নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন



রাহমান মনি::
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে পাসপোর্টের তথ্য লেখা এবং পড়ার কাজটি শুরু করেছে। যাকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা সংক্ষেপে এমআরপি (গজচ) বলা হয়ে থাকে। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলো এতদিন পিছিয়ে ছিল। উন্নত দেশগুলো বারবার চাপ দেয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ হচ্ছিল না বা উন্নয়নশীল দেশগুলো অনেকটাই উদাসীন ভাব দেখিয়েছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

অবশেষে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রথা চালু করার জন্য। আগামী মার্চ ২০১৫ এর সময়সীমা। এরপর আর হাতে লেখা কোনো পাসপোর্ট গ্রহণ করা হবে না। অর্থাৎ এর মধ্যে যারা ব্যর্থ হবেন, তারা আন্তর্জাতিক মহল থেকে ছিটকে পড়বেন।

বর্তমানে সারাবিশ্বে বিভিন্ন কারণে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বসবাস করছেন বৈধভাবে। আর অবৈধপথে এবং প্রতি বছর যাতায়াত করছেন আরও বহুসংখ্যক। এদের প্রত্যেকেরই দরকার সরকারি ছাড়পত্র বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশিদের পাসপোর্টের রং সবুজ হওয়ায় প্রবাসীদের কাছে তা সবুজ পাসপোর্ট হিসেবেই সমধিক পরিচিত।

বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৫, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭, কুয়েতে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৩৬২, মালয়েশিয়ায় ৭ লাখ ৮ হাজার ৪৪২, সিঙ্গাপুরে ৫ লাখ ২১ হাজার ৭৩৫, ওমানে ৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ এবং কাতারে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৫৬ জন শ্রমিক গিয়েছেন। (সূত্র : মানবজমিন)

আর জাপানে এই সংখ্যা নেহায়েতই কম। ইন্টারনেট সূত্র অনুযায়ী ৯ হাজার ৮৮২ জন। দূতাবাস সূত্র অনুযায়ী প্রায় ১১ হাজার। যার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬০০ জন এবং অন্যভাবে ৯ হাজারেরও কিছু বেশি।
আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের চাপে বাংলাদেশে ২০১৩তেই এমআরপি কার্যক্রম শুরু হলে জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৫ মার্চ ২০১৪তে। টোকিও দূতাবাস ৪২তম মিশন হিসেবে এমআরপি ও এমআরভি (মেশিন রিডেবল ভিসা) চালু হয়।

বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তাক আহম্মেদ, এমআরপি এবং এমআরভি প্রজেক্টের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাসুদ রেজওয়ান দূতাবাস ভবনে স্থানীয় প্রবাসী মিডিয়াকর্মী এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করেন।

প্রথমদিকে প্রবাসীদের অজ্ঞতা এবং দূতাবাসের সীমাবদ্ধতার জন্য প্রতিদিন ৮-১০টির বেশি কাজ করা যেত না। প্রবাসীদের অজ্ঞতা বলতে এমআরপি শুরু হওয়ার কথা না জানা, জানলেও অনলাইনে ফিলআপ না করে সরাসরি দূতাবাসের দ্বারস্থ হওয়া, জন্মনিবন্ধন না করানো ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। আর দূতাবাসের সীমাবদ্ধতা বলতে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের অভাব, স্থান সঙ্কুলান, কাজের পরিবেশকে বুঝানো হয়েছে।

এই বছর এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ৮/৯টির মতো আবেদন জমা নিতে পারছেন। যদি এই ধারা বজায় থাকে তাহলে ২০১৫ মার্চের মধ্যে সকলের পাসপোর্ট এমআরপিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না বলে বেশ উদ্বিগ্ন রয়েছেন তিনি।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং মেধাবীদের তিনি এমআরপি ও এমআরভি সেকশনে নিয়োগ দেন। দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি শাহনাজ রানুর নেতৃত্বে ৭ জন তরুণ মেধাবী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে কনস্যুলার ভবনে স্থানান্তর করেন।

১৫ জুলাই ২০১৪ শাহনাজ রানু দায়িত্ব বুঝে নিয়ে রাষ্ট্রদূতের পরামর্শ মোতাবেক কাজ শুরু করেন। প্রথম চার মাসে যেখানে ৯শ’র মতো পাসপোর্টের আবেদন জমা নিতে পেরেছিলেন সেখানে পরবর্তী দুই (১৫ জুলাই-১৫ সেপ্টেম্বর) মাসে ১১শ’রও কিছু বেশি আবেদন জমা নিতে পেরেছেন। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম রোববার সর্বাধিক ৪২টি আবেদন জমা এবং ৫০টি পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে সক্ষম হন যা এযাবৎ কালের সর্বোচ্চ রেকর্ডও বটে। উল্লেখ্য, প্রবাসীদের অনুরোধে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খানের (চারদলীয় জোট) নির্দেশে মাসের ১ম রোববার দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগ খোলা রাখা হয় এবং দূর-দূরান্ত থেকে প্রবাসীরা বিভিন্ন কাজের জন্য আসেন।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এমআরপি নিয়ে কাজের গতিতে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছিলাম না। যেভাবে বা যে গতিতে কাজ এগোচ্ছিল তাতে করে ২০১৫ মার্চের মধ্যে সব পাসপোর্ট প্রদান করা সম্ভব হবে না বলে আমার ধারণা হয়। কিন্তু এর মধ্যে তো কাজটি করতেই হবে। নচেৎ প্রবাসীরা বিপদে পড়ে যাবে। তাই সার্বিক বিবেচনায় গত জুলাই মাসে আমি কলিগদের সঙ্গে মিটিং করে মিশনের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন বা রি-অর্গানাইজড করি। শাহনাজ রানুর নেতৃত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি টিম তৈরি করে দেই। এদের সবাই তরুণ ও মেধাবী। এখন মনে হচ্ছে কাজটি করা ভালোই হয়েছে। সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। তারাও বেশ আস্থা নিয়ে কাজ করছে।

গত দুই মাসের পর্যালোচনায় কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন এখন ২০ থেকে ২৫টি আবেদন গ্রহণ করতে পারছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি এমআরভি প্রদান করতে পারছেন। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও টিম যেভাবে কাজ করতে পারছে তাতে আমি আশাবাদী যে, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা সেবা প্রদানে সক্ষম হব। এখন প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের জানান দিতে হবে। আমরা ওয়েবসাইটে দিয়েছি। সম্ভাব্য সকল ধরনের প্রচারের ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রবাসীরা সময় থাকতেই যদি আসেন উভয়ের জন্য মঙ্গল হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, কাজে গতি আনার জন্য স্থানীয়ভাবে অস্থায়ীভিত্তিতে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিজাম নামের নিয়োগকৃত ছেলেটির প্রথম দুই মাস কাজের মূল্যায়ন করেই এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নিয়ে। আপনি জানেন, মাসের প্রথম রোববার দূতাবাসের কনুস্যলার বিভাগ খোলা থাকে এবং সেই দিনই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আবেদন জমা এবং পাসপোর্ট প্রদান হয়ে থাকে। যদি বিশেষ দরকার হয়, সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে মাসে ২টি রোববার খোলা রেখে প্রবাসীদের সেবা দেবার চিন্তাও রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন জানান, একটি মাত্র ক্যামেরা দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় সার্ভার থেকে লিংকটি ডাউনলোড করতে মাঝপথেই থেমে যায় সেভ করার আগেই। সেই ক্ষেত্রে আবার প্রথম থেকে কাজটি শুরু করতে হয়। ডাউনলোডেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি রয়ে যায়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও কাজে বিড়ম্বনা হয়। সিঙ্গেল সিস্টেমের কারণেই এটা বেশি হয়। এছাড়া একটি মাত্র ক্যামেরা, যদি কোনো কারণে বিগড়ে বসে বা ভেঙে যায় বা অকেজো হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আরও বেশি বিপদে পড়তে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে আমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন শীঘ্রই তিনি ব্যাকআপ সিস্টেমের ব্যবস্থা নিবেন। আপনি জানেন যে, এমআরপি এবং এমআরভির পুরো কাজটি পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা। সেনাবাহিনীর একদল চৌকস অফিসার এই সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদেরই নিরলস প্রচেষ্টায় কাজটি এগিয়ে চলেছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রবাসীরা যদি আরেকটু সচেতন হন, তাহলে কাজটি আরও সহজতর হয়। যেমন অনেকেই অনলাইনে ফরমটি পূরণ না করে হাতে লিখে নিয়ে আসেন। হাতে লেখা ফরম নিয়ে এলে বানান ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সময়ও লাগে বেশি। যেমন অনলাইনে পূরণ করে প্রিন্ট করে নিয়ে এলে কিংবা কর্তৃপক্ষ প্রেরিত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে আসার পরও সব মিলিয়ে ১৫ মিনিটের মতো সময় লেগে যায় এক একটি আবেদনের ক্ষেত্রে। আর হাতে লিখে নিয়ে এলে তা দেখে দেখে কম্পোজসহ সময় লাগে প্রায় ৪০ মিনিট।

এছাড়া শিশুদের বেলায় সময় লাগে আরও বেশি। যেমন দুধের একটি শিশুর ছবি তুলতে গেলে অনেক বেগ পেতে হয়। কম্পিউটারের ডাটাবেজ অনুযায়ী ছবির বেলায় মুখমণ্ডলের ছবি থাকতে হবে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং পিছন দিকটা হতে হবে সাদা। এখন ওই শিশুকে তো আর বসিয়ে কিংবা দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা যাবে না। তুলতে হবে মায়ের কোলে। তাহলে আবার ব্যাকসাইড শর্ত ভঙ্গ হবে। শর্ত ভঙ্গ হলে কম্পিউটার তা গ্রহণ করবে না। তাই অনেক সময় কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হলে তারা কিছুটা শিথিল করেছেন শিশুদের ছবি তোলার বেলায়। পাসপোর্ট ডেলিভারিতেও সময় কম লাগছে এখন। প্রথমদিকে আবেদন গ্রহণ করার পর থেকে প্রদান করা পর্যন্ত ৬ সপ্তাহের ওপর সময় লেগে যেত। এখন ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা প্রদান করতে সক্ষম হচ্ছি।
রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিবন্ধীদের বেলায় দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা করে থাকে।

স্থান সঙ্কুলান সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, আপনি জানেন এটি একটি ভাড়া বাড়ি। বাড়িটি ভাড়া নিয়ে আমরা যাবতীয় কর্ম পরিচালনা করছি। সেই কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা সব ধরনের সেবা দিতে পারছি না। তবে আগামীতে যখন আমাদের নিজস্ব ভবন হবে, তখন আমরা প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের কথাটি মাথায় রেখে দূতাবাস ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করব।

কবে নাগাদ নিজস্ব ভবন নির্মিত হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই বছরের শেষ নাগাদ কাজটি শুরু হবে এবং আগামী ১৪ মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। সেই হিসাবে ইনশাআল্লাহ ২০১৬ সালে জাপানপ্রবাসীরা জাপানের মাটিতে তাদের নিজস্ব দূতাবাস ভবন পাবেন এবং দূতাবাসও সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে সচেষ্ট থাকবে।
এছাড়াও রাষ্ট্রদূত জানান, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী জাপানি ভাষায় ভাষান্তরের কাজটিও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এনএইচকে (জাপান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন) ওয়াও-এর বাংলা বিভাগের প্রধান ওয়াতানাবে কাজটি করছেন। আপনারা কিছুদিনের মধ্যেই জাপানিদের কাছে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পৌঁছে দিতে পারবেন। জাপানিরা বঙ্গবন্ধুকে আরও ভালোভাবে জানবে, সেই সঙ্গে জানবে বাংলাদেশকে।

দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব এবং এমআরপি ও এমআরভি টিমপ্রধান শাহনাজ রানু জানান, রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে এবং তার তদারকিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা কাজটি করতে পারব ইনশাআল্লাহ। তবে এই ব্যাপারে প্রবাসীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা যদি সময় শেষ হওয়ার আগেই কাজটি করিয়ে নেন তাহলে ভালো হয়।

কাজ করতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহনাজ রানু বলেন, সমস্যা তো কিছু হচ্ছেই। যেমন ধরেন, সবকিছুই করতে হচ্ছে অনলাইনে। এখানে জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপার আছে। অনেক প্রবাসীই আছেন অনেক আগেই দেশ ছেড়েছেন। জন্মনিবন্ধন কী তা-ও জানেন না এমন প্রবাসীও রয়েছেন। এখন বাংলাদেশে প্রান্তিক পর্যায়ে আন্তর্জাল সুবিধা অতটা সহজলভ্য নয়, তাই সর্বশেষ আপডেট জানা সম্ভব হচ্ছে না। জন্মনিবন্ধন করেননি এমন প্রবাসীও রয়েছেন। আবার করে থাকলেও কপি বা মূল কোনোটাই সঙ্গে নেই। এমনকি নম্বরটি পর্যন্ত জানেন না। অজোপাড়াগাঁ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইমেইল বা অন্য কোনো প্রসেসে আনাও সম্ভব নয়। বাইপোস্টে আনা সময়সাপেক্ষ। আবার দেখা যায় পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধ পত্রের তথ্য অভিন্ন নয়। বানান ভুলও থাকে। সেই ক্ষেত্রে আমরা এখান থেকে পাসপোর্টে দেয়া তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি নিয়ে জন্মনিবন্ধনের ব্যবস্থা করে থাকি। কী করব বলেন, এটার জন্য তো আর সময়ক্ষেপণ করা যাবে না। আবার এটা ছাড়া অনলাইনও আবেদনটি গ্রহণ করবে না।

স্থানীয় প্রবাসী রাজনৈতিক বা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে কোনো প্রকার চাপ বা তদবিরের সম্মুখীন হচ্ছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শাহনাজ রানু বলেন, অন্য দেশের কথা বলতে পারব না। তবে, যেহেতু জাপানে কাজ করছি তাই এখানকার অভিজ্ঞতা থেকেই বলব, কোনো ধরনের চাপ তদবির এখানকার নেতৃবৃন্দ করছেন না। বরং সহযোগিতাই করছেন, এমনকি নিয়ম মেনেই নিজেরটাও করছেন। জাপান প্রবাসীরা খুব হেল্পফুল। তারা একদিকে যেমন জাপানি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তেমনি অপরদিকে রয়েছে গভীর দেশপ্রেম। দেশের কোনো বদনাম হবে, এমন কোনো কাজ তারা করছেন না। সেই হিসেবে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবতী মনে করি এমন একটি পরিবেশ পেয়ে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশ সংস্কৃতির সব ধরনের আয়োজনই তারা জাপানের আইন মেনেই করে থাকে। সবচেয়ে গর্বের ব্যাপার হচ্ছে এখানকার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য সম্পর্ক বিদ্যমান।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক এমআরপি সমস্যাজনিত কারণে ঝুঁকিতে রয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারলে এসব দেশে লাখ লাখ শ্রমিককে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে হবে।

বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সাতটি দেশে অবস্থিত ১০টি মিশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা উইং স্থাপনের অনুমোদন দেন। সরকারি আদেশও জারি করা হয়। কিন্তু বাদ সাধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিজেদের কর্তৃত্ব হাতছাড়া করতে রাজি নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলাদা উইংয়ের জন্য সৃষ্টি করা ৭৩টি নতুন পদের বিরোধিতা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেরিত এক চিঠিতে জানা যায়, সারা বিশ্বে ২০১৫ সালের মধ্যে এমআরপি এবং এমআরভি কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং। তা নিত্যান্তই সাময়িক। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে, আউট সোর্সিং কার্যক্রমের দ্রুত বাস্তবায়ন, এমআরপি ও এমআরভি-র ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার যেমন অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই, ঢাকাস্থ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব। এতে একদিকে যেন নতুন পদ সৃষ্টি ও দাপ্তরিক স্থাপনা সম্প্রসারণ এড়ানো সম্ভব হবে, তেমনি অপরদিকে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ভার পরিহার করেও উন্নত কনস্যুলার সেবা দেয়া সম্ভব হবে। সূত্র মানবজমিন।

চিঠি চালাচালিতে যা-ই উঠে আসুক না কেন, স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে মিশনগুলোতে এত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীদের এমআরপি প্রদান যে প্রায় অসম্ভব, এটাই বাস্তবতা। আর তা সম্ভব না হলে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে প্রবাসীদের। যাদের অর্থে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, তাদের বিড়ম্বনা লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ পদক্ষেপ নেবেন, এটাই প্রবাসীদের কাম্য। জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের আশাবাদে জাপানপ্রবাসীরা সন্তুষ্ট হতে পারলেও অন্যান্য দেশে আশার আলো ক্ষীণ। সরকার যত তাড়াতাড়ি বিষয়টি অনুধাবন করে ব্যবস্থা নিতে পারবে, প্রবাসীদের ততটাই মঙ্গল হবে।
rahmanmoni@gmail.com

-সৌজন্যেঃ সাপ্তাহিক

পাতাটি ৩০৮০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…

টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস



২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপিত হয়।

মায়ের ভাষার দাবিতে বাঙালীর আত্মত্যাগের মহিমান্বিত এক দিন । যেদিন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের বুকের রক্তে ভেসেছিল ঢাকার রাজপথ । বাঙালীর রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন । এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে এই দিনটি ।

প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে দূর দূরান্ত থেকে আগত প্রবাসীদের উপস্থিততে প্রথমে জাপানস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং পরে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ পেশা জিবীরা শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন ৷ বিষ্ময়কর হলেও সত্য কতিপয় জাপানীজও উপস্থিত ছিলেন ৷ একই সাথে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রবাসী সাংবাদিক ও টিভি রিপোর্টার ৷

পাতাটি ২৭০০ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…

জাপানে বৈশাখী মেলা



জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ সোসাইটি জাপানের উদ্যোগে। টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে য়োয়োগি কোওয়েন উদ্যানে সমবেত হতেন শীত শীত ছুটির দিন রবিবারে। অনেকটা বনভোজনের আদলে ঘরে তৈরি খাবারদাবার নিয়ে এসে উদ্যানে বসে ‘এসো হে বৈশাখ/এসো এসো/তাপস নিঃশ্বাস বায়ে…’ গান গেয়ে বর্ষবরণের স্মৃতি আমার মনে এখনো উজ্জ্বল—এটা আশি দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। জাপানে এপ্রিল মাস পর্যন্ত শীত থাকে, তার মধ্যেও প্রাণের টানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈশাখ উদযাপন করতে ভোলেন না।

২০০০ সাল থেকে ‘টোকিও বৈশাখী মেলা এবং কারি ফেস্টিভ্যালে’র সূচনা। এটা প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে টোকিওর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ইকেবুকুরো শহরের নিশিগুচি কোওয়েন বা নিশিগুচি প্রাঙ্গণে। এখন অবশ্য প্রাঙ্গণটি ‘শহীদ মিনার পার্ক’ নামে পরিচিতি লাভ করছে। কেননা প্রাঙ্গণে ২০০৫ সালে স্থাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের প্রতীক শহীদ মিনার। শহীদ মিনারের পাশেই বৈশাখী মেলা আজ একসূত্রে বাঁধা পড়ে গেছে। ওসাকা, ফুকুওকা প্রভৃতি শহরেও বৈশাখী মেলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এ বছর ১৬তম টোকিও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ ১৯ এপ্রিল রবিবার। বস্তুত মেলার প্রস্তুতি তিন মাস পূর্ব থেকেই শুরু হয়ে যায়। মেলার আয়োজক কমিটির মূল সমন্বয়ক হচ্ছেন প্রবাসীদের প্রিয়মুখ ডা. শেখ আলীমুজ্জামান। কার্যকরী সদস্যরা হচ্ছেন সুখেন ব্রহ্ম, ছালেহ মোহামাম্মদ আরিফ, আসলাম হীরা, জাকির হোসেন জোয়ারদার, কাজী ইনসান, জুয়েল এম কিউ, মো. জসিম উদ্দিন, মাসুদুর রহমান, বিমান পোদ্দার, আসগর আহমেদ, বহ্নি আহমেদ প্রমুখ। শিশুদের অনুষ্ঠানের প্রধান পরিচালক কণ্ঠশিল্পী ববিতা পোদ্দার। স্থানীয় দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠন—উত্তরণ কালচারাল গ্রুপ এবং স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি মেলার অনুষ্ঠানে প্রভূত সহযোগিতা করে থাকে। প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একাধিক কণ্ঠশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা এসে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে মাতিয়ে দিয়ে যান একদিনের অনুষ্ঠানে। বাঙালি শিল্পীদের পাশাপাশি জাপানি সংস্কৃতিকর্মী এবং শিল্পীরাও অংশগ্রহণ করে থাকেন। মঞ্চে উঠে আসেন অন্যান্য দেশের দর্শকও, যারা বাঙালি সংস্কৃতির কথা জানেন। কাজেই টোকিও বৈশাখী মেলাকে আন্তর্জাতিক ভাববিনিময়ের মেলাও বলা যায়।

সকাল দশটায় মেলার উদ্বোধন হয় ‘এসো হে বৈশাখ’ সমবেত কণ্ঠে গাওয়ার মাধ্যমে কিন্তু মেলার নিজস্ব উদ্বোধনী সঙ্গীতও গাওয়া হয় ‘এক বৃন্তে শাপলা আমি তুমি সাকুরা’। দশটার আগেই দূরদূরান্ত থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসে হাজির হতে থাকেন। বেশ শীত থাকা সত্ত্বেও পুরুষরা পাঞ্জাবি এবং মেয়েরা বাহারি শাড়ি পরে মেলায় আসেন। সাম্প্রতিককালে শিশুরা বৈশাখের বিশেষ ডিজাইনের জামা পরে আসছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূতসহ বিশিষ্ট প্রবাসী এবং জাপানিরা উপস্থিত থাকেন। তারা বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য এবং দুদেশের মৈত্রী সম্পর্ক নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এরপর শুরু হয় সারাদিনব্যাপী নাচ-গান-আবৃত্তি, শুভেচ্ছা বক্তব্য, শিশুদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা, লটারি ইত্যাদি। মঞ্চে শিশুদের নাচ-গানের অনুষ্ঠান অত্যন্ত আনন্দদায়ক। স্থানীয় শিল্পীদের গানের পর বাংলাদেশ থেকে শিল্পীরা বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমনভাবে মাতিয়ে তোলেন মঞ্চ যে মেলাটি ছোটখাটো একটি বাংলাদেশে পরিণত হয়ে যায়!

মেলায় প্রায় ৪০টির কাছাকাছি স্টল থাকে, যার অধিকাংশই হচ্ছে ভারতীয় ও বাংলাদেশি খাবারের। এছাড়া গ্রন্থ, ভ্রমণ, টেলিযোগাযোগ, কম্পিউটার, পোশাক ইত্যাদিও বিদ্যমান। বাংলাদেশ-জাপান সোসাইটির উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিত্সাসেবারও ব্যবস্থা থাকে।

বর্ণাঢ্য বাঙালি সংস্কৃতি ক্রমশই জাপানিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেইসঙ্গে সুস্বাদু কারির সুগন্ধে বিমোহিত জাপানিদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতি। তারা উত্সুক হয়ে থাকেন কখন এপ্রিল মাস আসবে আর বৈচিত্র্যময় বৈশাখী মেলায় একদিনের জন্য বাঙালির সঙ্গে নাচেগানে মেতে উঠবেন!

টোকিও বৈশাখী মেলা এখন প্রবাসীদের কাছে এককথায় প্রাণের মেলা। ব্যস্ততম নিরানন্দ জীবনে এই উত্সব এখন একটি বার্ষিক মিলনমেলাও বটে! বৈশাখী মেলা নেই এমনটি আমাদের কাছে এখন ভাবনারও অতীত! -সূত্র:প্রবীর বিকাশ সরকার, দৈনিক ইত্তেফাক।

পাতাটি ২৬৮৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…

জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা



উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত ‘প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫’। প্রবাস প্রজন্মের এবারের আয়োজন ছিল সপ্তমবারের মতো।

প্রবাসী শিশু-কিশোরদের জীবনে মননে বাজুক ‘দেশ, মাটি ও মানুষের নিরবচ্ছিন্ন সুরধারা’ সেøাগানকে সামনে রেখে জাপানে ২০০৭ সালে প্রবাস প্রজন্ম যাত্রা শুরু করে। সেই থেকে শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতির প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্য একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে হৃদয়বানদের আর্থিক অনুদান এবং সর্বস্তরের প্রবাসী ও দূতাবাসের সহযোগিতায়। আর এতে অলঙ্করণ করছেন বাংলাদেশ থেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে স্বনামধন্য এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। শিশু-কিশোরদের বাংলা সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ এবং তাদের অভিভাবকদের উৎসাহ জোগাতে প্রতিবছর প্রবাস প্রজন্মের ডাকে তারা অংশ নিয়ে থাকেন। এ বছরও এসেছেন।

এই পর্যন্ত প্রবাস প্রজন্ম জাপানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা শিশু-কিশোরদের উৎসাহ জুগিয়েছেন তারা হলেন ড. জাফর ইকবাল, ড. ইয়াসমিন, ফরিদুর রেজা সাগর, গোলাম মোর্তোজা, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ফাহমিদা নবী, সুবীর নন্দী, মুস্তাফা মনোয়ার, বারী সিদ্দিকী প্রমুখ। তাদের সবাইকে প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও জাপানের প্রথম সারির মডেল, গায়িকা এবং টিভি ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রোলা এবং জাপান প্রবাসী ছড়াকার বদরুল বোরহানকেও বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।

৭ম প্রবাস প্রজন্ম জাপান ২০১৫ সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম ও আবিদা সুলতানা দম্পতি। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান এবং দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের ভুবনে অবদান রাখার জন্য তাদের এ সম্মাননা দেয়া হয়।

প্রবাস প্রজন্ম জাপানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২ মে জাপানে পৌঁছেন শিল্পী দম্পতি। তাদের অংশগ্রহণে প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ আয়োজনের মর্যাদা ও গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। অতিথিদের কাছে পেয়ে শিশু-কিশোর এবং সর্বস্তরের প্রবাসী আনন্দে মেতে ওঠে। অনুষ্ঠান ঘোষণার পর অতিথিদের নাম প্রকাশের দিন থেকেই এই উদ্দীপনা কাজ করছিল।
৩ মে ২০১৫ রোববার টোকিওর কিতা সিটি তাকিনোগাওয়া কাইকানে আয়োজিত ৭ম প্রবাস প্রজন্ম জাপান ২০১৫ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির (এপিএফএস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাপান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুহৃদ ইয়োশিনারি কাৎসুও এবং গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন জাপানের ব্যুরোপ্রধান গোতো আয়া।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মুনশী কে. আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বজিত দত্ত বাপ্পা ও রাহমান মাহিনুর আইকো ইফা।

বরাবরের মতো এবারও অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পিয়ানোতে জাতীয় সংগীতের সুর তোলেন মাহিন মাহাদি ঠাকুর। মাহিন প্রবাস প্রজন্ম জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে আসছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান দেখাতে অনুষ্ঠানে আগত বিভিন্ন দেশের নাগরিক দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন।
জাতীয় সংগীতের পর শুরু হয় মূল আয়োজন। প্রথমেই আমন্ত্রিত অতিথিদের মঞ্চে আহ্বান জানানো হয়। এরপর একদল শিশু-কিশোর অতিথিদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়। এরপর অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব হিসেবে অতিথিবর্গের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা ২০১৫ প্রদান করা হয়। প্রথমেই শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক মুনশী কে. আজাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি সবাইকে স্বাগত ও ধন্যবাদ জানিয়ে সংগঠনটির আদর্শ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

এরপর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাদল চাকলাদার। বাদল চাকলাদার তার বক্তব্যে শিশু-কিশোরদের জন্য অত্যন্ত জরুরি এমন উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এমন একটি মহতী উদ্যোগকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি একজন অভিভাবক হিসেবে বলেন, আমার মতো যারা নিজ সন্তানকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে চান, তাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে সংগঠনটি টিকিয়ে রাখা এবং সন্তানকে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হতে উদ্বুদ্ধ করা। তিনি প্রবাস প্রজন্ম জাপানকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথি কাৎসুও ইয়োশিনারি বলেন, আমি বাঙালিকে ভালোবাসি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশিদের দ্বারা যে কোনো আয়োজনে নিজেকে সম্পৃক্ত করাকে ধন্য মনে করি। ৮ বছর আগে এই সংগঠনটি যখন যাত্রা শুরু করে তখন থেকেই আমি এর সঙ্গে জড়িত। জাপানে বাঙালিরা অনেক বড় বড় আয়োজন করে থাকে। কিছু কিছু আয়োজনে আমিও থাকি। আমার কোনো জাপানি বন্ধু নেই। কিন্তু অনেক বাংলাদেশি বন্ধু আছেন। আমি সুযোগ পেলেই বাংলাদেশিদের কাছে ছুটে যাই। আমার স্ত্রীও বাংলাদেশিদের উষ্ণ আতিথেয়তায় প্রশংসা করেন।

আরেক বিশেষ অতিথি গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশন জাপান ব্যুরোপ্রধান গোতো আয়া তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি জনাব ইয়োশিনারির মতো বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকলেও রাহমান মনির মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করছি। রাহমান মনি গ্লোবাল পিস ফাউন্ডেশনের একজন সদস্য। তিনি আমাদের পরিবারেরই একজন। ভবিষ্যতে আমরা বাংলাদেশেও এর কার্যপরিধি বিস্তারিত করার চেষ্টা করছি।
আমন্ত্রিত এবং ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা প্রাপ্তদের বক্তব্যের পূর্বে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। এ সময় শিল্পী আবিদা সুলতানা মঞ্চে উপস্থিত না থাকায় শুধু রফিকুল আলমের হাতে ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা ২০১৫ তুলে দেয়া হয়। রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এ সম্মাননা তার হাতে তুলে দেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন কণ্ঠযোদ্ধা এবং বাংলা গানে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অবদান রাখার জন্য তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়।
রফিকুল আলম তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, জীবনে অনেক দেশ ঘুরেছি, অনেক পুরস্কার পেয়েছি, কিন্তু আজকের এ সম্মান আমার জীবনে একটি বিরল ও শ্রেষ্ঠ অর্জন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য কোনো পুরস্কারই আমি পাইনি, রাষ্ট্র বা কোনো সংস্থা থেকে। এই প্রথম। তাও আবার বিদেশের মাটিতে এবং জাপানের মতো জায়গায় এবং একটি শিশু সংগঠন থেকে। যারাই নাকি একদিন দেশের হাল ধরবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা রাখে না। কিন্তু বিদেশে বসবাসরত শিশু-কিশোরদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের প্রতি এতটা সম্মান দেখাবে তা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। আপনারা সেই অসাধ্য ব্যাপারটিকে সাধ্য রাখার চেষ্টা করছেন, এই জন্য আপনাদের আমি স্যালুট জানাই।

প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রবাস প্রজন্ম জাপানের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এই পর্যন্ত তারা ৭ বার এ আয়োজন করতে পেরেছে, যার ২টির মধ্যে আমি উপস্থিত ছিলাম। শিশু-কিশোরদের নিয়ে কাজ করতে গেলে অনেক কষ্ট সাধন করতে হয়। একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গেলে অনেক বিড়ম্বনা হয়। সেই সব বিড়ম্বনা পার হয়ে কাজ করতে হবে। তবে আমার মনে হয় যেহেতু এটি একটি শিশু সংগঠন, তাই প্রতিটি শিশুকেই বা সর্বাধিকসংখ্যক শিশুকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া উচিত। এতে করে তারা আরও বেশি উৎসাহিত হবে।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয় ১ম পর্ব।

অনুষ্ঠানের ২য় পর্ব ছিল শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পর্ব। যা অনুষ্ঠানের মূল এবং আকর্ষণীয় পর্ব। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পর্বটি পরিচালনা করেন রাহমান মাহিনুর আইকো ইফা।
খবর, নাচ, গান, অভিনয়, গিটার, পিয়ানো, আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠান ঢেলে সাজানো হয়। রাহমান মনির পরিকল্পনা ও সম্পাদনায় অনুষ্ঠানের প্রথমেই প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ সংবাদ পাঠ করেন মৌ হোসেন। প্রবাস প্রজন্ম সংবাদে বাংলাদেশিদের (জাপানে) কার্যপরিধির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

এরপর জাপান প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বরলিপি কালচারাল একাডেমি একটি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে। স্বরলিপির নাচের শিক্ষিকা কলির ক্যালিওগ্রাফিতে নাচের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয় জাপানে। দলের অন্য সদস্যরা হলো কথাশ্রী বিশ্বাস, রাইহানা আহমেদ, রেইনা হোসাইন, ইউকি, প্রগতি ঘোষ, সেজুতি ব্রহ্ম, ভাগ্যশ্রী পাল, এনচান প্রমুখ।
এছাড়াও শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে নিশাত হায়দার লামিয়া, ওয়াশি রহমান, অংকিক নন্দী, আজরিন তারিমা নাবা, নাস্রাহ আহমেদ, রাইহানা আহমেদ, রেয়ন হোসাইন, রেইনা হোসাইন, সুমেলী শারমিতা রাহমান ও আকি বড়–য়া।

আবৃত্তি করে শোনায় জেসিয়া বিনতে জাবেদ, নাপিজা অর্পি, আকিব হায়দার লাবিব, নবুয়াত আহমেদ ও আজরিন তারিমা নাবা।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননা মনোনীত আবিদা সুলতানা অনুষ্ঠানে এসে উপস্থিত হলে তাকে মঞ্চে আহ্বান জানানো হয় এবং তার হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
অনুভূতি জানিয়ে আবিদা সুলতানা বলেন, জীবনে অনেক দেশেই শো করেছি। কোনো দেশেই প্রবাসীদের কোনো এওয়ার্ড পাইনি। এই প্রথম শুধু এওয়ার্ড দেয়ার জন্য আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সম্মান বিরল। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়। আপনারা শিশু-কিশোরদের দেশীয় সংস্কৃতি শেখানোর জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন, যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যি-ই প্রশংসনীয়। পৃথিবীর সব দেশের প্রবাসীর জন্য তা অনুকরণীয়। আপনারা শুরু করে দিলেন। অনেক দেশই হয়ত এখন তা অনুসরণ করবে। এবং করা উচিত বলে আমি মনে করি। বসবাসরত দেশগুলোর ভাষা এবং সংস্কৃতি শিশুরা অবশ্যই শিখবে তবে সেই সঙ্গে নিজস্ব সংস্কৃতিও শিখতে হবে।

শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাপান প্রবাসীদের দ্বারা পরিচালিত আরেকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্তরণ বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক দল তাদের উপহার হিসেবে একটি ভ্যারাইটি অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। দুই প্রজন্মের সমন্বয়ে উত্তরণ ভ্যারাইটি নাচ, গান ও জাপানি কোরাস দিয়ে সাজানো ছিল।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নওরিন হাকিম, সুহিনা বড়–য়া, অহনা বড়–য়া, সাজিদ আলম খান এবং তাশদিদ আলী, নামিরা জামান, রাদিয়া জামান পিয়ানোতে সুর তোলে।
এছাড়াও অভিনয় ও নাটকে অংশ নেয় তনুশ্রী পাল, ভাগ্যশ্রী পাল, লামিয়া হায়দার, ওয়াশি রহমান ও অংকিক নন্দী।
বাংলাদেশ প্রবাসীকল্যাণ সমিতি জাপান প্রতিবারের মতো এবারও ফ্যাশন শো পরিবেশন করে। বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের বিভিন্ন কাজে একঝাঁক শিশু-কিশোর ফ্যাশনসচেতন এতে অংশ নেয়।
এরপর ৭ম প্রবাস প্রজন্ম সম্মাননাপ্রাপ্ত আমন্ত্রিত অতিথিদ্বয় গান পরিবেশন করেন। প্রথমে মঞ্চে উপস্থিত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সংগীত জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি, সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানসহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন।
এরপর মঞ্চে উপস্থিত হন সংগীত জগতের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র সংগীতশিল্পী আবিদা সুলতানা। আবিদা সুলতানাও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। দর্শকদের অনুরোধে আবিদা সুলতানা ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’ গানটি গেয়ে শোনান।
একক সংগীত পরিবেশ শেষে শিল্পী দম্পতির ডুয়েল সংগীত শুরু হলে বিভিন্ন অনুরোধ আসতে থাকায় সময় স্বল্পতার কারণে আয়োজকদের অনুরোধে ডুয়েল সংগীত শেষ হয়।
এরপর কাহাল আর্ট গ্রুপ পরিচালিত শিশু-কিশোরদের চিত্রকলা প্রদর্শনীর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিল্পী কামরুল হাসান লিপু এবং লাকি হাসান। চিত্রকলা প্রদর্শনীতে এবার প্রথম স্থান অধিকার করে সোহান নন্দী। সুমেলী শারমিতা রহমান ও সাদনান সাফিন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

এবারের প্রবাস প্রজন্ম অনুষ্ঠানে নির্ধারিত অনুষ্ঠান সূচির বাইরে বিশেষ এবং আকর্ষণীয় একটি পর্ব ছিল রাহমান মনি কর্তৃক জাপান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আসলাম হীরাকে একইসঙ্গে মঞ্চে আহ্বান। সাধারণত রাহমান মনি পর্দার আড়ালেই কাজ করে থাকেন। হঠাৎ তার এই ঘোষণায় প্রায় পাঁচ শতাধিক আসনবিশিষ্ট হল কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক শ্রোতা নড়েচড়ে বসেন। না জানি কী ঘটতে যাচ্ছেÑ এই অজানা আশঙ্কায় কিছুটা ভীত হয়ে পড়েন অনেকেই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাহমান মনি তাদের দুজন থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য কামনা করলে উভয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থে বিদেশের মাটিতে এককাতারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাদের অভিনন্দন জানিয়ে রাহমান মনি তাদের এই সহাবস্থান এবং অঙ্গীকার ব্যক্ত করার কথা স্ব স্ব দলীয় প্রধানের কাছে পৌঁছে দিয়ে বাংলাদেশেও দেশের স্বার্থে এক হয়ে কাজ করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান কামনা করলে উপস্থিত দর্শক শ্রোতা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে সমর্থন ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, জাপানে বাংলাদেশের স্বার্থে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসী এক হয়ে কাজ করে থাকেন।

এবার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র একজন শিক্ষাজীবন শুরু করায় প্রবাস প্রজন্মর পক্ষ থেকে অভিনন্দন উপহার দেয়া হয়। ভাগ্যশ্রী পাল শিল্পী রফিকুল আলমের হাত থেকে এই উপহার গ্রহণ করে।
৭ম প্রবাস প্রজন্ম ২০১৫ আয়োজনে স্পনসর ছিলেন এমডি এস. ইসলাম নান্নু, বাদল চাকলাদার, হিমু উদ্দীন, নাসিরুল হাকিম, মামুনুর রশিদ, আহসান শামীম, হুমায়ুন কবীর, সানাউল হক, মাহবুবুর রহমান, মনজুর মোর্শেদ, শাহীন রহমান, মোবারক হোসেন হৃদয়, মণি ঠাকুর, সুনীল রায়, এশিয়ান ক্লাব, গ্রিন গ্লাস, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সোসাইটি, কে এস ইন্টারন্যাশনাল, জান্নাত হালাল ফুড, প্রবাসী হালাল ফুড এন্ড রেমিট্যান্স, মুকুল মুস্তাফিজ, মনির হোসেন কর্নেল, নাদিয়া কো. লিমিটেড, চৌধুরী শাহীন, মাহবুবুর রহমান খান, আশরাফুল ইসলাম শেলী, জসীম উদ্দিন, মাইনুল হক দিদার, সুজুকি রিপন, এশিয়ান বিজনেস নেটওয়ার্ক, আতিকুল হায়দার, এ জেড এম জালাল, ফজলে মাহমুদ মুক্তা, বি এম গোলাম মাসুম জিকো, নন্দী খোকন কুমার, কামরুল আহসান জুয়েল, মকবুল হোসেন, কামাল উদ্দিন টুলু, হোসাইন মুনীর, কবি মিল্টন, আঃ রাজ্জাক, কাজী এনামুল হক, সিরাজুল ইসলাম। মঞ্চসজ্জায় শিল্পী কামরুল হাসান লিপু।
সহযোগিতায় ছিল স্বরলিপি, উত্তরণ, কাহাল আর্ট গ্রুপ, প্রবাসীকল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ দূতাবাস, তানিয়া ইসলাম মিথুন, মৌ হোসেন, কাজী ইনসানুল হক, আনিসুর রহমান, জাহিদ হোসেন চৌধুরী, ফজলুর রহমান রতন, নাজিম উদ্দিন, দেশবিদেশ ওয়েব, বাংলাদেশ টাইগারস, নিহন বাংলা ডটকম প্রমুখ।
মিডিয়া পার্টনার ছিল বহুল পঠিত, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক’। সার্বিক যোগাযোগ, পরিকল্পনা, পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন ‘সাপ্তাহিক’ প্রতিনিধি রাহমান মনি।
rahmanmoni@gmail.com

পাতাটি ২৫৬৭ বার প্রদর্শিত হয়েছে।


নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এমআরপি প্রদানে আশাবাদী রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন

রাহমান মনি:: প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলো অনেক আগে থেকেই হাতে লেখার বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে…


টোকিওতে উদ্যাপিত মহান শহীদ দিবস ও মাতৃভাষা দিবস

২১শে ফেব্রুয়ারী ২০১৫, শনিবার সকালে টোকিওতে স্থাপিত শহীদ মিনারে যথাযোগ্য মর্যদায় মহান শহীদ দিবস ও…


জাপানে বৈশাখী মেলা

জাপানে বাংলা নববর্ষ বরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদযাপন স্বাধীনতার পর থেকেই ঘরোয়াভাবে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ…


জাপানে অনুষ্ঠিত হলো দুই প্রজন্মের মিলন মেলা

উৎসাহ উদ্দীপনা, ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে জাপানে পালিত হয়েছে দুই প্রজন্মের মিলন মেলা খ্যাত…