“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। তবে জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আজ কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে শহিদ এটিএম জাফর আলম স্মরণে নির্মিত তোরণ উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিকে ভাঙার জন্য অন্য কারো প্রয়োজন নেই, বিএনপিই যথেষ্ট।

এ সময় সংসদ সদস্য সাইমুম সারোয়ার কমল, আবদুর রহমান বদি, আশিক উল্যাহ রফিকসহ কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে ভারতীয় মন্ত্রীর ছেলে গ্রেপ্তার

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে ভারতীয় মন্ত্রীর ছেলে গ্রেপ্তার

ভারতের বিহারে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবের ছেলে অরিজিত…


রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পণ্যের মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আসন্ন…


নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না: প্রধানমন্ত্রী

নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা নৌকায় ভোট দেয়ায় আমরা ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। আর নৌকা মার্কায়…


অকারণে চিকিৎসা খরচ না বাড়ানোর আহ্বান

অকারণে চিকিৎসা খরচ না বাড়ানোর আহ্বান

রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ বিনা প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্ট করার জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্র না দিতে চিকিৎসকদের…


আন্দোলনের বিকল্প নেই: ফখরুল

আন্দোলনের বিকল্প নেই: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সবাই…


ভোট চাওয়া আমাদের রাজনৈতিক অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

ভোট চাওয়া আমাদের রাজনৈতিক অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নৌকায় ভোট চাওয়া তার রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি যেখানেই…


ঠাকুরগাঁও সফরে প্রধানমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও সফরে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় বর্ডার…


সব ধরনের কোচিং সেন্টারই বেআইনি: শিক্ষামন্ত্রী

সব ধরনের কোচিং সেন্টারই বেআইনি: শিক্ষামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় বর্ডার…


তালেবান হামলার পর প্রথম দেশে ফিরলেন মালালা

তালেবান হামলার পর প্রথম দেশে ফিরলেন মালালা

তালেবানদের হামলার শিকার হয়ে দেশ ছাড়ার প্রায় ছয় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরলেন মালালা…


যুক্তরাষ্ট্র ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে

যুক্তরাষ্ট্র ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে

সাবেক রুশ এজেন্টকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় এবার সেদেশের ৬০ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।…


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো ক্ষমতায় যেন আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো ক্ষমতায় যেন আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

‘এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের, স্বাধীনতা বিরোধীদের নয়’, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশবিরোধী শক্তি কোনদিন…

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ-২০১৮ উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ-২০১৮ আজ থেকে শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা পুলিশের ওপর হামলা করেছে, রাইফেল ভেঙেছে এবং আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যাপার নেই। আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারাও দেখেছেন বিএনপি নেত্রী আদালতে যাওয়া-আসা করার সময় কেমন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে।’ প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।। ২০১৪ সালে রাজশাহীতে পুলিশকে কিভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল তাও আপনারা দেখেছেন। ঠিক সিমিলার ঘটনা এখানেও ঘটছে।’


সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে ভারতীয় মন্ত্রীর ছেলে গ্রেপ্তার

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে ভারতীয় মন্ত্রীর ছেলে গ্রেপ্তার

ভারতের বিহারে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবের ছেলে অরিজিত…


রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পণ্যের মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আসন্ন…


নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না: প্রধানমন্ত্রী

নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা নৌকায় ভোট দেয়ায় আমরা ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। আর নৌকা মার্কায়…


অকারণে চিকিৎসা খরচ না বাড়ানোর আহ্বান

অকারণে চিকিৎসা খরচ না বাড়ানোর আহ্বান

রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ বিনা প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্ট করার জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্র না দিতে চিকিৎসকদের…


আন্দোলনের বিকল্প নেই: ফখরুল

আন্দোলনের বিকল্প নেই: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সবাই…


ভোট চাওয়া আমাদের রাজনৈতিক অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

ভোট চাওয়া আমাদের রাজনৈতিক অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নৌকায় ভোট চাওয়া তার রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি যেখানেই…


ঠাকুরগাঁও সফরে প্রধানমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও সফরে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় বর্ডার…


সব ধরনের কোচিং সেন্টারই বেআইনি: শিক্ষামন্ত্রী

সব ধরনের কোচিং সেন্টারই বেআইনি: শিক্ষামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় বর্ডার…


তালেবান হামলার পর প্রথম দেশে ফিরলেন মালালা

তালেবান হামলার পর প্রথম দেশে ফিরলেন মালালা

তালেবানদের হামলার শিকার হয়ে দেশ ছাড়ার প্রায় ছয় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরলেন মালালা…


যুক্তরাষ্ট্র ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে

যুক্তরাষ্ট্র ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে

সাবেক রুশ এজেন্টকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় এবার সেদেশের ৬০ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।…


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো ক্ষমতায় যেন আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো ক্ষমতায় যেন আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

‘এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের, স্বাধীনতা বিরোধীদের নয়’, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশবিরোধী শক্তি কোনদিন…

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব দল নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।’

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ভাষণ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার বাংলাদেশসহ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও একযোগে সম্প্রচার করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ তার সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, বর্তমান সরকার অতীতের সফলতা এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই না, তবে এটা ভুলে গেলেও আমাদের চলবে না। আমাদের অতীতের সাফল্য এবং ব্যর্থতার মূল্যায়ন এবং ভুল-ত্রুটিগুলো সংশোধন করেই এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছি, কাজেই পেছনে ফিরে তাকানোর আর সুযোগ নেই এবং আশা করছি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে সব বাধা অপসারণের দায়িত্ব নেবে।

শেখ হাসিনা ১০ বছর আগে দেশটির অবস্থান কী ছিল তা স্মরণ করেই আগামীতে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশটির গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে এবং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আস্থা অর্জন করছে।
সরকার প্রধান বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। এই কমিশনের অধীনে দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনের আগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পরবর্তী নির্বাচন ২০১৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের আগে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সকল প্রকার সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ শান্তি চায়। তারা নির্বাচন বানচালের কোনো পদক্ষেপ এবং আন্দোলনের নামে জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করা বরদাশত করবে না।’

তার পুরো বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের দাবি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুষম, সুখী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য দল এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামতকে সন্মান দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তার দৃঢ়সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে শুধু বসে থাকতে চাই না। আমরা পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৪৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং এখন আমরা বিশ্ব দরবারে মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে চাই।

তিনি বলেন, যদি আপনাদের এটাই প্রত্যাশা হয় তাহলে সবসময়ই আমরা আপনাদের পাশে থাকব।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে গভীর চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। এরপর দেশবাসী দেখেছেন রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্য, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী ও দুই সংসদ সদস্যসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের নির্যাতন ও হত্যা, জমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, মানিলন্ডারিং, দুর্নীতি। ৬৩ জেলায় একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় বোমা হামলা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করে ২২ নেতাকর্মী হত্যা, সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা, দেশব্যাপী নারীদের ওপর পাশবিক অত্যাচার- সমগ্র দেশ যেন জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছিল। দেশবাসী প্রতিনিয়ত সে যন্ত্রণায় দাহ হচ্ছিলেন।

এমনি পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাত বছর দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত ২১ বছর এবং ২০০১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত বছর- এই ২৮ বছর বাংলাদেশের জনগণ বঞ্চিত থেকেছে।

তিনি বলেন, যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিল। জনগণের কল্যাণে তারা কোনো ভূমিকা রাখেনি। বরং আমরা জনকল্যাণে যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম তারা তা বন্ধ করে দেয়।

২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আশু করণীয়, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, গ্রহণ করেছি দশ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা।

আমরা দিন বদলের সনদ ঘোষণা দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনাদের জীবনমান সহজ করা এবং উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা আজ সেসব সেবা পাচ্ছেন। দেশে ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন।

৯ বছর একটানা জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ এর সুফল ভোগ করছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল শূন্য দশমিক ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রায় ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। সে সময় এডিপির আকার ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপির আকার ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৪ দশমিক আট-পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

২০০৫ সালে ২ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৩০ জনের। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ২০০৫-০৬ বছরে ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, বিগত ৯ বছরে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১ হাজার ৪৫৮টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি আমরা। ৩৬৫টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করেছি।

বছরের প্রথম দিনে সারাদেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই বিতরণ করা হয়েছে। সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রামপর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করেছে।

তার সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন ৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪র্থ। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর।

জাতির পিতা হত্যাকারী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিডিআর হত্যার বিচার হয়েছে। আমরা সফলতার সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমন করেছি। জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর বলিষ্ঠ ভূমিকার উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান।

সরকার প্রধান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা ১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ বেকার এবং দরিদ্র থাকবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আমরা বেশ কয়েকটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকায় মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। সমগ্র বাংলাদেশকে রেল সংযোগের আওতায় আনা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এবং রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’- জাতির পিতার এই আপ্তবাক্য আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল প্রতিপাদ্য। এই নীতি অনুসরণ করে আজ প্রতিবেশী দেশগুলোসহ সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

মানবিক কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যাচার এবং নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে রিলিফ বিতরণ করা হচ্ছে এবং চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাই সব ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান। আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই চান। একবার ভাবুন তো মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?

তিনি বলেন, আপনারা কি চান না আপনার সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হোক? আপনারা কি চান না প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যাক? আপনারা কি চান না প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হোক? মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খেতে পাক? শান্তিতে জীবনযাপন করুক?

প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় একযোগে কাজ করে যাবার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।


সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে ভারতীয় মন্ত্রীর ছেলে গ্রেপ্তার

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে ভারতীয় মন্ত্রীর ছেলে গ্রেপ্তার

ভারতের বিহারে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর দায়ে দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবের ছেলে অরিজিত…


রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশে চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পণ্যের মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আসন্ন…


নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না: প্রধানমন্ত্রী

নৌকায় ভোট দিলে কেউ খালি হাতে ফিরে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা নৌকায় ভোট দেয়ায় আমরা ক্ষমতায় আসতে পেরেছি। আর নৌকা মার্কায়…


অকারণে চিকিৎসা খরচ না বাড়ানোর আহ্বান

অকারণে চিকিৎসা খরচ না বাড়ানোর আহ্বান

রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ বিনা প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্ট করার জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্র না দিতে চিকিৎসকদের…


আন্দোলনের বিকল্প নেই: ফখরুল

আন্দোলনের বিকল্প নেই: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সবাই…


ভোট চাওয়া আমাদের রাজনৈতিক অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

ভোট চাওয়া আমাদের রাজনৈতিক অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নৌকায় ভোট চাওয়া তার রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে বলেছেন, তিনি যেখানেই…


ঠাকুরগাঁও সফরে প্রধানমন্ত্রী

ঠাকুরগাঁও সফরে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় বর্ডার…


সব ধরনের কোচিং সেন্টারই বেআইনি: শিক্ষামন্ত্রী

সব ধরনের কোচিং সেন্টারই বেআইনি: শিক্ষামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন। বেলা সাড়ে ১১টায় বর্ডার…


তালেবান হামলার পর প্রথম দেশে ফিরলেন মালালা

তালেবান হামলার পর প্রথম দেশে ফিরলেন মালালা

তালেবানদের হামলার শিকার হয়ে দেশ ছাড়ার প্রায় ছয় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরলেন মালালা…


যুক্তরাষ্ট্র ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে

যুক্তরাষ্ট্র ৬০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে

সাবেক রুশ এজেন্টকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় এবার সেদেশের ৬০ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।…


স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

স্মিথ, ওয়ার্নারদের আফ্রিকা ছাড়ার নির্দেশ

কেপ টাউনে কুখ্যাত বল-বিকৃতিকাণ্ডে স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটকে দোষী সাব্যস্ত করল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বুধবারের মধ্যে…


স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো ক্ষমতায় যেন আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো ক্ষমতায় যেন আসতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী

‘এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের, স্বাধীনতা বিরোধীদের নয়’, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দেশবিরোধী শক্তি কোনদিন…

শেষ গোঁ-টা ত্যাগ করুন, দেশের জন্য ভাল নিজের জন্যও ভাল



সাঈদ তারেক
নির্বাচন হবে কিনা হলে কি ধরনের হবে না হলে কি হবে এসব নিয়ে সারা দেশের মানুষ সন্দেহের দোলাচলে দুলে চললেও অন্তত: একজন মনে প্রাণে বিশ্বাষ করেন নির্বাচন যথা সময়েই হবে এবং তা সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী অর্থাৎ মতাসীনদের অধীনেই-, তিনি হচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়া। বিরোধীরা যেখানে আন্দোলনের দামামা পেটাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী সেখানে নৌকায় ভোট দিয়ে আবার তাকে মতায় পাঠানোর জন্য আকুল আবেদন করে ফিরছেন।
এটা একদিকে ভাল। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়া দেশে একটা নির্বাচনী আবহ তৈরীর চেষ্টা করছেন। মানুষ তো নির্বাচনই চায়। হানাহানি মারামারি রক্তারক্তির পরিবর্তে রাজনীতি নিয়মতান্ত্রিক পথে পরিচালিত হোক এটাই তো সবার কাম্য। দেশে ভোট হোক, সবাই অবাধে ভোট দেয়ার সুযোগ পাক সে ভোটের ফলাফল ঠিকমত প্রকাশ হোক। কিন্তু সন্দেহ দেখা দিয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হলে তেমনটি হবে কিনা। সব দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, সবাই নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে কিনা মতার জন্য নিজেদের পছন্দের দলকে বেছে নিতে পারবে কিনা।

এই সন্দেহ থেকেই মূলত: তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী। গত আটান্ন মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর মনে এমন ধারনা দিতে পারেন নাই যে তার অধীনে নির্বাচনে গনরায় ঠিকমত প্রতিফলিত হতে পারবে। মানুষ এটাও মনে করেনা মৌলিক গনতান্ত্রিক সংবিধানিক বা মানবাধিকারের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল বা দেশে আইনের শাষনে বিন্দুমাত্র আন্তরিক। উল্টো তার সম্পর্কে ধারনা- কায়েম করেছেন একব্যক্তির শাষন খেয়ালখুশীর শাষন যাকে বলা হয় স্বৈর শাষন। আইন আদালত পকেটে প্রশাসনে দলীয় ক্যাডার র‌্যাব পুলিশ ঠ্যাঙারে বাহিনী। এক ব্যক্তির আঙুলে হেলনে যেখানে সবাই ওঠে আর বসে সেখানে আর যাই হোক গনতন্ত্র থাকেনা। মিডিয়াগুলো পর্যন্ত আজ্ঞাবহ। কোন একটা মিডিয়া বা অনুগ্রহভোগী সুশীলদের কাউকে আজ পর্যন্ত বলতে শোনা যায় নাই যে এই সরকার একটি স্বৈরাচারি সরকার, শেখ হাসিনা ‘স্বৈরাচার’। আমরা স্বাধীনতার পর বাকশালী স্বৈরাচার দেখেছি সামরিক স্বৈরাচার দেখেছি ’৯১-এর পর সংসদীয় স্বৈরাচার দেখেছি কিন্তু শেখ হাসিনা বর্তমানে যে ইচ্ছামর্জিতন্ত্র কায়েম করেছেন তা তূলনাহীন। আমাদের দেশে এরশাদ সাহেব স্বৈরাচার নামে ব্রান্ডেড। কেউ কেউ বলেন শেখ হাসিনা সেই এরশাদ স্বৈরাচারের চাইতেও নিকৃষ্ট স্বৈরাচার। এরশাদ সাহেব এ দেশের সংখ্যাগুরু ধর্মবিশ্বাষীদের মনে আঘাত দেয়ার সাহস পান নাই শেখ হাসিনা অবলীলায় তেমন কাজ করে গেছেন, সংবিধান থেকে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাষ’ তুলে দিয়েছেন। এরশাদ স্বৈরাচার অতীত খুঁচিয়ে পরিবেশ দূর্গন্ধময় করেন নাই শেখ হাসিনা তথাকথিত যুদ্ধাপরাধি বিচারের জজবা তুলে মানুষের মনে হিংসা ক্রোধ উষ্কে দিয়েছেন, সমাজে রক্তারক্তি হানাহনির পরিবেশ তৈরী করেছেন। এরশাদ সাহেব আইন আদালতকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন নাই শেখ হাসিনা পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকেই পদানত করে রেখেছেন। এরশাদ স্বৈরাচার মানী লোকদের মান রেখে চলেছেন শেখ হাসিনা পদে পদে দেশের তাবৎ জ্ঞানীগুনী শিতি ভদ্র সজ্জন বা সম্মানী লোকদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন অকারন বকাবাজি করেছেন ঢোলকবাহিনী সমবিভ্যারে তাদের চরিত্রহনন করে গেছেন। ভিন্নমত দমন করেছেন যাকে পছন্দ হয় নাই জেলে নিয়ে তুলেছেন।

এসব কারনেই ভয় নিজ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেখানে শেখ হাসিনা নিজেই প্লেয়ার নিজেই রেফারি- কতটুকু সাধুসন্তু হতে পারবেন। কথায় কথায় বলেন অন্যান্ন গনতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় আমাদের দেশেও সেভাবেই নির্বাচন হবে। অবশ্যই তাই হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দেশটা কি গনতান্ত্রিক? কোন গনতান্ত্রিক দেশে কি নির্বাচন কমিশন সরকারের অজ্ঞাবহ থাকে? বিচারকরা কি সরকারের চাহিদামাফিক রায় প্রদান করে? প্রশাসন কি আগে দেশের স্বার্থ দেখে না ব্যক্তির স্বার্থ দেখে! আইনশৃংখলা রাকারি বাহিনীগুলো কি সরকারের সেবক না জনগনের সেবক? হ্যাঁ মাননীয় শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনই সবাই মেনে নিতো যদি আটান্ন মাস ধরে তিনি দেশে স্বৈরাচার কায়েম না করতেন, যদি তিনি আওয়ামী শাসন চালু না করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেন, দেশের মানুষকে ‘আমাদের প’ আর ‘শত্র“প’ ভাগে ভাগ না করে সবাইকে আপন ভাবতে পারতেন। দেশে যদি আইনের শাসন থাকতো, আদালতগুলো স্বাধীন থাকতো প্রশাসন নিরুপে থাকতো র‌্যাব পুলিশ দলীয় ঠ্যাঙারে বাহিনী না হয়ে জনগনের সেবক বাহিনী হতো- দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতো। শেখ হাসিনা যদি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারতেন তার অধীনে নির্বাচন হলে অসুবিধা কি। শুধু তাই নয় মানুষ যদি এমনটাও মনে করতে পারতো এই ভদ্রমহিলা দেশের জন্য কিছু করতে পারুন নাই পারুন অন্তত: চেষ্টা করেছেন, এঁর হাতেই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ, ইনি মতায় থাকলে ভারতীয়রা এখানে এসে দাদাগীরি ফলাতে পারবেনা বা সংখ্যাগুরু ধর্মবিশ্বাষীর আবেগ অনুভূতির প্রতি ইনি ন্যুনতম শ্রদ্ধাশীল তাহলে পরের পাঁচ বছর কেন আজীবনের জন্য তাকে মতায় রেখে দিলেই বা তি কি! চুরি লুটপাট তো বিএনপি মতায় এলেও করবে, এরাও করছে। রাজনীতিকদের চুরি বাটপারি আঙুল ফুলে রাতারাতি কলাগাছ বনে যাওয়া এগুলো তো আমরা মেনেই নিয়েছি। আমাদের কাছে এদের খাওয়া যা ওদের খাওয়াও তা। কথা হচ্ছে দেশটা কোথায় থাকবে!

শেখ হাসিনা এই জায়গাটায় এসে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেন নাই। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ বা খাদ্যোৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা- এসব অর্জনে হাসিনা সরকার কেন এ জাতীয় কোন সরকারেরই খুব একটা ভূমিকা থাকেনা। এরা শুধু রেকর্ডকিপারের ভূমিকা পালন করে। দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে কোটীর ওপর প্রবাসী গ্রামীন ব্যাংকের মত কয়েকটা এনজিও পোশাক শিল্প এবং কৃষক জনগোষ্ঠীসহ সাধারন মানুষের সচেতনতা। সরকারগুলো এসে শুধু পরের ধনে পোদ্দারীর মত ফুটানী মাড়ায়, সরকারের লোকজন পাবলিকের ঘাড় মটকিয়ে বাড়ী গাড়ী ব্যাংক ব্যালেন্স ষ্ফীত করে। কাজেই এ দেশে মতায় হাসিনা থাকলেন না খালেদা থাকলেন এটা খুব একটা ম্যাটার করেনা। এজন্য আমরা একটা সিস্টেম মেনে নিয়েছি- এই পাঁচ বছর ইনি পরের পাঁচ বছর উনি। যতদিন আল্লাহতায়ালা হায়াত রেখেছেন উনারা চালিয়ে যাবেন তাতে কেউ বাধ তো সাধেন নাই! সে হিসাবে পরের টার্ম বেগম জিয়ার। কিন্তু শেখ হাসিনা গোঁ ধরেছেন, উনি ছাড়বেন না।
গোলটা বেঁধেছে এখানেই। বেগম জিয়ার দাবী জেনুইন, হিসাবের পাওনা কে ছাড়ে! আবার ওদিকে মাননীয় শেখ হাসিনার কেসটাও একেবারে ফেলে দেবার মত নয়। পাঁচ বছরে আকামের ঘড়া এতটাই পূর্ণ হয়েছে যে মতায় না থাকলে অনেকের দেশেই থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে। রামরাজত্ব চলে যাচ্ছে এটা আঁচ করতে পেরে সরকার এবং সরকারি দলের লোকজন নাকি এর মধ্যেই বিভিন্ন দূতাবাসে গিয়ে ভিসার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু সকলেই তো আর ইন্ডিয়ায় ফ্যাট বাড়ী কিনতে বা ভাড়া করে রাখতে পারেন নাই। তাছাড়া পাঁচ বছরে কত আর কামানো গেছে! তা দিয়ে ইউরোপ আমেরিকায় বাড়ী কেনা বা সেসব দেশে গিয়ে দুই চার বছর থাকার মত সঙ্গতিই বা ক’জন অর্জন করতে পেরেছেন! এরপর রয়েছে পরের সরকার এলে লুটের টাকার ভাগ তাদেরকে দেয়া, নইলে সম্পত্তি বাজেয়াফ্ত বা জেল মামলা রিমান্ড!
মোদ্দা কথা পিঠ বাঁচানো বা জান মাল রার জন্যই পরের পাঁচ বছরও আওয়ামী লীগের মতায় থাকা দরকার। একটা ব্যপার পরিষ্কার হয়ে গেছে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন মানে পরের পাঁচ বছরও তিনিই মতায়। সরকারপ্রধান হিসাবে সকল মেকানিজম থাকবে তার হাতে। যেহেতু ছলে বলে কৌশলে তাকেই মতায় থাকতে হবে, সকল মেকানিজমই তিনি এস্তেমাল করবেন এটা বলাই বাহল্য। ওদিকে দলনিরুপে ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন হলে বেগম জিয়া বা বিরোধী জোট মতায়। কথা পরিষ্কার, যারা চাইছেন পরের পাঁচ বছরও শেখ হাসিনাই থাকুন তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প।ে যারা হাসিনা সরকারের বিদায় চান তারা তত্বাবধায়ক ব্যবস্থাপনার প।ে সে হিসাবে ব্যপারটা এসে দাঁড়িয়েছে পরের টার্মেও শেখ হাসিনা থাকবেন কি থাকবেন না।

নির্বাচন কবে হবে কেউ জানে না। নির্বাচন কার অধীনে হবে সে জটও এখনও খোলেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখনও তার সংকল্পে অটল। নির্বাচন পরিচালনাকারি সরকারের প্রধান পদে তাকে থাকতেই হবে। অবশ্য এটাও ঠিক সম্রাজ্ঞীর মর্যাদায় সরকার প্রধান হিসাবে যে সিকিউরিটি এবং রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তা তিনি এখন পেয়ে আসছেন মতা ছেড়ে দিলে সেসবের অনেক কিছুই থাকবে না। এতে ভোটের ক্যাম্পেইন তো দুরের কথা স্বাভাবিক চলাফেরাই অসুবিধা হয়ে যাবে। আবার এটাও ভাবতে পারেন মতা চলে গেলে দেশেই বা বসবাস করবেন কিভাবে। জনরোষ থেকে দলের লোকদেরকে বাঁচাবেন কিভাবে।

একথা বলার অপো রাখেনা জনমত আর এখন আগের মত শেখ হাসিনার পে নাই। দল নিরুপে ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন হলে পরাজয়ের আশংকা শতভাগ। এ অবস্থায় জোরজবরদস্তি করে হয়তো আরও কিছুদিন মতায় থেকে যাওয়া যাবে কিন্তু তা কোনক্রমেই আজীবনের জন্য প্রলম্বিত করা যাবে না। এক দিন না একদিন শেখ হাসিনাকে মতা থেকে যেতেই হবে। এটাই সত্য এটাই বাস্তব। যদি তাই হয় বাস্তবতাকে মেনে নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। শুণ্য কলশ বাজে বেশী বা ‘আবার মতায় আসার তথ্য আছে’ ‘আমরাই আবার মতায়’জাতীয় ঢক্কানিনাদ বাজিয়ে দলের লোকজনের মনোবল ধরে রাখা বা প্রশাসনকে পে রাখার ব্যপারটা ঠিক আছে কিন্তু ইতিহাসের আস্তাকুড়ে ঠাঁই নিতে না হলে ভবিতব্য মেনে নিতে হবে। সেফ এগজিট নিয়ে কথাবার্তা বলা শুরু করা যেতে পারে। যারা জট খুলতে দৌড়ঝাপ করছেন শেখ হাসিনাকে বোঝাতে পারেন বিরোধী দলে গেলেও তার নিরাপত্তা বা দেশে বসবাসের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। মতা চলে গেলেও তার কোন অসুবিধা হবেনা। অনেকে বলেন অতিমাত্রায় ভয় থেকে মানুষ প্রলাপ বকতে শুরু করে। মাননীয় শেখ হাসিনাকে এখন মতা হারানোর আতংক তাড়া করে ফিরছে। তিনি জানেন সরকারে না থাকলে কি পরিনতি হতে পারে। এ অবস্থায় তাকে আস্বস্ত করতে পারলে জেদ গোঁয়ার্ত্তুমি থেকে তিনি সড়ে আসতে পারেন বলে আমার ধারনা। তিনিও তো মানুষ। পাঁচ বছর অনেক গোঁয়ার্ত্তুমি তিনি করেছেন। এটা নিশ্চয়ই বুঝবেন এই শেষ গোয়ার্ত্তুমিটা ত্যাগ করলে দেশের জন্য ভাল তার জন্যও ভাল।


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


শেষ গোঁ-টা ত্যাগ করুন, দেশের জন্য ভাল নিজের জন্যও ভাল

সাঈদ তারেক নির্বাচন হবে কিনা হলে কি ধরনের হবে না হলে কি হবে এসব নিয়ে…


নজরুলের রাজনীতি এবং বিদ্রোহ

মোমিন মেহেদী মাগো! আমায় বলতে পারিস/ কোথায় ছিলাম আমি/ কোন-না জানা দেশ থেকে তোর কোলে…


দেশ বাঁচলে তবেই আপনারা বাঁচবেন

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দেখতে দেখতে ২১ দিন হয়ে গেল। কত মানুষের কত কথা, রাস্তায়…

নজরুলের রাজনীতি এবং বিদ্রোহ



মোমিন মেহেদী
মাগো! আমায় বলতে পারিস/ কোথায় ছিলাম আমি/ কোন-না জানা দেশ থেকে তোর কোলে এলাম নামি?/ আমি যখন আসিনি, মা তুই কি আঁখি মেলে/ চাঁদকে বুঝি বলতিস -ঐ ঘরছাড়া মোর ছেলে?/ শুকতারাকে বলতিস কি আয়রে নেমে আয়/ তোর রূপ যে মায়ের কোলে বেশী শোভা পায় ‘কোথায় ছিলাম আমি’ শীর্ষক ছড়ায় এভাবেই বলেছেন নতুন প্রজন্মের জন্য নিবেদিত কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আমাদের বাংলাদেশীদের জাতীয় কবিও। পাশাপাশি সাম্যের কবি, বিদ্রোহের কবি, সাহসের কবি এবং শিশু-কিশোর তথা নতুনের কবি। তিনিই একমাত্র কবি বাংলা সাহিত্যে যিনি নির্মাণ করেছেন নতুনদের জন্য অসংখ্য নিরিক্ষাধর্মী লেখা। শুধু এখানেই শেষ নয়; পড়ার ছলে ছড়ার ছলে তিনি নিয়ে এসেছেন ন¤্রতা-ভদ্রতা আর শুদ্ধতার শিক্ষাও। যার প্রমাণ মেলে মানুষ নয়; প্রজাপতির সাথে তাঁর কথা বলার মধ্য থেকে। যেমন তিনি নিজেকে অ- নে-ক বিনয়ী করে প্রজাপতির কাছে প্রশ্ন করছেন, প্রজাপতি, প্রজাপতি,/ কোথায় পেলে ভাই অমন রঙিন পাখা?/ ওই লাল-নীল ঝিলিমিলি আঁকাবাঁকা…

তিনি নিজেকে কখনোই অন্যদের মত করে উপস্থাপন করেন নি। বরং অন্য কবি-ছড়াকারদের বিপরীতে হেঁটেছেন। তুলে ধরেছেন মায়ের প্রতি অগাধ সম্মান আর শ্রদ্ধার কথা, তুলে ধরেছেন বাবার প্রতি নিরন্তর আনুগত্যের কথা। পাশাপাশি শিক্ষক, বন্ধু, সহপাঠি; কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হবে তাও তুলে ধরতেন তাঁর লেখায়। ব্যাক্তি জীবনে নিজেকে কখনোই অন্যদের মত আরাম-আয়েশে রাখার সুযোগ পান নি। বাবা মারা গেছেন খুব ছোট বয়সে, ঘরে অভাব লেগেই থাকতো সবসময়; কিন্তু তারপরও তিনি পড়বেন, গড়বেন নতুন জীবন। এমন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সবসময়। যে কারনে লেটোর দলে গান গেয়ে, মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে, মক্তব্যে ওস্তাদজি হিসেবে শিক্ষা দান করে পড়ালেখা-জীবন যাপনের খরচ বহনের চেষ্টা করেছেন। পরে যখন তাতেও আর চলছিলো না, তখন আসানসোল শহরের রুটির দোকানে এসে চাকুরী নেন। দিনে রুটি বানান, রাতে বই পড়েন, সুর করে পূঁথি পড়েন। আসলে নজরুল তুলনাহীন একজন মানুষ, একজন কবি। যার রাজনীতি, যার সাহিত্যনীতি, যার সমাজনীতি, যার উদারনীতি আজো বাংলাদেশে সমাদৃত। আর এ কারনেই তিনি আমাদের মত একটা বীরের জাতির জাতীয় কবি। যাকে বলা যায়, আলোর পথের পথিকৃৎ। ছোটোবেলা থেকেই নজরুল খুব প্রতিভাধর ছিলেন। পাশাপাশি সাহসী, প্রত্যয়ী এবং বিশ্বাসী। যে কারনে জীবনে অনেক কষ্ট করে নিজেকে এত উঁচু পর্যায়ে আনতে পেরেছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ২৪ মে ( ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম কাজী ফকির আহমদ। মা জায়েদা খাতুন। খুব ছোটবেলায় নজরুলের বাবা-মা মারা যান। তারপর শুরু হয় দারিদ্র্য এবং অন্যসব প্রতিকূলতার সঙ্গে তার লড়াই। ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল বলে নজরুলের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। এই দুখু মিয়ার মত হাজারো দুখু মিয়া আমাদের চারপাশে এখনো আছে, কিন্তু তাঁর মত তারা প্রত্যয়ী না। যে কারনে তাদের পরিবর্তন আসে না। পরিবর্তন তখন-ই আসে যখন নিজেকে বিজয়ী করার জন্য নিবেদিত থাকে। আর সেই নিবেদিত থাকার তালিকায় আমাদের নতুনের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন এক নম্বরে। যে কারনে গ্রামের মক্তব থেকে প্রাথমিক শিা শেষ করেন নজরুল। মাত্র বারো বছর বয়সে যোগ দেন গ্রামের লেটো গানের দলে। গ্রামের মক্তবেও কিছুদিন শিকতা করেন তিনি। তারপর আসানসোলে রুটির দোকানে কাজ নেন। সেখানে এক বাঙালি পুলিশ অফিসারের নজরে পড়ে যান তিনি। সেই অফিসার তাকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে নিয়ে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় নজরুল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাবাহিনীর হাবিলদার হিসেবে যোগদান করেন। এখানেই তার প্রাতিষ্ঠানিক শিার সমাপ্তি ঘটে। তিনি কিন্তু এর মধ্যেও তার প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবেও দেখিয়েছেন কৃতিত্ব। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে নবযুগ, লাঙ্গল ও ধূমকেতু পত্রিকা। নজরুলের প্রকাশিত প্রথম কবিতা ছিল ‘মুক্তি’। কিন্তু তাকে খ্যাতি এনে দেয় ‘বিদ্রোহী’ নামক কবিতা। এ কবিতার কারণে পরবর্তীতে তিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি রচনা করে নজরুল ব্রিটিশ শাসকদের ব্যঙ্গ করেছিলেন। এ কারণে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে তাকে কারাগারে বন্দি করা হয়।

তবুও লেখালেখি ছাড়েননি নজরুল। একের পর এক কালজয়ী সব লেখা সৃষ্টি করেছেন। তিনি লিখেছেন, কারার ঐ লৌহ কপাট/ ভেঙে ফেল কর রে লোপাট শিকল পূঁজার পাষাণ বেদি/ ওরে ও তরুণ ঈষাণ বাজারে বাজারে বিষাণ বাজারে বাজা…
চির বিদ্রোহী মানুষ সবসময় আমাদের দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য নিবেদিত থেকেছেন। যে কারনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বিদ্রোহী বল বীর, বল উন্নত মম শির…

অন্যদিকে একটি জাতিকে বীরের জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে থাকার জন্য লিখেছেন, চল চল চল/ উর্ধ¦ গগণে বাজে মাদল চলরে চলরে চল/ অরুণ প্রাতের তরুণ দল/ চলরে চলরে চল…

অবশ্য সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, আমাদের রণ সঙ্গীত-ই হলো এই চলরে চলরে চল। এই রণ সঙ্গীতের মাধ্যমে আমাদের সেনা বাহিনী নিবেদিত হয় আমাদের দেশের জন্য। প্রাণপন লড়ে যায় এই দেশের জন্য। সেই রণ সঙ্গীতের জনক জাতীয় কবির প্রতি তিব্র ভালোবাসা-সম্মান আর শ্রদ্ধার ফুলের ডালা-ফুলের মালা।
তিনি সবসময়-ই পৃথিবী বিজয়ের স্বপ্ন দেখতেন। যখন বৃটিশরা দেশ চালাতো, তখন নজরুল পৃথিবী বিজয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে লিখতেন, থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে/ দেখব এবার জগৎটাকে/ কেমন করে ঘুরছে মানুষ/ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে…
কেননা, নজরুল জানতেন আমি বিজয় না করতে পারলেও বাঙালি জাতি একদিন ঠিকই বিজয় ছিনিয়ে আনবে ব্রিটিশদের কাছ থেকে, বেনিয়াদের কাছ থেকে অথবা অন্য কোন পরাশক্তির কাছ থেকে। হয়তো একারনেই আমি হব সকাল বেলার পাখি/ সবার আগে কুসুমবাগে উঠব আমি ডাকি/ সূর্যিমামা ওঠার আগে উঠব আমি জেগে/ হয়নি সকাল, ঘুমোও এখন মা বলবেন রেগে… লিখে আমাদের মত নতুনদের মনে নতুন আশার বীজ বুনেছেন। যাতে করে আমরা আমাদের দেশকে রাখি শত্রু মুক্ত।

তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য অনেক লিখেছেন। তার লেখা শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ঝিঙেফুল, সঞ্চয়ন, পিলে পটকা, ঘুম জাগানো পাখি, ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি এবং ছোটদের জন্য নাটকের মধ্যে আছে ‘পুতুলের বিয়ে’সহ অসংখ্য লেখা তিনি লিখেছেন নতুনের ঘুম ভাঙানের লক্ষ্যে, সাহসের পক্ষে।

যাইহোক, কষ্ট করতে করতে কান্ত কবি কাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাকশক্তি হারান। পরে চির বিদ্রোহী এই কবিকে বাংলাদেশ সরকার দেশে এনে জাতীয় কবির সম্মান প্রদান করে। এরপর বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি চিরদিনের জন্য পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। কিন্তু রেখেন নিরন্তর সব সম্পদ; যা কালে কালান্তরে নতুনদেরকে জাগিয়ে তুলবে বাংলাদেশকে ভালোবাসার জন্য, বিজয়ী করার জন্য। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর-ই লেখা গান, ‘মসজিদের-ই পাশে আমায় কবর দিও ভাই/ যেন সেথায় থেকে মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই’ কথাকে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়। তিনি এখনো আজান শুনছেন, আর অপেক্ষা করছেন সেই বিজয়ের, যে বিজয় তিনি আনতে না পারলেও বাঙালি জাতি আনবেই। সেই চির বিজয়ীর জন্য নিবেদিন করছি আমাদের পঙতিমালা, বিদ্রোহী হয়ে বিদ্রোহ করে দেখালেন যেই পথ/ সেখানে নতুন আলো/ আপনার মত তৈরি আমরা সরাতে আঁধার কালো/ নজরুল প্রিয় ঝিঙেফুল প্রিয় প্রিয় আপনার সুর/ আপনার পথে হেঁটে যেতে যেতে যাবোই বহুদূর/ আনবো বিজয় আপনার সেই স্বপ্ন পুরন করে/ সাজানো থাকবে বাংলাদেশে সম্মান থরে থরে…

মোমিন মেহেদী : কলামিস্ট ও আহবায়ক, নতুনধারা বাংলাদেশ


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


শেষ গোঁ-টা ত্যাগ করুন, দেশের জন্য ভাল নিজের জন্যও ভাল

সাঈদ তারেক নির্বাচন হবে কিনা হলে কি ধরনের হবে না হলে কি হবে এসব নিয়ে…


নজরুলের রাজনীতি এবং বিদ্রোহ

মোমিন মেহেদী মাগো! আমায় বলতে পারিস/ কোথায় ছিলাম আমি/ কোন-না জানা দেশ থেকে তোর কোলে…


দেশ বাঁচলে তবেই আপনারা বাঁচবেন

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দেখতে দেখতে ২১ দিন হয়ে গেল। কত মানুষের কত কথা, রাস্তায়…

দেশ বাঁচলে তবেই আপনারা বাঁচবেন



বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম
দেখতে দেখতে ২১ দিন হয়ে গেল। কত মানুষের কত কথা, রাস্তায় দেখে কতজন হাউমাউ করে কাঁদে, কিছু বুঝি কিছু বুঝি না। কুশিমণি গলা ধরে জিজ্ঞাসা করে, ‘বাবা, তোমার শরীর খারাপ হয়নি তো?’ দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসের যন্ত্রণা ভোগ করছি, তাই কিছু কষ্ট তো হয়ই। কিন্তু তেমন খারাপ লাগে না। যে দেশকে জন্ম দিয়েছি সেই দেশের জন্য, সেই দেশের মানুষের জন্য কিছুই যখন করতে পারলাম না তখন অস্বস্তি নিয়ে থাকার চেয়ে ফুটপাতে পড়ে থাকা অনেক ভালো। অন্তর্দহন থেকে তো বেঁচে থাকা যায়। তাই খারাপের চেয়ে ভালোই লাগে বেশি। তবে কিছু কিছু জ্বালাতন যে নেই তেমন নয়। ব্যাংক, শেয়ার ব্যবসায়ী ও গার্মেন্টের বায়াররা ছবি তোলায় ব্যস্ত, তাতে কিছুটা খারাপ লাগে। আবার অনেকের সঙ্গে ছবি তুলতে বেশ ভালোও লাগে। এই যে বস্তির এক ছোট্ট বাচ্চা সোহেল কোলে শুয়ে নির্বিঘ্নে ঘুমাচ্ছে, এতে আমি কুশি মাকে কোলে নেওয়ার স্বাদ পাচ্ছি। তাই ভালো-মন্দ নিয়েই কেটে যাচ্ছে দিন-রাত। কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করে, আর কত দিন? বলেছি, যত দিন থাকলে কাজের কাজ হবে তত দিন। সেদিন কজন রিকশাওয়ালা সারা দেশ ঘোরার প্রস্তাব দিয়ে গেল। আমার কাছে প্রস্তাবটা খুব একটা মন্দ লাগেনি। দেখা যাক, দুই নেত্রী কী করেন। ২৮ জানুয়ারি অবস্থান নিয়েছি। নির্বিবাদী অহিংস কর্মসূচি। কাউকে কিছু বলতে যাইনি, শেষ পর্যন্ত বলবও না। আমি জানি, এই দুঃসময় থাকবে না, আজ অথবা কাল অবশ্যই বদল হবে। তাই আমার তেমন তাড়া নেই। কিন্তু পুলিশ বড় বিরক্ত করে। চুরি-চামারি লেগেই ছিল। গত জুমার আগের জুমায় বায়তুল মোকাররমে নামাজ আদায় করে ফিরে দেখি পুলিশ বাবারা সব নিয়ে গেছে। সেই চোরাচুরির নেতৃত্ব দিয়েছে আবার টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি লায়েক আলী বিশ্বাসের ছেলে ফরমান। আমি যখন ‘৯৩, ‘৯৪-এ টুঙ্গিপাড়ায় সপ্তাহব্যাপী বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতাম তখন লায়েক আলী বিশ্বাস আমার সঙ্গে ছায়ার মতো থাকতেন। বঙ্গবন্ধুর কবরের পাশে রাতে যখন ঘুমাতাম, জেগে ঘাড় ঘোরাতেই লায়েক আলী বিশ্বাসকে দেখতাম। সহযোগিতা পেয়ে মানুষ খুশি হয় কিন্তু তিনি সহযোগিতা করে খুশি হতেন। তার ছেলে শীতের রাতে আমার মাথার ওপর থেকে কাপড়ের ছায়া, বাতাস ফেরানোর চট কেন নেবে? শৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজ করা সে এক কঠিন ব্যাপার। বান বেটা বান, খসা বেটা খসান- হলো পুলিশের চাকরি। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম, তাই কিছু মনে করিনি। আসতে যেতে কত পুলিশ তার দুঃখের কথা বলে চোখের পানি ফেলে। মতিঝিলে যেদিন অবস্থান নিয়েছি, তার দু-এক দিন আগের কথা। খামারবাড়ির রাস্তায় সব সময় ট্রাফিকরা দারুণ সহযোগিতা করে। সেখানে এক সার্জেন্ট গাড়ি থামিয়ে বড় উদ্বেগের সঙ্গে বলেছিল, ‘স্যার, এভাবে আর কত দিন চলবে? আমরা কি একটু শান্তি পাব না?’ বড় কষ্ট লেগেছিল।

একনাগাড়ে ডিউটি করে পুলিশের লোকেরা বড় ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছে। কত আশা করে ট্রাফিক সার্জেন্টের চাকরি নিয়েছে, ২৩-২৪ বছর প্রমোশন নেই। এর আগে কয়েকবার সংসদে ট্রাফিক সার্জেন্ট সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিলাম। প্রায় ১৫ বছর হবে ১৫০ জন সার্জেন্টকে প্রমোশন দিয়ে শান্তি মিশনে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল। এখনো রাস্তায় বেরোলেই ট্রাফিকরা ধরে, ‘স্যার, সারা জীবন এক পদে চাকরি করা যায়?’ সার্জেন্টদের চাকরিতে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। অথচ তারাই বেশি রোদে পোড়ে, বৃষ্টিতে ভেজে। কিন্তু কার কথা বলব? দেশে এক অরাজক অবস্থা। হতাশার সাগরে জাতি নিমজ্জিত। কোথাও কোনো আশা নেই, আলোর দেখা নেই। এমন গুমোট অবস্থায় সব সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, এখানেও ঘটবে। কিন্তু সেটা যে কেমন হবে তা নিয়েই ভাবনা। সবকিছুতেই elasticity থাকা দরকার। বেশি শক্ত হলে ভেঙে অথবা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, কথাটা কাউকে বোঝাতে পারছি না। গুণীরা আছেন তাদের গুণ নিয়ে, শক্তিমানরা শক্তি নিয়ে। মানুষই যে দেশের মালিক, কর্মচারীর ঠেলায় অনেকে মালিকানাই ভুলে গেছে। এক অদ্ভুত ব্যাপার! প্রতি বছর কয়েক হাজার সশস্ত্র সদস্য জাতিসংঘে শান্তি মিশনে কাজ করে দারুণ সুনাম অর্জন করছে। কিন্তু জাতিসংঘ যে কী চিজ বুঝতে পারছি না। যাদের নিজেদের দেশে শান্তি নেই, তারা পৃথিবীর অন্য দেশে কীভাবে শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসেবে নিয়োগ পেতে পারে তা আমার বোধগম্য নয়। কিন্তু তবু এই বেমানান কাজটি অবলীলায় চলেছে। আমাদের দেশ থেকে যারা শান্তি মিশনে যায় তারা যথার্থই পৃথিবীর বহু দেশে শান্তি স্থাপনে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। সেজন্য জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলকে কি বলতে পারি না, যারা নিজের দেশে মা-বাবা, ভাই-বোনের বুকে গুলি চালায় তাদের বিশ্বশান্তিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ কোথায়?

সবাই ছেলেমেয়েকে নিজের বা নিজের সম্পদ মনে করে। আদতে জগৎ সংসারের কথা চিন্তা করলে সন্তান বাবা-মার নয়। সব সন্তানই রাজার বাগানের ফুলের মতো স্রষ্টার সম্পদ। আমার বাবা-মা যেমন আমায় লালন-পালন করেছেন, আমাদের ওপরেও দায়িত্ব আমাদের সন্তান-সন্ততির লালন-পালন করা। তারা আবার তাদের সন্তান-সন্ততিদের লালন-পালন করবে, এটাই আল্লাহর জগৎ সৃষ্টির রহস্য। গ্রামগঞ্জে ছেলে বাবার হাতের লাঠি। সবাই বেশি বেশি ছেলে চায়, যাতে আশপাশের কেউ তাদের হেলাফেলা করতে না পারে। আগেরকার দিনে যার ছেলে বেশি তার এলাকায় প্রভাব বেশি। এখন ছোট সংসারের টোনাটুনির যুগ। অনেকে আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা পছন্দ করে না। আমরা এখনো সে ধাঁচের হতে পারিনি। আমরা দুই মায়ের ১৫ সন্তান, এখনো ১০ জন আল্লাহর দয়ায় বেঁচে আছি। আমার এক ছেলে, দুই মেয়ে। স্ত্রী কিছুটা অসুস্থ। বাড়িতে থেকেও যে তারা স্বস্তিতে নেই তা বুঝলাম গত শনিবার গভীর রাতে। বড় মেয়ে কুঁড়ি গাড়িচালক হোসেনকে ফোন করেছিল, হোসেন তোমাদের ওখানে কি বৃষ্টি হচ্ছে? হোসেন যেই বলে, না এখানে বৃষ্টি নেই, অমনিই গুঁড়ি গুঁড়ি, তারপর অবিরাম বৃষ্টি। আমার ঘুম ভাঙে ২৫-৩০ জন কর্মী আমার মাথার ওপরের কাপড় ঠিক করছিল, পলিথিন লাগাচ্ছিল। কত কী করছিল। লোহার ভাঙা খাটিয়ায় বসে অবাক হলাম, ডানে বামে ফোঁটা ফোঁটা পড়লেও বিছানায় এক ফোঁটাও পড়েনি। একসময় মনে হচ্ছিল, এতগুলো হাত ওপরে তুলে ধরলে তাতেই বৃষ্টি ফিরে যাবে। কর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-মমতায় হৃদয় ভরে গিয়েছিল। ‘৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময় কত নিবেদিত কর্মী পেয়েছিলাম, জীবন বাজি রেখে তারা দেশ স্বাধীন করেছে। এই অবক্ষয়ের জমানায় এত সুন্দর স্বার্থত্যাগী কর্মী খুব একটা পাওয়া যায় না। তাই ভাবছিলাম, আমার গায়ে এক ফোঁটা পানি যাতে না পড়ে তার জন্য কতজনের কত নিরন্তর প্রয়াস। কিন্তু দরিদ্র যারা রাস্তায় আছে, তাদের পানি ফেরাবে কে? যাদের মাথার ওপর ভালো ছায়া নেই, দুর্যোগ এলেই ভিজতে হয়, এই শীতের রাতে তাদের কী হচ্ছে? কোনো সদ্যপ্রসূত সন্তান নিয়ে অভাগা জননী কীভাবে কাটাচ্ছেন? বড় ব্যাকুল হয়েছিলাম, তোলপাড় করছিল হৃদয়। গুমরে উঠেছিল এক আর্তচিৎকারের হাহাকার, কবে হবে আমার দেশের নিরন্ন-নিরাশ্রয় মানুষের এই দুর্ভোগের অবসান। রাত কেটেছিল ভালোভাবেই। দিনেও ঠাণ্ডা বাতাস ছিল অবিরাম, আগের দিন ছিল ভালোবাসা দিবস। কে কাকে কতটা ভালোবাসে ঠিক বুঝতে পারি না। কারণ দয়া-মায়া-মানবতা আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছে। কেউ কারও নয়, সবাই যেন নিজের জন্য উন্মাদ-পাগলপ্রায়, মাতোয়ারা। পশুহৃদয়ে যে মমতা দেখা যায়, মানবহৃদয়ে এখন তাও নেই। শত কোলাহলের মাঝে বসে বসে ভাবী- কেন এমন হয়।

অবস্থানে বসার পর থেকে নিরন্তর পুলিশি জুলুম চলছিল, এখন কিছুটা কমে এসেছে। মনে হয় তারা ক্লান্ত-শ্রান্ত। অবরোধ-হরতাল আর দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী লোকদের কোনো বিরাম নেই। ওরা ভালোভাবে খেতেও পারে না, ঘুমাবে তো দূরের কথা। এই জুমার আগের জুমায় বায়তুল মোকাররম থেকে নামাজ আদায় করে এসে দেখেছিলাম সবকিছু নিয়ে গেছে। হুজুর মওলানা ভাসানী অভিযোগ করতেন, চোরেরা আমার পেশাব-পায়খানার বদনাটা নিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত আমার দশাও তাই। কিন্তু কী করব? পাটি বিছিয়ে রাস্তায় বসে ছিলাম। হঠাৎই আল্লাহর তরফ থেকে জয়পুরহাটের রশিদুল নামে একজন এসে হাজির। এটাওটা খাবারসহ তার মায়ের গায়ের শতছিন্ন কাপড়ের চমৎকার কাঁথা নিয়ে এসেছে আমার জন্য। মনে হলো এ যেন আল্লাহর অপার দয়া। ২০-২৫ বছর আগে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে রাজশাহীর বাঘায় গিয়েছিলাম। সে যাত্রায় এক ব্যাংক কর্মচারী রাজ্জাক ছিল। আর ছিল ছোট্ট বাচ্চা আনন্দ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস। জনাব আলাউদ্দিনের বাড়িতে এক রাত ছিলাম। সেখান থেকে হাজার-বারোশ’ টাকায় চমৎকার একটি নকশিকাঁথা কিনেছিলাম। জয়পুরহাটের রশিদুলের মায়ের হাতের কাঁথা সে নকশিকাঁথার চেয়ে হাজার গুণ উন্নতমানের। কী চমৎকার সেলাই! একসময় আবরাহা হাতি নিয়ে আল্লাহর ঘর কাবা দখল করতে গিয়েছিল। দয়াময় প্রভু আবাবিল পাখির দ্বারা পাথর ছুড়ে সে আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন। কেন যেন আজ প্রায় দুই সপ্তাহ রশিদুলের মায়ের কাঁথা গায়ে মনে হয় তার প্রতিটি সুইয়ের ফোঁড় আমায় অমঙ্গলের হাত থেকে বর্মের মতো রক্ষা করছে। সারা জীবন মনে হতো, মানুষ আমায় কম-বেশি ভালোবাসে। কিন্তু এতটা ভালোবাসে তা বুঝতে পারতাম না। অবস্থানে বসার আগে চিন্তা করতাম, আমি না হয় বাড়ির খাবার খেলাম কিন্তু কর্মীরা কী খাবে। এখন দেখছি প্রতিদিনই খাবার বেশি হয়। লোকজন এত ধরনের ফলমূল নিয়ে আসে, যা খেয়ে শেষ করা যায় না। পাঁচ-সাত হাত জায়গার মধ্যে ফুটপাতে থাকি, তাই রাখারও তেমন জায়গা নেই। সেই কবে ‘৭৫ সালের ১৯ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিরোধে ঘর থেকে বের হওয়ার পথে মা বলেছিলেন, ‘রাস্তায় বের হও। দেখবে আল্লাহর পথে শুধু আলোই আছে, কোনো অন্ধকার নেই।’ সেটি ছিল একটি ফারসি কবিতা, ‘খোদা কা ঘরমে দের হ্যায়, আন্ধের নেহি’। বড়লোকেরা কোনো টাকা-পয়সা দেয় না কিন্তু গরিবরা যখন ৫-১০ টাকা দেয় শত কষ্টেও চোখে পানি রাখতে পারি না। আমার দাবি বেশি নয়, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জীবনের শেষ পর্যায়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এটুকুও কি বলতে পারব না, মানুষের কল্যাণে, দেশে শান্তি স্থাপনে যার সঙ্গে প্রয়োজন তার সঙ্গেই আলোচনা করুন, কথা বলুন।

একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বিরোধী দলের নেতা, তাকে শুধু বলেছি- হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করে অথবা স্থগিত করে সবাইকে নিয়ে নতুনভাবে আন্দোলনের কলাকৌশল ঠিক করুন। কেন যেন কেউ কথা শুনতে চায় না। আজ ২১ দিন ফুটপাতে আছি। কোনো স্ত্রীই এটা সহজভাবে নিতে পারে না। তাই ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার সাদামাঠা স্ত্রী কথা বলেছেন। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চৌকাঠে গিয়েছিলেন। অসুস্থ মানুষ বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি, ২০-২৫ মিনিট থেকে পা ভেঙে আসায় বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একসময় যার চুল অাঁচড়ে খোঁপা করে দিয়েছেন, যার ছেলেকে গোসল করিয়ে খাবার খাইয়ে ঘুম পাড়িয়েছেন, তার কাছে তো এতটুকু আশা করতেই পারেন। দুই দিন পর গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে। তার পুত্রের মৃত্যুতে সমবেদনা এবং অবরোধে মানুষের কষ্টের কথা বলতে। সেখানেও সরকার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী না হয় তার বাড়িতে ঢুকতে দেননি কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর কী? সেখানে কেন ঢুকতে দেবেন না? তাহলে কি বেগম খালেদা জিয়া বন্দী? বলে দিলেই তো হয়, তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। বিদেশের রাষ্ট্রদূতরা দেখা করতে পারেন, দেশের নাগরিক পারে না, এ তো নাগরিক অধিকার হরণ, খুনের চেয়েও বড় অপরাধ। কেউ শান্তির কথা শুনতে চায় না। কারণ শান্তি-সুস্থিতিতে তাদের কোনো লাভ নেই। যত লাভ অশান্তি আর অরাজকতায়। কয়েক দিন বেগম খালেদা জিয়ার খাওয়া-দাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছে। তা কেন হবে? ফাঁসির আসামিকেও তো যত্ন করে খাওয়ানো হয়। এসব অমানবিক কায়-কারবার ভালো নয়। বলতে চাইনি, তবু না বলে পারছি না। অতিসম্প্রতি প্রতিবেশী ভারতে দিলি্লর নির্বাচন থেকে আমাদের কিছু শেখা উচিত। শত বছরের পুরনো দল কংগ্রেস, দিলি্লর বিধানসভায় তাদের একটি আসনও নেই। অথচ তারা গত ১৫ বছর একটানা দিলি্ল শাসন করেছে। ৭০ আসনের ৬২টিতে জামানত হারিয়েছে, কোনোটিতেই দ্বিতীয় হয়নি। অন্যদিকে কয়েক মাস আগে লোকসভার ১০টি আসনের ১০টিই পেয়েছে বিজেপি। সেই দিলি্লর বিধানসভার ৭০টি আসনের বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩টি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির ঝাড়ুর সামনে কেউ টিকতে পারেনি। এ দেশেও যে তেমন হবে না, কে হলফ করে বলতে পারে? তাই সময় থাকতে দেশের কল্যাণে নেতা-নেত্রীদের সচেষ্ট হতে আহ্বান জানাচ্ছি।
লেখক : রাজনীতিক


“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

“জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম…


‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

‘আমরা সন্ত্রাসীদের ধরছি, রাজনৈতিক ব্যাপার নেই’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত, প্রমাণসাপেক্ষে তাদেরই গ্রেফতার করছে…


নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে নিবন্ধিত সব দলকে চান প্রধানমন্ত্রী

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ…


শেষ গোঁ-টা ত্যাগ করুন, দেশের জন্য ভাল নিজের জন্যও ভাল

সাঈদ তারেক নির্বাচন হবে কিনা হলে কি ধরনের হবে না হলে কি হবে এসব নিয়ে…


নজরুলের রাজনীতি এবং বিদ্রোহ

মোমিন মেহেদী মাগো! আমায় বলতে পারিস/ কোথায় ছিলাম আমি/ কোন-না জানা দেশ থেকে তোর কোলে…


দেশ বাঁচলে তবেই আপনারা বাঁচবেন

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দেখতে দেখতে ২১ দিন হয়ে গেল। কত মানুষের কত কথা, রাস্তায়…