বৃহস্পতিবার দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রুপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নির্মাণ
কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি কর্পোরেশন-
রসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউক্লিয়ার ক্লাবে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। আর প্রধানমন্ত্রীর আগমনে আ:লীগ নেতাকর্মীসহ জেলাবাসীর মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকা জুড়ে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয়।
রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন (রসাটমের) নেতৃত্বে ২০১৩ সালে শুরু হয় দেশের
সবচেয়ে ব্যয়বহুল ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্প নির্মাণে প্রতিদিন শিয়ার
বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশি মিলে প্রায় ১ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন। দুটি পর্বে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর আগে ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর পাবনা সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় চার বছর পর দ্বিতীয় বারের মত তিনি পাবনা আসছেন। তাই সড়ক, মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শোভা পাচ্ছে বিলবোর্ড, শুভেচ্ছা বানীসম্বলিত ফেস্টুন-পোস্টার। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশের মধ্যে দিয়ে রুপপুরের আলোয় আলোকিত হবে দেশ। এ নিয়ে সর্বত্র বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে ১৯৬১ সালে পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে প্রথম উদ্যোগ নিলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাশিয়া সফরকালে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি সই করেন। ওই বছরেই শুরু হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ। বৃহস্পতিবার এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল স্থাপনা ‘রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং’ বা উৎপাদন কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঈশ্বরদী পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনে উৎসাহ, উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝেও। তাদের স্বপ্নের বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী বলছেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।
পাবনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি সভাপতি সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী বলেন, রুপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রের থেকে উন্নত রাষ্ট্রের পথের সবচেয়ে বড় উদাহরণ ব্যবসায়ীদের মাঝেও বইছে আনন্দের বন্যা।
পাবনা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘রূপপুর প্রকল্পে রিঅ্যাক্টর ঘিরে রয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
রুপপুরে পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর বলেন, ব্যয়বহুল এই বিদুৎ কেন্দ্রটিতে থাকছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বিশিষ্ট ভিভিইআর প্রযুক্তি এবং আট মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় দু’টি চুল্লি। চুক্তি অনুযায়ী পারমাণবিক বিদুুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ে যাবে রাশিয়া। ইতিমধ্যেই সফল ভাবে প্রথম পযায়ের কাজ শেষ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সব মানদন্ড মেনেই চলছে এই নির্মাণ কাজ। পারমাণবিক এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৪শ’
মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সর্বাধুনিক দু’টি বিদ্যুৎ ইউনিট থাকবে। বিশ্বের ৩২ টি দেশের মধ্যে
আনুষ্ঠানিকভাবে নিউক্লিয়ার ক্লাবে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।
এ প্রল্পটি চালু হলে যেমন দেশের অর্থনৈতিক গতি সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি মধ্যম আয়ের দেশ থেকে দেশ আরও উন্নত হবে। এমনটাই সম্ভাবনার সুবাতাস বইছে রূপপুর কে ঘিরে আগামীর বাংলাদেশ।












