বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩ ও ৪ জানুয়ারি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫ম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এর আগে, এতে অংশ নিতে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বকশিবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপার্সন।
এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি আদালতকে জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ হওয়ার কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। এ ট্রাস্টের জন্য কুয়েতের আমির টাকা পাঠিয়েছিলেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সেই টাকা এনেছিলেন। ওই টাকা জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টে গিয়েছিল। অথচ সেখানে কোনো মামলা হয়নি। তাই একই যাত্রায় কেন দুই রকম ফল? এটা তো হয় না। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ যেভাবে নির্দেশিত হয়েছেন, সেভাবেই অভিযোগপত্র দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই মামলায় রাজনৈতিক গন্ধ আছে। মামলা রাজনৈতিক কালিমালিপ্ত। ঘষামাজা স্বাক্ষরবিহীন কাগজ দিয়ে মামলা তৈরি করা হয়েছে। সব সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা যায়, এই মামলায় কোনো পয়সার তছরুপ হয়নি। খালেদা জিয়া কোনো অ্যাকাউন্ট খোলেননি। তাহলে সাজা দিতে হবে কেন? কেন ঘটনার ১৭ বছর পর, তার বিরুদ্ধে মামলা করা হলো? তাই সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ন্যায়বিচার করবেন বলেও আশা করেন খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী।
যুক্তিতর্কে অংশ নিয়ে খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেসব কাগজপত্র সৃজন করা হয়েছে তাতে ঘঁষা-মাজা, ওভার রাইটিং ও কাটাকাটি রয়েছে। তাছাড়া এগুলো তেল চিটচিটে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নথিপত্র এমন হতে পারে না।
এসব নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করে তিনি বলেন, এ মামলা করা হয়েছে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরানোর জন্য। কিন্তু এ মামলায় তার সাজা হতে পারে না। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তার শাস্তিও দাবি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।












