একটি হাসির কান্না



একটি হাসির কান্না

-মুহাম্মদ সাজিদুল হক

সেলো মেশিনের গগনবিদারী আর্তচিৎকারের সাথে সাথে মুহূর্তকয়েকের মধ্যেই পুরো পাইপের মুখ ভরে বেরিয়ে আসে স্বচ্ছ টলমলে পানির অবারিত স্রোতধারা। অল্পসময়েই নলের মুখ বরাবর অগভীর নালাটি সফেদ সাদা ফেনায়িত পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। নালার চারধার ছুঁই ছুঁই পানি এবার পথ করে নেয় ভেতরবাড়ির উঠোন বরাবর। দ্রুত ধাবমান পানির রেলগাড়ি গড়াগড়ি করে এগিয়ে চলে সমুখপানে। চলার পথে ভাসিয়ে নিয়ে চলে আম-কাঠালের খসে পড়া পাতা, শুকনো খড়কুটো। আর ভাসিয়ে নিয়ে যায় দুরন্ত বালক জায়েদের কৌতহলী, পুলকিত ছটফটে মন।
জায়েদ তার দাদাবাড়ির ছোটকোণায় দাঁড়িয়ে এতক্ষণ ঘটে চলা এসব ঘটনার পূর্বাপর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল। এখন তার দাড়ানোর ফুরসত নেই। সে নালা উপচে বেরিয়ে যাওয়া পানির প্রথম স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে ছুটে চলেছে। কখনো স্রোতের মুখে দাঁড়িয়ে পেছনের নালার শুকনো অংশ বরাবর পিছিয়ে যেয়ে পানিকে স্বাগত জানাচ্ছে আবার কখনোবা নিজেই পাতা বা খড়কুটো ছেড়ে দিচ্ছে পানির মুখে নৌকা বানিয়ে। এভাবে সে সবুজ ধানক্ষেতের আইল কেটে বানানো পানি প্রবেশের মুখ পর্যন্ত পৌছে যায়। অপেক্ষা করে তার খড়কুটো আর ঝড়াপাতার নৌকো কিভাবে কতদূর পর্যন্ত এগিয়ে যায় তাই দেখতে। সদ্য যৌবনা সবুজ ধানগাছগুলোর পা ধরাধরি করে পানির প্রবাহের সাথে জায়েদের নৌকাগুলো বেশ দূরঅবধি পৌছে যায়। তারপর হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় সবুজ ধানের গহীন সজীবতায়।
সূর্য ততক্ষণে ধীরে ধীরে তার মৃদু-কোমল তুলতুলে আভাকে তাতিয়ে তুলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। জায়েদ আর অপেক্ষা করেনা। সে ফিরে আসে পানির উৎসমুখে। সে অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে রয়, পানি যেন আর পাইপের মুখে ধরেনা। বলকে, ছলকে, ঝলকে সমানে ফেনিয়ে তুলেছে পুরো নালাটিকে। অগভীর কাচা জলাধারটি ছিটকে উঠা পানিতে তার চারধার সহ ভিজে উঠেছে। এরই মধ্যে বিড়লের নাদুস-নুদুস বাচ্চাটি নালার ধার বরাবর মায়ের সাথে দৌড়তে যেয়ে হঠাৎ পনিতে চুবুনি খেয়েছে। প্রতিকূলতায় অনভ্যস্থ বাচ্চাটি সামলে চলতে না পেরে পুরো নাকাল হয়েছে। অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আগেই দাদী ওকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে এসেছে।
জায়েদ এবার ধীরে ধীরে পানির ড্রেন বরাবর সামনে এগোয়। উৎসমুখে ফুলে ফেপে উঠা পানির স্রোত ক্রমস কমতে থাকে সামনের দিকে। আরও সামনে পানি পুরো স্থির স্থবির। পুরো ড্রেন ভরে রয়েছে। শুধু কাচা নালাটির পাশ দিয়ে পুষ্ট হয়ে গজিয়ে উঠা ছোট-বড় আগাছাগুলোর স্রোত বরাবর হেলে যাওয়া বুঝিয়ে দিচ্ছিল পানি বহমান। এটা জায়েদকে খুব মুগ্ধ করে। ও এবার এগিয়ে যায় বাহির-বাড়ির গোয়াল ঘরের কোণায়। সেখানে লাউয়ের মাচা থেকে চুপিসারে সংগ্রহ করে একটি লম্বা পাটকাঠি। ওটা দিয়ে সে ড্রেনের পানিতে নাড়িয়ে দিচ্ছিল আর পানিতে তৈরি হওয়া মৃদু আলোড়ন যেন তার মনে অনুভব করছিল। তার খুব ইচ্ছে করে পানি ছুয়ে দেখতে। কিন্তু তৎক্ষণাত আম্মুর বারণ আর চোখ রাঙানির ভয় ওর মনের বিরুদ্ধে এসে তাকে শাসন করে। সে নিজেকে সামলে নেয়। এবার সে মাটিতে খসে পড়া লাল টুকটুকে একটি কঁঠাল পাতাকে কুড়িয়ে নেয়। ওটাকে ড্রেনের ঢাল বরাবর পানির দ্রুত বহমান স্রোতে ছেড়ে দেয়। ঢাল পার হয়ে দ্রুত ওটা স্থির পানির স্রোতে চলে আসে। ভাসতে থাকে আর জায়েদ ওটাকে পাটকাঠি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে করতে সামনে এগোয়। কখনো আবার ঘাসে আটকালে কাঠি দিয়ে ওটাকে মুক্ত করে দেয়। এভাবে ধানক্ষেতের কাচা আইল বরাবর সে তার ইচ্ছে ঘুড়ি উড়াতে উড়াতে এগুতে থাকে।
দুরন্ত জায়েদের উড়ন্ত মনের লাগামে টান পড়ে যখন প্রকৃতির মাঝে মগ্ন জায়েদ হঠাৎ সরু আইলের পিচ্ছিল পথে ভারসাম্য হারায়। পুরো ড্রেনের পানিতে চিৎপটাং।
এই রে পুরো খবর আছে- হাফপ্যান্ট যে ভিজে শেষ- সেন্ডেল ও তো কাদায় আটকে আছে-
এবার?
আম্মু বলেছিল ঠান্ডা লাগানো যাবেনা। এমনকি না বলে বাইরে বের হওয়াও নিষেধ। নইলে পরের বার শীতে দাদাবাড়ি আসা বন্ধ।
এখনতো ও ধরা পরে যাবে-
কি করবে ভেবে পায়না জায়েদ। আবেগে দুচোখ ছাপিয়ে পানি চলে আসে।
কাদায় আটকানো সেন্ডেল তুলতে যেয়ে ফিতে খুলে গিয়েছিল। অনেক কষ্টে আব্বুর কাছ থেকে রপ্ত করা বুদ্ধিটা কাজে লাগিয়ে- পাটকাঠির টুকরা দিয়ে সেন্ডেলের ছিদ্র বরাবর ফিতেতে জোড়ে চাপ দিয়ে সেটা ঠিক করে নেয় সে।
ধরা পড়াতো যাবেনা- বুদ্ধি একটা বেড় করতেই হবে- কিন্তু উপায়?
আস্তে আস্তে ড্রেনের পানি দিয়ে পায়ের কাদা ধুয়ে নেয় সে। হাফপ্যান্ট তার ছোট হাতে যতটা পারে চিপে কচলিয়ে পানি বেড় করে দেয় সে। এবার চলে আসে ওদের বাঁধানো পারিবারিক গোরস্থানের কড়ই গাছ তলায়। শুকনো বাতাস বইছিল সেখানে। ঝিরঝির বাতাসে বৃষ্টির মতে খসে পড়ছিল বৃদ্ধ কড়ই পাতাদল। জায়েদ এবার বুদ্ধি খুঁজে পায়। বাতাসে দাড়িয়ে রোদ বরাবর পেছন ফিরে মাথাটা মাটির দিকে নীচু করে আরও খুব করে পেছনটা তুলে ধরে রোদের দিকে। ধর্য ধরে ১৫-২০ মিনিট একটু পর পর সে এভাবে রোদে প্যান্ট শুকোয়। প্যান্টটা বেশ শুকিয়ে গেলে এবার ওর নিজের বুদ্ধির ওপর আস্থা তৈরী হয়। খুব গর্ব বোধ করে নিজের মনে। আর ভাবে আজ বেঁচে গেলাম।
সেই সকালে খাঁটি সরিষা তৈলে মাখানো মুড়ি আর টোস্ট খেয়ে বেড়িয়েছিল। এখন প্রায় দশটা। আম্মু নিশ্চই ভাত খেতে খুজে বেড়াচ্ছে ওকে। নিজেও ক্ষুধা টের পায়। অগত্যা বাড়ির পথ ধরে ও। বেচে যাওয়ার ব্যাপারে খুব আতœবিশ্বাসী হলেও, ফিরতে দেরী হওয়াতে সে মায়ের চোখ এড়িয়ে সোজা দাদীর কাছে চলে আসে।
দাদী ক্ষুধা পেয়েছে-
খুব আদরে দাদী তাকে রান্না ঘরে বড় পিড়িতে বসিয়ে গরম ভাত, মুরগীর ডিম ভর্তা আর লাউ দিয়ে রান্না করা বড় শিং মাছের তরকারি দিয়ে খেতে দেয়। মা কোথায় যেন খুব ব্যাস্ত ছিল। তাই খাওয়া শেষে দাদীর অনুমতি নিয়ে আবার ছুট।
সারাদিন পাড়া দাপিয়ে যখন গোছলের জন্য ডাক পড়ে তখন বাড়ি ফিরল জায়েদ। একান্ত অনিচ্ছায়, বারেক ভাইয়ের জোড়াজোড়িতে। বারেক ভাই ওদের বাড়ির বছরের চুক্তির কাজের লোক। জায়েদের খুব পছন্দের। কারণ সব দুরন্তপানা আর আবদারের অনেক বড় আশ্রয়স্থল হল এই বারেক ভাই। বারেক যখন বলল আম্মু খুব রেগে আছে, তখন আর দেরী করার সহস করলনা জায়েদ। চুপিসারে বারেক ভাইয়ের হাত ধরে আম্মুর সামনে এসে দাঁড়ায়। সামনে আসতেই আম্মুর চোখ চলে যায় ওর প্যান্টে শুকিয়ে উঠা হালকা ছোপ ছোপ কাদার দাগের দিকে।
আম্মু জিজ্ঞেস করে, জায়েদ তুমি কি পানি ধরেছ? জায়েদ উত্তর দেয়, না তো আম্মু।
আর কিছু বলেনা আম্মু। ভালভাবে শরীর রগড়ে গোসল দিয়ে দেয় আম্মু। তোয়ালেতে শরীর মুছিয়ে দেয়ার সময় সে আম্মুর শাড়ির আচলে খেলে চলে। শরীর মুছিয়ে উঠোনের রোদে জলচকিতে নিয়ে আসে আম্মু। তারপর শরীরে তেল লাগিয়ে, মুখে ক্রীম দিয়ে দেয়। মাথা আচড়াতে আচড়াতে আম্মু বলে-
জায়েদ আম্মুর কাছে কি মিথ্যে বলতে হয়, সোনা?
যায়েদ কিছু অনুমান করতে পারেনা। ফেল ফেল করে তাকায়। হঠাৎ তার মাথায় আসে ড্রেনের পানিতে পড়ে যাওয়ার কথা। সে সচকিত হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে-
তুমি কি করে বুঝলে আম্মু? আম্মু উত্তরে বলে-
আম্মুর কাছে কোন মিথ্যেই লুকনো যায়না বাবা, বলে মুচকি হাসে।
২৬ বছর আগের সেই পরম নির্ভরতা, সকল ভুলে-ত্র“টির শেষ আশ্রয়স্থল মায়ের চিরসুন্দর মমতাভরা মৃদু হাসিটির কথা মনে পরে জায়েদ আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনা। তার চোখের পানি গাল গড়িয়ে ঝড়ে পড়ে তার কোলে শুয়ে থাকা অসুস্থ মায়ের মুখে। নিয়তির অঘোম নিয়মে জায়েদের মা আজ বার্ধক্যজনিত রোগে শয্যাশায়ী। ৭ দিন যাবত হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তারের ভাস্যঅনুযায়ী তার মায়ে রোগমুক্তি এখন অনেকগুলো যদির উপর নির্ভরশীল। সময়ের সাথে সাথে মায়ের অবস্থা ঝুলন্তভাবে প্রতিনীয়ত পরিবর্তনশীল। জায়েদ সবই জানে। সে আরও জানে মাও তার নিজের অবস্থা আঁচ করতে পেরেছে। জায়েদ পরম মমতায় তার মায়ের মুখটি কোলে তুলে নেয়। মায়ের রোগাক্লিষ্ট মুখের দিকে মমতাভরা চাহনি নিয়ে তাকাতেই পেছনের দিনগুলোর কথা মনে পড়তে থাকে ওর। আর তার বুক ফাটা আবেগে জন্ম নেয়া অশ্র“ অসাবধানতাবশত ঝড়ে পড়ে তার মায়ের মুখে। যা তার অসুস্থ মায়ের বেদনাজড়ানো অবচেতন মনকে সচেতন করে তুলে। ছেলের মনের না বলা বেদনার করুণ সুর মায়ের মনকে আন্দোলিত করে। তাই ছেলের কষ্টকে সহনীয় করার অদম্য ইচ্ছা, যেন মায়ের রোগজর্জড়িত দুর্বল মনে শক্তি যোগালো। রোগাক্লিষ্ট, পরিশ্রান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল-
বাবা যায়েদ কি হয়েছে- কষ্ট পাচ্ছ কেন?
জায়েদও মায়ের মনে সাহস যোগাতে নিজেকে যথাসম্ভব শক্ত রেখে বলে-
কই আম্মু কিছু হয়নিতো- আম্মু বলে- আম্মুর কাছে কোন মিথ্যেই লুকনো যায়না বাবা-
বলে তার রোগাক্লিষ্ট যন্ত্রণাকাতর মলিন মুখটি আপ্রাণ চেষ্টায় প্রসারিত করে সেই পরিচিত নির্ভরতার মুচকি হাসি হাসতে।
লেখক -মুহাম্মদ সাজিদুল হক
e-mail: msajidul.khan@yahoo.com


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…

উপলব্ধি



-মুহাম্মদ সাজিদুল হক

শোনা গেল এক আধ্যাতিক পুরুষের আবির্ভাব হয়েছে। প্রাত্যহিক জীবনের অনেক জটিলতার অনেক সহজ-সরল বিশ্লেষণ ও পরিচ্ছন্ন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে তার কাছে। বেশ কিছু লোক এরইমধ্যে তাকে খুব ভালভাবে মেনে নিয়েছে। মানুষজনের সাথে তাঁর সম্পর্ক কোন বস্তুগত আদান প্রদানের উপর গড়ে উঠেনি। শুধুমাত্র মনের ভেতরকার কিছু গুঢ়ূরহস্যের অদ্ভুত সুন্দর বাস্তবিক ব্যাখ্যা লাভই সাধারনের প্রাপ্য। সচারাচর চোখে পড়া জন মানুষের জামায়েতে তাঁর দেখা মেলেনা। হঠাৎ করেই সাধারণের মাঝে থেকেই অসাধারণের মত অস্তিত্ত্বের জানান দেন। লম্বা চৌরা গঢ়নের শ্যাম বর্ণের পেটানো দেহের সাথে মানানসই লম্বাটে মাথার মানুষটির নিরহংকার বিনয়ী চলাফেরা অনেকের দৃষ্টি প্রায় এড়িয়ে যায়। সর্বদাই যেন কোন ভাবনায় ডুবে রয়েছেন তিনি। অপ্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ যটতা পারেন এড়িয়ে চলেন তবে চোখাচোখি হলে স্বভাবসুলভ সরল চাহনির, মার্জিত হাসির শান্তিপূর্ণ অভিনন্দন বিনিময় করতে ভুলেননা কখনোই।
অফিসপাড়ার মসজিদটিতে তার নিয়মিত যাতায়াত। নামাজের বিরতিতে দৈনন্দিন রুটিনের একটি হচ্ছে বন্ধু-কলীগদের ইসলামের দাওয়াত দেয়া। শুধু নামাজ নয় বরং পরিপূর্ণ ইসলামকে অন্তরে ধারণ করতে উৎসাহ দেন। তাদের উপলদ্ধিতে এই বোধকে শাণিত করতে ইসলামের সমৃদ্ধ ইতিহাসের পাশাপাশি নিজের জীবনের অতীত বাস্তবতার উদাহরণ তুলে ধরে তার বর্তমান অবস্থানের ব্যাখ্যা করেন। তবে সবাইকে তাদের ইচ্ছার বিপরীতে দাড় করিয়ে নয় বরং উক্ত ব্যক্তিটি যটতুকু সানন্দে গ্রহণ করতে পারেন ঠিক ততটুকুই ব্যক্ত করেন। কেউ আগ্রহ না দেখালে তার বিরক্তির উদ্রেক করেননা। কিন্তু উনার বলার মাঝে এমন কিছু থাকে যা লোকগুলোর মনে একটি বাড়তি উন্মাদনা তৈরী করে তাদের কৌতহলী করে তুলে।
যেমন পুরনো কথাতেই নতুনত্ব এনে সে বলে প্রত্যেক মানুষের দুনিয়ার জীবনে শয়তান নামক একটি ভাইরাস ইনস্টল করা থাকে। আর মানুষের ইহজীবন আর পরজীবনের সফলতার জন্য অবশ্যই কোরআন নামক সফট্ওয়ারটি সর্বোপরি দেহ ও মনে ধারণ করতে হবে। এবার যতক্ষণ শয়তান থাকবে ততক্ষণ কোরআন ধারণ করার উপযোগী কনফিগারেশন শরীর ও মন পাবেনা। তাই শয়তানকে দূর করতে হবে। কিন্তু কিভাবে?
তার ব্যখ্যা হলো- আমরা যদি নিজের লাভের জন্য অন্যায়ভাবে কাউকে ঠকাই বা কাউকে মিথ্যা বলি তবে অবশ্যই আমরা অপরাধী। এবার এই অন্যায়কারী যদি প্রকৃত ইসলাম তথা কোরআন আর সুন্নাহকে পরিপূর্ণভাবে মনে ধারণ করতে চায় তবে তার নিজেকে সর্বাগ্রে প্রস্তুত করতে হবে। প্রস্তুতিপর্বে তার পূর্বাপর অপরাধসমূহ স্বীকার করতে হবে এবং যতটা পারা যায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যাক্তির নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। আর আমি যখন অপরের কাছে ভুলের জন্য ক্ষমা চাইব তখন একটি বড় বাঁধার সম্মুখীন হব। সেটি হচ্ছে আমার অন্তরের লালিত অহংবোধ। আমি ভাবব-
আমি কি তার কাছে ছোট হব? সে তো আমার সব অপকর্ম জেনে যাবেÑ সে যদি আমাকে শাস্তি দেয়Ñ সবাই জানলে তো সমাজের কাছেও আমি অপদস্ত হবÑ
হ্যাঁ সবই সত্যি কাথা। কিন্তু ক্ষমা আমি ব্যক্তির নিকট চাইলেও আমার উদ্দেশ্যতো আমার আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর এটা ভাবতে পারলেই কাজটি অনেক সহজ হয়। আল্লাহর কাছে আতœসমর্পণ করে ভবিষ্যতে আর অন্যায় না করার মানসিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারলেই প্রাথমিক পর্ব শেষ। এবার আমি আমরা সকল প্রকার শয়তানি ভাইরাস মুক্ত হয়ে কোরআন নামক এন্টিভাইরাস ইন্সস্টলেশনের মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে সফলতা পেতে পারি।
বাহ্ খুব আধুনিক আর বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা। আমার খুব ভালো লাগলো শুনে। ভাবলাম উনার সাথে একদিন দেখা করব। যে ব্যাক্তি তার পূর্বাপর সকল অন্যায়ের তালিকা করে সেই তালিকা অনুযায়ী বান্দার নিকট ক্ষমা আদায়ের জন্য ঘুরে বেড়ায় শুধু আল্লহর সন্তুষ্টির জন্যÑ তার বাস্তব উপলব্ধিটা নিশ্চই আরও পাকাপোক্ত। তার কাছ থেকে হয়তো আরও কোন অনুকরণীয় পথের সন্ধান পাওয়া যাবে। অফিস যাইÑ অফিস শেষ করিÑ আবার বাসায় ফিরি কিন্তু সেই ব্যক্তিটির সাথে সাক্ষাত করা আর হয়না।
একদিন প্রচন্ড জ্যামে পড়ে নেমে গেলাম প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে। হাতে বেশ সময়ও ছিল তাই ভাবলাম হেটে হেটেই অফিস পৌছাব। হাটছিলাম আর আর ভাবছিলাম। অনেক ভাবনার ভিতর সেই ধর্মোপলব্ধির বাস্তব উদাহরণ ভদ্রলোকও চলে এসেছিলেন আমার মানসপটে। এমন সময়Ñ “আচ্ছলামু ওয়ালাইকুম, কোমল কণ্ঠের স্পষ্ট উচ্চারণে আমি থমকে তাকালাম। উত্তরে ওয়ালাইকুম আস্সালাম বলে আমি অপরিচিত ব্যক্তিটির সাথে দৃষ্টি বিনিময় করলাম। কিন্তু সামনের মুখখানি তখনো মুচকি হাসিতে প্রসারিত। হেসে বললÑ
কী দাড়ি রাখাতে চিনতে পারছনা? নাকি দেখা হওয়ার গ্যাপটা অনেক দিনের হয়েছে তাইÑ
আমি ততক্ষণে খুব পরিচিত কণ্ঠের উত্তাপ অনুভব করলাম। এতো আমাদের আহাম্মেদ। বন্ধু মহলে পরিচিত নাম “পাকু”।
আমি উত্তেজিত কণ্ঠেÑ আরে আহাম্মেদ তুই? হ্যাঁ আমি। কেমন আছিস? আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। কি দোস্ত ডিউটিতে আছিস?
না দোস্ত চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছি। বলে আমার হাত ধরে বলল চল সামনে যেতে যেতে কথা বলি।
চা খেতে খেতে জানালো অন্যায়ের সাথে অপোষ করতে পারবনা। তাতে যে ধরনের চাপই আসুক আমি মেনে নিতে প্রস্তুত। আমর উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি, মানুষের নয়। এরপর আমার ধর্মীয় আমলের খবর নিল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সাথে সাথে কুরআন বুঝার জন্য তাগিত দিল। এরপর বলল অতীতে আমার কিছু ভুল ছিল। আমার যতটুকু মনে পড়ে তার তালিকা অনুযায়ী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ভুলগুলোর জন্য তাদের দ্বারে দ্বারে ক্ষমা প্রর্থনা করে বেড়াচ্ছি। আমার আরেকটি বড় ভুল ছিল। যার উপর আমার চাকরি হয়েছিল। আমি মিথ্যে বলে চাকরি নিয়েছি। আমি অনুতপ্ত তাই এটা স্বীকার করতেই এখানে এসেছি। যেকোন ধরনের পরিণতির জন্য আমি প্রস্তুত। আমার প্রয়োজন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি।
এমনসময় আমার হঠাৎ মনে হলো একসময়ের ডানপিটে স্বভাবের সেই আহম্মদ-ই তো আজকের সেই বাস্তব ধর্মোপলব্ধিসম্পন্ন আধ্যাতিক পুরুষ নয়।

লেখক -মুহাম্মদ সাজিদুল হক
ই-মেইল:msajidul.khan@yahoo.com


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…

আমার নানা



আবু সাইদ

গ্রীস্মের ছুটি হলেই নানা বাড়ি যাওয়ার একটা লক্ষ থাকে। কিন্তু আমার বিষয়টি ব্যতিক্রম। কারণ আমার নানা বাড়ী আমাদের বাড়ির পাশেই একই গ্রামে কাছাকাছি। একটা নিদিষ্ট সময় করে না গেলেও প্রায় সব সময় নানাবাড়িতেই সময় কাটতো। স্কুলের সময় স্কুলে যেতাম। বাকি সময়টা নানাবাড়ি কাটাতাম। আমার মা খালামনিরা চার জন। তার মধ্যে আমার মা বড়। যার কারণে মামা, খালামনি, নানা নানীর নিকট ছিলাম আমি সবার প্রিয় আদরের। ছোট কাল থেকেই মাতাব্বর টাইপের কথা বলার কারণে নানা আমাকে অনেক বেশি ভালবাসতেন। নানা আমাকে তার নিজের অন্যান্য নাতী নাতনীদের থেকে বেশী আদর করতেন।
আমি ছোট কাল থেকেই পড়াশোনায় বেশী যতœশীল ছিলাম, যার কারণে তিনি আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। যদিও আমার নানা ভাই শিক্ষিত ছিলেন না, তবুও বংশীয় মর্যাদায় তালুকদার হওয়ার কারনে এলাকার অনেক শিক্ষিত জ্ঞানীগুনী এবং প্রভাব শালী লোকদের সাথে উঠাবসা করতেন। আমার নানা অত্যান্ত সহজ, সরল, ছিলেন। কোন হিংসা বিদ্রেষ তাকে কোন সময় স্পর্শ করে নি। তার মনে যে হিংসা ছিলনা, একটি ঘটনায় তার প্রমান পাওয়া যায়। গ্রাম দেশে টুকটাক ঝগড়া বিবাদ আশেপাশের মানুষের সাথে অনেক সময় হয়। অনেক মানুষ এটাকে অনেক বড় করে দেখেন । কিন্তু আমার নানার ক্ষেত্রে ভিন্ন। একদিন একজনের সাথে ঝগড়া বা কথা কাটাকাটি হয়েছিল সকাল বেলা। অথচ বিকাল বেলা বাজারে থেকে একই নৌকায় আসার সময় যার সাথে ঝগড়া হয়েছিল সে কথা প্রসঙ্গে বললো, বাজার থেকে মরিচ আনতে মনে নেই । নানা সেই কথা শুনে বললেন আমি এক কেজি মরিচ এনেছি, আপনী আধা কেজি নিয়ে যান। এই কথা শুনে লোকটি খুশিতে নানা ভাইয়ের নিকট ক্ষমাচেয়ে কোলা কুলির মাধ্যমে সব দুঃখ ভুলে গেলো। নানা ভাই তার এই আচরন দিয়ে আমাদের শিখিয়ে গেছেন হিংসা করা ভাল কাজ নয়। যে হিংসা করে মহান আল্লাহ তাআলা তাকে পছন্দ করেন না। আমাকে নানা ভাই যে কি রকম ভালবাসতেন তা লিখে শেষ করার মত নয়।
আমাদের গ্রামে শুক্রবার এবং মঙ্গলবার দুইদিন হাঁটবার নানা হাটে যেতেন আমাদের বাড়ি হয়ে যাওয়ার সময় বলে যেতেন, নানা ভাই আজকে কাঁঠাল আনবে। নদটির পাড়ে নৌকা ঘাটে বসে থাকতাম কখন নানা ভাই আসে। মা তো আবার যেতে দিবে না। তাই মাকে ফাঁকি দিয়ে যেতে চেষ্টা করতাম নানা ভাইয়ের সাথে আমার ছোট খালামনি সেলিনা বয়সে কম হওয়ার কারণে অনেক সময় নৌকা থেকে নামিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু নানা ভাই আদর করে নিয়ে যেতো এবং খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার বাড়িতে পৌছে দিতো মহান আল্লাহ আজ আমাকে এ,বি, এস পাশ করার সুযোগ দিয়েছেন। যে স্বপ্নটা নানা ভাই মনে মনে পোষণ করতেন যে আমার বড় মেয়ের বড় ছেলে এক সময় বাংলাদেশের একজন গ্রাজুয়েট নাগরিক হবে। আজ আমি গ্রাজুয়েট পাশ করেছি ছোট্র একটি চাকরীও করি । ঈদ আসলে মনে হয় নানা ভাইয়ের জন্য নতুন পাঞ্জাবী কিনে তাকে উপহার দিতে । কিন্তু এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তিনি চলে গেছেন। এক অচীন দেশে । যে দেশ থেকে কেউ কোনদিন ফিরে আসবে না। তাই মহান প্রভুর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার নানা ভাইকে জান্নাতুল ফেরদাইস নাসির করেন (আমিন)।


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…

একটি চঠিি এবং অতঃপর



-মুহাম্মদ সাজিদুল হক
য় দেড় যুগ আগের কথা বলছি। মোবাইল মেসেজের পেরন তখনও হয়নি। নিত্য প্রয়োজনীয় দূরবর্তী যোগাযোগের একমাত্র বিশ্বস্ত মাধ্যম তখন চিঠিপত্র। বাবার কাছে টাকা চাহিয়া পত্র বা বন্ধুর নিকট কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পত্র লিখা তখন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রতি বছরের প্রায় নির্ধারিত প্রশ্ন ছিল। ঘটা করে আমরা তখন সুন্দর করে পত্র লিখা শিখতাম। কোন জরুরী সংবাদ অথবা কোন হৃদয়ে ঝড় তোলা আবেগ কলমের কালি দ্বারা কাগজে লিপিবদ্ধ অবস্থায় খামে বন্দি হয়ে ঐ ডাকপিয়নের হাত দিয়েই বিলি বন্টন হতো। তাই ডাকপিয়ন তখন অনেক কাঙ্খিত ব্যক্তি হিসেবে পোস্টঅফিস টু প্রাপকের বাড়ি দাপিয়ে বেড়াত।
জায়েদ তখন সবে এইচ, এস,সি পাশ করেছে। নামকরা সব সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজে কোন একটিতে তার পছন্দের বিষয়ে সুযোগ করে নিতে। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তখন সবে তের টি। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় স্বভাবতই ভাল ছাত্রদের কাছে ততটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। জায়েদ বেশ ভালমানের ছাত্র। এস,এস,সি তে উপজেলায় প্রথম। ৮৫০ এর উপর নম্বর। রেসিডেন্সিয়াল থেকে এইচ, এস, সি। তার লক্ষ্যটাও তাই প্রথম সাড়ির যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালমানের সাবজেক্ট।
এবারের মিশন ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তখন যমুনা সেতুর নাম গন্ধও নেই। তাই টাঙ্গাইল থেকে লঞ্চ/ফেরীতে যমুনা পেরিয়ে কষ্টসাধ্য স্মৃতিবিজড়িত এক যাত্রা ছিল ওটা। ফেরীঘাট কখনও এখানে তো কিছুদিন পর আবার অন্যখানে। তপ্ত বালি পেড়িয়ে এলোমেলো প্রায় ১/২ কিলোমিটারের রাস্তা। সব কষ্ট সহ্য করে বন্ধুদের নিয়ে হৈ হুল্লোর করে বেশ ভালোভাবেই পরীক্ষাপর্ব সম্পন্ন করেছিল। ঘটনার শুরু ফেরার পথে। প্রচন্ড ভীর সামলে ওর জায়গা হয়েছিল লঞ্চের ছাদে। দুপুর ১২ টার সূর্য স্বভাবতই খুব তেতে ছিল। নাভিশ্বাস উঠা গরমে সবার স্বস্থি ছিল নদীর খোলা হাওয়া আর ছাউনীর নীচে ছায়াযুক্ত জায়গাটুকু। জায়েদ ছাদের রেলিং ঘেঁষে পা ছড়িয়ে বসেছিল। ট্রাভেলিং ব্যাগটাকে পেছনের দেয়ালের সঙ্গে দাড় করিয়ে পিঠটা তাতে ঠেস দিয়ে জুতসই অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিল ও। পরনে ছিল নীল স্কীনটাইট জিন্স আর লাল, সাদা ও বেগুনী রংয়ে আড়াআড়ি স্ট্রাইপের হাফহাতা পলো। চোখে ছিল ব্ল্যাক সানগ্লাস। বেশ হিরো হিরো ভাব নিয়ে মাথার নীচে হাত রেখে রেলিং-এর ফাঁক গলে পানির সমতলে আকাশ দেখছিল।
আশেপাশে মানানসই কোন হিরোইন চোখে না পরলেও পাশেই চারজনের মেয়েদের দলের একটা তুমুল আড্ডা চলছিল। ওরা মাঝেসাঝে জায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণমূলক কথা বললেও তা জায়েদের সঙ্গে কথা শুরু করার জন্য যথেষ্ট ছিলনা। জায়েদ অবশ্য খুব বেশী একটা টানও বোধ করছিলনা। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতিটা পাল্টে গেল। বেশ দূর থেকে ঐ দলের সাথে আরেকটা মেয়ের চোখাচোখি হলো। ওদের উষ্ণ ভাব বিনিময়ের পর মেয়েটা এসে যোগ দিল ওদের দলে।
আরে এটা তো সেই মেয়েটা- কাঠের পাটাতন বেয়ে লঞ্চে উঠার সময় জায়েদ সাহায্য করেছিল মেয়েটিকে উঠতে- মেয়েটিও সানন্দে নির্ভর করেছিল ওর উপর- তারপর দুজন দুদিকে চলেগিয়েছিল।
ভাগ্য সহায় থাকলে যে সবই সম্ভব তাই আরেকবার প্রমাণ হলো। তখন মনে তলিয়ে যাওয়া অনেক সম্ভাবনাকে আবার উসকে দিল বর্তমান পরিবেশ। জায়েদ সুযোগের অপেক্ষায় থাকল। এরইমধ্যে কয়েকজন ফেরিওয়ালা এসে ঘুরে গেছে। মেয়েদের দলটি বাদাম কিনে বাদামবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। লঞ্চটির দোল খাওয়া ওদের আড্ডাবাজিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করছিল। জায়েদ এবার অসহায় বোধ করছে। চেষ্টার তরী পাড়ে ভিরছিলনা তাই আরও খারাপ লাগছিল। এবার জায়েদ কিছুটা আস্থা খুঁজে পেতে চায় চানাচুরওয়ালার কাছে। গলা বাড়িয়ে হাক ছাড়ে-
এই চানাচুর- চানাচুরওয়ালা চলে আসে। আমাকে ৫ টাকার দাও-
চানাচুর নিয়ে টাকা দেয়ার সময় ঘটে গেল কাঙ্খিত ঘটনাটি। ঐ মেয়েটির সাথে চোখাচোখি হয় জায়েদের। মেয়েটি জায়েদকে অবাক করে দিয়ে পরিচিত হাসি বিনিময় করে। জায়েদ কি করবে এবার বুঝতে পারেনা তাই সঙ্গত কারণেই আবার নীরবতা।
ধুর তাল কেটে গেল এবার-
জায়েদ ঝিমিয়ে পড়েছিল। তন্দ্রা ভাঙ্গল ওদের রোল করে পাকানো লম্বা একটি কাগজের গুতোতে। সঙ্গে সঙ্গে “সরি” বৃষ্টি শুরু হয়। জায়েদ স্বভাব সুলভ বিনয় প্রকাশ করে। ওদের অতিরিক্ত উল্লাস আর হট্টোগোলে অসতর্কতাবশত কাগজের গুতো লেগেছিল জায়েদের শরীরে। এতে বরং ওদের পরিচয়ের পথ খুলে যায়। গ্র“পের সিনিয়র মেয়েটি বলে-
এডমিশন টেস্ট দিলেন? জায়েদ, হ্যাঁ- আমি থার্ড ইয়ার বাংলায়। তোমাকে তুমি করেই বলছি।
জায়েদ মৃদু ধাক্কা খায়, ভাবে সবাই আবার সিনিয়র নয় তো, মুখে বলে না না সমস্যা নেই, তুমিই তো সম্বোধন করা উচিত।
তোমার বাসা কোথায়? ঘাটাইল- কি বলো আমাদেরও তো ঘাটাইল- ঘাটাইলে ৯৫ ব্যাচের রতন, আনোয়ার, চাঁদ- জায়েদ কথা শেষ করতে দেয়না। বলে হ্যাঁ হ্যাঁ ওরা সবাই আমার খুব কাছের বন্ধু। ব্যাস্ এবার জায়েদের ভাবনার পালে হাওয়া ধরলো।
গ্র“পের সিনিয়র জন পরিচয় করিয়ে দেয়- আমি শিল্পি, ও শিউলি, পরের জন পাপিয়া, তার পর পলি আর-
কথা কেড়ে নিয়ে শেষের জন বলে আমি অনু। আপনার সাথে লঞ্চে উঠার সময় দেখা হয়েছে। বলেই লাজুক হাসি হাসে। এবার প্রশ্ন ছুড়ে দেয় জায়েদের দিকে-আপনি?
আমি জায়েদ। অনুর মৃদু সম্মতিপূর্ণ সমর্থন জায়েদের আবেগকে আরও কয়েক ডিগ্রী উপরে তুলে দেয়। এরপর চলতে থাকল জানা আর জানানোর ট্রেন। সবার মাঝে পরিচিতির বন্ধন বন্ধুতে রূপ নেয় খুব অল্প সময়ে। লঞ্চ থেকে নেমে একসাথে দুপুরের খাবারটাও খেয়ে নিল সবাই মিলে। বিলটা শিল্পি আপু দিয়ে দিল পুরো অধিকার খাটিয়ে। জায়েদ সুযোগ বুঝে আইসক্রিম কিনে আনে সবার জন্য একটি করে। আইসক্রীম খেতে খেতে চুপচাপ হাটছিল সবাই। শিল্পি আপু নিরবতা ভাঙে।
আমরা চারজনতো টাংগাইলে থেকে যাবো- কিন্তু অনুতো যাবে ঘাটাইল- ওকে তো একা ছাড়া ঠিক হবেনা- অনু বলে না আপু এখান থেকে আমি একাই যেতে পারবো-
জায়েদ নিজে থেকে বলার সাহস পাচ্ছিলনা তবে তার মন চাইছিল অনুকে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বটা তার উপর পরলে আরও কিছুক্ষণ একসঙ্গে থাকা যেত।
শেষকালে পাপিয়া আপু যেন ওর মনের কথাটাই বলে দিল- কেন জায়েদ তো একই রাস্তায় যাচ্ছে। অনু তুই ওর সাথে চলে যা।
এবার জায়েদ সাহস সঞ্চয় করে এক নিঃশ্বাসে বলে দেয় হ্যাঁ তাইতো অনু তো আমার সাথেই যেতে পারে।
কিছু না বলে অনু স্বেচ্ছায় নিজেকে সমর্পণ করলো সবার সিদ্ধান্তে। কিছুক্ষণ পর ৬ জনের দল ৪ আর ২ এ ভাগ হয়ে গেল। শিল্পি আপুরা চলে যায় শহরের উদ্দেশ্যে আর জায়েদ অনুকে নিয়ে রিক্সায় উঠল টাঙ্গাইল ষ্টেশনের উদ্দেশ্যে। এতক্ষণ ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও জায়েদ এবার দায়িত্বের ভার অনুভব করে।
অনু নিরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করে- তুমি এত চুপচাপ কেন? কই নাতো- কোন সমস্যা? জায়েদ না না, আমি ভাবছিলাম অল্প সময়ে কতকিছু ঘটে গেল- অনু কেন তোমার ভালো লাগেনি? জায়েদ ভালো লেগেছে তবে ভাললাগাটা কি স্থায়িত্ব পাবে? অনু কেন এভাবে ভাবছো?
জায়েদ এই যে তোমার সাথে পরিচয় হলো, আমিতো ভাবতেই পারিনি। দূর থেকে ভালোলেগেছিল তোমায়। শুধু সাহায্য করতে পেরেই খুশি ছিলাম। পরে নিয়তি তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। সময় কাটানোর উপলক্ষ্যও তৈরী করল। আবার এখনো পাশাপাশি আছি। তোমাকে বাড়ি পৌছে দিচ্ছি। এতো কিছুতো আমি চাইনি। বাড়ি পৌছে দিয়ে কি এই স্বল্পস্থায়ী মূহুর্তের চির সমাপ্তি ঘটবে?
অনু উত্তরে কিছু বললনা।
দুজনেই গাড়ীতে উঠে পড়ল। পাশাপাশি আসনও পেয়ে গেল। পুরো যাত্রা পথে দুজন দুজনের মৃদু স্পর্শে শিহরিত হয়েছে বার কয়েক। হয়তো কিছুটা উষ্ণতাও ছড়িয়েছে কিন্তু কারও মুখে আর ভাষা তৈরী করেনি। অল্প সময় পর ঘাটাইল ষ্টেশন। অপু নেমে যাবে চিরতরে। হয়তো আর দেখা হবেনা। তবু তো ভাললাগার এই ছোট গল্পটি জায়েদকে নায়ক বানিয়েছিল, এটাই বা কম কিসে?
মিনিট পাঁচেক পর গাড়ীর হেলপার উচ্চস্বরে ঘাটাইল কলেজ গেইট বলে চিৎকার করল। অনূ তখনও নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেনা। জায়েদ কিছু বলতে যাবে এমন সময় অনু জায়েদকে একটি কাগজ ধরিয়ে দিলো। বলল আমি কাজী রোডে নেমে যাচ্ছি। ভালো থেকো। জায়েদ কাগজটি খুলতে পারলনা। আবেগ তার মুখের কথা কেড়ে নিয়েছে। তার বোবা চাহনি, এই বিদায় বেলায় অনুকে কি বলেছিল কে জানে? অনুর কালো বড়বড় টানা চোঁখ দুটির কোণা বেয়ে নেমে এলো অশ্র“ধারা। ব্যাগ হাতে দাড়িয়ে রইল গাড়ি ষ্টেশান ত্যাগ করা পর্যন্ত। জায়েদ দেখেছিল পেছন ফিরে চোখের জলের ধারা খুব করে লুকোনোর চেষ্টা করছিল অনু।
জায়েদ বাড়ি ফিরে এল ঠিকভাবে। কিন্তু কি যেন ঠিক ছিলনা। মা-বাবার আদর, ছোট ভাইয়ের সঙ্গ সবই আগের মতই ছিল কিন্তু জায়েদের কেবলই মনে হয়েছিল কি যেন নেই, কোথায় যেন শূন্যতা। প্রায় ১৫ দিন কেটে গিয়েছিল একইভাবে। তার সম্বল ছিল কেবল একটি আশ্বাস। কাগজের লিখাটি- অনু লিখেছেল- আমি তোমার সাথে যোগাযোগ রাখব। সময় কেটে গেলেও জায়েদ এখনও ওই একছত্র লিখার উপর আস্থা রাখাতেই স্বস্থি বোধ করে। অনু মিথ্যে বলতে পারেনা।
সেদিন ছিল মঙ্গলবার। কোন একটা কারণে স্কুল অর্ধেক বেলা চলার পর ছুটি হয়েছিল। তাই জায়েদের ছোটভাই আর ওর বন্ধুরা আগেই বাড়ি ফিরেছিল। এই সুযোগে ওরা বাসার পেছনের ছোট মাঠে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করেছিল। জায়েদকে ওদের অনুরোধে সাড়া দিতে হয়েছিল। খেলার মাঝ পর্যায়ে ওর বাবা এসে জানালো পিয়ন তোমার নামে একটি চিঠি দিয়ে গেছে। খবরটা ওকে এতোটাই বিমোহিত করল যে খেলার মাঠে তার আর এক মূহুর্তও মন টিকলোনা। সে দ্রুত মাঠ ছেড়ে বাসার উদ্দেশ্যে চলে গেল। তার কেবলই মনে হচ্ছিল ওটা অনুর চিঠিই হবে। উত্তেজিত কণ্ঠে মায়ের কাছে জানতে চাইল তার চিঠিটা কোথায়? আম্মু জানাতেই ওটা নিজের দখলে নিল। হ্যাঁ ওটা অনুর চিঠিই। জায়েদ এতটাই মুগ্ধ ছিল যে এটা তার মাধ্যে একটা অস্থিরতার তৈরি করেছিল। তার হাত কাপছিল, ঠিকভাবে ওটা খুলতেও যেন কষ্ট হচ্ছিল।
অবশেষে ওটা খুলল। গোটা গোটা স্পষ্ট সুন্দর হস্তাক্ষরে যতœ নিয়ে লিখা এক মনোরম পরিবেশনা। এটা শুধু জায়েদের উদ্দেশ্যেই, ওই এটার একচ্ছত্র মালিক, আর কারও এতে অংশিদারিত্ব নেই। একরাশ আবেগময়তা যেন অনু নিজে এসে জায়েদের কানে তুলে দিয়ে গেল। জায়েদ পড়ছে, পড়ছে আর বিমোহিত হচ্ছে, শিহরিত হচ্ছে। ঘাটাইলে আনোয়ারের কাছ থেকে কিভাবে ঠিকানা সংগ্রহ করেছে অনু। কেন লিখতে এতো দেরী হলো। অনাকাঙ্খিত দেরী হওয়াতে ক্ষমা চেয়েছে। এর মধ্যেই জায়েদের ভাবনা আকাশ ছুঁয়েছে। তাকে উত্তর দিতে হবে। আজই লিখতে হবে। কিভাবে লিখবে, আর কিভাবে তাদের এই সম্পর্ককে স্থায়িত্ব দিবে। কি কি প্রস্তাবনা থাকবে। কিভাবে মনের গভীরের আবেগকে ওর কাছে প্রকাশ করবে- এরকম আরও অনেক কিছু। চিঠির শেষে ওর ঠিকানাটাও দিয়েছে। বুদ্ধীমতী মেয়ে। ঠিকানাটা যেনে নিতে চোখ বোলাতেই যেন জায়েদ সজোড়ে ধাক্কা খেল। কোথায় যেন তাল কেটে গেল। এভাবে তো কখনোই ভাবেনি জায়েদ। কেন এমন হলো। তার বেড়ে উঠা মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল সমাজে কিভাবে এটার প্রতিষ্ঠা করবে সে। ওর দুরন্ত বেগে ছুটে চলা আবেগময় মন হঠাৎ গতিহীন হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল।
ঠিকানাতে ওর নাম লিখা- অপর্ণা দত্ত অনু।
হিন্দু-মুসলমান সমাজের এই সম্পর্ক গড়ার সীমাবদ্ধতার বেড়াজালকে কিভাবে অতিক্রম করবে জায়েদের বাড়ন্ত মনের প্রথম ভালোলাগার আবেগ জড়ানো এই অনুভূতি? জায়েদ স্তব্ধ হয়ে গেল। স্তব্ধ হয়ে গেল ওর ভাবনা। সদ্য কৈশর উত্তীর্ণ মনের প্রথম ভালোলাগাটা একটা বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্নের সামনে খুব অসহায় মনে হতে লাগলো।-মুহাম্মদ সাজিদুল হক
য় দেড় যুগ আগের কথা বলছি। মোবাইল মেসেজের পেরন তখনও হয়নি। নিত্য প্রয়োজনীয় দূরবর্তী যোগাযোগের একমাত্র বিশ্বস্ত মাধ্যম তখন চিঠিপত্র। বাবার কাছে টাকা চাহিয়া পত্র বা বন্ধুর নিকট কোন উল্লেখযোগ্য ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পত্র লিখা তখন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রতি বছরের প্রায় নির্ধারিত প্রশ্ন ছিল। ঘটা করে আমরা তখন সুন্দর করে পত্র লিখা শিখতাম। কোন জরুরী সংবাদ অথবা কোন হৃদয়ে ঝড় তোলা আবেগ কলমের কালি দ্বারা কাগজে লিপিবদ্ধ অবস্থায় খামে বন্দি হয়ে ঐ ডাকপিয়নের হাত দিয়েই বিলি বন্টন হতো। তাই ডাকপিয়ন তখন অনেক কাঙ্খিত ব্যক্তি হিসেবে পোস্টঅফিস টু প্রাপকের বাড়ি দাপিয়ে বেড়াত।
জায়েদ তখন সবে এইচ, এস,সি পাশ করেছে। নামকরা সব সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজে কোন একটিতে তার পছন্দের বিষয়ে সুযোগ করে নিতে। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তখন সবে তের টি। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় স্বভাবতই ভাল ছাত্রদের কাছে ততটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। জায়েদ বেশ ভালমানের ছাত্র। এস,এস,সি তে উপজেলায় প্রথম। ৮৫০ এর উপর নম্বর। রেসিডেন্সিয়াল থেকে এইচ, এস, সি। তার লক্ষ্যটাও তাই প্রথম সাড়ির যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালমানের সাবজেক্ট।
এবারের মিশন ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তখন যমুনা সেতুর নাম গন্ধও নেই। তাই টাঙ্গাইল থেকে লঞ্চ/ফেরীতে যমুনা পেরিয়ে কষ্টসাধ্য স্মৃতিবিজড়িত এক যাত্রা ছিল ওটা। ফেরীঘাট কখনও এখানে তো কিছুদিন পর আবার অন্যখানে। তপ্ত বালি পেড়িয়ে এলোমেলো প্রায় ১/২ কিলোমিটারের রাস্তা। সব কষ্ট সহ্য করে বন্ধুদের নিয়ে হৈ হুল্লোর করে বেশ ভালোভাবেই পরীক্ষাপর্ব সম্পন্ন করেছিল। ঘটনার শুরু ফেরার পথে। প্রচন্ড ভীর সামলে ওর জায়গা হয়েছিল লঞ্চের ছাদে। দুপুর ১২ টার সূর্য স্বভাবতই খুব তেতে ছিল। নাভিশ্বাস উঠা গরমে সবার স্বস্থি ছিল নদীর খোলা হাওয়া আর ছাউনীর নীচে ছায়াযুক্ত জায়গাটুকু। জায়েদ ছাদের রেলিং ঘেঁষে পা ছড়িয়ে বসেছিল। ট্রাভেলিং ব্যাগটাকে পেছনের দেয়ালের সঙ্গে দাড় করিয়ে পিঠটা তাতে ঠেস দিয়ে জুতসই অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিল ও। পরনে ছিল নীল স্কীনটাইট জিন্স আর লাল, সাদা ও বেগুনী রংয়ে আড়াআড়ি স্ট্রাইপের হাফহাতা পলো। চোখে ছিল ব্ল্যাক সানগ্লাস। বেশ হিরো হিরো ভাব নিয়ে মাথার নীচে হাত রেখে রেলিং-এর ফাঁক গলে পানির সমতলে আকাশ দেখছিল।
আশেপাশে মানানসই কোন হিরোইন চোখে না পরলেও পাশেই চারজনের মেয়েদের দলের একটা তুমুল আড্ডা চলছিল। ওরা মাঝেসাঝে জায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণমূলক কথা বললেও তা জায়েদের সঙ্গে কথা শুরু করার জন্য যথেষ্ট ছিলনা। জায়েদ অবশ্য খুব বেশী একটা টানও বোধ করছিলনা। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতিটা পাল্টে গেল। বেশ দূর থেকে ঐ দলের সাথে আরেকটা মেয়ের চোখাচোখি হলো। ওদের উষ্ণ ভাব বিনিময়ের পর মেয়েটা এসে যোগ দিল ওদের দলে।
আরে এটা তো সেই মেয়েটা- কাঠের পাটাতন বেয়ে লঞ্চে উঠার সময় জায়েদ সাহায্য করেছিল মেয়েটিকে উঠতে- মেয়েটিও সানন্দে নির্ভর করেছিল ওর উপর- তারপর দুজন দুদিকে চলেগিয়েছিল।
ভাগ্য সহায় থাকলে যে সবই সম্ভব তাই আরেকবার প্রমাণ হলো। তখন মনে তলিয়ে যাওয়া অনেক সম্ভাবনাকে আবার উসকে দিল বর্তমান পরিবেশ। জায়েদ সুযোগের অপেক্ষায় থাকল। এরইমধ্যে কয়েকজন ফেরিওয়ালা এসে ঘুরে গেছে। মেয়েদের দলটি বাদাম কিনে বাদামবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। লঞ্চটির দোল খাওয়া ওদের আড্ডাবাজিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করছিল। জায়েদ এবার অসহায় বোধ করছে। চেষ্টার তরী পাড়ে ভিরছিলনা তাই আরও খারাপ লাগছিল। এবার জায়েদ কিছুটা আস্থা খুঁজে পেতে চায় চানাচুরওয়ালার কাছে। গলা বাড়িয়ে হাক ছাড়ে-
এই চানাচুর- চানাচুরওয়ালা চলে আসে। আমাকে ৫ টাকার দাও-
চানাচুর নিয়ে টাকা দেয়ার সময় ঘটে গেল কাঙ্খিত ঘটনাটি। ঐ মেয়েটির সাথে চোখাচোখি হয় জায়েদের। মেয়েটি জায়েদকে অবাক করে দিয়ে পরিচিত হাসি বিনিময় করে। জায়েদ কি করবে এবার বুঝতে পারেনা তাই সঙ্গত কারণেই আবার নীরবতা।
ধুর তাল কেটে গেল এবার-
জায়েদ ঝিমিয়ে পড়েছিল। তন্দ্রা ভাঙ্গল ওদের রোল করে পাকানো লম্বা একটি কাগজের গুতোতে। সঙ্গে সঙ্গে “সরি” বৃষ্টি শুরু হয়। জায়েদ স্বভাব সুলভ বিনয় প্রকাশ করে। ওদের অতিরিক্ত উল্লাস আর হট্টোগোলে অসতর্কতাবশত কাগজের গুতো লেগেছিল জায়েদের শরীরে। এতে বরং ওদের পরিচয়ের পথ খুলে যায়। গ্র“পের সিনিয়র মেয়েটি বলে-
এডমিশন টেস্ট দিলেন? জায়েদ, হ্যাঁ- আমি থার্ড ইয়ার বাংলায়। তোমাকে তুমি করেই বলছি।
জায়েদ মৃদু ধাক্কা খায়, ভাবে সবাই আবার সিনিয়র নয় তো, মুখে বলে না না সমস্যা নেই, তুমিই তো সম্বোধন করা উচিত।
তোমার বাসা কোথায়? ঘাটাইল- কি বলো আমাদেরও তো ঘাটাইল- ঘাটাইলে ৯৫ ব্যাচের রতন, আনোয়ার, চাঁদ- জায়েদ কথা শেষ করতে দেয়না। বলে হ্যাঁ হ্যাঁ ওরা সবাই আমার খুব কাছের বন্ধু। ব্যাস্ এবার জায়েদের ভাবনার পালে হাওয়া ধরলো।
গ্র“পের সিনিয়র জন পরিচয় করিয়ে দেয়- আমি শিল্পি, ও শিউলি, পরের জন পাপিয়া, তার পর পলি আর-
কথা কেড়ে নিয়ে শেষের জন বলে আমি অনু। আপনার সাথে লঞ্চে উঠার সময় দেখা হয়েছে। বলেই লাজুক হাসি হাসে। এবার প্রশ্ন ছুড়ে দেয় জায়েদের দিকে-আপনি?
আমি জায়েদ। অনুর মৃদু সম্মতিপূর্ণ সমর্থন জায়েদের আবেগকে আরও কয়েক ডিগ্রী উপরে তুলে দেয়। এরপর চলতে থাকল জানা আর জানানোর ট্রেন। সবার মাঝে পরিচিতির বন্ধন বন্ধুতে রূপ নেয় খুব অল্প সময়ে। লঞ্চ থেকে নেমে একসাথে দুপুরের খাবারটাও খেয়ে নিল সবাই মিলে। বিলটা শিল্পি আপু দিয়ে দিল পুরো অধিকার খাটিয়ে। জায়েদ সুযোগ বুঝে আইসক্রিম কিনে আনে সবার জন্য একটি করে। আইসক্রীম খেতে খেতে চুপচাপ হাটছিল সবাই। শিল্পি আপু নিরবতা ভাঙে।
আমরা চারজনতো টাংগাইলে থেকে যাবো- কিন্তু অনুতো যাবে ঘাটাইল- ওকে তো একা ছাড়া ঠিক হবেনা- অনু বলে না আপু এখান থেকে আমি একাই যেতে পারবো-
জায়েদ নিজে থেকে বলার সাহস পাচ্ছিলনা তবে তার মন চাইছিল অনুকে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বটা তার উপর পরলে আরও কিছুক্ষণ একসঙ্গে থাকা যেত।
শেষকালে পাপিয়া আপু যেন ওর মনের কথাটাই বলে দিল- কেন জায়েদ তো একই রাস্তায় যাচ্ছে। অনু তুই ওর সাথে চলে যা।
এবার জায়েদ সাহস সঞ্চয় করে এক নিঃশ্বাসে বলে দেয় হ্যাঁ তাইতো অনু তো আমার সাথেই যেতে পারে।
কিছু না বলে অনু স্বেচ্ছায় নিজেকে সমর্পণ করলো সবার সিদ্ধান্তে। কিছুক্ষণ পর ৬ জনের দল ৪ আর ২ এ ভাগ হয়ে গেল। শিল্পি আপুরা চলে যায় শহরের উদ্দেশ্যে আর জায়েদ অনুকে নিয়ে রিক্সায় উঠল টাঙ্গাইল ষ্টেশনের উদ্দেশ্যে। এতক্ষণ ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও জায়েদ এবার দায়িত্বের ভার অনুভব করে।
অনু নিরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করে- তুমি এত চুপচাপ কেন? কই নাতো- কোন সমস্যা? জায়েদ না না, আমি ভাবছিলাম অল্প সময়ে কতকিছু ঘটে গেল- অনু কেন তোমার ভালো লাগেনি? জায়েদ ভালো লেগেছে তবে ভাললাগাটা কি স্থায়িত্ব পাবে? অনু কেন এভাবে ভাবছো?
জায়েদ এই যে তোমার সাথে পরিচয় হলো, আমিতো ভাবতেই পারিনি। দূর থেকে ভালোলেগেছিল তোমায়। শুধু সাহায্য করতে পেরেই খুশি ছিলাম। পরে নিয়তি তোমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। সময় কাটানোর উপলক্ষ্যও তৈরী করল। আবার এখনো পাশাপাশি আছি। তোমাকে বাড়ি পৌছে দিচ্ছি। এতো কিছুতো আমি চাইনি। বাড়ি পৌছে দিয়ে কি এই স্বল্পস্থায়ী মূহুর্তের চির সমাপ্তি ঘটবে?
অনু উত্তরে কিছু বললনা।
দুজনেই গাড়ীতে উঠে পড়ল। পাশাপাশি আসনও পেয়ে গেল। পুরো যাত্রা পথে দুজন দুজনের মৃদু স্পর্শে শিহরিত হয়েছে বার কয়েক। হয়তো কিছুটা উষ্ণতাও ছড়িয়েছে কিন্তু কারও মুখে আর ভাষা তৈরী করেনি। অল্প সময় পর ঘাটাইল ষ্টেশন। অপু নেমে যাবে চিরতরে। হয়তো আর দেখা হবেনা। তবু তো ভাললাগার এই ছোট গল্পটি জায়েদকে নায়ক বানিয়েছিল, এটাই বা কম কিসে?
মিনিট পাঁচেক পর গাড়ীর হেলপার উচ্চস্বরে ঘাটাইল কলেজ গেইট বলে চিৎকার করল। অনূ তখনও নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেনা। জায়েদ কিছু বলতে যাবে এমন সময় অনু জায়েদকে একটি কাগজ ধরিয়ে দিলো। বলল আমি কাজী রোডে নেমে যাচ্ছি। ভালো থেকো। জায়েদ কাগজটি খুলতে পারলনা। আবেগ তার মুখের কথা কেড়ে নিয়েছে। তার বোবা চাহনি, এই বিদায় বেলায় অনুকে কি বলেছিল কে জানে? অনুর কালো বড়বড় টানা চোঁখ দুটির কোণা বেয়ে নেমে এলো অশ্র“ধারা। ব্যাগ হাতে দাড়িয়ে রইল গাড়ি ষ্টেশান ত্যাগ করা পর্যন্ত। জায়েদ দেখেছিল পেছন ফিরে চোখের জলের ধারা খুব করে লুকোনোর চেষ্টা করছিল অনু।
জায়েদ বাড়ি ফিরে এল ঠিকভাবে। কিন্তু কি যেন ঠিক ছিলনা। মা-বাবার আদর, ছোট ভাইয়ের সঙ্গ সবই আগের মতই ছিল কিন্তু জায়েদের কেবলই মনে হয়েছিল কি যেন নেই, কোথায় যেন শূন্যতা। প্রায় ১৫ দিন কেটে গিয়েছিল একইভাবে। তার সম্বল ছিল কেবল একটি আশ্বাস। কাগজের লিখাটি- অনু লিখেছেল- আমি তোমার সাথে যোগাযোগ রাখব। সময় কেটে গেলেও জায়েদ এখনও ওই একছত্র লিখার উপর আস্থা রাখাতেই স্বস্থি বোধ করে। অনু মিথ্যে বলতে পারেনা।
সেদিন ছিল মঙ্গলবার। কোন একটা কারণে স্কুল অর্ধেক বেলা চলার পর ছুটি হয়েছিল। তাই জায়েদের ছোটভাই আর ওর বন্ধুরা আগেই বাড়ি ফিরেছিল। এই সুযোগে ওরা বাসার পেছনের ছোট মাঠে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করেছিল। জায়েদকে ওদের অনুরোধে সাড়া দিতে হয়েছিল। খেলার মাঝ পর্যায়ে ওর বাবা এসে জানালো পিয়ন তোমার নামে একটি চিঠি দিয়ে গেছে। খবরটা ওকে এতোটাই বিমোহিত করল যে খেলার মাঠে তার আর এক মূহুর্তও মন টিকলোনা। সে দ্রুত মাঠ ছেড়ে বাসার উদ্দেশ্যে চলে গেল। তার কেবলই মনে হচ্ছিল ওটা অনুর চিঠিই হবে। উত্তেজিত কণ্ঠে মায়ের কাছে জানতে চাইল তার চিঠিটা কোথায়? আম্মু জানাতেই ওটা নিজের দখলে নিল। হ্যাঁ ওটা অনুর চিঠিই। জায়েদ এতটাই মুগ্ধ ছিল যে এটা তার মাধ্যে একটা অস্থিরতার তৈরি করেছিল। তার হাত কাপছিল, ঠিকভাবে ওটা খুলতেও যেন কষ্ট হচ্ছিল।
অবশেষে ওটা খুলল। গোটা গোটা স্পষ্ট সুন্দর হস্তাক্ষরে যতœ নিয়ে লিখা এক মনোরম পরিবেশনা। এটা শুধু জায়েদের উদ্দেশ্যেই, ওই এটার একচ্ছত্র মালিক, আর কারও এতে অংশিদারিত্ব নেই। একরাশ আবেগময়তা যেন অনু নিজে এসে জায়েদের কানে তুলে দিয়ে গেল। জায়েদ পড়ছে, পড়ছে আর বিমোহিত হচ্ছে, শিহরিত হচ্ছে। ঘাটাইলে আনোয়ারের কাছ থেকে কিভাবে ঠিকানা সংগ্রহ করেছে অনু। কেন লিখতে এতো দেরী হলো। অনাকাঙ্খিত দেরী হওয়াতে ক্ষমা চেয়েছে। এর মধ্যেই জায়েদের ভাবনা আকাশ ছুঁয়েছে। তাকে উত্তর দিতে হবে। আজই লিখতে হবে। কিভাবে লিখবে, আর কিভাবে তাদের এই সম্পর্ককে স্থায়িত্ব দিবে। কি কি প্রস্তাবনা থাকবে। কিভাবে মনের গভীরের আবেগকে ওর কাছে প্রকাশ করবে- এরকম আরও অনেক কিছু। চিঠির শেষে ওর ঠিকানাটাও দিয়েছে। বুদ্ধীমতী মেয়ে। ঠিকানাটা যেনে নিতে চোখ বোলাতেই যেন জায়েদ সজোড়ে ধাক্কা খেল। কোথায় যেন তাল কেটে গেল। এভাবে তো কখনোই ভাবেনি জায়েদ। কেন এমন হলো। তার বেড়ে উঠা মধ্যবিত্ত রক্ষণশীল সমাজে কিভাবে এটার প্রতিষ্ঠা করবে সে। ওর দুরন্ত বেগে ছুটে চলা আবেগময় মন হঠাৎ গতিহীন হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল।
ঠিকানাতে ওর নাম লিখা- অপর্ণা দত্ত অনু।
হিন্দু-মুসলমান সমাজের এই সম্পর্ক গড়ার সীমাবদ্ধতার বেড়াজালকে কিভাবে অতিক্রম করবে জায়েদের বাড়ন্ত মনের প্রথম ভালোলাগার আবেগ জড়ানো এই অনুভূতি? জায়েদ স্তব্ধ হয়ে গেল। স্তব্ধ হয়ে গেল ওর ভাবনা। সদ্য কৈশর উত্তীর্ণ মনের প্রথম ভালোলাগাটা একটা বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্নের সামনে খুব অসহায় মনে হতে লাগলো।


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…

অন্য জগৎ



কাজী সাদ্দাম হোসেন
“আমি জরিনা।” পদ্মার পাড়ে ছিল আমাগো বাড়ি। দুই বোন ছিলাম আমরা। আমি ছিলাম বড়। বাজানে ক্ষেতে কাম করত। মায়ে বাইতে-ই থাকত। আমি তহন কেলাস ফাইবে পড়ি। খাইয়া না খাইয়া ভালই দিন যাইতা ছিল আমাগো। বাজানে আমারে অনেক আদর করত। কইতো তুই পড়ালেহা কইরা অনেক বড় হবি। তহন আমাগো আর দুঃখ থাকবো না। আমার পড়ালেহা করার অনেক ইচ্ছা ছিল পড়ালেহায় আমি ভালই আছিলাম। চোহে অনেক স্বপ্ন ছিল পড়ালেহা কইরা অনেক বড় হইব। কিন্তু আমার স্বপ্নডা আর বেশি দিন রইল না। সর্বনাশা পদ্মায় আমাগো বাড়িডা বিলীন হইয়া গেল। পদ্মা নদী আমাগো বাড়িডারে খাইয়া ফালাইল। আমরা আশ্রয়হীন হইয়া পড়লাম। আমার পড়ালেহা বন্ধ হইয়া গেল আমার এক চাচার বাসায় আশ্রয় নিলাম। দুঃখ-শোকে বাবাজান অসুস্থ হইয়া গেল। মায়ে অন্যের বাইতে কাম ধরল। আমি বাইতেই থাকতাম। রান্নাবাড়া করতাম আর ছোট বইনডারে দেখতাম। আমাগো কষ্ঠ আরো বাড়তে লাগল। হঠাৎ বাজানে মারা গেলে। আমরা আরো নিঃস্ব হইয়া গেলাম। মাঝে মাঝে না খাইয়া থাকতাম। ক্ষুধার জ্বালায় পেঠটা জ্বলত। ছোড বইনডা খালি কাঁনত। এই ভাবে কয়েক বছর চইলা গেল। আমি ও বড় হইয়া গেলাম। মায়ে অন্যের বাইতে কাজ করতে করতে অসুস্থ হইয়া গেল। আমি ভাবলাম আমার অহন কিছু করতে হইব। পাশের বাড়ির খালায় কইল ঢাকা যাবি এক বাইতে কাম করবি খাবি ওই খানে থাকবি মাস শেষে টাহা দিব। আমি রাজি হইয়া গেলাম। ভাবলাম এহন আমাগো কষ্ট কিছুডা কমবো। মায়ে কিছুতেই রাজি হইতা ছিল না। মায়েরে বুঝাইয়া খালার লগে ঢাকা গেলাম। খালায় এক বাইতে দিয়া আইল। কইল জরিনা ভাল মত থাহিস আপার কথা শুনিস। আমি কইলাম আচ্ছা। যে বাইতে আমারে দিয়া গেল হেই বাইতে যে মাহিলা আমি তারে খালাম্মা কইতাম আর হের জামাইরে খালুজান কইয়া ডাকতাম। হেগ একটা পোলা ছিল কেলাস থ্রিতে পড়ত। আমি হেড়ে ভাইজান কইয়া ডাকতাম। হেগ বিশাল বাড়ি। খালাম্মায় আমাড়ে দিয়া সারাদিন অনেক কাম করাইত। কামে ভুল হইলে খালি মারত। হেগ পোলাডায় আমারে কারণে-অকারণে মারত। এত কাম করতে আমার অনেক কষ্ঠ হইত। তবুও মা-বইনডার দিকে তাকাইয়া সব সহ্য করতে লাগলাম।
খালি মা বইনডার কথা মনে পড়ত। মনে পড়লে অনেক কাঁনতাম। একদিন একটা গেলাস ভাইঙ্গা গেছিল। খালাম্মায় আমারে অনেক মারছিল। মাইর খাইয়া আমি অসুস্থ হইয়া গেছিলাম। খালাম্মায় আমারে একটা ট্যাবলেড খাওইয়া আবারো কাম করাইতে লাগল। অনেক কষ্ট হইতো ছিল। তবুও উপায় নাই। গরীব মাইনসের যত জ্বালা। তয় খালুজান কিছু কইতো না। হে সরাদিন অফিসে থাকত রাইতে আইতো। হের মুখে দাড়ি আছিল কেমন কইরা যেন আমার দিকে তাকাইত। আমার খুব ডর ডর লাগত। হুনছি হে নাহি আবার সামাজ সেবা ও করে।
একদিন খালাম্মায় কই জানি বেড়াইতে গেল হের পোলাডারে লইয়া। কইল আইতে একদিন দেড়ি অইব। খালুজানরে ঠিক মত খাইতে দিতে কইল। আমি কইলাম আইচ্ছা। আমি সারাদিন বাসায় একা থাকলাম। রাইতে খালুজান আইল। আমি হেরে খাইতে দিলাম। খালুজান খাইয়া হের রুমে গেল। কিছুক্ষণ পর আমারে ডাকতে লাগল। জরিনা, জরিনা ……….. কইরে। আমি কইলাম আইতাছি খালুজান। হের রুমে ডুইকা দেখলাম হে লুঙ্গি আর গেঞ্জি পইরা খাটের উপর বইসা আছে আর কলম দিয়া খাতায় যেন কি লিখতাছে। আমার দিকে কেমন কইরা যেন তাকেইতাছে। আমার খুব ভয় ভয় লাগতাছিল। আমারে কইল এক কাপ চা দিতে। আমি হের লিগা চা করতে গেলাম। আমার আতœাডা দুক দুক করতাছিল। আমি চাঁ কইরা লইয়া আইলাম। খালুজান খাট থেইকা নাইমা আইল। চাঁ’র কাপটা টেবিলে রাখল রাইখা আমার দিকে আইল। ভয়ে আমার হাত-পা কাপতে লাগল। আইয়া আমার হাত ধরল। কইল চুপ কোন কথা কবি না তাইলে খবর আছে। আমারে টাইনা খাটে লইয়া গেল। আমি কইলাম খালুজান কি করতাছেন। হে কইল চুপ খবরদার বেশি কথা কবি না একদম জানে মাইরা ফেলামু। আমি চিৎকার করতে লাগলাম কিন্তু আমার চিৎকার চার দেওয়ালের মাঝেই আইটকা রইল। আমি কাঁনতে লাগলাম। খালুজানের পায়ে ধরলাম কইলাম আপনে না আমার বাবার লাহান। আমার সর্বনাশ কইরেন না। অনেক কাকুতি-মিনতি করলাম কিন্তু লাভ হইল না। কুত্তার মত আমার উপর ঝাপাইয়া পড়ল। আমি শত চেষ্ঠা কইরা-ও নিজেরে ছাড়াইতে পাড়লাম না ওই কুত্তাডার কাছ থেইকা। মানুষ রূপী ঐ কুত্তাডা আমারে কামড়াইতে লাগল। ওই কুত্তাডার কামরে রক্তে আমার দেহ ভিজা গেল। ততখনে আমার সব শেষ হইয়া গেল। অবাক দৃষ্ঠিতে ওই কুত্তাডার দিকে তাকিয়ে রইলাম। যারে আমি বাপের মত মনে করতাম। আমার শরীলডা নিথর হইয়া গেল। সারা রাত ওই কুত্তাডা আমারে কামড়াইতে লাগল। আমি জ্ঞান হারাইয়া ফেললাম। যখন জ্ঞান ফিরল তখন সকাল। জানালার ফাঁক দিয়া সূর্য উকি মারছে। আমার শরীলে এতটুকু শক্তি নাই। তবুও বহু কষ্টে উঠে বসলাম। চিন্তা করলাম আমার’ত সব শেষ হইয়া গেছে বাইচা থাইকা কি লাভ। কষ্টে যন্ত্রনায় আতœহত্যা করতে গেলাম। মা-আর বইনডার কথা মনে পড়ল। আমি মইরা গেলে ওরা না খাইয়া থাকব। আতœহত্যা করতে পারলাম না। কিছুক্ষণ পর ওই কুত্তাডা আইল কইল এই ঘটনা যদি কাওরে কছ তাইলে খবর আছে। মা-বইনডার কথা চিন্তা কইরা সব সহ্য করলাম। এরপর শুরু হইল আরো নির্যাতন। প্রায় সুযোগ পাইলে ওই কুত্তাডা আমারে কামড়াইতে লাগল। শত আকুতি মিনতি করেও কোন লাভ হইত না। মা-বইনডার অসহার চেহারাডা আমার সামনে ভাইসা উঠত। নিরবে সব সহ্য করতে লাগলাম।
কিছুদিন পর অনুভব করলাম আমার পেটের ভিতরে একটা মাংস পিন্ডি বড় হচ্ছে। বুঝলাম আমার আরো সর্বনাশ হইয়া গেছে। এহন আর চুপ থাকা যাইবোনা। খালাম্মারে সব ঘটনা খুইলা কইলাম। খালাম্মায় আমারে প্রচন্ড মারল কইল সবদোষ তোর। আমার ঘাড়ে সবদোষ চাপাইয়া আমারে গ্রামে পাঠায়া দিল। গ্রামে আইয়া মায়ের সব খুইলা কইলাম। মা কইল এত কষ্ঠকেন আমাগো। গরিব হইয়া জন্ম নিয়া পাপ করছি। হে আল্লাহ আরত কষ্ট সহ্য হয় না। কষ্ট্য সহ্য করতে না পাইরা মায় আত্নহত্যা করল। গ্রামের সবাই আমাকে নষ্টা বইলা ডাকতে লাগল। যে চাচার বাসায় আশ্রয় নিছিলাম হে বাইত থেকা বাইর কইরা দিল। গ্রামের কেও আশ্রয় দিল না। সবাই কইল তুই একটা নষ্টা তোরে আশ্রয় দিলে আমাগো পাপ হইব। যারা আশ্রয় দিতে চাইল তারা আমার সাথে খারাপ কাম করতে চাইল। সকল জ্বালা যন্ত্রনা সহ্য কইরা ছোট বইনডারে লইয়া ঢাকা চইলা আইলাম। এক বস্তিতে উঠলাম। বস্তির এক আপার সাহায্যে পেটের ভিতর মাংস পিন্ডিডা ফালাই দিলাম। পা রাখলাম অন্য এক জগতে। এই জগতে নেই কোন ভালবাসা নেই কোন স্বপ্ন আছে শুধু মৃত্যু। মৃত্যু ডারে হাতের মুঠোয় লইয়া শুরু হইল আমার জন্য এক জগৎ। অহন আমি রাতের বেলা ঢাকার শহরের অলিতে গলিতে হাটি খদ্দারের আশায়। আজকা একজনের সাথে ত কালকা অন্যজনের সাথে রাত কাটাই। কেউ বলে নিশিকন্যা আবার সমাজের ভদ্রলোক গুলান কয় পতিতা। আমি ইচ্ছা কইরা এই পথে আসি নাই। পরিস্থিতি আমারে এই পথে আনতে বাধ্য করছে। আমার মত অনেক জরিনা আছে হয়ত একই ঘটনার শিকার হইয়া এই পথে আসছে। কেও ইচ্ছা কইরা এই পথে আসেনা সবাই চায় সুন্দর ভাবে বাচঁতে। সামাজে আমরা নষ্টা বইলা পরিচিত। কিন্তু যারা আমাগো এই পথে আনতে বাধ্য করছে তারাত ঠিকই সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করছে। তাদের সংসার আছে সবই আছে আর আমাগো কিছু নাই। সমাজের ওই মানুষ রূপী জানোযার গুলি হয়তো আরো জরিনার জন্ম দিব। তারাতো ঠিকই ভাল থাকব।
আর আমরা?


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…

ভাল মানুষ হতে চাই



-কাজী সাদ্দাম হোসেন

উত্তরা হাইজবিল্ডিং নর্থ টাওয়ার পিছনে চা স্টলে দাড়িয়ে চা পান করতে ছিলাম। হঠাৎ পিছন থেকে একটা ছেলে ( বয়স ৯ কি ১০ বছর ) আমার হাত ধরে বলতে লাগলো স্যার ৫টা টাকা দেন , ৫টা টাকা দেন.. এভাবে কয়েকবার বলল। আমি কিছুটা বিরক্তি বোধ করলাম । বললাম টাকা দিয়ে কি করবা। ছেলেটি বলল কিছু খামু । আমি কাওকে টাকা দেইনা । দেন না স্যার দেন না স্যার ছেলেটি কয়েক বার বলতে লাগলো। লক্ষ্যে করলাম ছেলেটার পাশে ওর বয়সি আরেকটা ছেলে , হাতে বড় একটা বস্তা । কিন্তু ছেলেটা কিছু বলছে না । আমি বললাম তোমরা কি কর ওরা দু’জন বলল আমরা বোতল টুকাই । এতি মধ্যে আমার চা পান করা শেষ । আমি বিলটা দিয়ে ওদের দু’জনকে বললাম চল আমার সাথে তোমরা সামনে গিয়ে বসে একটু গল্প করি তারপর তোমাদের খাওবো । প্রথম ছেলেটা ( যে ছেলেটা টাকা চেয়েছিল ) ও বলল না আপনে এহনে টাহা দেন । আমরা কিনা খামুনে । কিন্তু দ্বিতীয় ছেলেটা কিছু বলল না । এরপর দ্বিতীয় ছেলেটা প্রথম ছেলেটাকে বলল ,চল কাজ করিগা টাহা চাইতে হইব না । প্রথম ছেলেটাকে ওকে ধমক দিল বলল, চুপ থাক ।
এবার আমি দুজনের কাধে হাত রেখে বললাম চল একটু সামনে যাই তোমদের খাওয়াবো । এই অবস্থা দেখে প্রথম ছেলেটা বলল, তাইলে আমার এক বন্ধু আছে ওরে ডাইকা লইয়া আহি এই বলে দৌড় দিল । দ্বিতীয় ছেলেটা বলল, ও আর আইব না ভাই । আমি বললাম কেন । ছেলিটি বলল. ওর এমনই সভাব কাম না কইরা খালি টাহা চাইব মাইনষের কাছে । না দিলে থাকবো না চইলা যাইব । টাহা দিয়া খালি আবি জাবি খাইব । আমি বললাম ও । তারপর ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলাম নাম কি তোমার ।
-রিয়াজ
-রিয়জ চল আমরা একটু বসি আমি বললাম।
-আচ্ছা চলেন।
আমরা দু’জন সামনে হেটে একটা বাসার রেলিং এ বসলাম। রিয়াজকে বললাম বোতল টুকাও কেনা ।
-পেটের জ্বালায় ভাই ।
-শুধুকি বোতল টুকাও নাকি অন্যের কাছে টাকা চেয়ে বেড়াও ।
-আমি কারও কাছে টাহা চাইনা । দেহেন নাই আমি কি আপনার কাছে টাহা চাইছি একবার । ওরা হুধু টাহা চায় কাম না কইরা । আমি হুদু কাম করি ।
-টাকা চাওনা কেন ?
-ভাই অন্যের কাছে টাহা চাওয়া ভাল না। নিজে কাম কইরা খামু তাতে অনেক শান্তি । পড়ের টাহায় কোন শান্তি নাই ।
-রিয়াজ তুমি কি পড়শুনা কর ?
-না , পড়হুনা করলে পেড চলবো কেমনে ।
-তোমার বাবা কি করে।
-বাবা নাই অনেক আগে মারা গেছে।
-আর মা।
– মা অন্যের বাইতে কাম করে।
-ভাই বোন নেই ।
– একটা বইন আছে গার্মেন্টসে কাম করে ।
-তোমার কি পড়শুনা করতে মন চায় না ।
-হ চায়ত কিন্তু পড়াহুনা করলে কি পেড চলবো ।
-কেন তোমার মা-বোন’ত কাজ করে
-বইনে যা পাই তা দিয়া ঘড় ভাড়া দেয় । মা’ইর টাকা দিয়া চলে না । তাই আমার কাম করতে হয় ।
-বোতল টুকিয়ে সারাদিন কত টাকা পাও ।
– এই’ত ১০০-২০০ টাহা ।
-এই টাকায় হয় তোমাদের ।
-হইয়া যায় ভাই । আল্লায় চালায় ।
-বড় হয়ে কি হতে চাও ।
– মায় কয় তোরে পড়াহুনা করাইতে পাড়লাম না । তাই বইলা খাড়াপ মানুষ হইস না ভাল মানুষ হইস । তাই আমি ভাল মানুষ হইতে চাই ।
-ও, তাই ।
– আইচ্ছা ভাই পড়াহুনা করলেই কি ভাল মানুষ হওয়া যায় । না করলে কি হওয়া যায় না ।
-হুম যায় । আচ্ছ রিয়াজ চল তোমাকে কিছু খাওয়াই ।
-না ভাই আমি কিছু খামু না ।
-খাব না বললে হবে না । বল কি খাবা ।
-না আমি কিচ্ছু খামু না ।
-খাবা না । তাহলে আমার সাথে আসলা না কেন ।
-আপনে কইলেন তাই । আপনারে দেইখা ভাল লাগলো তাই ।
-ও আচ্ছা । তো কিছু খেলে সমস্যা কি ।
-অন্যের কাছে খাইলে স্বভাব খারপ হইয়া যায় ।
-কে বলেছে তোমায়।
-মা কইছে ।
আমি কিছু টাকা বের করে রিয়াজের হাতে দিলাম। বললাম টাকাটা রাখ । রিয়াজ বলল না ভাই টাহা আমি নিতে পারুন না ।
-কেন ?
-ভাই কাম কইরা খাইতে চাই । অন্যের টাহায় না ।
-আমি জানি । টাকাটা আমি খুশি মনে দিলাম তোমাকে ।
-না ভাই তবুও আমি নিতে পারুম না ।
আমি আর কিছু বললাম না। রিয়াজ বলল ভাই আমি যাই অনেক দেরি হইয়া গেল। ও তাইতো তোমার অনেক দেড়ি হয়ে গেল। আচ্ছা যাও তাহলে ভাল থেকো। আপনেও ভাল থাকবেন আমার জন্য দোয়া কইরেন যেন ভাল মানুষ হইতে পারি। এই বলে রিয়াজ চলে যেতে লাগলো। আমি রিয়াজের যাওয়া দিকে তাকিয়ে রইলাম অনেক্ষণ।


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

‘দুর্নীতিবাজদের অবশ্যই বিচার হবে’

সরকার তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শান্তি ও…


রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

রূপা হত্যা মামলা, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন…


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে ভোট হতে দেয়া হবে না: বিএনপি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখাই লক্ষ্য: ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই সরকার তড়িঘড়ি করে খালেদা জিয়ার মামলার রায় দিচ্ছে; বলে অভিযোগ করলেন…


সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

সীতাকুণ্ডে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, নিহত ১

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

আখেরি মোনাজাতে শান্তি কামনা

ঈমানি জিন্দিগি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি…


'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

'সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন'

সামাজিক গণমাধ্যমের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসি রেডিও ফোরে…


কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

কাবুলে বোমা হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সংবাদ সংস্থা আফগান ভয়েস এজেন্সির…