। ধীরে ধীরে আহত শরীরটাকে টানতে সক্ষম হলো। এক পর্যায়ে বেশ জোরে সোরেই হাঁটতে পারলো। রাব্বির মা’র চোখ কতক্ষণ আটকে ছিল এই ঘটনাটি দেখার তা মনে নেই। তবে পিঁপড়ার পুনর্বার জেগে ওঠা, শক্তি সঞ্চয় করা, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ রেখে স্বকাজে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারটি মুগ্ধ করলো। দেখতে ইচ্ছে করলো বার বার কত অল্প সময়েই পিঁপড়ার কাছ থেকে মানুষের একটি বড় সময়ের জীবনের শিক্ষা আহরণ করা যায়।

তমাল স্বভাবতই গানের লোক। গানের সাথে ভাললাগা আর পবিত্রতার বিষয়টি মৌলিকভাবে গ্রথিত থাকলেও, এই গানকে ঘিরে যা কিছুই হচ্ছে সবই যেন সভ্য সমাজে মানার মতো মনে হয় না। তাই ছোটবেলায় সবারই লক্ষ্য থাকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবার। শিল্পী হবার নয়। তমালের অফিসে এক গানের শিল্পী তার এলাকার এক বড় ভাইকে সাথে করে দেখা করার জন্য এসেছিল। এলাকায় ঐ শিল্পী নিজেকে শিল্পী বলে পরিচয় দিতে চান না। কারণ, এলাকায় সম্ভাব্য যে কয়েকটি মেয়ের সাথে তার বিয়ের কথাবার্তা হয়েছে, তাদের অভিভাবকদের কেউই গান গায় এমন ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেবেন না বলেছেন। অথচ এই মেয়েদের যে কোন একটিকে পছন্দ করে বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত এই শিল্পী। তমাল কথা বলার এক পর্যায়ে ঐ শিল্পীকে শিল্পী সম্বোধন করায় আড়চোখে ইশারা করে জানিয়ে দিলেন, এলাকার বড় ভাইয়ের সামনে শিল্পী হিসেবে যেন তাকে না বলা হয়। ব্যাপারটি পরে একদিন ঐ শিল্পী খুলে বলেছিলেন তমালের কাছে। ময়মনসিংহ শিল্পকলা অ্যাকাডেমি প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। ফরমাল অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে সন্ধ্যার একটু আগে। দেশের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পীরা কিছুক্ষণ আগেই গান গেয়ে মাতিয়েছেন ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামের পরিপূর্ণ দর্শক-শ্রোতাদের। এবার অন্য রকম গান হবে। ইনহাউজ গান। গান গাওয়ার যন্ত্রাদি, স্পীকার, কন্ট্রোলার সব কিছুই প্রস্তুত করা হয়েছে। একের পর এক গান চলছে। চলছে স্পেশাল পানীয়। তমালের এই অভ্যাসটা কখনোই ছিল না। তাছাড়া বরাবরই এটার বিরুদ্ধে তার অবস্থান শক্ত করে তুলে ধরেছে সবার কাছে। অন্যরা বলতে থাকলো- আরে এটা এ সময় চলে। একটা জোশ থাকতে হবে না। এখন তো আমরা আমরাই। ব্যাপারটা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছলো যে তমাল এটা গ্রহণ না করলে যেন সবাইকে অপমান করা হচ্ছে। কি করবে ভেবে পেল না তমাল। বুঝলো, অভিনয় করা ছাড়া এমন অবস্থায় আর কিছু করা নেই। -এই নিচ্ছি বলে, পানীয়ের বোতল ধরেই বাঁ হাতে পেটে হাত দিয়ে কঁকিয়ে উঠলো তমাল। চাপা চিৎকার করে উঠলো। কোঁকাতে কোঁকাতে বলল- গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা হবে হয়তো। আমাকে বাইরে নিয়ে চলো। কয়েকজন ধরে বাইরে নিয়ে গেল তমালকে। অ্যাম্বুলেন্স কল করে ময়মনসিংহ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলো তমালকে। অ্যাম্বুলেন্সে তমালের সাথে একজন মাত্র সঙ্গী হয়ে গেল। চরপাড়া মোড়ে আসার সাথে সাথেই অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে নেমে গেল তমাল। সঙ্গী লোকটিকে বলল- ভাই, এসবের অভ্যাস নেই আমার। অযথাই জোর করে কেন আমাকে বাধ্য করার চেষ্টা করলেন? আমার কিছু হয়নি। অভিনয় ছিল মাত্র। ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার টাইটেল গানের কথা মনে পড়ছে- যদি লক্ষ্য থাকে অটুট/বিশ্বাস হৃদয়ে/হবে হবেই দেখা/দেখা হবে বিজয়ে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অন্ত:নিয়ন্ত্রণ যেমন দরকার তেমনি আন্ত:নিয়ন্ত্রণও দরকার। তবে মাঝে মাঝে কৌশল পাল্টে নিয়ন্ত্রণকে করা যায় আরো সুনিয়ন্ত্রিত। এখন প্রশ্ন হলো আপনি আপনাকে শুদ্ধের পথে ধরে রাখবেন নাকি রাখবেন না। নিশ্চয়ই এই গানের মতো জীবন কেউই চাই না আমরা- নেশার লাটিম ঝিম ধরেছে/চোখের তারায় রঙ জমেছে/এখন কোন দু:খ নেই/নেই কোন ভাবনা/এমনি করেই দিন যদি যায়, যাক না।

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। এক পাশে লাউড স্পীকারে গান চলছে। নাচানাচি করছে সবাই। নাচতে নাচতে অবস্থা বেগতিক। একজন রোমানাকে টেনে নিয়ে নাচতে নাচতে বলল- আরে আজ একটু নাচ না। রোমানা- একটু তো নাচলাম। – একটু হলে হবে? একটু পাগল হয়ে নাচ না। একদিন অমন ঝাক্কাস নাচলে কিচ্ছু হবে না। চল। রোমানা- শোন্, বেশি বেশি করিস না। পরে কিন্তু মাথা ঘুরে পড়ে যাবি। অতি মাত্রায় ধুম-ধাড়াক্কা নাচতে নাচতে ধপাস করে পড়ে গেল নাফিসা। নাক মুখ দিয়ে ফেনার মতো বের হতে শুরু করলো। গোঙ্গাতে থাকলো। ভয় পেয়ে গেল সবাই। সব আয়োজন হঠাৎ করেই বন্ধ হলো। পুরো আনন্দের আয়োজনটি মাটি হবার জোগাড় হলো। হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেবার পর ঠিক হলো নাফিসা। ততক্ষণে নাফিসার বড় একটা শিক্ষা হলো যে অনেক আনন্দের মাঝে, অনেক রাগের মাঝে, অনেক সমস্যার মাঝেও উঠে দাঁড়াবার জন্য নিজেকে সামলে রাখতে হয়। মহাজ্ঞানীরা যুগে যুগে তাই করেছেন। নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করেছেন। ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন সফলতাকে করায়ত্ত করতে।
আজ স্বপ্ন সাজুক মনে ।
বাজুক সুখের দামামা,।
নিত্য পরিকল্প তোমার ।
হোক দিব্য শুদ্ধনামা।
দিয়ো না করতে বিলিন।
সবটুকু অর্জন হাতে পেলে,।
করো সংযম নিজেরে তবে।
মন ময়ূরী আজি পেখম মেলে।

লেখক- এস জে রতন।
সঙ্গীত শিল্পী, উন্নয়নকর্মী ও প্রশিক্ষক।
পাতাটি ৩৮০৬ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


মন ময়ূরী আজি পেখম মেলে

-এস জে রতন ত কিছু করতে যে চায় মন। করে আনচান হৃদয়, । খন্ডিত বা…


বিশ্বাস-অবিশ্বাস: হৃদয়ের গহীনে ব্যাকুলতা

বিশ্বাস-অবিশ্বাস: হৃদয়ের গহীনে ব্যাকুলতা -এস জে রতন মত্ত তব আপাদমস্তক সৃষ্টে অবিশ্বাসের বীজ; বিশ্বাসে তবে…


আউট অব নেটওয়ার্ক : অতঃপর শিখন

- এস জে রতন ক্রিং ক্রিং হ্যালো হ্যালো কে ওপারে? শুনছি, কথা বলো বলো। হ্যালো,…


পদচিহ্ন: দাগ কেটে যাই

- এস জে রতন মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে দেওয়ানা বানাইছে ... কি যাদু করিয়া বন্ধে…