রাশিয়ায় শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। রবিবার বিকেলে সাইবেরিয়ার কেমেরেভো শহরের শপিংমলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় শপিংমলের মালিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে শট সার্কিটককে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়া বহিরাগমন পথ বন্ধ থাকায় এত বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে। খবর রয়টার্স ও সিএনএনের
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার বিকেলে শপিংমলের দোতলা এবং তিনতলায় সিনেমা কমপ্লেক্স ও বাচ্চাদের খেলার জায়গায় উপচে পড়া ভিড় ছিল। ঠিক তখনই দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে সিনেমা হলের একাংশ। জীবন বাঁচাতে যে যেদিকে পেরেছেন দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে সিড়ি দিয়ে নামতে অনেকেই মারা যান। নিরাপত্তারক্ষী ফায়ার অ্যালার্ম বাজানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। উল্টো বহিরাগমন পথ আটকে দেন এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, দাহ্য বস্তু থাকায় খুব দ্রুত আগুন ভয়ানক রূপ নেয়। সোভিয়েত আমলের পর এত বড় দুর্ঘটনা রাশিয়ায় ঘটেনি।
শপিংমলের ভিতরের যে ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে তাতে দেখা গেছে ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ সিঁড়িতে একদল মানুষ বাঁচার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রাণপণে ভাঙার চেষ্টা করছেন ‘ফায়ার এক্সিট’ জানালা। কিন্তু সেটা খোলা যায়নি। অনেকেই আবার কাচের দেওয়াল ভেঙে ঝাঁপ দেন তিনতলা থেকে। ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে আটকে পড়া মানুষের আর্তনাদও। মৃতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২০ জন। শপিংমলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও গতকালও উদ্ধারকাজ চলে। তদন্তকারী দলের প্রধান এক বিবৃতিতে জানান, শপিংমল তৈরিতে ত্রুটি ছিল এবং চালু করাও হয় অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। তাই মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাইবেরিয়া পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শপিংমলের প্রায় ১৬শ’ বর্গমিটার অংশে আগুন লাগে। সব মিলিয়ে ২৩ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে শপিংমল। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন টেলিফোনে যোগাযোগ করেছেন কেমেরোভোর গভর্নরের সঙ্গে। ২০১৩ সালে শপিংমলটি চালু হয়।












