সহায়ক সরকারের অধীন আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান, বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা বাহিনি নিয়োগ, ই-ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার না করা এবং ভোটের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া সহ ২০ দফা প্রস্তাব করেছে বিএনপি।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে এই প্রস্তাব দেয়।আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুইটা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা এই সংলাপ চলে। এ সময়ে চারজন নির্বাচন কমিশনার ছাড়া ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপ শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের খুব বেশি কিছু করার নেই। তারপরও এই সংলাপের পর বিএনপি কিছুটা আশাবাদী তো বটেই।
অন্যদিকে সকালে সংলাপের শুরুতেই সিইসি বলেন, বিএনপির সংলাপের দিকে পুরো জাতি তাকিয়ে আছে। এই দলটি তিন দফা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূত্রপাত করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দেশের উন্নয়নে বিএনপির ভূমিকা অনেক।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে পরামর্শ নিতে গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নির্বাচন কমিশন সংলাপ।
বিএনপি ২০ দফা দাবির মধ্যে আর রয়েছে; বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে দায়েরকৃত সকল হয়রানিমূলক ফরমায়েশী মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে; এসব মামলায় গ্রেফতারকৃত সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে; গুম–খুন–হয়রানি বন্ধ করতে হবে; সব রাজনৈতিক দলকে এখন থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে, সব দলের জন্য এখন থেকে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি করতে হবে, প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের অন্তত সাত দিন আগে থেকে মোতায়েন করতে হবে এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে বিএনপির অংশগ্রহণকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইসির সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১১টি প্রস্তাব দেয়া হবে। এটা চূড়ান্ত হয়েছে।
তবে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে কথা বললেও শেষ পর্যন্ত অন্তরায় তৈরি করে কিনা সেটিই দেখার বিষয়। আজ রবিবার সকালে রাজধানিতে এক আলোচনা সভায় কামরুল ইসলাম বলেন, জাতি এখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর এসময় বিএনপি চক্রান্ত করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে তৎপর। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি অবস্থার সৃষ্টি করতে চেয়েছিল বিএনপি।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আগামীতে যে নির্বাচন হবে, তা যেন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় আলোচনা করে তার একটা পথ বের করব। আমরা চাই, মানুষ মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করুক। যার যার প্রতিনিধি সে বেছে নেবে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ দেশের ও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাব।












