বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তার পরিবারের চার সদস্য। গতকাল শুক্রবার বিকালে একটি গাড়িযোগে বিএনপি প্রধানের ওই ৪ স্বজন ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে আসেন। পরে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। ওই ৪ স্বজন হলেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, তার ছেলে, সাইদ ইস্কান্দারের স্ত্রী এবং খালেদা জিয়ার মামী। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার এই চার স্বজন বেরিয়ে আসেন।
কারাগার থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বজনরা। এরআগে তারা এই সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। সব আনুষ্ঠানিকতা এই সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়।
ঢাকার জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, শুক্রবার খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা দেখা করার আবেদন করেন। দুপুরে পরে তাদের দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্য ছাড়াও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে শুক্রবারই দেখা করার আবেদন জানান তার আইনজীবীরা।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া জানান, সকাল থেকেই তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের দেখা করার অনুমতি মেলেনি। তবে তিনি বলেন, গতরাতে (বৃহস্পতিবার) আপিল করার বিষয়ে ওকালতনামায় খালেদা জিয়া সই করেছেন। সেটি শুক্রবার আইনজীবীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে গতকাল সকালে দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ফছন্দের নানা পদের ফল নিয়ে এসেছিলেন বিএনপির দুই নারী কর্মীরা। নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারের সামনে তারা ফলগুলো প্রিয়নেত্রীর কাছে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা করেন। এ নিয়ে তারা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কও করেন। কিন্তু, কারা কর্তৃপক্ষ তাদের সেই ফল ভেতরে দেয়ার অনুমতি দেয়নি। ফলে মনোবেদনা নিয়ে এই দু’জন ফিরে যান। এদের একজন বীথিকা বিনতে হোসেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ফল দিতে না পেরে বীথিকা বলেন, আমরা মায়ের জন্য তার পছন্দের ফল এনেছি। কিন্তু, পুলিশ আমাদের কারাফটক পর্যন্তও যেতে দেইনি। তাদের এই আচরণে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে কারাগারের যে কক্ষে নেয়া হয়েছে সেই কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা রয়েছে ও টিভিতে ডিস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, কক্ষটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, ডিসের লাইনের ব্যবস্থা ও আরামদায়ক বিছানা রাখা হয়েছে। এছাড়া কক্ষের পাশে রান্নাঘর এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিষ্কার শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কয়েক দিনের জন্য ওই রুমে থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপর তিনি পুরনো কারাগারে ডে কেয়ার সেন্টারের কাছে মহিলা ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত হতে পারেন। অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বাড়ি ভাড়া করে সাব-জেল ঘোষণা করে তাকে রাখা হতে পারে। বর্তমানে যে কক্ষে খালেদা জিয়া আছেন সেটি আগে জেল সুপারের অফিস কক্ষ ছিল।
এছাড়া কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারে খালেদা জিয়া সঙ্গে রয়েছে তার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমা। কারাগারে নেওয়ার পর কারা চিকিৎসক আহসান হাবিব খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। এ সময় খালেদা জিয়ার রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল। এরপর তাকে অল্প চিনিযুক্ত পেঁপে, আপেল, কমলা ও আঙুরের জুস পরিবেশন করা হয়।












