জাতীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা



এমাজউদ্দিন আহমেদ::
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশন বা জেসিসির তৃতীয় বৈঠকে যোগ দিতে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের প্রতিনিধিদলের নেৃতত্ব দেন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি গত জুনে ঢাকা সফর করে গেছেন। অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সভার দুই পক্ষই বারবার উচ্চারণ করে যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়ে চলেছে। কিন্তু যে দুটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আশা করা গিয়েছিল- তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবং সীমান্ত সম্পর্কিত বিষয়- সে ক্ষেত্রে আবারও মিলেছে প্রতিশ্রুতি। অনেক ভালো ভালো কথা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রতিশ্রুতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনায় অগ্রসর হলেও যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ভোটারবিহীন নির্বাচনের ফলে তৈরি হয়, সেই দূরত্ব মস্ত বড় প্রশ্নবোধক চিহ্নের মতো বাধা সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের নেতৃত্বের সামনে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময়ও তা অনুভূত হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশনের বিবৃতিতে রয়েছে ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর মধ্যে ৭ নম্বরে রয়েছে সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়টি এবং তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি রয়েছে ২৪ নম্বরে। এ সম্পর্কে শুধু একটি বাক্য উচ্চারিত হয়েছে। দুই মন্ত্রী তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টনের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মূল সীমান্ত সম্পর্কেও একটি বাক্যে দুই মন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য শেষ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির বিষয়ে প্রটোকল স্বাক্ষরের পর এর র্যাটিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাজ চলছে। অন্য কথায়, ড. মনমোহন সিংয়ের সময়ে এ দুটি বিষয় যে অবস্থায় ছিল, এখনো সে অবস্থায় রয়েছে। যৌথ বিবৃতির ১৩ নম্বরে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি। এতে অবশ্য ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের কথা বলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগের কথা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য আগ বাড়িয়ে বলেছেন, বিনিয়োগের সুবিধার জন্য, বিশেষ করে বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা প্রতিষ্ঠার জন্য, জমিও দেবে ভারতকে বাংলাদেশ। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো হোমওয়ার্ক আছে কি না তা জানি না। অন্য কথায়, আমাদের প্রতিনিধিদের অন্যকে দেওয়ার প্রবণতাটা উল্লেখযোগ্য। জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাপানের পক্ষে। এতে জাপানের খুশি হওয়ারই কথা, কেননা জাপানের জয়লাভের পথ প্রশস্ত হলো। কিন্তু জাপান থেকে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ কি বাংলাদেশ পাবে? যৌথ বিবৃতির ৯ নম্বরে রয়েছে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে প্রাণহানি কমিয়ে আনতে ভারতের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাঁরা দুই ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রের সীমান্তজুড়ে তারকাঁটার বেড়া প্রদানের কাজটিও সমাপ্ত করার কথা বলেছেন; কিন্তু সীমান্তে বাংলাদেশের জনগণকে আর হত্যা করা যেন না হয়, তা বলেননি। কর্তৃত্বব্যঞ্জক বক্তব্যের জন্য জাতীয় ঐক্যের আশীর্বাদপুষ্ট হতে হয়।

জাপান একটি গণতান্ত্রিক দেশ। নিয়মিত সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেখানে। প্রতিবেশী ভারতেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নিয়মিত, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। ৫ জানুয়ারিতে বাংলাদেশে যা হয়েছে তা জাপানও জানে। জানে ভারতও। ভারতের তখনকার কংগ্রেস সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওই নির্বাচনে ক্যানভাস করতেও এসেছিলেন, যেন ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় থেকেই যান। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৫(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে : ‘একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত ৩০০ সদস্য লইয়া এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার কার্যকরতাকালে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদিগকে লইয়া সংসদ গঠিত হইবে।’ তবে সংবিধানে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাবে একক প্রার্থীর নির্বাচনও স্বীকৃত টেকনিক্যাল গ্রাউন্ডে। কিন্তু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের সংখ্যা যদি এমন হয় যে প্রত্যক্ষ নির্বাচন ছাড়াই তারা সরকার গঠন করতে পারবে, তাহলে সংবিধানে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার যে বিধান রয়েছে তাকে অকার্যকর করে দেয় এবং ফলে তা অসাংবিধানিক হয়ে পড়ে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় সংসদের সদস্য হয়েছেন ১৫৩ জন। টেকনিক্যালি হয়তো তাঁরা সদস্য হওয়ার যোগ্য। কিন্তু সাংবিধানিকভাবে, বিশেষ করে নৈতিক দিক থেকে ভেবে দেখুন তো জাতীয় সংসদে তাঁদের বসা উচিত কি না? অন্য ১৪৭ জনের ক্ষেত্রেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। অন্য কথায়, এই সংসদ কি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে? পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে সৃষ্ট জটিলতার কারণে বাংলাদেশে যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান তো আমাদের জাতীয় নেতৃত্বকেই করতে হবে। আমার বিশ্বাস, তাঁদের সেই প্রজ্ঞা রয়েছে। নেই শুধু আগ্রহ। নেই কোনো সদিচ্ছা। এর সুষ্ঠু সমাধান ছাড়া আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিদেশে ভালো ভালো কথা বলছেন। কিন্তু নিজের দেশের সমস্যা অনুধাবন করে একটা ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেন?

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কার্যত সীমাহীন। তিনি দলের নেতা। তিনি মন্ত্রিসভার প্রধান। তিনি জাতীয় সংসদের নেতা। কয়েক দিন আগে শুনলাম, বিরোধী দলের এক নেতার বাণী : তিনি বিরোধী দলেরও নেতা। ষোড়শ সংশোধনীর পরে তিনি বিচারালয়ের, বিশেষ করে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের দায়িত্ব পেলেন। দায়িত্ব পেলেন দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন, কর্ম কমিশন, নির্বাচন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অপসারণেরও। সংবিধানের ৫৫ ও ৭০ অনুচ্ছেদ বলে তিনি এমন সব কিছু করতে পারেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও কল্পনা করতে পারেন না। মোগল সম্রাট, এমনকি রাশিয়ার জারদের (Czar) থেকেও পরম পরাক্রমশালী আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তার পরও বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানে এত অক্ষম!

লেখক : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

পাতাটি ২৮০৮ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


জাতীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

এমাজউদ্দিন আহমেদ:: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশন বা…


ভেরি ব্যাড পলিটিক্স..!

দৃশ্য ১. জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের খুব মন খারাপ। মালয়েশিয়ায় বিএনপির মতো কোনও দল…


জাপানের বৃদ্ধাশ্রম

আশির আহমেদ: পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কোন দেশের মানুষ? আবার জিগায়। জাপান। মহিলাদের গড়ায়ু ৮৭…


রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম

মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই…


জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

ড. মীজানুর রহমান বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের…

ভেরি ব্যাড পলিটিক্স..!



দৃশ্য ১. জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের খুব মন খারাপ। মালয়েশিয়ায় বিএনপির মতো কোনও দল নেই কেন? তাদের দাদীর মতো কোনও নেত্রী নেই কেন? থাকলে তাদের এত তাড়াতাড়ি মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হতো না। দাদীর সাথে দাদীর অফিসে থাকতে পারত। এখানে কত থ্রিল। দাদীর অফিসের চারপাশে পুলিশ, গোয়েন্দা, সাংবাদিক গিজগিজ করে। মধ্যরাতে হঠাৎ ইলেকট্রিসিটি চলে যায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে রাত পার করতে হয়। তারা অত রাজনীতি বোঝে না। তাদের কাছে পিকনিক পিকনিক লাগে। কিন্তু এখন বাবাকে হারানোর ব্যথা কাটানোর আগেই তাদের মালয়েশিয়া গিয়ে বসতে হবে পরীক্ষায়। কোনও মানে হয়!

দৃশ্য ২. অনিন্দ্য রহমান আর জাকিয়া আহমেদেরও মন খুব খারাপ। সারাবছর প্রস্তুতি নিয়েছে এসএসসি পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষা নিয়ে মায়েদের যত মাথাব্যথা, তাদের ততটা নয়। পরীক্ষা নিয়ে তাদের টেনশন আছে। তবে তাদের প্রতীক্ষা পরীক্ষা শেষ হওয়া নিয়ে। পরীক্ষা শেষে কী কী করবে, কোথায় কোথায় যাবে, তার লম্বা তালিকা তৈরি। এসএসসি পরীক্ষা শেষ মানেই বড় হয়ে যাওয়ার লাইসেন্স। শুধু জাহিয়া, জাফিয়া, অনিন্দ্য আর জাকিয়া নয়; আসলে গোটা বাংলাদেশেরই মন খারাপ। সকালে ঘুম ভাঙে পেট্রোল বোমায় ৭ জনের পুড়ে অঙ্গার হওয়ার খবর দিয়ে। বাংলাদেশ ঘুমোতে যায় টানা হরতালের ঘোষণা নিয়ে। দেখা হলেই একজন আরেকজনকে জিজ্ঞাসা করেন, ভাই এর শেষ কোথায়? কী হচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে দেশ? কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না। দেশটা যেন মগের মুল্লুক হয়ে যাচ্ছে। কে যে কী করছে বোঝা যাচ্ছে না। টানা অবরোধের বিশ্ব রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মৃত্যুর তালিকায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। বিরোধী দল দাবি করছে, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। তাহলে বোমাগুলো মারছে কে? পত্রিকায় লেখা হয়, দুর্বৃত্তরা বোমা মারছে। এই দুর্বৃত্ত কারা?
বেগম খালেদা জিয়া ৩ জানুয়ারি রাত থেকে তার গুলশান অফিসে থাকছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তবে সরকার বলছে, বেগম জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। তিনি নাটক করছেন। তবে বাস্তবে বিএনপির দাবিই সত্য বলে মনে হয়েছে। পুলিশ ইটের ট্রাক, বালুর ট্রাক দিয়ে পথরোধ, গেটে তালা দিয়ে সরকারের দাবি মিথ্যা আর বিএনপির দাবিকে সত্য প্রমাণ করেছে। কিন্তু সত্যি সত্যি যখন সরকার সব ধরনের অবরোধ তুলে নিলো, তখনও বেগম জিয়া অফিসেই রয়ে গেছেন। জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া অফিস থেকে বেরুলেই তার অফিসটি সিলগালা করে দিতে পারে সরকার। গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে নয়াপল্টন অফিস সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। তাই এই অফিসটি রক্ষায় বেপরোয়া বেগম জিয়া। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক দেশে একটি গণতান্ত্রিক দলের অফিস কেন সিলগালা করে রাখা হবে? বেগম জিয়াকে গুলশানের অফিস থেকে বের করার জন্য সরকার নানা কায়দা কৌশল করছে। শ্রমিক, দিনমজুর, শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে বেগম জিয়ার অফিস ঘেরাও করতে। তবে সবচেয়ে খারাপ কৌশলটা করেছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। গত শুক্রবার বিকেলে এক সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন, বেগম জিয়ার অফিসের পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এমনকি বেগম জিয়ার খাবারের সরবরাহও কেড়ে নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। যাতে বেগম জিয়া গুলশান অফিসে না খেয়ে মরে পড়ে থাকেন।

মন্ত্রিসভার একজন সিনিয়র সদস্য, একজন আইন প্রণেতা এমন বেআইনী কথা বলতে পারেন, এটা আমার বিশ্বাস হয়নি। তারপরও আমি নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছি, রাজনীতিবিদদদের মেঠো বক্তৃতা হিসেবে। কিন্তু আমার বিস্ময়ের সীমা অতিক্রম করে শাজাহান খানের ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যে বেগম জিয়ার অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরদিন বিচ্ছিন্ন করা হয়, ক্যাবল টিভি ও ব্রডব্যান্ড সংযোগ। ১৯ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হলেও এখনও ক্যাবল টিভি আর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নেই। অফিসের লোকজনের সময় কাটে বিটিভি দেখে। এটা কম শাস্তি নয়। কিন্তু মজাটা হলো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রীর ঘোষণার ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও শাজাহান খান বলছেন, সরকার এটা করেনি, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। গুলশান থানা বলছে, তারা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। ডেসকোর চেয়ারম্যান বলছেন, তিনি কিছু জানেন না। এমনকি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তিনিও কিছু জানেন না। কী আশ্চর্য! সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে, আর কেউ কিছু জানবেন না, এটা কিভাবে সম্ভব। সরকার তাহলে কে চালাচ্ছে? শাজাহান খানের কথা যদি সত্য হয়, যদি সবার অজান্তে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরাই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে থাকে, তাহলে সেই বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে তো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর যারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, তারা মধ্যরাতে এলেও গোপনে আসেনি। রীতিমত টিভিতে সাক্ষাতকার দিয়েছে তারা। বেগম জিয়ার অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্পর্কে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, ‘এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ইটস এ ব্যাড পলিটিক্স। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা রাজনীতির অংশ হতে পারে না।’ মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ঠিক বলেছেন, দেশে যা চলছে, তা নিছক ‘ব্যাড পলিটিক্স’ নয়, ‘ভেরি ব্যাড পলিটিক্স’। আমরা দিন গুনছি উজ্জ্বল বাংলাদেশের, গুড পলিটিক্সের।
লেখক: সাংবাদিক ও অ্যাসোসিয়েট হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ।
ইমেইল: Probhash2000@gmail.com

(* প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রকাশিত লেখার জন্য দশদিক কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।)

পাতাটি ২৭৩৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


জাতীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

এমাজউদ্দিন আহমেদ:: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশন বা…


ভেরি ব্যাড পলিটিক্স..!

দৃশ্য ১. জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের খুব মন খারাপ। মালয়েশিয়ায় বিএনপির মতো কোনও দল…


জাপানের বৃদ্ধাশ্রম

আশির আহমেদ: পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কোন দেশের মানুষ? আবার জিগায়। জাপান। মহিলাদের গড়ায়ু ৮৭…


রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম

মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই…


জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

ড. মীজানুর রহমান বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের…

জাপানের বৃদ্ধাশ্রম



আশির আহমেদ:
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কোন দেশের মানুষ? আবার জিগায়। জাপান। মহিলাদের গড়ায়ু ৮৭ বছর, পুরুষ দের ৮২। কিন্তু এটা কি গর্ব করার জিনিস? জানিনা। চিন্তা করতেই মাথা ব্যথা শুরু হলো। ১৯৮৮ সাল। জাপানের এক স্কুল শিক্ষকের সাথে কথা। সরকার দ্রব্যমূল্যের উপর ৩% কর বসাতে যাচ্ছেন। উনার এটা পছন্দ না। অপছন্দের কারণ টা বুঝালেন এভাবে – একটা কাগজে কলসির মত একটা ছবি আঁকলেন। বললেন এটা জাপানের জনসংখ্যা পিরমিড। নীচের আর উপরের অংশ সরু আর পেট খানা মোটা – মানে হল শিশু আর বৃদ্ধের সংখ্যা কম আর যুবকদের সংখ্যা বেশি। যুবকরা উপার্জন করছে, বৃদ্ধ ও শিশুরা ভোগ করছে।

২৫ বছর পর এই জনসংখ্যা পিরমিডের কলসিটা হবে উল্টো। বুড়োদের সংখ্যা হবে বেশি। কাজ করার লোক হবে কম, খাওয়ার লোক বেশী। দেশ অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়বে। এখন থেকে ৩% কর জমিয়ে রেখে ২৫ বছর পর কাজে লাগানো হবে। এই হচ্ছে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। উনার ধারনা, এই টাকা সরকার অন্যত্র ব্যয় করবে। ১৯৮৯ সাল থেকে কর তোলা শুরু হলো। বছরে এই ট্যাক্স থেকে আয় হয় ১০ ট্রিলিয়ন টাকা।

২৫ বছর কাটলো। তখনকার ৪০ বছরের যুবক এখন ৬৫। বৃদ্ধের খাতায় নাম লিখাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সরকার ও লোভী হয়ে উঠলেন। ধাপে ধাপে কর বাড়ালেন। ৯৭ সালে ৫%, ২০১৪ সালে ৮%। ২০১৫ এর অক্টোবর থেকে হবে ১০%। স্কুল শিক্ষকের ভবিষ্যৎবাণী ঠিক ছিল। সরকার অন্যত্র খরচ করা শুরু করেছেন। ২৫ বছরে আর কি কি বুঝলাম ? চোখের সামনে জনসংখ্যার পরিবর্তনটা দেখলাম। কতগুলো আচানক ব্যাপার ও চোখে পড়লো।

(১) হু হু করে কমলো তরুণ জনসংখ্যা : জাপানী এক ছাত্রের সাথে গল্প করছিলাম। আমাদের দুজনের মিল হলো দুজনেই গ্রাম থেকে এসেছি। অমিলটা হলো- আমি মোটামুটি সব খেলাধুলাই জানি। সে জানে শুধু টেবিল টেনিস। কাহিনী কি ? প্রাইমারি থেকে জুনিয়র হাই স্কুল পর্যন্ত তার ক্লাসে ছাত্র সংখ্যা ছিল সব মিলে এক। শিক্ষকের সংখ্যা ও এক। খেলাধুলার ক্লাসে একটা খেলাই দুনপ্রিয় (দুজনের প্রিয়) ছিল সেটা হলো – টেবিল টেনিস। এধরনের ছাত্র বিহীন স্কুল সরকার কতদিন চালাবেন? কত আর ভর্তুকি দিবেন? ঠুস ঠাস করে প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল গুলো বন্ধ হওয়া শুরু হল [১] । জাপানে মানুষের বাচ্চার চেয়ে পোষা কুকুরের সংখ্যা বেশী। কুকুরের সংখ্যা হলো ২০মিলিয়ন আর ০-১৫ বছরের শিশুর সংখ্যা ১৫মিলিয়ন। লাও ঠেলা। সরকার এখন জনসংখ্যা বাড়াতে চাচ্ছেন। একটা করে সন্তান দে,৪ লাখ টাকা গুনে নে- জ্বি, প্রতি বাচ্চার জন্য সরকার ৪ লাখ টাকা করে অফার করছেন। বাচ্চাদের শিক্ষা চিকিৎসা সবই ফ্রি করে দিয়েছেন। তারপর ও উর্বর দম্পতিদের মন গলাতে পারছেননা। সোশ্যাল ইন্টারকোর্স বাড়ানোর জন্য সাপ্তাহিক ছুটি একদিনের জায়গায় দুইদিন করলেন, ওভারটাইম কে ডিসকারেজ করলেন। শনিবার রাতে টিভিতে প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য স্পেশাল প্রোগ্রাম ও বানালেন। তেমন ফলাফল এলোনা। আজকাল যুবকরা বিয়ে করতেই রাজি হচ্ছেন না। ৩০ এর উর্ধে অবিবাহিত মহিলাদের সংখ্যা কত জানেন? সমীক্ষা বলছে, ৩০-৩৪ বছর বয়সের অবিবাহিত মহিলার সংখ্যা ৪৭% [২]। এর মধ্যে আমাদের ফুকুওকা শহর সবার উপরে।

জাপান সরকার এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সাহায্য কামনা করতে পারেন। আমরা জনসংখ্যা কমাতে চাই, উনারা বাড়াতে চান। উইন উইন সিচুয়েশন। ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাই। পৃথিবীর গোটা-বিশেক দেশের গ্রাম/ছোট শহর দেখার সুযোগ হয়েছিল। স্কটল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এর গ্রাম/উপশহর গুলো দেখেছি। জনসংখ্যার অভাবে উপশহরগুলো কেমন যেন প্রাণহীন, মৃতপ্রায়। নো মানুষ, নো ইকনমিক এক্টিভিটি। বুঝতেই পারছেন জাপান সরকার কেন স্কিল্ড বিদেশি আমদানি করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের জন্য হতে পারে একটা বিরাট বিজনেস চান্স। ইতিমধ্যে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপিনোরা এই চান্সটুকু কাজে লাগানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। বড় টার্গেট জাপানের বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী। এদের টাকা আছে। উদ্দেশ্য হলো এই বৃদ্ধদের জন্য নূতন সার্ভিস ক্রিয়েট করে নূতন ব্যবসা ডিজাইন করা। অন্যতম হচ্ছে হোম-কেয়ার।

(২) বৃদ্ধদের একা থাকা : ১৯৯৮ সালের কথা। পি,এইচ,ডি-র ছাত্র তখন। ইন্টারনেট ট্রাফিক এনালাইসিস নিয়ে কাজ করছি। ক্যাম্পাস থেকে ১৪ কিমি দুরে এক ডাটা সেন্টার থেকে নেটওয়ার্ক ট্রাফিক ডাটা নিয়ে আসতে হতো। একদিন আধা কিলো ডাটা (৫০ গ্রাম x ১০ টা সিডি) নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরছি। অগাস্ট মাস দুপুর বেলা। প্রচণ্ড গরম। গাড়িতে এ,সি নেই। গান গাইতে গাইতে গাড়ি চালাচ্ছি। দেখি, এক বুড়ি রাস্তার পাশে হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছেন। দেখলাম, কিন্তু থামলাম না। জাপানে সাধারণত কেউ লিফট চায়না। বড়ই বিরল। কৌতূহল কমাতে না পারে ইউ-টার্ণ করলাম। উনার পাশে গাড়ি থামাতেই উনি দরজা খুলে পিছনের সিটে বসলেন। একটা হাসপাতালের নাম বললেন। চিনলাম। আমাদের ক্যাম্পাসের পাশেই। গাড়ি চলছে। উনি ও কথা বলছেন না। আমি ও না। এই নিস্তব্দতা টা দারুণ পীড়াদায়ক। উনি নির্ঘাত আমাকে ট্যাক্সি ড্রাইভার ভাবছেন। এই ভুল ভাবনাটা দুর করার জন্য হলেও কথা বলাটা দরকার। আমিই শুরু করলাম। আতসুই দেস নে (খুব গরম তাই না? )। বিদেশে কথা শুরু করার জন্য আবহাওয়া একটা চমৎকার টপিক। বুড়ি কথা বললো না। মেজাজ টা খারাপ হলো। এবার আমার চুপ থাকার পা
লা। একটু পর উনিই কথা তুললেন। -কোনদিকে যাচ্ছ? কাতাহিরা ক্যাম্পাস। আপনার হাসপাতালের পাশেই। -কোত্থেকে এসেছ? মেক্সিকো? নাহ, বাংলাদেশ। বাংলাদেশ শুনেই সে আর এক বাংলাদেশি ছেলের গল্প বললো যে তাকে সেন্দাই স্টেশনে সিঁড়ি নামতে সাহায্য করেছিলেন। নাম বলতে পারলেন না কিন্তু অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে বাংলাদেশের নাম বললেন। গর্বে বুকটা ভরে গেল। স্যালুট মাই কান্ট্রিম্যান। – তোমার দেশের সব ছেলেই কি দয়ালু নাকি? জ্বি। আসলে পৃথিবীর সব ছেলেরাই দয়ালু। আমি মিররে দেখলাম, উনি মুচকি হাসলেন। একটু সহজ ও হলেন। তবে জাপানের সাথে একটু তফাৎ আছে। মেয়েদের প্রতি বেশি দয়ালু বলতে পারেন। পুরুষ মহিলা একসঙ্গে হাঁটলে ভারি লাগেজটা সাধারণত পুরুষটা বহন করে। বাসে ট্রেনে মহিলা দেখলে সাধারণত পুরুষরা সিট ছেড়ে দেয়। শুধু কি তাই? গত ৮ বছর পুরো দেশের শাসনভার আমরা মহিলাদের উপর ছেড়ে দিয়েছি। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আমরা জেন্ডার-ইকুয়ালিটি দেখিনা। উই রেস্পেক্ট মহিলা, উনাদের উচ্চাসনে রাখি। আবারো হাসলেন। বৃদ্ধ আর শিশুদের হাসি সবচেয়ে সুন্দর হয়। তবে এই হাসি বের করে নিতে হয়।

বেশিক্ষণ কথা হলোনা। এর মধ্যে উনার হাসপাতালে পৌঁছলাম। বাকি কথায় যা বুঝলাম – উনি রেগুলার চেক আপ করতে হাসপাতালে যান। বাড়িতে একা থাকেন। ছেলে মেয়েরা থাকে টোকিওতে। রেগুলার চেক আপ বলতে কিছু না। হাসপাতালে গেলে আরও কয়েকজনের সাথে দেখা হয়। নূতন বন্ধু ও তৈরি হয়। একাকিত্ব ভাল্লাগেনা। বৃদ্ধাশ্রম শব্দটা পছন্দ করেননা। বর্তমানে বৃদ্ধদের জনসংখ্যার ৮% লোক একা থাকেন। অন্য এক সামাজিক সমস্যা। খাবার সরঞ্জাম কিনার টাকা আছে, রাঁধতে পারছেন না। গাড়ি আছে, চালাতে পারছেন না। ব্যাঙ্কে টাকা আছে, ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট করতে পারছেন না। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও না খেয়ে মরছেন, এমন সংখ্যা ও কম নয়। বড় কথা একজন মানুষ মারা গেলে তা টের পাওয়ার ও লোক নেই। আইছ একা, যাইবা গো একা, সঙ্গে কেহ যাইবে না … কিন্তু মরার আগে শেষ কথা কাউকে বলে যাবেন শুনার লোক নেই। ফাঁসির আসামিকে ঝুলানোর আগে শেষ খাবার খাওয়ার, শেষ সাক্ষাত করার, শেষ কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়। একা একা মরার কষ্ট আমাদের জানার উপায় নেই । এই হল এইজিং সোসাইটির হাল। ডেনমার্ক, সুইডেনের মত দেশে বুড়ো লোক নিজ এপার্টমেন্টে মরে পড়ে থাকার ৬ মাস, ৩ বছর পর টের পেয়েছেন এমন ঘটনা ও আছে। আমরা ও শীঘ্রই এইজিং সোসাইটিতে পা দিতে যাচ্ছি। জাপানীরা টেক প্রিয় জাতি। কয়েকটি কোম্পানি গবেষণায় নেমে গেল- কিভাবে অসুস্থ রোগীকে কে রিমোট থেকে আর্লি ডিটেক্ট করা যায়।

প্যানাসনিক তাদের থার্মফ্লাক্সে একটা সেন্সর আর ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি দিয়ে দিলেন। আইডিয়াটা হলো – জাপানী বৃদ্ধরা ঘন ঘন গ্রিন চা খায়। চা খাওয়ার জন্য গরম পানি লাগবে। থার্মফ্লাস্কে পানি পাফ করতে গেলেই সিগনাল চলে যাবে ইন্টারনেটে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিগনাল না পেলে এলার্ট চলে যাবে তার রিমোট ডাক্তার, আর পরিবার সদস্যের কাছে। নিয়মিত সিগন্যাল পেলে ধরে নিবে বুড়ো সুস্থ আছেন। টোটো কোম্পানি টয়লেটের ফ্লাশ এ বসিয়ে দিলেন সেন্সর। একই উপায়ে রিমোট থেকে মনিটর করা সম্ভব। সুস্থ থাকলে টয়লেট ফ্লাশ করবেনই। কেউ কেউ ভিডিও ক্যামেরার আইডিয়া ও দিলেন। প্রাইভেসি নিয়ে কথা উঠল। এই আইডিয়া বেশিদুর এগুলো না।

৩। মরতেই যখন হবে, মরবেন কিভাবে :হুমায়ুন আহমেদের একটা নাটকের কথা মনে আছে? “একা একা”? [৩]। সম্ভবত ৮৬ সালের। দাদাজান “আবুল হায়াত” মারা যাবেন। কি এক পারিবারিক প্রস্তুতি। একান্নবর্তী পরিবার। ছেলে, বউ নাতি পুতি একবাড়িতেই আছেন। মেয়েদের শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্ররা এসে কোরআন পড়ছেন। ছেলেমেয়েরা যার যার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশের বাড়ির নিম্নবিত্ত পরিবারের বিনু “সুবর্না মুস্তাফা” একজন হোমকেয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন। কি এক সাস্টেইনেবল সামাজিক দৃশ্য। আপনি কিভাবে মরতে চান? ভারতে হিন্দু ধর্মে বুড়োরা শেষ দিন গুলো পুণ্যস্থান বেনারসে কাটাতে পছন্দ করতেন। পাপুয়া নিউগিনিয়াতে একসময় এমন দৃশ্য ও ছিল। আপনি জীবনে পুণ্য কাজ করে থাকলে বৃদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে আপনাকে কেটে কুচি কুচি করে কমিউনিটির সবাই মিলে খেয়ে পুণ্যের ভাগ নিবে। আমি এখন যেখানে থাকি এটা ফুকুওকা শহরের পশ্চিমে একটা ছোট পেনিন্সুলা (উপদ্বীপ)। তিন দিকেই সমুদ্র। সমুদ্র ঘিরে রিসোর্ট হোটেল তৈরি করাটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু তৈরি হচ্ছে হাসপাতাল। নামে হাসপাতাল, কাজে বৃদ্ধাশ্রম। বৃদ্ধাশ্রম শব্দটা পছন্দ না বলে নাম দিয়েছেন হোটেল। বুড়োরা শেষ দিন গুলো এখানে থাকতে আসেন। বৃদ্ধাশ্রম থুক্কু হোটেল কর্তৃপক্ষ উনাদের জন্য সকাল বিকাল শরীর চর্চা, মেডিক্যাল চেকআপ, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাওয়ার ট্যুর, আশেপাশে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার ট্যুর আয়োজন করেন। বিকালে সবাই মিলে চা খেতে খেতে সূর্যাস্ত দেখেন। সকালে দেখেন সূর্যোদয়। সমুদ্র দেখতে দেখতে একদিন ওপারে বেড়াতে চলে যান।

পাতাটি ২২৯৩ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


জাতীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

এমাজউদ্দিন আহমেদ:: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশন বা…


ভেরি ব্যাড পলিটিক্স..!

দৃশ্য ১. জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের খুব মন খারাপ। মালয়েশিয়ায় বিএনপির মতো কোনও দল…


জাপানের বৃদ্ধাশ্রম

আশির আহমেদ: পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কোন দেশের মানুষ? আবার জিগায়। জাপান। মহিলাদের গড়ায়ু ৮৭…


রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম

মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই…


জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

ড. মীজানুর রহমান বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের…

রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম



মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই চায় অল্প পুঁজিতে বা অল্পশ্রমে বেশি লাভ করতে। যে খানেই এক পন্যের সাথে আরেকটি পন্য ফ্রি পায় সেখানেই সবাই ভিড় জমায়। শুনেছি জাপানে একশ ইয়েন ফ্রি পেতে পাঁচশ ইয়েন খরচ করে হলেও তা সংগ্রহ করে থাকে। শুধু জাপানিজদের মধ্যে নয়, বরং আমাদের মুসলমানদের মধ্যেও এ প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। আমরা সামান্য আমল করেই জান্নাত হাতের মুঠোয় পেতে চাই। আর আল্লাহ মুসলমানদের এ মনোভাব বুঝতে পেরেই তার প্রিয় বান্দারে জন্য রমজান মাস দান করেছেন। কেন না রমজান মানেই কম আমলে বেশি সওয়াব লাভ করে জান্নাত লাভের সুব্যবস্থা।

রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত: রমজান হিজরতের নবম চন্দ্রমাস। রমজান অর্থ আগুনে পুরে যাওয়া। উত্তপ্ত হওয়া। যেহেতু এ মাসেই রোযাদাররা ক্ষুধায় তৃষ্ণায় পুড়ে যায় এবং এ মাসে রোযাদারদের পাপ সমূহ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাই এ মাসকে রমযান বলে নামকরণ করা হয়েছে। 11 মাসের অপবিত্রতা দূর করতেই মাহে রমজান মাসের আগমন ঘটে। এ মাস যারা পেল তারা সৌভাগ্যবান। এমাস পাওয়ার জন্য স্বয়ং নবী হযরত মোহাম্মদ(সা:) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। তাই আমাদেরও সেটা করা উচিত। এ বরকতময় মাসেই মহান আল্লাহ তার রাসূলগনের কাছে ওহী প্রেরণ করতেন। মহা গ্রন্থ আল কোরআন ও আসমানী অন্যান্য কিতাব সমূহ এমাসেই অবতীর্ন করেছেণ। তাই এ মাস হচ্ছে বরকতময় কারন 1. এ মাস ওহী নাযিলের মাস। 2.এমাসেই শয়তানকে শৃঙ্খলবদ্ধ করা হয়। 3. এ মাসেই বান্দার গুণাহ মাফ করে দেওয়া হয়। 4. এ মাস হচ্ছে কম পূজিতে বেশি লাভ করার মাস। এ মাসে প্রত্যেক আমলের সওয়াব 70গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আর তাই এমাসে বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত আর নফল এবাদত করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন করতে হবে।

তারাবীর গুরুত্ব ও মহত্ব: রমজান মাসের সারাদিন রোযা রাখার পর রাত্রে তারাবীর নামায পড়ার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। তারাবীর নামায পড়ার হুকুম হল সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যা পালন করা অপরিহার্য। বিনা ওযরে ছেড়ে দিলে অবশ্যই গুনাহগার হতে হবে। নবী হযরত মোহাম্মদ(সা:)থেকে শুরু করে সাহাবীগন ও তাবেঈন সালফে সালেহীন সকল যুগে ধারাবাহিকভাবে এর আমল অদ্যবদী চলে আসছে। এ অল্প সময়ের এবাদতের মাধ্যমে আললাহর সন্তষ্টি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তাই আমাদের তারাবীর নামায পড়ার ক্ষেত্রে বেশি করে মনোযোগী হতে হবে। নবী (সা:)তারাবীর নামায সম্পর্কে বলেছেন,“ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের প্রত্যাশায় তারাবীর নামায আদায় করবে, আললাহপাক তার সারা জিন্দেগির গুনা মাফ করে দিবেন।” (মুত্তাফাক আলাইহ্)।

জানা অজানা:
1. শরীয়তের ওযর ব্যতীত রমযানের রোযা কখনোই পালন না করা বা ভাঙ্গা যাবে না।
2. রোযা অবস্থায় ভুলবশত কেউ যদি কিছু খেয়ে ফেলে বা স্ত্রী সহবাস করলেওে রোযা ভাঙবেনা। তবে স্বরণ হওয়া সাথে সাথে তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
3. অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে রোযা ভাঙবেনা। তবে বমি যদি পূর্নবার গিলে ফেলে তা হলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।
4. মুখের লালা বা থুতু যত বেশিই হোকনা কেন তা গিলে ফেললে রোয়া ভাঙবেনা।
5. গোসল ফরয হলে সেহেরী গ্রহনের পূর্বে গোসল করা আবশ্যক। তবে ভুলে গেলে রোযা নষ্ট হবে না। স্বপ্ন দোষে রোযার কোন ক্ষতি করে না।
6. রোযা অবস্থায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যে কোন ধরনের ইনজেকশন বা স্যালাইন গ্রহন করলে রোযা ভাঙবেনা।

লেখক: মুফতি হাবীব আহমাদ খান
ইমাম ও খতীব, কামাতা মসজিদ, জাপান
মুঠোফোন: 07069464832

পাতাটি ১৫৫০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


জাতীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

এমাজউদ্দিন আহমেদ:: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশন বা…


ভেরি ব্যাড পলিটিক্স..!

দৃশ্য ১. জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের খুব মন খারাপ। মালয়েশিয়ায় বিএনপির মতো কোনও দল…


জাপানের বৃদ্ধাশ্রম

আশির আহমেদ: পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কোন দেশের মানুষ? আবার জিগায়। জাপান। মহিলাদের গড়ায়ু ৮৭…


রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম

মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই…


জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

ড. মীজানুর রহমান বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের…

জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ



ড. মীজানুর রহমান

বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। ধর্মীয় গ্রন্থে যেভাবে বলা হয়েছে, ঠিক সেভাবে না বলে অর্থাৎ ধর্মের অপব্যাখ্যাবিষয়ক বিভিন্ন বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। আর এই বইগুলোই জঙ্গিবাদকে অনুপ্রাণিত করছে। কেবল তাই নয়, এই জঙ্গিবাদ উত্থানের বড় কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। সমাজে অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে একটি বঞ্চিত ও অবহেলিত শ্রেণি রয়েছে। এই বঞ্চিত শ্রেণিকে খুব সহজে ভয় এবং প্রলোভন দেখিয়ে বশ করা যায়। এ জন্য জঙ্গিবাদ দমনে সামাজিক প্রতিরোধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে পাক-ভারত উপমহাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে। শিক্ষার বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা বিদ্যমান। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষারও কয়েকটি ভাগ দেখা যায়। আলিয়া মাদ্রাসাসহ কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সেখানে কী পড়ানো হয় এবং অর্থায়ন কীভাবে হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ে তেমন তদারকি দেখা যায় না। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বের হয় তারা খুব ভালো চাকরি পায় না। সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তেমন নেই। এতে তাদের মাঝে হতাশা কাজ করে। এক সময় মনে করা হতো, নানা দিক থেকে অধিকারবঞ্চিতরা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা গ্রহণ করছে আর তারাই জঙ্গিবাদের প্রধান একটি উৎস। কিন্তু এখন এর বিপরীত অবস্থা দেখা যাচ্ছে। কেবল সামাজিকভাবে বঞ্চিতরাই নয়, অনেক ধনী পরিবারের সন্তান, যাদের পিতামাতা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে তারাও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। এর পেছনেও কারণ হলো সামাজিক ব্যভিচার, অত্যাচার এবং যথাযথ সামাজিকীকরণের অভাব। যখন কেউ বিরূপ পরিবেশের মধ্যে বড় হয়, তখন তার মাঝে এক ধরনের হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় উচ্চ সমাজের শিশুদের অধিকার এবং বাবা-মার আদর-যতœ থেকে বঞ্চিত হতে দেখা যায়। মাদ্রাসায় পড়ার কারণে অনেকে ভালো চাকরি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মাদ্রাসাসহ ভুল শিক্ষায় শিক্ষিত লোকজনের এ বিষয়টি বেশি লক্ষণীয়। সর্বোপরি উচ্চ ও নিম্নবিত্ত সমাজে নানা কারণে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মূলত এই ক্ষোভ, হতাশা এবং সামাজিকভাবে বঞ্চিত একটি শ্রেণি থেকেই সুসংগঠিত জঙ্গিগোষ্ঠী তৈরি হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পর্কের ইতিহাস অনেক পুরনো। যদিও বলা হয়ে থাকে, আমাদের দেশ ধর্মীয়ভাবে সহনশীল এবং আমরা কট্টর ধর্মীয় পন্থা গ্রহণ করি না। অর্থাৎ আমরা ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধতায় বিশ্বাসী নই। তারপরও রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শেষদিকে ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করা হয়। হিন্দু এবং মুসলমান দুটি পৃথক জাতি। এই দ্বিজাতিতত্ত্ব ভিত্তি করেই উপমহাদেশ বিভক্ত করা হয়। পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হলো। পরে ভ্রান্ত পাকিস্তানকে সংশোধন করেই আমরা বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু যারা পাকিস্তানি ভাবধারার ছিল, এখনো তাদের সে মানসিক একাত্মবোধ শেষ হয়নি। পাকিস্তানবাদ, পাকিস্তান রাষ্ট্রের ইসলাম এবং সে চিন্তার সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত অবস্থা রয়েছে। আর এই বিপরীত অবস্থাকে ধারণ করে এমন লোক এখনো বাংলাদেশে আছে। সমগ্র জাতি মুক্তিযুুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলÑ এটা আসলে সঠিক বলা হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকে আমাদের বিরোধিতা করেছিল। বিরোধিতা তখনো ছিল, এখনো আছে। এই বিরোধীগোষ্ঠীই পরবর্তী পর্যায়ে ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

ইসলামকেন্দ্রিক ভাবাদর্শ ও ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে নানা আন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। এ দেশ থেকে প্রচুর লোক আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন এবং কাশ্মির যুদ্ধে অংশ নেয়। পরে তারা ফিরেও আসে। এসব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশের মৌলবাদীগোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি নেটওয়ার্ক অবশ্যই আছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানি কায়দায় ফিরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কায়েম করা হয়েছিল। এর মূল হোতারা হচ্ছে সামরিক বাহিনীর ভক্ত ও অনুসারীরা। সামরিক ক্ষমতা থেকে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল তারাই এদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠপোষকতা করে। যেমন লিবিয়া এদের মূল আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। লিবিয়াই পৃথিবীর এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং অস্ত্র দেওয়ার কাজটি করে। কাজেই এসব মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ইতিহাস অনেক পুরনো। সব ধর্মে মৌলবাদী আছে। ইসলামি মৌলবাদীদের সঙ্গে ইসলামি বিশ্ব তথা আরব তথা মধ্যপ্রাচ্যের যোগাযোগ আছে। কিন্তু ইতিহাসে দেখা যায়, প্রত্যেক মৌলবাদী গোষ্ঠীর একটি উগ্র চর্চার ভূমি হচ্ছে ইউরোপ। এসব সংগঠনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু লন্ডন। লন্ডনে হিজবুত তাহরির থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের নিষিদ্ধ মৌলবাদী সংগঠনের শাখা-প্রশাখা রয়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা এবং দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে বাংলাদেশে মুক্তমনা লোকজন ছিলেন। কিন্তু তারা লন্ডন ও বার্মিংহামসহ বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে এসে কট্টরপন্থি এবং মৌলবাদী ভাবধারায় জীবনযাপন শুরু করে। তাদের সবকিছুতেই ভয়াবহ পরিণতি লক্ষ করা যায়।

মানুষকে ভালো না বেসে, শান্তির বাণী না শুনিয়ে উগ্রপন্থা অবলম্বন করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব হাজির করা যায় না। কিন্তু সমস্যা হলো, কিছু লোক তার নিজস্ব মতাদর্শকে শ্রেষ্ঠ মতাদর্শ বলে মনে করে। কিন্তু সাময়িকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা যেতে পারে, দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়। ইতিহাসের বিচারে কোনো সত্যই চিরন্তন নয়। এ ক্ষেত্রে অনেক ঘটনাই ঘটতে পারে। মানুষের মধ্যে এই উপলব্ধিবোধ থাকতে হবে। জোর করে মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার সব প্রচেষ্টা ইতিহাসে ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করা যায় কিনা তা দেখতে হবে। আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এখনো পুলিশের ওপর আস্থা হারায়নি। কিন্তু সমস্যা হলো জনবহুল দেশের পুলিশ জনসংখ্যা অনুপাতের তুলনায় অনেক কম। আমাদের পুলিশের সংখ্যা এবং সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পুরনো সব ব্যবস্থার পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে আধুনিক জ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, পরিবহন ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পুলিশের বেতন-ভাতাসহ নানা সুবিধাদি বাড়ানো দরকার। অর্থাৎ আধুনিক বাহিনী গঠন করার জন্য যা যা দরকার তার সব ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই বিদেশিদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি। হত্যাকারীদের বলা হয়েছিল, সাদা চামড়ার লোক হলেই হলো। তারা ইতালি, জাপানি আর ইউরোপের হোক তাতে কোনো যায় আসে না। এই বিদেশিরা হলেন নিষ্পাপ ভুক্তভোগী। বিদেশি হত্যার উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে হেয়প্রতিপন্ন করা। কিন্তু হঠাৎ করে একটি ঘটনা ঘটিয়ে কেবল তাৎক্ষণিক প্রচারণা পাওয়া যায়, দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। তবে এসব ঘটনাও থেমে যাবে। কারণ বিদেশি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ কথা ঠিক যে, মতাদর্শগত কারণেই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এই জঙ্গিবাদ দমন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ দরকার। এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য প্রতিরোধ শক্তির কোনো বিকল্প নেই। বুলগেরিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমার বক্তব্য ছিল, সন্ত্রাসীদের উৎস কোথায়? তারা কোথা থেকে আসে? আত্মঘাতী বোমা নিক্ষেপ করার লোকটিই বা কে? তাকে খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আত্মঘাতী বোমা নিক্ষেপকারীদের অধিকাংশ গরিব এবং ছিন্নমূল। এরা এতিমখানায় লালিত-পালিত। এদের সঙ্গে পরিবার তথা মা-বাবার কোনো সম্পর্ক নেই। মগজ ধোলাই করে তাদের এমন কাজে অনুপ্রাণিত করা হয়। তাদের বলা হয়, আত্মঘাতী বোমা নিক্ষেপের মাধ্যমে সে সহজে বেহেশতে যাবে। আর বেহেশতে গেলেই সুখের শেষ নেই। এসব অনুপ্রেরণায় তারা বোমা নিক্ষেপের প্রস্তাবে রাজি হয়। কিন্তু তাদের পরিবার, বাবা-মা থাকলে বশ করা যেত না। এই কাজ করার আগে তাদের মাথায় পরিবারের চিন্তা আসত। এ কাজের জন্য তার মা-বাবার কী হবে। কাজেই এ ক্ষেত্রে শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে পথশিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। বাবা-মা হারানোসহ নানা কারণে শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এসব শিশুর অধিকাংশেরই এতিমখানায় স্থান হয়। পাক-ভারত উপমহাদেশে এতিমখানাগুলো ঐতিহাসিকভাবে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর দখলে। এতিমখানায় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা নেই। এতিমখানা মানেই হচ্ছে হাফেজিয়া অথবা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা। এতিম শিশুদের রাষ্ট্র কর্তৃক আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা হলে জঙ্গিবাদ তথা মৌলবাদী সমস্যার একটি সমাধান হতে পারে। মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে বঞ্চনাবোধ কমে আসবে। এ ছাড়া একজন মানুষ যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল হয় তাহলে তাকে কোনোভাবেই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। কাজেই পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য শিশুর শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত জীবনযাপনের অধিকার সংরক্ষণ করা উচিত।

সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হলো মসজিদ। ইসলামি ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন যাবৎ ইমাম প্রশিক্ষণ নামে একটি কর্মসূচি চালাচ্ছে। কিন্তু তার পরও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাইকে বিভিন্ন ওয়াজ নসিয়ত শোনা যায়। যেগুলো অনেকটাই এ জঙ্গিবাদকে উসকে দেয়। এখানে প্রায়ই শোনা যায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথা। অনুভূতি হলো বিশ্বাসের একটি প্রাথমিক পর্যায়। কতকগুলো ধাপ অতিক্রম করে সর্বশেষ হলো মানুষের বিশ্বাস। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অনুভূতি হলো সেন্সেশন। এ ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে যেমনÑ আল্লাহর কোনো আকার নেই, এটি আমার দৃঢ়বিশ্বাস। যদি কেউ বলে আল্লাহর আকার আছে, তাকে দেখা যায়। এ অবস্থায় যেহেতু আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কাজেই এ কথা আমার অনুভূতিতে লাগার কোনো কারণ নেই। আমি মনে করি, যাদের বিশ্বাস দুর্বল তাদের অনুভূতি বেশি সূক্ষ্ম থাকে। যাদের বিশ্বাস যত বেশি দৃঢ় তাদের অনুভূতিও ততটা কার্যকর থাকে না। যারা অনুভূতিতে আঘাতের নামে মানুষকে মারতে আসে তাদের বিশ্বাসে সমস্যা রয়েছে। বেহেশত পাওয়ার জন্য আত্মঘাতী বোমা মারা সম্পূর্ণরূপে কোরআনে নিষিদ্ধ। এসব কাজের মাধ্যমে বেহেশত পাওয়া তো দূরের কথা উল্টো সে দোজখে যাবে। একজন মানুষ হত্যা করা মানে পুরো মানবজাতিকে হত্যা করা। মদিনা সনদ এবং বিদায় হজের ভাষণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সব ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত এবং নানাধর্মের মানুষদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি জীবনবিধান সব ধরনের সন্ত্রাসকে হারাম ঘোষণা করেছে। এসব কথা যদি মসজিদের ইমামরা খুতবার সময় বলেন তাহলে মানুষ সচেতন হবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদের ইমামদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষিত করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। যাতে তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের মতো জাতীয় কর্মকা-ে ভূমিকা রাখতে পারেন। এর বিপরীতে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ইমামরা যাতে উগ্রবাদী কথাবার্তা তথা সন্ত্রাসী কর্মকা- উসকে না দেন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির নজর রাখতে হবে। সমাজে অন্যায়, অত্যাচার, ব্যভিচার, রাহাজানি, সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদসহ সব অপকর্ম দূর করার লক্ষ্যে ইমামদের উচিত মানুষকে ভালো কথা বলা, সুপথে পরিচালিত করা। নতুন প্রজন্ম সচেতন, তারা মৌলভীদের অপব্যাখায় কান দেবে না। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের বয়স্ক শিক্ষাহীন ব্যক্তিরা মৌলভীদের কথায় বেশি বিশ্বাস করে। এমনটি না করে মৌলভীরা যদি জামায়াতে ইসলাম কায়েম করতে চানÑ তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রতিটি মসজিদে কমিটি গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কেবল বাইরে রাজনীতি করলেই হবে না বরং মসজিদে গিয়ে শোনা উচিত মৌলভী সাহেব সঠিক কথা বলেন কিনা। মৌলভীরা যাতে ধর্মভীরু লোকদের বিভ্রান্ত করতে না পারেনÑ সেদিকে নজর রাখতে হবে। মসজিদের মাইক ব্যবহারে নির্দেশনা থাকা উচিত। কেবল আজান দেওয়া ছাড়া মসজিদের মাইক আর কোনো কাজে লাগানো যাবে না। কেননা আমরা দেখেছি, চাঁদে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে দেখা যাচ্ছে, এমন ঘোষণা প্রথমে মসজিদের মাইক থেকে দেওয়া হয়েছিল। আর এর মাধ্যমে সমাজের গরিব, নিরীহ মানুষের ক্ষতি করা হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের সমাজের প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান থেকে জঙ্গিবাদ দমনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানব সভ্যতার ইতিহাস বলে, সভ্যতা কখনো পেছনের দিকে যাবে না, শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সভ্যতা সামনের দিকে অগ্রসর হবে। জঙ্গিদের যাবতীয় কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য হলো দেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়া, তা কখনোই সম্ভবপর হবে না।
লেখক : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

পাতাটি ১৩১৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


জাতীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা

এমাজউদ্দিন আহমেদ:: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী দিল্লি গিয়েছিলেন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শ কমিশন বা…


ভেরি ব্যাড পলিটিক্স..!

দৃশ্য ১. জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের খুব মন খারাপ। মালয়েশিয়ায় বিএনপির মতো কোনও দল…


জাপানের বৃদ্ধাশ্রম

আশির আহমেদ: পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচে কোন দেশের মানুষ? আবার জিগায়। জাপান। মহিলাদের গড়ায়ু ৮৭…


রমযান মানেই ফ্রি ইনকাম

মুফতি হাবীব আহমাদ খান:: “কম পুঁজিতে বেশি লাভ” এ চাহিদাটি কোন্ মানুষের না আছে? সবাই…


জঙ্গিবাদ দমনে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ

ড. মীজানুর রহমান বর্তমানে আমরা যাকে জঙ্গিবাদ বলছি, মূলত তা হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা। এই জঙ্গিবাদের…