আরামকুঠুরি



শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

হঠাৎই মনে হলো শুক্কুরের কথা। তাকিয়ে দেখি কোথায় যেন চলে গেছে নাহ। একেবারে চলে যায়নি। মিনিট তিরিশেক পর আবার হাসতে হাসতে এসে উপস্থিত হলো শুক্কুর। তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। আমাদের মাথার ওপর ছড়ানো ছাতার কঙ্কালটায় জ্বলে ওঠেছে বৈদ্যুতিক বাতি। কাশফুলের শুভ্রতা তখনো হারিয়ে যায়নি।
হারায়নি শুক্কুরের বিটকেলে হাসিটাও। এবার ওর মেজাজ আগের চেয়ে ফুরফুরে। মনে হলো সাত রাজার ধন জয় করে এসেছে। চটাঙ চটাঙ করে কথা বলছে। লঞ্চের কোথায় কী হচ্ছে বর্ণনা দিতে শুরু করল। কে তাকে কী খেতে দিয়েছে তাও জানালো। এই তিরিশ মিনিট সময়ের মধ্যে সে এক বোতল জুস পেয়েছে। নিজে একটি ডিম কিনে খেয়েছে। ঝালমুড়িওয়ালার কাছ থেকে ঝালমুড়ি, চানাচুর কিনেছে। আর কয়েকজন তাকে কিছু টাকাও দিয়েছে।
তাহলে সব খরচাপাতির পর ওর হাতে এখন কত টাকা আছে?
ঝট করে হাফপ্যান্টের পকেট থেকে টাকাগুলো বের করল সে। গুনার পর দেখা গেল সর্বসাকুল্যে আঠারো টাকা।
টাকার পরিমাণ কম বলে মোটেও মন খারাপ নয় শুক্কুরের। টাকা-পয়সা হলো হাতের ময়লা। আজ আছে কাল নেই। কাজেই যখন হাতে টাকা আসে, তা দিয়ে কিছু খেয়ে নেয়া ভালো।
শুক্কুর আলীর সারল্যে আবারো গলে গেলাম আমরা। ওর হাতে ধরিয়ে দিলাম দুই টাকার একটি নোট। টাকা নেয়ার প্রতিও ওর অতিরিক্ত আগ্রহ নেই। ভাবখানা এমন, দিচ্ছি বলেই নিচ্ছে। না দিলেও তেমন কিছু আসে যায় না।
অমনোযোগী হয়েই টাকাটা হাত বাড়িয়ে নিয়ে আগের সেই আঠার টাকার সাথে যোগ করল। তারপর নতুন করে গুনতে শুরু করল।
তুহিন, সাদ আর সজিবের সহায়তায় টাকাশুমারি শেষে শুক্কুর আলী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারল যে, ওর হাতে মোট বিশ টাকা আছে।
শুমারি শেষ হতে না হতেই আরো একটি দুই টাকার নোট বাড়িয়ে দিল সাদ।
সুতরাং আবার প্রথম থেকে গুনতে হবে!
নিশিদলের চাপাচাপিতে গুনতে বাধ্য হলো শুক্কুর। এবার সর্বসাকুল্যে বাইশ টাকা।
তৃতীয়বারের মতো শুমারি শেষেও সে দুই টাকা পেলো রোমনের কাছ থেকে।
আবার সেই শুমারির ঝামেলা? এবার আর বলতে হলো না। নিজে নিজেই গুনতে শুরু করল সে।
তারপর একবার শুমারি শেষ হয়। আরো একজন দুই টাকা করে দেয়। ব্যপারটা এমন পর্যায়ে দাঁড়ালো যে, টাকা গুনলেই টাকা বাড়ে। ব্যপক উৎসাহিত হলো শুক্কুর। সে বার বার টাকা গুনছে, বার বার দুই টাকা করে বাড়ছে।
একসময় গুনতে গুনতে তালগোল পাকিয়ে ফেললো। টাকায় টাকায় ভরপুর হয়ে টাকার প্রতি অনীহা তৈরি হলো তার।
শুক্কুর আলী টাকা গুনতে গুনতে আমাদের লঞ্চ ’’ঈগল’’ অতিক্রম করলো মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু। ঘড়িতে তখন সন্ধ্যা ছয়টা। এর কয়েক মিনিট পরই আমরা হারিয়ে গেলাম অন্ধকারের চাদরে।
প্রাণবন্ত হলো নিশিদল। আমরা প্রবেশ করলাম নিশিঘোরে। গোটা পৃথিবীতে তখন অন্ধকার। অন্ধকার কেটে চাপা গুঞ্জন তুলে নদীতে ভাসছে ঈগল। আকাশে চাঁদ নেই। আমাদের মাথার ওপর জ্বলছে একটিমাত্র বৈদ্যুতিক বাতি। আর দূরের জনপদ জ্বলছে টিম টিম করে । এ ছাড়া চারপাশে কেবল কালো আর কালো।
নিশিদলের সাথেও যোগ হলো কালো মাত্রা। শুরু হলো ভূত নিয়ে ছমছমে আড্ডা। তারপর প্রাসঙ্গিকভাবেই পরিবর্তন হতে থাকল আড্ডার বিষয়। ভূত থেকে বিভ্রম। বিভ্রম থেকে সাইকোলজি। আর সাইকোলজি থেকে প্যরাসাইকোলজি।
প্যরাসাইকোলজি হলো সাইকোলজির একটি শাখা। যা অদ্ভূত অদ্ভূত মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে, যেগুলোর বাস্তব ব্যখ্যা দেয়া এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। এই যেমন সজিব বর্ণনা করলো তার জীবনে ঘটে যাওয়া অদ্ভূত এক ঘটনা। সে তখন পঞ্চম শ্রেণীর চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছে। পরদিন গণিত পরীক্ষা। গণিতে একশোতে একশো পাওয়ার ইচ্ছে তার অনেক দিনের। ছাত্র হিসাবে সে লোকজনের কাছে মেধাবী বলেই পরিচিত। তাই সবাই আশা করছে এবার সোনার ছেলে সজিব গণিতে একশো নাম্বার পেয়ে দেখাবে। এই বাড়তি চাপ মাথায় নিয়ে নাওয়া খাওয়া হারাম হয়ে গেল বেচারা সজিবের। যতটা না পড়তে পারছে তার চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করছে। এভাবে দুশ্চিন্তায় দুশ্চিন্তায় ঘুমিয়ে গেল সে।
পরীক্ষার আগের রাতের ঘুম বলে কথা, এটা ওটা স্বপ্ন দেখতে শুরু করল সজিব। সব কথা ওর মনে নেই। তবে যেটা মনে রাখার প্রয়োজন সেটা ঠিকই মনে রাখল।
সেই রাতে সে স্বপ্নের ভেতর গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন দেখেছিল। পুরো প্রশ্নটা মুখস্তও করে রেখেছিল। সকালে ওঠে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে দুলতেই প্রশ্নের সমাধানগুলো একবার অনুশীলনও করেছিল সজিব।
তারপর কী হলো?
পরীক্ষার হলে সেই স্বপ্নের প্রশ্নপত্রটাই তার হাতে এলো।
সজিব গণিতে একশো তে একশো পেলো। পাড়া-প্রতিবেশির কাছে তার নাম হলো। কিন্তু আসল ঘটনাটা তখনকার মতো চেপেই রাখল সে। গোমর ফাঁস করে দিলে লোকজন তার মেধা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। ছোটবেলায় না হয় মানসম্মানের ভয়ে বলেনি সজিব। কিন্তু বড় হয়েও এটা চাওড় করেনি কেন?
সেই মানসম্মানের ভয়েই। লোকজন তাকে পাগল বলে গালাগালি করতে পারে। আর কাছের লোকজন পাগল না বললেও, গপ্পোবাজ বলে খাটো করতে পারে।
নিশিদল তাকে পাগলও বলল না, গপ্পোবাজ বলে খাটোও করল না। বরং এই ঘটনাটাকে বিশ্লেষণ করল প্যরাসাইকোলজির যুক্তিতে।
বাস্তবে এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে। কিন্তু এগুলোকে অনেকেই বিভ্রম বা ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। অনেকসময় এড়াতে গিয়েও এড়াতে পারি না। কারো কারো জীবনে এসব অদ্ভুত ঘটনা আস্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে।
তাহলে কী সবই ভুল? মোটেও না। কেউ গভীরভাবে কোনো কিছু কামনা করলে সেটা অনেক সময় যুক্তিকে অগ্রাহ্য করে বাস্তবেও পরিণত হতে পারে। একজনের মাথা থেকে অন্যজনের মাথায় সঙ্কেত পাঠানোও সম্ভব। হতে পারে সেটা তার চেতন মনে কিংবা অবচেতন মনেও। এমনও হতে পারে কারো একটি ইচ্ছের সঙ্কেত সম্পূর্ণ অপরিচিত একজনকেও প্রভাবিত করছে। একজনের ইচ্ছেটাকে বাস্তবায়ন করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠছে অন্যজন।
এই যেমন সাবরিনার মনস্তাত্ত্বিক ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা খোয়ালো সজিব। ষড়যন্ত্রের বিষয়টি চেপে রাখতে পারলাম না বলে দুঃখিত। মূলত সত্য কখনো চেপে রাখা যায় না। ছাই দিয়ে মাছ ঢেকে রাখা যেমন কষ্টকর, তেমনি মুখে লাগাম দিয়ে সত্যকে আটকে রাখাও দুঃসাধ্য ব্যাপার। আর এতটুকু যখন মুখ ফসকে বলেই ফেলেছি তো ব্যাপারটা খোলাসা করে দেয়াই ভালো। তবে সজিবকে অনুরোধ করবো মামলা করার বিষয়টি একটু শিথিল দৃষ্টিতে দেখতে। সজিব ও সাবরিনার মধ্যে পরিচয় নেই। তবুও ঘটে গেল ঘটনাটা! কিভাবে?
বলছি সে কথাই- নিশিদলকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিস্তর এক নকশা আঁকলেন সাবরিনা। কোনোভাবেই নিশিদলের সদস্য সংখ্যা পাঁচের ওপর তুলতে দেয়া যাবে না। এতে নানাবিধ সমস্যা। রাতের অন্ধকারে একটি ভারী দল নিয়ে বিচরণ করলে মানুষের কৌতুহল তৈরি হবে। যে কেউ ভুল বুঝতে পারে। তারপর স্থানীয় লোকজন সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে একটা কিছু করেও বসতে পারে। তাছাড়া বেশি চরিত্রের সমাগম ঘটালে লেখাগুলোর সাবলীলতাও নষ্ট হতে পারে। নিশিদল সাবলীলই থাকতে চায়। আর সাবলিলতার স্বার্থেই ‘বাধ্যবাধকতা’ শব্দটির অস্তিত্ব দলের অভিধানে নেই। তারপরও শৃঙ্খলার স্বার্থে কিছু বাধ্যবাধকতা থেকেই যায়। এসব বাধ্যবাধকতার পরীক্ষা উৎরে এবার চার নিশাচরের সাথে নিশিপ্রার্থী হিসাবে ওর যোগ হওয়ার কথা আহমদ আমিন ও সজিবের সাথে।
অন্যদিক থেকে হুমকি দিলেন সাবরিনা, দলকে পাঁচজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনে তিনি সাধনায় বসবেন। শেষ পর্যন্ত কাউকে আটকাতে পারলেন না সাবরিনা। সদরঘাটে সজিবের উপস্থিতিসহ দলটি যখন পাঁচজনের সীমা অতিক্রম করল তখন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে একটি কৈফিয়ত দিলেন, সময়ের অভাবে নাকি তিনি ঠিকমতো সাধনায় মনযোগী হতে পারেন নি।
আর এ কারণেই সজিবকে আটকে দেই দেই করেও আটকানো সম্ভব হয়নি। অবশ্য পরবর্তীকালে দলের ভেতর সজিবের উপস্থিতির বিষয়টিকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিতেই গ্রহণ করেছিলেন। কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন সজিবের সেলফোনটি কৈ মাছের প্রাণ। অর্থাৎ আমারটার মতো নিমিশেই চার্জ উধাও হয়ে যায় না। বিশেষ করে নিশিদলের ট্রিপে বের হলে আমার সেলফোনটিকে কোনোভাবেই মধ্যরাত পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে পারি না। সে কারণেই দলের অন্য সদস্যদের নাম্বারগুলোও তাকে দিয়ে রাখি। কিন্তু একটা সময়ে এসে যেই লাউ সেই কদু। অর্থাৎ কারো নাম্বারেই সংযোগ পাওয়া যায় না। অন্যসব ট্রিপের মতো এবারও যথারীতি সবার নাম্বার তাকে দিলাম। দিলাম কৈ মাছের প্রাণ সেলফোনের অধিকারী সজিবের নাম্বারটিও। তিনি আমার এবং সজিবের প্রতি প্রীত হলেন। দলের সদস্য সংখ্যা নিয়ে তার সাথে আর কোনো বিরোধ রইল না। কিন্তু মাঝখান থেকে খামোখাই সজিবের সাড়ে সাত লাখ টাকা উধাও হয়ে গেল!
ঘটনাটা তখনো জানতাম না আমরা-
নিশিদল ঢাকায় ফেরার পথে সজিব জানালো, ওই দিন দুপুরেই তার
ব্যবসার সাড়ে সাত লাখ টাকা মেরে দিয়ে এক ঠগ পাত্তারি গুটিয়েছে।
তারপরও সে নিশিদলে এসেছে। টাকার শোকে সন্তপ্ত সজিবকে অন্তত সেই মূহুর্তে দলে নিতে চাইবো না বলে, ঘটনাটা আমাদের জানায়নি। পরে জানতে পেরে দুই-এ দুই-এ চার মিলে গেল।


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…

আরামকুঠুরি



আরামকুঠুরি

শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

বরিনার সাধনার কারণেই সঙ্কেত চলে গিয়েছিলো সজিবের পরিচিত সেই ঠগের কাছে। ঠগ সক্রিয় হলো। অতঃপর সাড়ে সাত লাখ টাকা মেরে ভাগল। সজিব বিমর্ষ হলো। আর এমন বিমর্ষ অবস্থায় নিশিদলের সাথে ট্রিপে না যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
সম্ভবত ঠিক সেই মুহুর্তেই সময় স্বল্পতার কারণে সাধনায় ছেদ পড়ল সাবরিনার। আর সজিবও ঘোর কাটিয়ে উল্টো সিদ্ধান্তনিল দলের সাথে যাওয়ার।
ধৈর্য্য ও অধ্যবসায়ের অভাবে তীরে এসে তরী ডুবালেন সাবরিনা।
আমাদের তরী ঈগল কিন্তু মাঝপথে ডুবে যায়নি, আমরা প্যরাসাইকোলজির বিভিন্ন শাখা-উপশাখায় মগ্ন থাকতে থাকতেই ভিড়ল চাঁদপুর ঘাটে। রাত তখন ৮টা বেজে ৩৩ মিনিট।
তাড়াহুড়ো করে নামলাম আমরা। একনজর দেখে নিলাম জেটি। একটি কাঠের সেতু দিয়ে স্থলের সঙ্গে সংযুক্ত জেটিটি। লম্বা জেটির ওপরই কয়েকটি কাউন্টার। আর কিছু খোপ খোপ ঘর।
আমরা জেটি থেকে উঠে এলাম স্থলে। সরগরম ঘাট। লোকে লোকারণ্য। রিকশা, সিএনজি ডাকাডাকি করছে। চলছে যাত্রীদের মালামাল নিয়ে টানাটানি।
কিন্তু আমাদের গন্তব্য কোথায়?
সবাই ভেতরে ভেতরে যা কামনা করছিল, সেই সিদ্ধান্তই জানালো তুহিন- আমরা এখন হালকা খাবার খাবো।
কিন্তু কী খাবো, কোথায় খাবো?
চাঁদপুরের কালীবাড়ি এলাকায় ‘ওয়ান মিনিট মিষ্টির দোকান’-এ। জানালো রোমন।
তার এক সহকর্মীর কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এসেছে, এ দোকানটিতে ছোট আকারের মিষ্টি পাওয়া যায়, খেতে সুস্বাদু।
বাহ, পরাটা দিয়ে পুঁচকে মিষ্টি!
একবাক্যে রাজি হয়ে গেলাম সবাই।
তারপর রিকশা দাম করি, মোটরচালিত অটোরিকশা দাম করি। দাম করতে করতে একটি অটোরিকশার সাথে বনিবনা হলো। আমরা উঠলাম কালিবাড়ি যাবো বলে। অটোরিকশা স্টার্ট নিল। কিন্তু হঠাৎই আমাদের বাহনের সামনে এসে হাজির শুক্কুর আলী। অনুরোধ করলো তাকেও অটোরিকশায় তুলে নেয়ার। এতক্ষণ যার কথা আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম। সে আমাদের ভুলতে পারেনি। আমরা অনুরোধ রাখলাম। শুক্কুরকে তুলে নিলাম সাথে। ওর বাড়িও কালিবাড়ি এলাকায়। আমরা অটোরিকশায় করে না নিলে হেঁটেই যেতো।
তৃপ্তির হাসি হাসছে শুক্কুর। কিন্তু এই হাসিটা বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হলো আহমদ আমিনের কথায়। তিনি সবাইকে জানিয়ে দিলেন, আমরা রাতের খাবার শুক্কুরের বাড়িতেই খাবো।
এতটুকু উপকারের বিনিময়ে এতবড় মাশুল চাইবো ভাবতেও পারেনি সে।
মুখটা কালো হয়ে এলো ওর। দুলতে শুরু করলো শঙ্কায়। আমরা যদি সত্যি সত্যিই ওর বাড়িতে চলে যাই, তাহলে এতগুলো অনাহুত
অতিথিকে সামাল দেয়া তার পক্ষে অসম্ভব।
সবাই যখন ওর বাড়িতে খাওয়ার ব্যপারে একমত হলাম, শুনেও না শোনার ভান করলো শুক্কুর। বেচারার চেহারাটা তখন দেখার মতো বিব্রতকর হয়ে উঠেছিল। মনে হলো সম্ভব হলে চলন্তরিকশা থেকে লাফিয়ে পড়বে।
লাফিয়ে সে পড়েনি। কিন্তু আমাদের বাহনটি যখন কালিবাড়ি এসে থামলো, তখন জোর করেও তাকে আটকে রাখা যাচ্ছিল না। কই মাছের মতো পিছলে পাছলে সটকে যেতে চাচ্ছিল।
কিন্তু সাইমুম সাদের হাতের বাঁধন থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। তাছাড়া তুহিন আর রোমন ততক্ষণে ‘ওয়ান মিনিট মিস্টির দোকান’ এর সন্ধান করছে।
মিষ্টির দোকানের নাম উচ্চারণ করার পর শুক্কুরকে আর জোরাজুরি করতে হলো না। নিজেই জানালো এই দোকানটি সে চেনে। সত্যি সত্যিই মিনিটখানেকের ভেতর আমাদের নিয়ে হাজির করল ‘ওয়ান মিনিট’ এর সামনে।
জিভে পানি এসে গেল। আহ, পুঁচকে মিষ্টিগুলো খেতে মন্দ হবে না।
কিন্তু ওয়ান মিনিট মিষ্টির দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে হতাশ হতে আমাদের ওয়ান মিনিট সময়ও লাগলো না। দোকানে মিষ্টি নেই।
ধ্যত্তেরি ছাই ছাতা।
তারপর ছয়জন ছয়টি হতাশ ও বিধ্বস্ত জিভ নিয়ে শুক্কুরের পিছু নিলাম। সে আমাদের নিয়ে হুট করে একটি হোটেলে ঢুকে গেল। দ্বিধায় পড়লাম, কেমন হবে এখানকার খাবার?
কিন্তু খাবার মুখে নিয়ে সবাই শুক্কুরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
সবার সামনেই রুটি। আমি আর রোমন রুটির সাথে ডাল নিয়েছি। তুহিনের সামনে হালুয়া। সাদ, আহমদ আমিন এবং সজিবের পছন্দ মিষ্টি। আর শুক্কুরের পছন্দ অবশ্যই মিষ্টি। সে নিজে মিষ্টি খাচ্ছে এবং অপরকে মিষ্টি খেতে উৎসাহিত করছে। কিন্তু আমি আর রোমন কেন ডাল দিয়ে খাচ্ছি তা বোধগম্য নয় শুক্কুরের। আমার দিকে আঙ্গুল তুলে একটা অবজ্ঞার হাসি হেসে অন্যদের জিজ্ঞেস করল- ডাইল খায়! ডাইল দিয়া খাইয়া কী মজা পায়?
একচোট হাসল সবাই। এতে মোটেও বিব্রত হলো না শুক্কুর। তার মনে প্রশ্ন থেকেই গেল, বাড়িতে তো সবসময়ই ডাল খাওয়া হয়। হোটেলে মিষ্টি রেখে ডালের মতো গড়পড়তা খাবার বেছে নেয়ার পক্ষে কোনো যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছে না সে।
খেতে খেতেই খাওয়ার ব্যাপারে আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিল আমাদের। উদাহরণ দিল নিজের সচেতনতার। আচমকা সে তার ডান হাতটা ভি আকৃতির মতো বানিয়ে পেশিটা শক্ত করে ধরল। টান টান হয়ে পেশির ভেতর থেকে ডিমের মতো একটা পি- ফুলে উঠল। তারপর বাম হাত দিয়ে এই পিন্ডটার ওপর দুইবার চাপড় বসালো- এই যে দেখতাছেন না ডিম। এইডা লঞ্চে বইসা খাইছি।
তারপর গলার দিকটায় ইশারা করে দেখাল, সেই ডিমটাই গলার ভেতর দিয়ে পেটে চালান হয়েছে। তারপর পেট থেকে এই হাতের পেশিতে এসে স্থির হয়েছে।
কাজেই খেতে হলে সবসময় ভালো কিছু খেতে হয়।
অবাক বালক শুক্কুরের খাওয়া এবং খাওয়ার ব্যপারে গবেষণা দেখে আমরা রীতিমতো অবাক । আরো অবাক হওয়ার মতো তথ্য দিলেন তার মা।
হোটেলে খাওয়া শেষ করে আমরা পাশেই চাঁদপুর কোর্ট রেলস্টেশনে গেলাম। সেখানেই দেখা শুক্কুরের মা মনি আক্তারের সাথে। মনি আক্তার থাকেন স্টেশনের কাছাকাছিই একটি ছাপড়াতে।
স্টেশন কেন্দ্রিক তার জীবিকা। এখানেই ফুটফরমাশ খাটেন। আবার লোকের বাড়িতে কাজ করেন। ওর বাবাও স্টেশনকেন্দ্রিকই শ্রমিকের কাজ করেন।
ওরা দুই ভাই, দুই বোন। দুই বোন ওর চেয়ে বড়। আর ওর ছোট ভাইটাকে দেখলাম স্টেশনেই দৌড়াদৌড়ি করছে। শুক্কুরের মতোই চঞ্চল। মায়ের সাথে দুই ভাইয়ের একসাথে ছবি তোলার সময়ও সে স্থির থাকতে চাইছে না। ছবি তোলার জন্য ওর মা ওকে খেলা থেকে ধরে এনেছে। তাই সে আমাদের প্রতি প্রচুর বিরক্ত।
নিজের গোমর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় কিছুটা বিরক্ত হলো শুক্কুরও।
আমাদের প্রতি নয়, ওর মায়ের প্রতি। শুক্কুরের মা মনি আক্তার যা বললেন, তাতে শুক্কুরকে একটা বড়সড় খাদক বলা যায়।
তিনি জানালেন, সে শুধু খায় আর খায়। পয়সাওয়ালা লোকের সন্তানও তার মতো খেতে পারে না।
শুক্কুর প্রায় প্রতিদিন লঞ্চে করে ঢাকায় যায়। আবার সেই লঞ্চে করেই চাঁদপুর ফিরে। লঞ্চে আমাদের মতো অনেকেই তাকে কাছে টানে। এটা ওটা খেতে দেয়। টাকা পয়সা দেয়।
কিন্তু একটি টাকাও সে তার মা কিংবা বাবার হাতে তুলে দেয় না।
প্রতিদিনের আয় প্রতিদিনই খেয়ে শেষ করে শুক্কুর।
কী খায় সে?
অস্বাভাবিক কিছুই না।
বেশি বেশি ডিম খায়। ভাজা পোড়া খায়। ঝালমুড়ি, চানাচুর। পথে ঘাটে যা পায়, তাই খায়।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে হলে ছোট ভাইটার জন্য কিছু উচ্ছিষ্ট নিয়ে আসে।
শুক্কুর আলীকে স্কুলে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেছেন মা। কিন্তু তার কেবল খাওয়ার নেশা। আর খেতে হলে স্কুলে নয়, যেতে হবে লঞ্চে। তাই লঞ্চই ওর স্কুল। লঞ্চই ওর নেশা।
এই খাওয়া আর লঞ্চের নেশা থেকে কেউ ফেরাতে পারে না শুক্কুরকে। না তার বাবা, না মা। চোখে চোখে রাখলেও চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘাটে চলে যায়। মাঝে মাঝে রাত দুইটা তিনটায়ও বাড়ি ফেরে।
অবাকবালক শুক্কুরের অধ্যায় সমাপ্ত করে আমরা গেলাম ইলিশ মাছের আড়তে। কোর্ট স্টেশন থেকে রেললাইন ধরে বড় স্টেশন। তারপর এর বিপরীতেই ইলিশের আড়ত। আড়ত থেকে সোজা একটি ঢাল নেমে গেছে ডাকাতিয়া নদীতে। এই নদী হয়েই প্রতিদিন এক দেড় হাজার মন ইলিশ আসে আড়তে।
আমরা যখন প্রবেশ করেছি, তখন প্রায় ঝিমিয়ে এসেছে আড়ত। পাইকাররা চলে গেছে। আড়তদাররা ইলিশ গোটানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবুও কয়েক জায়গায় বেচাকেনা হচ্ছে। একনজরে দেখলাম হাজার হাজার রুপালি ইলিশ। দেশের বিভিন্ন যায়গায় ইলিশ ধরা পড়লেও চাঁদপুরের ইলিশের আলাদা খ্যাতি রয়েছে।
এখানকার অনেক মানুষই ইলিশ ব্যবসার সাথে জড়িত। ধারণা করা হয় চাঁদপুর নামটা চাঁদ সওদাগর নামে এক বণিকের নামানুসারেই হয়েছে। আগে এর নাম ছিল জুবকী বাজার। দ্বীপের মতো এ এলাকাটি ১৮৫৮ সালে থানা এবং ১৮৭৮ সালে মহকুমা হয়। আর জেলা হয় ১৯৮৪ সালে। পুরো চাঁদপুর শহরটিকে ঘিরে রেখেছে
ডাকাতিয়া। এ নদীটি পশ্চিম দিকে গিয়ে মিশেছে পদ্মার সাথে। এর একটু দক্ষিণেই মেঘনা।
নদীবেষ্টিত এ জেলা শহরটিও ভাঙনের কবলমুক্ত নয়। জেলার অন্যান্য এলাকার মতো শহরেও আঘাত হানে ভাঙন। সর্বশেষ ২০০০ সালের দিকে শহরের লঞ্চ ঘাট, বড় স্টেশন ও আড়ত এলাকার ভাঙনের চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে।
আমরা আড়তের সামনের দিকটায় পায়চারি করে চলে গেলাম পেছনে। একেবারে ডাকাতিয়ার ঢালে। ওখানেও মানুষের সরগরম যাতায়াত।
একটি চায়ের দোকানে বসলাম। দোকানি চা তৈরি করছে, আর আমরা কথা বলছি আড়তকেন্দ্রিক যাদের জীবিকা এমন কয়েকজনের সাথে। একজনের নাম মোফাজ্জল। তিনি জানালেন এই আড়ত মূলত চাঁদপুরের ইলিশের জন্য বিখ্যাত হলেও, এখানে মাছ আসে হাতিয়া, সনদ্বীপ থেকেও।
চাঁদপুরের মাছগুলো সাধারণত ধরা হয় শহর হতে একটু দূরে পদ্মা, মেঘনা এবং ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গমস্থল থেকে। এছাড়া হাতিয়া ও সনদ্বীপ এলাকা থেকে এখানে মাছ আসে নৌকায় এবং গাড়িতে করেও। বিশেষ করে হাতিয়ার মাছগুলো ডাকাতের ভয়ে গাড়িতে করেই বেশি আসে। আর রাঙ্গাবালি, কুয়াকাটা থেকে ধরা মাছগুলো আসে ট্রলারে করে। দোকানি চা বানাতে বানাতেই আমাদের প্রতি কৌতুহলি হয়ে উঠল অনেকেই। কথা বললেন, তথ্য দিলেন বেশ কয়েকজন। এদেরই একজন মো. রফিক। মাথায় টুপি, গলায় মাফলার পেঁচানো। আর গায়ের রঙটা কুঁচকুঁচে কালো। বয়স বিয়াল্লিশ-তেতাল্লিশ হবে। তাকে দেখেই মনে হলো তিনি মোটামুটি বিচার-বিবেচনা করে কথা বলেন।
মো. রফিক চায়ে চুমুক দিতে দিতে অনেক তথ্যই দিলেন আমাদের। বললেন ইলিশ ধরার বিত্তান্তও জেলেদের রসায়ন।
সাগরে ইলিশ ধরার একটি নৌকার পেছনে দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়। একেকটি নৌকায় ১২ থেকে তের জনের মতো জেলে যান। সাগরে থাকতে হয় গড়পড়তায় ১৫ দিনের মতো। নৌকার ভেতরই খাবার-দাবারসহ জরুরি সবকিছুর আয়োজন থাকে। ইলিশ মাছ সবসময় পাওয়া যায় না। অনেকে ইলিশ না পেয়ে খালি নৌকা নিয়েও ফেরে। ভাগ্য ভালো হলে দুই তিন দিনের মাঝেই ইলিশের ঝাঁকে খেউ দিয়ে নৌকা বোঝাই করে ফিরে আসেন জেলেরা। মাছ বিক্রি করে লাভের তিনভাগের দুইভাগ থাকে মালিকের। আর একভাগ নেন জেলেরা।
ইলিশ এবং চাঁদপুরের ব্যাপারে কথা বলতে বলতেই মো. রফিক আমাদেরকে পরামর্শ দিলেন টোডার মাথা থেকে ঘুরে আসতে।
টোডার মাথা কী?
প্রশ্ন শুনে একটু ঘাবড়ে গেলেন তিনি। বোঝানোর চেষ্টা করলেন এটি একটি এলাকার নাম। যেখানে দাঁড়ালে নদীর চিত্রটা ভালো করে দেখা যায়।
তা বুঝলাম, কিন্তু টোডার মাথা নাম হলো কেন?
এবার আরো বিব্রত হলেন- “হেইডাতো কইতে পারুম না। দুই পাশে নদী। মাঝখান দিয়া পাখির ঠোঁটের মতো একটু যায়গা বাইর অইয়া আছে..”
অর্থাৎ তিনি বলতে চাইছেন, পাখির ঠোঁটের মতো দেখতে বলেই
এটাকে ঠোঁটার মাথা, কথ্য ভাষায় টোডার মাথা বলা হয়। আবার এ জায়গাটা ছেঁড়া-টোডা বলেও হয়তো টোডার মাথা বলা হতে পারে। রাত তখন এগারটা। ইলিশের আড়ত থেকে বেরিয়ে আমরা রওয়ানা দিলাম টোডার মাথার উদ্দেশ্যে। বড় স্টেশনের সামনে থেকে রেললাইন ধরে একটু এগিয়েই একটি স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে পেলাম। নাম ‘রক্তধারা’। স্তম্ভের ওপর থেকে তিনটি রক্তের ফোঁটা যেন টপ টপ করে পড়ছে। দেখে মনে হলো এখনি টুপ করে মাটিতে রক্তপতনের আওয়াজ হবে। এটি একটি বধ্যভূমি, এখানে শহীদ হয়েছেন অগণন মুক্তিযোদ্ধা। এই স্মৃতিস্তম্ভটি কে তৈরি করেছেন, দেখার জন্য ফলক পড়তে শুরু করলাম। কিন্তু কোথাও শিল্পীর নাম লেখা নেই। তবে বড় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে স্তম্ভটি যিনি উদ্বোধন করেছেন তার নাম। রক্তধারা পেরিয়ে আমরা প্রবেশ করলাম একটা অন্ধকার গলিতে। কয়েক কদম দূরত্বের এই গলিটা পেরিয়েই পা রাখলাম টোডার মাথায়। দৃষ্টিসীমায় ঘুটঘুটে অন্ধকার। চাঁদহীন কালো আকাশ। আকাশের ছাউনির তলায় একপ্রস্থ জমি। জমিতে দাঁড়িয়ে আকাশ স্পর্শ করতে চাইছে কয়েকটি গাছ। অভিবাবকহীন পড়ে আছে দুই-তিনটি চটপটি ফোঁচকার টঙ দোকান। বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে কয়েকটি ইট-সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চি। অর্থাৎ দিনের আলোতে এই এলাকাটা সরগরম থাকে
আমরা এগিয়ে চললাম। হাতের বা দিকে নদী, ওপারে জ্বলছে টিমটিমে আলো। ডানে অন্ধকার। আর সামনে একেবারে হঠাৎ করেই অন্ধকারের একটি দেয়াল। আমরা সহজেই বুঝে গেলাম, এ দেয়াল বেয়েই টোডার মাথা নেমে গেছে ডাকাতিয়া নদীতে।
আমাদের শরীর স্পর্শ করে বয়ে গেলো ঠান্ডা বাতাস। গাছের পাতায় পাতায় শব্দ হলো। মুহুর্তের জন্য শরীরটা শিরশির করে উঠল। একটা ঠান্ডা গুমোট পরিবেশ। যেকোনো মুহুর্তে আমাদের ওপর লাফিয়ে পড়তে পারে বিপদ।
বুঝে শুনে পা বাড়ালাম আমরা। একেবারে মাথার কাছাকাছি এসেই চোখে পড়লো দৃশ্যটা। ঠিক অন্ধকারের দেয়াল ঘেঁষেই একটি বেঞ্চি দখল করে আছে দুই দুটি ছায়ামূর্তি। নিঃশব্দ, চুপচাপ।
এরা কারা?
এদের পরিচয় নিয়ে এত বেশি মাথা ঘামালাম না। নিজেদের মধ্যে স্বাভাবিক আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রেখেই স্পর্শ করলাম অন্ধকারের দেয়াল। অবস্থান নিলাম ওদের থেকে দশ পনেরো ফুট দূরত্বের বেঞ্চিটার সামনে।
এখান থেকেই ইট-সিমেন্টের পাটাতনগুলো নেমে গেছে নদীতে। আমাদের থেকে বড়জোর পঁচিশ ফুট দূরত্বের ঢাল পেরিয়েই ডাকাতিয়া নদীর প্রবাহ। কিন্তু অন্ধকারের চাদর আমাদের দৃষ্টি থেকে ঢেকে রেখেছে নদীর জল। কানে এসে ঠেকছে ছলাৎছল ছলাৎছল।
এটা ডাকাতিয়ার কান্না। নদীরা এমন করেই কাঁদে। মানুষের রোদ্ররোষে পড়ে কাঁদে। আবার ভাঙনে ভাঙনে মানুষকে ভিটেমাটিছাড়া করে কাঁদে। ওদের জন্মই পাহাড়ের কান্না থেকে। ওরা কাঁদবে এটাই স্বাভাবিক। কাঁদতে কাঁদতে গড়িয়ে পড়বে সাগরে।
ডাকাতিয়ার কান্নাকাটিতে নরম হয়ে এলো মন। হু হু করে উঠল বুক। ইচ্ছে হলো জল ছুঁয়ে দিয়ে সহমর্মিতা জানাই। কিন্তু এই হু হু অনুভূতির ভেতরও এক ধরনের ভালো লাগা আছে। আমি ডাকাতিয়ার কান্না থামাতে গেলাম না। কাঁদছে যখন, কাঁদুক না।
ডাকাতিয়া নদীকে পেছনে রেখে সার করে দাঁড়ালাম আমরা। একটা দলছবি প্রয়োজন। কিন্তু দলের ছয়জনকে ক্যামেরায় আনতে হলে সপ্তম ব্যক্তি ছাড়া হবে না।
কী করা যায়?
আমি এগিয়ে গেলাম সেই ছায়ামানবদের কাছে। হ্যাডফোন লাগিয়ে দু’জনেই গান শুনছে। হাতে জ্বলন্তসিগারেট। রুক্ষ রুক্ষ চেহারা। আমার পায়ের শব্দ পেয়েও নির্বিকার রইলো। কী এক গভীর ভাবনায় দু’জনেই বুদ। পর পর দুইবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেস্টা করে সফল হলাম। ঝট করে একজন তাকালো আমার দিকে। পাশেরজন তখনো নির্বিকার। আমি অনুরোধ করলাম একটি ছবি তুলে দেয়ার জন্য। ছায়ামানব কোনো কথা বললো না। বেঞ্চির নিচের দিকটা থেকে পায়ের স্যন্ডেল খুঁজে বের করে ওঠে দাঁড়াল। তারপর আমাকে অনুসরণ করল। নিঃশব্দেই তার হাতে দামি সেলফোনটা ধরিয়ে দিলো রোমন। আমি দাঁড়ালাম দলের সাথে। তারপর- ক্লিক, ক্লিক..।
কয়েকটা ছবি তোলার পর সেলফোনটা আমার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে আবার নিঃশব্দেই ছায়ার মতো ফিরে গেল সেই ছায়ামানব
তারপর একে একে আমরা নামতে শুরু করলাম ঢাল বেয়ে। আমি ছাড়া সবাই পা বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিল জল। আমি স্পর্শও করলাম না। কিন্তু ওদের পায়ের স্পর্শের পরই ছলাৎছল শব্দটা হারিয়ে গেল অন্য একটি শব্দের ভাঁজে। একটি লঞ্চের ভেঁপু কানে তালা লাগিয়ে দিল। টোডার মাথা ঘেঁষেই যাচ্ছে ওটা। লঞ্চবাতির আলোয় ফর্সা হয়ে এলো ডাকাতিয়া। অন্ধকারের দেয়াল কেটে এই প্রথমবারের মতো দেখলাম নদীটাকে। এরপর একটু পর পর লঞ্চ আসছে, যাচ্ছে। ইঞ্জিনের গুঞ্জনে খান খান হচ্ছে রাতের নীরবতা। সেই ছলাৎছল ছলাৎছল শব্দটাও যেনো হারিয়ে গেল কোথায়!
আমি এবং আমরা অলস ভঙ্গিতে বসে রইলাম যে যার মতো। রোমন তখনো পানিতেই। আচমকা সে ক্যমেরায় ক্লিক শুরু করল। বলল- তোমাদের জীবনের সেরা কয়েকটা ছবি তুলে দিলাম।
ক্যমেরায় ক্লিক করতে করতেই আদেশ জারি করল- যে যেখানে আছো, সবাই ওঠে দাঁড়াও।
আমরা তার আদেশ শিরোধার্য করলাম। আবার ক্যমেরায় ক্লিক।
তারপর স্ক্রিনে যখন নিজেদের ছবিগুলো দেখলাম, অবাক হতে বাধ্য হলাম। ছবিতে একপ্রস্ত রাতজমিনের ওপর এলোমেলো নিশিদল।
আরো কিছুক্ষণ অলস বসে থাকতাম সেখানে। কিন্তু বড় ধরনের একটি শঙ্কা এসে জমাট বাঁধল। ব্যপারটা প্রথম লক্ষ্য করল রোমন-
ছায়ামানবদের দলটা ক্রমেই ভারি হচ্ছে। দুইজন থেকে চারজন। মিনিট খানেকের মধ্যেই চারজন থেকে ছয়জন। তারপর সাত, আট করতে করতে দশ এ পৌঁছল।
নিশিদলের বিপরীতে এই ছায়াদল কী তাহলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে?
কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেয়া যায় না, মত দিল তুহিন।
যদি সত্যিই রণপ্রস্তুতি নিয়ে থাকে, তবে ওরা যে পরিমাণ সৈন্যসমাগম করছে তার তুলনায় নিশিদলের সৈন্য সংখ্যা অপ্রতুল। তাছাড়া ওরা স্থানীয় বলে বাড়তি একটা সুবিধা পাবে।
সুতরাং রণাঙ্গন ছেড়ে পলায়ন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আমরা রণাঙ্গন থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলাম। অন্ধকার ছেড়ে চললাম আলোর দিকে। আমাদের চলে যেতে দেখে ছায়াদল একটা হোঁচট খেলো। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাইনি। তবে
ডাকাতিয়ার কান্নাটা আবারো শুনতে পেলাম।
এবার আর মন নরম হলো না আমার। ভাবলাম, নদীর কান্নাকে পশ্রয় দিয়ে কী লাভ? পৃথিবীতে কত মানুষের কান্নাকেই এড়িয়ে গেছি। বুকে পাষাণ বেঁধে চোখ বন্ধ করে রেখেছি। অথচ মানুষের ভেতর একটি নয়, হাজারটি নদীর প্রবাহ। এই হাজারনদীর কোরাস কান্নাও যেখানে গুমরে বেড়ায়, সেখানে এক নদীর কান্না তো মামুলি।
গুমড়ানো কান্না দেখলাম টাইগার পাগলার ছলোছলো চোখে। না, সে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে কাঁদছিল না। কাঁদছিল তার ভেতরকার হাজারটি নদী। টোডার মাথা থেকে ফিরে এসে একটি মুদি দোকানের সামনে এই পাগলের সাথে দেখা। পরনে প্যাঁচানো লাল কাপড়। উর্ধাঙ্গেও একটুকরো কাপড় জড়ানো। হাতে বিশাল চটের থলে। চুলে জট। থুতনি থেকে বেড়িয়ে এসেছে ধারালো দাড়ি। নাকের নিচে দু’গুচ্ছ গোঁফ। চেহারাটা একনজর দেখলে মনে হবে চীনদেশের কুংফু কারাতে মাস্টারদের মতো। কোমল পানীয় টাইগার পছন্দ করে সে। তাই লোকে তাকে টাইগার পাগলা নামেই চেনে।
রাত তখন ১১টা বেজে ৩৪ মিনিট। একটি দোকানের কোণায় তাকে দেখেই কাছে ভিড়লাম। তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সাথে জিজ্ঞেস করলাম- নাম কী?
পাগলা কোনো কথা বলল না। কেবল দুটো আঙ্গুল ঘষা দিয়ে বোঝাল, ওর টাকার ভীষণ প্রয়োজন। আমরা মস্করা করলাম। একরকম পেয়ে বসলাম ওকে। একের পর এক প্রশ্ন করছি। কোনো জবাব নেই। সে চুপ থাকছে এবং আমাদের ওপর বিরক্ত হচ্ছে।
আমরাও বিরক্ত হয়ে প্রায় চলেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটালো সজিব। ও হঠাৎ করেই পাগলের আঙ্গুলে কি যেনো আবিষ্কার করল। আমাকে কাছে ডাকল।
দেখলাম, পাগলটার দুই হাত ভর্তি আঙটি। প্রতিটা আঙ্গুলেই কম করে হলেও দুটি করে হবে। এতে আর অস্বাভাবিক কী? রাস্তাঘাটে এরকম অনেক আঙ্গটিপড়া পাগলই দেখা যায়। ওর ডান হাতটার দিকে ইঙ্গিত করল সজিব।
প্রথম দৃষ্টিতেই শরীরটা ঝাড়া দিয়ে উঠলো আমার। ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য – টাইগার পাগলার ডান হাতের সবচেয়ে শক্তিশালী আঙ্গুলের সামনের দিকটা মুলোর মতো ফুলে আছে। মোটেও বাহুল্য বলছি না। সত্যি সত্যিই ছোটখাটো একটা মূলোর মতো হয়ে আছে আঙ্গুলটা।
কেন, কিভাবে?
দেখলাম এই আঙ্গুলে আঁটসাট করে একটি আঙ্গটি পড়া। আর যে অংশটা জুড়ে আঙটি জড়ানো আছে, সেটার আকৃতি স্বাভাবিক। কিন্তু বাইরের অংশটা মুলোর মতো। ধারণা করলাম, হয়তো আঙটিটা নিয়ে সে বিপাকে আছে।
কিন্তু এই ধারণাকে পাল্টে দিলেন স্থানীয় এক দোকানি- পাগলারে বইলা কোনো লাভ নাই। লাখ টাকা দিলেও হ্যায় আঙটি খুলবো না।
তারপর হাতে করে একটি টর্চ নিয়ে দোকান থেকে বের হলেন লোকটা। আলো ফেললেন টাইগার পাগলার আঙ্গুলের দিকে। গা রি রি করে উঠলো আমার। আঙটি আর মুলোর মাঝামাঝি যায়গাটা একেবারে পঁচে গলে মাংস খসে পড়ছে। কিলবিল করছে পোকা!
আমি আর তাকাতে পারলাম না। কেবল ভেতর থেকে একবার অনুভব করার চেষ্টা করলাম ওর যন্ত্রণাটুকু। সেটাও করতে পারলাম না।
আরো কয়েকজন লোক জমে গেলো পাগলকে ঘীরে। ওদের সবার কাছেই সে পরিচিত। ওরা অনেকবার চেষ্টা করেছে টাইগার পাগলাকে
হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করানোর। কিন্তু সে যেতে রাজি নয়। ওদের ধারণা এই আঙটি নিয়েই পাগলার সমস্ত সাধনা। আঙটিতেই সে জগত দেখে। আঙ্গটিতেই খুঁজে মুক্তি।
অদ্ভূত দুনিয়া! অদ্ভূত পাগলের ভাবনা! এই অদ্ভূত টাইগার পাগলাকে একটি টাইগার কিনে দিল সজিব। একটু হাসি দিয়ে টাইগারের বোতলটি ধরে খেতে শুরু করল সে।
টাইগার পাগল খাচ্ছে। আর তাকে নিয়ে আলোচনা চলছে জটলায়। দোকানি বললেন- পাগলা বহুত বজ্জাত আছে। গোপনে গোপনে টেকা জমায়। কিন্তু খরচ করে না।
বিষয়টা সহ্য হয়নি পাগলার। হঠাৎই ভূতের স্বরে কথা বলে উঠল সে- মিথ্যা কথা কমু ক্যান, টেহা আমার আছে। কিন্তু সব মাইনষের কাছে। মাইনষে আমার টেহা মাইরা দ্যায়।
কথাগুলো বলতে খুব বেগ পোহাতে হলো টাইগার পাগলার। মুখ দিয়ে শব্দ বেরুতে চায় না। ধীরে ধীরে ঠোঁট নেড়ে চিউ চিউ করছিল। অর্ধেক কথা মুখ দিয়ে, আর বাকি অর্ধেক বলল নাক দিয়ে। শুনতে অনেকটা ভূতের কণ্ঠের মতো।
তারপর আমাদের সাথে আরো সহজ হয়ে এলো সে। কিন্তু হাতের আঙটিগুলো খুলতে বা আঙুল অস্ত্রোপচার করতে কোনোভাবেই রাজি হলো না।
টাইগার পাগলাকে রাজি করাতে না পেরে আমরা হাঁটা ধরলাম লঞ্চঘাটের দিকে। এলোমেলো ঘুরলাম কিছু সময়। রাত গভীর হয়ে এলো। সিদ্ধান্তনিলাম পানসি বা খেয়া নৌকায় চড়ার। কিন্তু এত রাতে নৌকা কোথায় পাওয়া যাবে?
লোকজন তথ্য দিল, সেই বড় স্টেশনের দিকে পেলেও পেতে পারি।
আমরা আবার রওয়ানা হলাম বড় স্টেশন অভিমুখে। রাতের খাবারের ব্যপারে রিকশা চালকের সাথে পরামর্শ করল তুহিন ও রোমন। চালক শাহজাহান ভাইয়ের হোটেলের সন্ধান দিল। আমরা সেখানে রিকশা থামিয়ে জেনে নিলাম হোটেলটি খোলা থাকবে রাত আড়াইটা পর্যন্ত। তখন সময় একটার কাছাকাছি।
বড় স্টেশন এলাকায় ঠিক ডাকাতিয়ার তীরে নামলাম রিকশা থেকে। দেখলাম সার ধরে নৌকা বাঁধা আছে। কিন্তু কোনোটাতেই মাঝি নেই। মাঝির সন্ধানে তোড়জোর চালালাম সবাই। নদীর ঢালে নেমে ডাকাডাকিও করলেন আহমদ আমিন। মাথা নুইয়ে নৌকার গলুইয়ের ভেতর মাঝির সন্ধান করল সাইমুম সাদ। কিছুতেই ফল হলো না। আমরা নদীর তীর ধরেই এগুতে লাগলাম টোডার মাথার দিকে।
হাতের ডানে লক্ষ্য করলাম একটি ক্লাবঘরের মতো। ভেতরে আলো জলছে। সামনে সাইনবোর্ড- মাঝি সমবায় সমিতি। মনে জোর পেলাম আমরা। সমিতিঘরের ভেতরে ঢুকল তুহিন। একটু পর একজনকে সাথে নিয়ে বের হয়ে হলো। পেছন পেছন আরো দুইতিনজন কৌতুহলী মাঝি।
কিছুক্ষণ মুলামুলি চলল। এ ক্ষেত্রে তুহিনের দক্ষ্য ও কৌশলী ভূমিকা কাজে দিলো। যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে আমাদের নিয়ে ডাকাতিয়ায় নৌকা ভাসালেন মাঝি আবদুর রহিম।
রাত তখন একটা বেজে পাঁচ মিনিট। ডাকাতিয়া খলবল খলবল করে ঘুরপাক খাচ্ছে। হাতে টানা হাল বেয়ে নৌকা ঠিক রাখতে যথেষ্ট বেগ পোহাতে হচ্ছে আবদুর রহিম চাচাকে। আমরা ভাসছি রাতের বিপরীতে। গন্তব্য টোডার মাথার দিক দিয়ে ঘুরে নদীর ওপারের কাছাকাছি গিয়ে তারপর আবার চলে আসবো। ওপারটাতে দেখা যাচ্ছে টিমটিমে আলো।
আমরা যখন নদীর মাঝামাঝি পৌঁছি, তখনি নৌকাজুড়ে শুরু হলো গানের মাতম। নদী নিয়ে একটি গানে টান দিল রোমন- ও.. নদীরে…।
সাথে সাথেই কোরাস ধরল সাইমুম সাদ। তারপর আহমদ আমিন, তুহিন, সজিব এবং সর্বশেষ আমি- একটি কথা শোধাই শুধু তোমারে/ বল কোথায় তোমার দেশ/ তোমার নেই কি চলার শেষ…
কোরাসটা যখন ঢিলে হয়ে আসছিল, তখনি হেঁড়ে গলায় অন্য একটি সুরে টান দিলাম আমি- ও..রে নীল দরিয়া…
আপুত হয়ে কোরাস তুলল সবাই- আমায় দেরে দে ছাড়িয়া/ বন্দী হইয়া মনোয়া পাখি হায়রে/ কান্দে রুইয়া রুইয়া/ কাছের মানুষ দূরে থুইয়া/ মরি আমি ধরফরাইয়া রে/ দারুণ জ্বালা দিবা নিশি/ অন্তরে অন্তরে/ আমার এতো সাধের মনোয়া পাখি হায় রে/ কি জানি কি করে …
গানটা পুরোই গাইলাম আমরা। একটু পর পর ভোকাল পাল্টাল ঠিক, কিন্তু তালে তেমন হেরফের হলো না। একজনের গলা নেমে আসছে বুঝতে পারলেই আরেকজন গলা খিঁচে তালটা ধরে রাখলাম। সুর হোক বা না হোক।
আমি এমন কোনো লোক দেখিনি যে, এই গানটা শুনে বা গেয়ে আপুত হয়নি। এর কথাগুলো জীবনঘনিষ্ঠ। মানুষের জীবন দরিয়ার মতোই। আমরা ভাসছি এক অদ্ভূত দরিয়ায়। নোঙর করছি ঘাটে ঘাটে। বন্দরে বন্দরে দেখছি নতুন জনপদ। মুখরিত হচ্ছি অগুনতি পাখির কোলাহলে। কিন্তু সাধের মনোয়া পাখিটাকে যেখানে রেখে এসেছি, আমাদের নোঙর আটকে আছে সেখানেই।
আবারো বলতে হয়, সেই এক মানুষের ভেতর হাজার নদীর প্রবাহের কথা। এই হাজার নদীগুলোই পরস্পর বয়ে যায় সমান্তরাল। কোনোটা উত্তাল হয়। কোনোটা শান্তসুশীতল। কোনো নদীতে বাঁধ দিয়ে মেরে ফেলা হয়। আবার স্মৃতির ধূলোয় ঢাকা পড়ে একেকটা নদী। কেউ মরা নদীটার রেখাও মুছে দিতে চায়। আবার কেউ সেই রেখা ধরেই স্মৃতিকাতর হয় সঙ্গোপনে- আমার একটা নদী ছিল/ জানলো না তো কেউ/ এইখানে এক নদী ছিল/ জানলো নাতো কেউ/ নদীর জল ছিল না…/ ও…ও.. জল ছিল না কুল ছিল না/ ছিল শুধু ঢেউ …./ আমার একটা নদী ছিল/ জানলো না তো কেউ…
থিক নবীর এই গানটা শেষ হতে না হতেই তুহিন টান দিল আরো একটি স্মৃতি রোমন্থনের সুর- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম/আমরা/ আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম/ গ্রামের নওজোয়ান/ হিন্দু মুসলমান/ একসাথে বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম/ আমরা/ আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম …
আগের দিন বাঘে খেয়েছে। দিন গেলে আর দিন ফিরে আসে না। সময়টা প্রবাহমান। ঠিক এই ডাকাতিয়ার জলের মতো। টোডার মাথা বরাবর মাঝ নদীতে দুই দিক থেকে এসে মোটামুটি শান্তএকটি ঘূর্ণি তৈরি হয়েছে। এই ঘূর্ণির মাঝখানে যদি সাইমুম সাদকে নৌকা থেকে ফেলে দেয়া যায়, তবে কম করে হলেও আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ভাসবে।
নিশিদলের আরো পাঁচ সদস্যকে রেখে কেবল সাইমুম সাদকে ফেলে দেয়ার প্রশ্ন এলো কেন?
কারণ, সাইমুম সাদই সবার চেয়ে হ্যাঙলা। সম্ভবত ওজনেও কম। কাজেই ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া অন্য সবার চেয়ে সহজ। সাইমুম সাদের পর হ্যাঙলার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছেন আহমদ আমিন। এরপর আর স্থান নির্ধারণ করছি না। কারণ মাসখানেক ধরে খাওয়া দাওয়ার অনিয়মে আমিও শুকিয়ে গেছি। আমার আগের
মাপের প্যান্টগুলো ঢিলা হয়ে এসেছে। যায়গায় বেজায়গায় কোমর থেকে নিচে নেমে যায়।
এ নিয়ে তুহিন আর রোমন আমাকে খোঁচা মারতেও ছাড়ে না। কি আর করব- পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে একসাথে।
খেয়া নৌকা থেকে নেমেই আমরা খানা খাওয়ার জন্য তোড়জোর শুরু করলাম। রাত তখন পৌনে দুইটা। চলে গেলাম সেই শাহজাহান ভাইয়ের হোটেলে। তারপর শুরু হলো রান্না।
সে আরেক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। হোটেলে ঢোকার প্রথম থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্তখাওয়া নিয়ে রোমাঞ্চিত ছিলাম নিশিদলের প্রতিটা সদস্য। চাঁদপুরের তাজা ইলিশ কেটে ছয়টি টুকরো করা হলো। কড়াইয়ে ঢালা হলো সরিষার তেল। চুলোর আঁচে তেল গরম হয়ে এলে মসলা মাখানো ইলিশটুকরাগুলো করে ছেড়ে দেয়া হলো কড়াইয়ে। সাথে পেঁয়াজ কুচি আর শুকনা মরিচ।
ঘ্রাণেই অর্ধভোজন হয়ে গেল আমাদের। তারপরও পুরোপুরি ভোজের জন্য জিহ্বা লালায়িত হয়ে রইলো। প্রতিটি সেকেন্ডকে মনে হলো একেকটি ঘণ্টা।
অবশেষে ইলিশভাজা সমাপ্ত হলো। তার আগেই ছয়জনের সামনে ছয়টি থালা এবং বোলভর্তি গরম ভাত চলে এসেছে। হাত ধুয়ে থালা মেলে বসে আছি সবাই। শাহজাহান ভাই ইলিশভাজাগুলো বড় আকারের একটি গোল বাটিতে করে তুহিনের হাতে ধরিয়ে দিলেন। তুহিন গরম গরম মাছ বণ্টন করে দিল থালায় থালায়। সাথে বণ্টন করল ভাজা পেঁয়াজকুচিও। বলতে দ্বিধা নেই, বণ্টন শেষে যে অতিরিক্ত পেঁয়াজকুচি ছিল, আমি সেগুলোর বেশিরভাগ অংশ নিজ দায়িত্বে আমার থালায় তুলে নিয়েছি।
ধারণা করেছিলাম এ নিয়ে দলের অন্যরা আপত্তি তুলবে। কিন্তু সবাইকে দেখলাম তাজা ইলিশ এবং এর স্বাদের তারিফ করতেই ব্যস্ত। মুখ ভরে তারিফ করার মতোই ছিল আমাদের এই ভোজটা। কড়া ভাজা টুকরোগুলোর ভেতরে আবার ডিমও রয়েছে। এই ডিমগুলো জিহ্বায় আলাদা মাত্রা যোগ করল। মোটামুটি সবাই গোগ্রাসে খেয়ে পেট টইটম্বুর করলাম। তারপর থালা চেটেপুটেও খেলাম।
অবাক ব্যাপার হলো লেখাটা লিখতে গিয়ে বার বার আমি বহুল প্রচলিত শব্দ ‘পেট’ এর পরিবর্তে ‘থালা’ শব্দটি ব্যবহার করছি!
এর মানে এটা কি ইংরেজি শব্দ নিয়ে সাবরিনার খবরদারির ফল?
হলেও হতে পারে। আর হলেই বা ক্ষতি কী? যেখানে ‘থালা’ ব্যবহার করেই সাবলীল বাক্য গঠন করা যায়, সেখানে খামোখা একটি ইংরেজি শব্দকে ডেকে আনার কী প্রয়োজন?
তবে অনেক সময় অনেক কিছুকে ডেকে আনতে না চাইলেও চলে আসে। আবার কোনো কোনো সময় সেই চলে আসাটাই খাপ খেয়ে যায়।
যেমন আমাদের পরিবেশের সাথে খাপ খেয়েছিল বৃষ্টিটা।
ইলিশভাজার ঢেকুর তুলতে তুলতে আমরা আবার গিয়েছিলাম টোডার মাথায়। ঘড়ির কাটা তখন তিনটা ছুঁই ছুঁই।
ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিটা শুরু হয়েছিলো দুইটা পঁচিশের দিকে। মিনিট সাতেক পর সেটা ঝড়তে শুরু করলো মুষলধারে। টিকলো পঁচ-ছয় মিনিট। তারপর বিরতি।
এই বিরতির সময়টাতেই আমরা স্থানান্তরিত হই টোডার মাথায়। উদ্দেশ্য, ভরপেটে অলস সময় কাটানো। তাছাড়া সেই রণাঙ্গন ছেড়ে
আসার অতৃপ্তিটাতো থেকেই গেছে।
এবার আগের সেই প্রতিপক্ষ ছায়াদলের অস্তিত্ব পেলাম না সেখানে। কিন্তু আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে আবার ঝড়তে শুরু করল ইলশেগুঁড়ি। ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশে বৃষ্টিটা উপভোগ্য, কিন্তু আমাদের মাথার ওপর কোনো ছাদ নেই।
সুতরাং আবার রণেভঙ্গ দিয়ে ছাড়তে হবে রণাঙ্গন!
না। এবার আর নিশিদলকে পিছু হটতে হলো না। পাশেই পেয়ে গেলাম চটপটি ফোঁচকা বিক্রি করার একটি টঙ দোকান। টঙের ওপরে ছাউনি। আর নিচের দিকে কোমর পর্যন্তউঁচু করে ইউ আকৃতির ডেস্ক। ইউ এর খোলা মুখ দিয়ে আমরা ঢুকে গেলাম ভেতরে। মাখখানে বড়জোর একজন দাঁড়ানোর যায়গা। গাদাগাদি করেও ছয়জনের সঙ্কুলান হওয়ার কথা নয়।
ছাউনির ভেতর প্রবেশ করেই আহমদ আমিনকে দেখলাম পেছনের হাত দিয়ে ভর দিয়ে ডেস্কের ওপর বসে যেতে। তারপর সেখানে পা ঝুলিয়ে আরাম করে বসলো তুহিন এবং রোমন। তিনজন ভালো ভালো তিনটি জায়গা দখল করে বসেছে।
বাকি থাকলাম আরো তিনজন। আমি আস্তে করে আহমদ আমিন এবং রোমনকে ঠেলে ঠুলে মাঝখানে যায়গা করে নিলাম। তারপর এলো সজিব। সে আমার এবং আহমদ আমিনের মাঝখানে বসে একটু চাড়া দিয়ে নিজের আসন পোক্ত করে নিল। সবশেষে সাদ রোমনকে অনুরোধ করে এক কোনায় বসার অনুমতি পেল।
মোটামুটি সবার নিরাপদ আসন নিশ্চিত হওয়ার পর আকাশে শুরু হলো গুড়–ম গুড়–ম। আমাদেরকেই ধমকাচ্ছে। আমরা পরোওয়া করলাম না। আলাপ শুরু হলো চাঁদপুর, চাঁদপুরের মানুষ ও সংস্কৃতি নিয়ে। তারপর সেই আলাপ গোটা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে উদ্ধার করে ছাড়ল।
অন্যদিকে আকাশের গুড় গুড় গুড়–ম ধমকানি চলছেই। দূরে কোথাও বজ্রপাতও হচ্ছে। বইছে ঠান্ডা বাতাস। নদীতে মাঝে মাঝেই দেখা যাচ্ছে লঞ্চের আনাগোনা। লঞ্চবাতির আলোয় স্পস্ট হয়ে উঠছে রাতেস্বিনী ডাকাতিয়া। মাঝ নদীতে উদভ্রান্তের মতো ভেসে চলছে কচুরিপানা। হঠাৎ হঠাৎ আমাদেরকে চমকে দিয়ে পেছন থেকেও উদয় হচ্ছে লঞ্চবাতি। নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকারের ভেতর এই আলোর বিভ্রম মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। আর স্বস্তিদায়ক নয় নিজেদের মধ্যে জায়গা দখল নিয়ে প্রতিযোগিতা।
তবুও মোটামুটি স্বস্তিতে কাটালাম আধঘন্টার মতো সময়। রাত তিনটা বেজে তেইশ মিনিটে ঝড়তে শুরু করল মুষলধারে বৃষ্টি। মিচকে ছাঁট এসে ভিজিয়ে দিতে লাগল আমাদের। শুরু হলো বৃষ্টির সাথে লুকোচুরি খেলা। এই খেলাটা চলল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
পুরো সময়টার প্রথম দিকে বিষয়টাকে পাত্তা দিতে চাইলাম না আমরা। সময়ের সাথে সাথে এর মাত্রা বাড়ছে। সাথে সাথে বাড়ছে কৌণিক বাতাস। বাতাস যতটা কৌণিক হয়


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…

হাওয়ায় দোলা হাওর জলে



নাজনীন তৌহিদ

ছেলেবেলা থেকে শুনে এসেছি হাকালুকি হাওয়ের কথা। কিন্তু ইদানিং টাঙ্গুয়ার রূপবৈচিত্রের প্রচারণা আর প্রসারতার মাঝে যে চাপা পড়েছে হাকালুকি। যাকে নিয়ে এত লেখালেখি সে সৌন্দর্যের জলদেবী টাঙ্গুয়ার হাওরকে যেন ছুঁয়ে না গেলেই নয়। বহুদিনের বাসনা হাসন রাজার বসতবাটি দেখার। তাই সুযোগ যখন এলো এক ঢিলে দুই পড়ল। এক বেড়ানো আর দুই মনের তথ্য ভান্ডারে কিছু খোরাক জমানো। হাজবেন্ড সেনা কর্মকর্তা বলে ঘুরে ফিরে দেখার সুযোগ হয়েছে বাংলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, ঘুমিয়ে-ঝিমিয়ে, লুকিয়ে-ঢিমিয়ে থাকা সৌন্দর্যের নয়নাভিরাম স্নিগ্ধতা মেখে নিয়েছি সবটুকু। এবার তার সুনামগঞ্জ পোস্টিং, তাও আবার (বিডিআর) বর্তমান বিজিবি তার মানে হাসন রাজার বাড়ি আর মরমি কবির সবকিছু জানা যাবে নির্ভেজালভাবে। ছাতকের কমলায় রসনা তৃপ্ত করে পুরোসিমেন্ট ফ্যাক্টরি পর্যবেক্ষণ, টেকের ঘাট চুনাপাথর প্রকল্প আর জৈন্তা খাসিয়ার পাশঁেঘষে ছুটে চলা হাওরবিলের তাজা মাছের সুঘ্রাণে পুরোদস্তর মাছে-ভাতে বাঙালি! আর সুরমার জলে জলকেলি! এত্তসব ভালো লাগা ভাবতেই চনমনে হলো মন। পূর্ণ হলো বাসনা- ডুবে গেলাম টাঙ্গুয়ার রূপ রহস্যের জলাধারের মোনীয়তায়। মেঘালয়ের পাদদেশে বিশাল জলরাশির খেলা, যেদিকে চোখ যায় পাহাড়ে ঘেরা চারিধার, স্বচ্ছ আকাশ-স্বচ্ছ জল যেন আকাশের সবটুকু নীল মিশে গেছে স্বচ্ছ জলধারায়। ভরা বর্ষায় চোখেরও ভুল হয়; এ কি তবে কোনো শান্ত সমুদ্র! আর দূরে দূরে দ্বীপের মতো ভেসে থাকা গ্রামগুলো! দূরন্ত বেগে স্পিডবোটের ছুটে চলা সে যে এক ভালো লাগার অভূতপূর্ব শিহরণ! যারা ইতোমধ্যে অবলোকন করেছেন এ হাওর তারা নিশ্চয়ই স্মৃতিখুড়ে রোমাঞ্চিত হচ্ছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে টাঙ্গুয়ার হাওরের উচ্চতা গড়ে ৪ মিটার। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার ভারত সীমান্তের জৈন্তা খাসিয়ার কোলঘেঁষে এর দখলদারিত্ব। দৈর্ঘ্য ১০ কিমি আর প্রস্থে ৭ কিমি জুড়ে এর বিস্তৃতি। মোট ৫১ টি বিল নিয়ে এ জলাশয় বিশালাকার জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। এর পাশ ঘেঁষে রয়েছে ৪৬টি গ্রাম আর গড়ে উঠেছে শতাধিক কান্দা। ভরা বর্ষায় এর আয়তন হয় ২০ হাজার একর আর শীত মৌসুমে ৭ হাজার একর। বর্ষায় গ্রামগুলো ভেসে থাকে দ্বীপের মতো আর শুল্ক মৌসুমে জলাধারে চাষাবাদ হয়ে ধানের। এ এক রূপ বৈচিত্র্যের খেলা। এখানকার মানুষের জীবিকা মাছ ধরা আর কৃষিকাজ করা।
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে হাওরে যেতে হলে রয়েছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোট।
স্পিডবোটে চড়ে হাওরে যেতে সময়ের তারতম্য একক মৌসুমে একক রকম। বর্ষা মৌসুমে দুরত্ব ৪০কিমি আর সময় লাগে ১ ঘন্টা। শীত মৌসুমে পানি কমে যায় বলে পথের দূরত্ব ও সময় দুই বাড়ে। তখন সময় লাগে ৩ ঘন্টারও বেশি।
বিশাল জলরাশির মাঝে ঘুরে ঘুরে কীভাবে যে সময় পার হয়ে দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে বোঝাই যায় না তাই এখানে ঘুরতে হলে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিতে হয়। মাছের ছোটাছুটি, পাখির কলতান আর ওড়াউড়ি, নীলাভ জলে আকাশ মাটির মিতালি, জলে ভেসে থাকা নানা নামের নানা জাতের জানা অজানা জলজ উদ্ভিদ, কখনো হিজল করচের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া এ যে এক চরম ভালো লাগা।
কখনো দেখা যায় গারো জাল দিয়ে জেলেদের মাছ ধরা কিংবা ছোট ছোট ডিঙি বেয়ে জীবিকার সন্ধানে দূরে ছুটে চলা। তবে এখানে অবাধে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। মাছের প্রাচুর্য থাকায় জেলেদের মাছ ধরার প্রবণতা বেশি। কিন্তু হাওর মাছের আর পাখিদের অভয়াশ্রম। সুন্দরবনের পর এটি দ্বিতীয় রামসার এলাকা ঘোষিত হবার পর এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বও বেড়েছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর একমাত্র সর্বশেষ জলাধার এটি যেখানে মাছ, পাখি আর জলজ উদ্ভিদের পরস্পর ভারসাম্যতা বজায় রয়েছে।
মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণার্থে তথা সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য টঙ্গুয়ার হাওর আজ মাছেদের আর পাখিদের নিরাপদ বিচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর এ সম্পদ রক্ষা তথা বন উজার না করা আর অবাধে মৎস্য নিধন না করার জন্য গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্যাম্প। আর নিয়মিত টহল দিচ্ছে আনসার, পুলিশ, বিজিবি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। টাঙ্গুয়ার হাওর ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে জেলা প্রশাসক সুচারুরূপে এ সকল কাজের সমন্বয় সাধন করেন। তাদের নজরদারির ফলশ্র“তিতে টাঙ্গুয়ার মিঠা পানির মাছ বিভিন্ন নদীনালা, খালবিলের মাধ্যমে সারাদেশের জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশবাসীর প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরে জলের মধ্যে মাথা উঁচু করে জেগে আছে হিজল করচপার বন। পানিতে ভেসে আছে নীল শাপলা, পানি ফল হেলেঞ্চাসহ নানা উদ্ভিদ আরো রয়েছে দুর্বিলত, নলখাগড়া, শীতলপাটি, স্বর্ণলতা, চাইলা, ছন বনতুলসী, শতমূলী ইত্যাদি নানা জাতের দুশো প্রজাতিরও বেশি গাছগাছালি। অভাবী মানুষের জীবিকা আর জ্বালানি চাহিদা মেটাতে, সৌখিন শিকারির থাবা ভরে দিতে আমরা হারিয়েছি প্রকৃতির স্তন্যপায়ী অকৃপন দানকে, তবু হারিয়ে যেতে যেতেও বিলুপ্ত প্রায় দশ প্রজাতির পাখি, ছয় প্রজাতির স্তন্যপ্রায়ী চার প্রজাতির সাপ, তিন প্রজাতির কচ্ছপ, দুই প্রজাতির গিড়িগিটি, এক প্রজাতির উভচর, পঞ্চান্ন প্রজাতির মাছ এবং একান্ন প্রজাতির পাখি তাদের নিরাপদ আশ্রয় স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে এ হওরকে।
বর্তমানে ছোটবড় ১৪১ প্রজাতির মাছ আর ২০৮ প্রজাতির পাখি যার মধ্যে দেশি ১১০ প্রজাতি আর অতিথি ৯৮ প্রজাতি। হাওর পাড়ে হিজল করাচের ডালে ডালে পাখিদের আবাস। তাদের কলকাকলিতে মনে হয় এ এক পাখিদের পৃথিবী। কখনো সাদা বক আকাশে সাদা মেঘের মতো ভাসে কখনো ডাঙ্গায় কানিবক, গুজিবক খাবার খোঁজে। কালিম পাখির ছোটাছুটি আর পানকৌড়ির ডুব সাঁতার, মাছরাঙার ছোটাছুটি পাতিহাঁস আর রাজহাঁসের লুটোপুটি এ এক নিত্যকার খেলা আর শীতের সকাল সন্ধ্যা দেশি পাখির সাথে লাখ লাখ অতিথি পাখির ঝাঁকে যেন নুযে পড়ে আকাশ! এখানকার তাপমাত্রা সহনশীল বলে বাড়ে পাখিদের আনাগোনা। ছোটমাছ আর জলজ উদ্ভদ পাখিদের খাবার। আর পাখিদের বিষ্ঠা মাছের খাবার অন্যদিকে পাখিদের বিষ্ঠার জন্য জলজ উদ্ভিদ বেশি জন্মে। এ এক অভূতপূর্বক ভারসাম্যতা। বিশ্বজুড়ে বিপন্ন প্রায় বিরল প্রজাতির ‘প্যালাসাস ফিশ ঈগল’ উড়ে চলে এ জলাধারে আবাসস্থল খূঁজে পায় করচের বনে, হিজলের ডালে।
মিঠাপানির মাছ হিসেবে টাঙুয়ার হাওরের মাছ সুস্বাদু। মাছের মধ্যে রয়েছে, রুই, কাতলা, চিতল, কালিবাউস, মৃগেল, আইর, বোয়াল, রিঠা, গনিয়া, বাঘাইর, ঘাউরা, কলাবাত, নেফতান ইত্যাদি এমনকি দেশি সরপুঁটি ও বিলুপ্ত মহাশোলও পাওয়া যায় এ হাওরে। এ ছাড়াও নানা প্রজাতির বিরল মাছের আবাস্থল এ হাওর। বৈশাখের শুরুতে পানি ঢুকতে থাকে হাওরে তখন অবাধে মাছ ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে মিশে যায়। নতুন পানি পেয়ে মাছগুলো উজান বেয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে নদীতে যায়। পাটলাই, গজারিয়া হয়ে সুরমায় মেশে এসব মাছ। ডিমওয়ালা মাছের অবাধ বিচরণের জন্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মতৎপরতা বেড়ে যায় বহুগুণে। অক্লান্ত পরিশ্রম আর নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। এ সময় তারা গ্রামবাসীদের নানাভাবে বোঝাতে থাকে। মাইকিং, সভা-সমাবেশ এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা মৎস্য নিধন না করার প্রচারণা চালায়। ডিম ছাড়ার পর চারিদিক সয়লাব হয় পোনা মাছে তখন গরিব জেলেরা শোনে না জ্ঞানের কথা, বোঝে না সভা-সমাবশে তাদের সাথে যোগ হয় লোভাতুর দৃষ্টি। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলরত চোখ ফাঁকি দিয়েও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরে। তাই পুলিশ, বিজিবি বাহিনী ধাওয়া করে দিনরাত, খুঁজে খুঁজে একসাথে জড়ো করে অবৈধ জাল। এভাবে প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। বর্ষায়-বন্যায় প্লাবিত অসহায় জেলেদের জালের বিনিময়ে চাল কর্মসূচি গ্রহণ করে আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রদান করে সচেতনতা রোধে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বর্ষাকালে হাওর এলাকা পুরোটাই ডুবে থাকে বলে গরিব গ্রামবাসীর জীবিকার জন্য হাওরে তৈরী হয়েছে ফসল রক্ষা বাঁধ। হাওরে কি পরিমাণ মাছ রয়েছে তা অনুমান করা এক এলাহী ব্যাপার। তবু ধারণা নেবার জন্য জরিপ কার্য চালানো হয় এ সময়। কিছু জায়গা ঘেরাও করে ছোট ডিঙি নিয়ে দশ-বারোজনের দল গড়ে জাল দিয়ে মাছ ধরা হয়। এসব মাছ ধরার দৃশ্য চিত্রধারণ করে রাখা হয় এ এক মনমাতানো দৃশ্য! বিভিন্ন জরিপে জানা যায় টাঙ্গুয়ার হাওরে বর্তমানে যে মাছ মজুদ রয়েছে তার বাজার মূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।
শীতে স্বচ্ছ পানিতে খালি চোখে দেখা যায় পানির নিচের মাটি আর নরম মাটি ভেদ করে অঙ্কুরিত হওয়া জলজ উদ্ভিদ। মাছের ডুবসাঁতার, উচ্ছ্বাস দেখে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হবে না তাদের সঙ্গ। এ এলাকায় নিয়মিত টহল প্রদানের ফলে বেড়েছে শিক্ষার মান, সচেতনতা বোধ আর নিরাপদ জীবন জীবিকা।
শীত মৌসুমে বাড়ে পর্যটকের ভিড়। তবে শুধু শীত নয় সব মৌসুমে এখানে মাছেদের আর পাখিদের সাথে বিচরণ করে উপভোগ করা যায় এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কোন ভরা বর্ষায় নেমে পড়–ন না বোটিং-এ। নতুন পানিতে মাছেদের মতো, নদীর মতো মনের মাঝেও জলস্রোত বাড়বে, বাড়বে ভালো লাগার উন্মাদনা। শীতে পরিযায়ী পাখিদের দেখতে যেমন আসেন পর্যটক তেমনি গবেষক, পর্যবেক্ষক এ যেন গুণীদের মিলনকেন্দ্র। তাই বাংলাদেশ ছাড়াও আমেরিকা বেলজিয়াম, ব্রিটেনসহ নানান দেশের নানান মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয় হাওরের নির্জনতা। একে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার দাবিতে হয়েছে বিভিন্ন মতবিনিময় সভা। যোগাযোগ সুবিধা বাড়লে এর পর্যটন মূল্য আরো বৃদ্ধি পাবে। কেননা এ হাওরের প্রান্তে রয়েছে চুনাপাথর, খনি প্রকল্প। টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি। এখান থেকে চুনা পাথর পাঠানো হয় ছাতকে, রয়েছে ন্যারো কেজ রেলপথ। এখানে রয়েছে ডাকবাংলো তাই থাকা-খাওয়ার চিন্তা ঝেড়ে বিশ্রাম শেষে ঘুরে বোড়ানো যায় আরো কিছুক্ষণ। হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় ভারত বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের উত্তরের শেষ সীমান্ত মেঘালয় রাজ্যের পর্বতমালা। পাশেই বড়ছড়া নদী, মনাইর টিলা আর জুদুঘেরা দৃষ্টি নন্দন জাদুকাটা নদী। বর্ষা আর শরতে এ নদী ফুঠে উঠে সাগরকন্যার রূপে। জাদুকাটার পূর্বপাশে প্রাচীন লাউর রাজ্য, ঝর্ণা আর শাহ আরেফিনের দরগা ঘুরে আসা যায়। আর সময়টা যদি হয় চৈত্রমাস তবে ধর্মপিপাসুরা ওরস দেখে আসতে পারেন।
আর সময়টা যদি হয় রাসপূর্ণিমার তবে যারা দুবলার চরে রাসপূর্ণিমা দেখার ইচ্ছে জাগান মনে তারা কিছুটা হলেও জোছনা স্নাত হয়ে চাঁদের আলিঙ্গনে টাঙ্গুয়ার ভরা যৌবনের স্রোতে ভেসে ভেসে ফিরে আসুন সুরমার তীরে। টাঙ্গুয়ার আলিঙ্গন থেকে ছাড়িয়ে নিজেকে তৈরী করুন আবার অন্য কোনো অভিসারে যাবার। কেননা এখনি সময় দূর্বার গতিতে ছুটে চলার।


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…

সুন্দরবনের টারজান-২



একেএম শরিফুল ইসলাম শিমুল

১৬ আগষ্ট, ২০১৩। সময় সকাল ৫টা ১০মিনিট। আমাদের জালি বোট খুবই ধীরে ধীরে সুন্দরবনের মূল ক্যানেল থেকে অনেক ভিতরে ছোট খালের ভিতর প্রবেশ করেছে। নিরবতার ঢেউ ঠেলে আমরা সামনে এগিয়ে চলেছি। প্রতি মুহূর্তেই বিপদের আশংকা। শব্দ এখানে নিষিদ্ধ। ছোট এ ক্যানেলের প্রবেশ করার পর সামান্যতম শব্দও আপনার জন্য বিপদের কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে। দু’পারের গাছ দিয়ে ক্যানেলটি যেন একটি ছৈ নৌকার মতো ঢেকে দেয়া হয়েছে। নিরবতার যে একটি হৃদয়হরণ করা সৌন্দর্য্য আছে তা এখানে না এলে অনুভব করা যায় না। ক্যানেলের ভেতর আমাদের জালি বোট প্রবেশ করার পর দেখলাম যে, বোটের দু’পাশ থেকে খালের পার ৫ থেকে ৬ হাত বা তার একটু বেশি হতে পারে। নিশ্চয় অনুমান করতে পারছেন যে, চাইলে বাঘ হালুম করে আপনার উপর লাফিয়ে পড়তে পারে। মনে হয়তো প্রশ্ন আসতে পারে যে, মরার জন্য এতো ভোরে এতো সংর্কীণ খালের ভেতর প্রবেশ করার প্রয়োজন কি। চুপিচুপি এতো ভোরে আমাদের বনের ভেতর আসার উদ্দেশ্য ঘুমভাঙ্গা হরিণদের দেখা এবং রাতে শিকার করে খেয়েদেয়ে ঘুমতে যাওয়ার আগে খাল পারে পানি খেতে আসা বাঘ মামাকে একনজর দেখা। আমরা যখন ক্যানেলের একেবারে মাথায় পৌঁছালাম তখনো আমরা কোন হরিণ বা বাঘের দেখা পাইনি। বাঘের পা’য়ের ছাপ দেখে দেখে এক যায়গায় এসে টারজান বোট থামাতে বললো। বোট থামার পর কিছু কেওড়া গাছের ডাল কেটে আমাদের ঢেকে দেয়া হলো (এ্যাম্বুশ)। জালি বোট থেমে আছে। আমরা এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। এখানে নিয়ম হলো একজন আর একজনের পিঠে পিঠ লাগিয়ে বসা। উদ্দেশ্য, যেদিক থেকেই বাঘ আসুক দেখা যাবে। সময় গড়াচ্ছে, আমরা বসে আছি, চারদিক নিরব, শুধু বাতাসের দমকে গাছের পাতার সাথে পাতার ঘর্ষণের শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। এখানে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দও শোনা যায়। বনের এতো গভীরে গিয়ে নিরবতা, ভয়, ভাললাগা, মুদ্ধতা আর প্রকৃতির কোলে নিজেকে সপে দেয়ার এক অপূর্ব অনুভূতি কাজ করছিল। এখানে কথা বলার নিয়ম নেই, কথা বললে কোন বন্য প্রাণী এখানে আসবেনা তাই পারস্পাকির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ‘ইশারা’। টারজান আমাদের ইশারা করে দেখালো একটু দুরেই একদল হরিণ এসেছে। খাল পারে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে তারা পানি খেতে শুরু করলো। আমি ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তাদের পরপরই এলো একদল বানর। বানর দেখার পর মনে মনে আমি একটু ভয় পেলাম। ওরা গাছের ডালে ডালে যেভাবে ঝুলাঝুলি করছে তাতে আমাদের উপরে যে ডালগুলো আছে সেখানে না চলে আসে। তাহলে সব মাটি। আমি টারজানের দিকে তাকালাম। সে আমার তাকানোতে কি বুঝলো বলতে পারবো না। তবে সে কি বলল তা আমি বুঝতে পারলাম। সে তার হাতটা উঁচু করে আন্ডার আর্মের গন্ধ শুকে দেখালো এবং বোঝালো বানর আমাদের গায়ের গন্ধ বোঝে তাই তারা এখানে আসবেনা। বানর ও হরিণের দল পানি খেয়ে চলে গেলো। বিরক্তিকর প্রতীক্ষার প্রহর। অনেকক্ষণ পর একটি গুইসাপ (অনেকটা কুমিরের মতো দেখতে, ইংরেজীতে বলে মনিটরলিজার্ড) সাতার কেটে খাল পার হয়ে গেলো। এরপর সব হাওয়া। কোন কিছুই আর দেখা যায় না।
সময় বয়ে চলেছে, আমি টারজানের দিকে তাকাই। টারজান আমাকে ইশারায় বলতে চাইলো যে, “ভাই উতলা হলে ওয়াইল্ড লাইভ দেখা যাবে না। ধৈয্য ধরুন, এটা চিড়িয়াখানা না যে, আপনি খাঁচার সামনে গেলেন আর বাঘ দেখে চলে এলেন।” আমি কিঞ্চৎ হতাশ হয়ে গাছের ফাঁক ফোঁকরের ভিতর দিয়ে যতদুর চোখ যায় ততদুর দেখতে থাকলাম। যদিও বাঘ খুঁজতে থাকলাম কিন্তু মনে মনে আশা করছিলাম যেন বাঘ মামা আজ পানি খেতে এখানে না আসে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন আমি ভীতু টাইপের একজন মানুষ। ভাবতে পারেন; তবে আমি বাঁজী ধরে বলতে পারি যে, শুধু আমি না, এখানে আসলে বড় বড় সাহসী মানুষও ভয়ে চুপশে যাবেন। হঠাৎ আমার নাকে একটা গন্ধ অনুভূত হলো। এটা নোনা পানি বা সবুজের গন্ধ না। মৃত-পঁচা গরু, কাদা আর ঘাস একসাথে হলে যে ধরনের তীব্র ঝাঁঝালো দূর্গন্ধ হয় প্রায় সে রকম। আসলে এটা ঠিক বর্ণনা করা যাবেনা। আমার স্ত্রী আমার দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। মানে সেও গন্ধটা পেয়েছে। আমরা দু’জনই টারজানের দিকে তাকালাম। টারজান মাথা দুলিয়ে বোঝালো যে, মামার গায়ের গন্ধ। আমাদের সাথে থাকা স্কট দু’জনকে টারজান ইশারা করলো। তারা দু’জন তাদের বন্দুক রেডি করে যে দিক বাঘের পায়ের ছাপ দেখেছিলাম সেদিকে তাক করে থাকলো। আমার হাতেতো আর বন্দুক নেই তাই আমি আমার ক্যামেরা রেডি করে বসে থাকলাম। আমার বউ যতটুকু আমার কোলের ভেতর আসা সম্ভব ততোটুকু ঢুকে গেলো। আমি কিছু বলতেও পারছিনা আবার সহ্যও করতে পারছিনা। কারন আমার বউ যেভাবে আমাকে জড়িয়ে ধরেছে তাতে বাঘ যদি সামনে আসেও আমি ছবি তুলতে পারবোনা। এমনো হতে পারে ভয়ে বউ আমাকে পানিতে ঠেলে ফেলে দিতে পারে। সেটা যদি সে করেও তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। কারন আমি নিজেও ভয় পাচ্ছি। গন্ধটা আরে তীব্র হলো। এবার টারজান আমার বউয়ের সামনে এসে বসলো আর তার সহকারী আমার বউয়ের অন্য পাশে। মোটামুটি আমরা তিনজন তাকে ঘিরে রেখেছি। ও একটি কথা আপনাদের বলতে ভুলে গিয়েছি, আমরা এখানে আমাদের মেয়ে আদিবাকে আনিনি। টারজান ইশারায় আমার বউকে সাহস দিতে লাগলো আর চুপ থাকার অনুরোধ জানালো। আমি আশেপাশের গাছ গুলো দেখতে থাকলাম। কারন, বাঘ যদি গুলির শব্দে পালিয়ে না গিয়ে আমাদের আক্রমন করে তবে কোন গাছটাতে উঠে আত্মরক্ষা করা যাবে তাতো আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে, নাহলে বিপদের সময় রেসকিউ হওয়া যাবেনা। এমন সময় আমরা হালকা একটা র্র্গগ শব্দ শুনতে পেলাম। অন্য সময় হলে হয়তো শুনতে পেতাম না কিন্তু এখন শুনতে পেলাম কারন, অনেকক্ষণ নিরবতার ভেতর থেকে অনেক হালকা শব্দও কানে অনুভব হচ্ছে। আমার বউ আমার দিকে তাকালো আমিও তার দিকে তাকালাম। দু’জনের চোখেই ভয়। আমার ভয়টা আড়াল করার জন্য আমি ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। মনেমনে বলতে থাকলাম, ‘বাঘ তুই আসিস না, মামা ঘরে ফিরে যা’। কিন্তু মামা আমার কথা শুনলো না। সে তার নামের মর্যাদা রেখেই রাজকীয় ভঙ্গীতে হেলে দুলে খালের পারে চলে আসলো। আমি ফ্রিজ হয়ে গেলাম। নড়াচড়া করা শক্তি যেন একা একাই শেষ হয়ে গেলো। পরিস্থিতিটা এরকম যেন ডিভিডিতে কোন কিছু পজ করে রাখা হয়েছে। কখন যে পজ ছাড়লো তা জানি না। এক সময় আমার মনে হলো একটি একটি দূর্লভ মূহুর্ত। একে অবশ্যই ক্যামেরা বন্ধী করতে হবে। অভ্যাস বসতো রোবোটের মতো ক্যামেরার বডিতে থাকা ছোট লেন্স খুলে ৪০০এমএম প্রাইম লেন্সটি লাগালাম। ট্রাইপডে ভালভাবে ক্যামেরা বসিয়ে ভিউফাইন্ডারে চোখ রেখে ফোকাস নিলাম। অতিরিক্ত টেনশনের করনে এক্সপোজার সেটিং না করেই একটি সার্টার রিলিজ করে ফেললাম। ছবি তুললে যে এতো জোরে শব্দ হয় তা আগে কখনো খেয়াল করিনি। শার্টারের শব্দে মামা একটু বিরক্ত হলেন। ঠিক আমাদের দিকেই তাকালেন। ভয়ের কিছু নেই তিনি আমাদের দেখতে পাবেন না কারন আমারাতো কেওড়া ডালের নিচে এ্যাম্বুশ করে আছি। এর ভেতর আমি এক্সপোজার কন্ট্রোল করে ফেলেছি। মামা আমাদের দিকে তাকানো অবস্থায় আমি আর একটি ক্লিক করলাম। এই ক্লিকটিই ছিল আমার জীবনের সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি এবং সব থেকে বড় ভুল। শার্টারের শব্দ প্রথমবার আমলে না নিলেও দ্বিতীয়বার আর সে অবহেলা করলো না। শব্দ লক্ষ করে লাফ দিলো। বাঘ মামা যে ফিজিক্সে এতো পাকা তাতো আর আমাদের জানা ছিলনা। সে শব্দরে উৎস একদম নির্ভূল ক্যালকুলেশন করে প্রায় আমাদের বোটের উপর এসে পড়লো। আমাদের সাথে থাকা স্কটরাও অত্যন্ত অভিজ্ঞ তাই তারা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করলো। তারা ফাঁকা গুলি ছুড়লো এবং আমি মারা গেলাম। এতো কাছে থাকার পরও মৃত্যুর সময় আমি আমার বউকে বলতে পারলাম না, “জান আমি তোমাকে ভালবাসি।” মৃত্যুর পর আখেরাতে আমি যখন পূনঃরবার জীবিত হলাম দেখলাম আমাকে ফেরেস্তারা কোন প্রশ্ন করছেনা, প্রশ্ন করছে টারজান। সে বলছে, “এখন কেমন লাগছে শিমুল ভাই?” আমি চোখ ঘুরাতেই দেখলাম আমার বউ বসে আছে। উঠে বসতে গেলাম দেখলাম মাথা তুলতে পারছিনা। টারজান বললো, “শুয়ে থাকেন, আপনার মাথায় আঘাত লেগেছে। আপনাকে পেইন কিলার ইনজেক্ট করা হয়েছে, দু’তিন ঘন্টা রেস্ট নিলে ব্যাথা ঠিক হয়ে যাবে।” আমি বোবা চোখে তাকিয়ে থাকলাম। কিন্তু সে চাহুনিতে অনেক প্রশ্ন। টারজান বললো, “মামা লাফ দিয়ে এসে আপনার উপরে যে ডালটা ছিল সেটার গেড়ায় পড়েছিল। মামার চাপে ডালটা জোরে আপনার মাথায় লেগেছে। মাথায় অনেক জোরে বাড়ি লাগায় আপনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন।” আমি কোন কথা বলতে পারলাম না। আমার চোখ দিয়ে এমনিই নোনা জলের ধারা বইত লাগলো। আমি বেঁচে আছি। বেঁচে থাকাটা কত দামী তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করলাম। আমি আমার বউয়ের দিকে ডান হাতটা বাড়িয়ে দিলাম। বউ আমার হাত ধরে পাশে বসলো আমাদের কিছু বলতে হলো না। আমরা দু’জনেই বুঝে নিলাম আমরা দু’জন দু’জনকে কতখানি ভালবাসি। (চলবে) লেখক: ব্রডকাস্ট ইঞ্জিনিয়ার ও গণমাধ্যম প্রশিক্ষক।


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…