২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত করতে বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক দুটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট। অধ্যাপক কায়কোবাদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রশাসনিক কমিটি এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে হাইকোর্টের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ কমিটি গঠন করে দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুসারে, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠিত হয়। কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে- এ বিষয় তদন্ত করে এই কমিটি প্রতিবেদন দেবে।
বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কমিটি গঠিত হয়েছে। এ কমিটির সদস্য সংখ্যা হবে পাঁচজন।
আদালতের আদেশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে কমিটি কাজ শুরু করবে। ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত।
এদিকে, আজ সকালে এসএসসি পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় কেন নেয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশও দেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত ও প্রশ্নফাঁস রোধে একটি আইন প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন্নাহার সিদ্দিকাসহ তিন আইনজীবী।
রিট আবেদনকারী আইনজীবীরা জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরেও যেসব পরীক্ষা হয়েছে সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশনা জারির আবেদন করেছি। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত এবং এ ফাঁস রোধে একটি আইন প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁস হওয়া স্বাভাবিক। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশ্ন প্রণয়নে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আমরা আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন করবো। তাছাড়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রশ্ন প্রণয়নে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্ন ফাঁসের হোতাদের ধরতে এর মূলে পৌঁছানোর জন্য গোয়েন্দা বাহিনী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।












